#আকাশ_জুড়ে_একা_আমি
#লামিয়া_ইসলাম
#পর্ব_২৮
(শব্দসংখ্যা ২০০০+)
আরশাদের গুলি লাগার কথা শুনে সাদাত ও অনন্যা কেবল মাত্র হসপিটালে এসে পৌঁছেছে। সাদাত প্রথমে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল,
” গুলি করা হয়েছে কোথা থেকে? কোন আনুমানিক ধারণা আছে তোমার? ”
” স্যার শুধু আনুমানিক না আমি সম্পূর্ণ শিওর যে কোথা থেকে গুলিটা করা হয়েছে। ”
” কোথা থেকে?”
” স্যার একটা প্রাইভেট কার থেকে করা হয়েছে গুলিটা।”
” কারের মডেল,রং বা নাম্বার এরকম কিছু মনে আছে তোমার? ”
“জী, জী স্যার। গাড়িটা toyota premio মডেলের। কালো রঙের ছিল। আর নাম্বারটা হলো ঢাকা মেট্রো-গ 12-3456।”
ড্রাইভারের কাছ থেকে গাড়ির নাম্বার আর বিবরণ নিয়ে সাদাত অনন্যাকে ডাকলো,
” এখনই কন্ট্রোল রুমে যাও। ফুটেজে বিকালের দিকে toyota premio মডেলের কালো রঙের যত গাড়ি দেখবে ওই রুটের আশেপাশে সবগুলোর খোঁজ লাগাও। নাম্বার দিয়ে মনে হয় না বিশেষ কোনো কাজ হবে কারণ গাড়ির নাম্বার প্লেট ফেইক হওয়ার চান্সটাই বেশি। ”
” ওকে স্যার। আমি এখনই পুরো টিমকে ইনফর্ম করে দিচ্ছি।”
—————-
সন্ধ্যা ৭ টার দিকে আরশাদের বাড়ির লোকজন হসপিটালে এসে পৌঁছালো । আরশাদের শোকে মিতা ফরাজী বারবার অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে তারপরও সে হসপিটালেআসবে বলে জেদ ধরেছে । তাই বাড়ির সবাই মিলে তাকে নিয়ে হসপিটালে এসেছে।হসপিটালের বেঞ্চে ওভাবে রক্তাক্ত শাড়ি নিয়ে মেঘলা কে বসে থাকতে দেখে মিতা ফরাজী তাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরল।
” মা এসব কিভাবে হলো? ”
” আমি জানিনা আন্টি। উনি গাড়ি থেকে নেমে কেবল আমাকে কিছু কথা জিজ্ঞেস করল তার মধ্যেই এসব হুট করেই হয়ে গেল। আমি ওনাকে কিছু বলার সুযোগই পেলাম না। ”
মিতা ফরাজী আবার মেঘলাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে ধরল। এবার সে তার স্বামী আদনান ফরাজীর দিকে তাকিয়ে বলল,
” পুলিশ কমিশনারের সাথে কথা বল। যে এই কাজটা করেছে তাকে দরকার হলে পাতাল থেকে খুঁজে বের করো। শয়তানটার অবস্থা যেন আমার ছেলের থেকে ও খারাপ হয়। ”
” শান্ত হও মিতা। আমি অলরেডি কথা বলেছি পুলিশ কমিশনারের সাথে। ওনারা ঢাকার সব রোডে চেক পোস্ট বসিয়েছে। যে কাজটা করেছে তাকে ধরতে আমাদের বেশি সময় লাগবেনা। ”
” আর হ্যাঁ ও ধরা পড়লে ওকে যেন প্রথমে হসপিটালে আমার সামনে নিয়ে আসে।”
” কিন্তু মিতা এভাবে প্রটোকল ভেঙে আসামিকে হসপিটালে নিয়ে আসা যায় না। ”
” কিসের প্রটোকল? ওই শয়তানটার জন্য আমার ছেলে আজকে হসপিটালের বেডে পড়ে আছে। সারা জীবন টাকা কামিয়েছো, উঁচু পর্যায়ের মানুষের সাথে ওঠাবসা করেছো,দরকার হলে আজকে সেই ক্ষমতা কাজে লাগাও। তারপরও ওই শয়তানটাকে যেন হসপিটালে নিয়ে আসা হয়। ”
