আকাশপ্রিয়া #dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা #পর্ব_৩৩

0
45

#আকাশপ্রিয়া
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
#পর্ব_৩৩

[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য উন্মুক্ত ]

ভোরের আলো এরই মধ্যে ফুটে গেছে।নিস্তব্ধ সৈকত পারের টলটলে পানিতে সেই জলন্ত সূর্যের আভা ছড়িয়ে পরে এক মনোমুগ্ধকর আবহাওয়া তৈরি করেছে।বসন্তের ভোরের শীতল বাতাস নিমিষেই মন শান্ত করে দিতে সক্ষম। আশ্চর্যজনক ভাবে সত্যিই আজকে গোটা সৈকতে এখনো কেউ আসেনি।যতদূর চোখ যায় একদম ফাঁকা।

প্রিয়ার খুশিতে চোখ চিকচিক করছে।এত সুন্দর মূহুর্ত তার জীবনে বোধহয় সে আগে কখনো দেখেনি,এমন অভাবনীয় সকাল সে আশাই করেনি।দু হাত দু দিকে প্রসারিত করে চোখ বন্ধ করে মাথা আকাশপানে হেলিয়ে জোরে শ্বাস নিলো সে।ইশশশ কি যে শান্তি লাগছে।পায়ের জুতোটা খুলে ফেললো।
চিকচিকে ঠান্ডা বালিতে নগ্ন পা ফেলেও প্রশান্তি। প্রিয়া দৌড়াছে দু হাত প্রসারিত করে।মুখ জুড়ে হাসি। আকাশ দাড়িয়ে আছে বুকে আড়াআড়ি হাত ভাজ করে।নিঃশব্দ হাসছে,দেখছে সামান্য এতটুকু প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ এক প্রেয়সী কে।যেনো মুক্ত পাখি, খোলা আকাশে ডানা ঝাপটাচ্ছে…
প্রিয়ার পড়নে সি গ্রিন লেডিস শার্ট আর হোয়াইট স্কার্ট,গলায় জরজেট এর স্কার্ফ পেচানো।বের হওয়ার সময় আকাশকেও অবশ্য সে নিজের পোশাক এর সাথে মিলিয়ে সফেড শার্টই পরিয়েছে।প্রিয়া বাচ্চাদের মতো ছুটছে।পানিতে পা ভেজাচ্ছে,মুগ্ধ নয়নে এদিক ওদিক দেখছে।আকাশ তার দিকে প্রিয়া কে দৌড়ে আসতে দেখলো।দু হাত মুঠো করা।আকাশের সামনে এসে হাপাচ্ছে মেয়েটা।
“হাত পাতুন।”
আকাশ বিনা বাক্যব্যায়ে হাত পেতে দিলো।প্রিয়ার দু হাতের মুঠোভরতি কুড়ানো ঝিনুক।ছোট ছোট হাতের দু হাত ভর্তি ঝিনুক আকাশের পুরুষালি একহাতেই জায়গা করে নিলো।প্রিয়া উচ্ছ্বসিত হাসলো।
“সুন্দর না বলুন?”
এখনও আকাশের দৃষ্টি তার পাখিটার দিকে।ঝিনুকে নজর গেলো না।অনিমেষ তাকিয়ে আছে প্রিয়ার মুখপান।বাচ্চামো ভঙ্গিতে কথাটা জিজ্ঞেস করায় আকাশের ঠোঁটে সুক্ষ্য হাসি ফুটলো।ঘোর লাগা চোখেই জবাব দিলো।
“সে তো সবসময়ই সুন্দর। আমার হৃদয় থমকে দেয়ার মতো সুন্দর। “
আকাশের কন্ঠ স্বরে চমকে তাকালো প্রিয়া।আকাশের কেমন কেমন নজরে লজ্জায় আড়ষ্ট হলো।বুকটা ধরফড়িয়ে উঠলো।মাথা নেড়ে গলার আওয়াজ নিচু করলো,”আমি আপনার হাতে এই ঝিনুকগুলোর কথা বলেছি।”
আকাশ প্রতুত্তরে তাকালোও না নিজের হাতের দিকে।ওভাবেই তাকিয়ে জবাব দিলো,”আমিও আমার ঝিনুকের কথাই বলছি।”
প্রিয়া বুঝলো এ লোকের সাথে কথায় সে পারবে না।
“এগুলো কিন্তু ফেলবেন না বলে দিলাম।”
আকাশ ফেললো না।সুন্দর মতো নিজের প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে ফেললো।প্রিয়া ব্যাস্ত ভাঙ্গিতে নিষেধ করতে গেলো,”আরেহ করছেন কি।ধুইনি তো।বাকি আছে।ময়লা লেগে যাবে তো প্যান্টে।”
“থাকুক।তোমার হাতের ছোঁয়া ময়লাও আমি খুশি মনে গায়ে মাখতে পারি। এগুলো কিছু না।”
প্রিয়া হেসে ফেললো।হঠাৎই নিচু হয়ে দু হাতে মুঠো করে বালি তুললো।আকাশের দিকে বাড়ালো।
“মেখে দেই সাদা শার্টে?দেই?”
“নো…”
“ইয়েস…দিবো।
“শরীর চুলাকাবে।”
“তাহলে আমি ছুটবো।আমাকে ধরে দেখান?”
বলেই প্রিয়া দু পা পিছাতে থাকে…আকাশ সজোরে দুদিকে মাথা নাড়ে।
“ইম্পসিবল। আকাশ এহনাজ চৌধুরী বাচ্চাদের মতো ছোটাছুটি খেলবে।”
“হুম..।”
“নো ওয়ে…
“ইয়েস…
প্রিয়া ছুট লাগায়।আকাশ নিজের অজান্তেই ছোটে সে বাচ্চামোতে সাড়া দিয়ে।সকাল বেলা খোলা আকাশের নিচে গোটা একটা সমুদ্র কে সাক্ষী রেখে প্রতিধ্বনি হতে থাকে দুই মানব মানবির প্রানখোলা হাসির,বাচ্চা প্রেয়সীর ইশারায় নিজের কঠিন খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসা এক উন্মাদ প্রেমিকের সেই পাগলামোতে দেওয়া সায়…ছুটতে হয়না বেশিদূর,আকাশের উড়ন্ত কদমের সাথে পেরে উঠলে তবে তো। বাজ পাখির মতো ধরে ফেলে প্রিয়াকে।এক হাতে জড়িয়ে নেয় তুলতুলে মেদহীন বাকানো কোমড়।ভূমি থেকে তুলে ফেলে শূন্যে,ঘোরাতে থাকে সেভাবেই।উন্মাদের মতো হাসছে প্রিয়া..আকাশের গম্ভীর মুখটাও হাসিতে প্রস্ত্যস্ত আজকে।

