চাঁদের_হাসি #লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান #পর্বঃ৩৫

0
14

#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৩৫

অলির জ্বর জানালা দিয়ে পালিয়ে গেছে বেশ কিছুদিন আগে ৷ তাই সবাই বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ৷ অনন্যা যেমন ভেবেছিল তেমন টাই হয়েছে ৷ সাহিক পরেরদিন হাসপাতালে এসে অলির স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিয়ে বিয়েটা ভেঙে দিয়ে গিয়েছে ৷ বাড়ির লোকও তেমন কিছু বলেনি ৷ তবে অলি লজ্জায় ঘর থেকে বেরোতে পারছে না ৷

আজ ওদের বিয়ে ৷ গত দুইদিন থেকে বাড়িঘর সাজানোয় ব্যস্ত ছিল সবাই ৷ আর আজ বিয়ের তোড় জোড় করতে ব্যস্ত ৷ অলির এলাকার প্রায় সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে ৷ এমনকি অলির ছাগল তিনটাকেও কিন্তু মনজু চাচার ছাগল দের ডাকা হয়নি ৷ আসলে অলি কোনো রিস্ক নিতে চায়নি ৷ তাছাড়া ও ওর সম্পূর্ণ মনোযোগ বিয়ের উপর দিতে চায় , ছাগলের ইটিশপিটিশের উপর না ৷

পিকুদের পুরো পরিবার গতকাল চলে এসেছে ৷ অনন্যার জোড়াজুড়িতে আজ হেনিনও এসেছে ৷ এতো কাছের মানুষ দেখে অনন্যার মন ভরে গেল ৷ ও বেছে বেছে সকলের দিকে তাকাতে লাগল ৷ প্রথমেই চোখে পড়ল পিকুকে ৷ ও পুরো বাড়ি ছুটে বেড়াচ্ছে ৷ তারপর চোখে পড়ল শোভন সানার উপর ৷ ওরা চুপচাপ বসে আছে ৷ তাই অনন্যা ওদের দিকে এগিয়ে গিয়ে ওদের পাশে বসে পড়ল ৷

ওকে দেখে দু ভাইবোন মুচকি হাসল, প্রতি উত্তরে অনন্যাও মুচকি হাসল ৷ এক সেকেন্ড পর শোভন , সানা সমস্বরে বলে উঠল,,,

নিজের ভাইকে বিয়ে করতে যাচ্ছ ছ্যাহ!

অনন্যা ফিক করে হেসে ফেলল ৷ অতঃপর হাসিমাখা গলায় বলতে লাগল,,, ভাবলাম অন্য বাড়ির ছেলের মাথা খাওয়ার থেকে নিজের বাড়ির ছেলের মাথা খাওয়া বেশি ভালো ৷

ওর কথায় শোভন সানা হেসে ফেলল ৷ একটু পর অনন্যা ভ্রু কুঁচকে বলল,,, আশ্চর্য তোমরা এতো ভদ্র হয়ে বসে আছো কেন?

ওরা দুজন চকিতে অনন্যার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,,, বারে তুমি কি আমাদের লুকায়িত সত্ত্বা মানুষ ভর্তি বিয়ে বাড়িতে প্রকাশ করতে চাও? এটা তো রীতিমত হাটে হাঁড়ি ভাঙার মতো কাহিনী!

অনন্যা সামান্য হেসে বলল,,, ওহ হো ভুলেই গিয়েছিলাম ৷

ওদের এমন মিষ্টি মিষ্টি কথাবার্তা চলতেই থাকল ৷ ওদিকে বিল্টু এসেছে থেকে মাহির বগলের নিচে থেকে সরছে না ৷ আসলে অলি লজ্জায় ঘর থেকে বেরোতে চাচ্ছে না তাই মাহির পিছুই নিতে হয়েছে ওকে ৷ ও যখন মাহির বগলের নিচে থাকতে ব্যস্ত ঠিক তখন পিকু কোথা থেকে ওর সামনে চলে আসল ৷ তারপর বলতে লাগল,,,

তুমি এতো পচা কেনু? আমার একবারও খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করলে না?

ওর আচানাক কথায় মাহি আর বিল্টু দুজনেই চমকে উঠল ৷ পর মুহূর্তে মাহি মুচুরমুচুর করে হাসতে হাসতে বলল,,,

তাই তো বিল্টু! এসব কেমন কথা? এতো মিষ্টি মেয়ে টার খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করলি না?

