এক_মেঘলা_দিনে #পর্ব_১৫

0
2

#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_১৫
#আনিকা_আফসা

আজ আপুর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা এসেছে। শশুরবাড়ির বলতে আপুর শাশুড়ি এবং আপুর দেবর। যদিও আপন নয় , নিহান ভাইয়ের কাজিন। আপুর শ্বশুরবাড়ি তো বেশি দূরে নয় তাই চলে এসেছে আপুকে দেখতে। আম্মু আপুর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের জন্যই এখন ব্যস্ত। সকাল থেকে বিভিন্ন পদের নাস্তা তৈরি করে ফেলেছেন। আমি পরিপাটি হয়ে নিচে নামলাম। পড়নে একটা গোল জামা এবং গলায় প্যাঁচানো ওড়না। দেখলাম রুদ্র একটা সিঙ্গেল সোফায় বসে আছে । আম্মুও একটা সোফায় বসে তাদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করছে। আপুকে তার শাশুড়ি নিজের কাছে যত্ন সহকারে বসিয়েছে। নিহান ভাইয়া নেই অফিসে গেছে। বলাবাহুল্য নিহান ভাইয়া রুদ্রের বিজনেস পার্টনার। আমি নামতেই রুদ্র এক পলক আমার দিকে তাকালো। আমি সবাইকে দেখে হালকা হেঁসে সালাম জানালাম। আপুর শাশুড়ি আমাকেও কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলেন , আমিও সম্মানের সাথে উত্তর দিলাম। আপুর যে দেবর সে হঠাৎ উঠে এসে আমার পাশে দাঁড়িয়ে বলল,

“হাই!! আমি জিহান”

আমি তাকে সালাম দিলাম। জিহানের আমার দেখা এই প্রথম। বিয়েতে এসেছিলো কিনা মনে নেই। কারণ তখন আমার মনের অবস্থা ভালো ছিলো না, এত খেয়াল করিনি কাউকে। সারাদিন ঘরেই ছিলাম বলতে গেলে, আপুর বিদায়ের সময় শুধু একটু নিচে গিয়েছিলাম। জিহানের সাথে কুশলাদি বিনিময় করলাম , হালকা হাসলাম মাঝে মাঝে। হঠাৎ জিহান বললো,

“আপনার চুলে যেন কি পড়েছে?”

আমি চুলে হাত বুলিয়ে দেখলাম। জিহান হঠাৎ আমার চুলের থেকে একটা পাতা বের করে দিলেন। জিহান হেঁসে বলল,
“পাতা পড়েছে”

বাগানে গিয়েছিলাম, সেখান থেকে হয়তো। এখন কেউ হাসলে তার দিকে তো আর গোমড়া মুখে তাকানো যায় না। সেই খাতিরে আমিও হাসলাম খানিক। হঠাৎ চোখ গেল রুদ্রের উপর। বোম হয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম। এই তো ভালো ছিলো , এখন আবার কি হলো? রুদ্র আমাকে কিছু একটা ইশারা করলেন, আমি সেটা বুঝতে তার দিকে ভ্রু কুঁচকেই তাকিয়ে রইলাম। তখনই আম্মু ডাক দিয়ে বলল,

“আনু, যা তো রান্নাঘরে শরবতের ট্রে আছে সেটা নিয়ে আয়”

আমি মাথা নেড়ে চলে গেলাম। রান্নাঘরে ঢুকতেই কে যেন আমার কনুই ধরে তার দিকে ঘুরিয়ে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো। আমি দেখলাম সেটা রুদ্র। রুদ্র কন্ঠে হালকা তেজ দেখিয়ে বলল,

“ঐ ছেলেটার সাথে এতো কিসের হাঁসি তোর? আর ছেলেটাকে তোর চুলে হাত দিতে দিলি কেন? এসব শুধুমাত্র আমার , অন্যকেউ যাতে হাত না দেয়। নাহলে তোকে কাঁচাই খেয়ে ফেলবো আমি, বলে দিলাম।”

