আকাশপ্রিয়া #পর্ব_৩১

0
40

#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_৩১(১৮+++ অ্যালার্ট)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা

[🚫কপি করা নিষেধ। রোমান্টিক পর্ব,সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত। ]

আজকে বুধবার। কক্সবাজার যাওয়ার ডেট আজকেই ফিক্সড করা হয়েছে।রাতুল,রাকিব সব অ্যারেন্জ করে ফেলেছে।প্রথমে নিজেরা নিজেদের ব্যাক্তিগত কার নিয়ে যেতে চাইলেও পরে ঠিক হয়েছে সবাই বাসেই যাবে।পিকনিক এর ভাইব আলাদা আলাদা গাড়িতে পাওয়া যাবে না।দুপুরের পরপরই তাদের রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও,ফরেইন কিছু ক্লায়েন্ট এর গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর কারণে তারা রওনা দেবে সন্ধ্যার পরপর…

বাড়িতে একপ্রকার ছোটাছুটি সবার।রাতুল,রেদোয়ান, রাকিব হতাশ চোখে মেয়েগুলোর সেসব ছোটাছুটি দেখছে।এতদিন বাড়িটা কেমন নিরব লাগতো।অথচ আজকে বাড়িটাকে মাছের বাজার মনে হচ্ছে একপ্রকার। মেয়েমানুষ এর মন ভালো থাকলে এরা যে হৈ হুল্লোড় করে দুনিয়া মাথায় তুলে ফেলতে পারে তা এবারই প্রথম অভিজ্ঞতা করলো তারা।

ড্রয়িং রুমে টিভি চলছে।এই মূহুর্তে রাকিব,রেদোয়ান এর নিজেদের রুমে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।রাকা আর তুষি নিজেদের জিনিসপত্র লাগেজে তুলছে।তারা থাকলে নাকি সেসব তারা ঠিকমতো করতে পারছে না।

রাতুল অসহায় বন্ধুদুটোকে সঙ্গ দিচ্ছে আরকি।রান্নাঘরে রহিমা খালা ব্যাস্ত হাতে রান্না করছে।প্রায় চার ঘন্টার রাস্তা।তারমধ্যে রাত হয়ে য়াবে রওনা দিতে দিতেই।ছেলেগুলো না হয় ম্যানেজ করে নেবে চারটে মেয়ে আছে।তাদের নিশ্চয়ই খিদে পাবে।তাছাড়া প্রিয়া টা খিদে একদম সহ্য করতে পারে না।তারা যে রাস্তায় যাবে রাত হলে সে রাস্তা খুব একটা নিরাপদ নয়,তাই মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে খাওয়াদাওয়া করা খুব একটা নিরাপদ নয়।প্রিয়া এ অবধি ছয়বার নিচে এসেছে।প্রতিবার তার হাতে পানির বোতল। যতবার রাতুল জিজ্ঞেস করেছে এতো পানি দিয়ে কি করছে।ততবার জানিয়েছে জামাকাপড় চুজ করতে গিয়ে মাথা গরম হয়ে যায়,গলা শুকিয়ে আসে।সে জামাকাপড় নিয়ে শিয়ার আর তার ঘর দৌড়াদৌড়ি করছে বারবার।

রাতুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে আয়েশ করে হেলান দেয় সোফার মধ্যে। পাশ ফিরে তাকালো রাকিব আর রেদোয়ান এর দিকে।দুই বেচারা অসহায় চোখে দোতলার করিডর এর দিকে তাকিয়ে আছে।মেয়েগুলোর একে অপরের রুমে ছোটাছুটি দেখছে।
রাতুল নিজেও ভাবুক গলায় বললো,”এরা কি এতো নিচ্ছে বলতো?”
রাকিব হতাশার শ্বাস ছেড়ে চোখ বুঝলো হাত পা ছড়িয়ে। “ওদেরই জিজ্ঞেস কর।”

“এতদিন আগে থেকে প্ল্যান হচ্ছে, অথচ রওনা দেওয়ার এই ঘন্টাখানেক আগে এদের দেখে মনে হচ্ছে সবে জানতে পারলো।”

“মেয়ে মানুষ ভাই।কিছু বলার নেই।”

আকাশ,অয়ন, রিয়ান তিনজনই অফিসে।ওরা তিনজন ফিরলে তারপর বের হবে তারা।ঘড়িতে এখন সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটা। ওদের কাউকেই ফোনে পাওয়া যায়নি।তারমানে এখনো মিটিং শেষ হয়নি।অফিসের বাস এসে অপেক্ষা করছে তাদের কটেজের সামনের রাস্তায়।মূলত এখান থেকেই তারা বাসে উঠবে সবাই।

প্রিয়া নবম বারের মতোন ছুটে এলো শিয়ার রুমে।শিয়ার ততক্ষণে গোছগাছ শেষ।সেও প্রিয়ার রুমেই ছুটছিলো।শিয়াকে নিজের রুমে আসতে দেখে কাঁদো কাদো মুখে আর্তনাদ করে উঠলো।দু হাত খামচে ধরে টেনে হিচড়ে নিয়ে এলো নিজের রুমে।
“কি হয়েছে বলবি তো?”
“আমার নীল শাড়ি টা তো পাচ্ছিনা।বাড়িতে বোধহয়।”
“কোনটা?”
“তুই যেটা দিয়েছিলি। “

শিয়া নজর বোলালো বিছানার দিকে।লাগেজ টা হাট করে খোলা।পাশের আলমারি টা খোলা।বিছানা,মেঝে সব জুড়ে জামাকাপড় ছড়ানো ছেটানো।একটা জামাও এখন অবধি লাগেজে উঠতে পারেনি।
“তোর কি ওই একটাই শাড়ি?অন্যগুলো নে।”

প্রিয়ার কাঁদো কাঁদো মুখ আর মলিন হলো।চোখ ছলছল করে উঠলো।
“আমার তো স্কাই ব্লু কালার শাড়ি ওই একটাই।সমুদ্রে যাবো আর লাল কমলা পড়বো এটা কোনো কথা।এখন কি করবো আমি?”

