আকাশ_জুড়ে_একা_আমি #লামিয়া_ইসলাম #পর্ব_২৪

0
37

#আকাশ_জুড়ে_একা_আমি
#লামিয়া_ইসলাম
#পর্ব_২৪
(শব্দসংখ্যা ১০৫০+)

নাবিল তার মায়ের কাছ থেকে নাফিজার বলা কথাগুলো শুনে তার মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। সে বুঝতে পারল না যে সে এখন কি করবে? কিভাবে সে নাফিজার হাসবেন্ডকে পাঁচ লক্ষ টাকা দেবে। এই সময় লাজু বেগম তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল,

” তানিয়ার বাবার বাসা থেকে তো ভালই গহনা দিয়েছে। সেখান থেকে না হয় কিছু বিক্রি করে দে।”

” ঠিক আছে মা আমি তানিয়া সাথে কথা বলে দেখছি, কিন্তু তানিয়া যদি না দেয়? ”

” কেন দেবে না? স্ত্রীর গহনা তো স্বামীর বিপদ-আপদের জন্যই। ”

সন্ধ্যার সময় নাবিল তানিয়াকে গহনা বিক্রি করার কথা বলল,

” তানিয়া সবই তো শুনেছো নাফিজাকে ৫ লক্ষ টাকা খুব শীঘ্রই দিতে হবে। এখন যদি তোমার কিছু গহনা দিতে তাহলে সেটা বিক্রি করে না হয় টাকাটা দিতাম।”

” পাগল হয়েছ তুমি? আমার গহনা কেন দিব?”

” রাগ করে না লক্ষ্মীটি। প্লিজ দাও। ”

” কখনো দেবো না। আর তোমার বোনের এতো লোভ কেনো? ”

” তানিয়া মুখ সামলে কথা বলো।আমার বোনকে নিয়ে বাজে কথা বলবে না। ”

” ওনার বোন বাপের বাড়ি এসে টাকা ভিক্ষা করতে পারবে আর আমি বলতে পারব না। ”

কথাটা শুনেই রাগের বসে নাবিল ঠাস করে তানিয়াকে চড় মেরে দিল। স্বামীর হাতের চড় খেয়ে তানিয়ার মেজাজটাও বিগড়ে গেল। সে দৌড়ে বেডরুমের দরজা খুলে ড্রয়িং রুমে বের হয়ে এলো। বেশ জোড়েসড়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো,

” তুমি আমাকে মারলে? তোমার এত বড় সাহস।”

ছেলে বউয়ের চিৎকার শুনে লাজু বেগম ও তার রুম থেকে বের হয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন,

” নাবিল কি হয়েছে?বউমা এভাবে চিৎকার করছে কেন? ”

” মা আর বলো না। ও গহনা দিতে চাইছে না। ”

লাজু বেগম এবার তানিয়ার দিকে তাকিয়ে উচ্চস্বরে বললেন,

” তোমার সমস্যা কি বৌমা? গহনা কেন দিতে চাচ্ছো না? ঠিক আছে তোমার বাবার বাড়ির গহনা দেওয়া লাগবে না।আমরা যে তোমাকে দুই ভরি গহনা দিয়েছি সেই দুই ভরি গহনা দাও। ”

” আপনার মাথা ঠিক আছে তো মা? ওই দুই ভরি গহনা দিয়ে তো আপনারা কাবিনের টাকা পরিশোধ করেছেন। তাই আইনত দুই ভরি গহনার মালিক ও আমি। ”

কথাগুলো বলে তানিয়ার আবার নিজের বেডরুমের দিকে গেল। নিজের গহনার বাক্সটা হাতে নিয়ে বাসার মেইন দরজার কাছে গিয়ে গিয়ে বললো,

