#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#বোনাস_পর্ব [ 𝗛𝗶𝘀 𝗗𝗲𝘀𝗶𝗿𝗲, 𝗛𝗲𝗿 𝗗𝗶𝘀𝗱𝗮𝗶𝗻 🥀]
বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর ড্রয়িংরুমের সেই ভারী বাতাস যেন আরও গুমোট হয়ে উঠল। আরশানের চোখেমুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি কিন্তু আরাফাত সাহেবের মনে সেই স্বস্তি নেই ছেলের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে তিনি এতটাই মর্মাহত যে এখানে এক মুহূর্ত বসার ইচ্ছেও তাঁর আর অবশিষ্ট নেই। সুরভী বেগমও নির্বাক, উনি কেবল রিমির মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আরশান সবাইকে রাতের খাবারের জন্যে বলেছিলো কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কারোরই গলার নিচে খাবার নামার মতো অবস্থা ছিল না। রিমির চাচী কেবল রিমির সঙ্গে কিছু কথা বলেছিলেন, ইনায়াও রিমির সঙ্গে একটু কথা বলেছে। রিমি কারো কথাতেই কোনো উত্তর দেয়নি, ও কেবল পাথরের মতো তাকিয়ে ছিল শূন্যে। রাত তখন অনেক। আরশান আর দেরি করল না, নিজ দায়িত্বে সবাইকে যে যার গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করল। দেহমোহরের পুরো অর্থটাও আরশান রিমির নামে আলাদা করে রেখে পরিশোধ করে দিয়েছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সবাই চলে যাওয়ার পর বাড়িটা যখন নিস্তব্ধতায় ডুবে গেল, রিমির মনে হলো চারপাশের বাতাসও যেন ভারী হয়ে এসেছে। সোফায় পাথরের ন্যায় বসে থাকা রিমির কপালে আরশান দীর্ঘ এক চুমু এঁকে দিয়ে নিচু স্বরে বলল — “ফ্রেশ হয়ে নাও। অনেক রাত হয়েছে, কিছু খেয়ে নেবে”
রিমি হুট করেই আরশানকে বললো — “আমার মা যেনো এইসব বিষয়ে এখনই না জানে”
আরশান ভ্রু কুঁচকে তাকালো — “তুমি এখনও আমাদের সম্পর্ক গোপন রাখতে চাও?”
“আমার মা যদি জানে আমি তার অগোচরে এমন কিছু করেছি উনি কষ্ট পাবেন, তাছাড়া উনি এখন যেখানে আছেন সেই পরিবারেও ওনার সম্মানহানি হবে। আমি চাইনা এমন কিছু হোক। ওনাকে যা বলার আমি বলতে চাই”
আরশান রিমির কথায় সায় দিলো!
“ঠিক আছে, তুমি না জানানো অব্দি আমাদের বিয়ের কথা তোমার মা জানবে না। কিন্তু তুমি যদি জানাতে দেরি করো আমিই জানিয়ে দেবো। After all, জামাই হিসেবে আমার আসল শাশুড়ির সঙ্গে দেখা করতে তো যেতেই হবে”
