#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#বোনাস_পর্ব
রিমির কান দুটো যেন ভোঁ ভোঁ করছে। আরশানের বলা প্রতিটি শব্দ ওর মগজে হাতুড়ির মতো বিঁধছে। ও নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে তেজি গলায় বলল — “কি যা তা বলছেন? আমি আপনাকে বিয়েই করব না, সেখানে আমার নামের সাথে আপনার নাম জোড়ার প্রশ্নই আসে না!”
আরশান রিমির কথা শুনে বিন্দুমাত্র বিচলিত হলো না। ও বরং একদৃষ্টে রিমির চোখের দিকে তাকিয়ে থেকে পকেট থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করল। খুব ধীরেসুস্থে সেটা টেবিলের ওপর মেলে ধরে শান্ত গলায় বলল — “জানতাম তুমি এমন কিছু একটা বলবে। সেই কারণেই তোমার জন্য কোনো অপশন খোলা রাখিনি। দাবার ছকটা আমি অনেক আগেই সাজিয়ে ফেলেছিলাম”
রিমি ভ্রু কুঁচকে টেবিলের দিকে তাকাল। ওর বুকটা হুট করে ধুকপুক করে উঠল — “কী বলতে চাইছেন আপনি? আর এই কাগজ কিসের?”
আরশান আলতো করে কাগজের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আঙুল রাখল — “Legally, you are already my wife, Rimi. This is our marriage certificate.”
রিমির পৃথিবীটা যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। ও হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে কাগজটা হাতে তুলে নিল। কাগজের নিচে স্পষ্ট করে লেখা — ‘Rubaiya samad’। অবিকল ওর হাতের লেখা, ওর স্বাক্ষর! রিমি হতবাক হয়ে কয়েক সেকেন্ড সেদিকে তাকিয়ে রইল। ওর মাথা একদম ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেছে। এটা কীভাবে সম্ভব? ও তো সজ্ঞানে কোনোদিন কোনো কাবিননামা বা কোর্ট ম্যারেজের কাগজে সই করেনি!
“এটা… এটা তো আমার সই! কিন্তু আমি তো এটা করিনি! এটা কিভাবে এখানে…”
আরশান এক বাঁকা হাসি হাসল। ও আরাম করে সোফায় হেলান দিয়ে বলল — “মনে করে দেখো, কোথাও তো একটা সাইন করেছিলে”
রিমি একটু ভাবতেই হঠাৎ চোখের সামনে দৃশ্যটা ভেসে উঠল। হ্যাঁ, ওর জন্মদিনের রাতে একটা কুরিয়ারের পার্সেল এসেছিল, ও সেটা রিসিভ করে ওই কাগজে সই করেছিল। এছাড়া আর কোথাও সাইন করেনি। কিন্তু ওই সই এখানে কীভাবে এল? রিমি একটু মাথা খাটাতেই পুরো বিষয়টা পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেল। আরশান অত্যন্ত কৌশলে ওই রিসিটের নিচেই কার্বন পেপার বা অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওর সইটা এই কাবিননামার কাগজে নিয়ে নিয়েছে!
রিমি ঘৃণাভরে আরশানের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললো — “আপনি…আপনি জালিয়াতি করেছেন? ওই কুরিয়ারের সইটা এখানে কপি করিয়েছেন আপনি?”
“তুমি সত্যিই অনেক স্মার্ট!”
আরশানের এমন নির্লজ্জ স্বীকারোক্তি শুনে রিমির ভেতরের ধৈর্য বাঁধ ভেঙে গেল। ও কোনো কিছু চিন্তা না করে এক ঝটকায় সোফা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সর্বশক্তি দিয়ে আরশানের গালে একটা প্রচণ্ড জোরে থা’প্পড় বসিয়ে দিল। নির্জন ড্রয়িংরুমে সেই চড়ের শব্দটা প্রতিধ্বনিত হলো। আরশানের মুখটা একপাশে ঘুরে গেছে, ওর ফর্সা গালে রিমির আঙুলের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কিন্তু আরশান নড়ল না, কোনো পালটা আঘাতও করল না। ও শুধু হাত দিয়ে গালটা একবার স্পর্শ করল। রিমি ফুঁপিয়ে উঠে চিৎকার করে বলল — “ছোঁবেন না আমায়! আর এইটা, এই কাগজ এই সই এসব আমি মানিনা”
রিমির চোখ দিয়ে পানি পড়ছে ঠিকই কিন্তু কিন্তু রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে! রিমি ওই কাগজটা ছিঁড়ে আরশানের দিকে তাকাতেই দেখলো লোকটার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। উল্টে ও জিজ্ঞাসা করলো — ” I’ve more copies, do you want to tear some more?”
