#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_৩৪ (১)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ_দুআ
🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য উন্মুক্ত।
সমুদ্র আর আকাশের মিলনে গড়ে ওঠা এক বিস্ময়কর সৌন্দর্যের নাম কক্সবাজার।পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকতটি যেন দিগন্তজোড়া বিস্তৃত এক শান্তির রাজ্য। যতদূর চোখ যায়, শুধু সোনালি বালির রেখা আর তার পাশে অবিরাম ছুটে আসা সমুদ্রের ঢেউ। দূরে কোথাও গিয়ে আকাশ আর জল এমনভাবে মিশে গেছে যে বোঝার উপায় নেই কোনটা কোথায় শেষ হয়েছে।
সূর্য যখন ধীরে ধীরে দিগন্তের নিচ থেকে উঠে আসে, আর তার সোনালি আলো সমুদ্রের জলে পড়ে রুপালি ঝলক তৈরি করে। বাতাসে ভেসে আসে সমুদ্রের লবণাক্ত গন্ধ, সেই বাতাস চুল এলোমেলো করে দেয়, পোশাকের কিনারা উড়িয়ে দেয়। ঢেউগুলো দূর থেকে ছুটে এসে তীরে আছড়ে পড়ে আবার ধীরে ধীরে ফিরে যায়,একটা অন্তহীন ছন্দের মতো।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায় হওয়ার পথে।সূর্য ঘটা করে ডুব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যেনো।সবাই সেই সূর্যাস্ত দেখার অপেক্ষায় বসে আছে।একটু পর হোটেলে ফেরা হবে।রাতে ছোটখাটো পার্টির আয়োজন করেছে রাকিব,রেদেয়ান রা…
সারাদিন ঘোরাঘুরি শেষে সবাই যখন হোটেলে ফিরলো তখন ঘড়ির কাটায় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা।আজ প্রায় সারা রাত চলবে পার্টি।লেট নাইট পার্টি যাকে বলা হয় আরকি।প্রায় সবাই যার যার রুমে এসে ছোটখাটো ন্যাপ নিয়ে নিচ্ছে।রাকিব বারবার বলে দিয়েছে রাতে পার্টির সময় ক্লান্তি চলবে না।শিয়া সেই মোতাবেক রুমে এসে ঘুমোচ্ছে।বাকিরাও নিজেদের রুমে বোধহয় তাই করছে।তবে অবশ্যই সেসবের ব্যাতিক্রম প্রিয়া।সারাদিন এতো ঘোরাঘুরি, দৌড়ঝাপ কোনোকিছুই তার মধ্যে ক্লান্তির ভাব তৈরি করতে পারেনি।সন্ধ্যার পার্টি নিয়ে তার উচ্ছাস তুঙ্গে।কি জামা পরবে,কিভাবে সাজগোছ করবে সেটা নিয়ে পরিকল্পনার শেষ নেই।শিয়া বলেছে শাড়ি পরবে,রাকা আর তুষিও তাই।তাহলে হয়তো বাকি মেয়েরাও তাই পরবে।লাগেজ টেনেহিঁচড়ে বের করলো সে।নিয়ে আসা সমস্ত শাড়ি একেএকে মেললো মেঝেতে।
____
আলো ঝলমল চারিপাশ।হোটেলের ফ্রন্ট সাইটের সুইমিং পুুল এড়িয়ায় অ্যারেন্জ করা হয়েছে পার্টির।ফেইরি লাইটের রঙবেরঙের আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে উঠছে একদম।আপাতত মৃদু আওয়াজে গান বাজানো হচ্ছে। মানুষজন এখনো সবাই এসে পৌছায়নি।রাকিব,রেদোয়ান ব্যাস্ত হাতে দেখছে সবটা।
মেয়েরা সবাই বোধহয় সাজগোজ এ ব্যাস্ত।প্রিয়া বেছে বেছে ডার্ক রেড কালার একটা শাড়ি চুজ করেছে,শিয়া অবশ্য পরবে ন্যুড পিংক..দুজনেরই সাজগোছ প্রায় শেষের দিকে।বের হবে একটু পরে।
ভাইয়ের মেসেজ পেয়ে অয়ন এসেছে আকাশের রুমে।একেবারে তৈরি হয়েই এসেছে।তার গায়ে অফ হোয়াইট শার্ট।আজ সব কাপলকে নাকি ম্যাচ করে জামাকাপড় পরতে হবে।আকাশ ব্ল্যাক কালার শার্ট গায়ে জড়িয়েছে,হাতে ঘড়ি পরে আয়নার সমানে চুল স্যাট করে নিচ্ছে।
“মা কল করেছিলো নিশ্চয়। “
ভাইয়ের কথায় আকাশ মাথা নাড়ে।, “,তুমি ধরোনি কেনো?”
অয়ন আয়েশ করে বসে বিছানার ওপর।দু হাত পিছনের দিকে বিছানায় ভর দিয়ে।
“শাওয়ার নিচ্ছিলাম।পরে কল করতে বিজি পেলাম।ভাবলাম তোর সাথে কথা বলছিলো।”
আকাশ বিছানা থেকে ফোন তুলে কল করলো মাকে।প্রায় সাথে সাথেই রিসিভ হলে।আমেনা চৌধুরী ছেলের ফোনের আশাতেই বসে ছিলেন হয়তো।
“মা নাও তোমার বড় ছেলে।”
অয়ন ফোন হাতে নিলো।কান থেকে একটু দূরেই ধরলো। কারণ এখন কি হবে তার বেশ ভালো জানা।হলোও তাই,আমেনা চৌধুরী চেচিয়ে উঠলেন একপ্রকার।
“,তোদের কি মায়ের কথা মনে পরে না।?হ্যারে বড় আব্বা।”
আকাশ হাসলো ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে।
“পরে মা।পরবেনা কেনো।”
“,আমার কল ধরতে সমস্যা কি তাহলে তোদের দুই ভাইয়ের”
“,মা বাথরুমে এ ছিলাম।”
“,মিথ্যা বলবি না।তোরা সবকটা মিথ্যাবাদি।আমাকে মিথ্যা বলার ওপর থাকিস সারাক্ষণ ।”
“,আবার কি মিথ্যা বললাম?”
“,সামনে সপ্তাহে বাড়ি আসবি ব্যাস।”
“মা..।”
“,আমি কিছু শুনতে চাচ্ছি না।দুজন ভদ্র ছেলের মতো বাড়ি আসবি।”
অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে এবার সত্যি বাড়িতে যাওয়া দরকার।না হলে মা টা তার শোকে দুঃখে ঘরছাড়া হবে।
“,আসবো।”
মায়ের সাথে কথা বলে দু ভাই বের হলো।নিচে আসতেই চোখে পরলো সবাইকে।প্রায় সবাই চলে এসেছে। অয়ন মৃদু হেসে এগিয়ে গেলো শিয়ার দিকে।হাতে অরেঞ্জ জুস নিয়ে পুল সাইটে একা দাড়িয়ে আছে শিয়া।রাকা,তুষি এখনো তৈরি হয়ে এসে পৌছায়নি।
আকাশ ছটফটে নজরে খুজলো কাঙ্খিত মানুষ টাকে।চোখে পরলো না আশেপাশে কোথাও।আজকেও নিশ্চয় সাজগোছে দেরি করছে।একে একে বন্ধু সবকটাও এসে হাজির হলো।বাকি সবাই এসেছে প্রায় সবাই।
রাতুল ড্রিং হাতে এসে দাড়ালো আকাশের পাশে।গলা নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,”তোর বেবিগার্ল কোথায়?”
আকাশ জবাব দিলো না।নির্বিকার তাকিয়ে রইলো।
“শোন আকাশ,বলি কি বিয়েটা করে নে তুই আর অয়ন ভাই।তোদের দু ভাইয়ের যা কনট্রোল এর বহর তোরা মেয়ে দুটোর…”
আকাশের তপ্ত চোখ রাঙানিতে আঙুল ঠোঁটে ঠেকিয়ে চুপ করা ভঙ্গি করলো রাতুল।বত্রিশ দাত বের করে হেসে পাশ ফিরতেই অদূরে ড্রিং টেবিলে চোখে পরলো রিয়ান এর ওপর।ড্রিং হাতে একা দাড়িয়ে। কারোর অপেক্ষা করছে হয়তোবা।আজকাল ওকে সুবিধার লাগে না তার।বন্ধুদের সাথে যথেষ্ট দুরত্ব রেখে চলে।ওকে আজকাল রাতুলের বলা বাহুল্য ভয় হয়।অনেককিছুর ভয়।তাদের এতো বছরের বন্ধুত্ব ভেঙে গুড়িয়ে যাওয়ার ভয়,আকাশ প্রিয়ার সম্পর্ক ভাঙার ভয়,প্রিয়ার কোনো ক্ষতি হওয়ার ভয়,অযাচিত ভুলবোঝাবুঝির ভয়।
রাতুল এর হাসি মুখ থেকে মূহুর্তে হারিয়ে গেলো।রিয়ান টা আগুন নিয়ে খেলতে চাচ্ছে।আকাশের ওপর বরাবর ওর একটা অদৃশ্য রাগ বা হিংসা যেটাই বলা হয় ছিলো হয়তো।কিন্তু তাই বলে এই বয়সে এসে একটা বাচ্চা মেয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝামেলা হবে এটা ভাবতেই ভয় হয় রাতুল এর।
হঠাৎ নিজের কাধে জোরেশোরে একটা হাতের ছোয়ায় ধ্যান ভাঙে তার।প্রায় পরে যাওয়া আকাশকে জাপটে ধরে।আকাশের হাতের দামি মোবাইল ততক্ষণে মেঝেতে শব্দ করে পরেছে।রাতুল আকাশকে সামলে নিলো।
“আর ইউ ওকে..আকাশ?”
