#বোকামন
#পর্ব_২৩
#Tahsin_Atoshi
রাত প্রায় দশটার কাছাকাছি। বাসায় এসে মাএই পৌছেছে তুহিন। মনটা খুব ফুরফুরে তার৷ বাবা-মাকে দেখে মনটা আরো ভালো হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছে তার বাবার ব্যবহারে। কারণ তুহিন আসার পর থেকেই তার সাথে ভালো ব্যবহার করছে। অথচ দুদিন আগেও কত কথাই না শোনাতো।
মানুষ বলে ছেলে মেয়েরা বাবা-মায়ের কাছে সব সময় ছোট্ট থাকে। কিন্তু সেটা বোঝা যায় ঠিক যখন ছেলেটা বেকার ও মেয়েটার বিয়ে না হওয়ার সময়৷ আবেগের বসে মানুষ অনেককিছুই বলে। কিন্তু সঠিক সময়ে মানুষের আসল রূপ দেখা যায়।
তুহিনের ক্ষেএেও ঠিক তেমনই হলো। তবুও তারা বাবা-মা তাদের চাইলেই ফেলে দেয়া যায় না। মাএই ফ্রেশ হয়ে বের হয়েছে ওয়াশরুম থেকে। তার মা খাবার নিয়ে বিছানায় বসে আছে। তুহিনও হাসি মুখে মায়ের সামনে এসে বসে। তুহিনের মা-ও এবার ছেলেকে নিজ হাতে খায়িয়ে দেয়া শুরু করে। ব্যাপারটা খুব ভালো লাগে তুহিনের। শেষ কবে মায়ের হাতে খাবার খেয়েছিল মনে নেই তার। আজ অনেকদিন পর আবার খাচ্ছে। খাওয়ানোর মাঝেই তুহিনের মা বলে ওঠে,
-তোর সাথে জরুরি কথা ছিল বাবা।
-হ্যাঁ মা বলো না।
-দেখ নিজ থেকে ব্যবসা করতে চেয়েছিস। করছিসও। পড়াশোনাও শেষ প্রায়। এখন তো বিয়ে-শাদি করতে হবে নাকি? তোর জন্য আমি একটা মেয়ে দেখেছি।
মেয়ে দেখার কথা শুনতেই চমকায় তুহিন। গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
-কে মেয়েটা?
-আমার বান্ধুবীর মেয়ে। মেয়েটা খুব ভালো,ভদ্ররে। আমার খুব পছন্দ। তুই যদি বলিস তাহলে….
মায়ের কথা শেষ করতে না দিয়েই তুহিন থামিয়ে দেয়। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-মা আমি একটা মেয়েকে পছন্দ করি। আর তাকেই বিয়ে করতে চাই। সে-ও ভালো ভদ্র।
-কিন্তু বাবা…..!
-কোনো কিন্তু না মা। বিয়ে,সংসার আমি করবো; তো মেয়েও আমার পছন্দেরই হোক।
থামে তুহিনের মা। কি-ই বা বলার আছে তার। সে জানে তার ছেলেকে। একবার যা বলে তাই করে। তাই গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করে,
-কে মেয়েটা? নাম কি?
-তোমার ওই গ্রামেই থাকে। শুভর বোন স্মৃতি। ওকে ভালোবাসি আমি মা।
-কিন্তু…..!
