আকাশ_জুড়ে_একা_আমি #লামিয়া_ইসলাম #পর্ব_২২

0
29

#আকাশ_জুড়ে_একা_আমি
#লামিয়া_ইসলাম
#পর্ব_২২
(শব্দসংখ্যা ১০৫০+ )

রুবাব একদম সকালেই একটা মেইল পেলো। তাকে হসপিটালের বাড্ডার ব্রাঞ্চে শিফট করা হয়েছে। সে একদম শিওর যে এই কাজটি আদিব করেছে। তার মাথা পুরো গরম হয়ে গেলো। এখন যদি সে বাড্ডাতে শিফট হয়ে যায় তাহলে আদিবকে আবার নিজের ভালোবাসার জালে কিভাবে আটকাবে? তার এসব ভাবনার মাঝেই রাজীব তাকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।

রাজীবের শরীর থেকে এখনো মদের গন্ধ আসছে। হয়তো কল রাতে ড্রিংকস করেছিলো। আদিবের সাথে ব্রেকআপ এর পড়ে গত ৩ বছর ধরে সে এই ফ্ল্যাটে আছে রাজীবের সাথে। যদিও মাঝে মাঝে তার আফসোস হয়। কেনো যে সে আদিবকে ঠকিয়েছিলো। রাজীব তাকে টাকা পয়সা সব দিলেও তার ভিতরে আদিবের মতো সেই পাগল প্রেমিকের ভালোবাসা নেই। লাস্ট ৬ মাস যাবত সে রাজীবকে বিয়ের জন্য প্রেসার দিচ্ছে। কিন্তু রাজীব প্রতিবার কোনো না কোনো বাহানায় কথা ঘুরিয়ে নেয়। তার জন্যই সে আদিবকেও ব্যাকআপ হিসেবে রাখতে চাচ্ছে। কারণ একটা ওয়েল স্টাব্লিশড পুরুষ ছাড়া তার এই হাইফাই লাইফ স্টাইল মেইনটেইন করা সম্ভব নয়। হসপিটালের চাকরি থেকে যেই কয় টাকা আসে সেটা তার পার্লার খরচেই চলে যায়। রাজীবের মুড ভালো মনে হওয়ায় সে আবার বিয়ের প্রসঙ্গটা তুললো ।

“বেবি, আমার বিয়ে কবে করছি?”

“আহা, বার বার শুধু বিয়ের কথা বলো। করবো তো খুব শিগ্রই। মাম্মার শরীরটা ভালো হলেই তোমাকে আমার ফ্যামিলির সাথে মিট করাবো।”

রাজীব বেশ আহ্লাদের সাথে রুবাবকে কথাগুলো বললো। যদিও রুবাব তার কথায় সন্তুষ্ট হতে পারলো না। কারণ গত ছয় মাসে ধরে এটাই রাজীবের কমন ডায়লগ। রাজীব তাকে বিয়ে করার চান্স খুব কম।রুবাব আর তাই টাইম ওয়েস্ট না করে শাওয়ার নিতে চলে গেলো।

—————————

মেঘলার ঘুম ভাঙলো সকাল ৮ টার দিকে। বাসার চিলেকোঠায় চেঁচামেচি শুনে সেও চিলেকোঠার দিকে গেলো। লিলির ফ্ল্যাটের সামনে মোটামুটি বাড়ির সবাই ভিড় করে আছে। লিলি মেয়েটা কাল সুইসাইড করেছে।হয়তো কাল সকালেই সে মারা গেছে।কিন্তু সে একা থাকতো তাই কেউ নাকি জানতে পারেনি।আজকে সকালে পাঁচ তলার লোকজন লাশ পচার গন্ধ পেলে নাজমা বেগমকে জানায়। মিহির আর কয়েকজন লোক মিলে দরজা ভেঙে দেখতে পায় যে লিলি সুইসাইড করেছে।

মেঘলা লিলির নিথর দেহটার দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকে। ইশ মেয়েটার বয়স বিশ ও হয়নি। এতো তাড়াতাড়ি মেয়েটা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলো। ঠোঁটগুলো ও নীলচে হয়ে আছে। হয়তো বিষ খেয়েছে। মেয়েটার চোখ গুলো বের হয়ে আছে।ইশ মেয়েটা মৃত্যুর সময়ে অনেক কষ্ট পেয়েছিলো। কিন্তু এতো কম বয়সে এমন কি হয়েছিলো যে মেয়েটা সুইসাইড করলো।

