গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা #পর্ব_১৬

0
41

#গল্প_তোর_কারণে_ফিরে_আসা
#পর্ব_১৬
#লেখিকা_ছায়ালিপি

গালিব তূবার পিছু পিছু নিচে চলে গেল, লাঞ্চ শেষ করে গালিব রেডি হয়ে কোথাও যাওয়ার জন্য বের হচ্ছে।

তূবা: কোথায় যাচ্ছেন এই সময়?

আমার একটা কাজ আছে আমি চলে আসবো তারাতারি,
সেই সময় গালিবের ফোনে একটা কল আসে, মনি নামে সেভ করা।

গালিব তারাতাড়ি করে ফোন রিসিভ করে বলে তুমি এসে পরেছো, একটু অপেক্ষা করো আমি আসছি।

কথা বলতে বলতে চলে গেলো গালিব, তূবা এখন চিন্তা করছে এই মনি আবার কে।

তূবা চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পরে, সন্ধ্যার আগে ঘুম ভাঙে এখনো গালিব আসেনি। তূবা তার আম্মুকে ফোন করে খিচুড়ি রান্নার রেসিপি জেনে নিলো, তারপরে খিচুড়ি রান্না করতে চলে গেলো রাতের জন্য। খিচুরি রান্না শেষ করে, তূবা উপরে গিয়ে ফোন টিপছিলো। একটু পরে গালিব আসলো, কোনো কিছু না বলে সোজা বলে দিলো-

গালিব: তূবা ফোন টিপা বাদ দিয়ে পরতে বসো, সারাদিন শুধু ফোন টিপো পড়া লেখার নাম নেই। ( গালিব গম্ভির ভাবে কথা গুলো বললো।

তূবা কিছু বলতে চেয়েও কিছু বললো না, নিচে চলে গেলো পড়তে বসতে।

গালিব ফ্রেশ হয়ে ল্যাপটপ নিয়ে বসেছে, তূবা পরতে পরতে দেখে রাত ১০ টা বেজে গেছে। তাই ডিনারের জন্য গালিব কে ডাকতে যায়। গিয়ে দেখে গালিব ফোনে কথা বলছে, তূবাকে দেখে ব্যালকনিতে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে ভিতরে আসে গালিব।

তূবা: খেতে চলুন অনেক রাত হয়েছে।

গালিব: তুমি যাও আমি আসছি।

তূবা নিচে গিয়ে ডিম ভাজি করে টেবিলে খিচুরি, ডিম ভাজি, আচার সাজিয়ে রাখলো। গালিব এসলে দুইজন খেতে বসলো, গালিব কোনো কথা না বলে খেয়ে উঠে গেলো। তূবার খুব কান্না পাচ্ছে গালিবের এমন আচরণে। কোনো কিছুই তো হয়নি তাদের মধ্যে তাহলে কেনো এমন করছে সে।

তূবা সব কিছু ঠিক করে রেখে ঘুমাতে চলে গেলো। আজ আর গালিব তূবার সাথে গল্প করতে আসে নি। তাই তূবা মন খারাপ করে ঘুমিয়ে গেলো। সকাল ৭ টায় তূবার ঘুম ভেঙে যায়, পাশের রুমি যেয়ে দেখে গালিব জিমে গিয়েছে। তুবা ব্রেকফাস্ট বানিয়েছে। নিজে খেয়ে গালিবের জন্য রেখে কলেজে চলে গেছে।

গালিব এসে রুমে গেলে দেখে তূবা নেই, গালিব সারাবাড়ি তূবাকে খুজতে থাকে। গালিবের মনে পরে কালকের কথা কাল সারাদিন টেনশনে মেয়েটার সাথে কথা বলিনি, এমনি আগে থেকে রেগে ছিলো। গালিব ফোন করলো তূবাকে, ফোন রিং হচ্ছে কিন্তু তূবা ফোন ধরছে না।

গালিব ফ্রেশ হয়ে লাইব্রেরিতে আসলো এসে দেখে তূবার বই নেই, গালিব একটা দীর্ঘ শ্বাস নিলো। এর পরে ডাইনিং এ গিয়ে দেখে ব্রেকফাস্ট এর সাথে ছোট একটা চিরকুট।

~~🥀খেয়ে নিবেন,
~~🥀আমি কলেজে গেলাম।

গালিব তারাতাড়ি করে খেয়ে কলেজে চলে গেলো।

——————————————–
তূবা কলেজে এসে মন খারাপ করে বসে আছে অনি ক্লাসের সাথে সাথে। কিছু মেয়েকে তাদের সাথে বসতে বলে, অনি তাদের পাত্তা না দিয়ে তূবার কাছে চলে যায়।

অনি: কি ব্যাপার এমন মন খারাপ করে বসে আছো কেনো ভাবি?

