#বোকামন
#পর্ব_০৯
#Tahsin_Atoshi
ঘরের মাঝে চুপটি করে বসে আছে স্মৃতি। ভালো লাগছে না তার৷ তার কখনো ইচ্ছে হয়নি এমন আলিশান ঘরের। সে সব সময় চেয়েছে একটা ছোট্ট ঘর যার তার নিজের হবে। কখনো কারো কথা শুনতে হবে না৷ একটু সুখ, নিজের পরিবার এই তো। কিন্তু চাইলেই কি আর সব সম্ভব। তার জন্য আলাদা ঘর ঠিক করা হয়েছে৷ তার ঘরের ডান পাশের ঘরটা শুভর আর বাম পাশের ঘরটা তার বাবার। মাঝখানে সে। নিচে আছে আরেকটা পরিবার। কিন্তু তারা আসলে কি হয় সেটা এখনো অজানা। ঘরে আসার পর এখনো বের হয়নি। বাড়িটা ঘুরে দেখারও ইচ্ছে হচ্ছে না তার। মায়ের ছবিটা বুকে আকড়ে ধরে বসে আছে। এরই মাঝে দরজার শব্দে সামনে তাকালো স্মৃতি। শুভ এসেছে। কিছুই বললো না। শুভ চুপচাপ পাশে এসে বসল। বলল,
-ঘর পছন্দ হয়েছে?
স্মৃতি চুপচাপ এক পলক দেখে নিলো শুভকে কিন্তু কোনো উওর দিলো না। নিস্তব্ধতা কেটে শুভ আবারও বলতে লাগলো,
-আমি কি তোমাকে তুই করে বলতে পারি?
এমন প্রশ্নে স্মৃতি কৌতুহল নিয়ে তাকালো। তা দেখে শুভ বললো,
-না মানে বড় ভাইরা তো ছোট বোনকে তুই করে বলে। হুমায়রাকেও তো অমিত অনিল তুই করে বলে তাই জিজ্ঞেস করলাম। তুমি না চাইলে থাক।
-আমাকে একা থাকতে দিবেন?
-বাসায় আসার পর থেকে তো একাই আছো।
স্মৃতিকে ছবিটা জড়িয়ে রাখতে দেখে বলল,
-ছবিটা দেখতে পারি?
স্মৃতিও না করলো না। বুক থেকে ছবিটা নামিয়ে দেখালো শুভকে। ছবিটা দেখে বলল,
-মাশাআল্লাহ আন্টি তো দেখতে খুবই সুন্দর। তোমার চেহারার সাথেও দারুণ মিল আছে।
-তুই করে বলতে পারেন।
স্মৃতির কথা বুঝতে না পেরে কৌতুহল নিয়ে তাকালো শুভ। কথাটা বোধগম্য হতেই ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠলো। বলল,
-তুমি আই মিন তুই আমাকে তুমি অথবা তুই করে বলতে পারিস।
স্মৃতি একটা মুচকি হাসি উপহার দিলো।
-নিচে চল খাবার খাবি না।
-ইচ্ছে করছে না।
-এটা কেমন কথা চল। বাকিদের সাথেও পরিচয় করিয়ে দেই।
বলেই স্মৃতির হাত ধরে টেনে নিচে নিয়ে এলো। সকলেই খাবার টেবিলে আগে থেকেই বসে আছে। তা দেখে স্মৃতির একটু ইতস্তত বোধ করলো। শুভ চুপচাপ একটা চেয়ারে বসিয়ে নিজেও পাশের চেয়ারে বসে পরলো। মৌমিতাও সবাইকে খাবার দিতে লাগলো। সবার চুপচাপ থাকাটা যেন আরো বিরক্ত লাগছে। সবার মাঝ থেকে শুভ বলে উঠলো,
-স্মৃতি তোকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।
সামনে দেখিয়ে বলল এটা আমার মামা,এটা মামি৷ আর এটা তাদের ছেলে শান্ত নামের অশান্ত।
শুভর শেষের কথাটুকুতে স্মৃতি এবার একটু হাসলো। তা দেখে শান্ত বলল,
-এটা ঠিক না ভাইয়া। আমি যদি শান্ত নামের অশান্ত হই তাহলে তুমি শুভ নামের অশুভ।
শান্তর কথায় এবার স্মৃতি হালকা শব্দ করে হেসে ফেললো। স্মৃতিকে হাসতে দেখে শান্ত বলে উঠলো,