আকাশ উত্তর দিলো না।বরং অনিমেষ তাকিয়ে রইলো সামনের দিকে।আকাশের সেই বিষ্ময়কর দৃষ্টি অনুসরন করে সামনে তাকাতেই এক সেকেন্ড সময় লাগলো সবটা বুঝতে,বুঝতেই হেসে ফেললো রাতুল।এবং খেয়াল করলো বিষয়টা শুধু তার নয় এখানে আশেপাশে উপস্থিত আর অনেকরই নজরে পরেছে।কিছুক্ষণ আগে আশা রাকা,তুষি সহ রাকিব,রেদোয়ান, অয়ন, শিয়া প্রায় সবাই শব্দ করে হাসছে।
রাকিব,রেদোয়ান ছুটে এলো আকাশ আর রাতুল এর দিকে।তিন বন্ধু লাফিয়ে উঠলো একপ্রকার। হৈ হে করে উঠলো।
রাকিব জাপটে ধরলো।আকাশের ঘাড়।
“গেছোস দোস্ত। একেবারে গেছোস।এই অবস্থা তোর!”
রাতুল উৎফুল্ল হয়ে উঠলো।,”বলেছিলাম তোদের আমি।প্রিয়াকে সামনে পেলে আমাদের আকাশ এ দুনিয়াতেই থাকেনা।দেখলি তো এবার?”
আকাশ এর এসব কোনোদিকে কান গেলো না,খেয়াল দিলো না।সে তো স্বর্গের অপ্সরা দেখতে ব্যাস্ত।প্রিয়া আসছে।গায়ে জরজেট এর একটা ডার্ক রেড শাড়ি।দিঘল চুলগুলো খোলা রাখা।কোমড় ছাড়িয়ে নেমে গেছে আরও বেশ খানিকটা।খুব একটা সাজসজ্জার বালাই নেই।হাতভর্তি রেড চুড়ি আর বড়সড় একটা কানের দুল।ঠোঁট রাঙিয়েছে শাড়ির সাথে ম্যাচ করে ডার্ক রেড লিপস্টিক এ।আঁচল ছেড়ে দেওয়া,তারপরও আকাশের অদৃশ্য দৃষ্টি খুব মাপঝোঁক করে মেপে নিলো তার নারীদেহের সব অংশ।কুঁচি ধরে দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসছে এদিকে।খোলা আকাশের নিচে দমকা বাতাসে এলেমেলো হয়ে যাওয়া চুলগুলো অন্যহাতে কানে গুজতে ব্যাস্ত…আকাশ এর মনে পরলো সেই প্রথম দিন শাড়ি পড়া রমনীটির কথা।সেদিন অবশ্য এক ছটাক ও সাজের ছোঁয়া ছিলো না।তার পরেও সে আটকে গেছিলো সেই নারীতে।আর আজ!ডার্ক রেড রঙটা ফর্শা দেহে উজ্জল হয়ে ফুটে উঠেছে।
প্রিয়া কাছে আসতেই খেয়াল করলো অনেকগুলো চোখ তার দিকে।রাতুল হাসতে হাসতে এগিয়ে গেলো সেদিকে।মাথা নিচু করে হাত বাড়িয়ে দিলো প্রিয়ার দিকে।
“বেহেন জি। আপনাকে স্বাগতম আমাদের চৌধুরী গ্রুপ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ছোট মালিক আকাশ এহনাজ চৌধুরীর মনের মধ্যে! “
উপস্থিত সবাই অট্টহাসিতে ফেটে পরেছে।প্রিয়া আড়চোখে দেখলো আকাশকে।মন্ত্রমুগ্ধের মতো আকাশ তার দিকেই তাকিয়ে।সবার হাসির কারণ বুঝতে তার খুব একটা সময় লাগলো না।লজ্জায় আড়ষ্ট হলো।আলতো হাত বাড়িয়ে ধরলো রাতুলের হাত।রাতুল টেনে নিয়ে এসে দাড় করালো আকাশের পাশে।বাঁকা গলায় বললো,
“নে।তোর বেবিগার্ল। আজ অবশ্য বেবি লাগছে না কিন্তু.. “
প্রিয়া লজ্জায় মিয়িয়ে যাচ্ছে।আকাশ মোটেও দৃষ্টি সরাচ্ছে না।প্রিয়া মাথা নিচু করে মিনমিনে গলায় বললো,
”এভাবে তাকিয়ে থাকবেন না।”
“ইউ লুকস বিউটিফুল। “
প্রিয়া রক্তিম হয়ে যাওয়া মুখ নামিয়ে রাখলো।আকাশের দৃষ্টি, কন্ঠ কোনোটাই তার সহ্য সীমার মধ্যের নয় এই মূহুর্তে।
“ইওর লিপস লুক লাইক রেড চেরি।”
প্রিয়া ঠোটে ঠোট চেপে ধরলো লজ্জায়।শীতল অনুভূতি বয়ে গেলো শরীরে।আশেপাশে খেয়াল করলো।সবাই প্রায় তাকিয়ে আছে তাদের দিকে,মিটিমিটি হাসছে।প্রিয়া গলার আওয়াজ নামিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
“চুপ থাকুক এখন অন্তত।এসব কথা আমি সহ্য করতে পারি না।”
“খারাপ লাগে?”
“উহু,শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।”
“আমারও। “
প্রিয়া চমকে তাকালো পাশের নেশাক্ত কন্ঠের মানুষ টার দিকে।বুঝতে পারলো না আকাশের কথা।ভ্রু জোড়ার মাঝে সরু ভাজ ফেলে জিজ্ঞেস করলো,
“হুহ?”
আকাশ মুখ নামিয়ে আনলো খানিকটা।প্রিয়ার কানের কাছে মুখ নিলো।নিচু গলায় বললো,
“শাড়ি পরেছো কেনো?আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। খুব। ট্রাস্ট মি।আই ওয়ানা টেস্ট ইওর চেরি লিপস।”
প্রিয়ার শরীর ঝিনঝিন করে উঠলো,কেঁপে ওটা শরীর ধাতস্থ করে শাড়ি খামচে ধরে দাড়িয়ে রইলো।এসব কথাবার্তা বলারও টাইমটেবল নেই লোকটার।যেখানে সেখানে শুরু করে বাজে বকা।
____
অয়ন আর শিয়া দুজনেই একবুক প্রশান্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে আকাশ প্রিয়ার দিকে।কি দারুণ মানাচ্ছে দুজনকে।অয়ন খানিকটা ঘেষে বসলো শিয়ার দিকে।
“আমার ভাইটা যে জীবনে প্রেমে পরবে এক্সপেক্ট করিনি জানো?”
শিয়া হাসলো।অয়নের দিকে এক নজর তাকালো।
“আমি নিজেও করিনি।আকাশ!প্রেম!পরলো তো পরলো আমারই ওইটুকুন বোনের!”
“সেটাই ভাবছি।তোমরা দু বোন আমাদের দু ভাইকে জাদু করলে কিনা ভাবার বিষয়।”
শিয়া আলতো চড় বসালো অয়নের বাহুতে। অয়ন হেসে ফেললো।হাত বাড়িয়ে তুলে নিলো শিয়ার হাত।আলতো চুমু খেলো হাতের পিঠে।
“জাদু করলেও লাভটা আমাদেরই হয়েছে কিন্তু। দিনশেষে জিতেছি আমরাই।দু দু’টো পরী আমাদের দু ভাইয়ের বউ হবে।”
শিয়া হেসে ফেললো।অয়ন একহাতে জড়িয়ে নিলো শিয়াকে।
“সামনে সপ্তাহে বাড়ি যাচ্ছি।আমাদের কথাটা জানিয়ে আসবো।মা খুব খুশি হবে।আকাশের কথা আকাশ যা করার করবে…”
শিয়ার বুকের ভিতর আবার ধুকধুক শুরু হয়।বিয়ে শব্দটা তার ভয়ের কারণ।বিয়ে টা নিয়ে ঝামেলা হবে সেটা সে জানে,বুঝতে পারছে।কাল রাতেও অগুনতি বার নিলয় এর কল এসেছে।ধরেনি,এক পর্যায়ে নিলয়ের মা সহ কল করা শুরু করেছিলো।বিয়ের আগে এতদূর অফিস স্টাফদের সাথে যাওয়া,মেয়েমানুষ উচিত নয়,তাদের বাড়ির হবুবউ একাকি কেনো গেলো।হাজার হাদিস শোনালো।বাবা কে সে অয়নকে নিয়ে মানাতে পারবে না কিনা খুব সন্দেহ আছে।অয়নের সম্পর্কে একটা তীব্র বিরুপ ধারনা বাবার মনে গাঁথা। বছরের পর বছর আজগর আংকেল এর কারণে সেটা আরও শক্তপোক্ত হয়েছে।এতগুলো বছর হলো নিলয় এর সাথে বিয়ের কথা চলছে,এতো সহজে সে সবটা ভুলে বাবা অয়নকে মানবে না।তাই যতবার অয়ন বিয়ের কথা তোলে তার মন ততবারই অস্থির হয়,নিজেকে অসহায় লাগে,কূল কিনারা খুঁজে পায়না।তার ওপর এখন আবার ওই একই পরিবার এর ছেলের সাথে প্রিয়াও..অয়নেরই ছোট ভাইয়ের সাথে। বোনের দিকে তাকায় শিয়া।খানিকটা দূরেই পুলের পাশে আকাশের পাশে বসা।লজ্জায় রাঙা হয়ে আছে।আকাশ কি সুন্দর খেয়ালই না রাখছে বারবার। মনটা ভালো হয়ে যায় সে দৃশ্যে।
“শিয়া?”
“অয়ন…”
“আমি জানি কি ভাবছো।ভাবতে নিষেধ করেছি তো।আমি আছি তো নাকি!আমার পরিবার কে জানিয়ে আসি,তোমার পরিবার কেউ আমি আর আমার পরিবার সামলে নেবো।”
শিয়া চোখের পানি টলমল করছে।চেপে ধরে অয়নের হাত দুটো।
“আমি তোমাকে আবার হারাতে পারবনা অয়ন।”
অয়ন মাথায় হাত রাখে শিয়ার।মৃদু হাসে।
“কে।বলেছে হারাবে!এক ভুল আমি বারবার করবো?বুকের ভিতর জাপটে রাখবো।এতো সহজে হারিয়ে যাবো কোথায়।”
শিয়ার ভরসা পায় অয়নের এসব কথায়।কিন্তু অশান্ত মন শান্ত হয়না।একদম হয়না।
“আকাশ আর প্রিয়া..”
