বিপরীত_মেরুর_টানে #পর্ব_২৪(বাসর_পর্ব)

0
13

#বিপরীত_মেরুর_টানে
#পর্ব_২৪(বাসর_পর্ব)
#আরিবা_নাওশীন

আরাভ দরজাটা লক করার শব্দ শুনে রিন্নির বুকের ভেতরটা ধুপ করে উঠল। সে বিছানার এক কোণায় গিয়ে গুটিশুটি মে-রে বসল। রিন্নি বুঝতে পারছে, বাঘ আজ আসলেও খেপেছে! কিন্তু আরাভ চৌধুরীর রাগের ধরণটা সবসময়ই আলাদা। সে যত বেশি রাগে, তত বেশি শান্ত আর গম্ভীর হয়ে যায়।

আরাভ ধীর পায়ে এগিয়ে এল। চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর রেখে রিন্নির একদম সামনাসামনি দাঁড়াল। চশমা ছাড়া আরাভের চোখ দুটো যেন আরও বেশি ধারালো আর মায়াবী লাগছে।

রিন্নি আমতা আমতা করে বলল, “দেখুন স্যার… আপনি তো একজন লজিক্যাল মানুষ। লজিকে তো ইমোশনের জায়গা নেই, তাই না? তাহলে আজ কেন ইমোশনাল হয়ে বাসর করার কথা বলছেন?”

আরাভ বিছানায় বসে রিন্নির খুব কাছাকাছি ঝুঁকে এল। রিন্নি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। কিন্তু কোনো রুক্ষ আচরণ নয়, বরং রিন্নি অনুভব করল তার কপালে এক জোড়া তপ্ত ঠোঁটের কোমল স্পর্শ। আরাভ খুব নিচু স্বরে বলল
“সব ইকুয়েশন লজিক দিয়ে মেলে না রিন্নি। কিছু ইকুয়েশন মেলাতে হয় অধিকার দিয়ে। তুমি আমার স্ত্রী, আমার জেরি। আর আজ বাড়ির সবাই যখন আমাদের নিয়ে এত কথা বলছে, তখন আমি ভাবলাম সত্যিই তো! তোমাকে তো আমি আমার মনের সবটুকু কথা কোনোদিন গুছিয়ে বলাই হয়নি। বা কখনও তোমাকে সেইভাবে সময়ও দি নি।”

রিন্নি চোখ খুলে দেখল আরাভের চোখে আজ এক সমুদ্র মমতা উপচে পড়ছে। আরাভ রিন্নির হাত দুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল, “সবাই মনে করে আমি একটা রোবট, যে শুধু ফিজিক্স আর ল্যাপটপ বোঝে। কিন্তু তারা জানে না, এই রোবটের প্রসেসর জুড়ে সারাদিন শুধু তোমার পা-গলামি আর ওই হাসিমুখটা ঘোরে। এই যে কাল রাতে তোমার জ্বর হলো, আমার মনে হচ্ছিল আমার সিস্টেম ক্র্যাশ করে যাবে।”

রিন্নি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। এই কি সেই গম্ভীর প্রফেসর? রিন্নি দুষ্টুমি করে বলল, “ওরে বাবা! আপনার মেমোরিতে তো দেখি আমার জন্য অনেক জিবি (GB) জায়গা খরচ হচ্ছে! ”

আরাভ এবার মৃদু হাসল। আরাভ উঠে গিয়ে ঘরের সব লাইট নিভিয়ে দিল। শুধু নীল রঙের একটা জিরো বাল্ব জ্বলছে, যা পুরো ঘরে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। রিন্নি দেখল আরাভ তার ল্যাপটপটা আলমারিতে ঢুকিয়ে লক করে দিল।

আরাভ আবার বিছানায় ফিরে এসে রিন্নিকে আলতো করে জড়িয়ে ধরল। রিন্নি প্রথমবার অনুভব করল আরাভের হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি। সে ফিসফিস করে বলল, “স্যার, আপনার হার্টরেট কিন্তু আজ অনেক হাই। ফিজিক্সের ভাষায় একে কী বলে?”

আরাভ রিন্নির কপালে নিজের চিবুক ঠেকিয়ে বলল, “একে বলে ‘রেজোনেন্স’ বা অনুরণন। যখন দুটো মনের কম্পন মিলেমিশে এক হয়ে যায়। আজ রাতে কোনো সূত্র কাজ করবে না রিন্নি, আজ শুধু আমাদের নিশ্বাসের শব্দ কথা বলবে।”

আরাভ রিন্নিকে নিজের বাহুবন্দি করে চাদরের নিচে টেনে নিল। রিন্নি লজ্জায় আরাভের বুকের ভেতর মুখ লুকাল। বাসর মানে শুধু শরীর নয়, বাসর মানে দুটো মানুষের একে অপরের প্রতি বিশ্বাসের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। আরাভ আজ প্রমাণ করল, সে শুধু একজন কঠোর শিক্ষক বা রহস্যময় মানুষ নয়, সে রিন্নিকে কতটা ভালোবাসে।

জানালার ওপাশে চাঁদটা মেঘের আড়ালে লুকাল। চৌধুরী ভিলার সেই নিভৃত ঘরটা আজ সাক্ষী হয়ে রইল এক পবিত্র ভালোবাসার গল্প। আরাভ রিন্নির চুলে বিলি কাটতে কাটতে এক সময় গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল। আর রিন্নি মনে মনে বলল, “আমার এই রোবট বরটাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক মানুষ!”

পরদিন সকালে
রিন্নির ঘুম ভাঙল পাখির কিচিরমিচিরে। আরাভ এখনো তাকে জড়িয়ে ধরে শান্ত হয়ে ঘুমোচ্ছে। রিন্নি আলতো করে আরাভের গালে হাত ছোঁয়াল। ঠিক তখনই দরজার ওপাশ থেকে ফাহিমের ফিসফিসানি শোনা গেল
“ভাবী! ও ভাবী! বিরিয়ানি কি গরম করব নাকি কালকের বাসিটাই চলবে?”

আরাভ ঘুমের ঘোরেই চেঁচিয়ে উঠল, “ফাহিম! তুই আজই বাড়ি থেকে গেট আউট হবি!”

রিন্নি খিলখিল করে হেসে উঠল।

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here