————–
প্রায় দুই ঘন্টার প্রচেষ্টা শেষে পুলিশ রিফাতকে এরেস্ট করতে সফল হল। বাঙালিয়ানা রেস্টুরেন্টের সামনে সিসি ক্যামেরা ছিল। রিফাত সব ধরনের সিসি ক্যামেরা এড়িয়ে গেলেও ওই ক্যামেরাটা খেয়াল করেনি। আর সেই ক্যামেরায় ক্যাপচার করা ফেইস দেখে পুলিশ এত দ্রুত তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে ।
প্রায় ৫ ঘন্টার দীর্ঘ সময় শেষে আরশাদের অপারেশন শেষ হলো। ডাক্তার রেজাউল হক বের হয়েই বলল,
” পেশেন্টের অনেক ব্লাড লস হয়েছে। সামনে আরো ব্লাড লাগতে পারে,আপনার ব্লাড রেডি রাখুন। ”
এবার আদনান ফরাজী এগিয়ে এসে বলল,
” আমার ছেলের এখন শারীরিক কন্ডিশন কেমন? ”
” দেখুন উনার গুলি দুটো ওনার হার্ট ছুঁয়ে গেছে। এজন্যই বেশি ব্লাড লস হয়েছে। তবে হার্টে গুলিটা ঢোকেনি এটা একটা গুড নিউজ। কিন্তু গুলিটা যেভাবে হার্ট ছুঁয়ে গেছে এতে সামনে ইনফেকশন হওয়ার চান্স আছে। তাই উনাকে এখন সর্বোচ্চ কেয়ারে রাখতে হবে। নেক্সট চব্বিশ ঘন্টা উনার জন্য খুবই ক্রিটিকাল। এর মধ্যে ওনার জ্ঞান না ফিরলে পেশেন্ট কোমায় ও চলে যেতে পারে। ”
সবকিছু শুনে মেঘলার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। আল্লাহকে এবারও তার ভালো থাকার কারণটাকে নিয়ে যাবে। কেন তার ভাগ্য এমন? যেই তাকে ভালোবাসে সেই তার কাছ থেকে দূরে সরে যায়।
ইতিমধ্যেই পুলিশ কমিশনার মাজহারুল হক রিফাতকে নিয়ে হসপিটালে এসে পৌঁছালো। সে আদনান ফরাজীকে বলল,
” আপনি খুব জোর করে বললেন তাই একে এখানে নিয়ে এলাম। একটু তাড়াতাড়ি করবেন কারণ এটা আনঅফিসিয়াল। ”
হঠাৎ করে মেঘলার কি হলো কেউ বুঝতে পারল না, সে মাজহারুল হকের কাছে এসে জিজ্ঞেস করল,
” ওনাকে কি এই ছেলেটাই গুলি মেরেছে? ”
” হ্যাঁ। ”
” আপনি শিওর তো স্যার? ”
” জি আমরা আপনার রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ক্যামেরা চেক করে একেই পেয়েছি। ”
মেঘলা আর কিছু জিজ্ঞেস না করেই হুট করে রিফাতের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। রিফাত কে মাটিতে ফেলে তার মুখের উপর একের পর এক ঘুষি মারতে লাগলো। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় সবাই শকড হয়ে গেল। মাহিরা আর রওনক দৌড়ে এসে মেঘলাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল। কিন্তু মেঘলার উপর কি ভর করেছে কে জানে কেউ তাকে ছাড়াতেই পারলো না। ঠিক যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ক্লান্ত হল ততক্ষণ পর্যন্ত রিফাতকে সে মারতে লাগলো। মেঘলার এভাবে একের পর এক ঘুসি খেয়ে রিফাতের মরার মত অবস্থা। অবশেষে বহু কষ্টে টেনে হিচড়ে আদনান ফরাজী তাকে ছাড়িয়ে আনলো। মেঘলা যখন রিফাতকে উদুম ক্যালানি দিচ্ছিল তখনই আদিবা আর ইরিনা হসপিটালে এসে পৌঁছেছে।