_____

সি পার্ল বিচ হোটেল এর পাঁচ তলার একটি বেলকনি থেকে শকুনের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছ কেউ একজন।জনমানবহীন সমুদ্র সৈকতে একজোড়া কপত কপতীর প্রেম উল্লাস এখান থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান। সকাল বেলা ঘুম ভাঙ্গায় রিয়ান সিগারেট হাতে সবেই এসেছিলো বেলকনি তে।ফাঁকা সৈকতে দৌড়াতে থাকা দুজনকে চোখে পরতে খুব একটা সময় তার মোটেও লাগলো না।তবে বেশিকিছুক্ষনের কসরতে চিনতে পারলো তাদের। চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।আকাশ প্রিয়াকে দু হাতে কোমড় ধরে শূন্যে ধরে আছে।প্রিয়া মুক্ত পাখির মতে দু হাত মেলে আছে।এ এক অন্য রকম দৃশ্য। মুগ্ধ হওয়ার মতোই।তবে রিয়ান তার কোনোটাই হতে পারলো না।শক্ত হাতে চেপে ধরলো বেলকনির রেলিং।মাথা রাগে দপদপ করছে।পকেট থেকে ফোন বের করলো।দ্রুত ডায়াল লিস্ট হাতড়ে খুঁজে বের করলো কাঙ্খিত একটি নাম্বার। কুটিল হাসি ছড়িয়ে পরলো মুখে।চট করে ডায়াল করলো।ওপাশের ব্যাক্তিটি যথাপরং বিরক্ত হলো এতো সকাল সকাল কল দেওয়ায়।তবে এপাশ থেকে রিয়ান এর কথায় নিমিষেই শান্ত হলো।দুজনের মুখেই পালা করে হাসি ছড়িয়ে পরলো।

****

চৌধুরী বাড়িতে সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠে সকলে।বাড়ির কর্তারা সকাল সকাল উঠে চা পান করেন,নিউজপেপার নিয়ে বসেন।বাড়ির কর্তৃদেরও বেলা করে ঘুমানোর অভ্যেস নেই মোটে।আকাশের যৌথ পরিবার।তার বাবা, চাচা চার ভাই একসঙ্গেই থাকেন।বলাবাহুল্য দাদা, দাদিও বেচে আছে তাদের এখনো।অয়ন,আকাশ ছাড়াও তাদের বাবা মায়ের আরও একটি কন্যা সন্তানও আছে।আকাশের ছোট বোন আরশি। মেজো চাচা,সেজো চাচা দুজনেরই এক-দুজন করে কন্যা সন্তান।আকাশের ছোট চাচা বিপত্নীক। বিয়ের পরের বছরই স্ত্রী কে হারান সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে।স্ত্রী সন্তান হারানোর পর আর দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাবেননি তিনি।ভাইয়ের সন্তানদের নিয়ে জীবন দিব্যি কেটে যাচ্ছে তার।আকাশের মা আমেনা চৌধুরী বর্তমানে গৃহীনি হলেও এককালে স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন।যথেষ্ট শিক্ষিত এবং মুক্তমনা মহিলা।ছেলে মেয়েদের বন্ধুর মতো। চায়ের ট্রে টা নিয়ে বসার ঘরে এগিয়ে গেলেন।স্বামী,দেবোর দের হাতে এক এক করে চায়ের কাপ তুলে দিলেন।
স্বামীর দিকে তাকালেন,”ছেলেগুলো কে কি বনবাসে দিলে তোমরা?”
আকাশের বাবা শাহজাহান চৌধুরী মুখ তুলে তাকালেন স্ত্রীী দিকে।আমেনার চোখ ছলছল করছিলো।
“তা কেনো হবে।সামনে সপ্তাহে আসবে ওরা।বললো তো।”
আমেনা চৌধুরীর মুখে মোটেও হাসির আভাস দেখতে পাওয়া গেলো না।বরঞ্চ আরও মুখটা মলীন হলে।
স্বামীর দিকে অভিমান নিয়ে করা গলায় বললেন
,”আমাকে মিথ্যে আশ্বাস দেবে না।গত কয়েকমাস হলো একই কথা বলছেন আপনারা।আমার দুটো ছেলেকেই কাজের চাপে পিষে ফেলছেন।”

“তেমন নয়।ওদের দু ভাইকেই আসতে বলেছিলাম আমি।ওরাই..