“আচ্ছা এগুলো অন্তত গোছা।দরকার হলে ওখানে গিয়ে কিনে দেবো।”
প্রিয়া খুব একটা সন্তুষ্ট হলো না।তবে পিছন ফিরলো বিছানার দিকে।আবার আরেক দফা আর্তনাদ করে উঠলো।
“আমার একটাও জামা নেই নেওয়ার মতো।”

রাতুল সবে ওপরে এসেছিলো।সবার গোছগাছ কতদূর দেখতে।রাকিব,রেদোয়ান ওপরে আসার সাহস পাচ্ছিলো না।তারা খুব ভালো করেই জানে কোথাও যাওয়ার আগে মেয়েদের ধর্ম হলো তাদের হাজার একটা জামার মধ্যেও তারা চিৎকার করতে থাকবে কোনো জামা নেই বলে।এর মধ্যে ওপরে এসে ধমকে আরও ওপরে চলে যাওয়ার কোনো মানেই হয়না।রাকা, তুষির রুম ঘুরে রাতুল এসে সবে থেমেছিলো প্রিয়ার ঘরের সামনে।প্রিয়ার কাঁদো কাঁদো গলার স্বরে আগ্রহী হয়ে এগিয়ে আসে দরজার সামনে।প্রিয়ার নাকি জামাকাপড় নেই।এ কথা শুনে রাতুলের চোয়াল ঝুলে বুক ছুয়েছে।পুরো ঘরজোড় জামাকাপড় মেলা।আলমারি,আলনা,ওয়ারড্রব সব হাট করে খোলা।বিছানার ওপর জামাকাপড়ের স্তুপ।সে তো সাতদিনের জন্য তিনটা প্্যান্ট আর চারটে শার্ট নিয়েছে।পুরো মাসের জন্য গেলেও সে বোধহয় এইকয়টাই নিতো
রাতুল হাত দিয়ে নিয়ে চোয়াল ওপরে তুলে দরজায় নক করে।দু বোন তাকায়।
“আয়, ভেতরে আয়।”
শিয়ার ডাকে রাতুল ঘরে ঢোকে।প্রিয়া হতাশ হয়ে এদিকওদিক তাকাচ্ছে। তার জামাকাপড় নেই!

“জামাকাপড় নেই মানে?এগুলো কি?”
প্রিয়া নাক টানে।অভিমানী গলায় বলে,”সব কি সব জায়গায় পরা যায় ভাইয়া।”

বলেই একটা কমলা কালার চুড়িদার হাতে তুলে বাড়িয়ে ধরে রাতুল এর দিকে।
“দেখুন।এটার কালার দেখেছেন?মিষ্টি কুমড়ার মতো।আম্মু আপুর কালার চয়েজ এতো খারাপ।জানেন না তো।এখন এটা কি নীল আকাশের নিচে নীল সমুদ্রের ধারে পরার জিনিস?আমাকে কেমন দেখাবে ভাবতে পারছেন?খোলা বাজারে মিষ্টি কুমড়ার মতো।”

রাতুল শব্দ করে হেসে ফেললো।শিয়াও হাসছে।কোনোমতে হাসি থামিয়ে বললো,”ছোট বাচ্চারা যখন ড্রয়িং করে সূর্যের রঙ কিন্তু এটা দেয়।তোমাকে সেরকম ও দেখাতে পারে।আকাশের বুকে একটা কমলা সূর্য।”

প্রিয়া মুখ ফুললো।তাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে। কান্না পাচ্ছে তার।রাগী চোখে তাকালো শিয়ার দিকে।
“অ্যঅই আপু।কোনটা নেবো বলনা।”
শিয়া এগিয়ে গেলো কাপড়ের স্তুপের দিকে।”সর তুই।আমাকে দেখতে দে।”

“আমার শাড়ি?এখন কেনা যায়না?”

“পাগল তুই?একটু পর রওনা দেবো।এখন তোর শাড়ি কিনতে যাবো?ওখনে গিয়ে কিনে দেবো।”

রাতুল ভ্রু কুচকে দেখলো আলমারির সারি সারি করে সাজিয়ে রাখা শাড়ির দিকে।সেখানেও কম করে হলে বিশটা শাড়ি।এ মেয়ের তাও শাড়ি নেই।
“প্রিয়া।তোমার শাড়িও নেই?”

প্রিয়া এবার কেঁদেই ফেললো।ঘুরে আহ্লাদি গলায় বললো,”শাড়ি তো আছে।স্কাই ব্লু টা পাচ্ছি না।সমুদ্রে গিয়ে স্কাই ব্লু শাড়ি পরবো না এটা হয় বলুন?”

রাতুলের বেশ মায়া লাগলো। এরম একটা পুতুলের মতো পরী যদি সামনে এমন গাল ফুলিয়ে অভিযোগ করে তাহলে মায়া লাগবে না?মাথা ঝাকালো সেও সহানুভূতির সুরে।
“তাই তো।আচ্ছা শিয়া তো বললো গিয়ে কিনবে।আপাতত এগুলোই নিয়ে চলো।”

প্রিয়া ঘনঘন নাক টানতে লাগলো।রাতুল সেখান থেকে বেড়িয়ে এলো বাইরে।করিডরে এসে এইমাত্র করা প্রিয়ার ভয়েজ রেকর্ড খানা পাঠালো আকাশের কাছে।মিনিট পাঁচেক পরে রিপ্লাই এলো।
“সবাইকে রেডি হতে বল জলদি।আমরা আসছি।”
রাতুল মুখ ভেঙালো।আকাশের অন্য রিপ্লাই আশা করেছিলো সে।প্রেয়সীর কান্নামাখা আবদার শুনেও আকাশ এহনাজ কিছু বললো না!

***
আকাশ রা যখন ফিরলো তখন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা।এদিককার সবার গোছগাছ হয়ে গেছে।রহিমা খালা বাড়ির সবার জন্য হটপটে খাবার রেডি করে দিয়ে গেছেন।রাকিব,রাতুল,রেদোয়ান মিলে মেয়েদের লাগেজ টেনেহিঁচড়ে নিচে এনে রাখছে।
“কি নিয়েছে বলতো।কোমড় ভেঙে যাচ্ছে নামাতে।”

