গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা #পর্ব_৫

0
44

#গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা
#পর্ব_৫
#লেখিকা_ছায়ালিপি

তূবা অনির সাথে বসে একটা ফেসবুক আইডি খুলে ফেললো, তারপরে অনিকে রিকুয়েষ্ট দিলো। তারপর অনির আর তূবার এক সাথে তোলা একটা ছবি প্রোফাইল পিকচার দিলো,আর কভার ফোটোতে দিলো তাদের ফ্যামিলি ফোটো। অনিকে রিকুয়েষ্ট দিলে অনি রিকুয়েষ্ট এক্সেপ্ট করে নিলো। বাকি পরিচিত সবাইকে রিকুয়েস্ট দিয়ে বাড়ি চলে গেলো, ফ্রেশ হয়ে তূবা খাওয়া করে ঘুমের দেশে পারি জমালো।
বিকেল বেলা ঘুম থেকে উঠে তূবা অনির আইডিতে ডুকলো তারপরে এবাউট এ গিয়ে ফ্যামিলি মেম্বার এ গিয়ে ( আবরার খান) নামে একটা আইডি পেলো। প্রোফাইল এ ছবি দেখার চেষ্টা করলো কিন্তু সব ছবি ফেস হাইড করা, তাই আর ঘাটা ঘাটি না করে একটা রিকুয়েষ্ট দিয়ে দিলো। রুম থেকে বের হয়ে একটু ছাদে দেলো-
সন্ধ্যার সময় তূবা ফোন চেক করলো এক্সেপ্ট করলো কি না, না এক্সেপ্ট করেনি। ফোন রেখে পড়তে বসলো, নিলা আসলো এসে দুই বোন গল্প শুরু করে দিলো-
তূবা : আচ্ছা আপু বাবা / মা তো তোমাদের মেনে নিয়েছে তাহলে তোমরা এখনো বিয়ে করছো না কেনো।
নিলা: নিলয় গালিব কে ছাড়া বিয়েতে বসবে না। আর গালিব বলে দিছে দেশে আসবে না। তাই এভাবে যাচ্ছে দিন

তূবা : আশ্চর্য তো, কোথাকার কে তার জন্য তোমাদের বিয়ে এভাবে আটকে রাখবে। তাহলে তোমাদের ১০ বছরের প্রেমের কি হলো আপু।

নিলা: শুন নিলয় আর গালিব দুইজন হইতে পারে কিন্তু তাদের জীবন একটাই। আর গালিব যদি কোনোদিন না আসে তাহলে ধরে নিস আমাদের ও জীবনে বিয়ে হবে না।

তূবা: তোমাদের বিয়ে তোমরা বুঝো আমার তাতে কি। কিন্তু তোমার বিয়ের আশা আর করা যাবে না। এখন ভাইয়ার বিয়ে দিতে হবে তারাতাড়ি।

নিলা: হ্যাঁ হ্যাঁ তোর ভাইয়ের বিয়ের স্বপ্ন দেখ যে নিজের পরিবার কে সময় দিতে পারে না তাকে কে মেয়ে দিবে।

তূবা: আমি আমার ভাইয়ের জন্য মেয়ে খুজে দিবো দেখে নিস।

দুইবোন কথা বলতে সেখানে মিসেস ফাতেমা চলে আসে। তোদের কথা বলা শেষ হলে খেতে আয়। মায়ের পিছন পিছন দুইজন চলে এলো-

ফিরোজ আহমেদ : নিলা তোর সাথে কিছু কথা ছিলো রে মা।

নিলা: হ্যাঁ বলো না বাবা।

ফিরোজ আহমেদ : আমার তো আর বয়স কম হলো না, আমরা দুই পরিবার রাজি তাহলে নিলয় বাবা এখনো বিয়ে করছে না কেনো তোকে? তোদের মধ্যে কি কোনো সমস্যা হইছে।

নিলা: বাবা আমি কি তোমার কাছে বোঝা হয়ে গেছি।

ফিরোজ আহমেদ : না রে মা! তোর বিয়ে দিতে হবে তূবা বড় হচ্ছে ওকে বিয়ে দিতে হবে তাই বলছিলাম।

তূবা: বাবা আমার কি বিয়ের বয়স হয়েছে যে তুমি আমাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছো?