আমেনা চৌধুরী স্বামীর কথা শেষ হতে দেয়না।প্রতিবাদ করে বসে।,” তাহলে বুঝুন আমার বাচ্চা ছেলেদুটোকে কি পরিমাণ কাজের চাপ দিয়ে রেখেছেন।পাঁচ মাস হলো বাড়িই আসতে পারেনা।”

কর্তারা আমেনা চৌধুরীর এমন বাচ্চামো কথায় হো হো করে হেসে ফেললেন।অভিমান আরও গভীর হলো তার।শাড়ির আচলে ভেজা চোখজোড়া মুছলেন।
“আমি আমার ছেলেদের বিয়ে করাবো।ওদের বাড়ি আসতে বলুন।আর আপনাদের কাজ আপনারা সামলাবেন।ওদের বাড়ি থেকে যদি অফিস করতে দেন তো করবে না হলে দরকারই নেই।আমি আর ওদের দূরে রাখবনা।”

“বেশ তোমার ছেলেদের আমি আজই বলবো।ওরা না আসলে কিন্তু আমার দোষ নেই।আর রইলো বাকি বিয়ে!সেটাও তারা এখন রাজি হবে কি না দেখো।আমার তো সমস্যা নেই শশুর হতে।”

আমেনা চৌধুরী মূহুর্তের বসে পরলেন স্বামীর পাশে।
“বলছি যে আমার বড় ভাই বলছিলো অপুর কথা…
শাহজাহান চৌধুরী মাথা নাড়লেন।চায়ের কাপে চুমুক দিলেন।

“সে তো বলছে।কিন্তু তোমার বড় ছেলের বিয়ে না দিয়ে ছোট টার কথা… সে কি রাজি হবে?তার ও তো পছন্দ অপছন্দ থাকতে পারে।”

আমেনার মুখ টা গম্ভীর হলো।সত্যিই তো।তার ভাইয়ের মেয়ের সাথে আকাশের বিয়ের কথা বলে।তবে অয়ন কে আগে বিয়ে না করিয়ে…মুখ আরও মলিন হয় তার।অয়ন টা তো বিয়ের কথা শুনলেই রেগে যায়।তাকে রাজি করাবে কি করে…

______

বেশ বেলা হয়েছে।রোদ গাঢ়ো হয়েছে। তবে উত্তাপ তেমন নেই।দমকা বাতাসে সে উত্তাপ গায়ে লাগছে না।বরং শীতের সকালের মিষ্টি রোদের মতোই লাগছে।সৈকত জুড়ে এখন টুকটাক দু একজন সৌখিন সকালপ্রেমি মানুষ দের আনাগোনা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।যদিও তা হাতে গোনা কয়েকজন।বালির মধ্যে পাশাপাশি বসে আছে আকাশ প্রিয়া।প্রিয়া বালিতে আঙুলের সাহায্য নিজেদের নাম খোদাই করতে ব্যাস্ত।সুন্দর করে লিখলো আকাশপ্রিয়া।।বড্ড ছেলেমানুষী কাজ।আকাশের তাও ভালো লাগছে দেখতে।ঝিনুক দিয়ে সাজালো সে নামের আশেপাশে। সত্যিই সুন্দর লাগছে খুব…

প্রিয়া একগাল হাসলো সেদিকে তাকিয়ে।পাশ ফিরে তাকালো আকাশের দিকে।লোকটা বরাবরের মতো ঘোরলাগা দৃষ্টি স্থির করে রেখেছে তার দিকে।এ দৃষ্টিতে প্রিয়ার বুকের ভিতরে কিছু একটা হয়।মানুষ টা একদম বুঝতে পারে না।প্রিয়া দ্রুত নজর সরিয়ে নেয়।ওই সুদর্শন পুরুষের এলোমেলো চুলগুলো যখন কপালে আছড়ে পরে কি যে সুন্দর লাগে।তার হাতের ভিতর একপ্রকার নিশপিস করে সে চুলগুলো আলতো হাতে কপাল থেকে সরিয়ে দিতে,আবার নিজের হাতেই সেটা এলোমেলো করে দিতে।কিন্তু ভাড়ি লজ্জা লাগে তার।মাঝেমধ্যে কি একটা হয়,লজ্জার মাথা খেয়ে উল্টাপাল্টা করে বসে,কিন্তু সে তো নারী।সবসময় সে সাহসে কুলায় নাকি তার!তার ভিতরটাও তো কেপে ওঠে,নারীত্ব জেগে ওঠে।
প্রিয়ার রক্তিম মুখ আড়াল করতে মাথা এলিয়ে দেয় আকাশের ডান কাধে।আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে জিম করা শক্তপোক্ত ফোলা বাহু…মুখ লুকাতে চায়।ফিসফিস কন্ঠে বলে,”ওভাবে তাকাবেন না প্লিজ।আমি সহ্য করতে পারিনা।”
আকাশ ফিচেল হাসে।”খারাপ লাগে? “
প্রিয়া সজোরে মাথা নাড়ে দুদিকে।মুখ ঘষে পেশিবহুল বাহুতে।
“উহু…”
“তবে?”
“বুকটা ধুকপুক করে।”
“কতটা?”
“অনেকটা।”
“আমি তো জানতাম তুমি অনেক সাহসী। হার্ট এতো দূর্বল কেনো তাহলে!”
“কে বললো সাহসী। “

