#আকাশপ্রিয়া ____[পর্ব ৪৯]
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
.
ঘড়ির কাটা বিকেল চারটে তে এসে ঠেকেছে সবেই। আকাশ নিজের কেবিনে এসে বসার সময় পেলো মাত্র। সারাদিন খাওয়া দাওয়াও হয়নি । কাজের ব্যাস্ততায় দম ফেলার ফুসরত নেই একদম। সবারই অবশ্য একই অবস্থা তাদের। ম্যানেজার কে খাবার আনতে বলে ফোন তুললো। সারাদিন আজ প্রিয়ার ফোন আসেনি। সে সময় করে ও বেলা ফোন করেছিলো একবার। ফোনটাও তোলেনি। আবার কি রাগ করলো নাকি! তবে আবার রাগ করার কোনো কারণই খুজে পেলো না আকাশ।
টেবিলের ফাইলপত্রগুলো সাইটে রেখে ফোন করলো প্রিয়াকে। এবারে ফোন টা বন্ধ বলছে। আকাশ দীর্ঘশ্বাস ফেললো। নিশ্চিত রাগ করেছে মেয়েটা। আর কাউকে কল দিয়ে মেয়েটার খবর জানারও উপায় নেই। সবাই আজকে অফিসে এসেছে। যদিও প্রিয়া একা নয় বাড়িতে, বুয়াকে রেখে এসেছে। আকাশ গতদিনই ঠিক করেছে প্রিয়া কে একা বাসায় রাখাবে না। তবে তাদের বুয়ার ব্যাক্তিগত কোনো ফোন নেই। সুতরাং প্রিয়া ফোন না ধরলে যোগাযোগ এর উপায় নেই।
আকাশ ওপাশে রাতুলদের জলদি কাজ চাপিয়ে ফেলতে বললো। সন্ধ্যার পর সবাইকে নিয়ে একটু ঘুরতে বের হওয়ার প্ল্যান আছে। প্রিয়া সেদিন রাতে বলছিলো বারবার। ফেরার সময় মনে করে পিজ্জাও নিতে হবে। সেদিন নেবে বলেও দোকান বন্ধ থাকায় নিতে পারেনি, আজকে নিয়ে না গেলে তার বাড়িতে ঢোকা দুষ্কর হয়ে যাবে হয়তো।
*
কটেজে সবার আগে ফিরলো অয়ন আর শিয়া। তারপর একে একে সকলে। আকাশ, রাতুল ফিরলো সবার পরে। আকাশ প্রিয়ার জন্য পিজ্জা কিনতে গিয়েছিলো। বিধায় দেরি হয়েছে খানিকটা। তবে কটেজে ফিরে দেখলো উদ্বিগ্ন মুখগুলো। সকলে বসার ঘরে ব্যাস্ত পায়চারি করে। অয়ন, রাকিব রা একের পর এক ফোন করে যাচ্ছে কাউকে। শিয়ার চোখমুখ টকটক করছে কেমন যেনো। হাতের প্যাকেট টা টেবিলে রেখে ভ্রু কুচকে এগিয়ে এলো আকাশ।
____”এনি প্রবলেম?”
আকাশের কন্ঠ পেয়েই একপ্রকার ছুটে এলো শিয়া। ব্যাস্ত কন্ঠে বললো,
____”তোমাকে ফোন করছিলাম কখন থেকে! ধরছিলে না কেনো? প্রিয়ু কটেজে নেই আকাশ।”
ফোন টা সাইলেন্ট করা ছিলো। মিটিং এর সময় সাইলেন্ট করেছিলো ,তারপর আর নরমাল করা হয়নি। প্রিয়া কটেজে নেই! মানে টা কি। সময় দেখলো আকাশ। ঘড়ির কাটা রাত আট টা বেজে তেরো মিনিট। এই এলাকা অনুযায়ী এটা বেশ রাত। আকাশের কপালের ভাজ দৃঢ় হলো আরও খানিকটা। গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