রিমি কোনো কথা বলল না। যান্ত্রিক কোনো বস্তুর নেয় সে উঠে ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। বাথরুমে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে নিজের বিধ্বস্ত প্রতিবিম্ব দেখল। অবশেষে আরশান যা চাইছিলো তা করেই ছাড়লো! রিমি জেনেছিল যে এই ধরনের অসুখে অনেকসময় ব্যক্তি নিজের পছন্দের যেকোনো জিনিসকে গ্রাস না করা অব্দি ক্ষ্যান্ত হয় না, আরশান বিয়ে তো করে নিল এরপর নিশ্চয়ই পরবর্তী ধাপে এগোবে। ওর অনিচ্ছা সত্বেও যেমন বিয়েটা হয়েছে তেমন হয়তো আরশান নিজের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে রিমির অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন মনে করবে না। রিমির মনে হল যদি এর বিনিময়েই মুক্তি মেলে, তবে সে স্বেচ্ছায় নিজেকে সেভাবেই সঁপে দেবে। একবার আরশান যা চায় সেটা পেয়ে গেলে ওর প্রতি আর তার কোনো দাবি থাকবেনা! রিমিও চায় আরশান ওর প্রতি আর কোনো দাবি না রাখুক। মেয়েটা সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নিলো। বিছানার ওপর দুটো শাড়ি রাখা ছিলো, তার মধ্যে একটা লাল রংয়ের শিফন শাড়ি। ফ্রেশ হয়ে রিমির পাড়হীন সেই শাড়িটা নিজ অঙ্গে জড়িয়ে নিলো। চোখে গাঢ় কাজল আর ঠোঁটে হালকা লালচে আভায় রিমি নিজেকে সাজিয়ে নিলো।
আরশান যখন ঘরে ঢুকল তখনই তার নজর স্থির হলো আয়নায় রিমির প্রতিবিম্বের ওপর। মেয়েটা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে আছে, লাল শাড়িতে মেয়েটাকে দেখে আরশানের নিশ্বাস যেনো থমকে গেল। সে ধীরপায়ে রিমির সামনে এসে দাঁড়াতেই রিমি উঠে আরশানের দিকে ঘুরে দাঁড়ালো। আরশান ওর এতটাই নিকটে চলে এসেছে যে ওর তপ্ত নিশ্বাস রিমির কপালে আছড়ে পড়ছে। সে রিমির চিবুক ধরে মুখটা ওপরে তুলল। রিমির চোখদুটো দিকে তাকিয়ে আরশান আরো অবাক হলো কারণ সেই ভয়ের চেয়েও বেশি ছিল এক ধরণের নিঃশর্ত সমর্পণ! আরশান রিমিকে ঘুরিয়ে আয়নার দিকে মুখ করিয়ে দাঁড় করিয়ে পেছন থেকে ওকে জড়িয়ে ধরে ওর ঘাড়ের কাছে নিজের মুখটা নিয়ে এল। ওর তপ্ত নিশ্বাস রিমির কাঁধের ওপর আছড়ে পড়ছে। আরশান আয়নায় রিমির কাজল কালো চোখের দিকে তাকিয়ে আবার বলল — “বিয়ের জন্য যে মেয়েটার নূন্যতম প্রস্তুতি ছিল না, সে হঠাৎ নিজেকে এভাবে সাজালো? Are you trying to tempt me, Rimi? or did you just realize that Arshan Mirza doesn’t ask, he takes?”
আরশানের সেই শীতল এবং তীক্ষ্ণ কথার পিঠে রিমি যখন মুখ খুলল, তখন ওর স্বরে কোনো ভয় ছিল না। বরং এক অদ্ভুত মায়াভরা বিষাক্ততা ছিল। রিমি আয়নায় আরশানের চোখের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল, ওর ঠোঁটের কোণে তখন এক চিলতে ম্লান হাসির রেখা ফুটে উঠলো। রিমি খুব শান্ত এবং ধীর গলায় প্রশ্ন করলো…
“আপনি কি আমায় খুব করে চান, আরশান? আপনার এই সব আয়োজন সবই তো আমাকে পাওয়ার জন্য, তাইনা?”