শান্তশিষ্ট স্বভাবের মেঘলার এরকম রূপ তাদেরও হজম করতে বেশ কষ্ট হলো। মাজহারুল হক এবার রিফাত কে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে সাদাত এর কাছে দিয়ে বলল,
” মিসেস আশরাফ তো একে অলরেডি ভালো টর্চার করে ফেলেছে। এখন তোমরা একে নিয়ে গিয়ে আরো টর্চার করো। সিসিটিভি ফুটেজে ডিরেক্ট ক্যাপচার করেছে যে ও গুলি চালিয়েছে। তাই ও যদি আমাদের কাছে বসে মারাও যায় তাহলে এনকাউন্টার বলে চালিয়ে দেওয়া যাবে। আর যদি সহজে সহজে বলেই দেয় কে কাজটা ওকে দিয়ে কে করিয়েছে তাহলে তো আর কিছুদিন বেশি বাচতে পারবে। ”
—————-
সকাল বাজে প্রায় আটটা । কাল রাতেই হসপিটাল থেকে প্রায় সবাই বাসায় চলে গিয়েছে। কেউই যেতে চাইনি কিন্তু হসপিটালে এত লোক থাকা অ্যালাউ না তাই সবাই চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। মেঘলা,আদিব আর ইরিনা এরা তিনজনই বর্তমানে হসপিটালে আছে। আদিব আর ইরিনা গিয়েছে ক্যান্টিনে চা খেতে। মেঘলা টুল নিয়ে আরশাদের বেডের পাশেই বসে ছিল। সে গুনগুনিয়ে কাঁদতে কাঁদতে অচেতন আরশাদকেই বলতে লাগলো,
” প্লিজ আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না। বাহির থেকে আমি নিজেকে যত বেশি স্ট্রং দেখাই না কেন আমার ভিতরে মনটা ঠিক তত বেশি কোমল। আপনি আমার জীবনে আসার পর আমার মনে হয়েছে যে আমিও কারো কাছে স্পেশাল। লাস্ট কয়দিন যাবৎ আমি অনেক কনফিউশনে ছিলাম। আপনাকে আমার ভালো লাগছে এটা কি জাস্ট আমার মোহ না ভালোবাসা? কিন্তু আপনি যখন মৃত্যুর একদম দ্বারপ্রান্তে তখন আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনি আমার ভালোবাসা। আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি আরশাদ। আমার বাবা আর ভাই আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসতো। আমি তাদের কাছে রাজকন্যা ছিলাম। কিন্তু আমার কপালে সে সুখ সয়নি। তারাও আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। প্লিজ আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন না। আপনিও যদি আমাকে ছেড়ে যান তাহলে আমি মনে করব আমি একটা অপয়া। ”
” আমার বউকে অপরের বলার সাহস তোমার হয় কিভাবে? ”
হঠাৎ করে কারো কণ্ঠ শুনে মেঘলা এদিক-ওদিক তাকালো। কাউকে দেখতে না পেয়ে আরশাদের দিকে তাকিয়ে দেখল সে তার দিকে পিটপিট করে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