-কোনো কিন্তু না। শুভর সাথে কথা বলেই আমি তোমাদের জানাবো৷ বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবে তখন।
তুহিনের কথার উপর আর কথা বাড়ায় না তুহিনের মা। খাওয়ানো শেষ করেই স্থান ত্যাগ করে তিনি। তুহিনও এবার বিছানায় গা এলিয়ে দেয়। চুপচাপ ফোনের স্ক্রিনে থাকা নিজের প্রেয়সীর ছবি দেখতে থাকে। ঠোঁটে ফুটে ওঠে মিষ্টি হাসি আর ভেতর থেকে বের হয় গভীর দীর্ঘশ্বাস। কবে যে তার প্রেয়সীকে নিজের করে নিতে পারবে, কবে এই অপেক্ষার প্রহর শেষ হবে জানে না সে। এসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমের দেশে পারি দেয় সে।
চুপচাপ বিছানায় বসে আছে হুমায়রা৷ ভালো লাগছে না তার। কিছুক্ষণ আগে শুভ একটা জলপাই রঙা শাড়ি দিয়ে গেছে হুমায়রাকে। বলেছে শাড়িটা পরে ছাদে যেতে৷ রাগ হয় হুমায়রার। সহ্য হয়না শুভকে। অথচ এই লোকটা নাকি তার হাসবেন্ড।
গল্প,উপন্যাসে পড়েছে,মুভিতে দেখেছে জোর করে বিয়ে করলেও নায়ক নায়িকাকে কত ভালোবাসে। অথচ এদিকে শুভ একটু কিছু হলেই রাগ দেখায়৷ এটা কেমন ভালোবাসা তাই সে বুঝে না। এই লোকটা কি সত্যিই তাকে ভালোবাসে নাকি এটা শুধু মোহ! মোহ কেটে গেলে কি ছেড়ে দিবে? এইসব দ্বিধা কাজ করে হুমায়রার মাঝে। ভাবনার মাঝেই ফোনে রিং হওয়ায় ফোনটা হাতে নেয়। আননোন নাম্বার থেকে কল এসেছে। কাঁপা কাঁপা হাতে ফোনটা রিসিভ করতেই ওপর পাশ থেকে ভেসে আসে পরিচিত কন্ঠ।
“হুর জলদি রেডি হয়ে আসো না। অপেক্ষা করছি তো আমি। ”
সাথে সাথেই ফোনটা কেটে দেয় হুমায়রা। শাড়ি হাতে কিছুক্ষণ মন খারাপ করে বসে থেকে পা বাড়ায় মৌমিতার কাছে। মৌমিতা ঘরে বসে নিজের কাপড় গোছাচ্ছিলেন। হুমায়রাকে নিজ ঘরে থেকে চমকায় তিনি। তবুও হাসি মুখে কাছে এনে বসায়৷ জিজ্ঞেস করে,
“কি হয়েছে?”
-এই শাড়িটা পড়িয়ে দিবেন আন্টি।
-এতো রাতে শাড়ি পরবে কেন?
-ওই শু…শুভ… পড়তে বলেছে।
-আচ্ছা আসো পড়িয়ে দিচ্ছি।
কথামতো মৌমিতা শাড়ি পরিয়ে দেয় হুমায়রাকে। শাড়ি পড়ানো শেষ হতেই হুমায়রা আবার নিজ ঘরে চলে আসে। আয়নার কাছে দাড়িয়ে সাজতে শুরু করে। কিন্তু কি কারণে সাজছে সেটা সে নিজেও জানে না। এই লোককে তো সহ্য হয়না তার। তাহলে সাজছে কেন?আবার আয়নায় তাকিয়ে বিরবির করে বলে,
“সাজছি তো কি হয়েছে? ওই লোকের জন্য সাজতে হবে এটা কে বললো? আমি নিজের জন্য সাজছি হুহ।”
পরিপাটি সাজ হওয়ায় পর ধীর পায়ে এগিয়ে যায় ছাদের দিকে। ছাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দরজা নক করার সাথে সাথেই শুভ দরজা খুলে দেয়। অবাক হয় হুমায়রা। খুব সুন্দর করে ছাদটা সাজানো। লাইটিং, লাভ বেলুনে ভরপুর সব। না চাইতেও ঠোঁটে চলে আসে মুচকি হাসি। হঠাৎ কানের কাছে শুভ হালকা নিচু কন্ঠে বলে ওঠে,
-পছন্দ হয়েছে হুর? তোমার জন্য সবটা।
চমকায় হুমায়রা। শুভর কাছ থেকে দূরে সরে দাড়ায় এবার। শুভকে দেখে আরেকদফা অবাক হয়। জলপাই রঙা পাঞ্জাবিতে খুব সুন্দর লাগছে তাকে। না চাইতেও চোখ আটকে যায়। শুভর আর না ভেবে হুমায়রার হাত টেনে কাছে নিয়ে আসে। কোমড় জড়িয়ে কাছে টেনে বলে,
-তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে হুর। একদম আমার ভাবনার হুরপরীর মতোই।
হঠাৎ এমন ঘটনায় একটু ভরকায় হুমায়রা। নিজেকে ছাড়িয়ে শুভর কাছ থেকে দূরে সরে দাড়ায়। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-আমাকে এভাবে টাচ করবেন। আমার ভালো লাগে না।
-আমি তোমার হাসবেন্ড… তাহলে!
হাসবেন্ড শব্দটা শুনতেই চোখ তুলে তাকায় হুমায়রা। কিছু বলতে যাবে তার আগেই শুভ থামিয়ে দিয়ে বলে,
-আচ্ছা আচ্ছা ম্যাম। ফায়ার হবে না প্লিজ। আপনি মেনে নিয়েন ধীরে ধীরে। আজকের এই সুন্দর মুহূর্তটায় ঝগড়া না করি প্লিজ..!
হুমায়রা ভ্রু কুঁচকায় এবার। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-আপনার কি আমাকে ঝগড়ুটে মনে হয়..!