তূবা: আর ভাবি, এমনি মন খারাপ।

ক্লাসে স্যার চলে আসলে সবাই ক্লাস করা শুরু করে, দুইটা ক্লাস করার পরে তূবার মন আনচান করে গালিব কে দেখার জন্য, গালিবের ক্লাস আরো দুইটা ক্লাস এর পরে তাই অনিকে নিয়ে বাইরে গেলো এক ঝলক দেখতে,

তূবা যতই রাগ করে থাকতে চাচ্ছে কিন্তু থাকতে পারছে না, তাই তো ছুটে চলে আসলো গালিব কে দেখতে।
গালিবের রুমের পাশে ঘুরা ঘুরি করছে কিছু বুঝতে পারছে না অনি কি হচ্ছে।

অনি: তোমার কি ভাইয়ার সাথে কোনো কথা আছে?

তূবা:………

অনি: ভিতরে যাও কথা বলে এসো তারাতাড়ি।

তূবা নক না করেই ভিতরে ডুকে দেখে গালিবের রুমে একটা মেয়ে বসে গল্প করছে গালিবের সাথে।

গালিব: মিস তূবা কারো রুমে ডুকতে হলে দরজা নক করে ঢুকতে হয় জানেন না।

তূবা চোখে পানি
তূবা: সরি স্যার ভুল করে এসেছি। মাফ করবেন।

তূবা দৌড়ে চলে যায়, অনি অবাক হয়ে দেখে তূবা কান্না করতে করতে চলে গেলো, ভিরতে কি হয়ে তা জানার জন্য অনি দরজা নক করে –

গালিব: কামিন…..

অনি: আরে মনি আপু কেমন আছো?

মনি: ভালো আছি, ভাইয়ার সাথে একটা কাজ ছিলো তাই এখানে চলে আসলাম।

গালিব: কিছু বলবি? না হলে ক্লাসে যা, আমরা কথা বলছি।

অনি: ভাবিকে কি বলেছিস৷ কান্না করতে করতে চলে গেলো।

গালিব: সেটা আমি বাসায় গিয়ে বুঝে নিবো এখন ক্লাসে যা।

মনি: কি রে ভাইয়া ঐটা তাহলে ভাবি ছিলো, আর তুমি কিনা এমন রুড বিহেভ করলা।

অনি: তাহলে ভাবি কান্না করার কারণ তুমি নিজেই?

গালিব: ক্লাসে যেতে বলেছি।

——————————————————————————————————–
অনি ক্লাস রুমে এসে দেখে তূবা মন খারাপ করে বসে আছে, অনি এসে বললো-

অনি: কান্না করছো কেনো?

তূবা: তোমার ভাই এমন কেনো করতিছে আমার সাথে, তার যদি অন্য কেউ ভালোবাসার মানুষ থাকে তাহলে আমাকে কেনো বিয়ে করলো। ঐ মেয়ের সাথেই থাকতো-

অনি: তুমি কোন মেয়ের কথা বলছো?

তূবা: ঐ যে যেই মেয়েটা বসে ছিলো, কালকেও তো ঐ মেয়েটার সাথে দেখা করতে গেছিলো।

অনি: আরে ঐ মেয়েটা আমার আমার ফূফুর মেয়ে মনি আপু।তবে ফুফু চেয়েছিলো ভাইয়ার সাথে বিয়ে দিতে। কিন্তু ভাইয়া আপু কেউ বিয়েতে রাজি না।

তূবা: তাহলে আমার সাথে কালকে থেকে এমন ব্যবহার করছে কেনো?

অনি: তুমি একটা কাজ করো, ভাইয়াকে জেলাসফিল করার জন্য আমাদের ক্লাসের কারো পাশে গিয়ে বসো ভাইয়ার ক্লাসে, ভাইয়া যখন ক্লাস নিবে তখন তুমি ঐ ছেলেটার সাথে কথা বলবা দেখি ভাইয়ার রিয়েকশন কেমন।

তূবা: আচ্ছা আমি তাহলে সায়েম এর পাশে গিয়ে বসি, যেহেতু ওর সাথে আমার একটু ভালো জমে।

অনি: আচ্ছা ভাইয়ার ক্লাসের আগে গিয়ে বসো এখন আর মন খারাপ করে থেকো না।

—————————————————-
গালিব ক্লাসে ডুকে দেখে তূবা একটা ছেলের পাশে বসেছে, আবার হেসে হেসে কথা বলছে। গালিব কিছু না বলে ক্লাস নেয়া শুরু করলো, তূবার সেদিক মন নেই সে সায়েম এর সাথে গল্প করায় ব্যস্ত। সায়েম নিজেও অনেক খুশি কারণ সায়েম যে তূবাকে লাইক করে। গালিব আর নিজের রাগ কন্টোল করে রাখতে পারলো না।

গালিব: মিস তূবা এটা কি আপনার পার্ক মনে হয়, যে ক্লাসে বসে প্রেম শুরু করে দিয়েছেন। চুপচাপ পড়ায় মন দিন –

গালিব আবার পড়ানো শুরু করে তূবা আবার কিছুক্ষণ গল্প করা শুরু করে দেয়।

গালিব: মিস তূবা এন্ড মিস্টার সায়েম আমার ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান।