ফিরোজ আহমেদ : মা রে এখন দিন কাল ভালোনা কখন কি হয় বলা যায় না, আমিও অসুস্থ তোদের কে দেখে রাখবে। আর তোর ভাই তো দেশের কাজে ব্যস্ত।

নিলা: বাবা তুমি কি কিছু লুকাচ্ছো আমাদের কাছে?

ফিরোজ আহমেদ : আসোলে মা তূবার জন্য একটা ভালো বিয়ের ঘর পাওয়া গেছে তাই আমি তোকে জিগ্যেস করছিলাম।

নিলা: বাবা তুমি তূবাকে বিয়ে দিতে চাইলে দিতে পারো কিন্তু আমার আরো কিছুদিন সময় লাগবে। আমার কেরিয়ার এখনো ঠিক হয় নি।

তূবা : বাবা আমি এখনি বিয়ে করবো না।

কান্না করতে করতে চলে গেলো রুমে তূবা, নিলা রুমে এসে নিলয়কে ফোন দিয়ে সব কিছু বললো। সব শুনে নিলয় বলে তূবা তো এখনো অনেক ছোট এত তারাহুরো কেনো?
তূবা দেখতে সুন্দর তাই বাবার ভয় অকে নিয়ে। জিসান বাসায় থাকলে ও প্রোটেক্ট করতো কিন্তু ও তো নেই। তাই বাবা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আচ্ছা আমি এখন কি করতে পারি সেটা বলো-

নিলা: কিছুই করতে হবে না, আমি বাবাকে বলে দিয়েছি সব আর নিলার বিষয়ে বলে দিয়েছি যা ইচ্ছা তাই করতে পারে আমার কোনো আপত্তি নেই।

নিলয়: তূবা কিছু বলেনি?

নিলা: ও বলেছে বিয়ে করবে না, কিন্তু বাবাকে দেখে মনে হচ্ছে বাবা অনেক কিছু ভেবে রেখেছে।

নিয়ল: ভালোই তাহলে নিজের আগে শালির বিয়ে খেতে পারবো।

রাততে গালিব ফোন বের করে ফেসবুক এ ডুকে একটা রিকুয়েষ্ট দেখে আইডির নাম (ঘুমন্ত পরি) প্রোফাইল পিক দেখে অনির সাথে একটা মেয়ে তাই প্রোফাইল এ ডুকলো। কভার ফোট দেখে বুঝতে পারে এটা তূবার আইডি। কিন্তু সে এটা ভেবে পায় না যে তূবা হঠাৎ অকে কেনো রিকুয়েষ্ট পাঠাবে।
এই সাত বছরে তো কোনো দিন শুনেনি তার কথা। নিলাকে অনেক বার জিজ্ঞেস করেছিলো। কিন্তু বলেছে তূবা আমাকে ভুলে গেছে। তাহলে আজ কেনো ও রিকুয়েষ্ট দিলো।

গালিব অনিকে ফোন দিলো দিয়ে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করে বললো আচ্ছা তোর যে নতুন বেস্ট ফ্রেন্ড হয়েছে তার নাম কি রে। আমি তো জানিনা তার নাম-

অনি: আমার বেস্ট ফ্রেন্ড এর নাম তূবা আহমেদ। কেনো রে ভাইয়া,কোনো সমস্যা?

গালিব মনে মনে( ও মাই গুডনেস), লিটিল বার্ড আমার বোনের বেস্ট ফ্রেন্ড।

অনি: কিরে ভাইয়া চুপ হয়ে গেলি কেনো?

গালিব: কিছু না এমনই জিগ্যেস করলাম, খোঁজ নেয়ার জন্য মেয়েটা কেমন তাই।

অনি: কোনো দরকার নেই ভাইয়া, আমার ফ্রেন্ড অনেক ভালো।

গালিব: ভালো হইলেই ভালো। কিন্তু আমার বোনের সেফটি আমার কাছে আগে।
আচ্ছা ভালো থাক ঘুমিয়ে পর অনেক রাত হয়ে গেছে।

অনি: ভাইয়া…..

গালিব: কিছু বলবি?

