#বুকের_পাঁজর
#লেখনিতে:#ভরসা_জান্নাত (শ্যামকন্যা)
#পর্ব:০৮
পুরুষদের সকালের খাবার খাওয়া হয়েছে।মহিলারা খেতে বসেছে। সুমাইয়া হাবিবা উপরের ঘরেই খেয়ে নিয়েছে।হিরা’রা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে আর খাচ্ছে।আসমা বেগম তার মেয়ের দিকে তাকিয়ে।ভাবছে সকালে নিজের শাশুড়ির কথা।
“আপনি কি বলছেন মা,হিম হিরা? হচ্ছে টা কী?”
আসমা বেগমের কথায় দীর্ঘশ্বাস ফেলে আকরাম শিকদার তার ভাইদের নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।বাইরে নিরিবিলি কোথাও গিয়ে হয়ত কথা বলবেন।তারা চলে যেতেই তিন গিন্নি তাদের শাশুড়ির দিকে এগিয়ে গেলেন। বিছানায় পা মেলিয়ে বসে খাটে বালিশ দিয়ে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে কথা বলা শুরু করলেন,
“আমাদের এই বংশে নিয়ম আছে,প্রতি প্রজন্মেই বাড়ির কোনো এক ছেলের সাথে এই বাড়ির ই আরেক মেয়ের বিয়ে হবে।তাইতো বড় খোকার সাথে তার বাবার চাচাতো ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে হয়েছে।আমাদের ইচ্ছা ছিল হামিম দাদুভাইয়ের সাথে হালিমা’র বিয়ে দিতে।তোমরা সবাই জানো,হিমের রাজনীতির উপর ঝোঁক ছিল।ওকে ঐ পথ থেকে আনা যাচ্ছিল না।অনেক বোঝানো হয়েছে ওকে,বুঝতেই চাচ্ছিল না।তখন তোমাদের শশুর ওকে বলেছিল,যদি ও রাজনীতি ছাড়ে তবে যা চাইবে তাই পাবে।কি চেয়েছিল জানো? আমাদের বাড়ির সবচেয়ে ছোটো ফুল টাকে চেয়েছিল।ও জানতো কেউ রাজি হবে না। কিন্তু তোমাদের শশুর রাজি হয়ে গেলো। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেলো ছেলেটা।ওর সাথে সাথে হামিম ছুটলো। কিছুক্ষণ পর হামিম ফোন দিতেই তোমাদের শশুর আর বড় খোকা ছুটলো।সেদিন কি হয়েছিল জানি না তবে ঐ দিনের পর থেকেই তোমাদের শশুর,বড় খোকা ওর রাগকে খুব ভয় পেত।ওর রাজি হওয়ার পরেও তোমাদের শশুর ভরসা পাচ্ছি ছিল না। ও যে ছেলে তাতে দেখা গেলো সবার চোখকে ফাঁকি দিয়ে রাজনীতি তে এমন ভাবে জরিয়ে গেলো যে ওকে ফেরানোর পথই থাকবে না ।তাই বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলো। অদ্ভুত ভাবে রাজিও হয়ে গেলো,সবাই অবাক হলেও আমার সুবিধার ঠেকেনি।আমি ওকে পাঠাতে চাইনি কিন্তু আমার কথা কেউ শুনলো না।তারপর আমি যা ভয় পেয়েছিলাম তাই ই হলো। হ্যাঁ ও ওর কথা রেখেছে, রাজনীতি তে জরায়নি ঠিক ই কিন্তু বড় বড় রাজনীতিবিদদের কে নিজের পায়ের নিচে রেখেছে।বড় বড় নেতা ওর নাম শুনলেই কাঁপে।কেনো সেটা অন্য একদিন জেনো আজকে শুধু এইটুকু জেনে রাখো যে তোমাদের ছেলেকে তোমরা চেনো না।ও সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শিকদার বাড়ির সম্পূর্ণ সম্পত্তি ওর কাছে কিছু না।পুরো শিকদার বাড়ির সম্পত্তি চোখের পলকেই কেনার ক্ষমতা রাখে ও।আপাতত সবাই বড় ছেলের বিয়ের প্রস্তুতি নেও।হিমের ব্যাপারে কথা অন্য একদিন বলা যাবে।”
