#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#বোনাস_পর্ব
রাস্তার মাঝখানে আরশানের এমন অতর্কিত আর বেপরোয়া আচরণে রিমির সমস্ত শরীর রাগে রি রি করে উঠল। ও ঝটকা দিয়ে নিজের গালটা সরিয়ে নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল — “পা’গলামির একটা সীমা থাকে! মাঝরাস্তায় এসব কী শুরু করেছেন আপনি? আপনার কি লোকলজ্জার কোনো ভয় নেই?”
আরশান রিমির এই রাগকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দিল না। ওর ঠোঁটের কোণে সেই একই রকম তাচ্ছিল্যের হাসি লেপ্টে আছে, যেন রিমির এই তেজ ওর কাছে খুব সস্তা এক বিনোদনস্বরূপ! ও বাইকের হ্যান্ডেলটা শক্ত করে ধরে সিটে চাপড় দিয়ে খুব নির্লিপ্ত গলায় বলল — “অনেক রাগ দেখানো হয়েছে, এবার বাইকে ওঠো।”
রিমি এক পা পিছিয়ে জেদি গলায় বলল— “আমি কোথাও যাব না আপনার সাথে। অলরেডি অনেক দেরি হয়ে গেছে, মা বাসায় চিন্তা করবে”
রিমি পা বাড়াতে গেলেই আরশানের সেই শীতল কণ্ঠস্বর আবার ওকে থামিয়ে দিল। ও রিমির দিকে না তাকিয়েই বাইকের স্পিডোমিটারের দিকে তাকিয়ে বলল — “Don’t give me excuses, Rimi. অন্যদিনের তুলনায় আজ তুমি প্রায় আধা ঘন্টা আগেই টিউশনি শেষ করে ফিরেছ। তোমার হাতে এখনো যথেষ্ট সময় আছে।”
আরশানের মুখ থেকে নিজের প্রতিদিনের রুটিনের এমন সূক্ষ্ম হিসেব শুনে রিমির বুকটা রাগে ধক করে উঠল। ও থমকে দাঁড়িয়ে গেল। ওর বিস্ময় আর রাগ যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। ও অস্ফুট স্বরে তীব্র গলায় প্রশ্ন করল — “আপনি এসব কীভাবে জানলেন? আপনি কি আমার পেছনে লোক লাগিয়ে রেখেছেন? নাকি আপনি সারাক্ষণ আমার ওপর নজর রাখছেন?”
আরশান এবার বাইক থেকে নেমে রিমির খুব কাছে এসে দাঁড়াল। ওর চোখের মণি দুটো ল্যাম্পপোস্টের আলোয় হিরের মতো স্থির। ও রিমির কানের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল — “এই পঁচিশ দিন তুমি কার সাথে কথা বলেছ, কোন গলি দিয়ে হেঁটেছ আর কতবার ঘড়ি দেখেছ সব আমার জানা আছে। So be a good girl, বাইকে ওঠো। নাহলে তোমার এই আগে ফেরার সময়টুকু আমি তোমার বাসার দরজায় দাঁড়িয়ে নষ্ট করতে পারি। সেটা নিশ্চয়ই তুমি চাইবে না”
রিমির কলিজা যেন রাগে আর টেনশনে গলার কাছে এসে ঠেকল। ও বুঝতে পারল, আরশান পঁচিশ দিন চুপ ছিল মানে ও আসলে রিমির চারপাশে এক অদৃশ্য পাহারা বসিয়ে রেখেছিলো! রিমি নিরুপায় হয়ে বাইকের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকাল। ও জানে, আরশানের সাথে তর্কে জেতা অসম্ভব, কিন্তু এই পরাধীনতা ও কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। সারাদিনের ভার্সিটির ক্লাস, তারপর বাসের ধকল সামলে টিউশনি শেষ করা রিমির শরীর আজ আর সায় দিচ্ছে না। অবসাদে চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে, পা দুটো যেন মাটির সাথে গেঁথে গেছে। এই প্রচণ্ড ক্লান্তিতে মানুষের মস্তিষ্কের ভয় পাওয়ার ক্ষমতাটুকুও বোধহয় লোপ পায়, কেবল অবশিষ্ট থাকে একরাশ বিরক্তি আর ক্ষোভ। আরশানের উপস্থিতি এখন ওর কাছে অসহ্য এক যন্ত্রণা মনে হচ্ছে। রিমি দুহাতে নিজের ব্যাগটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ওর দুচোখে এখন ভয়ের লেশমাত্র নেই যা দেখে আরশান যেনো বিশেষ অবাক হলো না। রিমি দাঁতে দাঁত চেপে ফেটে পড়ল — “আজ আমি টায়ার্ড, ভীষণ টায়ার্ড! আমি এখন বাড়ি যাব, আপনিও ফিরে যান”
আরশান কিছু বললো না, শুধু এক নজর রিমির দিকে তাকালো, যেনো চোখ দিয়ে আদেশ করছে এখুনি ওঠো! রিমি একটু নাক ফুলিয়ে বললো — “না উঠলে কী করবেন?”
