এক_মেঘলা_দিনে #পর্ব_১৩

0
2

#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_১৩
#আনিকা_আফসা

চুপচাপ এসে লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছি আর লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করছি। সুন্দর বাতাস বইছে, আমার শরীর ছুঁয়ে দিয়ে যাচ্ছে। ধরনীর বুকে এখন সন্ধ্যা নামতে চলল। লেকের পাড়ে রেস্টুরেন্টে সন্ধ্যার আবহাওয়া এক অন্যরূপ ধারণ করেছে। লেকের পানিতে সূর্যের শেষ আলো পড়ে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। রেস্টুরেন্টের আলোগুলো জ্বলে উঠেছে, আর তার প্রতিচ্ছবি লেকের পানিতে ভেসে উঠছে হালকা করে। হালকা ঠান্ডা বাতাস আর পাখির ঘরে ফেরার শব্দ।

হঠাৎ আমার কোমর ধরে কেউ আমার পাশে দাঁড়ালো আমার এতো সুন্দর মোমেন্টটা নষ্ট করতে। আমি চমকে পাশ ফিরে তাকালাম। দেখলাম রুদ্রকে। রুদ্র সামনের দিকে তাকিয়ে সেলফি তুলছে। সেলফি তোলা শেষ হতেই বলল,

“ওয়াও, কত সুন্দর ছবি উঠেছে লেকের ধারে দেখ আনি। আমি সেলফি নিচ্ছি , ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আর তুই আমার দিকে তাকিয়ে। ওয়াও, কত জোস হয়েছে ছবিটা, তাই না সুইটহার্ট?”

আমি ধমকে বললাম,”কোমর থেকে হাত সরান খারাপ লোক”

রুদ্র কোমর থেকে হাত সরালেন। আমাকে জিজ্ঞেস করলো,

“তুই এখানে একা দাঁড়িয়ে কি করছিস?”

আমি উত্তরে বললাম,”আমি? কেন ফুটবল খেলছি দেখছেন না?”

রুদ্র এদিক-ওদিক তাকিয়ে বলল,”কিন্তু তোর ফুটবল টিম কোথায়?”

“আপনার মাথায়”

রুদ্র ভ্রু কুঁচকে বলল,”এতো রাগার কি হলো? আমি তো প্রশ্ন করছি শুধু”

“আমিও উত্তর দিচ্ছি শুধু”

লেকের ধারে রেলিং দেয়া । রুদ্র সেখানে হাত রেখে বলল,

“আবহাওয়া কত রোমান্টিক তাইনা? আর পাশে আমার সুইটহার্ট। চল কিছুমিছু করি”

আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,”আপনার মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে?”

রুদ্র মাথা নেড়ে বলল,”হ্যাঁ তো, তোর জন্যেই তো খারাপ হয়ে গেছে মাথাটা সুইটহার্ট”

আমি চোখ বন্ধ করে এক লম্বা শ্বাস নিয়ে বললাম,”আমাকে এসব নামে ডাকবেন না। অস্বস্তি হয়”

রুদ্র প্রশ্নাত্মক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,”আর কি কি করলে অস্বস্তি হয়? তখন যে চুমু দিলাম তখনও অস্বস্তি হয়েছে? ”

আমি হা করে তাকিয়ে রইলাম। কি বলা উচিৎ মাথায় আসছে না তাই আপাতত চুপ করে রইলাম। রুদ্র কাঁধ দিয়ে আমার কাঁধে হালকা ঠেলে বলল,

“কি হলো বল? আমি তোর সমস্ত অস্বস্তির কারণ হতে চাই। তোকে অস্বস্তিতে ফেলার জন্য হলেও তোর কাছে আসতে আমায় হবেই হবে।”

আমি কপাল কুঁচকে বললাম,”আপনি কি দয়া করে চুপ হবেন রুদ্র ভাই?”

রুদ্র মুখ কুঁচকে বলল,”এসব কি ভাই ডাকিস, বলতো? পুরো মুডের বারোটা বাজিয়ে দিস এসব ডেকে। তোর বাচ্চার বাবা হতে চাই, মামা না। একটু জান, ডার্লিং, সোনা, বাবু এসবও তো ডাকতে পারিস।”

আমি চোখ ছোট ছোট করে বললাম,”এতো বেফাঁস কথাবার্তা কিভাবে বলেন আপনি? আপনাকে তো ৮ বছর ধরেই ভাই ডাকছি। আপনি যদি চান দুলাভাইয়ের মতো আপনাকে আরেকটু সুমধুর করে ভাইয়া বলে ডাকতে পারি। ডাকবো?”