রিমির কণ্ঠের এই আকস্মিক পরিবর্তন আরশানকে এক মুহূর্তের জন্য থমকে দিল। রিমি যে হঠাৎ এমন কোনো প্রশ্ন করবে আরশান ভাবেনি। ও রিমির কোমরে নিজের হাতের বাঁধন আরও কিছুটা শক্ত করে ওকে নিজের শরীরের সাথে মিশিয়ে নিয়ে খুব গম্ভীরভাবে জবাব দিল — “You’re mine already, Rimi”
আরশান রিমির ঘাড়ের কাছে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াচ্ছিল, রিমি তখন আরশানের চোখের অতল অন্ধকারে তাকিয়ে মনে মনে বললো…
“আমিও তো এটাই চাই আরশান। আপনি আমায় আপনার নিজের মতো করেই গ্রহণ করে নিন। আজ আপনার সবটুকু চাওয়া মিটিয়ে নিন আমার ওপর দিয়ে, যাতে আমার প্রতি আপনার আর কোনো তীব্র আকাঙ্ক্ষা অবশিষ্ট না থাকে। যত বেশি আপনি আমায় চাইবেন, আপনার প্রতি আমার ঘৃণাও তত বাড়বে। আর আপনার জন্যে আমার মনে সেই ঘৃণাই সবসময় টিকে থাকবে”
আরশানের তীক্ষ্ণ চোখজোড়া কুঁচকে এল। রিমির আকস্মিক এই নমনীয়তা এবং ধরা দেওয়ার ভঙ্গি ওর মস্তিস্কে বিপদের সংকেত দিচ্ছে। যে মেয়েটা কাল অব্দি এই সম্পর্কের বিরুদ্ধে ছিল সে এখন এতো সহজেই ধরা দিচ্ছে? এটা বিশ্বাস করা ওর জন্য কঠিন। আরশানের মস্তিষ্কে একবার খেলে গেলো যে রিমি আবার ওর সঙ্গে নাটক করছে না তো? তৎক্ষণাৎ ও রিমিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে ওর চিবুকটা হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরল। চাহনিতে এক ধরণের শীতল সন্দেহ নিয়ে ও প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল!
“এত সহজে ধরা দিচ্ছ? What are you trying to do? আরশান মির্জাকে কি এতই বোকা মনে হয় তোমার? কোন চাল চালছো এই শান্ত চেহারার আড়ালে?”
আরশানের কণ্ঠস্বরে এক ধরণের হিসেবি সতর্কতা। ও রিমির চোখ ও ঠোঁটের কম্পন লক্ষ্য করছিল, যেন ওর ভেতরের কোনো মিথ্যে ধরে ফেলবে। রিমি বুঝতে পারল, শুধু কথা দিয়ে এই ধুরন্ধর লোকটাকে থামানো যাবে না। ওর মনে একবার সন্দেহ ঢুকে গেলে তো যে পরিকল্পনা করেছে সব ভেস্তে যাবে! আরশানের মনের এই সন্দেহ দূর করার জন্যে ওই মুহূর্তে একটাই পথ পেলো রিমি। ও এবার আরশানের চোখের দিকে তাকিয়ে এক বিষাক্ত মায়াবী হাসি হাসল। ওর দুহাত আরশানের চওড়া কাঁধের ওপর তুলে দিয়ে ও আরও কাছে ঘেঁষে এল। আরশান যখন পরবর্তী জেরা করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলো তখনই রিমি নিজের ওষ্ঠজোড়া আরশানের ওষ্ঠাধরে বিলীন করে দিল। এক অতর্কিত ওষ্ঠস্পর্শে আরশানের সব যুক্তি আর সন্দেহকে এক নিমেষে তছনছ করে দিল ও। রিমির এই আকস্মিক ছোঁয়া আরশানের স্নায়ুতে যেন বিদ্যুতের ঝিলিক বয়ে আনল। আরশান মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ঝুঁকে পড়ে রিমির ঘাড়ের ভেজা অংশে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। রিমির সারা শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল, কিন্তু সে সরলো না। আরশাম রিমির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল…
“looking at you like this… I’m not giving you a single second of mercy tonight”