____”নেই মানে?”
শিয়া হাতের উল্টো পিঠে চোখ মুছলো। কান্না গিলে বললো,
____”জানিনা ৷ আমরা আসার পর থেকে কটেজে কেউ নেই। তালা দেওয়া ছিলো। লক খুলে ভিতরে এসে দেখি বাড়ি ফাকা। ঘরে নেই, পুরো কটেজ খুজলাম। কোত্থাও নেই। রিমি কে ফোন করেছিলাম। রিমির কাছেও নেই। প্রিয়ার আর কোনো ফ্রেন্ড নেই। কোথায় যাবে আমার বোন টা।”
আকাশ এতক্ষণ এ বুঝি সবটা ধরতে পারলো। বন্ধু দের এক নজর পেলে ছুটলো ওপরে। সত্যিই পুরো বাড়ি কোথাও নেই প্রিয়া। ছাদেও নেই। রাকিব রা অপেক্ষা করলো না কটেজের ভিতরে। আশেপাশে দেখতে ছুটলো।
এদিক কার পাহাড়ি অঞ্চলে সব স্থানীয় আদিবাসী দের বসবাস। পাহাড়গুলো সবুজে সবুজে ছেয়ে থাকে। বিশাল বিশাল গাছপালা আর পাহাড়ের কোল ঘেষে আঁকাবাকা সব রাস্তা। আকাশ দের কাজের সেক্টর টা এমনই এক পরিত্যাক্ত জায়গায়। যেখানে কয়েক একর জায়গায় বিশাল পাঁচ তারকা হোটেল করা হচ্ছে পর্যটকদের জন্য। তাছাড়া আশপাশের কয়েক কিলোমিটারেও কোনো জনসমাগম নেই খুব একটা। রাকিব,রেদোয়ান ফোন করে নিলো অফিসের আরও কয়েকজন স্টাফদের। আকাশ, অয়ন, রাতুল আলাদা আলাদা হয়ে বের হলো আশপাশ টা দেখতে।
সম্ভবত অমাবস্যার সময় এটা। ঘুটঘুটে অন্ধকার চারিদিকে। আকাশে চাঁদ তাঁরার চিহ্ন মাত্র নেই। কৃত্রিম আলো ছাড়া এক কদম হাটাচলার উপায় নেই। কটেজের পাশের জঙ্গলের ভিতরে অবধি চলে গেলো আকাশ আর রাতুল। অয়ন আর শিয়া ওদিকে গাড়ি নিয়ে মেইন রাস্তা ধরে গেছে। আকাশের এর মুখটা লাল হয়ে গেছে। ক্রমাগত ঘামছে ছেলেটা। রাতুল বন্ধুর দিকে হতাশ দৃষ্টিতে তাকালো। সফেদ শার্টে এরইমধ্যে ময়লা লেগে গেছে বিভিন্ন গাছের সাথে ধাক্কা লেগে। ওপরের তিনটে বেতাম এলোমেলো হয়ে খোলা। ঘেমে-নেয়ে কপালে চুল গুলো লেপটে আছে। রীতিমতো হাপাচ্ছে ছেলেটা৷ রাতুল পাশাপাশি ছুটছে। প্রিয়ার নামে চিৎকার করছে সকলে। তাদের আরও দুটো কটেজের সবাই বেড়িয়ে এসেছে এতক্ষণ খবর পেয়ে।
আকাশ খরখরে ঠোঁট জোড়া জিব দিয়ে ভেজালো। আচমকা থেমেও গেলো। রাতুলের দিকে তাকিয়ে বললো,
____”প্রচুর পোকামাকড়। দেখেছিস,সাপ পোকার আস্তানা এসব জায়গা ৷ তার ওপর অন্ধকার। মেয়েটা তো মরে যাবে ভয়ে, বাচ্চা মেয়ে। অল্পতে ভয় পায়।”
আকাশের কন্ঠে চমকে উঠলো রাতুল। আকাশকে এতো বিধ্বস্ত মনে হয় সে এ জীবনে দেখেনি। এতো হতাশ কন্ঠ আকাশ এহনাজ এর সাথে যায়না। একদম যায়না। অজান্তেই বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। বন্ধুর কাধে হাত রেখে শান্তনা দিলো,
____”কিচ্ছু হবে না ওর। কি হবে! ও এখানে আসবে কেনো! আমরা তো জাস্ট এমনিই খুঁজতে এসেছি। ও সেফ আছে। চল। এখানে নেই ও।”
আকাশ কেমন তালগোল হারিয়ে ফেলছে জেনো নিজের। রাতুলের সাথে সাথে ফিরে চললো।
একে রাত গভীর হচ্ছে, তার ওপর অম্যাবস্যা। গুড়গুড় শব্দ হচ্ছে আকাশে । ভ্যাপসা গরম ছেড়েছে প্রচুর। ঝড়ের পূর্বাভাশ আরকি । মেইন রোডে এসে একত্রিত হলো সকলে। সবার চোখমুখে রাজ্যের হতাশা এসে ভিড় করেছে। মাথা নেড়ে বোঝালো পায়নি এখনো।