আরশানের কথা শুনে রিমি স্তম্ভিত হলো, আরশান উঠে দাড়িয়ে বললো — “তোমার মনে হয় আমি এতো সহজেই আসল কপি তুলে দেবো? আর আসল কপি ছিঁড়ে ফেললেই বা কি, আসল জায়গা থেকে তো আর তুমি নিজের নাম তুমি মুছতে পারবেনা”
রিমি ফুপাতে ফুপাতে সর্বশক্তি দিয়ে আরশানের কলার চেপে ধরে বলল — “কিসের কথা বলছেন আপনি? জালিয়াতি করে আপনি যে কাজটা করেছেন সেটা ঠিক? সেটা আইনের চোখে অন্যায় নয়?”
মেয়েটা রাগে কাঁপছে, আজ প্রথম রিমির রাগের সঙ্গে পরিচিত হলো আরশান। ও মৃদু হেসে কলার থেকে রিমির হাতটা ছাড়িয়ে নিলো — “আইন শুধু প্রমাণ বোঝে রিমি। তোমার ওই একটা সই আজ আমাকে তোমার জীবনের প্রতিটি পাতায় বৈধতা দিয়ে দিয়েছে। Now, even the law calls you mine। তোমার জন্যে ভালো এটাই হবে যে তুমি এবার পূর্ন নিয়মে বিয়ে করতে নিজেকে প্রস্তুত করে নাও”
আরশানের কর্মকাণ্ডের কথা শুনে এমনিতেই ওর রাগ হচ্ছে, তার ওপর আবারো বিয়ের কথা বলছে? দ্বিতীয়বারের মতো আবারো একটা থা’প্পড় পড়লো আরশানের অন্য গালে!
“আপনি এতটা নিচ যে এভাবে মেয়ের স্বাক্ষর এভাবে চুরি করেছেন আবার আইনের হুমকি দিচ্ছেন? বিয়ের মতো একটা পবিত্র বিষয় নিয়ে আপনি এমন জঘন্য ছেলেখেলা করলেন? শুধু নিজের জেদ মেটানোর জন্য আপনি এতোটা নিচে নামতে পারলেন? আমার ঘৃণা হচ্ছে আপনার ওপর!”
আরশান নির্লিপ্তভাবে ঘাড় নাড়লো, ও হাত বাড়িয়ে রিমির গালটা ছুঁতে যেতেই মেয়েটা দূরে সরে গেলো। তাতে কি আরশান থামবে? আরশান আরো এক পা এগিয়ে রিমির গালটা হালকা ধরে বললো — “আমার যে জিনিস চাই, তা পাওয়ার জন্য আমি ঠিক কতটা নিচে নামতে পারি সে সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণা নেই”
রিমি সন্দেহবশত জানতে চাইলো — “আপনিই কি আমার ভার্সিটিতে গিয়ে নিজেকে আমার হাসবেন্ড পরিচয় দিয়ে এসেছিলেন?”
আরশান মৃদু হাসলো — “আমি ছাড়া এই সাহস আর কে পাবে?”
রিমি হতভম্ব হলো। লোকটার চোখে কোনো অনুশোচনা নেই। ও বুঝতে পারল, এই মানুষটার কাছে বিবেক বা নৈতিকতার কোনো দাম নেই। সে যা চায়, তা কেড়ে নিতেই ও অভ্যস্ত!
______________________________________
ফার্মহাউসের ভেতর একটা গোটা দিন কিভাবে কেটে গেছে রিমি টেরই পায়নি। বাইরে সূর্য উঠেছে, পাখিরা ডেকেছে, আবার গোধূলির রক্তিম আভা আকাশকে রাঙিয়ে দিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে কিন্তু রিমির জীবনে কোনো ভোরের আলো ফুটল না। গত চব্বিশ ঘণ্টায় ও অসংখ্যবার পালানোর চেষ্টা করেছে কিন্তু লাভ হয়নি। রিমি সারাদিন খায়ওনি। ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মে’রে বসে আছে। ওর ফ্যাকাশে ঠোঁট দুটো ভয়ে শুকিয়ে গেছে। বারবার একটা ভাবনাই ওর মগজে হাতুড়ির মতো বিঁধছে — “আমার জীবনটা কি এখানেই শেষ হয়ে যাবে?”
আরশান গতকাল থেকে এখান থেকে এক কদমও বের হয়নি। ও ড্রয়িংরুমে বসে কাজ করছে অথবা মাঝেমধ্যে করিডোরে দাঁড়িয়ে রিমির ওপর নজর রাখছে। কিছুক্ষণ আগে আরশান এই ঘরে এসেছিল। রিমির করুণ অবস্থার দিকে তাকিয়ে ও কোনো করুণা দেখায়নি। বরং বরফশীতল স্বরে বলে গেছে — “নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নাও রিমি। আমি তোমাকে যথেষ্ট সময় ও সুযোগ দিচ্ছি। কিন্তু মনে রেখো, আমার ধৈর্যের একটা শেষ সীমা আছে। তুমি যদি বিয়েতে রাজি না হও তবে লিগ্যাল সম্পর্কের ভিত্তিতে আমি আমার অধিকার আদায় করে নিতে দ্বিধা করব না। After all, law is on my side.”