গালিবের চোখ দিয়ে মনে হচ্ছে আগুন বের হচ্ছে,

তূবা: সায়েম চলো এমনি ক্লাসটা বোরিং লাগছিলো চলো বাইরে গিয়ে গল্প করি।

গালিব: অয়েট, বাইরে যেতে হবে না আমার কাছে এসো।

তূবা সায়েম চলে গেলো গালিবের কাছে,

গালিব: দুইজন এ কান ধরে দারিয়ে থাকো, যতক্ষণ না আমার ক্লাস শেষ হচ্ছে।

তূবা চুপ করে দারিয়ে আছে, এত গুলো ছেলে মেয়ের সামনে এখন ধরতে পারবে না তূবা।

গালিব: কি হলো কথা কানে যাচ্ছে না,

তূবা: আমি কান ধরতে পারবো না।

গালিব: ক্লাস বাদ দিয়ে গল্প করার সময় এই কথা মনে ছিলো না, চুপচাপ কান ধরে দারান।

তূবা: বললাম তো আমি পারবো না।

গালিব: অকে তাহলে হাত টা বারান,

তূবা : হাত নারিয়ে দিলো

গালিব: স্কেল দিয়ে ৫ টা জোরে জোরে হাতের তালুতে বাড়ি মারলো।

তূবা মোটেও এটা জন্য প্রস্তুত ছিলো না, তূবার চোখ দিয়ে পানি পরছে। তূবা আর এক সেগেন্ড সেখানে না দারিয়ে বেগ নিয়ে বের হয়ে গেলো ক্লাস রুম থেকে।

গালিব : ইভরিওয়ান ক্লাসে মন দাও।

গালিব অনিকে মেসেজ দিয়ে তূবার কাছে যেতে বললো।অনি গালিবের কাছে পারমিশন নিয়ে চলে গেলো, গালিব ক্লাস নেয়া শুরু করে কিন্তু কিছুতেই ক্লাসে মনোযোগ আসছে না, তাই কোনো রমক ক্লাস শেষ করে গালিব বেরিয়ে গেলো।

অনি বের হয়ে দেখে তূবা নেই, বাইরেই দারিয়ে ছিলো অনি গালিব এসে বলে কই ও।

অনি: আমি বাইরে এসে দেখি নেই।

গালিব গারি নিয়ে বেরিয়ে গেলো বাড়ির উদেশ্য, যাওয়ার আগে বউ এর রাগ ভাংগানোর জন্য পদ্ম ফুল নিয়ে, সাথে অনেক গুলো চকলেট।

গালিব বাড়িতে এসে দেখে সব কিছু অন্ধকার,

গালিব: বিজি জান, কোথায় তুমি?
সুইটহার্ট, কই আমি খুজে পাচ্ছি না কেনো।
লিটিল বার্ড আমি কিন্তু রেগে যাচ্ছি।

সারাবাড়ি খুজলো তূবাকে তূবা কোথাও নেই, গালিব মাটিতে বসে পড়লো। ফোন বের করে অনিকে ফোন করে বললো তূবা বাড়িতে নেই, কলেজে ভালো করে দেখতে বললো-

অনি: ভাইয়া আসলে তূবার না কোনো দোষ নেই ও তোমাকে জেলাস ফিল করানোর জন্য সায়েম এর সাথে কথা বলেছিলো, তুমি মনি আপুর সাথে কথা বলাতে ও অভিমান করেছিলো তোমার উপরে। ভাইয়া মেয়েটা অনেক কষ্ট পেয়েছে প্লিজ একটু ভালোভাবে কথা বলো ওর সাথে। অনি ফোন কেটে দিলো,গালিব ফোন পকেটে ঢুকাবে হঠাৎ গালিবের ফোন বেজে উঠলো ফোনের স্কিনে মিসেস ফাতেমার নাম্বার-

গালিব: আসালামু আলাইকুম আম্মু!

মিসেস ফাতেমা : ওয়ালাইকুম সালাম বাবা, বাবা তূবাকে একা পাঠিয়ে দিয়েছো তুমি এলে না যে।

গালিব: আম্মু তূবা আপর ওখানে গিয়েছে?

মিসেস ফাতেমা : একটু আগে আসলো, তোমার কথা জিগ্যেস করতেই বললো তুমি ব্যস্ত।

গালিব: আচ্ছা আম্মু ওর থাক আমি পরে এসে অকে নিয়ে আসবো।

গালিব ফোন কেটে দিলো, উপরে রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো, একটু পরে ঘুমিয়ে পরলো।

———————- ———————-
তূবা চিন্তা করছে কতোটা পাসান লোকটা একটা বার ফোন করলো না, থাক আমিও ফোন দিবো না, আবার ভাবে উনি কি সকালে খেয়েছিলো, দুপুরে কি খাবে।