” আপনি….. আপনার জ্ঞান কখন ফিরলো? ”
এরশাদ খুব মৃদু কন্ঠে উত্তর দিল,
” প্রায় দশ মিনিট হয়ে গেছে। ”
” তাহলে এতক্ষণ কোন সাড়াশব্দ কেন দেননি? ”
” এইতো দেখছিলাম আমার বউটা আমার জন্য কিভাবে কান্না করছে। প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাবেন না। ”
আরশাদ মেঘলার কথা নকল করে বলতে লাগলো। মেঘলা এবার রেগে গিয়ে বলল,
” আপনি আসলেই একটা পাজি। নড়াচড়া করবেন না আমি ডাক্তার ডেকে নিয়ে আসছি। ”
মেঘলা তড়িঘড়ি করে ডাক্তার খুঁজতে চলে গেলো। বুকে এত বেশি যন্ত্রণা নিয়েও বউয়ের এরকম কাণ্ড দেখে আরশাদ মিটমিট করে হাসতে লাগলো।
—————
ডা. রেজাউল হক একে একে আরশাদেব প্রায় সবগুলো রিপোর্ট চেক করল। তারপর মেঘলার দিকে তাকিয়ে বলল,
“মিসেস ফরাজী আপাতত ওনার সবকিছু স্ট্যাবল আছে। তবে খেয়াল রাখবেন উনি যেন বেশি নড়াচাড়া না করে। আর ওনার ক্ষত জায়গায় যেন কোনো প্রকারে পানি না লাগে।”
মেঘলা মাথা নাড়িয়ে সায় দিয়ে বলল,
” জি স্যার অবশ্যই। ”
” আমি বিকালে এসে আরেকবার ওনার চেকআপ করে যাব। ”
ডাক্তার রেজাউল হক কেবিন থেকে চলে যেতেই আদিব মেঘলাকে বলল,
” ভাবি আপনি আর ইরিনা বাসায় গিয়ে একটু রেস্ট নিয়ে আসুন। ”
” কেন আদিব তুমি বাসায় যাবে না? আমি থাকি, তুমি আর ইরিনা বাসায় চলে যাও। ”
” না না ভাবি। আপনি আর ইরিনা চলে যান। ”
আদিবের জোড়াজুড়িতে মেঘলা আর ইরিনা দুইজনেই বাসায় যেতে বাধ্য হলো। ওরা বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে যেতেই আদিব দৌড়ে নিজের ফোন নিয়ে আরশাদের কাছে এলো। আদিবকে এভাবে দৌড়ে আসতে দেখে আরশাদ তাকে জিজ্ঞেস করল,
” এভাবে বান্দরের মত দৌড়াদৌড়ি করছিস কেন? তুই না ডাক্তার? হসপিটালের ম্যানার্স জানিস না?
” ভাইয়া তুমি ম্যানার্স নিয়ে পড়ে আছো। তোমার জন্য একটা সেই টাইপের ভিডিও আছে। কিন্তু ভিডিওটা ফ্রিতে দেয়া যাবে না। এটা আমি তোমার কাছে বিশ হাজার টাকায় বেচবো। ”
” কোন ভিডিও? আমাকে কি বোকা পেয়েছিস যে একটা ভিডিও আমি তোর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকায় কিনবো? ”
এবার আদিব আরশাদের আরো কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল,
” ভাইয়া তুমি কি ভাবীর একশন মোড দেখতে চাও না? ”
” মেঘলার? ঠিক আছে ২০ হাজার দেব। ভিডিওটাতে দে। ”
এবার আদিব হাতে থাকা মোবাইলটা একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে বলল,
” সরি, আমি বাকিতে ডিল করিনা। ”
এবার সে আরশাদের দিকে আরশাদের ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বলল,
” এখনই বিশ হাজার টাকা ব্যাংক ট্রান্সফার করো। আমি ও তোমাকে ভিডিওটা ট্রান্সফার করে দেব। ”