ঘোরের মধ্যে থেকেই তিন গিন্নি তার ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।কি যে হচ্ছে সবার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।আপাতত বড় ছেলের বিয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।কাছের আত্মীয় দের ডাকা হয়ে গেছে। রান্নার কাজও শুরু হয়ে গেছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই সুমাইয়ার বাবা মা চলে আসবে।আজকে রহিমা বেগম সুমাইয়ার বাবা মা দের রাজি করিয়েই ছাড়বেন।
___________________________________________________________________________
নির্জন জনমানবহীন পুকুরের পাশে দাঁড়িয়ে দুই ভাই।জীবনের হিসাব নিকাশ করছে বোধহয়। একজনের আজ বিয়ে,মানায় যাচ্ছে না।কালকেই তো তাদের পরিবারের একজন পৃথিবী থেকে মুছে গেল।আর আজকে এসব? দৃষ্টিকটু লাগে।
“তোর জন্য আজকে আমার এই অবস্থা।নিজে কাজিন বিয়ে করতে চাসনি বুঝলাম তাই বলে আমাকেই ফাসালি!!হাসিবকে দুচোখে দেখিসনি নাকি”
হিমের কথায় মেকি হাসি দিল হামিম।হিমকে হিরার প্রতি দুর্বল তো সেই ই বানিয়েছে। চাচাতো বোনগুলোকে সে নিজের বোন ভেবেছে।তাদের কাউকে বিয়ে করা তার জন্য অসম্ভব।হিম যখন হিরার কথা বলল তখনই তার মাথায় এই বুদ্ধি ভর করল।সে ভালো করেই জানতো হিম হিরা’কে ঐ চোখে দেখে না।জাস্ট সবাইকে থামিয়ে রাজনীতি তে থাকার একটা প্রচেষ্টার অংশ ছিল হিরা।তাইতো ভাইকে হিরার প্রতি দুর্বল করার জন্য কোমড়ে গামছা বেঁধে নেমে ছিল।হিম বিদেশ যেতেই হাবিবাকে নিজের দলে নিয়ে নিল হামিম। কখনো হাবিবা ছবি পাঠায় বা কখনো হামিম।একটা ছেলে তো আরেকটা ছেলের মন বুঝবেই,সেই হিসেবে হামিম হিম কে বিদেশে থাকতেই হিরার প্রতি দুর্বল করে ফেলেছিল।বাড়ির প্রতি হিমের যে সুপ্ত রাগ সেটাকেও হাত ছাড়া করেনি হামিম,মূলত হিমকে হিরার জালে খুব ভালোভাবেই ফাঁসিয়েছে হামিম।
“আমি যদি জানতাম বিদেশে থেকে তুই ওসব করছিস তাহলে জীবনেও ঐ পদক্ষেপ নিতাম না আমি।নিজের পরিবার কে পর্যন্ত ছাড়িস নি।তাদের নিয়েও গেম খেলছিস।তোর ওটা মাথা নাকি আর কিছু।কি চাল ই না চেলেছিস,এখন কেউ ছুঁতে পর্যন্ত পারবে না তোকে।দেশের নেতা মন্ত্রী দের হাতের মুঠোয় নাচাচ্ছিস।প্রতিমাসে তোর ব্যাংক একাউন্টে বিভিন্ন দেশ থেকে বিদেশী টাকা আসে,তারপরেও দেশে এসে কাজ করতে হবে।হাহ,তোর জায়গায় আমি থাকলে বসে বসে শুধু খেতাম আর ব্রেন চালাতাম।”
“তাইতো আজকে আমার জায়গায় তুই নেই।বাট এত কিছু থেকেও বা কি লাভ।মন টাই তো শান্তিতে থাকে না,আর এরজন্য একমাত্র তুই দায়ী।”
হিমের কথায় মাথায় হাত দিয়ে বোকা বোকা হাসলো হামিম।হিরা নামক পিছুটান আছে বলেই তো নিজেকে নিয়ে ভাবে হিম,না হলে পাত্তা দিতো বুঝি নিজের জীবনের!!!
“হিম ভাই,হামিম ভাইয়া?”