রুদ্র মাথা নেড়ে বলল,”দরকার নেই। ”

এই বলে রুদ্র ছবি দেখতে লাগলো। আমাকে বলল,

“ভাবলাম তোর আর আমার কোনো কাপল পিক নেই। তাই সুন্দর মুহূর্তটাকে ক্যামেরাবন্দি করে ফেললাম। ভালো করেছি না?”

“মোটেই না, কারণ আমরা দুজন কাপল নই।”

রুদ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই নিহান ভাইয়া ডাক দিলেন আমাদের। যাওয়ার সময় হয়েছে।
আমি যাওয়ার আগে রুদ্র আমার হাত ধরে টেনে নিলেন নিজের কাছে। আমি আছড়ে পড়লাম তার বুকে। রেগে বললাম,

“এসব কি ধরনের অসভ্যতা?”

রুদ্রের টানে আমার চুল মুখে এসে পড়েছে। রুদ্র তা কানে গুঁজে দিয়ে বলল,

“এসব অসভ্যতা নয়, ভালোবাসা সুইটহার্ট”

আমি মুচড়ে উঠলাম মুহুর্তেই এবং বললাম,

“ছাড়ুন রুদ্র ভাই, সবাই দেখছে”

রুদ্র মাথা নেড়ে বললেন,”কেউ দেখছে না সুইটহার্ট”

আমি রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললাম,”আপু এসে পড়বে”

রুদ্র একইভাবে বললেন,”কেউ আসবে না সুইটহার্ট”

আমি একটা হতাশার শ্বাস ফেলে বললাম,”আপনি চাইছেন টা কি বলুন তো?”

রুদ্র আমার গালে হাত বুলিয়ে বললেন,”তোকে”
হঠাৎ রুদ্র বললেন,

“এই পাঁচ বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছে না আনি? আচ্ছা তুই কি আমাকে সত্যি ভুলে গিয়েছিস? মন থেকে একেবারে উঠিয়ে ফেলেছিস খারাপ লোকটাকে? ”

আমি রুদ্রের দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে মনে বললাম,”যাকে ভালোবাসি, তাকে ছেড়ে থাকা যায় তবে ভুলে থাকা যায় না রুদ্র। আর যদি বলেন মনের কথা। আমার মন কি চায় আমি নিজেও জানিনা। এইতো বলি আপনার থেকে দূরে থাকবো। কিন্তু আপনি কাছে এলে আটকাতে পারিনা কেন রূদ্র ? কেন এতো দুর্বল আমি আপনার প্রতি? ”

রুদ্র বললেন,”কি হলো ? কিছু বলবি না?”

আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে বললাম,”সন্ধ্যা হয়ে এসেছে, যেতে হবে রুদ্র ভাই”

রুদ্র আর কিছু বলল না। চুপচাপ ছেড়ে দিলো আমায়। আমিও চলে এলাম তাকে ছেড়ে। রুদ্র এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল , দাঁড়িয়ে রইলো লেকের ধারে। আমি আপুদের কাছে যেতেই ওরা আমাকে প্রশ্ন ছুঁড়লো,

“রুদ্র কোথায়?”

আমি পিছনে তাকিয়ে দেখলাম রুদ্র আসেনি। আমি বললাম,

“লেকের ধারে আছে”