রাতুল কোমড়ে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস ছাড়লো।তাদের ছেলেদের সবার ছোটখাটো লাগেজ।অথচ এদের সবারই দু দুটো করে।তাও মনে হচ্ছে পাথর তোলা ভিতরে।
এখনও প্রিয়ার জন্যই অপেক্ষা করা হচ্ছে। সবাই ইতিমধ্যে যারযার জিনিসপত্র নিয়ে নিচে এসে গেছে।প্রিয়াই এখনো নামেনি।শিয়াও নামেনি।অবশ্যই প্রিয়ার জন্যই নামতে পারেনি।
আকাশ ঘড়ি দেখে।পোনে আটটা বাজে।তারা এসে শাওয়ার নিয়ে রেডি হয়ে নিচে নেমে এসেছে অথচ মেয়েটা সারাদিনেও এখনো গুছিয়ে শেষ করতে পারেনি।আকাশ বিরক্ত চোখে তাকায় ওপরের দিকে।শিয়া নেমে আসছে।
পিছন পিছন হ্যান্ড ব্যাগের মধ্যে ব্যাস্ত হাতে ঘাটাঘাটি করতে নামতে দেখা গেলো প্রিয়াকে।মুখটা মলিন
এখনো।রাতুল আড়চোখে আকাশের দিকে তাকালো।আকাশ ভ্রু কুচকে প্রিয়া কেই দেখছে।

রাতুল মুখ এগিয়ে নিয়ে গেলো আকাশের কানের কাছে।ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো,”দেখেছিস বেচারির মন সত্যিই খারাপ।”
আকাশকে কিছু বলতে শোনা গেলো না।তবে অয়নে উঠে এগিয়ে গেলো।শিয়া ধীর গলায় বকাবকি করছে হয়তো প্রিয়াকে।
“কি হয়েছে।ওকে বকছো কেনো?”
শিয়া তপ্ত চোখ নিয়ে তাকালো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া একটু পরপর হেঁচকি তুলছে।এতক্ষণ কাঁদছিলো বোঝা যাচ্ছে।শিয়া বলতে গেলো তার রাগের বৃত্তান্ত। প্রিয়া হাত টেনে থামিয়ে দিলো তাকে।এত বড় মেয়ে,সামান্য একটা শাড়ির জন্য কাঁদছে এটা এতগুলো মানুষের সামনে বলে বেইজ্জতি করার মানে হয়।
শিয়া রাকা আর তুষির পাশাপাশি যেতেই অয়ন এগিয়ে গেলো প্রিয়া কাছে।আগলে নিলো পিছন থেকে বাহুতে ধরে।মাথা নামিয়ে ধীর গলায় জিজ্ঞেস করলো,”কি হয়েছে ভাইয়া।আমাকে বলো”

প্রিয়া মাথা নিচু করে দুদিকে মাথা নাড়লো।কিছু হয়নি বোঝালো।
“শিয়া বকেছে?”
প্রিয়া এবার চুপ করে রইলো।চোখ ছলছল করছে।
“,আমাকে বলো কেনো বকেছে।”
প্রিয়া বললো না।হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছলো।শিয়া অসহায় চোখে সে আহ্লাদ দেখছে।এতো কান্না করার মতো মোটেই বকেনি।এতো এতো জামাকাপড় নিজেও কোনটা নেবে ঠিক করতে পারেনা,সে ঠিক করে দিলেও সেটা পছন্দ হয় না।সেটা বলায় কেঁদে কেটে অস্থির।

শিয়া তাড়া দিলো এবার।”ওতো আহ্লাদ করার মতো মোটেই বকিনি তোমার বোনকে।যা শোনার পরে শুনবে।এখন বের হতে হবে চলো।”

অয়ন মাথায় হাত বুলিয়ে এগিয়ে এলো এদিকটায়।আকাশ আড়চোখে দেখলো সবটাই।কেঁদেকেটে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে।গাল, নাকের ডগা বরাবরের মতো টমেটোর মতো লাল টকটক করছে।আকাশ নিঃশব্দ হাসলো।মুখ ফুলিয়ে দাড়িয়ে আছে মন খারাপ করে।কি আদুরেই না লাগছে।

একে একে সবার লাগেজ নিয়ে ছেলেরা বের হলো।খাবারের বক্স আর নিজেদের হ্যান্ড ব্যাগ গুলো নিয়ে মেয়েরা বেরিয়ে এলো।আর বাকি স্টাফ রাও বেশ খানিকক্ষণ আগেউ উঠেছে।যার যার বরাদ্দকৃত আসনে সবাই বসেও গেলো।অয়ন, আকাশ আর রাতুল আর রিয়ান উঠলো সবার পরে।রিয়ান আগে এগিয়ে যেতেই রাতুল একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে আকাশকে বসিয়ে দিলো প্রিয়ার পাশে।হঠাৎ ধাক্কার কারণ বুঝলো না আকাশ।রাতুলের দিকে গরম চোখে তাকাতেই দু হাতে কান ধরে জিব কাটলো দাঁতে।
“পরে যেতে নিয়েছিলাম।রাগছিস কেনো।তুই তো আর পরিস নি।”
রিয়ান কটমট চোখে তাকালো রাতুল এর দিকে।রাতুল কিন্তু মোটেই তা আমলে নিলো না।হাসি মুখে গিয়ে বসলো ফাঁকা সিটখানায়।
এমন হুমড়ি খেয়ে পাশের সিটে আকাশ বসায় চমকে উঠেছে প্রিয়া।তবে পাশে আকাশকে দেখা মাত্রই এতক্ষণ এর সব মন খারাপ কেমন একটা পালালো যেনো।আকাশ গম্ভীর মুখে শার্ট টেনে ঠিকঠাক করে বসলো।ওদিকে অয়ন আর শিয়া বসেছে একসাথে।

_____
গাড়ি ছাড়লো তখন রাত সাড়ে আটটা।গাড়ি চলতে শুরু করেছে।আশপাশ ঘোর অন্ধকার। তাদের যাতায়াতের এই রাস্তাটাও পাহাড়ি এলকার ভিতর দিয়ে।আশপাশে লোকালয় একদম নেই বললেই চলে।ঘোর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে রাস্তা।আকাশ চিন্তায় মগ্ন।মনটা বারবার বলছে কাল সকাল সকাল রওনা দিলে বোধহয় বেশি ভালো হতো।যদিও গাড়িতে এতোগুলো পুরুষ মানুষ থাকতে মেয়েদের ভয় নেই,তার পরেও জেনেবুঝে এমন রিস্কি রাস্তায় এতো রাতে রওনা দেওয়াটা কেমন একটা দেখাচ্ছে।
গাড়ি চলছে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে।বাসের ভিতরের আলো নিভিয়ে দেয়া হয়েছে আপাতত।এই শুনশান এলাকা পার হলে না গানবাজানা যা করতে চায় সবাই করা যাবে।প্রিয়া জানালা খুলে রেখেছে বাইরে জঙ্গল ছাড়া দেখার মতো কিচ্ছু নেই,তার ওপর রাত।বাইরে কেমন একটা গুমট ধরা পরিবেশ। প্রিয়ার বাইরের এই পরিবেশটা হরর ফিল্মের মতো লাগলো। তাদের গাড়ির আলোয় যেটুকু দেখা যাছে আরকি।বাইরের দমকা বাতাসে তার আধখোলা লম্বা লম্বা চুল উঠে এসে আড়াল করে দিছে আকাশের চোখমুখ। আকাশ কিন্তু মোটেই সেগুলো সরানোর চেষ্টা করছে না।চুলের মিষ্টি ঘ্রান টেনে নিচ্ছে চোখ বুজে।নিঃশব্দে হেসে খেয়াল করছে প্রেয়সীর চঞ্চলতা।

