#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_১৪
#আনিকা_আফসা
ভালোবাসার মানুষের এমন খবর শুনে কি ঠিক রাখা যায় নিজেকে? আমার রুদ্র এক্সিডেন্ট করেছে? কিভাবে করলো? কেমন আছেন এখন? বেশি রক্ত ঝরছে কি? এসব চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। ভার্সিটির আঙ্গিনা দিয়ে দৌড়াচ্ছি আমি , হঠাৎ হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে নিলাম। তখনই কোথা থেকে হাত আঁকড়ে ধরলো অয়ন যার ফলে বেঁচে গেলাম। আমার হাত ধরে বলল,
“কোথায় যাচ্ছিস আনি?”
আমার মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। কোনো উত্তর দিতে পারলাম না , শুধু একদৃষ্টিতে দূরে কোথাও তাকিয়ে রইলাম। অয়ন আমাকে নিজের দিকে ফিরিয়ে বলল,
“কি হলো? কি হয়েছে তোর?”
অয়নের দিকে তাকালাম। কিছু বলতে চাইলাম তবে মুখ দিয়ে কোনো শব্দই বের হচ্ছেনা। মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে বের হলো,
“ঐ,,ঐ আমাকে যেতে হবে”
অয়ন ভ্রু কুঁচকে তাকালো এবং বলল,”কোথায় যেতে হবে?”
আমি অয়নের থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম,
“আমাকে এক্ষুনি যেতে হবে। ছাড় অয়ন, আমায় আটাকাস না”
অয়ন কপাল কুঁচকে বলল,”কিন্তু কোথায় যাচ্ছিস তুই? দেখ তুই ঠিক নেই, এখন কোথাও যাওয়া লাগবে না , চল এখন”
এই বলে অয়ন আমার হাত ধরতে নিলেই আমি হাত সরিয়ে হালকা জোর গলায় বললাম,
“যেতে হবে আমায়। আমার রুদ্রের কাছে যেতে হবে। রু-রুদ্র এক্সিডেন্ট করেছে। না জানি কি অবস্থায় আছে। সর সামনে থেকে!”
এই বলে অয়নকে পাশ কাটিয়ে চলে এলাম দ্রুত। অয়নের মুখ কালো হলো আমার কথায় । পিছন ফিরে আমার যাওয়া দেখলো।
আমি দ্রুত ভার্সিটি থেকে বের হতেই একটা রিকশা পেলাম। আমাকে দেখে বলল,
“আপা উডেন”
আমি কিছু না ভেবেই রিকশায় চড়ে বসলাম। রিকশাচালক রিকশা চালানো শুরু করলো। প্রায় আধঘন্টা পর হঠাৎ আমার খেয়াল হলো আমি তো ঠিকানা বলিনি তাহলে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমাকে? আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই রিকশা চলে এলো গন্তব্যে। আমি ফোন চেক করে দেখলাম লোকটা যেই জায়গার নাম লিখেছে, এটা সেই জায়গায়ই। খানিক বিস্মিত হয়েই রিকশা থেকে নামলাম। আমি নামার সাথে সাথেই রিকশাচালক চলে গেলেন। পিছু থেকে ডাকলাম কয়বার,
“ভাড়া নিলেন না?”
কিন্তু শুনলো না কেউ! সামনে তাকালাম, এটা দেখে মোটেও হসপিটাল মনে হচ্ছে। সামনে একটা অনেক বড় দালান , তবে এই দালান কিসের? আশপাশটা কেমন যেন নিশ্চুপ হয়ে আছে। হাসপাতাল এমন হয়? এসব ভাবছি তখনই একটা লোক হুড়মুড় করে আমার সামনে এসে দাঁড়ালো এবং বলল,
“ম্যাম আপনি এসেছেন? তাড়াতাড়ি চলুন স্যারের অনেক ব্লাড বের হয়েছে”
আমি এ কথা শুনে আর কিছু ভাবলাম না। লোকটির সাথে চললাম মস্ত বড় দালানের ভেতর। দালানে প্রবেশ করে লোকটি বলল দ্বিতীয় তলায় যেতে। আমি তার কথামতো সেখানে গেলাম। এখানের ফ্লোরটায় একটা কাঁচের অস্বচ্ছ গ্লাসের দরজা।সেটা ঠেলে ভিতরে প্রবেশ করলাম , কিন্তু ভিতরে এতো অন্ধকার কেন? পিছনে তাকিয়ে দেখলাম লোকটি নেই। আমি একা এই ফ্লোরে? কিন্তু নিজের থেকে রুদ্রের চিন্তারা হানা দিচ্ছে মাথায়। এগিয়ে গেলাম অন্ধকারের মধ্যেই , কাঁপা কন্ঠে ডাকলাম,
“রুদ্র ভাই!! রুদ্র ভাই , আপনি কি এখানে?”