আরশানের সেই অধিকার শব্দটা রিমির কানে গরম সিসার মতো বিঁধল। ও রীতিমতো ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছে। রিমির মস্তিষ্কে এখন এক চরম দ্বন্দ্ব চলছে। ও জানে, জালিয়াতি করে সই নিলেও আইনিভাবে হয়তো কাগজটা শক্তিশালী, কিন্তু ধর্মীয় বা শরীয়ত সম্মতভাবে তো তাদের বিয়ে হয়নি! কোনো কবুল নেই, কোনো সাক্ষী নেই তবে এই সম্পর্ক কীভাবে কার্যকর হয়? রিমি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল। ওর মনে হচ্ছে, আরশান যদি জোর করে ওর কাছে আসতে চায়, তবে সেটা তো অবৈধ হবে! আইনি কাগজ কি আদৌ বৈধতা দিতে পারে? এই তীব্র আতঙ্ক আর ঘৃণা রিমিকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিচ্ছে। ওর মনে হচ্ছে ও কোনো এক গভীর চোরাবালিতে তলিয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে উদ্ধারের কোনো পথ নেই। বিশাল ফার্মহাউসের এই বিলাসবহুল ঘরটা রিমির কাছে এখন এক জীবন্ত কবরস্থানের মতো মনে হচ্ছে। জানালার বাইরে অন্ধকারের ঘনঘটা, আর ভেতরে রিমির নিশ্বাসের শব্দটুকুও যেন ভয়ে কুঁকড়ে আছে। রিমির হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে আসছে। ও জানে, আরশান যদি এসে ওর ওপর নিজের অধিকার ফলাতে চায়, তবে ওর সাধ্য নেই থামানোর। কারো অনুনয় নিশ্চয়ই আরশান মির্জার ওই পাথুরে মনে আঁচড় কাটবে না।বিছানার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে থাকতে থাকতে রিমির মাথায় হঠাৎ আরশানের বলা সেই শব্দগুলো তীরের মতো বিঁধতে শুরু করল— “আমার পছন্দের জিনিস” আরশান ওকে বারবার “নিজের জিনিস” বলে সম্বোধন করেছে। রিমির বুকের ভেতর এক অদ্ভুত কম্পন জেগে উঠল। ও নিজের ফ্যাকাশে হাত দুটোর দিকে তাকাল। তবে কি আরশানের কাছে ওর রক্ত-মাংসের অনুভূতির কোনো দাম নেই? ও কি আরশানের কাছে দামী কোনো বস্তুর সমতুল্য যা হাসিল করার জন্য আরশান আজ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে সব সীমানা অতিক্রম করেছে? ঠিক এই চরম আতঙ্কের মাঝেই রিমির মাথায় এক উদ্ভট আর বিচিত্র প্রশ্ন উঁকি দিল। ও ছোটবেলা থেকে দেখছে, কোনো দামী খেলনা বা দুর্লভ বস্তুর প্রতি মানুষের প্রবল আকর্ষণ থাকে ততক্ষণই, যতক্ষণ সেটা অধরা থাকে। একবার সেটা মুঠোয় চলে এলে, তার প্রতি জমানো সব আগ্রহ ধীরে ধীরে ফিকে হতে শুরু করে। অর্জনের নেশা মিটে গেলে মানুষ সেই বস্তুকে একপাশে সরিয়ে রাখে। রিমি নিজের মনেই বিড়বিড় করে উঠল — “আরশানের আমার প্রতি এই আগ্রহও কি তবে সাময়িক? উনি যা চাইছেন তা যদি পেয়ে যান… তবে কি ওনার এই জেদটাও মিটে যাবে?”
রিমি উঠে বসে বিষয়টা নিয়ে আরো গভীরভাবে ভেবে দেখল, বিয়ের মাধ্যমে আরশান যদি একবার ওকে পেয়ে যায় তবেই হয়তো মুক্তি মিলবে! তখন হয়তো সে রিমির ওপর থেকে কঠোর নজরদারি সরিয়ে নেবে। রিমি এসব ভাবতে ভাবতেই শূন্য দৃষ্টিতে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল। ওর মনে হলো, এখান থেকে বের হতে হলে ওকে এই অগ্নিকুণ্ডেই নিজেকে সঁপে দিতে হবে। কিন্তু সেই আগুনের তেজ কি আদৌ কোনোদিন কমবে, নাকি রিমি নিজেই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে সেই উত্তর কেবল ভবিতব্যই জানে!