আকাশ বাঁকা হাসে।মুখ নামায় প্রিয়ার কানের কাছে।কানের নরম লতিতে আকাশের তপ্ত নিঃশ্বাস অনুভব করতেই কেঁপে ওঠে মেয়েটা।আকাশ হাস্কিস্বরে বলে,”তাহলে মাঝেমধ্যেই যে আমার থেকেও বেশি সাহস জাগে তোমার মধ্যে। আমাকে পাগল বানাতে কোলে..…

বাকিকতা শেষ করার আগেই চেপে ধরলো আকাশের মুখ।
“ইশশশ লজ্জা দিচ্ছেন কেনো।চুপ…একদম চুপ…”

আকাশের হাসি পায়।লজ্জারুণ মুখটা পরখ করতে চায়।তবে প্রিয়া মুখ গুজে আছে তার বাহুতে।
“একটু মুখটা দেখতে দিন ম্যাডাম।লজ্জা পেলে চলে এতো?কালকের পর তো লজ্জা কাটা উচিত ছিলো।”

“আপনি আসলেই নির্লজ্জ, অসভ্য একটা পুরুষ।কথা কম বলতে পারেন না?”

আকাশ শব্দ করে হাসতে চায়।তবে হাসে না।হাসিটুকু আড়াল করে একই হাস্কিস্বরে বলে,”এখনো তো এক অংশও দেখোনি আমার নির্লজ্জতা।এগুলো তো জাস্ট ট্রেইলার। হলিউড মুভি তো একসাথে ক্রিয়েট করবো।ফিফটি সেডস্ অফ গ্রে এর নিউ আর ডার্ক ভার্সন…”

লজ্জায় মুখ অস্বাভাবিক লাল হয়ে গেছে প্রিয়ার।কান দিয়ে গরম ধোঁয়া উঠছে।গাল দুটো পাকা টমেটো লাগছে।নাকের ডগাও তাই..আচমকা কামড়ে ধরলো আকাশের বাহুতে।আকাশ চোখমুখ খিঁচে নিলো।তবে বাধা দিলো না,আর না তো কোনো শব্দ করলো।সফেদ শার্টটা ফোটা ফোটা লাল দাগ দেখতে পাওয়া গেলো।প্রিয়া চমকে উঠলো।আকাশ ঘার কাত করে দেখলো।মুখটা অসহায় বানিয়ে নিলো।কপট অভিনয়ের বুলি ছুড়লো,”পাবলিক জায়গায়তেই এতো কামড়াকামড়ি। পারসোনাল স্পেস পেলে আর কোথায় কোথায় কত ভাবে যে কামড়ে ধরবে তুমি।খোদা সহায় হও আমার.।”.

নিজের করা কর্মকাণ্ডে অনুতপ্ত হচ্ছিলো প্রিয়া।আকাশের এহেন ঠোটকাটা কথায় নিমিষেই মায়া দয়া চলে গেলো।মুখ ভেঙালো মুখ লুকিয়ে।কার জন্য আফসোস করছে,এক নাম্বার এর নির্লজ্জ একটা লোক।গিরগিটি একটা।সবার সমানে সেজে থাকে রাম গরুরের ছানা,হাসতে তাদের মানা..আর এদিকে তার কাছে সুযোগ পেলেই…
লোকটার অনূভুতি তার সামনে প্রকাশের এক বেলার মধ্যেই সে এই পাঁচ মাসে তাদের মধ্যে হওয়া সব ঘটনার দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে ফেলে এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে লোকটার এক ফোঁটা লজ্জা নেই,সবার সামনে ভালোমানুষ, সো কলড মুডি বস হওয়ার নাটক করলেও তলে তলে টেম্পু না হেলিকপ্টার চালায় এ লোক…

মুখ লুকিয়ে হাত জড়িয়ে বসে রইলো দুজন।খোলা আকাশের নিচে ভালোবাসার মানুষ টাকে জড়িয়ে নিশ্চুপ বসে থাকার একটা আলদা শান্তি হয় বোধহয়।
“আপনার আকাশ ভালো লাগে?”
“হুম..মোটামুটি। “
“আমার কিন্তু আকাশ খুব পছন্দ। খুবই।আকাশ,বৃষ্টি, সাথে শাড়ি।এই তিনটা জিনিসে আমার এতো শান্তি মেলে…”