আমি এবার চুপচাপ নিহান ভাইয়ার গাড়িতে গিয়ে বসলাম। সিটে এলিয়ে দিলাম মাথা। জীবন আমাকে এই কোন পরিস্থিতিতে ফেলেছে? যেখানে আমি ঝুলে আছি। না সামনে এগোতে পারছি আর না পেছন ফিরে তাকাতে পারছি। জীবনের এই সমীকরণ খুব জটিল, কিছুতেই মেলাতে পারছি না। নিকি আপুদের গাড়ি আগে ছাড়লো। আমাদের গাড়িটাও ছাড়লো তারপর। আমি হঠাৎ চমকে উঠলাম। রুদ্র কি এসেছে? নাকি এখনো ওখানে দাঁড়িয়ে? নিহান ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করবো করেও করতে পারলাম না। তাই গাড়ির জানালা দিয়ে মাথা বের করে দেখলাম নিজের গাড়ির সাথেই হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে এদিকেই তাকিয়ে আছে রুদ্র। আমি তাকাতেই হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালো। আচ্ছা, আমি যে তাকাবো তা কি জানতো? আমি মাথা ভেতরে ঢুকালাম। মাথা এলিয়ে দিলাম সিটে চুপচাপ, চোখ বন্ধ করে নিলাম।

_____________

ভার্সিটির ক্যান্টিনে বসে ছিলাম। হাতে এককাপ কফি। মিনিটে মিনিটে চুমুক দিচ্ছি আর ফোন দেখছি। রুদ্র কালকের তোলা ছবিটা আমার আইডিতে পাঠিয়েছে। সেটাই খুঁটিয়ে দেখছি।তখনই অয়ন এসে বসলো অপর চেয়ারে। আমাকে জিজ্ঞেস করলো,

“কিরে? কি খবর?”

আমি অয়নের দিকে তাকিয়ে ফোন রাখলাম। হালকা হেঁসে বললাম,

“এইতো ভালো। তোর খবর কি?”

অয়ন হালকা হেঁসে বলল,”ভালো খবর। তোকে কাল অনেকবার ফোন দিয়েছি। বিজি শোনাচ্ছিল। তুই কি ফোন অফ করে রেখেছিলি?”

আমি মাথা নেড়ে বললাম,”না তো।”

আমি ফোন চেক করে দেখলাম অয়নের নাম্বার নেই এখানে। আমাকে খুঁজতে দেখে অয়ন শান্ত স্বরে বলল,

“দেখ হয়তো ব্লক লিস্টে পাবি”

আমি অয়নের দিকে তাকিয়ে বললাম,”কিন্তু আমি তো ব্লক করিনি তোকে”

“তুই করিস নি, অন্য কেউও তো করতে পারে”

আমি অয়নের কথামতো ব্লকলিস্ট চেক করলাম। প্রথমেই দেখলাম অয়নের নাম্বার । আমার কপাল কুঁচকে এলো। ব্লকলিস্টে কিভাবে গেলো এটা? আমি দ্রুত আনব্লক করলাম। আমি অয়নকে বললাম,

“সরি অয়ন। কিভাবে যে ব্লকে গেল আমি জানি না”

অয়ন কেমন করে যেন হাসলো এবং আমার দুই হাত হঠাৎ ধরে বলল,

“ইটস্ ওকে, অনেক সময় অজান্তেই ভুল হয়ে যায়”

আমি হাত সরিয়ে নিজের কোলের উপর রাখলাম। অয়ন আবার বললো,

“আচ্ছা আনি , তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?”

আমি চমকে বললাম,”কেন?”

অয়ন হালকা হেঁসে বলল,”এমনি বলনা”

আমি চোখ নামিয়ে নিয়ে থমথমে মুখে বললাম,”বাসি”

অয়ন বলল,”সেই মানুষটা কি রুদ্র?”

আমি মাথা নাড়লাম। অয়নের বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো। অয়ন ফের জিজ্ঞেস করলো,

“ওনার আচরণে বোঝা যায় উনিও তোকে চায়। তাহলে তো তোদের প্রেম ভালোই চলছে”

আমি থমথমে মুখে বললাম,”কিসের প্রেম? আমাদের মধ্যে কিছু নেই”

অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,”কেন? তুই-ই না বললি,,

“বলেছি, কিন্তু আমাদের মাঝে কোনো সম্পর্ক নেই। ”

অয়ন বলল,”দেখ আমি কিছু বুঝছি না। আমাকে কি পুরো ঘটনাটা বলবি? কি হয়েছিল তোদের মধ্যে?”

আমি চুপ করে রইলাম। অয়ন বলল,
“তুই যদি চাস তাহলে বলতে পারিস। যদি আমাকে নিজের বিশ্বস্ত বন্ধু মনে করিস তো”

আমি এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করলাম। একেবারে শুরু থেকে সব বললাম অয়নকে। শেষে বললাম,

“আমি এখন বুঝছি না অয়ন আমার কি করা উচিৎ। আমার কি অতীত আঁকড়ে ধরা উচিত? নাকি বর্তমান নিয়ে ভাবা উচিত?”