পুরো শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরেছে আকাশদের লোকজন। রাত গভীর হচ্ছে চিন্তা বাড়ছে তত। আকাশ এর মেজাজ তুঙ্গে । সবাইকে ধমকের ওপরে রাখছে। তবে ওর কথা বা ব্যবহারে আদতে কেউ-ই মনে কিছু করছে না। কারণ আকাশকে এতোটা অসহায়,বিধ্বস্ত এর আগে তারা কেউ দেখেনি। রাতুল ফোন নিয়ে আকাশের গাড়ির কাছে এলো। গাড়ি মেইন রোডের ওপর থেমে আছে। দরজা খোলা। ড্রাইভিং সিটে বসে দু হাতে মাথার চুল খামচে বসে আছে আকাশ। রাতুল হন্তদন্ত পায়ে এসে দাড়িয়ে ল্যাপটপ টা বাড়িয়ে দিলো আকাশের দিকে।
____ “আকাশ, সিসিটিভি ফুটেজ।”
আকাশ রক্তিম চোখ নিয়ে ফোন টা হাতে নিলো। ফুটেজ চালিয়ে দেওয়ার মিনিট কয়েক এর মধ্যেই ভ্রু কুচকে এলো তার। চোয়াল শক্ত হলো। কঠিন চোখে রাতুল এর দিকে তাকালো। রাতুল মাথা নেড়ে বললো,
____”রিয়ান এসেছিলো তখন সবে সন্ধ্যা। মাগরিব এর আজান হয়েছে। বাড়ির ভিতরে অবধি গিয়েছে। বেরিয়েছে তার মিনিট পনেরো পর। প্রিয়া স্বাভাবিক ভাবেই বের হচ্ছে ওর সাথে। ওরা বের হওয়ার প্রায় সাথে সাথে বুয়া বেরিয়ে চলে গিয়েছে। “
আকাশ মনোযোগ দিয়ে পুরোটা ফুটেজ দেখলো। কয়েকবার জুম করে করে দেখলো। ক্যামেরা বেশ ওপরে থাকায় মুখের ভাবভঙ্গি স্পষ্ট বোঝা না গেলেও প্রিয়া কে যে জোর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না, সেটা স্পষ্ট। আকাশ ফোন টা ছুড়ে মারতে গিয়েও মারলো না। সেটা শক্ত করে চেপে চোখমুখ খিচে বন্ধ করে ফেললো। দাঁতে দাঁত পিষে রাতুল কে বললো,
____”রিয়ান এখন কোথায় ট্রেস করা যায়নি?”
____”নাহ। ফোন বন্ধ বলছে। লাস্ট লোকেশন আমাদের কটেজই দেখাচ্ছে। প্রিয়ার টা এই মেইন রোডে এসে বন্ধ হয়েছে। “
আকাশ হাতের ফোনটা রাতুলের দিকে বাড়িয়ে দিলো। গম্ভীর কন্ঠে বললো,
____”মেয়েটা খুন হবে আমার হাতে।”
____”ওকে দোষ দিয়ে কি লাভ। ও কি রিয়ান এর কথা জানতো কিছু? তুই জানিয়েছিলি কি? তাহলে? আমাদের দোষ আকাশ।”
আকাশ চোখ খুললো। সত্যিই তো তাই। প্রিয়া কে তো রিয়ান এর কথা কিচ্ছু বলা হয়নি। মেয়েটার জানার কথা নয় ওর বদ চিন্তার কথা। আকাশ রাতুলের দিকে তাকিয়ে গমগমে কন্ঠে বললো,
____”বুয়া?”
____”ওনাকে আনতে লোক গিয়েছে। মিনিট পাঁচেক এর মধ্যে চলেও আসবে। “
আকাশ জোরে জোরে শ্বাস নিলো। যত রাত গভীর হচ্ছে তার বুকটা তত ঝাঝড়া হচ্ছে। রিয়ান কোথায় নিয়ে গিয়েছে মেয়েটাকে, মেয়েটাই বা কেনো গেলো ওর সাথে। কিচ্ছু হিসেবে মিলছে না৷
শুনশান হাইরোড এর ওপর অনবরত গাড়ি যাচ্ছে একের পর এক। আশেপাশে বসতবাড়ি বা জনসমাগম একদম নেই। লম্বা লম্বা গাছে ঢাকা পরে গেছে অর্ধেক আকাশও। এমন একটা অবস্থা। ঝি ঝি পোকার তীক্ষ্ণ আওয়াজ ভেসে আসছে সে জঙ্গল থেকে। রাকিব এর গাড়ি এখানে এসে থামলো সাত মিনিটের মাথায়। সাথে বুয়া কে নিয়ে এসেছে।
আকাশ দের কটেজের বুয়ার বয়স ষাটোর্ধ। বয়ষ্ক মহিলা। দেখে সাধাসিধা মনে হয়। শুধু দেখে নয় খোঁজ খবরেও জেনেছে বড্ড সাধাসিধা। ভয়ে চোখমুখ শুকিয়ে গিয়েছে মহিলার। মহিলা সামনে এসে একপ্রকার হাত জোড় করে কেঁদে ফেললো। আকাশ মোটেও রাগ করলো না মহিলার ওপর। গাড়ি থেকে নেমে হাত জোড় করা হাত ধরে শান্ত কন্ঠে বললো,