প্রিয়ার কথায় আকাশের চোখের সমানে ভেসে ওঠে প্রথম যেদিন প্রিয়াকে দেখেছিলো সে।সেদিন ও বৃষ্টি ছিলো আর প্রিয়া একটা আকাশী কালার শাড়ি পরা ছিলো।বুকটা ধকধক করে উঠলো সে কথা মনে পরতেই।মুখে অবশ্য কিচ্ছু বললো না।নিরবে শুনতে লাগলো প্রেয়সীর কথা।
“জানেন আমি ঘন্টার পর ঘন্টা আকাশের দিকে তাকিয়ে কাটাতে পারি।জানিনা। শুনতে অবাক লাগবে।কিন্তু কি যে ভালোলাগে…”

“ওই আকাশ নাকি যাকে জাপটে ধরে আছেন সেই আকাশ…”

প্রিয়া মিষ্টি করে হাসে।হাতের বাঁধন আরও দৃঢ় করে।
“দুটোই।”

_____

দুজনে যখন হোটেলে ফিরলো তখন প্রায় পোনে নয়টা বাজে।বিচ এ এখন বেশ ভিড় হওয়া শুরু হয়েছে।আগেই শিয়া কে আকাশ জানিয়ে দিয়েছে প্রিয়া তার সাথেই আছে,চিন্তার কোনো কারণ নেই।বিধায় তাদের খোঁজ করা হচ্ছে না।ব্রেকফাস্ট সাইটে আসতেই চোখে পরলো সবাই প্রায় একসাথেই বসেছে।আকাশ প্রিয়াকে নিয়ে এগিয়ে গেলো সেদিকে।রিয়ান চোখমুখ শক্ত করে তাকিয়ে রইলো।টেবিলের নিচে রাখা নিজের হাতটা মুঠো হয়ে গেছে।সবাই মিটিমিটি হাসছে।প্রিয়া লজ্জা পেলো খানিকটা।চেয়ার টেনে প্রিয়াকে বসতে দিয়ে পাশের চেয়সরেই বসলো আকাশ।গম্ভীর মুখে সবাইকে ধমক দিতে চাইলো।
“এভাবে হাসার কি আছে?”

টেবিল এ এবার হাসির শব্দ আর নিশ্চুপ রইলো না।সকলেই শব্দ করে হেসে ফেললো।বরাবরের মতোই রাতুল মুখ খুললো সবার আগে,”আমে দুধে মিশে গেছে?”

প্রিয়া লজ্জায় আড়ষ্ট হলো শূন্য প্লেটে আঙুল বোলাচ্ছে।আকাশ কপাল কুচকালো।হাত বাড়িয়ে পরোটা তুলে দিলো প্রিয়ার প্লেটে।
“উল্টাপাল্টা বকবি না।”

সবাই হো হো করে উঠলো।ট্যিসু ছুড়ে মারলো রাকা আকাশের দিকে।
“আমরা কিছু দেখিনি ভেবেছিস হ্যা?কোলে করে যে আকাশে উড়ে যেতে চাচ্ছিলি কি ভেবেছিস আমর জানবো না?”

রাতুল সাথে সাথে হাতের ফোনে একটা ভিডিও চালু করে দিলো।প্রিয়ার দু ঠোট বিষ্ময়ে ফাকা হয়ে গেলো।লজ্জায় গালদুটো রক্তিম হয়ে এলে।দু হাতে মুখ চেপে মাথা নোয়ালো।আকাশ স্বাভাবিক ভাবে দেখলো সে ভিডিও।আজ সকালে তার আর প্রিয়ার মূহুর্ত গুলো সম্পূর্ণ ভিডিও করা,বেশ কয়েকটি ক্যাপচার ফটোও আছে।একদম স্পষ্ট। বন্ধুরা যে সবটাই দেখেছে আর শয়তানি করতে সব প্রমান ও রেখে দিয়েছে তার বেশ বুঝতে পারলো সে।নিজের প্লেটে ফ্রুট এগিয়ে নিলে।
উদাস গলায় বললো,”ভুল দেখেছিস।এরা অন্য কেউ।”

রাতুল লাফিয়ে উঠলো।কাঁটাচামচ শক্ত করে হাতে ধরা।যেনো।আক্রমণ করবে।কপট রাগ দেখালো সে।চেঁচিয়ে উঠলো একপ্রকার।
“শালা আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স।আসার তিনদিন আগে কিনেছি।আমার ফোনের ক্যামেরা রে সন্দেহ করস!মানবো না আমি।কত দিয়ো কিনছি জানোস।”

আকাশ হেসে ফেললো রাতুল এর বলার ভঙ্গিতে।শুধু আকাশ নয় উপস্থিত সকলেই অট্টহাসিতে ফেটে পরলো।এই সবের মধ্যে হাসির আভা নেই একটি মানুষ এর মুখে।রিয়ান রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে।নিজেকে সামলানো কষ্টকর হয়ে পরছে তার।ঝট করে উঠে দাড়ালো।এমন সিরিয়াস ভঙ্গিতে তার উঠে দাড়ানোতে থমকে গেলো সবাই।
“আমি রুমে যাচ্ছি।”