প্রিয়া জানালার কাচ আরেকটু টেনে দিলো।বাইরে জঙ্গলের ভিতরে প্রচুর জোনাকি উড়াউড়ি করতে দেখা যাচ্ছে।মুগ্গ্ধ হওয়ার মতো দৃশ্য। প্রিয়া উচ্ছাসিত হয়ে দেখছে সেসব।এবার মাথা উচুলো।তাকালো ওপরে আকাশের দিকে।আকাশে বিশাল একটা চাঁদ। যদিও গাছপালার আড়ালে ঢাকা পরছে বারবার।বেশ কিছুক্ষন পরপর গাছপালার ফাঁক দিয়ে চোখে পরছে সেটা।ফট করে ঘুরে তাকালো আকাশের দিকে।আকাশ তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো।প্রিয়া এভাবে হুট করে ঘুরবে সে সেটা আন্দাজ করেনি।ঝটপট চোখ সরিয়ে নিলো।
“আজ কি পূর্নিমা আকাশ ভাইয়া?”

আকাশের মেজাজ খারাপ হলো।এমন একটা রোমান্টিক পরিবেশে মেয়েটা তাকে ডাকার জন্য এই সম্বোধন টাই পেলো।সোজা হয়ে বসে দাঁতে দাত চেপে বিরবিরিয়ে উঠলো,”গাধা একটা।”

প্রিয়ার কান অবধি সেটা পৌছুলো না।সে মহা উৎসাহে একই প্রশ্ন টা দ্বিতীয় বার করলো।
আকাশ এবার চোখ ছোটছোট করে তাকালো। প্রিয়া এহেন দৃষ্টিতে খানিক দমে এলো।সেও প্রায় বিরবিরিয়ে বললো,”পূর্নিমা নাকি জিজ্ঞেস করলাম।”

“আমি কিভাবে জানবো।”
“পূর্ণিমাই।আমি ফোনে দেখেছিলাম।”
“তাহলে জিজ্ঞেস করছো কেনো।”
“মানুষ মানুষ কে জিজ্ঞেস করে না?”

আকাশ এর উত্তর দেয়না।বুকে আড়াআড়ি হাত ভাজ করে হেলান দিয়ে চোখ বোজে।
প্রিয়া কতক্ষণ তাকিয়ে থাকে সেদিকে।বাতাসে আকাশের চুলগুলোও উড়ছে।প্রিয়া মুখ থেকে চোখ বুলালো।গায়ে অ্যাশ কালার একটা শার্ট আর ব্ল্যাক প্যান্ট।শার্টের ওপরের বোতাম টা খোলা।প্রিয়ার খুব ইচ্ছে করছে আকাশের চোখের পাপড়ি ছুয়ে দিতে।
“এভাবে তাকিয়ে না থেকে ঘুমোও।পৌছুতে রাত হবে।”

প্রিয়া চমকে উঠলো।আকাশের চোখ বন্ধ। কিভাবে বুঝলো সে তাকিয়ে আছে!ঝট করে সোজা হলো সে।বুকের ভিতর হাতুড়ি পিটাচ্ছে।বাসের ভিতর পিনপতন নিরবতা। শুধুমাত্র জানালা খোলা থাকায় বাইরের বাতাসের শো শো শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ নেই।উঁচু হয়ে বাসের সবাইকে দেখার চেষ্টা করলো প্রিয়া।কারোর হাতে ফোন নেই।সবাই ঘুমানোর চেষ্টায় ব্যাস্ত।নিজের ফোনটা বের করে সময় দেখলো সে।ঘড়ির কাটায় দশটা বাজতে দু মিনিট কম।তার মোটেই ঘুম ধরছে না।ওপরের দিকে তাকালো সে।তাদের বাসাটা স্লিপিং বাস টাইপের।ওপরে আলাদা স্পেস ও আছে।যারা বউ-বাচ্চা নিয়ে এসেছে, তাদের দেওয়া হয়েছে ওগুলো।

“নড়াচড়া না করে ঘুমতে বললাম না?”
প্রিয়া বিরক্ত হলো।লোকটা সবসময় তার সাথে এমন খ্যাটখ্যাট করে।উহু।করার চেষ্টা করে।তাকে কি বোঝাতে চায় কে জানে।প্রিয়া মুখ ভেঙচায়।
“এতো নাটক করে লাভ নেই।ভালোটালো কিছু মিছু যে বাসেন সেটা আমি খুব জানি।শুনে ফেলেছি সেদিন সব আমি।”
মনে মনে আওড়িয়ে জোরে জোরে নড়াচড়া করে ওঠে।আকাশ বিরক্তি সহকারে শব্দ করে চোখ কুচকে তাকায়।প্রিয়া অবশ্য সেসবে পাত্তা দিচ্ছে না।সে ততক্ষণে চোখ বুঝেছে সিটে হেলান দিয়ে।
নাহ কিছুতেই তো ঘুম ধরছে না।এভাবে পাশে হৃদপিন্ডের মালিককে রেখে এমন শক্ত সিটে গড়াগড়ি করলে ঘুম ধরে?নাকি শান্তি মেলে!প্রিয়া বারবার তাকাচ্ছে আকাশের দিকে।বুকটা হু হু করে উঠছে তার।চিনচিন ব্যাথা করছে বা পাশটায়।সেখানে আকাশের মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে রাখতে পারলে শান্তি মিলতো,আর নয়তো তার বুকে প্রিয়াকে নিয়ে শান্ত করুক।তা না।মহা আনরোমান্টিক একটা লোক।প্রিয়ার ভয়াবহ মেজাজ খারাপ হচ্ছে। সেদিন আকাশের ওই কথাগুলো তার কানে না গেলেই বোধহয় ভালো হতে।এতদিন তো শুধু নিজের অনূভুতি কে সামলেছে,যখন থেকে সামনের মানুষ টার অনূভুতি জেনে গিয়েছে আর মোটেই ইচ্ছে করে না নিজের মনটাকে সামলাতে,আটকাতে।ছুটে গিয়ে ওই বুকটায় আছড়ে পরতে মন চায় তার।ছোট্ট একটা জীবনে কি দরকার এত আগামী একশ বছরের চিন্তা বর্তমানে মাথায় নিয়ে এই সুন্দর সময়গুলো নষ্ট করে ফেলা।কি দরকার এতো লাভ ক্ষতির হিসেব কষে।এই অনিশ্চয়তার জীবনে আজকে ভালো না বেসে পরের জন্য জমিয়ে রাখাটা কি বোকামি নয়?চরম বোকামি। যেখানে জীবনের শেষ মূহুর্তে গিয়ে আফসোস করে বলতে হয় আর একটু সময় তোমার সাথে কাটাতে যদি পারতাম!সে আফসোস সে রাখবে কেনো জীবনে।প্রতিটা মূহুর্ত ভালোবাসবে,কেনো করবে শেষ মূহুর্তে আরও আগে থেকে ভালো না বাসার আফসোস।একদম করবে না।
আজকে এখন এই মূহুর্ত থেকে সে ভালোবাসা আদায় করে নেবে।ভালো না বাসলে সে আলাদা কথা ছিলো।ভালোবসে কি ছাইপাঁশ ক্যারিয়ার,বয়সের অযুহাত দেখিয়ে দূরে দূরে থাকবে সে আর হচ্ছেনা।