আরশান রিমিকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে বিছানার নরম গদিতে শুইয়ে দিল। লাল শাড়ির আঁচলটা অগোছালোভাবে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। আরশান প্রাণভরে কিছুক্ষণ চেয়ে দেখে নিলো নিজের প্রিয় “শখ”কে! এরপর ঝুঁকে পড়ে রিমির ঠোঁটে এক বিধ্বংসী চুম্বন এঁকে দিল যার দরুন মেয়েটার নিশ্বাস প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, কিন্তু ও আরশানকে বাঁধা দিল না। আরশানের সেই স্পর্শে প্রেম ছিল কি না জানা নেই, কিন্তু প্রচণ্ড এক তৃষ্ণা ছিল যা রিমিকে পুরোপুরি গ্রাস করে নিচ্ছিল। কৃষ্ণপক্ষের সেই রাতের অন্ধকারে নিজেকে বিলীন করে দিচ্ছিল এক অদ্ভুত নিশ্চুপ যন্ত্রণায়।
_________________________________
ভোরের প্রথম আলো যখন পাতলা পর্দার ভেদ করে ঘরের ভেতর এসে পড়তেই রিমি চোখ মেলে তাকালো। ওর মনে হলো সারা শরীরে কে যেন পাথর চাপা দিয়ে রেখেছে। ও নড়তে চাইল, কিন্তু পারল না। কারণ আরশানের একদিকের ভারি হাত ওর কোমরের ওপর পাথরের মতো চেপে আছে, অন্য হাতটা ওর ঘাড়ের নিচে আর পিঠের ওপর ওর উষ্ণ নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে। লোকটা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, কিন্তু অবচেতনেও ওর হাতের বাঁধন শিথিল হয়নি। যেন সামান্য একটু আলগা করলেই এই ‘শিকার’ ওর হাতের মুঠো থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে! রিমি নিজের হাতটা একটু সরানোর চেষ্টা করতেই কাল রাতের সেই কালচে হয়ে যাওয়া কালশিটেগুলোর ব্যথায় কুকড়ে উঠল। কব্জিতে আরশানের আঙুলের সেই শক্ত ছাপগুলো এখন স্পষ্ট বেগুনি আভা ধারণ করেছে। হঠাৎ আরশান ঘুমের ঘোরেই রিমিকে আরও জোরে নিজের বুকের সাথে পিষ্ট করল। রিমির মনে হলো ওর ফুসফুসের সব বাতাস বেরিয়ে যাচ্ছে, দম বন্ধ হয়ে মা’রা যাবে সে। কোনোমতে নিজেকে সেই ম’রণ আলিঙ্গন থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ও উঠে বসল। বিছানা ছেড়ে নামার আগে রিমি একবার স্থির হয়ে তাকাল আরশানের ঘুমন্ত মুখের দিকে। এক সময় এই মানুষটার জন্য ওর মনের গহীন কোণে একটা ভালো লাগার সুপ্ত অনুভূতি জন্ম নিতে শুরু করেছিল। যদিও তাকে পাওয়ার আশা ও কোনোদিন করেনি, কিন্তু তাকে দূর থেকে দেখাতেই একটা অদ্ভুত মুগ্ধতা ছিল। অথচ আজ সেই মানুষটাকে এত কাছে পেয়েও রিমির অস্বস্তি হচ্ছে। ও আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। মেঝের ওপর পড়ে থাকা লাল শাড়িটা একরকম অবজ্ঞায় তুলে নিয়ে ও ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ও নিজের বিধ্বস্ত প্রতিবিম্বের দিকে তাকাল। নিজের কাছেই নিজেকে আজ কেমন অচেনা করে লাগলো ওর। একটা মানুষের প্রতি ঘৃণার জন্ম যে এত গভীর হতে পারে, তা রিমি আগে কখনো ভাবেনি। বিয়ের প্রথম রাত যেখানে হওয়ার কথা ছিল কোনো এক রূপকথার শুরু, রিমির জীবনে তা ছিল শুধু একটা মুক্তির উপায়। নিজের সঙ্গে করা এক চুক্তি। রিমির চোখ দুটো হঠাৎ টলমল করে উঠল। কাল রাতে আরশানের সেই তপ্ত স্পর্শ, ওর সেই অবাধ্য দাবি আর হিতাহিত জ্ঞানশূন্য আকর্ষণের কথা মনে পড়তেই রিমির ভেতরটা বিষিয়ে উঠল। হঠাৎই ওর চোখের জল গাল বেয়ে নিচে গড়িয়ে পড়ল। রিমি ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিল, যেন কাল রাতের প্রতিটা স্মৃতি ধুয়ে মুছে ফেলতে চায়। কিন্তু মনের ভেতরের তৈরি হওয়া ঘৃনা কি এত সহজে মোছা সম্ভব? অবশ্য রিমি ভুলতে চায়না, আরশানকে ভবিষ্যতের প্রতিটা দিনে প্রতিটা মুহূর্তের ভীষণভাবে ঘৃনা করতে চায় মেয়েটা!