এই বলে যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেল রুদ্র। আমি হা করে তাকিয়ে রইলাম। তারপর মাথা নেড়ে হালকা হেঁসে আম্মুর কথামতো শরবতের ট্রে-টা খুঁজে সেটা হাতে তুলে নিয়ে এগোলাম ড্রইং রুমের দিকে। সবার গ্লাস হাতে হাতে তুলে দিলাম। রুদ্রের গ্লাস দেয়ার সময় ও একসাথে দুটো গ্লাস নিলো। আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম। কি করছে টা কি? তারপর দেখি ও একটা গ্লাস উঠে গিয়ে জিহানকে ধরিয়ে দিলো। তারপর আবার বসলো নিজের আসনে। মানে কি পরিমাণ হিংসা হলে মানুষ এমন করে? আমার মনে মনে খুব হাঁসি পাচ্ছে, উপরে উপরে নরমাল আছি। আবারো দাঁড়ালাম একপাশে। জিহান শরবত খেয়ে এসে আমার পাশে দাঁড়ালো এবং রুদ্রকে দেখিয়ে বলল,

“আপনার স্বামী নাকি?”

আমি মাথা নেড়ে বললাম,”না, না । ঐ আসলে।”

“বয়ফ্রেন্ড?”

আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো এই কথায়। কেমন কেমন যেন লাগলো। আমি নিচু স্বরে বললাম,

“ঐ আরকি তেমনই”

জিহান হালকা হাসলো এবং বলল,”আমি কিন্তু ওনার জেলাসি ভিষণ এনজয় করছি। আমি শুরু থেকেই দেখছি ওনার দৃষ্টিটা। বাই দা ওয়ে, আপনি কিন্তু কিছু মনে করবেন না। আই এম ম্যারেড। উনি জেলাস হচ্ছে বলে আপনার সাথে সেঁধে সেঁধে কথা বললাম।”

আমি মাথা নেড়ে হেঁসে বললাম,”আমি কিছুই মনে করিনি। আপু কেমন আছে?”

জিহান হেঁসে বলল ,”ভালো, নিয়ে আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু সে আসবে না। প্রেগন্যান্ট তো তাই কোনোজায়গায় যেতে চায় না, ভাবে কোনো দুর্ঘটনায় বাবুর যদি ক্ষতি হয়”

জিহান পকেট থেকে ফোন বের করলেন এবং তাদের বিয়ের ছবিগুলো দেখালেন। মাঝে মাঝে কিছু তাদের ফানি মোমেন্ট দেখালেন। সেটা নিয়ে হাসাহাসি করলাম। রুদ্র আড়চোখে বারবার এদিকে তাকাচ্ছেন। আমাদের হাঁসি তার সহ্য হচ্ছে না।

****

সময় ঘনিয়ে এলো জলদি। আপুর শাশুড়ি এবং জিহানের চলে যাওয়ার মুহুর্ত চলে এলো। আমরা সবাই দরজা পর্যন্ত এগোলাম তাদের এগিয়ে দিতে। ভিড়ের মাঝে রুদ্র হঠাৎ আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলেন। আমিও যেতে লাগলাম চুপচাপ। রুদ্র আমায় ছাদে আনলেন । ছাদের এক কোণায় নিয়ে এসে রেলিংয়ের সাথে আমায় দাঁড় করিয়ে নিজে আমার দু’পাশের রেলিংয়ে ভর রেখে বললেন,

“কি? সমস্যা কি তোর?”

আমি অবাক হয়ে বললাম,”আমার সমস্যা কেন হবে? সমস্যা আপনার কি সেটা বলুন। এভাবে টেনে আনলেন কেন? ওনাদের বিদায়ও দেয়া হলো না

“ওনাদের ? না জিহানকে বিদায় দেয়া হলো না? আনি তোকে আমি বলিনি ঐ ছেলেটার থেকে দূরে থাকতে? কেন কথা শুনিস না তুই? তোর পাশে শুধু আমি থাকবো , অন্য কেউ না। তোকে হাসাবো আমি, ভালোবাসবোও আমি। কেন তুই অন্যকারো জন্য হাঁসবি? কেন কেউ তোর দিকে অন্য দৃষ্টিতে তাকাবে?”

এমন আরো কথা বলতে লাগলো রুদ্র। আমি হাত আড়াআড়িভাবে ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে আছে, মুখে মিটিমিটি হাঁসি। তা দেখে রুদ্র অবাক হয়ে বলল,

“তুই হাঁসছিস? না মানে, আমি এখানে জ্বলছি আর তুই মজা নিচ্ছিস? আমি কিন্তু ঐ জিহানকে ছাড়বো না। ”

আমি হাঁসি মুখে বললাম,”আচ্ছা”

“তুই এখনো হাসছিস আনি? মানে মজা লাগছে তোর কাছে এসব? যাহ্ , তুই হাসতেই থাক আমিই চলে যাচ্ছি।”

এই বলে রুদ্র চলে যেতে নিতেই আমি হাত টেনে আবারো তাকে আগের জায়গায় দাঁড় করালাম এবং বললাম,

“আচ্ছা আর হাঁসছি না, আপনি বলুন”

“কি বলবো?”