মিহির সবার আড়ালে বার বার তার চোখের কোনে জমে যাওয়া পানি মুছতে লাগলো। পুরুষ মানুষের যে কাঁদতে নেই। আর এভাবে প্রকাশ্যে লিলির জন্য কান্না করলে সমাজ যে লিলির চরিত্রেই আঙ্গুল তুলবে।

মিহির নিজের চোখের পানি সবার থেকে আড়াল করতে পারলেও মেঘলার থেকে আড়াল করতে পারলো না। এই অষ্টদশী মেয়েটার প্রতি তার ভাইয়ের যে একটা সফট স্পট আছে সেটা সে অনেক আগেই খেয়াল করেছিলো। হয়তো মন থেকে ভালোবেসে ফেলেছিলো। কিন্তু হঠাৎ একটা মৃত্যু সবকিছু তছনছ করে দিলো।

হুট্ করে লিলির রান্নাঘরের দিকে নজর যেতেই মেঘলার কিছুটা খটকা লাগলো। রান্নাঘরে বেশ ভালো পরিমানে কাচা আম কাটা রয়েছে। পাশে পলিথিনে পাঁচফোড়ন ও দেখতে পেলো। মেয়েটা আচার বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। মেঘলা আমগুলো ধরে বুঝতে পারলো আমগুলো হয়তো কালকে সকালে কাটা হয়েছিলো। কিন্তু যে মানুষটা সুইসাইড করবে সে এতোগুলো আম কেনোই বা কাটবে আচার দেয়ার জন্য। মেঘলার কেনো যেনো মনে হলো এটা সুইসাইড কেস না। কিন্তু পুলিশ এসে যখন জানতে পারলো দরজা বাহির থেকে লক ছিলো আর বাসার জানালার গ্রিল গুলোতেও কোনো কাটাছেড়া নেই তখন তারা প্রাথমিকভাবে এটাকে সুইসাইড হিসেবে শনাক্ত করলো। কিন্তু মেঘলার মনে একটা খটকা রয়েই গেলো। সে লিলির ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।

——————

“স্যার একটু আগেই চট্টগ্রাম থেকে রিপোর্ট এসেছে।”

“কি অবস্থা কোনো ইম্পরট্যান্ট ক্লু পেলে?”

“স্যার ওনারা যখন জব করতো তখন তেমন কিছু স্পেশাল ঘটে নি।তবে ওনারা সবাই জব একসাথে ছেড়েছিলো।”

“ইন্টারস্টিং, এতগুলো লোক কোনো কারণ ছাড়া একসাথে জব ছেড়ে দিলো?”

“স্যার ওনাদের ছাটাই করা হয়েছিলো। আসলে তখন ওই শিপ কোম্পানিটা দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলো। তাই তারা অনেক কর্মী ছাটাই করেছে। ”

“ওই কোম্পানির কারো সাথে ওনাদের কোনো শত্রুতা ছিলো?”

“স্যার কাজের জায়গায় কলিগদের মধ্যে একটু আধটু ঝামেলা হতেই পারে। তবে তাই বলে কেউ কাউকে খুন করতে যাবে এটা একদম অবাস্তব। আর স্যার এরকম এতো আগের খবর এখন বের করা সম্ভব ও না।”

আরশাদ কৌতূহলের সাথে সাদাতকে জিজ্ঞেস করলো,

“কেনো?”

“স্যার ওরা যেই বছর চাকরি ছেড়ে দেয় ওই বছরই কোম্পানির ম্যানেজার তার কাছে থাকা প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। আর তখন কোম্পানিটা পুরোপুরোই বন্ধ হয়ে যায়।”

“এক মিনিট ম্যানেজার এর এই ঘটনা কবে ঘটেছিলো আর ওদের লাস্ট ডিউটি কবে ছিলো এই দুইটা ডেট বের করো। ”

“ওকে স্যার। ”

——————–

” তুমি আমাকে বাড্ডা কেনো শিফট করেছো ?”