তখনই মাঝের লাইটটি জ্বলে উঠলো। আমি তাকালাম সেদিকে। একটা ছোট্ট টেবিল দেখা যাচ্ছে, তার উপর সাদা কাপড় বিছানো এবং সেইখানে একটি কেক। পিছনের দেয়ালে “sorry” লেখাটা জ্বলজ্বল করছে। আশপাশটা বেশ সাজানো। আমার ভ্রু কুঁচকে এলো। এগিয়ে গেলাম সেইদিকে। কেকের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সেটার উপরেও সেইমভাবে সরি লেখা।
তখনই নাকে এসে বাড়ি খেলো রুদ্রের কড়া পারফিউমের ঘ্রাণ তারই সাথে কানে এলো এক জোড়া জুতার শব্দ। আমি ঝট করে পিছু ফিরে তাকালাম। সামনে থেকে একটা লোক এগিয়ে আসছে। দূরের অন্ধকারে মুখ দেখা যাচ্ছে না, ধীরে ধীরে লোকটি কাছে আসতেই লাইটের আলো লোকটির মুখে পড়লো। এইতো রুদ্র, সুস্থ -সবল হয়ে প্যান্টের পকেটে হাত গুজে সটান হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার সামনে । আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। রুদ্র তখন বাঁকা হেঁসে বলল,
“কি সুইটহার্ট? তুই না আসবি না? এখন কে এলো? দেখলি আমি তোকে নিয়েই এলাম?”
আমি থমকানো গলায় বললাম,”আপনার এক্সিডেন্ট হয়নি? আপনি তো একদম সুস্থ। তাহলে ঐ ফোনকল?”
রুদ্র হালকা হেঁসে বলল,”ওটা আমারই প্ল্যান ছিলো। আর যেই লোকটা ফোন করেছে সেও আমার ছিলো, আমিই বলেছি ওসব বলতে যাতে তোকে নিয়ে আসতে পারি। তোর জন্য সারপ্রাইজ রেখেছিলাম কিন্তু তুই তো আসতেই চাইছিলি না তাই একটু এক্সিডেন্ট -এর,,,
“নাটক করলেন?”
থমকানো গলায় বললাম। চোখ দিয়ে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়লো। রুদ্রের হাসি তা দেখে নিভে গেল। এগিয়ে এসে বলতে নিলো,
“আরে কাঁদছিস কেন?”
এই বলে আমার হাত ধরতে নিলো কিন্তু তার আগেই আমি তার গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলাম। রুদ্র চড়ের ভারে হালকা নুয়ে পড়লো। মাথা তুলতেই দেখলাম তার থমকানো ও চমকানো দৃষ্টি। ক্রন্দনরত গলায় চিল্লিয়ে বললাম,
“মানুষের অনুভূতি নিয়ে খেলতে আপনার ভালো লাগে তাইনা? আর ইউ ক্রেজি? আপনার ধারণা আছে , ওরকম একটা খবর পেয়ে আমার কি অবস্থা হয়েছিল? ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল মাথা? কি অবস্থায় এখানে এসেছি কোনো ধারণা আছে আপনার? নাহ্, আপনার কেন ধারণা থাকবে এসবের? আপনি তো আছেন নিজেকে নিয়ে। মানুষের অনুভূতিকে এক ফোঁটা সম্মান না আগে করতে জানতেন আর না এখন করেন। নিজে কি ভাবেন, নিজের কি প্রয়োজন সবসময় সেটার চিন্তায় থাকেন। এজন্য যদি অন্যকারো কিছু হয়েও যায় আপনার তো কিছু যায় আসবে না তাইনা? আমার তো মাঝে মাঝে নিজের উপরই রাগ হয় , যে আমি কি করে আপনার মতো একটা স্বার্থপর লোককে ভালোবাসলাম? যার কাছে অন্যের জন্য কোনো রেসপেক্ট নেই।”
থামলাম আমি। চোখ দিয়ে নোনাজলের স্রোত নেমেছে। রুদ্র স্তব্ধ চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি পিছন ফিরে টেবিলের দিকে তাকিয়ে আঙ্গুল উঁচিয়ে বললাম,
“আর এগুলো কিসের জন্য? আমাকে দেয়া আগের আঘাতের ক্ষমা চাওয়ার জন্য না নতুন করে যে একটা আঘাত দিলেন তার জন্য? এসবের জন্য এত কুৎসিত নাটক কিভাবে সাজালেন আপনি?”