____”ভয় পাওয়ার কিচ্ছু নেই আপনার। যা হয়েছিলো সেটা শুধু বলুন আমাকে।”
মহিলা কান্না থামালো সময় নিয়ে। শাড়ির আচলে চোখের পানি মুছে বললো,
____”সারাদিন আপামনির সাথেই ছিলাম।আপামনি কেক বানানো শিখছিলেন আমার কাছে। হঠাৎ সন্ধ্যার সময় দরজায় নক করে কেউ। আমরা ভাবি আপনারা কেউ এসেছেন। হলোও তাই। রিয়ান স্যার এসেছে। আমি ভেবেছিলাম এতদিন বাড়িতে গিয়েছিলেন আগের মতো। আমি আর প্রিয়া আপামনি রান্নাঘরেই ছিলাম। তখন উনি প্রিয়া আপামনি কে ডাকলেন। ওখানে কি কথা হলো আমি জানি না। প্রিয়া আপামনি ওপরে ছুটলেন নিজের ফোন আনতে। আসলে সেই আগবেলা থেকে আমরা নিচেই,টিভি দেখছিলাম,গল্প করে, কেক বানাতে ব্যাস্ত হয়ে যাই। ফোন এর কথা আপামনির মনেই ছিলো না। তবে ফোন নিয়ে এসে আর আমার ওখানে এলেন না। শুধু বসার ঘর থেকে বললেন। আমি যেনো এদিকটা গুছিয়ে ফ্রিজে রেখে চলে যাই। সে বের হবে। তারপর আর দেরিই করেননি৷ রিয়ান স্যার এর সাথে বের হয়ে যায়। আমিও সেসব গুছিয়ে রেখে দরজা তালা দিয়ে বের হই কিছুক্ষণ পরেই।”
আকাশ, রাতুল,রাকিব মনোযোগ দিয়ে শুনললো মহিলার কথা। রিয়ান প্রিয়া কে কি বলতে পারে যার কারনে এতো অস্থির হয়ে বের হতে হলো। আকাশ আবারও শান্ত কন্ঠে শুধালো।
____”একটুও মনে পরে না? মানে বসার ঘরে ওরা যখন কথা বলছিলো কিছুই কি আপনার কানে আসেনি? “
মহিলা স্থির হয়ে ভাবলেন কিছুক্ষণ। মনে করার চেষ্টা করলেন বুঝি। মাথা ঝাঁকালেন আচমকা। বললেন,
____”তেমন কিছু শুনিনি স্যার। তবে আপামনি যে হুট করে আপনার নাম করে উঠলো সেটা কানে এসেছিলো। সম্ভবত আপনাকে নিয়ে কিছু বলছিলেন।”
মহিলার কাছ থেকে আর কোনো তথ্য পাওয়া গেলো না। আরও কিছুক্ষণ এটা সেটা জিজ্ঞেস করেও নয়। প্রিয়া সারাদিন স্বাভাবিক মনেই ছিলো। মন খারাপ ছিলো না। আকাশ এর গল্প, অয়ন শিয়ার বিয়ের গল্প এরকম গল্প করেছে সারাদিন। কেক বানানো শেখার বায়না করছিলো। বুয়া সেটাই সেখাচ্ছিলো দুপুরের পর থেকেই। ফোন ওপরে থাকার কারণে আকাশের ফোনটাও ধরতে পারেনি।
মহিলা কে বাড়ি পৌছে দিতে বললো আকাশ তার লোককে।
*
মাথায় অসহ্য যন্ত্রনা নিয়ে একটা ঘরের মধ্যে বসে আছে প্রিয়া। ওষুধের কড়া ডোজে এখনো ভনভন করে ঘুরছে মাথাটা। মনে করতে পারলো না কি ঘটেছিলো। এখানেই বা আসলো কি করে। ডোজ টা কেটে গেলে সম্ভবত মনে পরবে।আশেপাশে তাকিয়ে ঘরটা চেনার চেষ্টা করলো। বেত দিয়ে বানানো একটা ঘর। ছাওনি,দেয়াল সবই বেতের তৈরি। ঘরের ভিতর আসবাবপত্র বলতে একটা ছেটখাটো চৌকি। তার পাশে মাটির একটা পানিভর্তি কলসি। ওদিকে একটা আধভাঙ্গা আলনা। তারওপর সামান্য কাপড়চোপড়। পুরো ঘরে চোখে পরার মতো আর কিচ্ছু নেই। বিছানা থেকে পা বাড়াতেই মাথা চক্কর কাটলো তা। আঙুল কপালে চেপে ধরে আবার বসলো বিছানায়।
নিজেকে ধাতস্ত করে গলা উচিয়ে ডাকলো। গলার কন্ঠস্বর বসে গেছে। জোর পাচ্ছে না।
____ “শুনছেন? আছেন কেউ? এইযে…”
প্রায় সাথে সাথেই ভিতরে ঢুকলো একটা বছর পনেরোর মেয়ে। প্রিয়াকে বিছানায় উঠে বসতে দেখে বাইরে মাথা বের করে সেও হাক ডাকলো। সবাইকে চেঁচিয়ে জানালো প্রিয়ার জ্ঞান ফিরেছে। সঙ্গে সঙ্গেই বেশ কয়েকজন মধ্যবয়স্ক মহিলা এসে ঢুকলো ঘরে।