প্রিয়া আঙুল দিয়ে খোচা দেয় আকাশের শক্তপোক্ত ফোলা বাহুতে।আকাশ ঘাড় বাকিয়ে তাকায়।
“কি?”
“ঘুমাচ্ছেন?”
“না। কোনো সমস্যা? “
“অনেক সমস্যা। “
আকাশ সোজা হয়ে বসে।প্রিয়া দিকে ঘোরে খানিকটা। কি সমস্যা।
“ওই পর্দা টা নামিয়ে দিন না।চোখে আলো লাগে।”
আকাশ ভ্রু কুচকে ঘাড়ে বাকিয়ে তাকায় ওপরের দিকে।স্লিপিং বাস হওয়ায় প্রতিটা সিটের পাশে একদম ওপর থেকে পর্দার ব্যাবস্থা করা।
“কোথায় আলো এখানে?”
“আপনি বুঝবেন না।আমার এক ফোটা আলো থাকলেও ঘুম ধরে না।”
আকাশ কিছু বললো না।পর্দাটাও টেনে দিলো না।নির্বিকার বসে রইলো।
“কি হলো দিন না টেনে। “
“পিছনে তাকাও।”
প্রিয়া ঘাড় উচিয়ে তাকালো।
“কি দেখলে?”
“সবাই ঘুমাচ্ছে।”
“কেউ পর্দা টেনেছে?”
“আপুরা টেনেছে, রাকিব ভাই,রেদোয়ান ভাইয়া ওরা টেনেছে।পিছনে বোঝা যাচ্ছে না।এবে আরও দু সিটে টেনে দেয়া।”
আকাশ হতাশ চোখে তাকিয়ে রয় প্রিয়ার দিকে।বোকা মেয়ের মাথায় এতটুকু ঘিলু নেই।কেমন বোকার মতো পর্দা টানার বায়না করছে।সামান্য কমন সেন্স থাকলে বলতে পারে!প্রিয়ার মাথায় হাত দিয়ে সোজা ঘুরিয়ে দেয় তাকে।
“তোমার যে মাথায় সত্যি কিছু নেই তা বোঝো?
“এখানে আমার বুদ্ধির কথা কেথা থেকে আসলো।যা জিজ্ঞেস করলেন উত্তর দিলাম।”
আকাশ হতাশায় দু দিকে মাথা নাড়ে।প্রিয়া একই আবদারে আবার ডেকে ওঠে।
“টেনে দিলে সমস্যা কি।আমার ঘুম ধরছে না তো।”
“বাইরে থেকেও তো আলো আসছে।”
প্রিয়া প্রতিবার করে।দ্রুত হাতে জানালার পর্দা খানিকটা টানে।
“এটা চোখে লাগে না।আর এতো মানুষ জনের মধ্যে ঘুম হয়না।”
“একেক সময় একেক কথা বলছো।”
“ওই হলো সব একই।”
“একই না।গাধা তুমি একটা।”
“মোটেই না।”
“ওরা কারা কারা পর্দা টেনে আছে খেয়াল করেছো?সবাই ওরা কাপল।ওদের টা মোটেই দৃষ্টিকটু ালগছে না।কেউ এ নিয়ে কথা বলবে না।আমাদের টা টেনে দিলে যে খারাপ দেখায় সেটা বোঝার ক্ষমতা থাকলে বলতে না।”

প্রিয়া মনে মনে হাসে।সে মোটেই বোকা না।সামান্য বিষয়টা না বোঝার মতো তো মোটেই নয়।সে তো ইচ্ছে করেই করছে এটা।
“যে যা ভাবে ভাবতে দিন।তাছাড়া সবাই ঘুমাচ্ছে ভাবার সময় কোথায় তাদের.”
আকাশ কথায় না পেরে হাত বাড়িয়ে টেনে দেয় পর্দা টা।আড়াল হয় তাদের অংশটুকু।খোলা জানালার বাসের হেডলাইটের আলোয় যা দেখতে াপওয়া যাচ্ছে আরকি।
আকাশ এক হাতে ইন করা শার্টটা টেনে বের করলো।গরম লাগছে তার।এ মেয়ে তো তার অবস্থা মোটেই বোঝে না।পুরুষ মানুষ এর যে কি জ্বালা তা এ গাধা মেয়ে টের পায়!পায়না।
প্রিয়া এখনো ক্রমশ নড়াচড়া করেই যাচ্ছে।শান্তিমতো স্থির হয়ে বসছে না।বারবার ধাক্কা লাগছে আকাশের সাথে। আকাশ চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে রাখার চেষ্টায় আছে।গলা শুকিয়ে আসছে।এই মেয়ে াকছে আসলে তার এই এক সমস্যা। তার মধ্যে পর্দা টর্দা টেনে একেবারে পারসোনাল ঘর বানিয়ে নিচ্ছে।তার বেহায়া মনটা তো অন্য কিছু চাইছে এখন।মাথাটা দপদপ করছে উত্তেজনায়।