-ইয়েএএএ স্মৃতি আপু হেসেছে। দেখেছো আমি হাসাতে পেরেছি। এখন শুভ ভাইয়া আমাকে গিফট দেও।
শান্তর কথায় স্মৃতি বোকার মতো শুভর দিকে তাকায়। শুভও মাথা চুলকে বলে,
-দুই ভাই মিলে চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম যে তোকে হাসাতে পারবে সে যা চাইবে তাই পাবে।
এরই মাঝে শুভর মামা হালকা হেসে বলে উঠলো,
-তোমরা কেউ শান্ত নামের অশান্ত, কেউ শুভ নামের অশুভ হলেও তোমাদের বোন কিন্তু স্মৃতি। সবার মনে স্মৃতি হয়েই থাকবে। ভুলে যাওয়ার চান্স নেই।
শুভর মামার কথায় সবাই এবার শব্দ করেই হাসে। স্মৃতি অবাক হয়ে তাকায় সবার খুনসুটি দেখে। মনে মনে ভাবে,
“ইশ সত্যিই এটা আমার পরিবার হতো। এতো সহজে কি আপন করে নিতে পারবো আমি? একটা সুযোগ দিলে কি ক্ষতি হবে? আমার জীবন তো এমনিতেই নরক। আরেকটু হোক না হয়। ”
এইটুকু ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে খাবার খেয়ে ঘরে চলে গেল। কেউ আর কোনো বাড়তি কথা বললো না।
~°~
দুপুরের সময়। হুমায়রা মন খারাপ করে বসে আছে। নবীন বরণে পরার জন্য তার কোনো শাড়ি নেই। অমিত হাজারবার বুঝিয়েছে নীলা বেগমের শাড়ি পড়ার জন্য। কিন্তু তার একটাই কথা তার মামনি পুরোনো দিনের মানুষ। সব পুরোনো শাড়ি হবে৷ এমন কথা শুনে নীলা বেগম বিস্ময়ের স্বরে বললেন,
-দেখেছ মেয়ের কথা। আগে শাড়িগুলো দেখ তো।
অনুরাগ হোসেন উর্ফে অমিত অনিলের বাবা তাদের কাহিনী দেখছে আর হাসছে। অনিল এবার বিরক্তি নিয়ে বলল,
-এই পুচকি তুই কি যাবি ভার্সিটি নাকি যাবি না বল তো। বিরক্ত লাগছে কিন্তু এখন।
অনিলের কথা শুনে হুমায়রা এবার আরো বেশি কান্না শুরু করে দিলো। তা দেখে অমিত,অনুরাগ হোসেন ও নীলা বেগম একসাথে বকতে শুরু করলেন অনিলকে। এমনিই মেয়েটা মন খারাপ করে বসে আছে তার মধ্যে আবার বকাঝকা করছে। অনিল এবার বিরক্তি নিয়ে দুই হাত জোর করে বলল,
-আমাকে ক্ষমা করে দিন মেডাম। আপনাকে বকে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। আপনারা দেখুন। আমি রেডি হই গিয়ে। এসব ঢং দেখার সময় নেই।
কথাটুকু বলেই স্থান ত্যাগ করলো। অনুরাগ হোসেন হুমায়রার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল,
-একবার দেখে তো নে শাড়িগুলো। পছন্দ হতেও পারে তাই না।
অবশেষে হুমায়রা রাজি হলো। চুপচাপ বিছানায় বসতেই নীলা বেগম তার কাবার্ডে থাকা শাড়িগুলো এনে হুমায়রার সামনে রাখলেন।। হুমায়রা শাড়িগুলো দেখে অবাক। সবগুলো শাড়ি দেখতেই অসাধারণ। অবাক হয়ে বলল,
-মামনি তোমার কাছে এতো সুন্দর সুন্দর শাড়ি কীভাবে আসলো? বাবাইয়ের চয়েস সবগুলো তাই না। আমিও তো বলি আমার মামনির আবার এতো সুন্দর চয়েস আছে নাকি।
হুমায়রার কথায় নীলা বেগম বোকাবনে গেল। অবাক হয়ে বলল,
-দেখেছো মেয়ের কথা। আমাকে কীভাবে অপমান করলো। এই এই আমি তোর আপন নাকি তোর বাবাই হ্যাঁ!