” এই একদম গলা নিচু করে কথা বলো। তুমি সেদিন চেম্বারে ইচ্ছা করে ওরকম করেছিলে তাই না?যেন আমার ওয়াইফ আমাকে ভুল বুঝে।”

” তোমার ওয়াইফের ভুল বোঝা দিয়ে আমার কিছুই যায় আসে না। আমি জানি তুমি আমাকে এখনো ভালবাসো। তাই তুমি আমাকে তোমার চোখের সামনে রাখতে চাচ্ছ না। ”

রুবাবের কথা শুনে আদিব তাচ্ছিল্যের সাথে বলল,

” নিজেকে নিয়ে তোমার এত কনফিডেন্স আসে কোথা থেকে? তোমার যা কান্ড তারপরও তোমার মত মেয়ের জন্য আমার ফিলিংস থাকবে। আমার ঘরে অতি সুন্দর এবং পবিত্র চরিত্রের একজন ওয়াইফ আছে। তাই তোমার মত মেয়েদেরকে আমি গোনায় ও ধরি না। যদি নূন্যতম লজ্জা থেকে থাকে তাহলে আর এরপর থেকে আমার কেবিনে আসবে না। ”

আদিবের কাছে এমন ডিরেক্ট অপমান সহ্য করতে না পেরে রুবাব রেগে ফোঁসফোস করতে করতে কেবিন থেকে বের হয়ে গেল। কিন্তু কেবিন থেকে বেরিয়েই রুবার একা একা বলতে লাগলো,

” কি মনে করেছ এত সহজে আমার কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে যাবে? আমি তো তোমাকে আবার আমার করে নেবোই।কারণ রাজীবকে দিয়ে কোন ভরসা নেই। ও যেকোনো সময় আমাকে ছুড়ে ফেলে দিতে পারে। তাই আমি যেকোনো ভাবেই আবার তোমার লাইফে ব্যাক করবো। ”

—————–

মাহিরাদের ইউনিভার্সিটিতে কাল রওনক হাসানের কনসার্ট রয়েছে। সেই কনসার্টের প্রস্তুতি নিয়েই মাহিরা আর তার বন্ধুরা আজ খুব ব্যস্ত। স্টেজ ডেকোরেশন করার মধ্যেই মাহিরার বান্ধবী নীহারিকা তাকে জিজ্ঞেস করল,

” আচ্ছা তোর রওনক হাসানকে কেমন লাগে? ”

” কেমন লাগে বলতে ভালোই তো লাগে। ভালোই তো গায়। ”

” ধ্যাত আমি সেই ভালো লাগার কথা বলিনি। আমাদের সবার ক্রাশ রওনক হাসান। বাট তোর ঐরকম কোনো সেলিব্রেটি ক্রাশ নেই কেনো? ”

“দেখ ভাই এদের রিল লাইফ যতবেশি রঙিন, ঠিক সেইম ভাবে এদের রিয়েল লাইফ ততো বেশিই জঘন্য। এদের বেশির ভাগেরই এক্সটা ম্যারিটাল অ্যাফেয়ার থাকে। সাথে ড্র্যাগস আর মদের নেশা তো আছেই।”

“তুই ও না পারিস বটে। বাই চান্স ধর তোর কোনো সেলিব্রেটির সাথে বিয়ে হলো তখন কি করবি ?”

মাহিরা নীহারিকার কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠলো,

“বিয়ের পরের দিনই ডিভোর্স দিয়ে দেবো। ভাই রোদে চেহারায় যে পরিমানে সান ট্যান পড়েছে সেলিব্রেটি তো দূরে থাকা সাধারণত ছেলে মানুষই ভয় পাবে আমাকে বিয়ে করতে।আর এখন এসব অলীক ভাবনা বাদ দিয়ে কাজগুলো তাড়াতাড়ি শেষ কর। কালকে কন্সার্টে উল্টাপাল্টা কিছু হলে টাকলা ভিসি আমাদের ও টাকলা বানিয়ে দেবে।”

এবার মাহিরার কথা শুনে আশেপাশে থাকা সবাই একসাথে হো হো করে হেসে উঠলো।

চলবে……

রাত ১২ টার মধ্যে এই পোস্টে ৫০০ রিয়েক্ট হলে রাতে আরো এক পর্ব পোস্ট করে দেবো। তাই সবাই একটা করে লাভ রিয়েক্ট দিয়ে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here