কিছুক্ষণ এর মধ্যেই আবার প্রিয়ার হাতের স্পর্শ অনূভব করলো তার বাহুতে।হতাশ চোখে তাকালো।এ মেয়ে তাকে আজ শান্তি দেবেনা।যেখানে যায় সেখানেই হাজির হয় তার মন, মস্তিষ্ক নিয়ে খেলা করার জন্য। বেড রুম থেকে যাতায়াতের পথ।কোথাও শান্তি নেই।তাকে পাগল করে দেওয়ার জন্য এ মেয়ে রেডি।তার ওপর ওই সর্বনাশা চুল গুলো জীবনে বাধবে না।ওই খোলা চুল দেখলে সে আরও শ্বাস নিতে পারে না।
এবারও ধমক দিতে চাইলো।তবে গোলগোল চোখ করে আহ্লাদী মুখে প্রিয়ার তাকিয়ে থাকতে দেখে বরফের মতো গলে গেলো।ধমকের বদলে অস্বাভাবিক নরম গলায় বললো,”আবার কি?”
প্রিয়া খানিকটা ঘেষে আসলো।অল্প জায়গার মধ্যে দুটো মানুষ, তার ওপর আকাশের চওড়া সুঠাম শরীরের একদম ছুয়ে যাচ্ছে তার পাতলা ছোট্ট শরীর।মিনমিনিয়ে বললো,”
আমার যেনো কেমন একটা লাগছে।”

আকাশের অস্থির মনটা আরও অস্থির হয়ে উঠলো নিমেষেই। মনটাকে এমনিতেই বুঝিয়ে শুনিয়ে লাগাম দিতে পারছে না ওপর এমন আবেদনময়ী কন্ঠে যদি বলে কেমন কেমন লাগছে তাহলে তার অবস্থা টা কেউ কল্পনা করুক।
আকাশ নিজেকে খুব করে স্বাভাবিক রাখতে চাইছে।
“কেমন লাগছে?ঘুম পাচ্ছে?”

প্রিয়া সজোরে দুদিকে মাথা নাড়লো।গাল ফুলিয়ে বললো,”নাহ।এভাবে ঘুম ধরে?বিছানা ছাড়া?”

আকাশ স্থির দৃষ্টি সরায় না।,”এখন বাসের মধ্যে তোমাকে বিছানা কোত্থেকে দেবো আমি?”

প্রিয়া খানিকসময় চুপ করে।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।আকাশ অপেক্ষা করছে প্রিয়ার উত্তরের। প্রিয়া খানিকটা ইতস্তত করে ধীর গলায় বললো,”আপনার হাতটা আমার পিছনে দেবেন?”

আকাশের বুক চিড়ে দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসতে চায়।এটাই বাদ ছিলো।সে নিজেকে আটকাতে চাইলে কি হবে।যার সর্বনাশের কথা ভেবে নিজেকে ধরে বেধে রাখে সে যদি স্বইচ্ছায় নিজেকে বরবাদ করতে উঠ পরে লাগে তার আর কি করার আছে।মাঝখান থেকে নিজের মনের ওপর জোরজবরদস্তি করে দমিয়ে রাখাটা অন্যায়।
“জড়িয়ে ধরতে বলছো?”

প্রিয়া মুখ এগোয়। ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে,”যদি মুখ ফুটে বলি? ধরবেন?”

আকাশের শক্তপোক্ত শরীর ঝাঁকি দিয়ে উঠলো।সব বাঁধা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জাপটে।ধরতে ইচ্ছে করছে।বাইরের আলো আধারির খেলায় অস্বাভাবিক মাত্রায় আবেদনময়ী লাগছে প্রিয়াকে।বাইরের দমকা বাতাসে খোলা চুলের বেশিরভাগই আকাশের মুখ,বুক ছুঁয়ে যাচ্ছে। তারওপর এমন ঠোঁট কামড়ে ধরছে বারবার। মুখ ফুলিয়ে বাচ্চাদের মতো আবদার করছে।জড়িয়ে ধরতে!আকাশের নিজেরই কি আজ যা সর্বনাশ হওয়ার হয়নি?
আর মনকে জোর করতে ইচ্ছে হলো না তার।অনেক হয়েছে।আকাশ হাতটা বারিয়ে দিলো প্রিয়ার পিছনে।বাহু জড়িয়ে টানলো নিজের দিকে।
“কাছে এসো।ওড়না টা গায়ে ওপর ছড়িয়ে দাও।”

প্রিয়া চমকে গেলো।আকাশ কে সে জব্দ করতে এমন করছে।তার আন্দাজও ছিলো না সে সত্যিই তাকে এমন জড়িয়ে নেবে।শরীর কেমন শিরশির করছে।এক হাতে গায়ের ওড়না টা ছড়িয়ে দিলো শরীরে।খুব ঘেষে বসলো আকাশের সাথে। আকাশ হঠাৎ শক্ত করে মিশিয়ে নিলো তাকে।টাল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পরলো আকাশের খোলা বুকে।প্রিয়ার নরম গালের ছোয়া নিজের উন্মুক্ত বুকে পেতেই বুকটা জুড়িয়ে এলো আকাশের। কিন্তু অবাধ্য হৃদপিণ্ড টা তিনগুণ হারে লাফানো শুরু করলো।প্রিয়া হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরলো আকাশের পেটটা।আবেশে বুজে নিলো চোখদুটো।ইশশ কি শান্তি।
এই বুকে মাথা রেখে মরণও কবুল।কান্না পাচ্ছে তার।মন ভরছে না।আরও শক্ত করে জাপটে ধরতে মন চাচ্ছে মানুষ টাকে।
হঠাৎ ই খেয়াল হলো আকাশের বুকের বা পাশটার ধুকপুক শব্দ।অস্বাভাবিক জোরে লাফাচ্ছে।প্রিয়া মাথা তুলে তাকালো আকাশের দিকে।আকাশ চোখ বন্ধ করে আছে।প্রিয়ার মাথা তোলার সাথে সাথেই চেপে আবার বুকের সাথে ধরে রাখলো।
প্রিয়া আকাশের পেটে জড়িয়ে থাকা নিজের হাত টা ধীরে ধীরে তুলে আনলো বুকের ওপর।আলতো হাতে বুকের ওপর শান্ত হতে বললো।ভিষন আবেদনময়ী গলায় বললো,”আপনার বুকের ভিতরটা এমন ঢিপঢিপ করছে কেনো?”