অনি: তুমি চলে এসো না ভাইয়া প্লিজ।বাবার শরীরের অবস্থা ভালো না। বাবাকে কি একবার মাফ করে দেয়া যায় না।

গালিব: এই বিষয়ে তোকে কথা বলতে না করেছি না, তারপরও কেনো এইসব বলছিস। আর তোকে আমি আগেও বলেছি আমি দেশে যাবো না, তোর ইচ্ছে হলে তুই জাপানে চলে আয়।

অনি: থাক ভাইয়া তুমি থাকো তোমাকে নিয়ে, আর কিছু বলবো না কোনো দিন।

তূবা ঘুম থেকে উঠে দেখে রাত ২ টা বাজে, ফেসবুক চেক করে দেখে এক্সেপ্ট করেনি। তাই সিদ্ধান্ত নিলো মেসেজ দিবে,যেই ভাবা সেই কাজ তূবা মেসেজ লিখা শুরু করলো-

আসালামু আলাইকুম ভাইয়া,
আমি অনির ফ্রেন্ড,
আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো।
আমাকে যদি একটু সময় দিতেন খুব ভালো হতো।

মেসেজ সেন্ড করে দিলো, গালিব মেসেজ দেখলো দেখে কিছু বললো না ঘুমিয়ে পরলো। তূবাও ফোন রেখে ঘুমিয়ে পড়লো।

সকালে ঘুম থেকে উঠলো ঘুমন্ত পরি, আবার ফোন চেক করলো কিন্তু কিছুই পেলো না। তাই প্রতিদিন এর মত রেডি হয়ে কলেজে চলে গেলো। অনিকে দেখলো মন খারাপ করে বসে আছে। তূবা কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলো কিরে কি হয়েছে মন খারাপ করে বসে আছো কেনো?

অনি: সব বললো তাকে, কালকে তাই ভাইয়ার সাথে বলা কথা গুলো।

অনি কান্না করা শুরু করে দেয়, তূবা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।

তূবা: চিন্তা করিস না তোর ভাইয়া খুব তারাতাড়ি তোর কাছে চলে আসবে।

অনি: এই ৭ বছরে সব রকম চেষ্টা করেছি কিন্তু কিছুতেই ভাইয়া আসবে না।

আচ্ছা আপাতত কান্না করা বাদ দে, ক্লাস করি চল দুজনি চলে গেলো ক্লাস রুমে। তূবা চিন্তা করতে লাগলো কিভাবে অনির ভাইকে নিয়ে আসবে দেশে। ক্লাস শেষ হয়ে গেলো তূবা বাড়িতে এসে দেখলো আবরার খান আইডি থেকে মেসেজ এসেছে-

ওয়ালাইকুম সালাম-
রাত ১০ টায় আমি ফ্রি থাকি সে সময় মেসেজ দিও আমাকে।

তূবা এখন চিন্তায় পরেছে কি বলবে সে,
রাত ১০ টা বাজে তূবা আবার মেসেজ দিলো –
তূবা: আসালামু আলাইকুম ভাইয়া,
গালিব: ওয়ালাইকুম সালাম.
তূবা: কেমন আছেন?
গালিব :হুম ভালো আছি, তুমি কেমন আছো? আর কি বলতে চাও আমাকে?
তূবা: আসলে ভাইয়া আমি আপনাকে প্রথম দেখাতেই পছন্দ করে ফেলেছি।
গালিব:what???
তূবা: ভাইয়া প্লিজ রাগ করবেন না, আমার কথাটা আগে শুনুন।
গালিব: বলো তাহলে শুনি-
তূবা: আসলে ভাইয়া আমি অনির কাছে আপনার ছবি দেখেছি দেখেই ক্রাস খেয়েছি। প্রথম দেখাতে হলেও আমার সবটা জুরে শুধুই আপনি আর কেউ নেই।

গালিব: তো এখন আমি কি করতে পারি তোমার জন্য?
তূবা: আসলে ভাইয়া আমার বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে আমি আপনাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করতে পারবো না, আপনি প্লিজ কিছু একটা করেন।
গালিব: what??? এত অল্প বয়সে বিয়ে।
তূবা: হুম, তাই তো আপনার কাছে হেল্প চাচ্ছি।
গালিব: বলো কি হেল্প করতে পারি তোমাকে।
তূবা: আপনি দেশে আসেন, আর কিছু করতে হবে না। আগামি ১৫ তারিখে আমার বিয়ে, আপনি যদি না আসেন তাহলে কিন্তু আমি যাতা করে দিবো।
(গালিব এবার হেসে দেয়, লিটিল বার্ড তুমি আমাকে দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য এত বড় একটা মিথ্যা বললে, তুমি নিজেও জানো না তুমি কি ভুলটা করেছো। গেট রেডি লিটিল বার্ড আমাকে সামলানোর জন্য তৈরি হও।)