হিরার ডাকে পেছনে ফিরল দুই ভাই।
“দাদি ডাকে আপনাদের কে”
বলেই চলে গেল।তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হিম।হামিম ভাইয়ের ঘাড়ে মাথা রেখে চলে যাওয়ার ইশারা দিল।
___________________________________________________________________________
তিন ভাই ঘরে ঢুকছে। চিন্তিত মুখে বাড়ির বাইরে গেলেও হাসি মুখে ফিরছে।রহিমা বেগম ড্রয়ংরুমে বসে সব কাজের তদারকি করছেন।বাড়ির বউরা রান্নার কাজে ব্যস্ত।হিম হামিম বসল তাদের দাদির পাশে।
“সুমাইয়ার বাবা মা চলে এসেছে।তোমরা দুজন আর হিরা যাও তাদের আনতে।হামিম দাদুভাই তাদের নিয়ে বাড়ি আসবে আর হিম দাদুভাই হিরা, তোমরা দুজন আজ বিকালে যাবে বিয়ের জন্য কেনাকাটা করতে।কি কি কিনতে হবে আমি বলে দেব।এখন যাও তিনজন রেডি হও।”
ওনার কথায় মাথা নাড়িয়ে চলে গেল ওরা।হিরা যদিও দ্বিমত করছিল কিন্তু দাদিকে কিছু বলেনি। শুধু শুধু ঝামেলার দরকার নেই,হিম তো তাকে আর খেয়ে ফেলবে না। চলে গেল ও রেডি হতে।
___________________________________________________________________________
বাসস্টপে দাঁড়িয়ে রয়েছে হিম,হামিম আর হিরা।
সুমাইয়ার বাবা মার আসার অপেক্ষা।মিনিট পাঁচের মধ্যেই একটা বাস এসে থামলো। সুমাইয়ার বাবা মাকে নামতে দেখে ওরা এগিয়ে গেলো।সবাই সালাম দিয়ে আসতে কোনো অসুবিধা হয়েছে কিনা জানতে চাইলো। টুকটাক কথা বলে তাদের নিয়ে চলল ওরা।তারা নিজেদের গাড়ি করে এসেছিল।হিম বসল ড্রাইভিং সিটে আর ওর পাশে হামিম বসল।হিরা সুমাইয়ার মার পাশে জানালার কাছে বসেছে।
মুহূর্তেই ধোঁয়া উড়িয়ে হাড়িয়ে গেলো তাদের গাড়ি টা।
___________________________________________________________________________
হামিম সুমাইয়ার বাবা মাকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই গিন্নি রা তাদের আপ্যায়ন শুরু করল। যত্নে কোনো ত্রুটি নেই।আপাতত তারা রহিমা বেগমের রুমে।
ড্রয়িংরুমে সবাই চিন্তিত হয়ে বসে আছে।না জানি কি হবে,ওরা রাজি হবে না কি না সেটাই বড় চিন্তার। অনেকক্ষণ হলো তারা ঐ রুমে। অবশেষে রুমের দরজা খুলল।রহিমা বেগম বেরিয়ে এলেন।
“রান্না কতদূর?”
রোকেয়া বেগম শশুড়ির কথায় দ্রুত উত্তর দিলেন,
“এই তো কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়ে যাবে।”
“হিম দাদুভাই কে ফোন করে বলো একটু তাড়াতাড়ি করতে।আর সুমাইয়ার মা’কে সুমাইয়ার কাছে নিয়ে যাও।বড় খোকা?”
