আকাশপ্রিয়া #পর্ব১

0
50

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব১
#Dure_Dilshad_Dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষিদ্ধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক এবং মুক্ত মনস্কদের জন্য ]

ঘুম ভেঙে বিছানাতেই টিপটিপ করে তাকালো প্রিয়া।এখনো ভোরের আলো ফোটেনি।হাত বারিয়ে পাশের বেড সাইড টেবিল থেকে ফোন হাতে নিয়ে সময় দেখলো।ভোর ৫:০০টা বাজে।সে মহাবিরক্ত হলো এই অসময়ে ঘুম ভাঙায়…বাইরে ঝুম বৃষ্টি।।একটু পর তেো এমনিও উঠতে হবে,এমন সময় ঘুম ভাঙার মানে হয়!আশ্চর্য!

তার ওপর তার আবার অল্পেই ঠান্ডা লাগার ধাচ।নাকটা পিটপিট শুরু করে দিয়েছে এর মধ্যেই,এই একটা বিষয় নিয়ে সে মহাবিরক্ত থাকে সবসময়। অসহ্যকর একটা নাক তার।
সে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো।হুট করে বাবা মার কথা মনে হতেই তার মনটা খারাপ হয়ে গেলো।তার বাবা আনিসুল রহমান একজন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, তিনি ২ বছরের জন্য একটা ডিগ্রির জন্য জার্মানী যাচ্ছেন।সাথে তার মা ও যাবেন।বাবার শরীরটা ভালো না মোটে।সেখানে বাবাকে গুছিয়ে দিয়ে ২-৩ মাস পর ফিরবেন।

পাশে প্রিয়ার বড় বোন শিয়া ঘুমাচ্ছে। প্রিয়া উঠে বসলো।দুষ্টুমি মাথায় এসেই বোনের নাকটা চেপে ধরলো,৫ সেকেন্ড এর মধ্যেই শিয়া ঘুমের মধ্যেই হাশফাশ শুরু করলো।প্রিয়া নাক ছেড়ে দিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলো।একরাশ কালো, সিল্কি চুল পিঠে ছড়িয়ে পরেছে।টানা টানা কাজল কালো চোখগুলো তে এখন আর ঘুম নেই।চুল গুলো হালকা খোপা করে জানালার কাছে গিয়ে দারালো সে।জানালা ঘুলতেই দমকা হাওয়ার সাথে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ঝাপটা এসে চোখ মুখ ভিজিয়ে দিতে থাকলো…আবহাওয়াটা বড্ড খারাপ কয়েকদিন হলো।একে তো ঠান্ডা পরেছে,তার ওপর বৃষ্টি।মানে হয় কোনো!আবহাওয়া অফিস বলছে আরও ১৫ দিন এমন থাকবে।বৃষ্টি আর শীত দুটোই তার পছন্দের।তবে সেটা একসাথে নয়।একসাথে বড্ড স্যাতস্যাতে লাগে,তারমধ্যে কলেজ যাওয়ার ঝক্কি তো আছেই।
এই আবহাওয়ায় সরকারের উচিত সব স্কুল কলেজ ছুটি দিয়ে দেওয়া।আর বাবা মায়ের উচিত বাচ্চাদের আধঘন্টা পরপর চা,কফি,পকোড়া বানিয়ে লেপের নিচে দিয়ে যাওয়া।এরমধ্যে হাতে থ্রিলার উপন্যাস নিয়ে সাথে কফি,পকোড়া।আহ্ ভাবতেই ভাল্লাগে।তা না…ধুর..

প্রিয়া জানালা চাপিয়ে,পর্দা টেনে দিলো।বোনটা ঘুমাচ্ছে, ঘুমাক।মেয়েটা কাজের চাপে এই শীতেও মধ্যেও রাত জাগতে হয়।ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে এলো সে।বাবা মা দুজনেই চা নিয়ে বসে আলোচনা করছেন।
– কি রে মা,উঠে পরলি যে এতো সকালে।
-ঘুম ভেঙে গেলো বাবা।
-বেশ তো,আয়।বোস আমার কাছে?শিয়া ওঠেনি?

প্রিয়া বাবাকে জড়িয়ে ধরে বসলো।
– না বাবা,আপু তো কাল ওর অফিসের কাজ শেষ করে অনেক রাতে ঘুমিয়েছে।
-মেয়েটার অফিসে বড্ড চাপ পরে গেছে আজকাল।

মেয়েদের কে রেখে কখনো একদিনও দূরে থাকেনি আনিসুল রহমান আর রেনুকা রহমান।আর সেই মেয়েদের একা রেখে বিদেশ বিভুইয়ে পরে থাকবেন তিনি রাজি ছিলেন না মোটেই।
– মা রে।মন খারাপ করছে?