“আকাশকে চেনো না তুমি?আমি যে ভুল করেছিলাম।তোমার মনে হয় আকাশ সেটা কখনো করবে?”
“প্রিয়া অনেক ছোট অয়ন।ও যদি বাবা মায়ের কথায়..“
“আমার প্রিয়ার ওপরও বিশ্বাস আছে।ও একদম বাচ্চা নয় কিন্তু। যথেষ্ট বোঝার বয়স হয়েছে। ভালোবাসা কি বোঝে ও।মানছি আবেগের বয়সই বেশি,তার পরেও।আকাশ ওকে এত সহজে ছাড়বে না।ঠিক আগলে রাখবে।”
“বাবা খুব জেদি অয়ন।আমাদের দু বোন কে খুব ভালোবাসে।না চাইতেই সব হাজির করে।কিন্তু একবার কিছুতে নিষেধ করলে সেটায় কখনো তাকে রাজি করানো যায়না।,আমাদের,আকাশ,প্রিয়ার সম্পর্ক গুলো নিয়ে খুব ভয় হয়।আমার তোমার ওইসময়কার বোকামি,ভুলবোঝাবুঝির জন্য আমাদের ভাই বোন দুটো না কষ্ট পায়।”
অয়ন শিয়াকে আগলে রাখে।শান্ত করতে চায়।তবে বুকের ভিতর খচখচ কি তারও করে না?খুব করে।অন্য ছেলের সাথে শিয়ার বিয়ে ঠিক আছে শুনলেই দূর্বল লাগে তার,অসহায় লাগে। খুব করে অসহায় লাগে।বুকটা দুমড়েমুচড়ে যায়।ছয় বছর আগে ভুলবোঝাবুঝির বিষয়টা নেহাৎ মামুলি নয়।বিচ্ছিরি একটা বিষয়।কোনো বাবাই তারপর তার মেয়েকে সেই ছেলের হাতে আবার ফেরত দিতে চাইবে না,তা সে ছেলে যতই নির্দোষ হোক।একবার কারোর মন থেকে উঠে গেলে সবটা ঠিক করা কি এতই সোজা।তারা দু ভাই স্বাভাবে দু রকম।সে হৈ হুল্লোড় প,আমোদপ্রিয়, মিশুক হলেও আকাশ সম্পূর্ণ ভিন্ন।রাতুল,রিয়ান,রেদোয়ান বা এই কয়জন ছাড়া ওর তেমন কোনো ফ্রেন্ড সার্কেল নেই।ওর এসব পছন্দও না।শিয়া তাকে ভুল বোঝার পর, চলে যাওয়ায় সে যেভাবে পাগলের মতো শিয়াকে খুঁজেছে, কারণ জানতে চেয়েছে। খোদা না করুক আকাশ আর প্রিয়ার সম্পর্কে অমন দিন আসলে ভাইটা তার কি করবে? সব ছেড়ে ছুড়ে প্রিয়াকে ফেরাবে?নাকি ইগো ধরে রেখে ধ্বংস কবুল করে নিয়ে নিজেও দূরে চলে যাবে।প্রিয়া সত্যিই বাচ্চা।আবেগের বয়স ওর।আঠারো বছরের একটা মেয়ের মনকে বাবা মা খুব সহজে ডাইভার্ট করতে পারে।তখন কি তাদের সকলের সম্পর্কের মধ্যে আবার একটা ঝড় আসবে না?অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে, নিজের পরিবার কে আগে জানাতে হবে।যদিও তার পরিবার খুব সহজেই মানবে যদি না তার বাবার অন্য কিছু বলার না থাকে…
____
সুইমিংপুলের টলটলে পানিতে আলোর প্রতিফলন ঝলমল করছে একেবারে।উচ্চস্বরে গানবাজনা হচ্ছে এখন।একপাশে নাচগানে ব্যাস্ত অনেকে।লম্বা একটা টেবিলে গোল হয়ে পরপর বসা আকাশ রা।আড্ডা চলছে মূলত।পাশে বসা প্রিয়া একেরপর এক কিছু না কিছু অনবরত খেয়েই চলেছে।আকাশ একটু পরপর এটা সেটা এনে দিচ্ছে ফুড জোন থেকে।এখনও মনযোগ দিয়ে পাস্তা খাওয়ায় ব্যাস্ত সে।সামনে আরও একগাদা খাবার সাজানো।বাকিরা গল্পগুজবে ব্যাস্ত।
আকাশের পূর্ণ খেয়াল অবশ্য প্রিয়ার দিকে।একটু পরপর টিস্যু দিয়ে বাচ্চাদের মতো মুখ মুছে দিচ্ছে,পানি এগিয়ে দিচ্ছে।প্রিয়া মনে মনে খুব হাসছে।লোকটা সবার সাথে গল্প করছে, দেখে মনে হবে প্রিয়া যে পাশে আছে এটা সে খেয়ালই করছে না।আদতে তা মোটেই নয়।তার দিকে না তাকিয়েই কিভাবে কিভাবে বুঝে যাচ্ছে তার কখন কি লাগবে।
এই যেমন এত রাত হয়েছে কারোরই ডিনার নিয়ে চিন্তা নেই।হুটহাট টুকিটাকি খাচ্ছে সবাই।কিন্তু অমন পোষাচ্ছিলো না মোটে।এত এত খাবার একশ বার করে হেটে হেটে খাওয়া যায় নাকি!একপ্রকার উশখুশ শুরু করে দিয়েছিলো।এখানে যখন সবাই মিলে আড্ডা দিতে বসলো একফাঁকে আকাশ উঠে গিয়ে এতো এতো খাবার এনে সামনে দিলো তার।সবদিকে খেয়াল মানুষ টার।মৃদু হাসি ফুটে উঠলো ঠোঁটের কোনে।খাওয়ায় মন দিলো আবার।
আকাশ বারবার আড়চোখে দেখছে প্রিয়াকে।কি মন দিয়েই না তখন থেকে খাচ্ছে।নিঃশব্দ হাসলো।কেউ দেখতে পেলো না অবশ্য সেটা।এই মেয়ের শরীর দেখলে বোঝার উপায় নেই এতো খাবারপ্রিয়।
“এই আকাশ,তোর বেবিগার্ল এর মুখটা মুছিয়ে দে।আহারে বাচ্চা মেয়ে।”
রাতুুল এর কথায় টিস্যু ছুড়ে মারলো আকাশ।প্রিয়ার প্রতি এতো যত্নে রীতিমতো অবাক সকলে।অফিসের বাকি লোকজন দের মধ্যে ঘোর আলোচনা চলছে,আর সামনা সামনাসামনি উত্যক্ত করার জন্য তার বেয়াদব বন্ধু গুলো তো আছেই।বেবিগার্ল ডাকটা শুনলে প্রিয়া একদম লজ্জায় রক্তিম হয়ে যায়।ফর্শা ফুলো ফুলো গাল দুটো টমেটোর মতো হয়ে ওঠে।মাথা তুলতেই পারেনা।ছেলেগুলো বোধহয় সেটা খুব ভালো করে টের পেয়েছে,বারবার আকাশের বেবিগার্ল বলতে বলতে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলেছে।
রাকা ওপাশে বসা প্রিয়ার পাশে।একহাতে টেনে নিলো নিজের দিকে।গালে গাল ঠেকালো।রাতুলের দিকে তপ্ত নজর দিয়ে বললো,”বেবিগার্লই তো।আমাদের থেকে কত ছোট আন্দাজ আছে তোর।।সমস্যা কি মুখ মুছে দিলে।দরকার হলে কোলে নিয়ে ঘুরবে।আওয়ার প্রিন্সেস ডিজার্ভ দ্যাট প্রিন্সেস ট্রিটমেন্ট। “
প্রিয়া লজ্জায় পারছে না টেবিলের নিচে লুকাতে।আকাশ সে লজ্জারুণ মুখটা দেখে হাসলো।
হঠাৎ ফিরলো রাকিবদের দিকে।কপাল কুচকে জিজ্ঞেস করলো,”রিয়ান কই।”
রাকিব, রেদোয়ান মাতা নাড়লো দুদিকে।জানেনা তারা।রাতুল অবশ্য বললো না কিছু।অস্থির দৃষ্টি বোলালো এদিকওদিক। খুজলো রিয়ান কে।দেখতে পেলো না আশেপাশে।
ওকে অবশ্য বেশ অনেকক্ষণ হলোই দেখতে পাচ্ছে না সে।রাকিব কফিতে চুমুক দিলো।উদাশ গলায় বললো,”একবার বলেছিলো কাকে পিক করতে যাবে।সেখানে গিয়েছে কি না।”
সবার কপাল কোচকালো।এখানে তাদের কোনো গেস্ট আর আসা বাদ নেই।আর রিয়ান এর পরিবার আসার কথা নয়।ক্লাইন্ট!নয় বোধহয়।
____
“গায়েজ সারপ্রাইজ। “
একটা মেয়েলি কন্ঠের আওয়াজে পিছন ফিরলো সবাই।মেয়েটি ছুটে এলো তাদের দিকে।এসেই ঘটালো অঘটন।কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরলো।উপস্থিত সকলের চোয়াল ঝুলে পরলো একপ্রকার। তবে রাকিবরা কয়েকজন বোধহয় অবাক হলো না।হতাশার দীর্ঘশ্বাস ফেললো।প্রিয়া চমকে গেছে,মেয়েটা বসা রত আকাশকে জড়িয়ে ধরেছে।আকাশের নিজের মুখটাও বিরক্তি তে ছেয়ে গেলো।দু হাতে সরিয়ে দিলো গলায় জড়ানো হাত খানা।প্রিয়ার হাতের কাঁটাচামচ ততক্ষণে শক্ত করে প্লেটে চাপ দিয়ে ধরা।সবাই এক এক করে দেখলো তাদের।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবার আগে কথা বলে উঠলো রাতুল,চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে মেয়েটার হাত টেনে সরিয়ে আনলো।আলতো হাতো জড়িয়ে ধরলো।
“সৌমি,হোয়াট আ সারপ্রাইজ। “
সৌমির চোখেমুখে রাজ্যের খুশি। তার খানিক দূরেই রিয়ান দাড়িয়ে হাসিমুখে।
“তাইনা?কেমন সারপ্রাইজ দিলাম হু?”