ভোরের আলো তখন জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। আরশান ঘুমের ঘোরেই হাত বাড়াল রিমির খোঁজে কিন্তু তার হাত শুধু চাদরের শীতলতা স্পর্শ করল। এক মুহূর্তের জন্য আরশানের চোখ দুটো খুলে গেল। সে পাশ ফিরল, কিন্তু বিছানার সেই অংশটা শূন্য। চাদরটা দুমড়ে মুচড়ে আছে, রিমির শরীরের সেই পরিচিত ঘ্রাণটা এখনো বাতাসে ভাসছে, কিন্তু রিমি কোথায়? সে ধড়ফড় করে উঠে বসল। এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে ও শয়নকক্ষের চারপাশটা একবার দেখে নিল। বাথরুমের দরজা খোলা, ভেতরটা শূন্য। পুরো ঘরে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। ও রিমির নাম ধরে ডাকলো — “রিমি?”
আরশানের কণ্ঠস্বর প্রথমে ছিল নিচু, কিন্তু তাতে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ছিল। সে উঠে দাঁড়াল, পুরো ঘরটা তন্নতন্ন করে খুঁজল। বারান্দা দেখল, কিন্তু কোথাও পেলো না। সবই আছে, শুধু রিমি নেই! কোনো উত্তর নেই। আরশান দ্রুত পোশাক গায়ে জড়িয়ে রুমের বাইরে বেরিয়ে এল। বিশাল ফার্মহাউসটা নিস্তব্ধ। প্রতিটি কোণ, প্রতিটি বারান্দা তন্নতন্ন করে খুঁজল সে, কিন্তু কোথাও রিমির ছায়াটুকুও নেই। ওর চোয়াল শক্ত হয়ে এল, কপালে ফুটে উঠল রাগের নীল শিরা। এই ফার্ম হাউজের আলাদা সিকিউরিটি গার্ড রাখা নেই, একজন কেয়ারটেকার থাকেন। তিনিই দেখভাল করেন কিন্তু গত রাতে তো উনিও চলে গেছিলেন। এরপর এখানে শুধু ও আর রিমিই ছিলো। আরশান পায়ের ক্ষিপ্র গতিতে সে বাড়ির মেইন গেটের কাছে এসে দাঁড়াল। দরজাটা সামান্য ফাঁক হয়ে আছে। এই বাড়ির পিন-কোড সিস্টেম অত্যন্ত সুরক্ষিত, যা আরশান ছাড়া কারোর জানার কথা নয়। তখনই ওর মনে পড়ল, গত রাতে যখন সে পিন চেপে দরজা লক করছিল, রিমি সামনের সোফায় বসে ছিল। তারমানে মেয়েটা পিন কোড দেখে নিয়েছিল? আরশানের ঠোঁটে এক বিষাক্ত ও বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। তার মানে, কাল রাতের ওই আকস্মিক সমর্পণ এক সুপরিকল্পিত ধোঁকা ছিলো? রাগে আরশান সজোরে দরজার পাল্লায় একটা লাথি মারল। ধাতব দরজার সেই বিকট শব্দে ভোরের নিস্তব্ধতা খানখান হয়ে গেল। ও দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করল…
“So, it was a game, wasn’t it, Rimi? তুমি পালিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করছিলে? You really thought you could outsmart me?”
আরশানের নিজের ওপর ভীষন রাগ হলো। কিন্তু সময় নষ্ট করে লাভ নেই, ও পকেট থেকে ফোন বের করল। ওর আঙুলগুলো কাঁপছে রাগে। সে মেইন গেটের বাইরে বেরিয়ে খোলা রাস্তাটার দিকে তাকাল। বহুদূর পর্যন্ত ধূ ধূ পথ। সে শীতল গলায় ফোনের ওপাশে নির্দেশ দিল — “ফার্মহাউসের আশেপাশে যতগুলো সিসিটিভি আছে সব চেক করো। আর শোনো, শহরের প্রতিটি এক্সিট পয়েন্টে আমার লোক বসাও। I want rimi at any cost!”
[তো আরশান, তোমার সাধের বউ তোমারে বিয়ের পরেরদিনই dump করে চলে গেছে। এমন দিনও দেখতে হলো! 🤷]
চলবে…
আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1HGETAnY8X/?mibextid=oFDknk