অয়ন বলল,”অবশ্যই তোর অতীতকে ভুললে চলবে না। যেই মানুষটা তোকে এভাবে অপমান করলো তাকে কিভাবে মেনে নিবি তুই? আর আমার তো মনে হয় উনি নাটক করছেন সব, তোকে ভালো-টালো বাসেনা। দুইদিন পরপর এসে বলবে একবার ভালোবাসা আছে আরেকবার বলবে নেই। এটা কিন্তু ঠিক না আনি। তাও তোর জীবন ,তুই ভাব।”

তখনই সেখানে তৃষা এলো। আমাদের বলল,”কি হয়েছে? কি নিয়ে কথা বলছিস দুজন?”

আমি তৃষাকে দেখে উঠে গেলাম এবং বললাম,”কিছুনা। আমার একটু লাইব্রেরীতে কাজ ছিল। তৃষা তুই অয়নের সাথে কথা বল , আমি আসছি। এক্সকিউস মি”

এই বলে চলে এলাম। তৃষা বসলো আমার জায়গায় , দেখলো অয়ন আমার যাওয়ার দিকেই তাকিয়ে কিছু ভাবছে। তৃষা ভ্রু কুঁচকে বলল,

“কি ভাবছিস অয়ন?”

অয়ন হঠাৎ তৃষার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“আচ্ছা তৃষু যুদ্ধ আর ভালোবাসায় তো সবকিছু জায়েজ তাইনা? ”

তৃষা মাথা নেড়ে হেঁসে বলল,”হ্যাঁ এমনটাই তো শুনেছি। কিন্তু হঠাৎ এই কথা জিজ্ঞেস করছিস? তুই কি কাউকে ভালোবাসিস?

কথাটা বলে তৃষা হালকা দুশ্চিন্তায় পড়লো। অয়ন লুকালো বিষয়টা। মাথা নেড়ে বলল,

“নাহ্, আমি কাকে ভালোবাসবো?”

তৃষা হাসলো একগাল। তারপর কি ভেবে মনটা খারাপ হলো। তাকিয়ে রইলো অয়নের দিকে। অয়ন তৃষার দিকে তাকাতেই তৃষা কৌশলে চোখ সরিয়ে নিলো। অয়ন আবারো আমার যাওয়ার পথে তাকালো এবং মনে মনে বলল,
“তাহলে আমিও তোকে পেতে সব সীমা অতিক্রম করবো আনি। সেটা হোক ন্যায় অথবা অন্যায়। কারণ ভালোবাসায় সবকিছু জায়েজ।”

***

লাইব্রেরীর পথে যাচ্ছি। তখনই ফোন বেজে উঠলো। আমি হাতে নিয়ে দেখলাম আননোন নাম্বার। আমি কানে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,

“জ্বি, কে বলছেন?”

ওপাশ থেকে নিরেট কন্ঠে আওয়াজ এলো তখনই,

“তোর বর বলছি সুইটহার্ট ”

আমি বিস্মিত হলাম। ফোন নাম্বারে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিলাম। জিজ্ঞেস করলাম,

“রুদ্র আপনি?”

রুদ্র বসে থাকা চেয়ারকে এদিকে ওদিকে হালকা ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,
“আমি নয়তো কে? এইতো চিনে ফেলেছিস আনি”

আমি রেগে বললাম,”আপনি আমাকে বিরক্ত করা কি থামাবেন না? আজ না অফিসে গিয়েছেন? কাজ না করে বিরক্ত কেন করছেন?”

রুদ্র বললো,”অফিসের বস আমি, আমার কাজ আর কি হতে পারে?”

আমি বললাম,”এজন্য আমাকে জ্বালাবেন?”

“তোকে জ্বালাচ্ছি আমি?”

“তা নয়তো কি?”

রূদ্র দায়সারাভাবে বলল,”জ্বালালে জ্বালাচ্ছি , তোকে না জ্বালালে কাকে জ্বালাবো?”

আমি বিরক্ত কন্ঠে বললাম,”আপনি কি জন্য ফোন করেছেন জানালে একটু উপকৃত হতাম। দয়া করে বলবেন?”