সবাই কষ্টেশিষ্টে হাসলো।কপট হাসি যাকে বলে।অযাচিত অতিথি এসে পরলে যে অবস্থা হয় আরকি তেমন অবস্থা সকলের।রাতুলকে পাশ কাটিয়ে একই ভঙ্গিতে অয়নকেও জড়িয়ে ধরতে গেলো সৌমি।
শিয়া ফট করে উঠে দাড়াতেই চমকে উঠলো মেয়েটা।শিয়া কে বোধহয় এখানে এক্সপেক্ট করেনি।
অয়ন কে ছেড়ে দ্রুত সরে আসলো।অবাক গলায় বললো,”সারপ্রাইজ দিতে এসে সারপ্রাইজ হয়ে গেলাম।শিয়া!ওয়াও!”
এক নজর তাকালো অয়নের দিকে।অয়ন রাগে মুখ লাল করে বসে আছে অন্যদিক পেলে।
শিয়া সৌজন্য হাসলো।”আমারাই বেশি সারপ্রাইজ হয়েছি…তোমাকে দেখে।”
সৌমি কারোর উত্তরের অপেক্ষা করলো না।পাশ থেকে চেয়ার টেনে নিয়ে বসলো আকাশের পাশে।প্রিয়া সরু চোখে দেখছে সবটাই।
রিয়ান নিজেও এসে বসলো রেদেয়ান এর পাশে।
“ওয়াও,সবাই এখানে দেখছি।তোরা কবে এলি?”
কথাটা বললো রাকা আর তুষির দিকে ফিরে।
“এসেছি গত সপ্তাহে। “
সোমি বোধহয় আপসেট হলো খানিকটা।অভিযোগ এর গলায় বললো,”আমাকে জানাস নি কেনো।আমিও আসতাম একসাথে। “
তুষি চোখ বুজে নিজের বিরক্তি কনট্রোল এর চেষ্টাায়।রাকা স্বাভাবিক গলায় বললো,”আমরা এসেছি আমাদের হাসবেন্ড দের কাছে।তোকে কার কাছে রাখতাম এনে!বোরিং হতিস তুই।”
সৌমির মধ্যে মোটেই ভাবাবেগ লক্ষ করা গেলো গেলো না।আড়চোখে আকাশের দিকে তাকালো একবার।লজ্জা লজ্জা মুখ করে বললো,”মোটেই না।আকাশ তো ছিলো।”
উপস্থিত সবাই ফট করে তাকালো প্রিয়ার দিকে।মেয়েটার চোখমুখ অন্যরকম দেখাচ্ছে।সেখানে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে সৌমি নামক ন্যাকা বস্তুটাকে তার মোটেও পছন্দ হয়নি।আকাশ চোখবুজে নিজেকে ধাতস্থ করলো।এতো মানুষের মধ্যে নারীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা মোটেও ভালো দেখাবে না।সৌমিকে পাত্তা না দিয়ে উঠে গেলো সেখান থেকে।ফুড জোনের ওদিক যেতে যেতে চোখে চোখ পরলো তুষির সাথে। তুষি বোধহয় মূহুর্তে বুঝে গেলো তার করণিয়।সৌমির দিকে তাকিয়ে গদগদ ভাব করে প্রিয়ার ডান পাশ থেকে উঠে এসে বসলো আকাশের বসা জায়গায়।আকাশ মিনিটখানেকের মধ্যে একগ্লাস পানি হাতে ফিরে এসে বসলো প্রিয়ার এপাশে।নিঃশব্দে পানি এগিয়ে দিলো প্রিয়ার দিকে।প্রিয়া খপ করে গ্লাসটা ধরলো ঠিকই।তবে খেলো না।বরঙ চোখ রাঙানি দিলো আকাশকে।আকাশ বেচারা এই মূহুর্তে প্রেয়সীর রাগ ভাঙানোর চেষ্টা কিভাবে করবে,সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে বসে রইলো।
রাতুল বাঁকা হাসলো,আকাশ এহনাজ বেশ জব্দ।প্রেম কর আরও,বিড়াল ছানার মতো প্রেমিকার পিছন পিছন ঘোর ভয়ে।শব্দ করে হেসে ফেলতে ইচ্ছে হলো।দৃষ্টি মিললো বাকি বন্ধু দের দিকে।সবাই বোধহয় একই জিনিসএ হাসতে চাইছে,অথচ পারছে না।রাতুল হেলে তাকালো সৌমির দিকে।এক নজর দেখে নিলো রিয়ান কে।সৌমিকে আনাটা যে রিয়ানেরই প্ল্যান বুঝতে তার এক মিনিট ও সময় লাগেনি।সৌমি তাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের কেউ নয়।বলা বাহুল্য সম্পর্ক রিয়ান এর সাথেই টুকটাক। টুকটাক নয়,বলা যায় জাস্ট ফ্রেন্ড নামক অশ্লিল ট্রেন্ড এর ফলোয়ার দুজন।মাখামাখি ভাব প্রচুর।বিছানা অবধি সম্পর্ক গড়িয়েছে,অথচ তারা নাকি জাস্ট ফ্রেন্ড।সৌমিকে তাদের গ্রুপের কেউ একবিন্দু পছন্দ করেনা।আকাশের বাবার বিজনেস পার্টনারের মেয়ে। একই ভার্সিটিতেও ছিলো।সব মিলিয়ে সৌজন্যতার খাতিরে ভালো ব্যবহার করতে হয় আরকি।
“তা সৌমি এখানে কি মনে করে?”
সৌমি বাঁকা চোখে তাকালো রাতুল এর দিকে।রাতুল এর প্রশ্ন টা বোধহয় তার পছন্দ হয়নি।
“কি মনে করে মানে!আমি তোমাদের গেস্ট। “
“,ইনভাইট কখন করলাম?”
মুখচেপে হাসির শব্দ পাওয়া গেলো আশপাশ থেকে।সৌমি চোখ গরম করলো,রিয়ান দ্রুত বলে উঠলো,”আমি ইনভাইট করেছি ওকে।”
“রিয়ান যেখানে সৌমি সেখানেএএ”
রাতুল এর বাকা কথায় সৌমি প্রতিবাদ করে উঠলো।
“মোটেই না।রিয়ান আর আমি জাস্ট ফ্রেন্ড। আমি তো এসেছি..।”
আড়চোখে তাকালো আকাশের দিকে।প্রিয়ার নজরে পরছে সবকিছুই।সৌমির নজর আকাশের দিকে পরতেই উঁচু হিল খানা দিয়ে চেপে ধরলো আকাশের পায়ের ওপর।ব্যাথায় চোখমুখ খিঁচে এলো আকাশের।এ তো মহা সমস্যা। সে কি করলো!তার কি দোষ।তার ওপর ক্ষেপে যাচ্ছে কেনো মেয়েটা।
রাতুল আর বলতে দিলো না সৌমিকে।চোখ টিপলো,তার আগেই বলে উঠলো,”জাস্ট ফ্রেন্ড! কাম অন গায়েজ।আমরা সবাই অ্যাডাল্ট এখানে।তোমরা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক। ভুল হতেই পারে।হোক জেনেশুনে বা ভুলে ভুল!উই ডোন্ট মাইন্ড।এখানে রিয়ান রুম টা কিন্তু মাস্টার বেড রুম।”
রাকিব, রেদোয়ান হাসি সামলাতে না পেরে ঘুরে অন্য দিক ফিরলো।তুষি,রাকা মাথা নামিয়ে ফেলছে টেবিলের ওপর।হাসির তোরে টেবিল কাপছে।আকাশ,অয়ন স্বভাবমাফিক শব্দহীন বাঁকা হাসলো।রিয়ান চোখ রাঙিয়ে তাকালো রাতুল এর দিকে,বেচারার রাগে চোখমুখ ছেয়ে গেছে।সৌমির মধ্যে রাগ কম কপট লজ্জা দেখতে পাওয়া গেলো।প্রিয়ার জাস্ট অসহ্য লাগছে মেয়েটাকে।শরীরের নড়াচড়ার ভঙ্গি দেখলেই বোঝা যাচ্ছে গায়ে পরা।আর পোষাকের কি ছিড়ি।এতবার বার লজ্জায় লাল নীল হয়ে আকাশের দিকে তাকানোর কি মানে!রাতুল এর কথার মানে ধরতে না পারার মতো বাচ্চা এখনে কেউ নেই।তার পরেও রিয়ানকে ছেড়ে আকাশের দিকে এতো হায়নার মতো তাকানোর মানে কি।প্রিয়ার ইচ্ছে হলো এক গ্লাস পানি ছুড়ে মারতে মেয়েটার দিকে।
রিয়ান দ্রুত ধমকে উঠলো রাতুল কে।
“রাতুল!পাস্ট ইজ পাস্ট।এখানে এসব তুলে অকওয়ার্ড ফিল করানোর কি মানে!”
রাতুল ড্রিং এ চুমুক দিলে।তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখলো রিয়ান এর চোখে।ফিচলে হাসলো।
“কিছু বিষয় পাস্ট হয়না রিয়ান।স্পেশালি ফর গার্ল।আই থিং ইউ নো দ্যাট।”
সৌমি অধৈর্য হয়ে উঠলো।রাতুল এর দিকে তাকিয়ে আহ্লাদী গলায় বললো,”উই ওয়ার ড্রাংক দ্যাট দে।জাস্ট আ লিটল মিসটেক।”
উপস্থিত সকলের মুখে বিদ্রূপ এর আভাস ছেয়ে গেলো।
রাকা ঘাড় বাকালো।”লুজিং ভার্জিনিটি বিফোর ম্যারেজ ইজ আ নরমাল মিসটেক!সাচ আ লেম এক্সকিউজ!”