____”হুশ আইলো তবে মাইয়া তোমার?”
প্রিয়া কপালে ভাজ ফেলে শান্ত কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
____”আমি এখানে কি করে?”
মহিলারা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো এবারে। প্রিয়ার দিকে এগিয়ে এসে বাঁকা গলায় বললো,
____”জোয়ান মর্দর সাথে রঙ্গ করতে পারো। আর কাম শেষ হইলেই ভুইলা যাও? “
প্রিয়ার মাথায় ঢুকলো না মহিলার কোনো কথাই। ঘুম থেকে ওঠার পর একটা কিচ্ছু মনে করতেই পারছে না সে। আকুল কন্ঠে বললো,
____”আমি এখানে কিভাবে এলাম বলবেন দয়া করে?”
আরেকজন পৌঢ়া মহিলা এগিয়ে এসে ঠান্ডা স্বরে বললো,
____”তোমার বিয়ার আয়োজন হইতেছে। তৈয়ারি হইয়া লও।”
বিয়ে! বিয়ে কোথা থেকে আসলো। প্রিয়া স্বপ্ন দেখছে কি না ভাবার চেষ্টা করলো। দু হাতে চোখ ও ডললো। নাহ। স্বপ্ন তো নয় তবে কি! কিছু মনে পরছে না কেনো তার৷ তবে একটু খেয়াল করতেই শুনতে পেলো বাইরে মানুষ জনের আওয়াজ। বেশ মানুষ জন সম্ভবত।
____”আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।”
____”তোমরা শহরের মাইয়া পোলা। কিন্তু ধর্ম বইলা একটা জিনিস আছ। আমাগো সমাজে এহেন কামকাজ চলে না। ভুইলা যাওয়ার ভঙ ধইরা লাভ হইবো না। তোমার মর্দ রে বাইরে বিচারে বসানো হইছে। তোমাগো বিয়ে হইবো বইলা ঠিক হইছে।”
কি সব বলছে এনারা সাতপাঁচ মাথায় ঢুকছে না প্রিয়ার।কার সাথে এসেছে সে! কখন এলো। মনে পরছে না কেনো। এতো অসহ্য যন্ত্রনা কেনো হচ্ছে।
অন্য আরেকজন মহিলা এনাদের মতো এতো রুক্ষ ব্যবহার করলো না। প্রিয়াকে দেখে মায়া হলো না কি জানা নেই। সে একদম কাছে এলো। নরম কন্ঠে বললো,
____” জঙ্গলের ওইধারে গাড়ি থাইমা আছিলো। সেখানে অনেকক্ষণ ধইরা চেচামেচির আওয়াজ পাওয়া যাইতেছিলো। স্থানীয় একজন আইসা আমাগো খবর দেয়। আমরা গিয়া তোমারে গাড়ির ভিতর অজ্ঞান হিসাবে পাই। তারপর এইখানে নিয়া আসি। তোমার সাথে যে পোলা আছিলো সে জানাইছে তুমি আর সে…বুঝতাইছো। কি কইছে। এসব আমাদের এখানে চলে না মা। তোমরা শহরের হইতে পারো। পোলায় তোমারে বিয়া করবো কইছে সম্মান বাঁচাইতে। তোমাগো নিকাহ দেওয়া হইবো। একটু পর। “
প্রিয়ার মাথা ভনভন করে উঠলো এবারে। দূর্বল পা নিয়েই বিছানা ছেড়ে উঠে দাড়ালো। ঢুলে পরে যাওয়ার আগেই মহিলা ধরে ফেললেন প্রিয়াকে। প্রিয়া জানালার পাল্লা দিয়ে বাইরে তাকাতেই জমে গেলো। চোখ খিচে বন্ধ করে খানিক্ষন ধ্যান ধরতেই আবছা মনে পরলো বেশ কিছু। রিয়ান! তাকে তো রিয়ান নিয়ে এসেছিলো! নিজের শরীর নিজে অনূভব করার চেষ্টা করলো। নাহ। একদম সেটা ঘটেনি যেটা এসব অশিক্ষিত মানুষ রা আন্দাজ করেছে। সে একজন নারী। নিজের শরীরের ভালো মন্দর হিসেবে আছে তার কাছে। তার পিরিয়ড চলছে। সেরকম কিচ্ছু ঘটেনি। তবে সবার মুখে সবটা শুনে যা বুঝলো রিয়ান বলেছে এসব। সবাইকে বুঝিয়েছে এমন কিছুই ঘটেছে। হতভম্ব হলো প্রিয়া। রিয়ান এটা কেনো করলো! সে জ্ঞান হারিয়েছিলো কি করে! সেটাও মনে পরলো খানিক পর। কিন্তু সে তো জ্ঞান হারিয়েছিলো গাড়িতে ওঠা মাত্রই। মুখে কিছু একটা চাপা দেওয়া হয় তার। তাহলে! তাহলে চেঁচামেচি টা হচ্ছিলো কার সাথে। রিয়ান এর সাথে আর কে ছিলো। প্রিয়ার শরীর কাঁপছে। থরথর করে কাঁপছে। একটা অল্প বয়স্ক মহিলা এরই মধ্যে বিয়ের জন্য একটা লাল শাড়ি এনে হাজিরও করেছে। প্রিয়া ব্যাগ্র কন্ঠে বোঝাবার চেষ্টা করলো সকলকে। কিন্তু সেসব কানে নেওয়ার মানুষ এখানে কেউ-ই নেই। বিশ্বাস করলো না কেউই।