আমি রুদ্রকে জড়িয়ে ধরে তার বুকে মাথা রেখে বললাম,

“বলুন, আনি । আমি তোকে অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি। ভীষণ ভালোবাসি। তোর সাথে অন্য কাউকে আমার এক ফোঁটাও সহ্য হয় না”

রুদ্র আমাকে জড়িয়ে ধরলেন , চুলের ভেতর নাক গুঁজে ঘ্রাণ নিয়ে বলল,

“আনি!! আমি তোকে অনেক অনেক অনেক ভালোবাসি। ভীষণ ভালোবাসি। তোর সাথে অন্য কাউকে আমার এক ফোঁটাও সহ্য হয়না। তোর পাশে কোনো ছেলেকে দেখলে মন চায় মেশিনগান দিয়ে তার বুক ঝাঁঝরা করে দিই। যেমন:- অয়ন!”

আমি মাথা তুলে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বললাম,”আপনি আবার অয়নকে নিয়ে পড়েছেন?”

রুদ্র আমার কোমর চেপে ধরে কাছে টেনে বললেন,

“যেটা সত্যি সেটাই বলেছি সুইটহার্ট”

আমি ভেংচি কাটলাম। রুদ্র আবার বলল,

“আর এই জিহানকে কি করবো ? বলতো সুইটহার্ট?”

আমি শান্ত স্বরে বললাম,”ওনাকে আপনার কিছুই করা লাগবে । কারণ, উনি বিবাহিত।”

রুদ্র এক ভ্রু কুঁচকে বলল,”হোয়াট?”

“হুম, আপনি রাগ করছিলেন বলে আমার সাথে আরো এসে হাঁসাহাসি করছিল বেশি করে। আর তখন ফোনে ওনার বিয়ের ছবিই দেখছিলাম”

রুদ্র যেন তাজ্জব বনে গেলেন। আমি ভ্রু নাচিয়ে বললাম,

“কি হয়েছে? দ্যা গ্রেট ডায়নোসর আফতাব চৌধুরী কি সাত আসমান থেকে টুকুস করে মাটিতে পড়েছে?”

রুদ্র আমার দিকে তাকিয়ে বলল,”আমাকে এভাবে বোকা বানালো?”

আমি হাসলাম। রুদ্র আমার নিকটে এসে বললেন,

“সব তোর জন্য হয়েছে। তুই পুরো পাগল করে দিয়েছিস আমাকে। এখন সেইজন্য তো পানিশমেন্ট পেতে হবে সুইটহার্ট। আর এটার পানিশমেন্ট হচ্ছে কালকের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করা”

রুদ্রের কথার ইঙ্গিত আমি বুঝলাম। রুদ্র আমার কোমর থেকে এক হাত উঠিয়ে আমার কানের নিচ দিয়ে গলিয়ে ঘাড়ে রাখলেন এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আমার ঠোঁটে স্লাইড করতে করতে এগিয়ে এলেন আমার দিকে। রুদ্রকে এগিয়ে আসতে দেখে আমি কালকের মতো আবারো বললাম,

“রুদ্র আরশোলা ”

রুদ্র বাঁকা হেঁসে বললেন,”আজ বোকা আর হচ্ছি না সুইটহার্ট।”

এই বলে আর কোনো কথা ব্যয় না করে আকষ্মিক ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিলেন তিনি। আমি জমে পাথর হয়ে পড়লাম যেন। পুরুষালি আপন পুরুষের ছোঁয়ায় বেসামাল হলো মন। এক হাত দিয়ে খামচে ধরলাম রুদ্রের চুল এবং অপর হাত দিয়ে তার বুকের কাছের শার্টের অংশ। রুদ্রের স্পর্শ গভীর হলো, শুষে নিলেন যেন আমার অস্তিত্ব। তার গরম নিঃশ্বাস এবং বেসামাল স্পর্শে আমি খেই হারালাম। রুদ্র কিছুক্ষণ পর সরে এলো , আমার কপালের সাথে কপাল মিশিয়ে রাখলো। দুজনেই হাপাচ্ছি। আমার চোখ এখনো বন্ধ।

“Your love is the rhythm that makes my heart beat in time.”