-তোমরা দু’জনই। এখন ঝগড়া করার মুডে নাই। আমি এখন কোনটা পরবো! সবগুলোই তো সুন্দর।
হুমায়রার এমন কথা শুনে অমিত বলল,
-এখন এই নিয়ে শুরু করিস না। সবগুলোই যেহেতু সুন্দর। একটা পড়ে নে বোন আমার। প্লিজ। আমি গেলাম।
হুমায়রা একনজর অমিতের যাওয়ার পানে তাকিয়ে শাড়িগুলো থেকে একটা পিচ রঙের শাড়ি চয়েস করে নিলো। নীলা বেগমও যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন। হুমায়রাকে শাড়ি পরিয়ে নিজের মতো করে সাজিয়ে দিলেন। সাজানো শেষে মেয়েকে দেখে নিজেই অবাক হয়ে রইলেন। একদম অপরুপ সুন্দর লাগছে হুমায়রাকে। নিজেকে নিজেই বকলেন এই ভেবে ওনারই নজর যেন না লেগে যায়। চোখের কোন থেকে কাজল নিয়ে হুমায়রার ঘাড়ে পেছনে লাগিয়ে দিলেন। কপালে চুমু দিয়ে বললেন,
-কারো নজর যেন না লাগে আমার মেয়ের উপর।
হুমায়রাও এবার হেসে দিলো।
_____
শুভ বন্ধুদের সাথে কথা বলতে বলতে রেডি হয়ে বসে আছে। এখন শুধু স্মৃতির অপেক্ষা। ও রেডি হলেই একসাথে বের হবে দুই ভাই-বোন। চুপচাপ স্মৃতির ঘরের সামনে গিয়ে নক করে জিজ্ঞেস করল ভেতরে আসবে কিনা। স্মৃতিও সম্মতি দেয়ায় ভেতরে ঢুকতেই দেখে স্মৃতি চুপচাপ বিছানায় বসে আছে। পাশে শাড়িটা এলোমেলো হয়ে পড়ে আছে। তা দেখে শুভ অবাক হয়ে বলল,
– এ কি স্মৃতি এখনো রেডি হসনি কেন। যাবি না নাকি?
-যাবো কিন্তু আমি শাড়ি পড়তে পারি না। ব্লাউজও নেই। কি করবো?