____”তোমার মর্দ নিজে বলছে। না জায়েজ সম্পর্ক হইছে তোমাদের মধ্যে তহন। আর তুমি অস্বীকার করো! ছিহ ছিহ্”।”
মহিলা পাশেই কাঁচা মেঝেতে থুতু ফেললো শব্দ করে। প্রিয়ার শরীর কেঁপে উঠলো। ঝরঝর করে কেদে ফেললো। রিয়ান ভাই এমন টা কেনো করলো তার সাথে! বিয়ে মানে! এখন রিয়ান এর সাথে সবাই তার বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। যা বুঝছে বিয়ে না দিয়ে এক পা সরতে দেবে না এখান থেকে। প্রিয়ার চোখের সামনে এখন এক আকাশ এর মুখ ছাড়া আর কিচ্ছু ভাসলো না। প্রিয়া কাতর স্বরে বললো,
____”এনার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। বিশ্বাস করুন। আমার ভাই হয় ইনি। আমার বিয়ে ঠিক করা। আমি…আমি অন্য কারোর বাগদত্তা। আপনারা ভুল বুঝছেন।”
আরও হাজার একটা কথাতেও মন গললো না কারোরই। প্রিয়াকে সাজাতে বসে গেলো সকলে। প্রিয়ার চোখের পানি বাধ মানছে না। আশেপাশে নিজের ফোনটা খুজলো। সেটাও দেখা গেলো না। আকাশ! সময় কত এখন। আকাশ রা কি জানে নি এখনো সে কটেজে নেই। ওরা কি কেউ ফেরেনি এখনো কটেজে!
প্রিয়ার বুক চিড়ে চিৎকার বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। ঠোঁট কামড়ে মনে মনে চিৎকার করে ডাকলো খোদাকে। আকাশ কে কোনোমতে তার খোঁজ দিতে। তাকে রক্ষা করতে। এই সর্বনাশ এর হাত থেকে তাকে বাঁচাতে।
*
রাতে বেড়েছে,ভাবার মধ্যেই বৃষ্টি নেমেও পরলো। আসমান গর্জন করে উঠছে বারবার। সময় পার হয়ে যাচ্ছে। এখানকার কোনায় কোনায় লোক লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও এখন অবধি কোনো খবর এসে পৌছায়নি৷
এদিককার স্থানীয় মানুষ দের বাড়িঘর সব খোঁজা প্রায় শেষের দিকে। অয়ন শিয়া সকলেই একসাথে জমায়েত হয়েছে এখন। বোনের খোঁজে শিয়া প্রায় পাগলপ্রায়। আকাশ স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে। পাশেই রাকিব। ছাতা ধরে দাড়ানো। অয়ন এক হাতে শিয়াকে জড়িয়ে ধরে ক্রমাগত শান্তনা দিয়ে যাচ্ছে। পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারাও আশেপাশের এলাকায় খোঁজ করছে।
বৃষ্টির মধ্যে হলুদ নিয়ন আলোর রেখা রেখা গেলো। রাতুল এসে গাড়ি থামিয়ে ওপাশ থেকে একপ্রকার বিধ্বস্ত ভাবে ছুটে এলো। সাথে রেদোয়ান ও আছে।অয়ন এর ম্যানেজার হাসান সবেই কি এক খবর নিয়ে এসেছে।
পাহাড়ের রাস্তায় আশপাশে ঘোর জঙ্গল। ওরা ছাড়া হাই রোডে আর একটা প্রানীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দায়। বৃষ্টির তোড়ে ভিজেই যাচ্ছে সকলে। রাতুল কে দেখে আগ্রহী হলো সকলে। কি খবর দিলো পুলিশ বা অন্যকেউ সেটা শোনার জন্য উদগ্রীব হলো। রাতুল বন্ধু দের দিকে তাকিয়ে আমতা আমতা কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো,