বিল্টু চোখ পাকিয়ে মাহির দিকে তাকাল ৷ ওদিকে পিকু আবারও বলতে লাগল,,,

যাও মাফ করে দিলাম শেষবারের মতো ৷ চলো এখন খেলি ৷ এখানে বিয়ে বিয়ে খেলা হবে কিছুক্ষণ পর ৷ চলো আমরা একসাথে দেখব ৷

বিল্টু কাটকাট গলায় বলল,,,
সব ছেলেগুলো হয়েছে বিড়ি টানা
আমি তোমার সাথে কোথাও যাব না
মারো তালি;

ওর ছন্দ শুনে মাহি তো হাসতে হাসতে শেষ ৷ তবে পিকু ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে ক্ষণকাল তাকিয়ে থেকে বলল,,,

তুমি খান্না বাবুকে কপি করছো কেন? তুমি কি মনে করেছো আমি কিছু বুঝব না? এখন নাটক বাদ দিয়ে আমার সাথে চলো নয়তো ঠাশ ঠাশ করে মা*রব!

বিল্টু তবুও নড়ল চড়ল না ৷ শেষে পিকু রেগে গিয়ে ওর পেটে দুই তিনটা চিমটি দিয়ে ওকে টানতে টানতে অন্যদিকে নিয়ে গেল ৷ এদিকে মাহির হাসতে হাসতে অবস্থা শেষ ৷ ও হাসি আটকানোর চেষ্টা করতে করতে বলল,,,

আশ্চর্য! হাসলে কাজ করব কিভাবে? হাসার সময় গায়ে শক্তি পাই না বাপু! আমার হাসি আর অলির লজ্জা এই দুটো জিনিসকে এক মাসের জন্য সোকেজে তুলে রাখতে হবে ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

হেনিন সকলের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করার পর অলির রুমে চলে গেল ৷ অলি তো সকলকে বলে দিয়েছে টানা ৪ ঘন্টা ও নিজের রুমে বসে থেকে লজ্জা কাটাতে চায়,কেউ যেন এই সময়ের মধ্যে রুমে প্রবেশ না করে ৷ কিন্তু হেনিন সেসব পাত্তা দিল না ৷ ও সরাসরি রুমে প্রবেশ করে বলল,,,

কি ব্যাপার অলি ভাইয়া?

টমেটোর মতো লাল হয়ে থাকা অলি ক্ষীণ গলায় বলল,,, আরে চিতা তুই এখানে?

প্রশ্নটা আমার করা উচিত ৷ তুমি এখানে কি করছো? তোমার বউ পুরো বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে ৷ আর বর হয়ে তুমি কিনা রুমে বসে আছো ছ্যাহ!

তো কি করব? সবাই কিভাবে কিভাবে তাকাচ্ছে!

বরের দিকে তাকাবে না তো তার উপর বো*মা ছুঁড়ে মা*রবে? যাক গে সে কথা বাদ দাও ৷ আগে বলো ভালোবাসার কথা তুমি আগে বলেছো না?

অলি মাথা চুলকে বলল,,, সম্ভবত আমি বলিনি ৷ উনি নিজেই আমার মনের কথা বুঝে গেছেন আর আমাকে ভালোবাসার কথা বলেছেন ৷

হেনিনের কপাল কুঁচকে গেল ৷ কুঞ্চিত ভ্রু যুগল নিয়েই ও বলতে লাগল,,, আচ্ছা মানলাম সেটা ৷ বাড়িতে তুমি বিয়ের কথা বলার পর সকলের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

অলি পুনরায় মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল,,, সেটা তো জানি না ৷

কেন?

অনন্যাই সকলকে আমাদের বিয়ের কথা বলেছে ৷ এই সময় আমার প্রচন্ড জ্বর ছিল তাই কিছু জানি না ৷

হেনিন এমন ভাবে মুখ বিকৃত করল যে অলি থতমত খেয়ে চোখ সরিয়ে নিল ৷ ও অত্যন্ত তেতো স্বরে বলতে লাগল,,,

ছিহ তুমি আদৌ মানুষ? না না ভুল বললাম ৷ তুমি আদৌ ছেলে তো?