আবার নিজেই বলে যা ইচ্ছে করুক আমার কি, আমি আর উনার সামনেও যাবো না।
গালিব কালকে সারারাত না ঘুমানোর কারণে অনেকক্ষণ ঘুমিয়েছে, ঘুম ভাঙে সন্ধ্যা ৭ টায়। ফোন হাতে নিয়ে দেখে নিলয়, নিলা, মিসেস ফাতেমা, ফিরোজ আহমেদ সবাই ৩০ বার এর মত ফোন করেছে কিন্তু তূবা এক বার ও ফোন করলো না।

গালিব প্রথমে নিলয়কে ফোন করে,

নিলয়: কি রে ফোন রেখে কই ছিলি এতক্ষণ ধরে ফোন দিচ্ছি ফোন ধরছিস না।

গালিব: ঘুমিয়ে পরেছিলাম, সারাতার ঘুম হয়নি তাই।

নিলয়: দেখ ভাই আমার শালি কিন্তু ছোট তাই একটু নিজেকে কন্ট্রোল করিস ভাই।

গালিব: তুই নিজের টা চিন্তা কর, আমার কথা ভাবতে হবে না, আর তোর শালি আমানতেই আছে। কি জন্য ফোন করেছিলি সেটা বল।

নিলয়: ফোন করেছিলাম আমরা আজ শশুর বাড়িতে যাচ্ছি তাই তুইও নিলাকে নিয়ে চলে আয়।

গালিব: তোর শালি চলে গেছে, আমি যাবো না। তোরা যা ইঞ্জয় কর।

গালিব ফোন কেটে ফিরোজ আহমেদ কে ফোন করে,

গালিব: আসালামু আলাইকুম আব্বু-

ফিরোজ আহমেদ : ওয়ালাইকুম সালাম বাবা, কেমন আছো?

গালিব: আলহামদুলিল্লাহ আব্বু ভালো আছি আপনি কেমন আছেন?

ফিরোজ আহমেদ : আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তা বাবা তোমার কাজ কি শেষ হয়েছে? তুমি কখন আসবা? নিলা আর নিলয় তো একটূ পরেই চলে আসবে।

গালিব: বাবা আমার কাজ এখনো শেষ হয়নি,

ফিরোজ আহমেদ : আর কতক্ষণ লাগবে?

গালিব: সেটা তো বলতে পারছি না আব্বু, তবে আমার জন্য অপেক্ষা না করাই ভালো। আচ্ছা আব্বু রাখলাম আপনাদের খেয়াল রাখবেন।

গালিব ফোন কেটে দিলো-

মিসেস ফাতেমা : কি বললো জামাই, কখন আসবে সে?

ফিরোজ আহমেদ : সেতো বললো আসতে পারবে না।

তূবা পাশ থেকে সব কিছুই শুনছে, তার অভিমান বেড়ে গেলো
তাতে নাকি আমাকে ভালোবাসে কই একবার তো ফোন করলো না,

গালিবর মন লাগছে না কোনো কাজে শুধু তূবাকেই খুজছে, একটা বার দেখার ইচ্ছা জাগছে। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না, রাত ১০ টা বেজে গেছে তাই আর কোনো কিছু না ভাবে চলে গেলো শশুর বাড়িতে। যাওয়ার আগে মিষ্টি, আর একটা গোলাপের তোরা নিলো। গাড়ি গিয়ে থামলো তূবারেদের বাড়ির সামনে, গালিব গাড়িতে বসে আছে বাইরে বের হচ্ছে না, ফোন হাতে নিয়ে নিলয়কে ফোন দিলো,

গালিব: তুই কি এসেছিস নিলাদের বাসায়?

নিলয়: হ্যাঁ এই তো সবাই বসে গল্প করছি,তুই কোথায়?

গালিব: একটু নিলা সহ নিচে আয়।

নিলয় আর নিলা বাড়ির নিচে এলো,

নিলা: এখানে দারিয়ে আছিস কেনো ভিতরে আয়।

গালিব: তোর বোন যে রাগ করে চলে এসেছে এটা জানিস?

নিলা: কই না তো তেমন কিছুইতো বলেনি, তবে একটূ মন খারাপ ছিলো।

গালিব সব কিছু খুলে বললো সব শুনে নিলয় হো হো করে হেসে উঠোলো,

নিলয়: বুডা বয়সে এখন বাচ্চা সামলা, বেশি প্রফেশনাল হতে গিয়ে এখন বাড়িতে ইদুর হয়েছিস।

গালিব: হাসি থামিয়ে বল কিভাবে রাগ ভাঙাবো সালা জীবনে তো কোনো দিন প্রেম করলাম না, কিভাবে রাগ ভাঙাবো সেটাও জানি না।

নিলয় কানে কানে কিছু একটা বললো

গালিব : তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে, এই কাজ করলে ও আরো বেশি রাগ করে বসে থাকবে। থাক তোর এডভাইস আমার লাগবে না। আমার বউ আমি দেখে নিবো।

তিনজনই বাড়িতে গেলো, মিসেস ফাতেমা আর ফিরোজ আহমেদ গালিবকে দেখে খুশি হয়ে গেছে।

ফিরোজ আহমেদ তূবাকে ডাক দিলো-

ফিরোজ আহমেদ : মামুনি তূবা দেখে যাও কে এসেছে!