কারোর কিছু বলার সুযোগ দিলো না সে।গটগট পায়ে চলে গেলো সেখান থেকে।সবার চোখেমুখে বিষ্ময়ের ছোয়া খানিকটা।রাতুল কেবল অবাক হলো না।চোখমুখ জ্বালা করছে তার,সামনে বড়সড় ঝামেলার আভাস পাচ্ছে। অসহায় ও লাগছে তার নিজেকে।তাকালো আকাশ আর প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া নববধূর মতো লজ্জায় রাঙা হয়ে গেছে।আকাশ ঠোঁট টিপে নিঃশব্দ হেসে খাবার মুখে তুলছে।মাঝেমধ্যেই এটা ওটা তুলে দিচ্ছে প্রিয়ার পাতে।কি সুন্দর দৃশ্য। এটা সে কি করে নষ্ট হতে দেয়।দেবে না।একদম দেবেনা।
____

“হ্যা রে আকাশ।কাহিনি কখন থেকে শুরু সেটা বল।”
তুষির কথায় আকাশ মুখ তুললো না।বরং বাকিসবাই অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে আকাশের জবাব শোনার।অয়ন ভাইয়ের কাঁধে হাত রাখলো।
“আমিও জানলাম না?”
আকাশ হাসলো এবার।সবার মুখ পরখ করলো।প্রিয়া মাথা ঝুকিয়েই আছে।
“তেমন কিছু না।কি জানাবো।”
“এটা তেমন কিছু না?আমাদের বলদ মনে হয়।সত্যি বল?সেই শুরু থেকে জানি আমি সব।আর এখন আমাকেও বললি না।”
রাতুলের দিকে তাকালো আকাশ।”বলার সুযোগ পেলাম কই।এতো ঘটা করে বলার মতো তো কিছু ঘটাইনি।বলতাম।”
“তারমানে কাল রাতেএএএএএ…

আবার আর একদফা হৈ চৈ,টেবিলে হাত ঠুকতে দেখা গেলো সবার।আকাশ আড়চোখে তাকালো প্রিয়ার দিকে।মৃদু হাসলো।মুখে বললো না কিছু।মাথা নাড়লো খানিকটা।

“আরে ব্যাটা,জানতাম।আগুন আর ঘি পাশাপাশি থাকে কিসের সঠিক সময়।”

“শাট আপ রাতুল।”

“আমাদের দেখে একটু কথা রয়ে সয়ে বল তোরা।যতই হোক।আমরা ওদের বড় ভাই বোন।লজ্জা পাচ্ছে তো আমার বোনটা।”
এমন সময় বোনের মজা করাটাও পছন্দ হলো না প্রিয়ার।এটা মজা নেওয়ার সময়।কোথায় তাকে একটু লজ্জার হাত থেকে বাচাবে।তা নয়।আরও নিজেও তাদের সাথে তাল মেলাচ্ছে।

______

ব্রেকফাস্ট পর্ব শেষ করে ধীরে সুস্থ যার যার রুমে এসেছে সবাই। কিছুক্ষণ পরেই বাইরে বের হওয়ার প্ল্যান।এখানে অবশ্য অন্য স্টাফটা নিজেদের পরিবার নিয়ে,আলাদা আলদাই ঘুরবে।আকাশরা অবশ্য একসাথে বের হবে সবাই।তাদের অফিস স্টাফদের অনেকে ঘুরতে চলেও গেছে।আজকে সারাদিন কক্সবাজারের এখানে কাটিয়ে কালকে আবার তারা বান্দরবান এর দিকে যাবে।আজকে দ্রুত এদিকটা ঘুরে দেখবে তাই।
বরাবরের মতোই সবথেকে উচ্ছাসিত প্রিয়া।সে মূহুর্তের মধ্যে তৈরি হয়ে এখন টো টো করে ঘুরঘুর করছে বোনের পিছন পিছন।শিয়া রয়ে সয়ে তৈরি হচ্ছে। তারা বের হবে আরও একটু পরে।এতো তাড়াহুড়ো করার মানেই হয় না।প্রিয়া কে অবশ্য সে কথা বোঝানোর সাধ্যি নেই কারোর।প্রিয়া ব্যাস্ত হাতে আকাশকে মেসেজ করে যাচ্ছে।দ্রুত বের হতে।যদিও রিপ্লাই আসছে না।সে মহা বিরক্ত হচ্ছে। একবার আকাশের ঘরের দিকে পা বাড়াতেই সকালের ঘটনা গুলো চোখে ভাসতেই লজ্জায় সিটিয়ে আর সে রুমের দিকে যাওয়ার কথা ভাবে নি।শিয়া ড্রেসিং টেবিলে মেক-আপ এর টাচ আপ দিচ্ছে।প্রিয়া বিরক্ত মুখে তাকিয়ে আছে।
“আপু তুই এতো লেট করবি আগে বুঝলে সকালে উঠেই তোকে রেডি হতে বলতাম।”
“আমি লেট করিনি।তুই বেশি ফার্স্ট। “
“মোটেই না।দ্রুত কর তো।”