মা-কে বলতি মা পড়িয়ে দিতো। স্মৃতির কোনো প্রতিউওর করলো না। শুভও আর সময় না নিয়ে মৌমিতাকে ডেকে এনে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। মৌমিতাও একটু ইতস্তত বোধ করলেন কীভাবে কথা শুরু করবেন। বিছানায় থাকা শাড়িটা নিয়ে বললেন,
-এটা পড়বে তুমি? আমার আরো সুন্দর সুন্দর শাড়ি আছে ওগুলো দেখতে পারো।
-আমার ব্লাউজ নেই কোনো।
আমারগুলো পড়বে। চিন্তা করো না অনেক ধরনের ব্লাউজ আছে। যেটা ভালো লাগে পড়বে। আমার সাথে আসো। বলেই হাত ধরে নিজের রুমে নিয়ে এলো। কাবার্ডে থাকা শাড়িগুলো বের করে স্মৃতির সামনে রাখলো। বলল,
-তোমার যেটা পছন্দ সেটাই নিয়ে নিতে পারো।
স্মৃতি চুপচাপ শাড়িগুলো দেখতে রইলো। এখানে শাড়িগুলোর মাঝে চার ভাগের তিন ভাগই কালো শাড়িতে ভরপুর। আর বাকি শাড়িগুলো অন্যরঙের। কিছুক্ষণ শাড়িগুলো দেখে জলপাই মধ্যেই একটা শাড়ি বেছে নিলো স্মৃতি। তা দেখে মৌমিতা হেসে বললেন,
-উমম তোমার চয়েস তোমার বাবার মতো। শুভ যখন প্রথম আমার পেটে এসেছিল তখন উপহার হিসেবে এই শাড়িটা দিয়েছিল। তোমার সাথে দারুণ মানাবে কিন্তু।
স্মৃতি শুধু একটা মুচকি হাসি উপহার দিলো। মৌমিতাও আর কথা বাড়ালেন না। স্মৃতির পছন্দ করা শাড়িটার সাথে কাজ করা একটা ব্লাউজ ম্যাচ করে দিলেন। এরপর নিজ থেকে শাড়ি পরিয়ে সাজিয়ে দিলেন। এখন শুধু চুল বাধার পালা। কিন্তু ডিজাইন যেন খুজে পাচ্ছেন না। স্মৃতি নিচু কন্ঠে বলল শুধু বেনি করে দিতে। মৌমিতাও সেই কথা অনুযায়ী মাথার উপরে ডিজাইন করে দিয়ে ফ্রান্স বেনি করে বেনিটুকু পাশ থেকে সামনে এনে দিলেন। এইটুকু সাদামাটাতেই অপরুপ সুন্দর লাগছে স্মৃতিকে। স্মৃতির দুইগালে হাত দিয়ে কপালে চুমু দিয়ে বললেন,
-অপরূপা লাগছে আমার মেয়েকে। কারো নজর যেন না লাগে।
এরপর একটা পার্স এনে দিয়ে বললেন,
-নেও এটায় তোমার ফোন আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নেও।
-প্রয়োজন নেই।
-কেন?
-আমার কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেই।
-আচ্ছা। ফোনটা নিয়ে নেও।
-মোবাইল নেই আমার।
স্মৃতির কথায় বোকাবনে গেল মৌমিতা। তবুও কিছু বললো না। চুপচাপ নিজের ফোনটা আনলক করে স্মৃতির হাতে দিয়ে বলল,
-এটা সাথে রাখো আপাতত। ভার্সিটির অনুষ্ঠান। আসতে আসতে রাত হতে পারে মা। এখানে সবার নাম্বার সেইব আছে। কল করবে কেমন।
স্মৃতি চুপচাপ তাকিয়ে রইলো মৌমিতার দিকে। মনে মনে শুধু এইটুকুই ভাবছে এটা ওর সতমা। তবুও কেন আদর করছে।
মৌমিতা আর কিছু বললেন না। শুভ নিচ থেকে ডাক দিলো জলদি যাওয়ার জন্য। স্মৃতি চুপচাপ শাড়ি পড়ে ধীরে ধীরে নিচে নামতে লাগলো। শাড়ি পরার কারণে ভালোমতো হাটতেও পারছে না। জীবনে প্রথমবার শাড়ি পরেছে কিনা। তা দেখে শুভ কিছু সিঁড়ি উপরে উঠে হাত এগিয়ে দিলো। স্মৃতিও চুপচাপ শুভর হাত ধরে নিচে নেমে এলো।
~★~