” এই গহনার এক বিন্দুমাত্র পরিমাণেও আমি আপনাদের দেবো না। সেদিন আমাকে দিয়ে ২২ ক্যারেটের চেইন আনিয়েছিলেন না? সেটাও আমি আমার সাথে নিয়ে গেলাম কারণ ওইটা আমার বাবার বাড়ি থেকে দেওয়া। আপনার ছেলে আমাকে চড় মেরেছে। আপনার ছেলেকে বলবেন আমার বাবার বাসায় গিয়ে আমার পা ধরে ক্ষমা চাইতে। তারপর আমি আবার এই বাসায় ফিরব। আর যদি আপনার ছেলে তা না করে তাহলে আপনার ছেলের নামে আমি নারী নির্যাতন আর যৌতুক মামলা দিব। ”

কথাগুলো বলেই তানিয়া তড়িঘড়ি করে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়ে গেল। তানিয়ার এমন রূপ দেখে লাজু বেগম আর নাবিল কারো মুখ থেকেই আর কোনো শব্দ বের হলো না।

—————-

নাফিজার শাশুড়ি চারু বেগম পেশায় শিক্ষক হলেও ধ্যান ধারণা সেই আগের কালেরই রয়ে গেছে। সন্ধ্যার দিকে সে নাফিজার ঘরে কবিরাজি ঔষধ নিয়ে এলো। পিতলের কৌটাটা নাফিজার হাতে দিয়ে বলল,

” এই ওষুধটা দশ দিন খাবে। কবিরাজ বলেছে এটা ঠিকমত খেলে বাচ্চা হবেই। ”

শাশুড়ির কথা শুনে নাফিজা আমতা আমতা করে বলল,

” মা গত এক বছর যাবত তো এসব ঔষুধ খেয়ে আসছি, এবার না হয় আপনার ছেলে আর আমি ডাক্তার দেখাই। ”

” পাগল নাকি তুমি? ডাক্তারদের সব হচ্ছে টাকা নেয়ার ধান্দা। এরা শুধুমাত্র টাকা নেওয়ার জন্য এক একটা রোগ বানিয়ে বানিয়ে বলে। এত বেশি ডাক্তার দেখাতে ইচ্ছা করলে নিজের বাপের বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসো। ও আর আমার ছেলের ব্যবসার জন্য যে পাঁচ লক্ষ টাকা চেয়েছিলাম তোমার মা কি বলল?

শাশুড়ির মেজাজ দেখে নাফিজা তার ভাগের বাড়ির জায়গা যে বিক্রি হয়ে গেছে সেটা বলার সাহস পেল না। সে কিছুটা ইতস্তত করে বললো,

” এইতো মা এই সপ্তাহের মধ্যেই ভাইয়া দিয়ে দিবে। ”

” বুঝি না বাপু তোমার ভাই কেমন চাকরি করে? শুনলাম নাকি বিসিএস ক্যাডার। তারপর ও ৫ লক্ষ টাকা দিতে এক সপ্তাহ লেগে যাবে। ”

“মা, মানে?”

” যাই হোক টাকাটা যত দ্রুত আসবে ততোই ভালো। শোনো রাতের জন্য রুই মাছ ভুনা, করল্লা ভাজি, শুঁটকি ভর্তা,আম দিয়ে ডাল আর ছোট মাছের টক রান্না করো। ”

শাশুড়ির কথা শুনে নাফিজা মৃদু স্বরে বললো,

“মা আমরা তো মাত্র তিনজন মানুষ। এতো কিছু রান্না না করলে হয় না। আসলে আমার শরীরটা আজকে ভালো লাগছে না।”

” তোমার যত ঢং। সারাদিন তো বাসায় বসেই থাকো। এতো দিনেও আমার ছেলেকে একটা বাচ্চা দিতে পারলে না। তাড়াতাড়ি গিয়ে রান্না করো তোমার শশুরকে ৯ টার মধ্যে খাবার দেয়া লাগবে। ”

“ঠিক আছে মা।”

চারু বেগম রুম থেকে বের হয়ে যেতেই নাফিজা বালিশে মাথা দিয়ে কান্না শুরু করলো। সবাই দেখে যে তাঁর বড়োলোক পরিবারে বিয়ে হয়েছে। কিন্তু কেউ এটা জানে না শুধুমাত্র বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া উপহার আর কাজের বিনিময়ে সে এই বাড়িতে টিকে আছে।