শিয়া বোনের পাগলামি তে পাত্তা দিলো না।প্রিয়া হাত বাড়িয়ে নিজের সানগ্লাস আর হ্যান্ড ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে এলো।করিডর জুড়ে পায়চারি করছে সে।আজ একটা লং আনারকলি পরেছে।হোয়াইট কালার।গলায় ওড়না টা ঝোলানো।চুলগুলো আপাতত উচু করে ক্লেচার দিয়ে বাধা।বেড়িয়ে পরে খুলে দেবে আরকি।
পায়চারির মধ্যেই দরজা খোলার শব্দ পাওয়া গেলো।রিয়ান বেড়িয়েছে।তাকে দেখেই হাসি ফুটলো প্রিয়ার মুখে।যাক অন্তত একজন তো বের হলো।
দ্রুত এগিয়ে গেলো তার দিকে।রিয়ান মৃদু হাসলো।সামনে আসা মেয়েটাকে এ দুনিয়ার নারী বলে মনে হলো না।সাদা পোশাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে।পাতলা ঠোটে গাঢ়ো খয়েরি লিপস্টিক, চোখে কাজল,কপালে ছোট্ট একটা টিপ।চুলগুলো উঁচু করে বাধা।চোখ সরানো দায়।
“ভাইয়া আপনি অ্যসটলিস্ট বেরোলেন।সবাই এতো লেট।কি বলবো।”
রিয়ান হাসলো।”এসো।”
প্রিয়া সমান তালে রিয়ান এর সাথে এগিয়ে গেলো।গিয়ে দাড়ালো ফাঁকা করিডরে।রিয়ান বারবার আড়চোখে দেখছে তার পাশে থাকা পরীর মতো মেয়েটাকে।
“ভাইয়া আজ রাতে পার্টি হবে?”
“হুম রাকিব বললো তো।”
“হোটেলেই?”
“হ্যা।নিচে ওইযে সুইমিংপুল দেখছো।ওখানে। “
প্রিয়ার চোখদুটো জ্বলজ্বল করে উঠলো।জায়গা টা খুব সুন্দর। খোলা আকাশের নিচে রাতে সাজালে খুব সুন্দর লাগবে।
“প্রিয়া?”
“জ্বী ভাইয়া।”
“তোমার সাথে এমন কখনো হয়েছে। মনে করো তুমি একটা জিনিস খুব পছন্দ করো।জিনিসটা একটা সময় তুমি পেলেও।পরে দেখলে জিনিসটা আরও আগে থেকেই অন্য কারোর ছিলো।কি করবে তখন।”
প্রিয়া বোকার মতো তাকালো রিয়ান এর দিকে।খানিক সময় ভাবলো কিছু একটা আনমনে।ভাবুক গলাতেই বললো,”ফেরত দিয়ে দিবো।”
“কেনো?”
“এ বাবা। জিনিস টা তো তার।আমার আগে তার অধিকার। সামান্য মিস-আন্ডাসস্ট্যান্ডিং এ আমার কাছে।তার জিনিস তাকে দিতে হবে না?”
রিয়ান বাঁকা হাসলো।”মন খারাপ হবে না?”
প্রিয়া দুদিকে সমানতালে মাথা নাড়লো।”আমি কি বাচ্চা! মন খারাপ হয়তো হবে সামান্য কিন্তু সেটা জোর করে রেখে অন্য কে কষ্ট দেয়ার মানে হয়?”
রিয়ান সামনের দিকে তাকিয়ে রইলো।মুখজুড়ে হাসি বিরাজ করছে।
“বাস্তবে তেমন কিন্তু কঠিন জানো তো?”
“তা তো হবেই।”
“তাও দিয়ে দেবে!”
“অবশ্যই।”
“তুমি খুব সুন্দর প্রিয়া।”
হঠাৎ রিয়ান এ কথায় থমকে গেলো প্রিয়া।চট করে তাকালো। রিয়ান তার দিকেই তাকিয়ে।নজর টা কেমন একটা অন্যরকম।কেমন একটা অস্বস্তি তে ছেয়ে গেলো পুরো শরীর।ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো পিছনে। কেউ এখনো বের হয় নি।
“সত্যি বলছি।খুব সুন্দর। “
প্রিয়া হাসার চেষ্টা করলো।নরম গলায় বললো,”থ্যাংক ইউ ভাইয়া।”
রিয়ান খানিকটা ঘেষে দাড়ালো।প্রিয়া সরতে পারলো না খুব একটা।পাশেই রেলিং এ আটকা পরলো।আড়ষ্ট হয়ে সামনে তাকিয়ে রইলো।
“তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম কবে জানো?”
প্রিয়া মুখে বললো না কিছু।দুদিকে মাথা নাড়লো।
“আমরা যেদিন প্রথম চট্টগ্রাম এ আসি।পরের দিন আরকি।সবাই জিপ নিয়ে বের হয়েছিলাম।রাস্তায় তুমি যাচ্ছিলে।সাথে তোমার কোনো ফ্রেন্ড ছিলো হয়তো বা।সেদিনই চোখ আটকে গেছিলো।”
প্রিয়ার অস্বস্তি এবার আরও বাড়লো কেনো যেনো।সে নিজেও বুঝলো না।রিয়ান কথাগুলো স্বাভাবিক ভাবেই বলছিলো তবে কথার টোনে কিছু একটা ছিলো বোধহয়। নারীদের সিক্সথ সেন্স সেটা ধরতে পারছে।সরে যেতে চাইলেও পারছেনা।বেয়াদবি দেখাবে কি।হঠাৎ দরজার শব্দ পাওয়া গেলো আবার।প্রিয়া ফট করে ঘুরলো সেদিকে।রাতুল বেড়িয়েছে।রাতুল কে দেখে কেমন একটা হাফ ছাড়লো সে।কথা বলার ভঙ্গিতে দ্রুত এগিয়ে গেলো।রাতুলের দু চোখের মাঝে ভাজ পরেছে বেশ খানিকটা।দৃষ্টি রিয়ান এর দিয়ে।রিয়ান রেলিং এ হেলান দিয়ে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।প্রিয়া কাছে আসতেই একগাল হাসলো রাতুল।
“তোমার সিনিয়র বয়ফ্রেন্ড বের হয়নি নিশ্চয়ই। “