আকাশ বুকের ওপর কারুকাজ করতে থাকা প্রিয়ার হাতটা চেপে ধরে রাখলো।কন্ঠ গম্ভীর করার বৃথা চেষ্টা করলো,”সেটা তোমার ভাবতে হবে না।নড়াচড়া কম করো।আর আমার উরুর ওপর থেকে তোমার হাতটা সরাও।”

প্রিয়া কিন্তু মোটেই অন্য হাতটা উরুর ওপর থেকে সরালো না।বরং আরো ওপরের দিকে আনলো হাতটা।আকাশের শরীরের প্রতিটি অংশ বিদ্রোহ শুরু করেছে এবার।প্রিয়ার হাত বিপদজনক ভাবে রাখা।বিদ্যুৎ এর ঝটকা ালগছে সে স্পর্শে।
“হাতটা তাহলে কোথায় রাখবো?”
“জানিনা।ওখানে রাখবে না ব্যাস।আমার সমস্যা হচ্ছে। পুরুষ মানুষের কোথায় হাত রাখতে হয়না জানো না?”

প্রিয়া মনে মনে খুব হাসলো।জব্দ নিজে যেমন হচ্ছে, আকাশ কেও করতে পারছে একই সাথে।
এই যেমন আকাশ যে নিজের অজান্তেই তার কোমড়টা চেপে ধরে আছে।তার তো শরীরের ভিতর কি যেনো একটা হচ্ছে। অনবরত ঘামছে সে এই ঠান্ডা বাতাসেও।
“আপনি যে আমার কোমড় খামচে ধরে আছেন।আমারও তো কিছু মিছু হয়।সেটা বোঝেন না?”
আকাশ খানিকটা আলগা করলো নিজের হাত।তবে হাত সরালো না।ঘাড় কাত করে মাথা ছোয়ালো প্রিয়ার মাথায়।ভিষন অসহায় গলায় বললো,”এতটুকু দুটো সিট।এভাবে হামলে পরে আছো আমার বুকের ওপর।উল্টাপাল্টা জায়গায় হাত রাখছো।আমাকে আর কি করতে বলছো তুমি?আমার হাত কোথায় রাখবো তাহলে?”

প্রিয়া মুখ গুজলো আকাশের বুকে।আলতো করে ভেজা ঠোঁট টা ছোয়ালো উন্মুক্ত জায়গাটায়।প্রান ভরে আকাশের শরীরের ঘ্রানটা টেনে নিলো।চোখ বুজে পরে রইলো।আকাশও মাথায় মাথা ঠেকিয়ে চোখ বুজে রইলো।প্রিয়া ফিসফিস করে বললো,”যেখানে আছে থাকুক।”
“সম্ভব নয় এতো ধৈর্যের পরীক্ষা দেয়া সারারাত এভাবে।”
“তো দেবেন না…”
“আমার জন্য তোমার একটুও মায়া হয়না?”
“হয়তো।ভিষন।”
“তাহলে কেনো আমাকে তছনছ করতে উঠেপড়ে লেগেছো?”
“তছনছ আপনাকে একা করছি?”
“নিজেও হতে চাইছো।কেনো করছো এমন।”
“বোঝেন না কেনো?”
“বুঝি।”
“তাহলে কেনো দূরে সরিয়ে রাখেন?”
“এটা কি সঠিক সময়?নয় তো।সময় হোক।”
“এটাই সঠিক সময়।ভালোবাসলে সেই মূহুর্ত থেকে সঠিক সময় শুরু হয়।কে জানে যে সঠিক সময়ের অপেক্ষা আমরা করি ততদিন আয়ু ধরা না দিলো তখন?”
আকাশ শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো প্রিয়াকে।”এত বড়দের মতো বুঝদার কবে হলে?”
“বরাবরই ছিলাম।”
“উহু।ছিলে না।আজকে মনে হচ্ছে। “
“ভুল বলেছি আমি?”
“উহু।”
“তাহলে?”
“এভাবে থাকো কিছুক্ষণ। শান্ত করো আমার বুকটাকে।”
“এভাবে শান্ত হয়?আমার তো হচ্ছে না।”
“আর কিছু না বলে চুপ থাকো কিছুক্ষণ। আমাকে শান্ত হতে দাও।নিজেকে নিয়ন্ত্রণে আনতে দাও।মন, শরীর দুটোই কিন্তু অন্য কিছু চাইছে।”
“আমারও…

প্রিয়ার এবারের কন্ঠের টান আকাশ আর উপেক্ষা করতে পারলো না।ঝট করে কোমড়ে চেপে একপ্রকার বাচ্চাদের মতো ঘুরিয়ে কোলে তুলে নিলো।প্রিয়া হঠাৎ আকাশের এমন পদক্ষেপ এ হতবিহ্বল হলেও খুব দ্রুত সামলে নিলো সেই আশ্চর্যতা।তারও মন, শরীর কেনোটাই এই মূহুর্তে লজ্জা পেতে দিচ্ছে না।আকাশের মাথার পিছনের সিট ধরে উচু হয়ে দু পা আকাশের দুপাশে দিয়ে হাটু ভাজ করে বসলো আকাশের কোলের ওপর।আকাশ খিচে চোখ বন্ধ করে নিলো।নিচের ঠোট কামড়ে ধরলো নিজের।আকাশ চেপে ধরলো প্রিয়ার কোমড়।হেচকা টানে আরও কাছে নিয়ে এলো।দুটো শরীর একে অপরের সাথে লেপটে রইলো।আকাশ আর অপেক্ষা করতে পারলো না।একহাতে কোমড়ের নিচের অংশ চেপে নিজের সাথে মিশিয়ে রেখে অন্য হাতে গলিয়ে দিলো প্রিয়ার খোলা চুলের নিচে।চেপে ধরলো তার ঘাড়।প্রিয়ার শরীর অবশ হয়ে আসছে।কোথায় বসে আছে সে। অন্যকিছু একটা অনুভব করতেই নড়েচড়ে উঠলো সে।লজ্জায় চোখ বন্ধ হয়ে এলো।