অলি ইতস্তত করে বলতে লাগল,,, এমন করিস না তো ৷ আমি কি করব? উনি আমার সাথে পরামর্শ না করেই পরিবারকে বলে দিয়েছেন ৷ আমি কি করতে পারি?

হেনিন কন্ঠটা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল,,, আচ্ছা এটাও মানলাম ৷ এবার বলো বিয়ে ঠিক হওয়ার পর কোনো ভালো মুহূর্ত কেটেছে?

তেমন কিছু হয়নি ৷ আমি নিজের রুমের মধ্যেই ছিলাম ৷ তবে উনি আমার হাতে একবার হাত রেখেছিলেন ৷ আমার খুব লজ্জা লাগছিল তাই হাত সরাতে বলেছি ৷

হেনিন চট করে বসা থেকে উঠে পড়ল ৷ তারপর জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করল ৷ একটু পর অলির দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলতে লাগল,,,

তুমি কি অনন্যা আপুর বউ? যা যা তোমার করা উচিত ছিল তার সবকিছুই অনন্যা আপু করেছে ছিহ! যাও ভাগো ৷

বলে হেনিন গটগট পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল ৷ আর অলি চকচন্দা খেয়ে বসে থাকল ৷ ও আবারও মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল,,,

আমি কি করতে পারি? লজ্জাকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটা তো জানি না ৷ তবে তোর করা অপমানগুলো আমার একটু একটু গায়ে লেগেছে রে চিতা ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

অনন্যার দু হাত ভরে মেহেদি দিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ ওর এক হাতে আরাফাত আর অন্য হাতে অলি লিখে দেওয়া হয়েছে ৷ এইটা বলতে গেলে ইয়াসির প্রামানিক আর খোদেজা বেগমের বিরাট ঝগড়াকে থামানোর জন্য করতে হয়েছে ৷ ইয়াসির প্রামানিক তো নিজের ছেলের নামই অনন্যার হাতে রাখতে চান ৷ অন্যদিকে খোদেজা বেগমের কথা হচ্ছে যতই হোক না কেন ও আমাদের কাছে অলি আহাদ ৷

তাই শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ অনন্যার হাতে মেহেদি দেওয়া দেখে পিকুর সেকি কান্না! তাই ওকেও দু হাত ভরে মেহেদি দিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ ওর হাতেও অলির নাম লিখে দিতে হয়েছে কারন অনন্যার হাতের হুবহু কপি করে মেহেদি দিতে বলেছিল পিকু ৷

পার্লার থেকে দুটো মেয়েকে আনা হয়েছে ৷ ওরা অনন্যাকে শাড়ি পড়িয়ে দেওয়ার পর ওর মুখে হালকা করে মেকাপ দিয়ে দিচ্ছে ৷ এমন সময় ওদের মধ্যকার একটা মেয়ে বলে উঠল,,,

আপনার চোখ কি ট্যারা?

অনন্যার ইষৎ খারাপ লাগল ৷ তবে জড়তাহীন গলায় বলল,,, হ্যাঁ ৷

মেয়েটা মুখটা কেমন একটা করে বলল,,, ওওও! তা আপনার হবু স্বামীকে তো দেখলাম অনেক সুদর্শন ৷

জ্বিই ৷

মেয়েটা হাসার চেষ্টা করে বলল,,, কোনো কালো জাদু টাদু করেছেন নাকি? নয়তো এতো সুদর্শন ছেলে আপনার মতো মেয়েকে বিয়ে করবে কেন?

মেয়েটা মজার ছলে অনন্যাকে অপমান করার চেষ্টা করল ৷ কিন্তু রুমে উপস্থিত সবাই মুখ গম্ভীর করে ফেলায় মেয়েটা হাসি থামিয়ে বলল,,,

হাইপার হচ্ছেন কেন আপনারা? আমি তো মজা করছিলাম ৷

কিছুক্ষণ পর শোভন আর সানা সমস্বরে বলে উঠল,,, আপনার নাকের ভিতর থেকে লোম বেরিয়ে এসেছে ৷

মেয়েটা থতমত খেয়ে গেল ৷ ও চকিতে নিজের নাক ঢেকে ধরে বলল,,,

কিসব বলছো? আমার নাকে কোনো লোম নেই ৷

ওরা আবারও একযোগে বলে উঠল,,, হাইপার হচ্ছেন কেন আপনি? আমরা তো মজা করছিলাম ৷

রুমের সবাই মাথা নিচু করে হাসতে লাগল ৷ পার্লারের অন্য একটা মেয়ে সেই মেয়েটা ধমক দিয়ে বলল,,,

এতো কথা বলো কেন তুমি? কাজ করতে এসেছো কাজ করবে ৷ এতো কথা কেন?