—————-

আরশাদের কলিগরা ডিনার শেষ করলো রাত ৯ টার দিকে। ডিনার শেষ করেই সবাই তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলো। আরশাদ মেঘলাকে বললো,

“চলো তোমাকে বাসায় ড্রপ করে আসি? ”

“কিচেন আর টেবিল বেশ নোংরা হয়ে আছে। আর ডিশগুলো ও ওয়াশ করা লাগবে। আপনি ওনাদের এগিয়ে দিয়ে আসুন। এইগুলো ক্লিন করা হলে আপনি আমাকে ড্রপ করে দিয়ে আসবেন।”

“নাহ, তোমার এগুলো ক্লিন করার প্রয়োজন নেই। আমিই করে নেবো।”

“অনেক কাজ এখানে। আপনি একা পারবেন না।”

মেঘলার জোড়াজুড়িতে আরশাদ রাজি হতে বাধ্য হলো। সে তার কলিগদের এগিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরলো। সে ও মেঘলার কাজে সাহায্য করতে লাগলো। টেবিল ক্লিন করা শেষ হতেই মেঘলা খেয়াল করলো বাহিরে বেশ জোরেই ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বারান্দায় কিছু কাপড় ঝুলানো দেখে সে দৌড়ে কাপড়গুলো তুলতে গেলো। কিন্তু খুব জোরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে সে আর কাপড় উভয়েই ভিজে চপচপে হলো।আরশাদ কিচেনে ডিশ ওয়াশ করছিলো। বাহিরে বৃষ্টির শব্দ শুনে ড্রয়িং এ এসে মেঘলার অবস্থা দেখে সে যেনো থমকে গেলো। বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সাদা শাড়ি মেঘলার শরীরের প্রতিটা অংশে অংশে লেপ্টে আছে। ভেজা শাড়িতে তার শরীরের প্রতিটা ভাজ যেনো স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে। আরশাদের চোখের ভাষা বুঝতে পেরে মেঘলা ও কিছু লজ্জা পেলো। সে নিজের শাড়ির আঁচলটা ধরে বার বার টানতে লাগলো। আরশাদ ও মেঘলার অস্বস্তি বুঝতে পেরে চোখ তাড়াতাড়ি অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বললো,

“ইশ তুমি তো পুরো ভিজে গিয়েছো।”

“সমস্যা নেই।”

“এরকম ভেজা কাপড়ে থাকলে তো ঠান্ডা লেগে যাবে তোমার । আমার বাসায় তো মেয়েদের জামা কাপড় ও নেই। এক মিনিট আজকে অনন্যা তোমাকে যে গিফটটা দিলো প্যাকেটটা দেখে তো কোনো ড্রেস মনে হলো। এক কাজ করো শাড়িটা চেঞ্জ করে ওটা পড়ে আসো।”

“ঠিক আছে।”

আরশাদের কথায় সায় জানিয়ে মেঘলা ড্রেসের প্যাকেটটা নিয়ে ওয়াশরুমে গেলো। মেঘলা চলে যেতেই আরশাদ দ্রুত ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি নিয়ে ঢকঢক করে গিলতে লাগলো। মেঘলা ঐরকম ভেজা শাড়িতে দেখে তার কান থেকে মনে হয় গরম ধোয়া বের হচ্ছে। এই মেয়ে মনে আর পাঁচ মিনিট এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে সে তার কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলতো।

চলবে………

কেবল লাগলো আজকের পর্বটা? সামনের পর্বে আরো বড় ধামাকা আছে। রাতের মধ্যে ৫০০ রিয়েক্ট হলে রাতেই পরবর্তী পর্ব পোস্ট করে দেবো। তাই পড়া শেষে টুস করে একটা লাভ রিয়েক্ট দিয়ে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here