আকাশ দেখলো সবটাই।তিড়তিড় করে কাপছে চোখের পাতা।ঠোঁট কামড়ে ধরে আছে।এই বুঝি কেটে ফেলবে। আবার নড়েচড়ে উঠতেই ঘাড়ে, কোমড়ে আকাশের শক্ত হাতের চাপ অনূভব করলে।আকাশ হাস্কিস্বরে বলে উঠলো,
“ডোন্ট মুভ।”
“আ..আ..আমি।”
“উশশশ্।নিজ ইচ্ছায় ধরা দিয়েছো।আমি এখন চাইলেও থামাতে পারছি না নিজেকে।নড়াচড়া করবে না।শরীর,মন নিয়ন্ত্রণে নেই।মস্তিষ্কও থাকবে না আরেকটু নড়াচড়া করলে।”
প্রিয়ার শরীর আর পারছে না।ভিতরে ঝড় উঠে গেছে।এই ঝড় থামানো অসম্ভব। আকাশের গভীর স্পর্শ চাইছে তার শরীরটা।
“আপনার…
“চুপ।চুপ…কেনো কথা না।লুক অ্যাট মাই আইস।আই সে লুক অ্যাট মাই আইস্।”
প্রিয়ার নিচু মাথা উঠলো খুব ধীরে ধীরপ।আকাশের চোখে চোখ রাখা মাত্র ঝড়ের গতিতে আকাশ আকড়ে ধরলো প্রিয়ার পাতলা গোলাপি ঠোঁট জোড়া।প্রিয়া একমুহূর্তের জন্য দুনিয়ার বাইরে চলে গেলো হয়তো।আবেশে খেয়াল করলো সে হয়তো শূন্যে ভাসছে।তার প্রথম পুরুষের এহেন স্পর্শ। চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে আছে এখনো।আকাশ নিজেও তাকানো।হাত এগিয়ে তার চোখ দুটো বন্ধ করে, হাত দুটো তুলে নিলো নিজের ঘাড়ের ওপর।প্রিয়া এবার বাধ্যের মতো জড়িয়ে ধরলো আকাশের ঘাড়।আকাশ ঠোট ছাড়লো।লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া,আশ্চর্যতার চূড়ান্তে থাকা প্রেয়সীর মুখখানা একবার পরখ করে নিলো।সাথে সাথেই আবার ঠোঁট ডুবালো প্রেয়সীর ঠোটে।এবার আর নরম আদরে স্থির রইলো না।গভীর থেকে গভীর আদরে ভরিয়ে দিতে থাকলো… গভীর আশ্লেষে টেনে নিচ্ছে প্রেয়সীর অধরসুধা।প্রথমে আলতো স্পর্শ থাকলেও ধীরে ধীরে জোরালো হলো সে স্পর্শ। প্রিয়া নিজের অজান্তেই সায় দিচ্ছে নিজেও।আকাশ নিজের ওষ্ঠপুটের সাহায্য আকড়ে ধরে আছে মেয়েটার অধরযুগল।দম নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না মেয়েটাকে।তার সাথে তার অবাধ্য হাতে বিচরন।জামার ভেদ করে উন্মুক্ত কোমড়ে আকাশের খসখসে ঠান্ঠা হাতের স্পর্শ ধীরে ধীরে গভীর থেকে গভীর হচ্ছে।তার এমন এহেন বেহায়া স্পর্শে খামচে প্রিয়া ধরলো আকাশের চুল।ঠোঁটের ওপর ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার।আকাশ মৃদু কামড় বসাচ্ছে প্রিয়া ঠোঁটে।আকাশের পাগলামিতে বুকের হৃদপিন্ড টা বেড়িয়ে আসতে চাইছে প্রিয়া।তার ওপর তার উন্মুক্ত শরীরের তার হাতের অবাধ বিচরন।প্রিয়ার মাথা শূন্য হয়ে আসছে আবেশে,মিষ্টি যন্ত্রনায়…মিনিট দশেক পর ঠোঁট ছাড়ে আকাশ।কপালে কপাল ঠেকায় প্রিয়া।পাগলের মতো হাপাচ্ছে দুজন।নিঃশ্বাস একাকার হয়ে যাচ্ছে দুজনের।

আকাশ হেচকা টানে সোজা করলো প্রিয়াকে।প্রিয়ার মুখ রক্তিম হয়ে গেছে।চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে রাখা।ঠোঁটজোড়া ফুলে গেছে।নিচের ঠোটের বা পাশে কেটে রক্ত জমে উঠছে।আকাশ ঢোক গিললো সে ভেজা ঠোঁট জোড়ার দিকে তাকিয়ে।নরম চুমু একে দিলো ঠোটের সে কাটা জায়গাটায়।শুষে নিলো নোনতা রক্তটুকু…প্রিয়া চোখ খুলতে পারছে না।শরীর অবশ হয়ে আসা তার।আকাশ এবার টান দিয়ে সরিয়ে ফেললো প্রিয়ার ওড়না টা।প্রিয়া কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে মুখ গুজলো তার উন্মুক্ত গ্রীবাদেশে।নাক ঘষলো সেখানটায়।প্রিয়া আরও শক্ত করে চেপে ধরলো আকাশের চুল।আকাশ মুখ ডুবিয়ে রাখলো সেখানটায়।প্রিয়ার শরীরের ঘ্রান টেনে নিতে লাগলো গভীর আবেশে।টুকরো টুকরো চুমুতে ভরিয়ে দিলো পুরো কন্ঠদেশ।প্রিয়া এবার গুঙিয়ে উঠলো।সে আবেদনময়ী গোঙা্নির শব্দে আকাশ আরও পাগল হলো বৈকি। মুখ আরেকটু নামিয়ে আনলো বক্ষজোড়ার ভাজের ওপর।এবার আর সামলাতে পারলো না প্রিয়া নিজেকে।চোখে পানি এসে গেলো।
“থামুন আর পারছি না…”
আকাশ থামলো না।কোমড়ের রাখা হাতটা আরেকটু ওপরে তুলে, মুখ আরেকটু নিচে নামাতেই একপ্রকার ফুপিয়ে উঠলো প্রিয়া।আকাশ এবার থমকালো।
আকাশ নিজের কপালের ওপর অনুভব করলো প্রিয়ার চোখের পানির অস্তিত্ব। জোরে জোরে শ্বাস নিলো সে।ঝট করে পাশের সিটে নামিয়ে দিলো প্রিয়া কে।নিচু হয়ে পরে থাকা ওড়না টা আলতো হাতে জড়িয়ে দিলো প্রিয়ার বুকে।প্রিয়া লজ্জায় তাকাতে পারছে না।আকাশ স্থির চোখে দেখলো সে লাজে রাঙা ভয়ে গুটিয়ে যাওয়া হরিণী কে।মৃদু হাসলো।আলতো হাতে জড়িয়ে ধরলো, মিশিয়ে নিলো নিজের সাথে।

চলবে ইনশাআল্লাহ… 🙂🌼

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here