“বলো মা”
“হবু বেয়াইকে গ্রাম থেকে একটু ঘুরিয়ে নিয়ে আয়”
বলে তিনি রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন।
ওনার কথায় রোকেয়া বেগম সুমাইয়ার মা’কে নিয়ে উপরে চলে গেল,আর আকরাম শিকদার চললেন হবু বেয়াই কে গ্রাম ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে।
___________________________________________________________________________
রাতে মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষণ পর হিম হিরা বেরিয়ে গেল।যদিও বিকালে যাওয়ার কথা ছিল তবে হয়ে ওঠেনি।বাড়িতে অনেক কাজ থাকায় কেউ আসেনি ওদের সাথে।
প্রথমে সুমাইয়ার জন্য ড্রেস কিনতে হবে তারপর হামিমের জন্য আর সর্বশেষে বাড়ির বাকি সদস্যদের জন্য।
হিম হিরা প্রথমেই গেলো শাড়ির দোকানে।সেখান থেকে সুন্দর দেখতে একটা বেনারসী শাড়ি পছন্দ করল।
শাড়ি কিনেই চলল নিজেদের দোকানে। শিকদার টেইলার্স সাধারণত বেনারসী শাড়ি দোকানে বিক্রি করে না,অর্ডার পেলে তবেই বানায়।তাই তাদের দোকানে বেনারসী শাড়ি না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে হলো।
খুলনায় তাদের বড় একটা দোকান রয়েছে যদিও এটা গ্রাম থেকে অনেক দূরে তারপরেও নিজেদের জিনিসে আলাদা একটা বিশ্বাস থাকে।
সেখান থেকে হামিমের জন্য সিম্পিল ডিজাইনের সুন্দর একটা পাঞ্জাবী নিলো।তারপরে নিলো রহিমা বেগম তার তার জা’দের জন্য একই রকম শাড়ি।তাদের শাড়ি কেনার পর শিকদার বাড়ির তিন গিন্নি এবং জমিদার বাড়িতে থাকা তাদের বাকি জা’দের জন্য একই রকমের শাড়ি নিলো।হিরা, হাওয়া বা হাবিবার সমবয়সী সকলের জন্য একই রকমের সিম্পিল ডিজাইনের লাল রঙের গোল জামা নিলো। জামার সাথে ওড়নার সেট না থাকায় আলাদা করে ওড়না কিনল।পিচ্চি বাচ্চাদের জন্য লাল রঙের ফ্রক।হিম,হাসিব,নীড় আর তাদের বন্ধুরা সাথে সমবয়সী ভাইদের জন্য নিলো একই রকমের পাঞ্জাবি। আকরাম শিকদার সহ তাদের সব ভাইদের জন্য আলাদা করে পাঞ্জাবি নিলো।দুজন মিলে সবকিছু পছন্দ করেছে।
সেখান থেকে গেলো গয়নার দোকানে।অনেক খুঁজে সুন্দর ডিজাইনের সোনার হার নিল।কানের দুল,টিকলি, চুড়ি কিছু বাদ দেয়নি।
কসমেটিকস এর দোকান থেকে মেকআপের কিছু জিনিস নিলো।ওরা যে কজন বোন সবার জন্য চুড়ি নিলো।সবাই তাদের হাতের সাইজের একটা করে চুড়ি দিয়েছিল।
“ভাইয়া আপনি এখানে দাঁড়ান।আমি দোকান থেকে একটু আসি।দরকারি কিছু কেনার আছে।”
মিনমিন করে বলল হিরা।হামিমের দু হাত ভর্তি শপিং ব্যাগ। কসমেটিকস এর জিনিস গুলো হিরার হাতে।দিনে হলে একটা কথা হতো কিন্তু রাতে হিরাকে একা একটা দোকানে পাঠানোর মানুষ হিম না।হিরা হিমের দিকে তাকাতেই দেখলো সে শীতল দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে।ভেতর নড়ে যায় এ দৃষ্টিতে।এদিক ওদিক তাকিয়ে কাঁপা কন্ঠে বলল,
“আসলে প্রয়োজনীয় মানে ব্যক্তিগত মা… মানে মেয়েলি কিছু জিনিস কেনারআছে।
“আমি দোকানের সামনে দাঁড়াচ্ছি,দ্রুত যা”
হামিমের বলতে দেড়ি কিন্তু হিরার যেতে দেড়ি হলো না।মিনিট দশেক পর ফিরে আসলো।
“চলুন”
গাড়ির কাছে গেলো দুজন। গাড়ির পেছনের সিটে সবকিছু রেখে বাঁচল বোধহয় হিম।
” ভাইয়া”
গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিল হিম,তার আগেই ডাক দিল হিরা।
“না কিছু না।চলুন”
অস্বস্তি তে বলে উঠল ও।
“কি বলবি দ্রুত বল”
“আইসক্রিম”