“জাস্ট স্টপ ইট গাইজ।এসব নিয়ে কথা বলার সময় এটা!লেটস্ স্কিপ টা টপিক।”
অয়নের ধমকে থামলো সকলে।সৌমির মুখ রাগে ফুসছে।এতক্ষণ রাগ হলেও এখন ঘিন্না লাগছে মেয়েটাকে প্রিয়ার।প্রিয়া ফট করে উঠে দাড়ালো।সকলের দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমার প্রচন্ড মাথা ধরেছে। আমি একটু রুমে গেলাম।”
কেউ বাধা দিলো না।সৌমির গায়েপড়া ভাব তাদের কারোরই পছন্দ না।খুব শীগ্রই বাকিরাও উঠবে।দ্রুত ডিনার সেরে যার যার রুমে যেতে পারলে এই ন্যাকার থেকে বাচা যাবে।শিয়া মাথা নাড়লো বোনের দিকে তাকিয়ে।প্রিয়া রক্তিম চোখের ভস্ম করা নজর দিলো আকাশের দিকে।রাতুল হেসে ফেললো সেটা দেখে।শাড়ির কুচি ধরে গটগট করে শব্দ করে জায়গা ত্যাগ করলো প্রিয়া।মূহুর্তেই সৌমি একপ্রকার উড়ে এসে বসলো আকাশের পাশ টায়।প্রিয়া যেতে যেতে একনজর ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখলো সেটা।তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো।মুখ বাঁকিয়ে রওনা দিলো নিজের রুমে।আকাশ সাথে সাথে চেয়ার থেকে উঠতেই কবজি টেনে ধরলো সৌমি।আকাশ বিরক্তসূচক শব্দ করলো।হাত টা ছাড়িয়ে নিতে নিতে বললো,
“আই হ্যাভ টু গো সৌমি।”
“তুমি কোথায় যাচ্ছো।আমি সবে এলাম।তোমার জন্য এসেছি আমি। কত প্ল্যান করেছি জানো?”
“সবাই আছে তো এখানে।প্রিয়া একা একা গেলো।আমাদের ফ্লোর পুরো ফাঁকা। মেয়েটা অন্ধকার ভয় পায়।”
প্রিয়ার জন্য এতো টেনশন এর কারণ বুঝলো না সৌমি।আবার হাত ধরলে গেলে ধমকে উঠলো আকাশ।
“আই ডোন্ট লাইক অল দিস সৌমি।প্লিজ ডোন্ট টাচ।”
আকাশ হেচকা টানে হাত সরিয়ে একপ্রকার দৌড়ে এগিয়ে গেলো হোটেলের দিকে।
সৌমি আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সেদিকে।ঘুরে তাকালো সবার দিকে।
“প্রিয়া কে!”
“শিয়ার বোন।”জবাব দিলো রেদোয়ান।
“তো শিয়া যেতো!আকাশের পার্টি টা মিস হয়ে গেলো।”
রাতুল বাঁকা হাসলো।রিয়ানকে দেখে নিলো একবার।রিয়ান ও চোখমুখ লাল করে তাকিয়ে আছে আকাশের প্রস্থান এর দিকে।
“প্রিয়া আকাশের গার্লফ্রেন্ড…আকাশের বেবিগার্ল… “
“ইনফ্যাক্ট আমাদেরও। “ হেসে বললো রাকা।
চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼🍂
[বড় করে লিখেছিলাম।বাকিটুকু রি -চেইক দিতে পারিনি,তাই আজ দিতে পারলাম না।দেখি কাল #সাঁঝের_মায়া এর আগে #আকাশপ্রিয়া এই পর্বের বাকি অংশটুকু দিতে পারি নাকি।পর্বটা একদম আমার মন মতো হয়নি।মাইগ্রেন এর পেইনে শান্তিতে লিখতেও পারিনি।সরি ভালো না লাগলে।আর #আকাশপ্রিয়া তে আপনারা ঠিকমতো রেসপন্স করতেছেন না কেনো?#সাঁঝের_মায়া থেকে বেশি পড়েন এটা,ভিউ এটার বেশি,অথচ আপনাদের রেসপন্স করতে সমস্যা? ভালো লাগে না আর…
আমার কমন কিছু সুইট পাঠিকরা সবসময় রেসপন্স করেন,বাকিরা লুকিয়ে পড়েন কেনো?সমস্যা কি!]
আর আমার ভালোবাসার পাঠিকারা বড় বড় কমেন্ট কর।তোমাদের কমেন্ট পড়তে আমার কি যে ভাল্লাগে 😘#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_৩৪(শেষ অংশ)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
[🚫কপি করা নিষেধ।রোমান্টিক পর্ব।সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য উন্মুক্ত ]
রাতুল বাঁকা হাসলো।রিয়ানকে দেখে নিলো একবার।রিয়ান ও চোখমুখ লাল করে তাকিয়ে আছে আকাশের প্রস্থান এর দিকে।
“প্রিয়া আকাশের গার্লফ্রেন্ড…আকাশের বেবিগার্ল… “
“ইনফ্যাক্ট আমাদেরও। “ হেসে বললো রাকা।
প্রিয়া নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করতে গেলে শক্তপোক্ত হাতের থাবা পরলো দরজাটায়।বন্ধ তো করতে পারলই না আরও উল্টো হেচকা টানে নিজে সরে দাড়ালো।আকাশ দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো।প্রিয়ার চোখেমুখে রাজ্যের অন্ধকার। রাগে লাল হয়ে যাওয়া মুখটার দিকে তাকানো যাচ্ছে না।ঘনঘন নাকের পাটা ফুলাচ্ছে।আকাশের হাসি পেলো।ধীরেসুস্থে দরজা আটকে এগিয়ে এলো প্রেয়সীর দিকে।প্রিয়া মুখ বাকালো।তাড়াহুড়ো করে এগিয়ে এলো আকাশের দিকে।দু হাতে সকল শক্তি প্রয়োগ করে ঠেললো বেড়িয়ে যেতে।আকাশকে একচুলও নড়াতে চড়াতে পারলো না।মেজাজ এমনিই খারাপ,খাম্বার মতো লোকটাকে সরাতে না পেরে আরও খারাপ হলো।তেতে উঠলো।
“খাম্বার মতো দাড়িয়ে আছেন কেনো।বের হন জলদি।”
আকাশ পেটের হাসি আটকে রেখে গম্ভীর মুখে আরও দু পা এগিয়ে এলো।
“কে খাম্বা!আমার মতো হ্যান্ডসাম একটা আলফা মেল কে তোমার খাম্বা বলতে একবারও মুখে বাধলো না?”
প্রিয়া ভেংচি কাটলে।আলফা মেল!এহ্। অসহ্য লাগছে আকাশের মুখটাকে তার।পুরুষ মানুষ কেনো এতো সুদর্শন,ড্যাশিং হবে!এটা কেমন যুক্তি!তাদের পিছনে এতো লম্বা মেয়েদের লাইনের মানে কি!
“আপনি বের হন।আমার আপনাকে দেখে রাগ হচ্ছে।”
আকাশ অবাক চোখে তাকালো।
“আমি কি করলাম টা কি এখানে!আমি তো কিছু বুঝতেই পারছি না।”
“অবুঝ বাচ্চাদের মতো করবেন না।মেয়েরা গায়ে পরলে,জড়িয়ে ধরলে খুব ভাল্লাগে না?”
আকাশ বুঝতে পারছে প্রেয়সীর অভিমান,রাগের কারণ।তবে আগেই সেটা প্রকাশ করে মজা টা নষ্ট করতে চাইলো না।যে মেয়ে তার সামনে কথা বলতেই লজ্জায় মিয়িয়ে যায়,নজর মেলানো তো দূরে থাক।সে মেয়ে রেগে গিয়ে কি সুন্দর চোখে চোখ রেখে ঝগড়া করছে।নিজেকে বিবাহিত বিবাহিত মনে হচ্ছে।
হাসি চেপে না বোঝার মতো করে বললো,”কি যা তা বলছো।বুঝতে পারছি না তো।”
প্রিয়া দু কদম এগিয়ে এলো আকাশের দিকে।মেয়েটা আকাশের বুক বরাবর।কথা বলতে গেলে ঘাড় উচিয়ে বলতে হয়।করলোও তাই।কোমড়ে দু হাত রেখে গিন্নির মতো দাড়ালো আকাশের সামনে।
“আপনি আবার নাটক করছেন?”
“নাটক কেথায় করলাম?”
আকাশের নির্বিকার ভাবে রেগে উঠছে প্রিয়া।দাঁতে দাঁত চাপলো।মুখ ফুলালো।
“ওই মেয়েটার সাথে আপনি অমন গদগদ হয়ে কি কথা বলছিলেন?”
আকাশ এবার হেসে ফেললো,মাথা নিচু করলে।হাস্কিস্বরে বললো,”আর ইউ জেলাস?”
প্রিয়া এলোমেলো দৃষ্টি ফেললো এদিকসেদিক। আকাশের এহেন কন্ঠে সে কথার খেই হারায় বরাবর।মিনমিন করে বললো,”নো।”
“মনে তো হচ্ছে। “
“মোটেও না।”
আকাশ সোজা হলো।স্থির দৃষ্টি রাখলো প্রিয়ার ওপর।”তাহলে ওভাবে চলে এলে কেনো পার্টি থেকে?”
প্রিয়া একটু পিছোলো।স্বভাবসুলভ ঠোট কামড়ালো নিজের।ধীর গলায় বললো,”আমার ইচ্ছে। “
এই মেয়েটার কিছু কিছু কার্যকলাপে আকাশ বরাবরই ঘায়েল হয়।শক্তপোক্ত চরিত্র নড়েচড়ে ওঠে।তার মধ্যে একটি হলো যখন প্রিয়া এমন ভয় পেয়ে নিজের ঠোঁট কামড়ায় বারংবার। এইযে এখন যেমন কামড়াচ্ছে।তার বুকের ভিতরটা উথাল-পাতাল করে।গলা শুকিয়ে আসে।আকাশ নিজের গলা খানিকটা ভাড়ি করার চেষ্টা করলো,
”ঠোট কামড়াবে না আমার সামনে।আমার তো অন্য কিছু করতে ইচ্ছে হচ্ছে। “
প্রিয়া একরাশ লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে আছে।আকাশের এহেন কথায় আরও গুটিয়ে যায় মেয়েটা।ওড়নার কোনা দু হাতে খামচে ধরে থাকে।মাথা নামিয়ে ধীর গলায় বলে,
”সরুন ঘুমাবো।রুমে যান।”
“লেটস স্লিপ টুগেদার। “
আকাশের মাতাল করা কন্ঠে এমন কথায় ভয়াবহ চমকে গেলো প্রিয়া।দু হাতে ঠেলতে লাগলো বাইরে বের করতে।এক ইঞ্চিও নড়াতে চড়াতে সক্ষম হলো না।
চোখ রাঙালো,লজ্জায় মুখ তুলতে পারছে না।তেতে উঠলো একপ্রকার, “অসভ্য লোক।অবিবাহিত মেয়ের রুমে এসে অসভ্যতামি।”
“অসভ্যতামি করে ফেলি তাহলে?বাকিটা পরে দেখে নেবো?”