আরশান এবার বাইক থেকে নেমে এক পা এগিয়ে এসে রিমির একদম মুখোমুখি দাঁড়াল। ওর দীর্ঘ শরীরের ছায়া রিমিকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলেছে। ও রিমির কানের কাছে মুখ নামিয়ে বরফশীতল কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল — “আমি চাইলে এই মুহূর্তে তোমাকে এখান থেকে তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যেতে পারি। I can kidnap you right now! তোমার এই সরু গলি আর চারপাশের লোকগুলো টেরও পাবে না যে তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে। আর সেটা নিশ্চয়ই তোমারখুব একটা ভালো লাগবে না!”
আরশানের কিডন্যাপ করার হুমকির কথা শুনে রিমি বুঝতে পারল, এই উন্মাদ লোকটার সাথে তর্কে জেতা আর খড়ের গাদায় সুঁই খোঁজা একই কথা। ও মনে মনে আরশানকে কয়েক দফা কড়া ভাষায় গালমন্দ করে গজগজ করতে করতে বাইকের পেছনে উঠে বসল। আরশানের ঠোঁটের কোণে তখন এক চিলতে বিজয়ের হাসি। ও বাইক স্টার্ট দিতে গিয়েও হঠাৎ থেমে গেল। যেন কিছু একটা মনে পড়েছে ওর। আরশান নিজের মাথার হেলমেটটা খুলে রিমির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল— “Oops! I forgot to bring your helmet. আপাতত তুমি আমারটাই পরো।”
আরশান নিজেই হেলমেটটা রিমির মাথায় পরিয়ে দিয়ে ফিতেটা আটকে দিল। ওর আঙুলের স্পর্শ রিমির চিবুকে লাগতেই রিমি কিছুটা কুঁকড়ে গেল। ও অবাক হয়ে প্রশ্ন করল— “আমার হেলমেট? আপনি আমার জন্য হেলমেট কিনেছেন?”
আরশান বাইকের এক্সেলেটরে হালকা মোচড় দিয়ে নির্লিপ্ত গলায় বলল — “হুম। সেফটির জন্য দুজনেরই হেলমেট পরা উচিত, তাই একসাথে দুটোই কিনেছিলাম”
রিমি কোনো উত্তর দিল না। আরশান নিজের এ কোন নতুন রূপ দেখাচ্ছে? যত্ন, অধিকারবোধ, নাকি অন্যকিছু তা বোঝার মতো শক্তি আজ ওর মস্তিষ্কের নেই। আরশান বাইকের গতি বাড়িয়ে দিল। বাতাসের ঝাপটায় রিমির ক্লান্তি যেন আরও জাঁকিয়ে বসল! ওদিকে….সন্ধ্যার কিছু সময় পর আরশানের ফুপুর আগমন ঘটলো বাসায়। উনি এসেছেন ডাক্তার দেখাতে, তাই ভাইয়ের বাসায় দুদিন থাকবেন। সাথে ওনার একমাত্র মেয়ে নীরা। নীরা দেখতে বেশ সুন্দরী এবং আরশানের প্রতি ওর সেই অবাধ্য দুর্বলতা বাড়ির কারোরই অজানা নয়। ছোটবেলা থেকেই নীরা আরশানের অন্ধ ভক্ত। ড্রয়িংরুমে বসে নীরা বারবার অস্থির হয়ে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল, যেন ওর চোখ দুটো কেবল একজনেরই সন্ধান করছে। কিন্তু আরশানকে কোথাও দেখতে না পেয়ে ওর মুখটা ছোট হয়ে এল। আরাফাত সাহেব সোফায় বসে বোনের সাথে গল্প করছিলেন, ভাগ্নিকে তখন উনি প্রশ্ন করলেন — “নীরা, তুমি কি কিছু খুঁজছ?”
নীরা বললো — “আসলে আরশান ভাইকে দেখছিনা তাই..”