#তোর_কারণে_ফিরে_আসা
#পর্ব_১৭
#লেখিকা_ছায়ালিপি

(রোমান্টিক স্পেশাল)

তূবা ডাইনিং এ এসে দেখে গালিব বসে আছে, চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে। গালিব নিষ্পাপ চোখে তূবার দিয়ে তাকিয়ে আছে মনে হয় কত দিন দেখে না।

তূবা চোখ সরিয়ে নিলো, সবাই কিছুক্ষণ গল্প করে ডিনার করে নিলো। ডিনার শেষ করে গালিব বিদায় নেয়ার জন্য ফিরোজ আহমেদ এর কাছে গেলো।

গালিব: আব্বু এবার আমাকে যেতে হবে অনেক রাত হয়ে গেছে।

ফিরোজ আহমেদ : সে কি এখন বাড়ি যাবে মানে, মানলাম তোমার শশুরের বাড়িটা একটু ছোট তাই বলে এই প্রথম জামাই এসেছে আর তাকে যেতে দেবো কখনো না।

মিসেস ফাতেমা : আজ যাওয়া হবে না জামাই, রাতটুকুর তো ব্যাপার।

গালিব: আম্মু কালকে আমার সকালে কলেজ আছে দুইদিন হলো জয়েন্ট হয়েছি, এর মধ্যে ছুটি নেয়া যাবে না।

মিসেস ফাতেমা : সে নাহয় তুমি কালকে এপাশ দিয়ে কলেজে চলে যেও।

গালিব আর কিছু বলতে পারলো না এতটা আদর তাকে কেউ আগে করেনি, কিন্তু তূবার বাবা মা এত অল্প সময়ে আপন করে নিয়েছে।

মিসেস ফাতেমা : তূবা জামাইকে জিসানের রুম থেকে একটা লুঙ্গী এসে দেতো।

তূবা জিসানের রুমের দিকে গেলে মিসেস ফাতেমা গালিব কে তূবার রুম দেখিয়ে দেয়, গালিব তূবার রুমে গেলো। তূবা ড্রোইং রুমে এসে দেখে গালিব নেই।

তূবা: আম্মু তোমার জামাই কই?

মিসেস ফাতেমা : ঘরে গেছে!

তূবা নিজের রুমে চলে গেলো, রুমে গিয়ে গালিব কে কোথাও দেখতে পেলো না একটু ভিতরে ডুকতেই কেউ তূবাকে ঠেসে ধরলো দেয়ালের সাথে।

গালিব: আমার পারমিশন ছাড়া এ বাড়ি আসার সাহস হলো কি করে তোমার?

তূবা: দেখেন ভাইয়া………

গালিব তূবার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়, তূবা নিজেকে ছারানো চেষ্টা করে ব্যথ হয়। ৫ মিনিট পরে গালিব ঠোঁট ছেরে দিয়ে বৃধা আঙুল দিয়ে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলে-

গালিব: বলেছিলাম না ভাইয়া মুখ দিয়ে উচ্চারণ না করতে।

তূবা: আপনি কি ভেবেছেন আপনার একটা চুম্মাতে আমি ভয় পেয়ে যাবো, কখনো না।

গালিব: তোমাকে কে বলেছে সুইটহার্ট যে আমি একটা কিস করে থেমে থাকবো। এখনো তো অনেক কিছু করা বাকি।

তূবা: তূবা একটু ভয় পেয়ে, আপনি আমার সাথে এমন করতে পারেন না আমি কিন্তু চিৎকার করবো!

গালিব তূবার কাছে এসে গোলায় ছোট করে একটা চুমু দিলো তার পরে যে জায়গায় একটা বাইট দিয়ে দিলো।

গালিব: এখন চিৎকার করো, সবাইকে ডাকো। ডেকে দেখাও আমি কি করেছি তোমার সাথে।

তূবা: আ……..

গালিব আবার তূবার ঠোঁটে ঠোঁট ডুবালো, তূবার মুখ থেকে উম উম শব্দ ছাড়া আর কিছুই বের হচ্ছে না। ১০ মিনিট পরে ছেরে দিলো তূবাকে, তূবা হাপিয়ে গেছে। তূবা আর কিছু বলছে না ভয়ে দুই বার বলতে গিয়ে এই অবস্থা তাই সে চুপ।

তূবা গালিবের দিকে লুঙ্গী দিয়ে বললো চেঞ্জ করে নিন,

গালিব: এই জিনিসটা আমি পরতে পারিনা সুইটহার্ট, ঘুমের অবস্থা কোথায় উরে যাবে নিজেও বলতে পারবো না।

তূবা: আপনার ইচ্ছা পরবেন কি পরবেন না।

গালিব: সুইটহার্ট! তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।

তূবা: আমার কোনো কথা শুনার নাই, আপনার কথা শুনার অনেক লোক আছে। তাদের সাথে কথা বলুন,

তূবা রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলো গালিব হেচকা টান দিয়ে তূবাকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়,

গালিব নিজের নাক তূবার চুলে ডুবিয়ে দিয়ে তূবাকে ডিপলি টার্চ করতে করতে বলে-

গালিব: লিটিল বার্ড খুব রেগে আছো? সরি না সব কিছুর জন্য সরি।আমি সব এক্সপ্লেইন করবো প্লিজ আমায় ভুল বুঝোনা
বেইবি I’m Sorry!!