এই বলে টেবিলের কাছে গিয়ে ঐ কেকটা ফেলে দিলাম। টেবিলের সাদা কাপড়টা টেনে টেবিলের উপর যা ছিলো সবকিছু ফেলে দিলাম । তারপর রুদ্রকে বললাম,
“আপনি একটা খারাপ লোক। অনেক খারাপ লোক। কি করলে শান্তি পাবেন বলুন তো আপনি? চান আমি মরে যাই? মেরে ফেলতে চান আমায়?”
বলা মাত্রই রুদ্র আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। আমি তখনই রুদ্রকে ছাড়ানোর জন্য ছটফট করতে শুরু করি। রুদ্র আমার মাথা চেপে ধরে এবং বলে,
“হুশশ, শান্ত হ আনি। আমি বুঝতে পারিনি, সত্যিই বুঝতে পারিনি যে তুই এতো হার্ট হবি।”
“আমাকে ছাড়ুন রুদ্র”
এই বলে হাত দিয়ে ইচ্ছেমতো কিল -ঘুষি দিতে লাগলাম রুদ্রকে। রুদ্র কিছুই বললেন না। আমি রুদ্রের বুকের সমান। রাগ কমাতে ও রুদ্রকে আঘাত করতে পা উঁচিয়ে তার উন্মুক্ত গলায় কামড় বসালাম। রুদ্র দাঁত চেপে সহ্য করলো আমার দেয়া আঘাত। খুব জোরেই কামড়ে ধরলাম রুদ্রের গলায় তারপর সরে এসে ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস ছাড়তে লাগলাম , এবার নিজেই জড়িয়ে মাথা রাখলাম রুদ্রের বুকে এবং ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলাম। রুদ্র আমায় আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো,
“আবার কাঁদছিস কেন? আমাকে দরকার হলে আরেকটা থাপ্পড় মার , আরেকটা কামড় দে এই বোকামির জন্য। তারপরও কাঁদিস না প্লিজ । সরি, আর এমন হবে না”
আমি নাক টেনে বললাম,”প্রথমে অপরাধ করবেন তারপর সরি বললে সব অপরাধ মার্জনা হয়ে যাবে আপনার?”
রুদ্র আমার চুলের মাঝে চুমু খেয়ে বললেন,
“আমি জানি আনি, সরি বললে কোনো সমাধান হয়না। তুই বল আমাকে কি শাস্তি দিতে চাস , আমি মাথা পেতে নিবো তারপরও কাঁদিস না আনি , প্লিজ। ”
এই বলে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। আমি চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে পড়ে রইলাম ঐ বুকে, হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম রুদ্রকে। মনে হচ্ছে রুদ্রকে ছেড়ে দিলেই হারিয়ে যাবে যেন। হারিয়ে ফেলার ভয় হচ্ছে খুব। ভাগ্যিস কিছু হয়নি রুদ্রের। ভাগ্যিস এসব প্র্যাঙ্ক ছিলো, কোনো এক্সিডেন্ট হয়নি আমার রুদ্রের। রুদ্রের থেকে কিছুক্ষণ পর সরে আসতে নিলাম কিন্ত রুদ্র আমার কোমর চেপে ধরলেন। আমি মাথা উঠিয়ে রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললাম,
” কি হচ্ছেটা কি ? ছাড়ুন!!”
রুদ্র বলল,”নাহ্, একবার যখন কাছে এসেছিস আর ছাড়া যাবে না। তোকে আমি জড়িয়েই ধরে রাখবো”
আমি রুদ্রের চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম,”কতক্ষন ধরে রাখবেন?”