আরশাদ নিজের ফোন থেকে বিশ হাজার টাকা আদিবকে ট্রান্সফার করে দিয়ে বলল,
” তুইতো হাসু আপার চাইতেও খারাপ রে। একটা অসুস্থ মানুষকে তুই এভাবে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা নিচ্ছিস। ”
” ধ্যাত ভাইয়া ভিডিওটা দেখোই না। ”
আরশাদ এবার ভিডিওটা অন করে দেখা শুরু করলো। প্রথম দৃশ্যটা দেখেই সে হো হো করে হাসতে হাসতে বলল,
” ভাই এটা তো সেই জিনিস। কিন্তু মেঘলা এভাবে ক্যালানী দেওয়া কিভাবে শিখলো? তুই এটার জন্য মাত্র ২০ হাজার চাইলি?আমি তো এটার জন্য তোকে লাখ খানিক দিতে রাজি হয়ে যেতাম। ”
ভিডিওটা যত দেখছে আরশাদ ততই হেসে যাচ্ছে। এবার আদিব তাকে থামাতে গিয়ে বলল,
” ভাইয়া এত জোরে হেসো না।এটা হসপিটাল, আর ডাক্তার রেজাউল হোক তোমাকে বেশি নড়াচড়া করতে নিষেধ করেছে। ”
” ধ্যাত, রাখ তোর রেজাউল হকের কথা। চিন্তা করতে পারিস আমার বউ আমাকে কত ভালোবাসে। এই ছেলে যদি জানত যে আমার এমন একটা বউ আছে ভুলেও আমার বুকে গুলি চালাতো না। এই ছেলেটা বেঁচে আছে রে? আমার সুন্দরী বউটা তো ওর একদম প্রাণ যায় যায় অবস্থা করে দিয়েছে।
আদিব সবকিছু বাদ দিয়ে তার ৩০ বছর বয়সী ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। কেউ তার বউয়ের মারপিটের ভিডিও দেখে এত খুশি হতে পারে সেটা তার জানা ছিলো না। মানুষ সত্যিই বলে বিয়ের পর পুরুষ মানুষ সত্যিই বদলে যায়।
————
ছেলের জ্ঞান ফিরছে শুনে আদনান ফরাজী আর মিতা ফরাজী ও হসপিটালে আসলো। কিন্তু তারা কেবিনে ঢুকেই দেখতে পেল তার ছেলে হাতে ফোন নিয়ে হো হো করে হেসে যাচ্ছে। ছেলের এই কাণ্ড দেখে আদনান ফরাজী কিছুটা রেগে গিয়েই বললেন,
” দেখো তোমার কান্ড। কালকে নাকি তোমার বুকে গুলি লেগেছে,তোমার জীবন নিয়ে টানাটানি অবস্থা, আর আজকে তুমি এভাবে হাসছো। তুমি কি জানো আমরা কতটা চিন্তায় ছিলাম তোমাকে নিয়ে। ”
আরশাদ এবার তার হাসি থামিয়ে বললো,
” আহা বাবা শান্ত হও। জাস্ট দুইটা গুলিই তো লেগেছে। ”
” কিসের শান্ত হব? আমার এত বড় ব্যবসা। কিন্তু তোমরা দুই ভাই বাহিরে বাহিরে জব করে বেড়াচ্ছো। আমি কখনো তোমাদের পার্সোনাল চয়েস এ বাধা দেইনি। কিন্তু তুমি এমন পেশা বেছে নিয়েছো যেটা জন্য জীবন নিয়ে টানাটানি হয়ে যায়। এসব বাদ দাও, চাকরি ছেড়ে দাও। সুস্থ হয়ে আমার সাথে ব্যবসায় জয়েন করো। ”
” বাবা চাকরিটা আমি টাকার জন্য করি না। এটা আমার প্যাশন।আর তুমিই বলো আমি যদি তোমার মত ব্যবসা করতাম তাহলে কালকে এত সুন্দর একটা সিন কি আমি আদৌ দেখতে পেতাম। ”
” কোন সিন? ”