গালিবের এত বার সরি বলাতে তূবার মনে হয় রাগ ভাঙলো
তূবা চুপ করে গালিবের কলে বসে আছে,
গালিব সরি বলছে আর তূবাকে কিস করছে গোলায়, পিঠে, বুকে তূবা এই স্পর্শে কেপে কেপে উঠছে, আজ প্রথম বার তূবার এই ভালোবাসার স্পর্শ গুলো গালিবের কাছে টানছে, তূবাও চাইছে আজ খুব করে গালিবের ভালোবাসা পেতে।
গালিব কিছুক্ষণ পরে তূবাকে ছেরে দিলো-

গালিব: সরি লিটিল বার্ড কন্ট্রোল করতে পারি নি।

তূবা এতক্ষণে হুস ফিরে, লজ্জায় মিশিয়ে যাচ্ছে তূবা

তূবা:( ছি কেমন বেহায়ার মত উনার কলে বসেছিলাম)

তূবা লজ্জায় রুম থেকে বেরিয়ে যায়, মিসেস ফাতেমা সব ঠিক করে রাখছিলো তূবা নিজের মায়ের কাছে এসে দারিয়ে আছে-

মিসেস ফাতেমা : কি রে এখানে কি করছিস ঘরে জামাইকে রে, যা ঘরে যা।

তূবা: তোমার কোনো হেল্প লাগবে আম্মু দাও তোমাকে হেল্প করে দেই।

মিসেস ফাতেমা : আমার কোনো হেল্প লাগবে না ঘরে যা, জামাই আবার সকালে কলেজে যাবে।

তূবা: আম্মু তুমি কি জানো তোমার জামাই আমাদের কলেজের প্রোফেসর?

মিসেস ফাতেমা : বলিস কি, জামাই তোর টিচার হয়েছে। যাক ভালো হয়েছে এখন তোকে চোখে চোখে রাখতে পারবে।

——————————————–

তূবা কিছুক্ষণ মায়ের সাথে থেকে রুমে আসে চুপি চুপি, কিন্তু একি গালিব তো ঘরে নেই। তূবা বাথরুমে গিয়ে দেখে সেখানেও নেই। রাগ করে চলে গেলো না তো, না বাইরে গেলে তো আমি দেখতে পেতাম।

তূবা ফোন করলো গালিব কে –

গালিব: হুম লিটিল বার্ড বলো-

তূবা: কোথায় আপনি? খুজে পাচ্ছি না!

গালিব: তুমি ঘুমিয়ে পরো, আমি আর রুমে যাবো না।

তূবা: কেনো আসবেন না, আর কোথায় আপনি?

গালিব: তোমার সাথে থাকলে কন্ট্রোল করতে কষ্ট হবে, তুমি ঘুমিয়ে পরো সোনা আমি ঠিক আছি।

তূবা ফোন কেটে দিলো, গালিব ফোন পকেটে রেখে দারিয়ে আছে-

তূবা সাদে চলে আসলো, অন্ধকারে কিছু দেখতে পাচ্ছে না তূবা

তূবা: কোথায় আপনি? খুজে পাচ্ছি না দেখুন আমি কিন্তু অন্ধকার ভয় পাই প্লিজ কথা বলুন।

গালিব ফোনের ফ্লাস জ্বালালো, তূবা আলোর দিকে পা বারালো। গালিবের কাছে গিয়ে দারালো,

তূবা: ঘরে চলুন নতুন জামাই সারারাত সাদে থাকলে আব্বু আম্মু আমাকে পিটাবে।

গালিব দুষ্টুমি করে বললে-

নতুন জামাই ঘরে থাকলে কিন্তু অনেক কিছু করতে মন চায় কিন্তু বউ তো কিছু করতে দেয় না।

তূবা: কি মিথ্যা কথা, একটু আগে কি সব করলেন আর বলছেন কিছু করতে দেই না।

গালিব: তুমি তো কিছু করো না তাই আমাকেই করতে হচ্ছে।

তূবা: যদি কিছু করতে দেই তাহলে কি ঘুমাতে যাবেন?