রুদ্র মুচকি হেঁসে বলল,”সারাজীবন।”
আমি ভেংচি কেটে বললাম,”আমি থাকবো না আপনার সাথে। আপনি আস্ত একটা ডায়নোসর। একটু হলেই আমার প্রাণটা বের হয়ে যেত। এরকম কেউ করে? আর যদি কখনো এমন করেছেন তো খবর আছে আপনার বলে দিলাম।”
রুদ্র আমার কোমর থেকে এক হাত সরিয়ে নিজের কান চেপে ধরে বলল,
“না না, একবার শিক্ষা হয়ে গেছে। আর কখনো করবো না। যেই দাবাং চড় মেরেছিস তুই আর যেই জোরে কামড়ে ধরেছিস এসব আর করার সাহস আছে? তুইই তো একটা ডায়নোসর আনি”
আমি রুদ্রের যেইগালে চড় দিয়েছিলাম সেই গালে হাত রাখলাম। ইশ্, অনেক জোরে লেগেছে। ফর্সা গাল লাল হয়ে আছে। আমি করুন চোখে তাকিয়ে বললাম,
“বেশি জোরে লেগেছে না? আই এম সরি। আমার আসলে রাগ মাথায় উঠে গিয়েছিল”
রুদ্র তার গালে ধরে রাখা আমার হাতের উপর নিজের হাত রেখে দিয়ে তার গালের সাথে চেপে ধরে রাখলো এবং বলল,
“হয়েছে, গিল্টি ফিল করতে হবে না এখন। আমি তো তোরই। মারবি , কাটবি আবার আদর করে ঠিকও তুইই করে দিবি। এখন কর!”
আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,”কি?”
রুদ্র দুষ্টু হেঁসে বলল,”বললাম না আদরও তুই করবি। এখন আদর কর”
এই বলে গাল বাড়িয়ে ঝুঁকে এলো হালকা। আমি চোখ বড়বড় করে বললাম,
“আরেকটা চড় খাবেন আপনি?”
রুদ্র মাথা নেড়ে বলল,”নাহ্, আদর খাবো। ফাস্ট আদর কর আমায়”
আমি রুদ্রকে ঠেললাম কিন্তু রুদ্রের দৃঢ় হাতের বন্ধন থেকে মুক্ত করতে পারলাম না নিজেকে। রুদ্র ভ্রু কুঁচকে বলল,
“এত ছটফট কেন করছিস? আচ্ছা যা তুই আমাকে আদর কর এর বদলে আমিও তোকে আদর করে দিবো। সমান সমান।”
আমি বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে বললাম,”এতো বেফাঁস কথাবার্তা কি করে বলেন আপনি? বিদেশ থেকে এসব শিখেছেন? কার থেকে শিখেছেন? কোনো মেয়ের থেকে? কয়টা মেয়ের সাথে লাইন মেরেছেন বিদেশে থেকে?”
রুদ্র হতাশ শ্বাস ফেলে মাথাটা পিছিয়ে নিলো এবং বলল,
“তোর মনে হয় আমি বিদেশে গিয়ে মেয়েদের সাথে লাইন মেরেছি? লাইক সিরিয়াসলি আনি? এই মোমেন্টে তোর এসব মনে হলো?”
আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম,”হতেই পারে। কারণ আপনি এমন ছিলেন না। এক নাম্বারের ঝগড়ুটে ও কথায় কথায় ধমক দেয়া মানুষ ছিলেন। নিরামিষ চিনেন? ঐটা ছিলেন আপনি। আমি তো আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম, আপনার দ্বারা প্রেম ট্রেম হবে না। সেই আপনি আর কোথায় এই আপনি? নিশ্চয়ই আপনার কারো সাথে চক্কর ছিল। বলুন সত্যি কিনা?”
রুদ্র বলল ,”না একদমই সত্যি না। আমি কত শুকিয়ে গিয়েছি দেখেছিস? মুখ কত শুকিয়ে গিয়েছে আমার? এসবের জন্য তুই দায়ী। তোর ভাবনা চিন্তায় নাওয়া খাওয়া বাদে আমার এমন অবস্থা হয়েছে। বিদেশে গিয়ে তোকে ছাড়া পাঁচটা বছর কিভাবে থেকেছি কোনো আইডিয়া আছে তোর? তোকে দেখার জন্য কত ছটফট করেছে অন্তর? সেই চিন্তা নিয়ে আমি ঠিকমত ঘুমোতেই পারতাম না , তুই আছিস মেয়ে পটানো নিয়ে। এসব আজগুবি কথা ভাবিস কিভাবে তুই?”
“আমি আজগুবি কথা মোটেও ভাবি না। যা ভাবি ঠিক ভাবি। আর এসব না ভাবা ছাড়া তো উপায় নেই। বিদেশে কত সাদা চামড়ার মানুষ, সেই জায়গায় আমি তো কিছুই না। তো ভাববো না আমি?”