সুরভী বেগম উত্তর দিলেন — “আরশান একটু বেরিয়েছে, ওর কখন কোন কাজের তাড়া থাকে ওই জানে। হুটহাট বেরিয়ে যায়”
নীরার মুখটা ছোটো হয়ে গেলো। ফুপু তখন চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে একটু গলা খাকারি দিয়ে শুরু করলেন— “জানেনই তো ভাইজান, মেয়েটা আমার আরশানকে কতো পছন্দ করে। ওর তো এই শহরে আসতেই ইচ্ছা হয় না কিন্তু এই বাসায় আসবো শুনে আমার সঙ্গে আসতে রাজি হয়েছে”
ফুপুর এই সরাসরি ইঙ্গিতপূর্ণ কথায় আরাফাত সাহেব একটু অপ্রস্তুত হয়ে হাসলেন। ঠিক পাশেই সোফার এক কোণে বসে ছিল আয়ান আর ইনায়া। ফুপুর এই কথা শুনে আয়ান ভ্রু কুঁচকে ইনায়ার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল — “কিরে, ফুপু এসব কী আবোলতাবোল বলছে? আরশান ভাইয়াকে দেখার জন্য নীরার মন আনচান করছে মানে?”
ইনায়া মুখে একটা টিস্যু চেপে হাসি চেপে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। ও আয়ানের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল — “আরে বোকা, এখনো বুঝিসনি? ফুপু আসলে ইনডাইরেক্টলি আব্বুকে পটাচ্ছেন। উনি চান ভাইয়ার সাথে নীরা আপুর বিয়েটা দিতে। দেখছিস না নীরার সাজগোজ? মনে হচ্ছে যেন এখনই বিয়ের পিঁড়িতে বসে পড়বে!”
ইনায়ার বিস্তারিত বক্তব্য শুনে আয়ান সশব্দে হেসে ওঠার উপক্রম করল, কিন্তু বাবার কড়া চাহনি মনে করে কোনোমতে নিজেকে সামলে আয়ান হাসতে হাসতে ঘরের দিকে পা বাড়াল কারণ ওর ভাইয়ের পছন্দের মেয়ে কে সেটা ও ভালোভাবেই জানে!
_____________________________________
মিনিট দশেকের মধ্যেই আরশান ওকে নিয়ে নিরিবিলি একটা লেকের পাড়ে। জায়গাটা বেশ শান্ত, ঝাউগাছের সারির ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে পানির ওপর। আরশান বাইক থামিয়ে রিমিকে নামতে ইশারা করল। লেকের ধারের একটা কাঠের বেঞ্চে দুজনে গিয়ে বসল। আরশান পাশের এক মুদি দোকান থেকে কিছু স্ন্যাকস আর চিপস কিনে এনে একটা প্যাকেট রিমির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল—”খেয়ে নাও”
রিমি প্রথমে না করতে চাইলেও পেটের ক্ষুধা আর দ্রুত বাসায় ফেরার তাড়ায় ও দ্বিরুক্তি করল না। গপগপ করে চিপসগুলো খেতে শুরু করল ও। ওর খাওয়ার ধরন দেখে আরশানের ভ্রু উচিয়ে দেখছিল। ও লক্ষ্য করল চিপস চিবোতে চিবোতেই রিমির চোখের পাতা বারবার বুজে আসছে। অবসাদে ওর শরীরটা যেন ভেঙে পড়ছে।আরশান চিপসের প্যাকেটটা পাশে রেখে খুব নিচু স্বরে বলল — “চাইলে একটু ঘুমাও। সময় হলে আমি নিজে ডেকে দেব।”
রিমি ঝটকা দিয়ে চোখ খুলল — “না না, আমি ঠিক আছি। ঘুমাব কেন?”