_____”স্থানীয় রা একটা ছেলে আর একটা মেয়েকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে কিছুক্ষণ আগে পাহাড়ি ওই মসজিদ এ বিয়ে পরিয়েছে। ”
সবাই হা করে অপেক্ষা করছিলো রাতুলের সম্পূর্ণ কথাটুকু শোনার জন্য। রাতুল মাথা নুয়িয়ে ফেলে আরও ধীর কন্ঠে বললো,
_____”রিয়ান আর প্রিয়ার ফোন ওপেন হয়েছে। ওদের ফোন লোকেশন ঠিক মসজিদ এর ওখানেই দেখাচ্ছে আকাশ।”
রাতুলের কথাগুলো কর্ণগোচর হতেই শরীর কেমন একটা ঝাঁকি দিয়ে উঠলো আকাশের। চোখের সামনে কেমন দুলে উঠলো সবকিছু। রাতুলকেও আবছা দেখলো। খেয়াল করলো কেউ তার বুকের ওপর পাথর ছুড়ে মেরেছে হয়তো, এমন যন্ত্রনা হচ্ছে। ঘড়ির কাটা রাত এগারো টা। এখন অবধি প্রিয়ার খোঁজ পাওয়া যায়নি। হুট করে এমন একটা সংবাদে শ্বাস নেওয়া দুষ্কর হলো আকাশের। হাটু ভেঙে রাস্তায় বসে পরলো। প্রিয়া, অন্যকারোর সাথে বিয়ে, এসব হাবিজাবি মাথায় এসে ভিড় করতেই মস্ত্বিস্ক ফাকা হলো। রেদোয়ান, পাশ থেকে সাথে সাথে ধরলো বন্ধু কে। আকাশ হা করে জোরে জোরে শ্বাস নিলো। রাকিবের হাতের ছাতা উল্টে গেছে তীব্র বাতাসে। ভিজে নেয়ে একাকার হচ্ছে সর্বাঙ্গ। আকাশ বুকের বাঁ পাশে হাত চাপা দিয়ে আর্তনাদ করে উঠলো বন্ধু দের দিকো তাকিয়ে,
______”মেয়েটাকে আমার কাছে এনে দে তোরা। বাজে বকিস না। আমি কিন্তু মরে যাবো। ও অন্য কারোর নামে কবুল.. না না ভুল তথ্য এনেছিস তোরা। এটা হতেই পারে না। ও তো আমার। তাহলে রিয়ান এর নামে কবুল পরে কি করে! আশ্চর্য কথা বলিস তোরা। আমাকে মেরে ফেলার পায়তারা জুড়েছিস। শ্বাস নিতে পারছি না আমি দেখছিস না। মিথ্যা বলিস না ভাই। এটা মজা করার সময়? হুম?”
আকাশ কি কাঁদছে? প্রকৃতির মন খারাপ। সেটা বৃষ্টির তীব্রতা দেখেই বোঝা যাচ্ছে। তবে বৃষ্টির পানিতে আকাশের চোখে পানি দৃষ্টিগোচর না হলেও রক্তলাল আখিজোড়া দেখে সেটা কারোর ধরতে বাকি রইলো না। আকাশ দের প্রচুর কর্মচারী রা এখানে এসেছে। খোজাখুজি বাদ রাখেনি কেউ। এখানে এসে এমন একটা সংবাদ আর আকাশের এমন অবস্থায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো সকলে। রাতুল নিজেও দু হাতে বন্ধু কে টেনে তোলার চেষ্টা করলো।
____”আকাশ…তুই এমন ভেঙ্গে পরছিস আগেই। আমরা যাবো তো। এখনই যাবো। গিয়ে দেখবো সবটা। আগেই এতো ভেঙ্গে পরা যাবে না। ওঠ ভাই। তোর এতো দূর্বল মানায়? পাগল হলি। আকাশ এহনাজ রাস্তায় বসে কাদছে?”
আশেপাশে সকলেই হতভম্ব নজরে তাকিয়ে আছে। কল্পনা তেও এমন দৃশ্য ভাবেনি বোধহয় কেউ। প্রিয়ার বিষয় টা তারা শিয়া অয়ন এর বিয়ের দিনই জেনেছে। আকাশ যেদিন সবার সমানে প্রিয়া কে নিজের বাগদত্তা হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে এতোটা পাগলামি ওইটুকু একটা বাচ্চা মেয়ের জন্য! আকাশ এহনাজ চৌধুরী করতে পারে এটা ভাবেনি তারা।
আকাশের কম্পিত হাত খামচে ধরলো রাতুলের বাহু। আকুল কন্ঠে বললো,
____” ও অন্য কারোর নামে কবুল পরতে পারে না বল? আমার প্রথম ভালোবাসা ও। আমার জীবনের প্রথম নারী ও। আমার বউ হবে ও। যদি প্রিয়ানিশা রহমান এ জীবনে কারোর নামে কবুল পরে সেটা আকাশ এহনাজ চৌধুরীর নামে হবে। বল? ও কিভাবে..”