প্রিয়া এবার সত্যিই ভয় পাচ্ছে।আকাশের চোখমুখ অন্য রকম লাগছে।নিজের রাগ তো উবে গেছে সেই কখন।এই লোকের এহেন কার্যকলাপে সে যে রেগে ছিলো এখন তো সেটাই ভুলতে বসেছে।এলোমেলো দৃষ্টি চোরের মতো লুকাতে চাইলো।
“আমি কিন্তু চেঁচাবো? “
আকাশ বাঁকা হাসলো।নিজের আঙুল ঠেকালো প্রিয়ার নরম ঠোটের ওপর।মাথা নোয়ালো।দুজনের মুখ ছুইছই।অন্য হাতে শাড়ির অংশ ভেদ করে হাত গলিয়ে দিলো প্রিয়ার উন্মুক্ত লতানো কোমড়ে।আকাশের ঠান্ডা হাতের স্পর্শে আগুনের দহন হচ্ছে প্রিয়ার সর্বাঙ্গে।কেপে উঠলো ভয়াবহ।আকাশ কোমড়ে শক্ত করে চেপে ঠেলে পিছিয়ে গেলো প্রিয়াকে নিয়ে।প্রিয়ার নরম শরীর গিয়ে ঠেকলো বিছানার হেডবোর্ডে।
আকাশ এবার দ্বিগুণ হাস্কিস্বরে বললো,”হুশশশ ডোন্ট টক।এখন তুমি চেঁচাবে। কিন্তু সেটা আমার আদরে।লেট মি লাভ ইউ পাখি অ্যান্ড লেট মি মেক ইউ ক্রাই।”
এতক্ষণ সেরকম ভয় না করলেও এখন বলতে গেলে ভয় চেপে ধরেছে প্রিয়াকে। ঘরের মধ্যে দুজনের নিঃশ্বাস এর শব্দ আর ঘড়ির টিকটিক ছাড়া এই মূহুর্তে আর কেনো শব্দ আসছে না।বুকের ভিতরটা দ্রিমদ্রিম করছে।প্রিয়ার অবশ্য এই মূহুর্তে সব ছাপিয়ে নিজের বুকের ওই হাতুড়ি পেটানো শব্দই বেশি কানে বাজছে।আকাশ নিজের মুখ এগিয়ে আনতেই কারোর একজনের ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠলো।স্তব্ধ ঘরে দারুণ জোরে শোনালো সে শব্দ।আকাশ প্রিয়াকে ছেড়ে নিজের পকেট হাতড়ালো।রিংটন টা তারই।প্রিয়া এই সুযোগ এর সঠিক ব্যবহার করলো বোধহয়।ঝটপট সরে দাড়ালো সেখান থেকে।দেয়াল থেকে দূরে যাওয়া উচিত। এ লোক কিছু হলেই তাকেই দেয়ালে পিষে মেরে ফেলতে চায়।
আকাশ ফোন টা বের করে নজর বোলায়।অফিসের আরজেন্ট কল।না হলে এই সময় মোটেই ধরতো না।এক নজর প্রিয়ার ওপর দিয়ো ঘুরে গিয়ে দাড়ালো জানালার কাছে।কথা বলছে মনোযোগ দিয়ে।প্রিয়া এদিকসেদিক তাকালো।ছুটে বেড়িয়ে যাবে?লোকটা একবার ধরলে ক্ষত না করে ছাড়বে না।অজান্তেই হাত চলে গেলো নিজের ওষ্ঠের ওপর।যেখান টায় আসার দিন রাতের আকাশের সযত্নে করা ক্ষত এখনো রয়েছে।পানি খেতে গেলে এখনো জ্বালা করে।একদিনেই লোকটার আদরের গভীরতায় ভয় পেয়ে গেছে মেয়েটা।প্রিয়া গুটিগুটি পায়ে দরজার দিকে পা বাড়াতেই সামনে এসে দাড়ালো আকাশ।ভ্রু নাচালো।
“কোথায় যাচ্ছো?”
প্রিয়া তোতলালো।”কো..কো..কোত্থাও না তো।”
“পিছিয়ে যাচ্ছো কেনো?”
প্রিয়া ঢোক গিললো।পা স্থির হলো।রোবটের মতো দাড়িয়ে রইলো।আকাশ মুখে বিরাজ করা হাসি মোটেও দৃশ্যমান করলো না।দু হাত বুকের ওপর আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করলো।দু চোখের মাঝখানে সরু ভাজ পরলো।
“তুমি কি আমাকে ভয় পাচ্ছো?”
আকাশ একপা একপা করে আবার তার দিকে এগিয়ে আসছে।
“আপনি এগোচ্ছেন ক্যা..ক্যানো?”
আকাশের মুখে কপট চিন্তার ভাজ পরলো।খানিক অবাক হওয়ার ভান করে বললো,”এগোবো না?দুজনেই যদি পিছিয়ে যাই কাজ টা করবো কি করে?”
আকাশের অন্য রকম দৃষ্টি, নেশা মাখানো কন্ঠ প্রিয়ার মাথা শূন্য হয়ে আসছে।
“ক.।ক..কি কাজ করবেন?”
আকাশ খেয়াল করলো ভয়ে গুটিয়ে যাওয়া প্রেয়সী কে।মেয়েটা দারুণ ভয় পাচ্ছে।চোখমুখ কেমন লাল হয়ে গেছে।লজ্জায় এদিকসেদিক এলোমেলো দৃষ্টি লুকাতে ব্যাস্ত।দু হাতে চেপে ধরে আছে শাড়ির অংশ।আকাশ পুরো নারীদেহ পরখ করলো একবার।জরজেট শাড়ি ভেদ করে ধবধবে ফর্শা বাকানো কোমড় স্পষ্ট দৃশ্যমান। রুমে এসি অন করা,মেয়েটা তাও ঘামছে।সামনের চুলগুলো ভিজে গেছে ঘামে।এক কালার ব্লাউজ ও ভিজে উঠেছে।বুকের বা পাশে হাত দিলো।ঝড় উঠেছে প্রেয়সীর এ আবেদনময়ী রুপে তার বুকের ভিতরটায়।পলকহীন তাকিয়ে রইলো সুশ্রী মুখশ্রীর দিকে।তিরতির করে কাপতে থাকা পাতলা লাল টকটকে ঠোঁট, চোখের পাপড়ি সব পরখ করলো গভীর মন দিয়ে।নরম গলায় বললো,”তোতলাচ্ছো কেনো?”
“কই না তো।”
“ভয় পাচ্ছো আমাকে?”
“নাহ।”
“তাহলে কাছে এসো।চোখটা বন্ধ করো।”
প্রিয়ার চোখ রসগোল্লার মতো বড় বড় হয়ে গেলো।মুখে রাজ্যের কৌতুহল, ভয়,লজ্জা একাকার মিলেমিশে। অবাক হওয়ার চূড়ান্তে।অস্ফুটস্বরে উচ্চারন করলো,”হ্যা?”
আকাশ কপট হতাশ হলো।দু দিকে হতাশায় মাথা নাড়লো।গম্ভীর গলায় বললো,”আমি বললাম চোখ বন্ধ করতে,তুমি উল্টো চোখ বড় বড় করে ফেললে?”
প্রিয়ার মাথায় উল্টোপাল্টা ধারনা এসে হানা দিচ্ছে।শব্দ করে কেঁদে ফেললো এবার।নাকের পাটা রক্তিম হয়ে গেছে,ফুলেফেঁপে উঠছে।গাল দুটো তো কখন থেকেই টমেটোর রঙ্গ ধারন করে আছে।একপ্রকার ফুপিয়ে ফুপিয়েই বললে,”আমি আর রাগ করবো না সত্যি! দরজা টা খুলে দিন।রুমে যান।সবাই একরুমে দেখলে অন্য কিছু ভাববে।”
আকাশ বাঁকা হাসলো এবার।ফিসফিস করে বললো,”কি অন্য কিছু?কোনটার কথা বলছো?”
“রুমে যান প্লিজ।”
আকাশ দু দিকে মাথা নেড়ে সে প্রস্তাব নাকচ করলো।
“উহু আগে যেটা বললাম সেটা করো।কাছে এসো।তারপর যা করার করবো।”
“দেখুন ঠোঁটের কাটা টা এখনো কিন্তু সারেনি।আবার কামড়া…”
মুখ ফসকে কি বলতে যাচ্ছিলো সে।ইশশশ লজ্জা।দাঁতে জিব কাটলো।শুধরে নিয়ে জলদি বললো,”মানে আর কিছু করবেন না প্লিজ।আজকে অন্তত।”
আকাশ এবার সত্যিই হতাশ হলো।মেয়েটা বেশি বোঝে।কেউ এক লাইন বেশি বুঝলে মানানো যায়।কিন্তু পুরো একপাতা বেশি বুঝে বসে থাকলে সে কি করতে পারে।এই মূহুর্তে সে নিজের মনের ওপর এক ট্রাক পাথর চাপা দিয়ে কনট্রোল এ আছে।এখন যা করছে শুধুমাত্র মেয়েটাকে বিরক্ত করতে।এর বেশি কিছু করলে সে নিজেই নিজেকে সামলাতে পারবে না।আর এই নিষিদ্ধ কাজগুলো সে জেনে-বুঝে রোজ করতে চায়না।মুখের বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট।
“ক বললে ক টাই বোঝা উচিত। মেয়ে মানুষ জাত টাই বেশি বোঝে।ক কে কাতার বানাতে দু সেকেন্ড ভাবে না।ডাকলাম নরমালি কাছে,সে কামড়াকামড়ি তে চলে গেছে।কপাল সবই কপাল।”
আকাশ ঘুরে গিয়ে পা ছড়িয়ে বিছানায় বসলে।প্রিয়া এবার আরও লজ্জা পেলো।সে সত্যি বেশি বোঝে।আগেই মুখ ফসকে এসব বলার মানে কি ছিলো। আকাশ না জানি তাকে কি ভাবছে।এ মেয়ের মাথায় সবসময় এসবই ঘোরে।নিজের কার্যকলাপে সত্যি হতাশ সে।পর মূহুর্তে নিজেকে শান্তনা দিয়ে ফেললো।তার দোষ কোথায়।এতরাতে কোনো পুরুষ মানুষ যদি তার প্রেমিকার ঘরে এরকম প্রেমিক প্রেমিক আচরন শুরু করে কোন প্রেমিকা ক কে কতার ভাববে না!