___________________________________
বিছানার এক কোণে বসে থাকতে থাকতে রিমির চোখের জল শুকিয়ে এখন সেখানে এক অদ্ভুত পাথুরে স্থিরতা নেমে এসেছে। মেয়েটা গত চব্বিশ ঘণ্টায় যেন কয়েক যুগ পার করে ফেলেছে। ওর ভেতরে এখন আর কোনো ভয় নেই, আছে শুধু আরশানের প্রতি এক বিশাল ঘৃণার পাহাড়। রিমির নিজের ওপরই প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে কেন ও একসময় এই মানুষটার প্রতি দুর্বল হয়েছিল? আজ আরশানের প্রতি ওর মনে তৈরি হওয়া ভালো লাগার অনুভূতিগুলোর কথা মনে পড়লেও ঘৃনা করছে! রিমি নিজের মনকে শক্ত করে নিল। ও বুঝতে পেরেছে, আরশান মির্জার মতো জেদি মানুষকে আটকানোর কোনো পথ নেই। এখান থেকে বের হতে হলে ওকে সেই শর্তই মানতে হবে যা আরশান চাইছে। রিমির মনে এক অদ্ভুত জেদ দানা বাঁধল, আরশান ওকে ‘বস্তু’ হিসেবে পেতে চায় তো? সেটাই হবে! নিজের এলোমেলো চুলগুলো একটু ঠিক করে রিমি ধীর পায়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল। ড্রয়িংরুমে তখন ফোনের আলোয় আরশানের গম্ভীর মুখটা দেখা যাচ্ছে। করিডোরে রিমির পায়ের শব্দ শুনে আরশান মাথা তুলে তাকাল। রিমির চোখেমুখে এখন কোনো আতঙ্ক নেই, বরং এক ধরণের শূন্যতা। আরশান ফোন বন্ধ করে উঠে লাইট জ্বালালো। রিমির ফ্যাকাশে চেহারার দিকে তাকিয়ে ও খুব নিচু স্বরে জিজ্ঞাসা করল — “সকাল থেকে কিছু খাওনি। খাবার টেবিলে রাখা আছে, খাবে এসো।”
আরশান রিমির হাত ধরে নিয়ে যেতে চাইলে রিমি এগুলো না, বরং ওখানেই স্থির রইলো। আরশান ফিরে তাকাতেই রিমি বললো — “আপনি যা চাইছেন, আমি তাতে রাজি”
আরশান স্তব্ধ হয়ে গেল। ও হয়তো আশা করেছিল রিমি আরও কিছুদিন ছটফট করবে, কান্নাকাটি করবে বা বাধা দেবে। কিন্তু রিমির এই আচমকা আত্মসমর্পণ ওকে কিছুটা অবাক করল। আরশান নিশ্চিত হওয়ার জন্যে বললো — “what did you say?”
“আমি বিয়ের জন্যে প্রস্তুত”
আরশানের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিজয়ের হাসি ফুটে ওঠার আগেই ও লক্ষ্য করল রিমির চোখে সেই আগের সজীবতা নেই। সেখানে আছে শুধু এক গভীর অরণ্যের মতো অন্ধকার ঘৃণা। আরশান রিমির খুব কাছে এসে দাঁড়াল। ওর উত্তপ্ত নিশ্বাস রিমির কপালে লাগছে, কিন্তু রিমি এক চুলও নড়ল না। ও এক অবশ পাথরের ন্যায় শুন্যভাবে চেয়ে রইল। আরশান রিমির গালে হাত রেখে প্রশ্ন করলো — “হঠাৎ এত বড় পরিবর্তন? আমি কি তবে ধরে নেব তুমি পরিস্থিতি মেনে নিয়েছো?”
রিমি আরশানের হাতের স্পর্শে শিউরে উঠল না, বরং এক তিক্ত হাসি দিয়ে বলল — “মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আর উপায় তো আপনি রাখেননি”
আরশানের চোয়াল শক্ত হয়ে এল, কিন্তু ও কিছু বললো না। তার প্রিয় “শখ” যে স্বেচ্ছায় ওর হতে রাজি হয়েছে এটাই আরশানের জন্যে যথেষ্ট। রিমি তখন শূন্য দৃষ্টিতে আরশানের পেছনে থাকা দেয়ালঘড়িটার দিকে তাকিয়ে রইল। রাত এখন প্রায় আটটা বাজে। কিন্তু ঠিক কোন সময়ে ওখান থেকে মুক্তি মিলবে এখন তার অপেক্ষায় রিমি!
চলবে…
[পর্ব পরে নিজেদের মন্তব্য অবশ্যই জানিয়ে যাবেন ❤️]
আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/18KS6xLmyJ/?mibextid=oFDknk