প্রিয়া এবার কেঁদে উঠলো।সত্যিই তো।বাবা মাকে ছাড়া একদিনও কোথাও থাকেনি দু বোন। থাকবেই বা কিভাবে,কে আছে তাদের।কেউ নেই,নাহ কেউ নেই।

– কাঁদে না মা।সময় দেখতে দেখতে কেটে যাবে।তাছাড়া তোর এক্সাম শেষে কয়েকমাস গিয়ে আমার কাছে তো থাকবিই।দেখবি চোখের পলকে ২ বছর কেটে যাবে।চল নাস্তা করে নিবি।ওঠ…

প্রিয়া নাস্তা কর ওপরে নিজের রুমে আসলো।খানিকক্ষণ এদিকসেদিক পায়চারি করতে করতে কি মনে করে ড্রয়ার থেকে একটা শাড়ি বের করলো।শাড়িটা গত জন্মদিনে শিয়া গিফট করেছিলো।আকাশরঙা একটা শড়ি।দারুণ সুন্দর। পরাই হয়নি।মন খারাপ হলে সে শাড়ি পরে,মন ভালো করার ওষুধ এটা তার।শাড়ি পরে ঘন্টার পর ঘন্টা সে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।বাইরে বৃষ্টি থেমেছে। তবে আকাশ এখনো ঘন মেঘে আগের মতো গুম ধরে আছে।তার খুব ইচ্ছে হলো সকাল সকাল একটু বাইরে হাটতে।সে ঝটপট শাড়িটা গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে পরে।প্রকৃতির সান্যিধ্যে গিয়ে একটু মনটা ভালো করা দরকার…

***************————

—আকাশ! এই আকাশ! শালা উঠিস নি এখনো নাকি!আজ তো মিটিং আছে নাকি!
আকাশ বিরক্তি নিয়ে লাল চোখ করে তাকালো রিয়ান এর দিকে।রিয়ান দাত বের করে হাসছে।
-দিলাম তো চমকে?
-ঘুমের বারোটা না বাজালে চলছিলো না?
-নাহ ভাই,এখানে পরে পরে তো ঘুমাতে আসিসনি,কাজে এসেছিস…
-সেটা বোধহয় তোর থেকে আমার মাথায় বেশি থাকে…
দারুণ বিরক্তি নিয়ে আবার প্রশ্ন করলো আকাশ—
-বাই দা ওয়ে আজকে কয় তারিখ?
-কয় তারিখ আবার! ৫ তারিখ…
-আজ মিটিং আমাদের?

রিয়ান এবার ভ্রু কুচকালো।তাই তো।তাদের প্রেজেন্টেশন,মিটিং তো আজ না। ৬ তারিখে…সে দাত বের করে হাসলো।
-দোস্ত রাগ করিস না।ভুলে গেছিলাম।

আকাশ কোচকানো কপাল সোজা না করেই বিছানা ছেড়ে নামলো।ছেলেগুলো বড্ড বিরক্তিকর।এদের মতো অসহ্যকর,বাঁচাল ছেলে ওর বেস্ট ফ্রেন্ড কিভাবে হতে পারে,সেই বা কিভাবে এদের ফ্রেন্ড বানিয়েছিলো আকাশ কিছুতেই ভেবে পায়না…
-বের হ আমার রুম থেকে এখন।যাহ…

আকাশের ধমকে রিয়ান দাড়ায় না আর।এখনো যে চৌধুরি সাহেব তার মাথায় কিছু ভাঙেননি এটা তার ভাগ্য।ইশশ কোন ভুলে যে জাগাতে আসলো।আকাশের রাগ সে জানে। ঘুম থেকে ডাকলে বড্ড ক্ষেপে যায়।আজ সারাদিন সে খিটমিট করবে।রিয়ান চোখের পলকে ছুটে নিজের রুমে ফেরে…

আকাশ এহনাজ চৌধুরী।শাহজাহান চৌধুরীর ছোট ছেলে।২৭ বছর বয়সেই দারুণ উন্নতি করেছে পারিবারিক ব্যবসায়।
আকাশ উঠে এসে জানালার পাশে দাড়ায়।ছ ফুট,সিক্স প্যাক পেটানো শরীর,কোমড়ের অনেকটা নিচে কালো টাউজারটা,তার জন্য জন্য পুরুষালি ভাজগুলো স্পষ্ট ওয়ে ভেসে আছে, পিঠের নিচের দিকে কোমড়ে কালো জন্মদাগ দেখা যাচ্ছে।হাতের পেশি গুলো ফুলে রয়েছে।হাত উচু করে আড়মোড়া ভাঙলো,পেশির রগগুলো ফুলেফেঁপে উঠলো।মাথায় কাধ ছোঁয়ানো কালো সিল্কি চুল।হাত দিয়ে ব্যাকব্রাশ করতে করতে ।পর্দা সরিয়ে দিলো।