প্রিয়া লজ্জা পেলো বয়ফ্রেন্ড শব্টা শুনে।রাতুল বুঝে শব্দ করে হাসলো।রিয়ান এর দিকে তপ্ত দৃষ্টি প্রয়োগ করে প্রিয়ার হাত ধরে এগিয়ে গেলো অন্য দিকে।দু কদম এগিয়ে গিয়ে জোরে জোরে কড়া নাড়লো আকাশের দরজায়।সময় নিয়ে খুলে গেলো দরজা।
আকাশ একদম তৈরি হয়েই বেরিয়েছে।নতুন চকচকে শাদা শার্ট।কালো প্যান্ট,চুলগুলো সুন্দর মতো স্যাট করা পিছন দিকে।হাতে দামী রোলেক্সের ঘড়ি।কড়া পারফিউম এর স্মেল আসছে।কোনোটাই চোখ এড়ালো না প্রিয়ার।

রাতুল এবার এগিয়ে গেলো রিয়ান এর দিকে।রিয়ান ওদের দিকে ষ্থির নজর দিয়ে ঠায় সেখানেই দাড়িয়ে আছে।রাতুল কে কাছে যেতে দেখেও সে নজর সরালো না।
“তোকে বলেছিলাম প্রিয়ার থেকে দূরে থাকবি।”
রিয়ান এর মধ্যে ভাবাবেগ হলো না।পকেট থেকে সিগারেট বের করলো।ঠোঁটে ধরলো।
“তুই তো হাত ধরলি ওর।তোকে তো নিষেধ করার কিছু দেখলাম না আমি।”
“আমি ওকে বোনের নজরে দেখি।বোন ও আমার।তুই ও তাই দেখ।”
রিয়ান শব্দ করে হাসলো।”তোকে বলেছিলাম সেদিন আমি।সম্ভব নয়।ওকে আমার চাই।”

রাতুল তেড়ে গেলে খানিকটা।”পাগলামি করে সম্পর্ক গুলো নষ্ট করতে নিষেধ করেছি।আমি জানি কথাটা এ পর্যন্তি যেনো থাকে।ওয়ার্ন করছি।”

রিয়ান এবারও ভাবলেশহীন।তবে চোখদুটো দৃঢ় হলো।তাকালো আকাশ আর প্রিয়ার দিকে।আকাশের দরজার সমানে দাড়ানো দুজন।বাকিদের বের হওয়ার অপেক্ষায়।আকাশের নজর ফোনে,আর প্রিয়া অনর্গল বকবক করে যাচ্ছে।রাতুল রিয়ানের দৃষ্টি অনুসরন করে তাকালো।
“সরি রাতুল।মেয়ে টাকে আমার চাই।”
“ ও কোনো পন্য না।যে টানাটানি করবি।আকাশ জানলে চোখ উপড়ে ফেলবে।তুই যে ওর বেস্ট ফ্রেন্ড সেটা মানবে না।”
“কে বললো টানাটানি করবো।যা হওয়ার একাই হবে।আর রইলো বাকি আকাশের ভয়!”
হাসলো রিয়ান।গা জ্বালানো হাসি লাগলো সেটা রাতুল এর কাছে।
“ওউ কিচ্ছু করতে পারবে না।ওর একার মাথায় সব বুদ্ধি নাকি! “

“রিয়ান…আকাশ যখন জানবে তুই এমন করছিস। ওর ভালোবাসার দিকে হাত বাড়াচ্ছিস…আমাদের এতদিনের সব ফ্রেন্ডশিপ মূহুর্তে নষ্ট হবে।”

“হোক..ফ্রেন্ডশিপ সারাজীবন এমনিও থাকবে না।থাকবে?আজ বাদে কাল সবার বিয়ে হবে।কতটুকু সময় দিবি?ভালোবাসা হারালে সেটা পাওয়া যায়না।আমি প্রিয়াকে…

রাতুল কলার চেপে ধরলো রিয়ান এর।
“লাগাম টান মুখের।তুই এমন করবি এটা কল্পনায় ছিলো না।স্টে এওওয়ে ফ্রম দেম।না হলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।”

রাতুল গটগট করে হেটে চলে এলো আকাশ দের কাছে।প্রিয়া তখনও বকবক করেই যাচ্ছে।বাইরে গিয়ে কি কি করবে,কি কি কিনবে।রাতুলের কেমন একটা অশান্তি লাগছে মনের মধ্যে। কানে বাজছে রিয়ান এর কথাগুলো।ঝামেলা তো একটা ছেলেটা করবেই।বড়সড় কিছু।

চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼❤️

গ্রুপ লিংক
https://facebook.com/groups/2152812742132126/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here