রুদ্র বলে উঠলেন কথাটি। আমি চোখ বুজেই শুনলাম তা । রুদ্র আমার চোখের পাতার উপর চুম্বন করে বললেন,”চোখ খুলবি না?”

আমি দুপাশে মাথা নাড়লাম। রুদ্র আবারো বললেন,

“খোল চোখ দুটি”

আমি মাথা নেড়ে বললাম,”আমার লজ্জা লাগছে। ”

রুদ্র আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন,

“লজ্জা লাগছে? তাহলে লজ্জাটা আরেকটু বাড়িয়ে দিই? কি বলিস দিবো?”

এই বলে আবারো আমার ঠোঁটের দিকে এগোতে নিলেই আমি ঝট করে চোখ খুলে রুদ্রকে ঠেলে বললাম,

“সরুন খারাপ লোক। ”

রুদ্র ঠোঁট কামড়ে হাসলো। হঠাৎ আমার কাছে নাক নিয়ে শুঁকে বলল,

“উমম, স্মেল গুড। আজকে আমার পারফিউমটা ইউজ করলি যে?”

আমি অবাক হয়ে বললাম,”আমি আপনার পারফিউম কখন ইউজ করলাম? এটাতো,,,

এই বলেই রুদ্রের দিকে ঝট করে তাকিয়ে বললাম,”এটা আপনি এনেছেন আমার জন্য?”

রুদ্র মাথা নাড়লো। আমি বললাম,”কিটিকেও আপনি এনেছেন?”

রূদ্র একইভাবে মাথা নাড়লো এবং বলল,
“তোর ভালো লেগেছে?”

আমি আলতো হেঁসে বললাম,”ভালো মানে? অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু আপনি আস্ত একটা নাটক বাজ। এতো নাটক কিভাবে করেন আপনি? আপনার নাকি আমার কথা মনেই ছিল না?”

রুদ্র আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,”নিজেকে ভুলে গেলেও তোকে কোনোদিন ভুলবো না সুইটহার্ট”

আমি রুদ্রের বুকে মাথা রেখে চোখ বুজে নিলাম। আমার প্রথম শান্তির স্থান হলো মায়ের বুক। আর মায়ের পরে রুদ্রের। এইখানে মাথা রাখলে নিজেকে এতো নিরাপদ লাগে , মনে হয় কোনো এক শান্তির জায়গায় আছি যেখানে কোনো ভয় নেই। রুদ্র আমাকে বাহুডোরে আটকে নিলেন। মাথায় গাঢ় চুম্বন দিয়ে হাত বুলিয়ে দিলেন।

*****

আজ ভার্সিটিতে রুদ্র নামিয়ে দিয়ে গেছে এবং বলেছে অয়নের সাথে কম মিশতে। আমি বুঝি না লোকটা অয়নকে এতো অপছন্দ কেন করে? বন্ধু তো আমার রিয়াদও। কত সময় কত শয়তানি করে, তার থেকে অয়ন শান্তশিষ্ট। কোনো সময় কোনো ঝগড়ায় দেখিনি। মেয়েদের সাথে কম কথা বলে, শুধু আমাদের সাথেই একটু মিশে এই যা। কিন্তু রুদ্র সবসময় অয়নের থেকে দূরে থাকতে কেন বলে?

এসব ভাবতে ভাবতেই ক্লাসে এসে সানভির পাশে এসে বসলাম। অয়ন আমাকে দেখে আজ কোনো কথা বললো না। আমিও চুপচাপ রইলাম। সানভি মোবাইলে রিয়াদের সাথে চ্যাটিং করছে। অথচ রিয়াদ তার পিছনের টেবিলেই বসে। একটু পর তৃষাও চলে এলো, সানভির এসব কাজকর্ম ওর জানা। সানভির মাথায় গাট্টা মারলো এসব দেখে। সানভি মুখ কুঁচকে মাথা ঘষলো। রিয়াদ বললো,

“বসুন্ধরা টিস্যুর বাচ্চা তুই আমার জানরে মারিস। সাহস তো কম না”

তৃষা আমার পাশে বসে বলল,,” ওলে লে আমার জানটারে। নিজে তো সারাদিন কিল ঘুষি মারিস ওরে। এখন জান বের হচ্ছে? বেশি কথা বললে তোর নাক ফাটাবো। চুপচাপ বস, জান লাগাতে আসছে।”

রিয়াদ আগুন চোখে তাকালো তৃষার দিকে। সানভি হেঁসে দিলো। আমি চুপচাপ বসে এদের কান্ড দেখছি। তৃষা বললো,

“কিরে আনি? আজ চুপচাপ যে?”