“ওখানে ঠায় না দাড়িয়ে থেকে চেঞ্জ করে ফেলো আর নিচে না গেলে। অস্থির লাগছে আমার।”
আকাশের গম্ভীর কন্ঠে হুশ ফিরলো প্রিয়ার।কপাল কোচকালো।শাড়ি পরে আছে সে,তার ওপর গরমও তো নয়!আকাশের অস্থির লাগছে কেনো।
“শাড়ি পরে আছি আমি।অস্থির লাগে আপনার!”
আকাশ ঘাড় বাকিয়ে পিছনে তাকালো।মেয়েটা ঠায় ওখানেই দাড়িয়ে আছে।
“এদিকে এসো।কিছু করবোনা।”
প্রিয়া লজ্জা পেলো,সাথে রাগও হলো।এ কি ধরনের কথাবার্তার ছিড়ি।কিছু করবনা মানে কি!করবে না তো মুখে বলার কি আছে।সে কি বোঝাতে চাইছে?সে কিছু করবে সেই আশায় প্রিয়া বসে আছে!হাহ্।মুখ বাঁকালো প্রিয়া।গটগট করে এগিয়ে এসে দাড়ালো আকাশের সামনে।
আকাশ দু হাত বিছানায় ভর দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসেছে।এক কনুই এ ভর দিয়ে অন্য হাতে ব্ল্যাক শার্টের ওপরের দুই বোতাম খুলে ফেললো।অসহ্য গরম লাগছে।ঘামছে রীতিমতো। এতক্ষণ মেয়েটাকে বিরক্ত করার নিয়তে শুরু করলেও এখন শরীর নিয়ন্ত্রণ এর বাইরে গেছে।কেমন একটা লাগছে। এ ঘরে এখন দুজনের থাকা একদম নিরাপদ নয়।অথচ এক বিন্দু ও ইচ্ছে করছে না চলে যেতে।দু চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস নিলো।
প্রিয়ার মুখে চিন্তা খেলা করছে।আকাশ অস্বাভাবিক ঘেমে গেছে।কালো শার্টটা শরীরে লেপটে গিয়েছে।দু দুটো বেতাম খোলায় লোমহীন আকর্ষণীয় বুকটা তার চোখের সামনে।কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পরছে।নিখোঁজ হচ্ছে সেই শার্টের ভিতরে।জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলায় অ্যাডমস অ্যাপেল খানা ওঠা নামা করছে।প্রিয়া ঢোক গিললো।বুকটা ঝাঝরা হয়ে যাচ্ছে।ও-ই অ্যাডামস অ্যাপেল টা ছুয়ে দিলে আকাশ কি রেগে যাবে!আকাশ চোখ খুলছে না।নিজেকে খুব করে ধাতস্থ করতে চাইছে,খুব জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে। প্রিয়া এ যাত্রায় আর চুপ থাকতে পারলো না।হুড়মুড়িয়ে বিছানায় এসে বসলো আকাশকে ঘেষে।মুখে চিন্তার ভিড়।উদদিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করলে,”কি হয়েছে আপনার?হ্যা?এমন করছেন কেনো?”
আকাশ কিচ্ছু বললো না।হাতের ভর ছেড়ে দিলো।সটানে শব্দ করে পড়লো বিছানায়।প্রিয়া আরও হতচকিত হলো।আকাশের শরীর খারাপের ভয়ে তার বুকটা দুমড়েমুচড়ে উঠলো। এগিয়ে এলো আকাশের মাথার দিকে।নিচু হয়ে দ্রুত হাতে নিজে শাড়ির আচলে আলতো হাতে ঘাম মুছতে চাইলো।আকাশ হাত ধরে ফেললো।দু দিকে মাথা নেড়ে নিষেধ করলো।
“কি হয়েছে বলবেন তে।পানি দেবো?কি লাগবে বলুন না।শরীর খারাপ লাগছে।কোথায় কষ্ট হচ্ছে? “
প্রিয়ার ভয়ার্ত কন্ঠে চোখ মেললো আকাশ।প্রিয়া তার ওপর ঝুঁকে আছে।চোখমুখ চিন্তায় শুকিয়ে উঠেছে।কোথায় কষ্ট হচ্ছে কি করে বলবে সে।প্রিয়া বিছানায় শাড়ির আচল কাধের ওপর তুলে দিয়ে বসেছে।ফল সরুপ বা পাশটার অনেক কিছুরই মাপ করা যাচ্ছে।আর ধনুকের মতো বাকানো কোমড়টা তো নগ্ন অবস্থায় বেড়িয়েই আছে।মেদহীন তবুও ঝুকে বসায় হালকা ভাজ পরেছে সেখানটায়।আকাশের এখন খুন হতে ইচ্ছে হচ্ছে। ধৈর্য নামক বস্তু টি খাচা ছেড়ে পালিয়ে যেতে যুদ্ধ ঘোষনা করেছে।সত্যি এ সময়ে ওর ঘরে আসা উচিত হয়নি।একদম হয়নি।
“শাড়ি টা পালটাচ্ছো না কেনো তুমি?”
“আপনার শরীর খারাপ আর আপনি পরে আছেেন আমার শাড়ি নিয়ে!আজব মানুষ আপনি।”
“নির্বোধ। “
“আমি নির্বোধ? আমি?হুম?”
আকাশ অসহায় তাকিয়ে রয় অবুঝ প্রেয়সীর আবেদনময়ী রুপের দিকে।আকাশের জবাব না পেয়ে একই স্বরে শুধায় প্রিয়া,”বলুন না কি হয়েছে। পানি খাবেন?ভালো লাগবে কিন্তু। দেবো?”
“উহু।অন্য কিছু মন চাইছে।”
“বলতেই তো বলছি।বলছেন না কেনো।আমি এনে দিচ্ছি।”
আকাশ ঘোরলাগা চোখে দেখে মেয়েটার আদুরে মুখটা,মন দিয়ে শোনে তার আদুরে কথাগুলো।হালকা হাসে।দীর্ঘশ্বাস ফেলে হুট করে উঠে বসে।বিছানা ছেড়ে নেমে দাড়ায়।পিছনে আর তাকায় না।সাহস হয়না।
“শাড়ি পাল্টে নাও জলদি।শুয়ে পরো”
আকাশ দরজার দিকে পা বাড়াতেই।বিছানা থেকে দ্রুত নেমে আসে প্রিয়া।স্পষ্ট বুঝতে পারছে মানুষ টার শরীর খারাপ লাগছে এই অবস্থায় আবার কোথায় যাচ্ছে।হাত টেনে ধরলো আকাশের।আকাশ চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে ফেললো।মেয়েটার থেকে এখন পালিয়ে যেতে পারলে বাঁচে, বোকা মেয়েটা সেটা বুঝলে তবে তো!এই মূহুর্তে প্রিয়ার নরম হাতের স্বাভাবিক স্পর্শও ইলেকট্রনিক শক দিলো যেনো।
“শরীর খারাপ লাগছে আপনার।রীতিমতো ঘামছেন।শ্বাস নিতে পারছেন না।কোথায় যাচ্ছেন এ শরীর নিয়ে।বসুন বলছি।আমাকে বলুন কি দরকার এনে দিচ্ছি আমি।”
আকাশ ধীরে সু্স্থে ঘুরলো।অসহায় দৃষ্টি বোলালো বোকাসোকা প্রেয়সীর দিকে।মেয়েটা খুব চঞ্চল। অথচ দারুণ বোকা।ছেলেমানুষ এখনো।কোনটা প্রেমের অসুখ আর কোনটা কি এখনো ধরতে পারে না।প্রিয়া এখনো ছোট্ট হাতটা দিয়ে শক্ত করে ধরে আছে আকাশের কবজি।
“আমার ওষুধ টা এ ঘরেই আছে।”
“তাহলে বোকার মতো চলে যাচ্ছিলেন কেনো?কোথায় রেখেছেন। বলুন। “
বলেই এদিকওদিক খুঁজতে লাগলো।শান্ত হাসলো আকাশ।অন্য হাতে আলতো করে ধরলো প্রিয়া ডান হাত খানা।টেনে আনলো নিজের দিকে।প্রিয়া চমকে তাকালো।
“ওষুধ টা নিলে এ যাত্রায় হয়তো ভালো হবে খানিকটা,বুকের ব্যাথা টা কমবে।না নিলে সারারাত ব্যাথা করবে,জ্বালা করবে গোটা শরীর,ঘুম হবে না।”
“তাহলে ওষুধ টা তো নিতেই হবে।বলছেন না কেনো কোথায় ওটা।এনে দেই আমি।”.
আকাশ শব্দ করে হাসলো।প্রিয়া মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখলো সে হাসি।আকাশের এমন হাসি সে খুব কালে ভদ্রে দেখেছে।কি যে সুদর্শন লাগে লোকটাকে।
“ সত্যি দেবে।”
প্রিয়া সজেরে মাথা ওপর নিচ করে।
“কিন্তু সেটা নিষিদ্ধ যে।সময় অসময় নেওয়া উচিত নয়।একদম উচিত নয়।অন্যায়।”
প্রিয়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায়।হা হয়ে যায় মুখ।কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করে।
“আ.আ..আপনি ড্রাগ নেন?”