হুমায়রার প্রশ্নে ভ্যাবাচেকা খায় শুভ। জোরপূর্বক হেসে বলে,
-ন্ নাহ একদমই না। কখন বললাম আমি। আচ্ছা চলো বসি হ্যাঁ?
হুমায়রাও শুভর দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বসে এবার৷ টেবিলের উপর মোমবাতি দিয়ে সুন্দর করে সাজানো তা দেখে ঠোঁটে আবারো হাসি ফুটে ওঠে। আজ ওর নিজেরও ঝগড়া বা কোনো তর্ক করতে ইচ্ছে করছে না। মনটা বিষন্ন হয়ে আছে খুব। তুহিনের কথা মাথায় ঘুরছে তার। আজ বাসায় এসেছে তুহিন৷ কিন্তু এখনো সে জানেই না স্মৃতির বিয়ের কথা৷ কি হবে জানলে এই ব্যাপারটাই যেন মাথায় ঘুরছে।
হুমায়রাকে এমন ভাবনায় পরে থাকতে দেখে শুভ নিজের চেয়ারটা এগিয়ে পাশে এসে বসে। হুমায়রার সামনে তুরি বাজাতেই হুমায়রা একটু ভরকে ওঠে। শুভকে এতো কাছে দেখে আরো ভরকায়৷ কিছু বলবে তার আগে শুভই হুমায়রার হাত ধরে বলে,
-আম সরি হূর। এই দুদিন তোমার উপর রাগ দেখিয়ে ফেলেছি একটু বেশিই৷ আ..আসলে অফিসের কাজের চাপ একটু বেশি। তাই মাথা ঠিক রাখতে পারিনি৷ তাই অল্পতেই তোমার উপর রেগে গিয়েছিলাম। সরি… আই এম রিয়েলি সরি হূর….!
থামে শুভ। কন্ঠটা অসহায় শোনায় খুব। হুমায়রা কিছু বলে না। চুপচাপ তাকিয়ে থাকে শুভর দিকে। মায়া লাগে তার। মেয়ে মানুষ তো নরম মনেরই হয়। মায়া লাগাটা স্বাভাবিক। শুভ আবারে বলতে থাকে,
-আমার উপর রেগে আছো এখনো হূর?
ভ্রুঁ কুঁচকায় হুমায়রা৷ গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-জোর করে বিয়ে করেছেন আমায় ভুলে যাবো সেটা?
-ভা…ভালোবাসি তো তোমাকে হূর। তাই ওই পথ বেছে নিতে হয়েছে। আমি যে তোমাকে অন্য কারো সাথে দেখতে পারবো না।
-আ্…..আহান কি দোষ করেছিল?
-কোনো দোষ করেনি ও। কিন্তু আমি তোমাকে কীভাবে হারাই বলো?
-আহানও আমাকে ভালোবাসে। ওর কষ্ট হবে না? হয়না…আ্ আর আমি….
থামিয়ে দেয় শুভ। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-তোমার মুখে অন্য ছেলেদের নাম যে আমার সহ্য হয়না কেন বুঝো না? আমাকে রাগাতে, কষ্ট দিতে কি খুব ভালো লাগে তোমার?
– এটাই সত্য।
-কিন্তু এখন আহান অন্যকারো হাসবেন্ড।
-হুম জানি।
-তাহলে?
-কিছুই না। এখানে আনার কারণ?
-তোমার সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে চাই তাই।
-কেন?
-আমাকে কি একটা সুযোগ দেয়া যায়না তোমার মন জয় করার?
-রাগ নিয়ে মন জয় করবেন…!
– বললাম তো কেন রাগ দেখিয়েছিলাম।
-আচ্ছা দিলাম সুযোগ। দেখি সত্যিই ভালোবাসেন নাকি কোনো মোহ ছিল..!
হুমায়রার বলা কথাতেই শুভ যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতে আনন্দ হলো। না চাইতেও হেসে ফেললো এবার। হাসি মুখেই বলল,
-খাওয়া যাক? তোমার বিরিয়ানি পছন্দ না? তাই এনেছি।
হুমায়রাও হাসলো। বিরিয়ানিতে তার কোনো না নেই। তাই আর কোনো কথা বললো না। দু’জন মিলে খাওয়া শুরু করলো। খাওয়ার মাঝেই হুমায়রা গম্ভীর কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,
-আপনি আগে প্রেম করেননি কখনো?
-নাহ্।৷ তুমি আমার প্রথম ভালোবাসা।
অবাক হয় হুমায়রা। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-ভার্সিটিতে আরো সুন্দর সুন্দর মেয়ে ছিল।
-চোখটা তোমাতেই আটকে গেল.!
-ছেড়ে গেলে?
-পিছু পিছু চলে যাবো।
– ঢং এর কথা শিখেছেন কোথায়?