রুদ্র আমাকে শক্ত করে ধরলেন এবার, একেবারে গায়ের সাথে মিশিয়ে। এতক্ষণ যাও দূরত্ব ছিল তাও ঘুচিয়ে নিলেন এবং বললেন,
“যদি তোর গায়ের রং কুচকুচে কালোও হয় তাও আমি হাজারও সাদা চামড়ার মাঝে তোকেই ভালোবাসবো। কারণ আমি তোর গায়ের রং কে নয় আস্ত তোকে ভালোবাসি। ”
রুদ্রের কথা শুনে আমার মন ছুঁয়ে শীতল হাওয়া বয়ে গেল। চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম রূদ্রের,
“কবে থেকে ভালোবাসলেন এতো?”
“শুরু থেকেই ”
আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,”শুরু থেকে মানে?”
“শুরু থেকে মানে শুরু থেকে। জানিস “লাভ এট ফার্স্ট সাইট ” -এ আমি বিশ্বাস করতাম না। ভাবতাম একবার দেখে কেউ প্রেমে পড়তে পারে? কিন্তু সেদিন তোকে প্রথম দেখে এই হরিণীর মায়ায় পড়ে গেছি আমি। প্রথম দেখায় প্রেমে বিশ্বাস না করা ছেলেটা হঠাৎ করেই তোর মায়ায় জড়িয়ে গেল। সেদিন এক মেঘলা দিনের থেকে গল্প শুরু আমাদের। ”
আমি অবাক চোখে তাকালাম এবং বললাম,
“তাহলে আমাকে সেদিন রিজেক্ট কেন করেছিলেন আর অপমান করে তাড়িয়ে কেন দিয়েছিলেন?”
রূদ্র আর কিছু গোপন রাখলেন না, উগলে দিলেন সব আমার কাছে। বললেন,
“তোর ক্যারিয়ারের জন্য। দশম শ্রেণীর শেষের দিকে তুই যখন আমার প্রেমে পড়েছিলি তখন পড়াশোনা বাদ দিয়ে শুধু আমার কথাই ভাবতি। তোর অভ্যাসে এক বিস্তার ফারাক হয়ে গিয়েছিল। তোর চিন্তা চেতনা সব জায়গায় আমিই ছিলাম। তাই তোর রেজাল্টও তেমন ভালো হয়নি। তাই এই ভেবে, তোর ক্যারিয়ারের কথা ভেবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বিদেশে চলে যাবো। কিন্তু আরো দেরিতে যাওয়ার কথা ছিলো তবে তুই সেদিন প্রপোজ করায় আমি তা এগিয়ে দিই। পরেরদিনই চলে আসি বিদেশ। তোকে নিজে থেকে যোগ্য বানাতে চেয়েছিলাম, তাই তোকে জানাই আমার মনে তোর জন্য কোনো ফিলিংস নেই। তোকে অপমান করি কারণ যাতে ভুলেও তুই অন্যকাউকে মন দিয়ে না বসিস। যাতে আমাকে যেভাবে প্রপোজ করেছিস সেভাবে আর কাউকে না বলতে পারিস।তোর কিশোরী মন আমি রিজেক্ট করায় যদি অন্য কাউকে মন দিয়ে বসে তখন? তখন আমার কি হবে? এত প্রচেষ্টা সবই তো বৃথা। তাই তোকে কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। জানি স্বার্থপরের মতো কাজ করেছি। কিন্তু তোর ক্ষেত্রে আমি একটু স্বার্থপর আনি। তোকে আমি অন্য কারো সাথে বরদাস্ত করতে পারবো না।”
আমি অবাক হয়ে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে রইলাম রুদ্রের দিকে। রুদ্র আমার এমন চাহনি দেখে ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল,
“Is that how you see me? Do you want to kiss me passionately?”
আমি থতমত খেয়ে গেলাম। রুদ্রের মুখে মিটিমিটি হাঁসি। আমি চোখ কুঁচকে বললাম,
“আপনি ভারী অসভ্য। আমি মোটেও ঐ দৃষ্টিতে তাকাই নি আপনার দিকে”
রুদ্র ঠোঁট কামড়ে হেঁসে বলল,”তাহলে কোন দৃষ্টিতে তাকিয়েছিস সুইটহার্ট?”
“ধ্যাত, ছাড়ুন আমায় ।”
এই বলে রুদ্রকে ছাড়ানোর জন্য মোচড়ামোচড়ি করলাম। রুদ্র এক হাত দিয়ে আমার চুল কানের পিছনে বলল,
“ছেড়ে দিব কিন্তু তুই আমাকে রিপ্লাই দিস নি”
আমি ভ্রু কুঁচকে বললাম,”কিসের?”