তূবা চটকরে গালিবের গালে একটা কিস করে চলে যাচ্ছিলো পিছন থেকে গালিব হাত চেপে ধরে। টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে নেয়,

গালিব: যা বলছো ভেবে বলছো তো? সামলাতে পারবে আমাকে আমার বেসামাল ভালোবাসকে সজ্জ করতে পারবে।
আজ যদি তুমি আমার কাছে ধরা দাও তাহলে আর নিজেকে ছারাতে পারবে না বলে দিলাম।

তূবা পা দুটো উচু করে গালিবের গালে তূবার হাত দুটো দিয়ে ধরে ঠোঁট ছোট করে একটা কিস করে দেয়,

তূবা: নতুন করে আপনার প্রেমে পরে গেছি, ভালোবাসি আপনাকে আমি অপেক্ষায় আছি আপনার বেসামাল প্রেমের জন্য।

গালিব: রেডি হও বেবিগার্ল আমার দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার জন্য।

গালিব তূবার ঘারে হাত দিয়ে কাছে টেনে নিয়ে ঠোঁট ঠোঁট মিশালো, তূবার রেস্পন্স দেখে গালিব আরো বেসামাল হয়ে গেলো। গালিবের প্রতিটা স্পর্শ তূবাকে বেসামাল করে দিচ্ছে, গালিবের হাত তূবার শরীরের প্রতিটি জায়াগায় বিচরণ করে বেরাচ্ছে, আর ঠোঁট গুলো ছোট ছোট চুমুতে তূবার গোলা, বুক পিঠ ভরে দিচ্ছে। গালিব তূবাকে কলে নিয়ে রুমে চলে আসলো, গালিবের পরনে থাকা সাদা শার্ট খুলে ছুরে ফেলে দিলো, তূবা চোখ ঢাকলো,

গালিব: সুইটহার্ট এখনো লজ্জা পাচ্ছো, আগেই সরি বলে নিচ্ছি একটু পরে আমি আর আমার মধ্যে থাকবো না, বেইবি আমরা তাহলে আবার শুরু করি,বলে তূবাকে আনড্রেস করে দিলো, গালিব বাইট দেয়া শুরু করলো, তূবা গালিবের ভালোবাসার স্পর্শে হারিয়ে গেলো, এক পর্যায়ে তূবা ছাড়া পাবার জন্য চেষ্টা করতে থাকলো কিন্তু ব্যর্থ হলো, তূবা এবার কান্না করে দেয় গালিবে সেদিকে হুস নেই। রাত ৩ টার দিকে তাদের এই ভালো বাসায় সমাপ্তি হয়। তূবার কপালে চুমু দিয়ে গালিব বলে আজ আমরা পরিপূর্ণ বিবিজান! দুজনি ঘুমিয়ে যায়।

——————————————————————————————————–

প্রতি দিনের মত সকালে ঘুম ভেঙে যায় গালিবের তূবার কি সুন্দর নিস্পাপ শিশুর মত ঘুমিয়ে আছে। তূবাকে বালিশে রেখে দিয়ে রুমেই ব্যায়াম করা শুরু করলো, গালিবের এটা প্রতি দিনের রুটিং।

৭ টায় তূবার ঘুম ভেঙে যায়,

গালিব: গুড মর্নিং বিবিজান, ঘুম কেমন হলো?

তূবা: গালিব কে দেখে কালকে রাতের কথা মনে পড়ে যায়, দ্রুত কম্বোলে ডুকে যায় তূবা।

গালিব হেসে দেয় তূবার এমন কান্ড দেখে,
তূবাকে আর একটু লজ্জা দেয়ার জন্য গালিব বলে,

আমার মত একটা নিরহ বাচ্চাকে নিজের বাড়িতে ডেকে এনে, আমার সব কিছু কেরে নিয়ে এখন তুমি নিজেই লজ্জা পাচ্ছো লিটিল বার্ড। বলে গালিবও ভিতরে ডুকে পরে,

তূবার শরীরে কোনো কাপর না থাকায় তূবা কম্বল পেচিয়ে দারিয়ে যায়।

তূবা অনুভব করে তার শরীর প্রচুর ব্যথা, হাটতেও কষ্ট হচ্ছে।

তূবা বিছানায় বসে পরে, গালিব জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে লিটিল বার্ড?

তূবা: কেনো জানি শরীর টা খুব ব্যথা করছে , হাটতেও কষ্ট হচ্ছে।

গালিব: তোমার ফাস্ট টাইম ছিলো তাই এমন হয়েছে, প্যাইন কিলার খেলে ঠিক হয়ে যাবে।

তূবা: আমার ফাস্ট টাইম আপনার কি…..

গালিব: তুমি তো অনেক ছোট তাই তোমার একটু কষ্ট হয়েছে, আর আমিও আমার নিজের মধ্যে ছিলাম না তাই তোমার একটু বেশি কষ্ট হয়েছে।

তূবা: তাহলে এমন কিছু আর আমি করবো না যেটা কষ্ট দেয়।

গালিব: সেটা কি আর হয় সোনা! এখন থেকে প্রতিরাতে আমাকে সামলাতে হবে তোমার!

তূবা আলমারি থেকে তার কাপর বের করে বাথরুমে যাচ্ছিলো হঠাৎ গালিব তূবাকে কোলে তুলে নিয়ে বাথরুমে যায়

তূবা: একি করছেন ছারুন আমাকে,

গালিব: আজ থেকে আমরা একসাথে শাওয়ার নিবো সুইটহার্ট!