আকাশ হুড়মুড়িয়ে উঠে দাড়ায়। অয়ন এসে শান্ত করতে চায় ভাইকে। শিয়া হেচকি তুলে কেঁদে যাচ্ছে।
আকাশ এখন কোনো কিছুর বিনিময়ে শান্ত হওয়ার অবস্থায় তেই নেই। দু হাতে কপালের ওপর থেকে ভেজা চুল গুলে পিছনে ঠেলে দিলে। বৃষ্টির তীব্রতায় তাকানো কষ্ট। দু হাতে মুখের ওপরের পানিও সরালো। সবার দিকে তাকিয়ে হুকুম চালালো।
____”লোকেশন ট্র্যাক করে দ্রুত চলো ওখানে। যে খবর পেয়েছো এটা সম্ভব নয়। হতে পারে না। “
খানিক থামলো। হেচকা টানে গাড়ির দরজা খুলে ফেললো। আকাশ দাতে দাঁত চেপে বন্ধু দের দিকে তাকিয়ে বললো,
_____”তবে যা বলছিস তা যদি সত্যি হয়। রিয়ান এর আজ শেষ দিন। আকাশ এহনাজ খুন করতে দু বার ভাববে না। সাথে প্রিয়ারও। না থাকুক দোষ। অন্য কারোর নামে কবুল পরার অপরাধে মরতে হবে ওকেও। তারপর নিজে মরবো আমি।”
আকাশের কন্ঠস্বরে কেপে উঠলো সকলেই। রাতুলদের বলতে হলো না। অপর পাশে ছুটে গিয়ে উঠলো গাড়িতে। পিছনের গাড়িগুলোও ভর্তি হয়ে গেলো। কেউ এক সেকেন্ড সময় নষ্ট করলো না। জিপিএস ট্র্যাকার হাতে নিয়ে একেরপর এক ডিরপকশন দিয়ে গেলো রাতুল। ড্রাইভিং এ সয়ং আকাশ বসা। গাড়ি ফুল স্পিডে চলছে। বৃষ্টির বাধা মানছে না। লোকেশন এখান থেকে প্রায় দেড় ঘন্টার পথ। তারপর লোকেশন ও সো করে না। সম্ভবত একদম প্রত্যন্ত কেনো অঞ্চল।
আকাশের শক্ত হাত শক্ত করে চেপে ধরে আছে গাড়ির স্টেয়ারিল। চোয়াল কঠিন হয়ে আছে। দৃঢ় চোখের দৃষ্টি সামনের রাস্তার দিকে৷ কঠিন মুখাবয়বের আড়ালে মনেমনে চিৎকার করে আউরালো,
____”প্রিয়া আমার ছাড়া আর কারোর হতে পারো না তুমি। প্রেম,ভালোবাসা,বিয়ে জীবনে একবারই হয়। একবারই। তোমাকে আমার হালাল করে পাওয়া যদি খোদা আমার ভাগ্যে লিখে না রেখে থাকে, তাহলে যার ভাগ্যে লিখেছে তার সাথেও সংসার করার সুযোগ আমি দেবো না তোমাকে। আমাকে ছাড়া আর কাউকে স্বামী হিসেবে গ্রহন করতে পারো না তুমি। পারোই না। সম্ভবই নয়। তবে দূর্ভাগ্যবশতঃ যদি সেটা হয়। খোদা যদি তোমাকে অন্য কারোর নামে লিখে রাখে তবে আজই এই পৃথিবীতে আমাদের শেষ দিন। খুন করে,তারপর আত্মহত্যা করে নরকে ঠাই নেবো। তবুও বেঁচে থেকে অন্য কারোর বউ হওয়ার তকমা আমি তেমার গায়ে লাগতে দেবো না। দেবো না…”
চলবে ইনশাআল্লাহ 🌼
.
.
[#আকাশপ্রিয়া আর কয় পর্ব লিখবো বলতে পারছি না। সম্ভবত জলদিই এটার ইতি টানবো। মন মতো রেসপন্স পাই না এটায়। লিখতে বসে ব্ল্যাংক লাগে নিজেকে আগ্রহের অভাবে। তাছাড়াও সম্ভবত #সাঁঝের_মায়া এর আগেই এটা শেষ হতো…আজকের পর্ব পড়ে গালাগাল করবেন না। সামনের পর্ব পড়ার আগেই ধৈর্য হারালে নির্দ্বিধায় স্কিপ করে যেতে পারেন।]