আমি মাথা নেড়ে বললাম,”এমনিই।”

তৃষা আর কিছু বললো না। স্যার চলে আসলো তখন। মনোযোগ দিয়ে সকল ক্লাস করা শেষে একটু শহীদ মিনারে এসে বসলাম। তখনই পাশে অয়ন বসে বলল,

“তুই কি কোনোভাবে আমাকে এড়িয়ে চলছিস?”

আমি ওর দিকে তাকালাম এবং বললাম,

“নাতো। তোর কেন এটা মনে হলো?”

“মনে হতেই পারে। আজ একবারও কথা বললি না।”

“আমি তো কারো সাথেই কথা বলিনি তেমন। ”

“সেটাই তো, কেন?”

“ভালো লাগছে না।”

“কি করলে ভালো লাগবে?”

“কিছু করা লাগবে না”

অয়ন আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে হঠাৎ প্রশ্ন করলো,

“সেদিন কি বলে এতো হন্তদন্ত হয়ে ছুটলি? কি হয়েছিল রুদ্র ভাইয়ের?”

আমি মাথা নেড়ে বললাম,”কিছু হয় নি। প্রাঙ্ক করেছিল।”

অয়ন চোখ কুঁচকে বলল,”কিহ্? তুই না সেদিন এক্সিডেন্ট না কি বললি? এসব নিয়ে প্রাঙ্ক করে? কিভাবে পারে ভাই? আমি হলেতো জীবনেও পারতাম না। তুই কিভাবে ছুটে গেলি। লোকটার কি মাথায় সমস্যা?”

আমি বললাম,”সব খারাপ কিছুর মধ্যেও একটা ভালো কিছু থাকে অয়ন। আমারও রাগ হয়েছিল এসব শুনে। রাগের মাথায় চড়ও বসিয়ে দিয়েছিলাম গায়ে। ”

“আচ্ছা, তারপর?”

অয়নকে সেদিনের সব ঘটনা খুলে বললাম। অয়ন অবাক হয়ে বলল,

“কিহ্? ক্ষমা করে দিয়েছিস? তুই কিভাবে ক্ষমা করলি? তোর সাথে এতো খারাপ আচরণ করলো ,তারপরও ক্ষমা করে দিলি? কিভাবে? মানছি উদ্দেশ্য তার ভুল নয় কিন্তু এসব তো ভুল না?”

“হয়তোবা । কিন্তু ক্ষমা মহৎ গুণ। সবারই ভুল হয়, তোর, আমার, সবার। তাই বলে রাগ করে বসে থাকবো ? রাগ মানুষের শত্রু। রাগ করে কি হবে? আর রুদ্রের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আমাকে ছাড়া কিছুই বুঝে না। আমাকে অনেক ভালোবাসে। আর কি চাই? যা আমি এতদিন চাইতাম তা তো পেয়েছিই। জানিস আমাকে একটা অনেক সুন্দর বিড়াল দিয়েছে। সাদা ফকফকে ও বিদেশী বিড়াল। চোখ গুলো নীল। কি যে সুন্দর লাগে দেখতে। আমি নাম দিয়েছি কিটি।”

আমার কথা শুনে অয়ন হাত মুঠ করে রাখলো। অতঃপর হাঁসি মুখেই বলল,

“তুই যেহেতু সব ঠিক করে নিয়েছিস আমার আর কি করার? যেহেতু ভেবেছিস রুদ্রকে আপন করে নিবি আমার আর কিছু বলার নেই। তোদের নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা ”

আমি হাঁসি মুখে বললাম,”থ্যাংকস ”

অয়ন ঠোঁট টিপে জোরপূর্বক হেঁসে মাথা নেড়ে আমার পাশ থেকে উঠে চলে গেল। তখনই আমার ফোনে কল এলো। ডায়নোসর লেখা নামটা স্ক্রিনে ভেসে উঠতেই রিসিভ করে কথা বলা শুরু করলাম।

#চলবে

(সবাই রেসপন্স করবেন রিডার্স ❤️।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here