ভার্সিটি সকলে মিলে অপেক্ষায় করছে দুই পার্টির জন্য। কেউ এখনো এসে পৌছায়নি। এর মাঝে কল করা হয়েছে কয়েকবার। এরই মাঝে একটা কালো রঙের গাড়ি ভেতরে ঢুকতেই সকলে সেদিকে তাকালো। মেয়েরা কয়েকজন এক্সাইটেড হয়ে গাড়ি সামনে এসে দাড়ালো। নিজের পার্টনার বানানোর জন্য। প্রত্যেক নবীন বরণ অনুষ্ঠানে রেম্প শো আয়োজন করা হয়। আর সকল মেয়েই অপেক্ষায় থাকে তাদের ক্রাসদের জন্য। এবার তার উল্টোটা আর হলো না। কালো গাড়িটা থেকে শুভ বেরিয়ে এলো। একটা মেয়ে এক্সাইটেড হয়ে সামনে এগিয়ে যাবে সেই মুহূর্তেই অপর পাশের গাড়ির দরজা খুলতেই একটা মেয়ে বেরিয়ে এলো। তাতেই সবার মন খারাপ হয়ে গেছে। তা দেখে স্মৃতি নিচু স্বরে বলল,
-আমি ওনার বোন হই। মন খারাপের কিছু নেই।
স্মৃতির এইটুকু কথাই মেয়েদের জন্য যথেষ্ট ছিল। সকলে মিলে আবদার করছে এবার রেম্পে তাদের সাথে হাটতে। কিন্তু শুভ তাদের পাওা না দিয়ে যাস্ট চোখের ইশারায় চলে যেতে বলল। এবার ভেতরে ঢুকলো দ্বিতীয় গাড়ি। এটাও সবার পরিচিত এবং সবার ক্রাস বললেই চলে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো সাহস আর কেউ করে না। কারণ এরা দু’জনই বুকড আগে থেকেই। এই দু’জন হলো অমিত ও অনিল। পেছন থেকে বেরিয়ে এলো হুমায়রা। তাতেই ছেলেরা সকলে ফিদা। সকলের মাঝ থেকে একটি ছেলে হুমায়রার দিকে এগিয়ে আসতেই অমিতের হাতের ইশারায় দূরে সরে গেল। হুমায়রা ধীরে ধীরে স্মৃতির কাছে এগিয়ে এলো। দু’জন দুজনকে দেখে অবাক হলো যেন। ঠোঁটে ফুটে উঠলো অকৃত্রিম হাসি। এর মাঝ থেকেই আহান বলল,
-হেই কিউটিরা আমাকেও একটু দেখতে দাও তোমাদের। Wow! Looking like a Princess. I am fell in love with you.
এরই মাঝে অর্নি বলে উঠলো,
-শুরু ফ্লার্ট করা। এই তুই কি কখনো লাইফে সিরিয়াস হবি না।
-আরে দোস্ত সিরিয়াস হয়ে কি হবে যদি মেয়েটা লাইফে না থাকে?
সবার মাঝ থেকে হুমায়রা বলে উঠলো,
-একবার কারো প্রেমে সত্যি সত্যি পরে দেখুন। এরপর বুঝবেন।
হুমায়রার কথায় অবাক হয় আহান। বিস্ময়ের স্বরে বলে,
-তুমি বলছো?
-হুম বললাম। অনেককেই তো দেখি প্রেম করে বিয়ে করতে। এই যে দেখুন অমিত,অনিল ভাইয়াকে। প্রেম করছে বিয়েও করবে।
-তাহলে তোমার সাথে প্রেম করি কি বলো?
এই কথা শুনেই অমিত গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-আহান!
আহান এবার হেসে দেয়। বলে,
-আরে দোস্ত মজা করছি ইয়ার। ইট’স ওকে। এই আহান কখনো কারো সত্যিকারের প্রেমে পরবে না। যদি কখনো পরে তাহলে সিয়র ধোঁকা খাবো।
-নিজেই সব বলে ফেললেন। যদি কখনো ধোঁকা খানও বুঝে নিবেন সেই মানুষটা কখনো আপনার ছিলোই না। উপরওয়ালা ভাগ্যে যাকে লিখে রাখেন তাকেই দেন।
– Ok i understood . Now Let’s go?
সকলেই সম্মতি জানালো। স্মৃতি ও হুমায়রা মিলে তাদের জন্য ঠিক করা সামনের সারিতে গিয়ে বসলো। বাকিরাও নিজেদের মতো জায়গা দখল করে নিলো।
#চলবে….