প্রজেক্ট টা তাকে ঝামেলায়ই ফেলে দিয়েছে।পরিবার, নিজ এলাকা রেখে এমন এক পাহাড়ের ওপর দিনের পর দিন এখন থাকতে হবে।ভাবা যায়!বাবা,বড় ভাইয়ের ওপর তার প্রচন্ড রাগ হচ্ছে এখন…

*আকাশদের বিশাল পরিবার।বাপ চাচা,দাদা দাদি ভাইবোন।সবাইকে নিয়ে হৈ হুল্লোড়ওয়ালা বাড়ির মানুষ সে।নিজে গম্ভির প্রকৃতির হলেও,এই হৈচৈ পরিবেশ এই অভ্যস্ত সে।বিশাল পরিবার এর বিশাল কারবার…আকাশের দাদু শাহজালাল চৌধুরী তার সময়কার সবচেয়ে বড় বিসনেসম্যান ছিলেন।তারপর তার বাপ চাচাদের প্রজন্ম। আকাশের বাবা শাহজাহান চৌধুরী, তার ৩ ভাইকে সাথে নিয়ে পারিবারিক বিসনেস আরও উন্নতি করেছে। পাঁচ তারকা হোটেল তাদের ৭ টি।এবার তাদের নতুন হোটেলের প্রজেক্ট হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায়।সেই দায়িত্বই এবার আকাশ এর ঘাড়ে দিয়েছেন তার বাবা।কারণ অবশ্য আকাশের বড় ভাই অয়ন।সে এইখানকার প্রজেক্ট টা নিতে মহা উৎসাহী।বাবাকে এক প্রকার জোরাজোরি করেই আকাশদের দিয়ে এখানকার প্রজেক্ট টার দায়িত্ব নিয়েছে।।রিয়ান,রাতুল, রাকিব,রেদোয়ান আকাশের বন্ধু। স্কুল,কলেজ,ইউনিভার্সিটি সব একসাথে।একসাথে পড়াশোনা শেষ করে বন্ধুদের নিয়ে নেয় তাদের বিসনেস এ।সেই সূত্র ধরেই এখন তারা নতুন প্রজেক্ট নিয়ে এখানে
আশেপাশে পাহাড়ি এলাকা,ঘন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে, পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে আঁকাবাকা রাস্তা।রাস্তা থেকে একটু দূরেই পাহাড়ের ওপর দোতলা কটেজ।এতো সুন্দর কটেজ তাদের দাদু এখানে বানিয়েছিলেন আজ ভেবে সে অবাকই হচ্ছে… যদিও সে বিরক্তই বেশি হচ্ছে,বারবার বাবাকে বললো ঢাকার প্রজেক্ট সে সামলাক,অয়ন ভাইকে এখানে পাঠাতে।কিন্তু এতো বড় প্রজেক্ট, তার বাবা চায় আকাশ,অয়ন দুই ভাই একসাথে হ্যান্ডেল করুক,ছেলেরা দায়িত্ব নিতে শিখুক,আজ বাদে কাল সবটা তো একা হাতে তাদেরই দেখতে হবে।বড় বড় কারবার শিখতে হবে তো নাকি!

আকাশ বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়।বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে বাইরে।সে জগিং এ বের হবে।তারা এখানে এসেছে সবে গতকাল, এখনো তাদের কটেজটা জন্য গোছানো হয়নি।কোন ব্যাগ কোথায় রেখে সেগুলোও পাচ্ছেনা।অনেক খুজে একটা ব্যাগ থেকে শাদা শার্ট আর ট্রাউজার পরে রুম বের হয় সে।