-প্রেমে পড়লে এমনিতেই এই রোগ হয়ে যায়।
থামে হুমায়রা। এই লোকের সাথে কথা বলে পারা যাবে না বুঝে সে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার নিজের খাওয়ায় মনোযোগ দেয়। খাওয়া শেষ হতেই দু’জন আবারো মুখোমুখি বসে। শুভ হুমায়রার দিকে হাত বাড়িয়ে বলে,
-Let’s dance?
-No..
বলেই হুমায়রা ঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ায়৷ কিন্তু শুভ আর তা হতে দেয় না। হাত টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসে। কোমড় জড়িয়ে কাছে টেনে বলে,
-একটা সুযোগ চেয়েছি ম্যাম..! দিবেন না?
-ঘুম পাচ্ছে আমার৷
.
আহান গম্ভীর হয়ে বিছানায় বসে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। আজ মন না চাইলেও স্মৃতির জোরাজোরিতে যেতে হয়েছে মার্কেটে। প্রায় পাচ থেকে ছয় ধরনের ফুল গাছ কিনেছে স্মৃতি। ঘরের সাজানোর জন্য কয়েকটা ফুলের টব কিনেছে। সাথে কিনেছে নিজের সাজসজ্জার জন্য কাজল,আইলাইনার আর লিপস্টিক। এই তিনটা ছাড়া সে বেশি কিছু পছন্দ করে না। শ্যামবর্ণের রঙ হওয়ায় সে মনে করে তাকে ভারি মেকআপে মানায় না। এখন পর্যন্ত কেউ সাজাতেও পারেনি তাকে। হুমায়রাও কম চেষ্টা করেনি৷ কিন্তু জোর করে কি আর সব হয়। সাজানো শেষে ঠিকই মুখ ধুয়ে নিয়েছে সে।
ল্যাপটপে কাজের মাঝেই আড়চোখে স্মৃতিকে দেখছে শুভ। কয়েকটা ফুলের টব পেয়ে খুশির শেষ নেই তার৷ আর্টিফিশিয়াল গুলো সে নিজের মতো করে ঘরের একেক জায়গায় রেখে হাফ ছেড়ে বাচে। টবের গাছগুলো ছাদে রেখেছে। আগামীকাল সেগুলো লাগাবে। গুনগুন করে একা একা গান গাইতে থাকে সে। কিছু একটা ভেবে আহানের দিকে কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
-আগামীকাল ভার্সিটি যাবেন? দুদিন হলো যাওয়া হয়না।
-নাহ্। আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তো গিয়ে কি করবে একদিনের জন্য। পুরো শনিবার থেকে যাওয়া স্টার্ট করবে।
-ওকে।
বলেই স্মৃতি স্থান ত্যাগ করে। স্মৃতিকে বাইরে যেতে দেখে ভ্রুঁ কুঁচকে যাওয়ার পানে তাকিয়ে রয় কিছুক্ষণ। কিছুক্ষণ পর নিজেও পিছু পিছু ঘর থেকে বাইরে চলে আসে। দেখে টিভির সামনে বসে আছে স্মৃতি। কোনো একটা মুভি দেখছে হয়তো। তা দেখে নিজেও বসে। গম্ভীর কন্ঠে বলে,
-আচ্ছা তুমি এতো নরমাল কীভাবে আছো? আর এতো সহজে মেনে নিলে কীভাবে আমাকে?
-সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে না পারলে মেয়ে হয়ে জন্মেছি কেন?
-তোমার কি মনে হয় আমি তোমায় মেনে নিয়েছি?
-প্রতিশোধ নেয়ার জন্যই তো বিয়ে করেছেন তাই না?
-প্রতিশোধ আমি নেইনা। কলঙ্ক থেকে বাঁচানোর জন্য….!
-কলঙ্ক..!
শব্দটা বলেই হাসলো স্মৃতি। হাসির কৃত্রিমতা স্পষ্ট। হাসতে হাসতেই চোখে পানি চলে এলো তার। একটু থেমে নিজেকে ঠিক রেখে বলল,
-কলঙ্কিত নারীকে কোন কলঙ্ক থেকে বাঁচাবেন আপনি? আমার গায়ে যে দাগ লেগে গেছে সেই বারে বছর বয়সেই।
অবাক হয় আহান৷ প্রশ্ন করার জন্য স্মৃতির দিকে তাকাতেই স্মৃতি মুচকি হাসি দিয়ে বলে,
-সময় করে কখনো বলবো। ডিভোর্স দিয়ে দিতে পারেন আমায়।
আর এক মুহূর্ত দাড়ায় না স্মৃতি আবারো ঘরে চলে যায়।
#চলবে…..
(বাসি ঈদ মোবারক সবাইকে 👀)