রুদ্র বললেন,”আমি তোকে কতবার বললাম, আমি তোকে ভালোবাসি। কিন্তু তুই বললি না । এখন বল, Do you love me?”
আমি বললাম,”no, ছাড়ুন এবার”
রুদ্র আমার গালে হাত বুলিয়ে আমার দিকে ঝুঁকে এসে বললেন,
“এখনো না?”
আমি জমে গেলাম। বুক ধড়ফড় করতে লাগলো। কপালে ঘাম ছুটলো। রূদ্রকে নিচু স্বরে বললাম,
“রুদ্র ,,,”
রুদ্র আরেকটু কাছে এলো। তার উত্তপ্ত শ্বাস আছড়ে পড়ছে আমার মুখে। দূরত্ব খুব বেশি নয়। জবাবে বলল,
“হুম?”
আমি আবারও ফিসফিস করে ডাকলাম,”রুদ্রোওও”
রুদ্র আরেকটু কাছে এলো। তার উত্তপ্ত শ্বাস আছড়ে পড়ছে আমার মুখে। দূরত্ব খুব বেশি নয়। জবাবে বলল,
“হুম?”
আমি আবারও ফিসফিস করে ডাকলাম,”রুদ্রোওও”
আবারো জবাব এলো,”হুম? শুনছি আনি”
এই বলে আমার দিকে আবারো এগোতে নিলো। ঠোঁট ছুঁইছুঁই আমাদের। আমি তখনই বললাম,
“রুদ্র আরশোলা”
রুদ্র চোখ বুজে ছিল, আমার কথা শুনে মাথা পিছিয়ে নিয়ে চোখ খুলে ভ্রু কুঁচকে বলল,
“হোয়াট?”
আমি মাথা নেড়ে বললাম,”হুম ”
রুদ্র আমাকে ছেড়ে দিলো। এদিকে সেদিকে তাকিয়ে বলল,
“কোথায়?”
আমি হাত কচলে বললাম,”এখানে নেই তো। আমার বাসায় একটাকে দেখেছিলাম, কি বড়বড় শিং খোদা। আমি দেখেই খাটের উপর উঠে বসেছিলাম। ঐ আরশোলা মারার জন্য আপনাকে অনেক খুঁজেছি কিন্তু আপনিতো তখন বিদেশে ছিলেন। এখন বাসায় গিয়ে মেরে দিবেন ঐ বেটাকে ঠিক আছে? আমাকে অনেক ভয় দেখিয়েছে”
রুদ্র হতবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো। হয়তো বুঝতে পারছে না আমার কথা। উনি কি বুঝবেন? আমি নিজেই জানিনা আমি কি বলেছি? রুদ্র আমার দিকে কেমন করে তাকালেন তারপর বললেন,
“মুড নষ্ট করার জন্য, তুই সেরাহ্। মাফ চাই তোর কাছে। তোর আশেপাশেও আমি আর যাবো না। কি হচ্ছিল তার মধ্যে আরশোলা নিয়ে এসেছে। তোকে আরশোলা জুস করে খাওয়াবো, বেয়াদব!!”
এই বলে নিজে একা একাই চলে গেল। রুদ্র যেতেই আমি ফিক করে হেঁসে দিলাম। তারপর হাত উঠিয়ে রুদ্রকে ডাকতে ডাকতে বললাম,
“আরে আমাকে তো নিয়ে যান।”
এই বলে রুদ্রের পিছনে ছুটলাম। গাইষ বেঁচে থাকলে দেখা হবে।
#চলবে
কি ব্যাপার? রেসপন্স করেন না কেন আপনারা? আমি কি খুব বাজে লিখছি? গল্প আর ভালো লাগছে না? গত পর্বে আমি খুবই হতাশ। যেই গল্পে ২০০+ রিয়েক্ট ও ৫০+ কমেন্ট হতো সেই গল্পে কাল ১০০ রিয়েক্ট ও ২০ টাও কমেন্ট হয়নি অথচ হাজারের উপর মানুষ ভিউ করে। আপনাদের কাছে বেশি কিছু তো চাইনা , শুধু একটা রিয়েক্ট আর কমেন্ট-ই চাই। তাহলে এতো কৃপণতা কেন? আপনাদের জন্য আমি নিজের ঘুম নষ্ট করে গল্প লিখতে পারবো, ২-৪ ঘন্টা অপচয় করতে পারবো আর আপনারা একটা ছোট কমেন্ট করতে পারেন না? আমি সত্যিই ভিষণ হতাশ।