ও মুখে বলছিলো ঠিকই কিন্তু সেই মুহূর্তেই ওর মনে হলো, একটা বালিশ পেলে ও হয়তো এই পিচঢালা রাস্তাতেই ঘুমিয়ে পড়ত। ও একবার আড়চোখে চারপাশটা দেখে নিল। আশেপাশে কিছু মানুষের আনাগোনা আছে, পরিবেশটা খুব একটা অনিরাপদ মনে হচ্ছে না। রিমি নিজের ফোনে ১৫ মিনিটের একটা অ্যালার্ম সেট করে বেঞ্চের পেছনে হেলান দিয়ে বসল। চোখ দুটো বন্ধ করার আগে ও আরশানের দিকে না তাকিয়েই বলল — “আপনার সঙ্গে দেখা করার আমার শর্ত কিন্তু পূরণ হয়ে গেছে। ওনার চাইলে আপনি চলে যেতে পারেন। আমি অ্যালার্ম শুনে উঠে একাই বাসায় চলে যেতে পারব।”
আরশান ওর কথার কোনো উত্তর দিল না। ও নির্বিকার ভঙ্গিতে চিপস খেতে থাকল। এর মধ্যে চোখ বুজতেই রিমি গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। নির্জন লেকের পাড়ে তখন শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর পানির কুলকুল শব্দ।আরশান কিছুক্ষণ স্থির হয়ে ঘুমন্ত রিমির দিকে তাকিয়ে রইল। চাঁদের আলোয় ওর ক্লান্ত মুখটা এখন কোনো অবাধ্য কিশোরীর মতো লাগছে। আরশান খুব সাবধানে, অতি সন্তর্পণে রিমির মাথাটা টেনে নিয়ে নিজের শক্ত কাঁধের ওপর রেখে আরশান নিজের শরীরটাকে একটু এলিয়ে দিল, যাতে রিমির ঘুমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। লেকের ধারের ওই ঝাউগাছের সারিগুলো এখন ঘন অন্ধকারের চাদরে ঢাকা। মিটমিটে চাঁদের আলোয় পানির ওপর রূপোলি রংটা ভেসে উঠছে! আরশান বেঞ্চের হাতলে নিজের একটা হাত ছড়িয়ে দিয়ে আয়েশ করে বসে আছে। ওর সেই বলিষ্ঠ বাহুর ওপর রিমির মাথাটা পরম নিশ্চিন্তে ঝুলে আছে। ঘুমের ঘোরে রিমির ঠোঁট দুটো সামান্য ফাঁক হয়ে আছে, আর সেই দ্রুতবেগে চলা নিয়মিত নিঃশ্বাসগুলো আরশানের তপ্ত হাতের চামড়ায় এসে বিঁধছে। আরশান কিছুক্ষণ স্থির হয়ে রিমির মুখটার দিকে তাকিয়ে রইল। পঁচিশ দিনের সেই রুদ্ধশ্বাস বিরহ আর মানসিক চাপের পর রিমির এই সান্নিধ্য ওকে যেন মাতাল করে দিচ্ছে। ও সারাজীবন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখেছে, কিন্তু আজ রিমির এই অদ্ভুত মায়ার কাছে ও নিজেই নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। রিমির ওই নিষ্পাপ ঘুমন্ত মুখটা দেখে আরশানের ভেতরের সেই সুপ্ত উন্মাদনাটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। আরশান খুব ধীরলয়ে নিজের মুখটা রিমির দিকে নামিয়ে আনল। ওর তপ্ত নিঃশ্বাস এখন রিমির নাকে-মুখে আছড়ে পড়ছে। ও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। অত্যন্ত ধীরগতিতে, প্রায় নিঃশব্দে আরশান নিজের ঠোঁট দুটো রিমির সেই নরম ঠোঁটের ওপর স্থাপন করল। চুম্বনের সেই গাঢ় স্পর্শে রিমির অবচেতন মন হয়তো কিছুটা কেঁপে উঠল। ও ঘুমের ঘোরেই সামান্য একটু উসখুস করে আরশানের বাহুটা আরও আঁকড়ে ধরল। আরশান ঠোঁট সরিয়ে নিয়ে রিমির কপালে নিজের কপাল ঠেকাল। ওর হৃৎপিণ্ডটা এখন ড্রামের মতো বাজছে। ও বিড়বিড় করে বলল — “পুরো পঁচিশটা দিন আমি নিজের সাথে যুদ্ধ করেছি রিমি। ভেবেছিলাম তোমাকে একটু নিঃশ্বাস নিতে দেব, কিন্তু আমি নিজেই যে দমবন্ধ হয়ে মরছিলাম সেটা বুঝতে অনেকটা দেরি হয়ে গেল। I hate how much power you have over me without even trying”
আরশানের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। ও রিমির কপালে নিজের কপাল আরও নিবিড়ভাবে ঠেকিয়ে চোখ বুজল। ওর মনে হলো, এই পনেরো মিনিটের নিস্তব্ধতা যেন কয়েক জনমের তৃষ্ণা মিটিয়ে দিচ্ছে!
চলবে…
আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1HzqGt9PWx/?mibextid=oFDknk