গালিব: আচ্ছা ১৫ তারিখে তোমার বিয়ে ভেঙে দিবো, তোমার বিয়ে না হইলে হইলো তো। তুমি নিশ্চিত থাকো।

তূবা: না না না! আপনাকে আসতে হবে,প্লিজ ভাইয়া আমার এই হেল্পটা করে দিন। আপনি কি চাইবেন আপনার জন্য আমার জীবন টা নষ্ট হয়ে যাক।

গালিব: আচ্ছা আমি তোমাকে এই হেল্প করলে আমি কি পাবো বলো।

তূবা: আপনি দেশে আসুন তারপরে যা চাইবেন তাই দেবো।

গালিব:সত্যি বলছো তো যা ইচ্ছে তাই দেবে?

তূবা: হ্যাঁ যা চাইবেন।

গালিব: অকে তাহলে রেডি থাকো।

তূবা: ভাইয়া আপনি সত্যি আসবেন?

গালিব: তুমি যদি তোমার কথা রাখবে প্রমিস করো তাহলে আমিও দেশে যাবো।

তূবা: আচ্ছা ভাইয়া আপনার আসার অপেক্ষায় থাকলাম। গালিব: টেক কেয়ার। বাই বাই

গালিব নিলয়কে ফোন দিলো-

গালিব: তোর শালির কি খবর বল তো,

নিলয়: আমার শালির খবর শুনে তুই কি করবি?

গালিব: যেটা বলছি সেটা বল, যদি বিয়ে করতে চাস। আর বিয়ে করার ইচ্ছে না থাকলে আসার দরকার নেই।

নিলয়: এই না না ভাই, বল কি শুনতে চাস?

গালিব: যা জানিস সব কিছু।

নিলয়: সব কিছু বললো।

গালিব: বিয়ে কি ঠিক হয়ে গেছে?

নিলয়: আরে না, শশুর খালি কথা বলছে আর কিছুই না, তুই হঠাৎ আমার শালির খবর শুনতে চাচ্ছিস কেনো।

গালিব: বিয়ে করার জন্য রেডি হো, তারাতাড়ি বেটা! আমি আসছি।

নিলয়: সে না হয় করবো……….কি…….. কি বললি তুই আরেক বার বল। আমি কি কিছু ভুল শুনলাম।

গালিব: নাটক বাদ দে, আর অনিকে এই বিষয়ে কিছু বলিস না। আর একটা রেস্টুরেন্ট বুক করে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখবি।

নিলয়: দোস্ত কবে আসবি তাহলে তুই?

গালিব: ১৫ তারিখ যাবো। এই বিষয়ে আর কাউকে কিছু জানাবি না।

নিলয়: আচ্ছা আচ্ছা দোস্ত! তুই ভাবতেই পারবি না আমি কতটা খুশি ফাইনালি তুই আসবি এটা ভেবে।

গালিব: হুম তুই খুশি কারণ তুই ফাইনালি বিয়ে টা করতে পারবি সেই জন্য।

নিলয়: তুই আয় তোকেও বিয়েটা করায় দিবো।

গালিব: মাফ চাই, আমি ঐ সবে নাই। যেটা বলছি সেটা যেনো মনে থাকে আর হে কাজটা যেনো ঠিক মত হয়।

নিলয়: অকে!!

তূবা তো অনেক খুশি এই ভেবে যে অনিকে তার বেস্ট গিফট সে দিতে পারবে। যাক বাবা ভালোয় ভালোয় ৪ টা দিন কেটে যাক। জন্মদিন এর গিফট বুঝিয়ে দিয়ে অনির ভাইকে সরি করে দিবো, তার পর যার যা মন চায় করুক। তূবা ঘুমিয়ে পরলো।

গালিব তখন থেকে ভেবেই হাসছে যে তার লিটিল বার্ড যখন জানতে পারবে অনির ভাই আর কেউ নয় সে সব থেকে যাকে ঘৃণা করে সেই তখন সে কি করবে। লিটিল বার্ড অপেক্ষা করো এবার ভালোবাসার যন্ত্রণা সজ্জ করার জন্য। আমি কিন্তু নিজে থেকে আসতে চাইনি তুমি আমাকে বাধ্য করেছো তোমার কাছে আসার জন্য। এখন রেডি খালো আমার টর্চার এর জন্য (get ready little bird)

সকাল বেলা উঠে তূবা নিলার কাছে গেলো –

নিলা : কিরে বোন কিছু লাগবে তোর?