প্রিয়ার এহেন বোকা কথায় এবার হাসির বাধ ভাঙলো আকাশের।শব্দ করে হেসেই যাচ্ছে।প্রিয়া হাসির মাথামুন্ডু বুঝলো না।জোরে জোরে ঝাকালো আকাশের দু হাত।
“বলুন না।হাসছেন কেনো? ড্রাগ নেন?”
আকাশ কোনো মতে হাসি থামালো।আঙুলে কপাল চাপলো।
“কেনো মনে হলো আমি ড্রাগ অ্যাডিক্ট?”
প্রিয়া ঠোট উল্টালো।বড় মানুষ এর মতো করে বললো,”বা রে..নিষিদ্ধ, অন্যায়।না নিলে ঘুম হয় না।হাবিজাবি। এগুলো তো ড্রাগ অ্যাডিক্ট এর কথা।”
“ড্রাগই।ঠিকই বলেছো।আমার পারসোনাল ড্রাগ ওটা।”
প্রিয়া অবাকের চূড়ান্তে।কাঁদো কাঁদো হয়ে গেলো সুশ্রী মুখখানা।
“আপনি এ কথা আমাকে আগে বলেননি কেনো?”
“তাহলে ভালোবাসতে না?”
টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরলো প্রিয়ার চোখ থেকে।যেখানে সিগারেটই সে দু চোক্ষে দেখতে পারে না সেখানে ভালোবাসার পুরুষের এমন এক নিষিদ্ধ অ্যাডিকশন।দুঃখে মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে তার।
“আপনি ছেড়ে দেবেন এসব।”
আকাশ নিঃশব্দ,লুকিয়ে হাসলো।মেয়েটা সত্যিই ড্রাগের কথাই ভেবেছে।এখনও বোঝেনি আকাশ কি বোঝাতে চাইছে।মুখটা ফোলা ফোলা।হাত বাড়িয়ে ডান হাতের আঙুল উল্টো করে ছোয়ালো প্রিয়া রক্তিম গালে।আকাশের হাতের পরশে চোখ বুঝলো প্রিয়া।আকাশ নরম গলায় বললো
,”সম্ভব নয় তো।বাচবোনা।”
প্রিয়া ফট করে তাকালো।আহত হলো যেনো।তার থেকে ড্রাগ বেশি গুরত্বপূর্ণ? যে তার কথাতেও ছাড়তে পারবে না।গাল ফুলিয়ে বললো,”ছাড়তে হবে।”
“সম্ভব নয়।আর এই মূহুর্তে আমার ড্রাগ লাগবে।রাইট নাও।আমি আর সহ্য করতে পারছি না।”.
“ আমি কিন্তু…
প্রিয়ার কথা শেষ হয় না।একজোরা ভেজা ঠোঁট দখল করে নেয় তার ওষ্ঠজোড়া।চেপে ধরে রাখে।শব্দ করে চুমু খেয়ে সাথে সাথেই ছেড়ে দেয়।প্রিয়া হতভম্ব হয়ে গেছে।
“এটা আমার ড্রাগ।পারসোনাল ড্রাগ।নিষিদ্ধ, বিয়ে ছাড়া অন্যায়।অথচ বেহায়া মন মানতে চায়না।পাগলামি করে।এই ড্রাগের টেস্ট নিতে না পারলে মরেই যেতাম হয়তো আজকে।”
প্রিয়া লজ্জা,হতভম্বতা কাটিয়ে এক হাতে চেপে ধরে আকাশের মুখ।
“চুপ।মরে যাবেন মানে কি।এসব কথা আমার সমানে,অগোচরে কখনো উচ্চারণ করবেন না।কখনো না।”
“এই ড্রাগ টা কি নিষিদ্ধ করে দেবে আমার জন্য? “
প্রিয়া লজ্জা পেলো।বুকটার ভিতর এলোপাতাড়ি কেউ হাতুড়ি পেটাচ্ছে।মাথা নোয়ালো।আঙুল খোটাচ্ছে মেঝেতে।আকাশ হাসলো।কোমড়ে হাত দিয়ে টেনে আনলো নিজের দিকে।মাথা নামিয়ে শব্দ করে চুমু খেলো প্রিয়ার ঘাড়ের উন্মুক্ত অংশে।প্রিয়া শার্ট খামচে ধরলে আকাশের।চোখ বন্ধ হয়ে গেছে আবেশে।আকাশ ঠোঁট এগিয়ে নিলো তার কানের কাছে।
“আমাকে যেতে দাও কেমন?আমি এখানে থাকলে তোমাকে ছুতে না পারলে আজ নিশ্চিত মরে যাবো।আর যখনতখন শাড়ি পরনে না।হ্যা?আমার সব এলোমেলো হয়ে যায়।চুলগুলোও বেধে রাখবে আমার সমানে।আমি নিজের মধ্যে থাকিনা,গুছিয়ে কথা বলতে পারি না।অস্থির লাগে।শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।আমাকে পাগল করার অনেক সময় পাবে।বিয়ের পর যা করার করবে।এখন না কেমন?”
ঠোঁট কামড়ে চোখ বুজে আকাশের বুকে মাথা ঠেকিয়ে সবটা শুনলো প্রিয়া।নারীত্বে ঝড় উঠেছে তার।আকাশের সবকটা কথা বুঝতে পেরেছে সে।শরীরে কঠিন শিহরণ বইছে।আকাশ ছেড়ে দিতেই আকড়ে ধরলো সে আকাশের শার্টের ওপরের অংশ। আকাশ থমকে গেলো।
“এভাবে চলে যাবেন না।”
“আমি যা চাই সেটা তোমার জন্য এখন নয়।তেমার কষ্ট হবে ”
“হবে না।অতটুকু কষ্ট সয়ে নিতে পারবো।”
“ঠোঁট জ্বালা করছে না।”
“করুক।আপনি এখন এভাবে চলে গেলে সারারাত বুক জ্বালা করবে।সেটা বেশি পোড়াবে আমাকে।”
আকাশ এর শরীরের প্রতিটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সাড়া দিচ্ছে।মেয়েটা বোকা সত্যি। নিজ থেকে পুড়তে চায়।
“সীমার বাইরে যেতে নিলেই থামিয়ে দেবে কেমন?যেভাবে পারো।”
প্রিয়ার উত্তরের আশায় রইলো না আকাশ।আকড়ে ড়লো মেয়েটার ওষ্ঠজোড়া।প্রিয়া আবেশে চোখ বুজে খামচে ধরে রইলো আকাশের শার্ট।আকাশের অবাধ্য হাত জোড়া বেয়াহা স্পর্শে জড়িয়ে নিচ্ছে নগ্ন উদর।শাড়ি ভেদ করে এলোমেলো অশালীন ভাবে নড়াচড়া করছে হাতটা।প্রিয়া ধীরেসুস্থে তাল মেলালো আকাশের সাথে। চুমুর তীব্রতা আর সহনীয় রইলো না।আকাশ বোধহয় প্রাণপনে চাইলো,কিন্তু ব্যার্থ হলো।গভীর থেকে গভীর আদরে ছুয়ে দিলো মেয়েটার অধর।চুমুতে স্থির নেই আর কামড়ে কামড়ে ক্ষত হচ্ছে আবার।প্রিয়া বাধা দিলো না।সমান তালে সেও মজলো যন্ত্রণা ময় আদর নিতে।
আকাশ তাকালো। মেয়েটার রক্তিম হওয়া অধরোষ্ঠ পরখ করলো।মেয়েটা চোখ বুজে আছে।কামুকতার ছাপ পুরো মুখে।আকাশ সময় নষ্ট করলো না।আবার গভীর ভাবে চুমুতে ভরিয়ে দিলো।বেশ সময় নিয়ে ক্ষান্ত হলো সে।ঘড়ির কাটায় কতক্ষণ পার হয়েছে হিসেব রইলো না।দু হাতের আজলায় নিলো প্রিয়ার মোমের মতো শুভ্র মুখখানা।ভেজা চুমু দিলো কপালে।দুজনেই হাপাচ্ছে।
“আর এক সেকেন্ড এঘরে থাকলে বললে সর্বনাশ হয়ে যাবে প্রিয়া।দরজা লক করে ঘুমিয়ে পরো।”
আকাশ দাড়ায় না আর।হাতের উল্টো পিঠে নিজের ঠোট মোছে।প্রিয়ার ঠোটের গাঢ়ো লিপস্টিক ছড়িয়ে আছে মেয়েটার ঠোটের চারপাশে।তার ঠোট জোড়াও সেই রঙে রাঙা হয়েছে সেটা সে শতভাগ নিশ্চিত।শার্টের বাকি বোতাম গুলো আলগা করতে করতে দ্রুত বেড়িয়ে যায় ঘর থেকে।
প্রিয়া সময় নিয়ে চোখ খোলে।ব্যাথা জরজরিত ঠোঁট জোড়ায় আঙুল ছোয়ায়।চোখ টলমল করছে।লজ্জায় কান দিয়ে গরম ধাপ বের হচ্ছে। শরীরের লোম দাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই।ঘেমে-নেয়ে একাকার শরীরে রক্তলাল শাড়িটি লেপটে গেছে।লজ্জায় আরষ্ঠ হয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে দরজা লক করে সেথায় পিঠ ঠেকিয়ে দাড়ায়।চেপে ধরে বুকের বা পাশটা।মুখে হাসি ছড়িয়ে পরেছে…
চলবে ইনশাআল্লাহ ❤️🌸
[#সাঁঝের_মায়া যতজন পড়েন,তার থেকেও ডাবল মানুষ #আকাশপ্রিয়া পড়েন।এটায় রেসপন্স কম ক্যানো?হুম?আর ভাল্লাগছে না?গল্পের মূল কাহিনি তে তো ঢুকলামই না এখনো।আগেই অনিহা???রেসপন্স করবেন কেমন?কষ্ট করে লিখি,আপনারা রেসপন্স না করলে খারাপ লাগে। ]