মেয়েটা অপমানে মাথা নিচু করে ফেলল ৷ আর একটা কথাও বলল না ৷ ওদিকে অনন্যার মনের মধ্যে আর খারাপ লাগা টা নেই ৷ শোভন সানা যা করার করে দিয়েছে ৷ পিকু নিজেও শাড়ি পড়ায় ব্যস্ত ছিল জন্য এসব বিষয় খেয়াল করেনি ৷

অনন্যাকে সাজানো কমপ্লিট হয়েছে ৷ ওর দিক থেকে সত্যি আজ চোখ ফেরানো দ্বায় হয়ে পড়েছে ৷ হঠাৎ ওর হাতের মেহেদির দিকে চোখ যেতেই পার্লারের একটা মেয়ের ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ ও বলতে লাগল,,,

আচ্ছা আপনি কি দুজনকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন?

মেয়েটার কথা শুনে রুমের সবাই হাসতে শুরু করল ৷ অনন্যা হাসতে হাসতে বলল,,,

না আমি বহু নামের একজন লজ্জাশীল ছেলেকে বিয়ে করতে যাচ্ছি ৷

°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

বিয়ের কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে ৷ অলির কোলে পুতুলের মতো ছোট একটা বউ বসে আছে ৷ পিকুকে শাড়ি পড়ে এতো কিউট লাগছে যা বলার মতো নয়! ওর সামনে একটা পর্দা , সেই পর্দার পিছনে অনন্যা বউরুপে বসে আছে ৷ বরের হাতে যে রুমাল দেওয়া হয় সেটা অলির বেশ কাজে লাগছে ৷ ও রুমাল দিয়ে মুখ ঢেকে নিজের লজ্জা আড়াল করতে পারছে ৷

কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানো শুরু করে দিয়েছেন ৷ উনি অনন্যাকে কবুল বলার কিছুক্ষণ পরই.ও কবুল বলেছে ৷ বিপত্তি বেঁধেছে অলির বেলায় ৷ ও এতোই লজ্জা পেয়েছে যে মুখ থেকে কবুল বের হচ্ছে না ৷ ওর অবস্থা দেখে কেউ কেউ হাসছে আর কেউ কেউ ভ্রু কুঁচকে আছে ৷ শেষে কাজী সাহেব বললেন,,,

আপনারা কি ছেলেকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছেন?

এই একটা কথা কানে যাওয়ার ন্যানো সেকেন্ডের মধ্যে অলি গড়গড় করে চার পাঁচবার কবুল বলল ৷ ওর অবস্থা দেখে এবার সবাই হেসে ফেলল তবে কাজি সাহেব বেশ হকচকিয়ে গেছেন ৷

অলি আর অনন্যা এবার পাশাপাশি বসে আছে ৷ সকলের জোড়াজুড়িতে অলি অনন্যার কপালে ছোট করে একটা চুমু খেয়েছে ৷ তবে সেই চুমু খেতে বেডা পাক্কা এক ঘন্টা সময় নষ্ট করেছে ৷ বর্তমানে কান লাল করে ও মাহির সাথে বসে আছে ৷ মাহি গলা খাকারি দিয়ে বলতে লাগল,,,

অলি বাবু করেছে বিয়ে
ছেঁড়া টুপি মাথায় দিয়ে
বউকে এনেছে চুম্মা দিয়ে

ওর ছন্দ শেষ হতে না হতেই অলি লজ্জার চরম পর্যায়ে চলে গেল ৷ ও চট জলদি বসা থেকে উঠে কম্পিত পায়ে বাগানে চলে গেল ৷ এদিকে মাহি হাসতে হাসতে শেষ ৷ অলির পিছুপিছু হেনিন গেছে ৷ ও অলির পাশে দাঁড়িয়ে কাটকাট গলায় বলল,,,

এই লজ্জা নিয়ে যদি এক্ষুণি কিছু না করো তাহলে সত্যি বলছি অনন্যা আপুকে আমি সাথে করে নিয়ে যাব ৷ তখন লজ্জার সাথে সংসার করো যত্তসব!

চলবে,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here