” বাবা তুমি তো ওইখানেই ছিলে। আমার বউ যে ওই আসামিটাকে ধরে কিভাবে ক্যালালো,তুমি কি দেখনি? এই যে দেখো তুমি তো সারা জীবন ব্যবসা করেছো, মা কি তোমার জন্য কখনো কাউকে এভাবে ধরে কেলিয়েছে। কিন্তু আমার বউ আমার জন্য তা করেছে । তাই আমি পুলিশে চাকরি ভুলেও ছাড়ছি না। পুলিশের চাকরি থাকলে মাঝে মাঝে বউয়ের এমন অ্যাকশন সিন দেখা যাবে। ”
ছেলের কথার উত্তর কি দিবেন আদনান ফরাজি তা খুঁজে পেল না। সে নিজের স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলল,
” কথায় আছে না সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। তোমাদের ছোট ছেলেটাকে দেখে বড় ছেলেটা ও ওই রকম হয়ে যাচ্ছে। ”
মাঝখান থেকে বেচারা আদিব বলদ হয়ে গেল। তার ভাই না হয় উল্টাপাল্টা বকছে তার জন্য সবাই তাকে দোষারোপ করবে।
—————-
মেঘলা আর ইরিনা হসপিটালে ফিরতেই আদিব বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিল। ইরিনা আদিবকে এগিয়ে দিতে হসপিটালের গেট পর্যন্ত আসলো। হঠাৎ আদিব বলে উঠলো,
” আচ্ছা ইরিনা কেউ যদি আমাকে গুলি করে তাহলে কি মেঘলা ভাবীর মতো তুমিও তাকে ধরে ওরকম ঘুষি মারবে। ”
আদিবের কথা শুনে ইরিনা চোখ বড় বড় করে তার দিকে তাকালো। রাগান্বিত স্বরে বলল,
” আপনার মাথা ঠিক আছে? এক ভাই হসপিটালে বেডে পড়ে আছে গুলি খেয়ে আরেকজন আবার গুলি খাওয়ার জন্য উতলা হয়ে যাচ্ছে। ”
এবার আদিব মিনমিন করে বলল,
” আমার কি দোষ? ভাবি যে ওই আসামিটাকে ধরে পিটিয়েছে সেই ভিডিও ভাইয়া আমাকে দেখাচ্ছে আর খেপাচ্ছে। ভাইয়া বলছে তার বউ নাকি তাকে অনেক ভালোবাসে। তাই বলি আমি যদি গুলি খাই তুমিও কি তাকে ধরে এভাবে পিটাবে? ”
” হসপিটালে ডিউটি করতে করতে আপনার মাথা পুরো খারাপ হয়ে গিয়েছে। বাসায় গিয়ে কয়েক ঘন্টা ঘুমিয়ে আসুন।”
————–
প্রেগনেন্সি কিটে দুইটা লাল দাগ দেখে রুবাবের মাথা একপ্রকার খারাপ হয়ে গেল।
” এত ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও সে প্রেগন্যান্ট কিভাবে হলো? রাজিব তো তাকে কখনোই বিয়ে করবে না। ”
রুবাব বুঝতে পারলো না যে তার পেটে থাকা এই সন্তানকে নিয়ে সে এখন কি করবে? আচ্ছা সে যদি আদিবের কাছে গিয়ে তার হাত-পায়ে ধরে কান্নাকাটি তাহলে কি আদিব এই সন্তানকে তার নিজের নাম দেবে। কিন্তু আদিবের সাথে তো তার তিন বছর আগেই ব্রেকআপ হয়ে গেছে। আর তাদের মধ্যে কখনোই এমন ধরনের সম্পর্ক ছিল না। তারপরও রুবাব চিন্তা করলো যে আদিব হয়তো তাকে এখনো ভালবাসে। হয়তো তার হাতে-পায়ে ধরে কান্নাকাটি করলে এই সন্তানের জন্য একটা বাবার নাম মিলবে।
চলবে…….
২০০০+ শব্দের বিশাল পর্ব দিলাম। টুস করে লাভ রিয়েক্ট দিন আর কমেন্ট করে যান। তাহলে পরবর্তী পর্ব তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবেন ❤️