তূবা: আপু আমার কিছুটাকা লাগবে। অনির জন্মদিন তাই অকে কিছু গিফট কিনে দিবো।

নিলা: কত লাগবে?

তূবা: তোমার যত ইচ্ছা দাও।

নিলা: কবে লাগবে।

তূবা: তিন দিন পরে।

নিলা: আচ্ছা ঠিক আছে পেয়ে যাবি।

ফিরোজ আহমেদ দরজা বাইরে থেকে সব কিছুই শুনিলো, এবং তার মেয়ের অভিমান ও বুঝতে পেরেছে। বিয়ের কথা বলাতে এখনো রেগে আছে তার মেয়ে, তাই তো তার বোনের কাছে টাকা চাইছে।

তূবা কলেজে চলে গেলো, অনির সাথে কথা বলে ক্লাস শেষ করে বাড়ি চলে আসলো। ফোন বের করে দেখলো আবরার খান আইডি থেকে আবার মেসেজ এসেছে-

তোমার তো ১৫ তারিখে বিয়ে তো তোমার বাড়ির এড্রেস দাও, আমি তো তোমার বাড়ি চিনি না।

তূবা মেসেজ দিলো আরে না না, বাসায় আসতে হবে না।

গালিব রিপ্লাই দিলো-

গালিব: তাহলে পরিচয় হব কিভাবে তোমার সাথে।

তূবা: অন্য কোথাও দেখা করবো।

গালিব: অকে তাহলে তুমি বলো কোথায় দেখা করবে।

তূবা: কোনো রেস্টুরেন্টে দেখা করি।

গালিব: অকে আমি তোমাকে এড্রেস পাঠায় দিবো।

তূবা: আচ্ছে ভাইয়া।
———————-
আজ ১৫ তারিখ ঘুমন্ত পরি ঘুম থেকে উঠে একটা চিঠির খাম দেখতে পায়। উঠে খোললো সেখানে ২০ হাজার টাকা আর একটা চিরকুট লিখা আছে-

মা রে আর কত দিন বাবার অপরে অভিমান করে থাকবি। সরি রে মা আমি আর তোর বিয়ের কথা বলবো না। তোর বান্ধবী কে ভালোকিছু গিফট কিনে দিস।

তূবা ফ্রেশ হয়ে রেডি হচ্ছিলো সেই সময় নিলা রুমে ডুকে বোন এই নে তোর টাকা। আপু টাকা লাগবে না আব্বু টাকা দিয়েচ্ছে এতে হয়ে যাবে।

তূবা বাড়ি থেকে বের হয়ে একটা জুয়েলারি দোকানে গেলো আর সুন্দর দেখে এক জোরা নুপুর কিনলো অনির জন্য।
তারপরে কলেজে গেলো।

যাওয়া সাথে সাথে তূবা অনিকে Happy Birthday বলে জরিয়ে ধরে।

অনি: আমি তো ভাবলাম তুমি আমাকে বিশাল সারপ্রাইজ দিবে।

তূবা একটা বক্স বের করে দিলো,অনি খুলে দেখে একজোরা নুপুর অনি অনেক খুশি হয়ে গেলো ধন্যবাদ দিলো তূবাকে। দুজন ক্লাস শেষ করে তূবা অনিকে বললো চোলো রেস্টুরেন্টে যাই, আজ আমি ট্রিট দিবো।

তূবা মেসেজে পাঠানো এড্রেস এ নিয়ে গেলো অনিকে, সেখানে গিয়ে অনির চেয়ে বেশি অবাক তূবা হয়েছে, আবার মেসেজ চেক করে দেখলো এড্রেস ঠিক আছে কি না। দেখে না সব ঠিক আছে।

পিছন থেকে পুরুষালি কন্ঠ ভেসে আসে, Happy Birthday To you my Dear sister।
অনি পিছনে ঘুরে দেখে তার ভাই আবরার খান গালিব দারিয়ে আছে। অনি দৌড়ে গিয়ে তার ভাইকে জরিয়ে ধরে।

তূবা নিচ থেকে উপর পর্যন্ত গালিব কে দেখে ও মাগো বলে ধাপ করে মাটিতে পরে গেলো……….

অনি: তূবা……………

গালিব: লিটিল বার্ড ……………..

চলবে……..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here