তূবার খুব লজ্জা লাগছে, তূবার শরীরের পানি পরতেই পুরো শরীর জ্বলা শুরু করে দেয়৷ তূবা চোখ বন্ধ করে নেয়।

গালিব দেখে তূবার পুরো শরীরের রক্ত জমাট বেধে বেধে আছে। লাভ বাইট দিয়ে পূরো শরীর ভরিয়ে দিয়েছে।
তূবা আয়নায় গিয়ে নিজেকে দেখে কান্না করে দেয় ভে ভে করে

গালিব: কি হয়ে কান্না করছো কেনো?

তূবা: আমার শরীরের কি যেনো হয়েছে আমি মনে হয় আর বাচিবো না।

তূবার এমন কথা গালিব হো হো করে হেসে দেয়~

গালিব: পাগলি একগুলোকে লাভ বাইট বলে, এগুলো আমার ভালোবাসার চিহ্ন। এই দেখে আমার পিঠে

তূবা: এগুলো কিভাবে হলো?

গালিব: তোমার দুষ্টু হাতের নখ গুলো আমাকে এভাবে যখম করেছে, আর তাই আমি আরো বেসামাল হয়ে পরেছিলাম।

তূবা: আমি এভাবে কি করে আব্বু আম্মু ভাইয়া আপুর সামনে যাবো, প্লিজ তারাতারি বাড়ি চলুন। এভাবে আব্বু আম্মু দেখলে লজ্জায় মাথা কাটা যাবে আমার।

গালিব: কিছুই হবেনা, আব্বু আম্মু বুঝবে কালকে একটু বেশি ভালোবেসে ফেলেছিলাম তোমাকে তাই এমনটা হয়েছে।

তূবা গালিবের বুকে কিল ঘুষি মারতে লাগলো,

দুজনেই শাওয়ার নিয়ে বের হলো, গালিব এসে ড্রেস পরে নিলো, তূবা কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। গালিব দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেলো।

নিলাকে ডেকে বললো তূবার কাছে একটু যেতে, নিলয়, গালিব, ফিরোজ আহমেদ বসে গল্প করছে।

নিলা তূবার ঘরে ডুকলো, নিলার হঠাৎ আসাতে তূবা লজ্জায় পরে যায়।

নিলা: কি হয়েছে বোন কোনো সমস্যা?

গালিব: আমাকে আসতে বললো তোর কাছে।

তূবা: ( লোকটার কান্ড গেয়ান বলতে কিছু নেই আপুর সামনে এভাবে লজ্জায় ফেলার দরকার ছিলো কি)

তূবা উলো হয়ে ঘুরে আছে যাতে নিলা তাকে দেখতে না পায়।
নিলা তূবাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিলো, নিলা এবার বুঝতে পারে।

তূবা: আপু আমি বাড়ি যাবো, এভাবে আব্বু আম্মুর কাছে যেতে আমার লজ্জা লাগছে।

নিলা: আচ্ছা আমি দেখছি।

নিলা বাইরে এসে মিসেস ফাতেমা কে কিছু একটা বললো, সবাই খেতে বসলে তূবাকে ডাকে ফিরোজ আহমেদ।

মিসেস ফাতেমা : ওর মাথা ব্যাথা করছে তোমরা খেয়ে নাও নিলা অকে খাইয়ে দিবে।

নিলা গালিবের দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু বলছে না। সবার খাওয়া শেষ হলে নিলা খাবার নিয়ে তূবার কাছে যায়। তূবা খাওয়া শেষ করে নেয়।
নিলা বের হচ্ছিলো সেই সময় গালিব আসে।

নিলা: নিজেকে একটু কন্ট্রোল করতে পারিনি, আমার বোনটা এমনি ছোট। কি একটা অবস্থা করে দিয়েছিস, মনে হচ্ছে ট্যাট্য একে দিয়েছিস।

গালিব: পরের বার থেকে চেষ্টা করবো নিজেকে সামলাতে আপু।

নিলা চলে যায়, গালিব এসে তূবাকে বলে তুমি রেডি হয়ে নাও আমরা বের হবো।

তূবা: আমি রেডি আছি আপনি চলুন তারাতাড়ি,

তূবা নিজেকে ভালোভাবে পেচিয়ে নিলো, যেতে লজ্জায় না পরতে হয়।

সবার কাছ থেকে বিদাই নিয়ে আগেই যেয়ে গাড়িতে বসে পরে,

ফিরোজ আহমেদ : তোমার নাকি মাথা ব্যথা তুমি থেকে যাও।

গালিব: না আব্বু ওর কলেজ আছে আছে মিস করা যাবে না সামনে পরিক্ষা।

গালিব সবার কাছে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠবে সেই সময় নিলা ডাক দেয়।

নিলা: ভাই নিজেকে কন্ট্রোল করিস, বোনটা আমার ছোট। অসুস্থ বানায় ফেলিস না।

চলবে…..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here