“গাড়িতে বোস”
বলেই আইসক্রিমের দোকানে চলে গেলো ও।আপাতত শুধু হিরার জন্য আইসক্রিম কিনল হিম। অনেক দূরের পথ,এখান থেকে সবার জন্য আইসক্রিম নিলে গলে যাবে,তাই গ্রামের কাছের কোনো দোকান থেকে নিয়ে নেবে সবার জন্য।
গাড়িতে উঠে হিরাকে আইসক্রিম গুলো দিয়ে দিল হিম।তিন চার ফ্লেভারের আইসক্রিম রয়েছে সেখানে।প্রথমে চকলেট ফ্লেভারের আইসক্রিম খাওয়া শুরু করল ও। কিছুক্ষণ খেয়েই হিমের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল সে খাবে কি না।
“আমি এসব খাই না”
“একবার টেস্ট তো করুন”
এবার হিরার দিকে তাকালো হিম।নজর হিরার ঠোঁটের দিকে।গলা শুকিয়ে গেল ওর, কয়েকবার ঢোক গিলে গলা ভেজানোর চেষ্টা করল।গলার এডমস অ্যাপল টা যখন উপর থেকে নিচে নামল,তখন হিরার ভেতর টা ধক করে উঠল। সেকেন্ড ই চোখ সরিয়ে ফেলল।
“এখন টেস্ট করলে পাপ হবে,অন্য কোনো একদিন টেস্ট করে রিভিউ দেব তোকে”
মাথা নাড়িয়ে খাওয়ায় মন দিল হিরা। অন্যমনস্ক হিরা ঠিক করে খেয়াল করেনি হিমের কথা।কিন্তু হিমের মন অন্যদিকে।না চাইলেও চোখ দুটো নিষিদ্ধ জায়গায় চলে যাচ্ছে, বেপরোয়া হতে ইচ্ছে করছে। বেইমান চোখ গুলো উপরে ফেলবে ও।
“বা**লের জীবন আমার।শালার বেইমান সব আমার কপালেই,আমার মন আমার চোখ কোথায় আমার কথা শুনবে তা না বা*লগুলো আমার সাথেই বেইমানি মা*রা*য়।বা*লের মাথা,বা*ল বা*ল বা*ল, সবকিছু বা*ল।ফা*ক অফ অল।”
বিরবির করেই গাড়ি চালাচ্ছে হিম।হামিমের কথানুযায়ী “বা*লময় জীবন ওর”।
___________________________________________________________________________
ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করল হিরা,হিম গাড়ি পার্ক করতে গেছে। ড্রয়িংরুমে মহিলারা সবাই আড্ডা দিচ্ছে।তাদের পাশেই বসে পড়ল ও। দুমিনিট বাদেই সবার ড্রেস হাতে হিম ঢুকল।হিম ঢুকতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলো হিরা।এগিয়ে গিয়ে মা চাচিদের ড্রেস একেকটা করে নিলো।হিম ওর পেছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে আর ও হিমের কাছ থেকে একটা একটা করে শপিং ব্যাগ নিচ্ছে।সবাইকে আলাদা করে দেওয়া টা একটা ঝামেলা,তাই এক ব্যাগেই স্বামী স্ত্রীর ড্রেস রাখা।
ড্রয়িংরুমের সবাইকে ড্রেস দিয়ে দাদিদের কথা জিজ্ঞেস করল।জানতে পারল না সবাই রহিমা বেগমের ঘরে।খালি সাথে সেদিকেই রওনা দিল ও,ওর পিছু পিছু হিম গেলো।দুজনকে যেতে দেখে দুই মায়ের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল।
দাদিরা সব তাদের মাঝে কথা বলছে। ইসলাম শিকদারের বোন ইজমা বেগমও আছে তাদের সাথে।রহিমা বেগম আর ইজমা বেগম চাচাতো বোন।ননদ ভাবীর সম্পর্ক তাদের মধ্যে কখনো হয়নি।হিরা তাদের সবাইকে ড্রেস গুলো দিলো।হিম তো আছেই তার পিছে।ড্রেস দিয়েই ওরা বেরিয়ে গেল।
উপরে উঠে বোনেদের দরজার সামনে থামলো।সবাই এক রুমে আড্ডা দিচ্ছে।হিমের তাদের সবার জিনিস নিয়ে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।বেচারা হিম হুশে আছে কি না কে জানে।মার্কেট প্লেস থেকে শুরু করে বাড়ি অবদি হিরার এ্যাসিস্ট্যান্ট এর মতো কাজ করেছে ও।কারো হাসির শব্দে পেছনে ফিরল হিম।হামিমসহ হিমের বজ্জাত সব বন্ধুরা ওর পেছনে দাঁড়িয়ে।দোতলায় দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখেছে ওরা।ওদের দিকে এগিয়ে গেলো হিম।
#চলবে?