“ওহ্, হ্যাঁ। নিশ্চয়ই সুইটহার্ট। আমার অফিসে জলদি চলে আয়। গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি। তোর জন্য একটা,,

“আমি কেন যাবো? আমি কি আপনার মতো ফ্রি বসে আছি? আমার কি ক্লাস নেই নাকি? আর আমি আপনার অফিসে যাবোই বা কেন?”

রুদ্র হাতে থাকা পেন দুই আঙ্গুল দিয়ে চেপে ঘুরাতে ঘুরাতে বলল,

“নাটক কম কর আনি। আমি জানি তোর অফ পিরিয়ড চলছে। তাই জলদি চলে আয়।”

“হ্যাঁ চলছে ,তো কি হয়েছে? আমার কাজ আছে, আমি আসতে পারবো না। ”

“তুই শিওর? আসবি না?”

“জ্বি নাহ্, রাখছি”

এই বলে ফোন কেটে দিলাম। আচ্ছা জ্বালায় তো লোকটা। ফোন রেখে পা চালিয়ে লাইব্রেরীর দিকে রওনা হলাম।

******

লাইব্রেরীতে এসে অনেক খোঁজাখুঁজির পর একটা বই পছন্দ হলো। সেই বইটা নিয়েই টেবিলে বসে পড়লাম। বইটা খুলে এক পৃষ্ঠা পড়তে যাবো তখনই আমার ফোন ভাইব্রেট করে উঠলো। আমি ফোন উল্টো করে রেখেছিলাম টেবিলের উপর। ফোন হাতে নিয়ে দেখলাম “ডায়নোসর ” লেখা নামটা জ্বলজ্বল করছে ফোনের স্ক্রিনে। এই রুদ্রের বাচ্চা আবার কেন ফোন দিয়েছে। কেটে দিয়ে রেখে দিলাম ফোন। আবার ফোন এলো। আমি এবার রেগে ফোন রিসিভ করে কিছু বলতে যাবো তখনই ফোনের অপাশ থেকে অপরিচিত একজন বলল,

“আপনি কি এই ফোনের মালিকের পরিচিত?”

আমি খানিক অবাক হলাম। এই লোকটা কে? আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,

“হ্যাঁ, আপনি কে বলছেন?”

“আমি হসপিটাল থেকে বলছি। আপনার ফোন নাম্বার প্রথমে দেখে ফোন করলাম। আপনি জলদি হসপিটালে চলে আসুন । ফোনের মালিকের এক্সিডেন্ট হয়েছে। অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে, মাথা দিয়ে এখনো রক্ত পড়ছে। আমি আপনাকে ঠিকানা মেসেজ করে দিচ্ছি।”

আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। সারাশরীর কেঁপে উঠলো যেন আমার। জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলাম। আমার রুদ্রের এক্সিডেন্ট হয়েছে খবরটা শুনে এক সেকেন্ডের জন্য হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম। এইতো কিছুক্ষণ আগেও তো আমার সাথে দুষ্টুমি করছিলেন। কিভাবে কি হলো? হাতে থাকা ফোনটা তখন হাত থেকে কোলের উপর পড়ে গিয়েছে। কিছুক্ষণ পর একটা মেসেজ এলো। দেখলাম ফোনটা হাতে নিয়ে লোকটা ঠিকানা মেসেজ করেছে। মেসেজ টায় চোখ বুলিয়ে বই রেখে নিজের ব্যাগ নিয়ে দ্রুত ছুটলাম। মনে জেঁকে বসলো এক ভয় , আমার রুদ্রকে হারানোর ভয় আর পিছনে রয়ে গেল রুদ্রের প্রতি রাগ – অভিমান।

#চলবে

(গল্পটি সবার আগে আমার পেজে পাবেন,গল্পটি ভালো লাগলে লাইক, কমেন্ট করে আমাকে উৎসাহ জোগাবেন যাতে আরো সুন্দর করে সাজিয়ে গল্পটা লিখতে পারি)

আমাদের কুহেলিকায় জয়েন হয়ে জমিয়ে তুলুন আড্ডা।
গ্রুপ লিংক:-

https://www.facebook.com/share/g/18RPuWXLZB/

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here