বাহিরে ঠান্ডা বাতাস,আশেপাশের পাহাড়ি রাস্তা,গাছপালা, আর বৃষ্টির জন্য পরিবেশটা দার্জিলিং এর ফিলিং দিচ্ছে।আশপাশটাও ঘুরে দেখা দরকার, বৃষ্টি কমেছে এর মধ্যেই।যদিও আজকাল বৃষ্টির ওপর ভরসা নেই একবিন্দুও।যেকোনো সময় ঝমঝমিয়ে নেমে পরবে।জগিং করতে করতে অনেকটা ভেতরের রাস্তায় চলে এসেছে সে।রাস্তার কিনারে দাড়িয়ে পরলো।পাহাড়ি রাস্তা সমতল থেকে অনেক উঁচু তে হওয়ায় অদূরে পাহাড়ের ওপর ভেসে ভেসে যাওয়া মেঘগুলে দাড়ুন সুন্দর লাগছে।স্বীকার করলো সে পরিবেশ টা স্বর্গসুখ দেয়।
হঠাৎ মিষ্টি গুনগুনে হালকা পাশ ফিরলো সে।শব্দের উৎস্য হাতরাতে বেশ খানিকটা দূরে তাকিয়ে থমকে গেলো তার বুকের বা পাশ।ধক করে উঠলো যেনো হুট করেই।সামনে একটা কিশোরি হেটে আসছে।হালকা আকাশী কালারে জরজেট শাড়ি গায়ে।বৃষ্টির পর দমকা বাতাসে শাড়ি দেহে লেপটে আছে লতানো শরীরে।এলোমেলো বাতাসের তোরে বাকানো ফর্শা কোমড় দৃশ্যমান হয়ে যাচ্ছে বারবার। কিশোরি বারবার সেটা আড়াল করছে উদদাসীনভাবে।।আঁচল পিছনে অনেক উড়ছে।খোলা চুল, চোখ মুখ আড়াল করে দিচ্ছে বারবার,কাজল দেওয়া চোখ।গোলাপি পাতলা ঠোটে গুনগুন করে গান গাইছে মেয়েটা।দূর থেকেও চমৎকার শোনাচ্ছে।… আকাশ থমকে দাড়িয়ে আছে।পলক ফেলতে ভুলে গেছে।মেয়েটার বয়স ঠাহর করতে পারে না।কত আর হবে।১৭-১৮ সম্ভবত!।এমন চোখের দিকে তাকালে চোখ সরানো দায়।
আকাশ নিজের ওপর খানিকটা বিরক্ত হচ্ছে,মেয়েদের দিকে এমন নির্লজ্জের মতো তাকিয়ে থাকার ছেলে নয় সে কখনোই,মেয়ে দেখলে তার রুপ যৌবন নিয়ে সমীকরণ কষা তার ইমেজ এর সাথে যায়না মোটেই। বা এমনও নয় যে যাদের সাথে মিশেছে,আশেপাশে সুন্দরী মেয়ে দেখেনি।কিন্তু এই রকম মায়াবী মুখ এ জনমে তার চোখে পরেনি সেটা সে নিশ্চিত!এ মায়াবী মুখটা যেনো তার বহু পরিচিত।কেমন জানি উল্টাপাল্টা বিষয় ঘটছে আজকে তার সাথে।
আকাশেকে পাশ কাটিয়ে যেতেই চমৎকার একটা গন্ধ ছড়িয়ে গেলো আশেপাশে। আকাশ ফিরে তাকিয়ে রইলো।।মেয়েটা গুনগুন করতে করতে হেঁটে চলে যাচ্ছে।সে মন্ত্র মুগ্ধের মতো মেয়েটার প্রস্থান দেখছে…
বুকের ভিতর কেউ জেনো চেনাসুরে মেলোডি বাজিয়ে গাইছে…
“কি আবেশে তারে বারেবারে
দেখি তবু যেনো মেটেনা তৃষা
সে যে পথ চলে বুকে ঝড় তুলে
জেগে ওঠে ঘুমোনো আশা”

চলবে….

[নিজের ফেসবুক এ টুকটাক লেখালেখি করা হতো প্রায়,বই পড়তে যেহেতু দারুণ ভালোবাসি,লেখালেখিরও সখ হতো বইকি।তবে ঘটা করে,সময় বের লেখালেখি করা হয়ে ওঠেনি কখনো,এ জীবন কল্পনা তে দারুণ সুন্দর লাগে,সুন্দর লাগে সিনেমার মতো করে একটা কাল্পনিক ভালোবাসার মানুষ পাশে দাড় করিয়ে গোটা জীবনের সংসার সাজাতে।কখনো কখনো ভাগ্য সহায় হয়না বাস্তবে।তো কি! কল্পনা করতে তো আর বাধা নেই।কল্পনায় সংসার,ভালোবাসা,সব সাজাতে বসলাম।অনেকটা বাস্তব, অনেকটা না পাওয়ার আক্ষেপ থেকে,যে মানুষ টাকে বাস্তবে আশা করেছিলাম,অন্য কেউ তাকে বাস্তব জীবনে কেড়ে নিলেও,এ জগৎ এ সো পুরোটাই আমার।আমার মনের মতো…. আশা করি ভালো লাগবে।হ্যাপি রিডিং প্রিয়রা…🌼🍀]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here