এক_মেঘলা_দিনে #পর্ব_১৮

0
2

#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_১৮
#আনিকা_আফসা

সানভি, রিয়াদ ও তৃষা মিলে ভার্সিটির শহীদ মিনারের দিকটায় বসে গল্প করছে। অয়নের এসবে মন নেই, সে আছে অন্য চিন্তায়। আমার বাবার উপর রাগ ও রুদ্রের প্রতি জেদ ক্ষনে ক্ষনে মাথাচাড়া দিচ্ছে। মাথায় কিছু চলছে তবে বোঝা যাচ্ছে না। যে করেই হোক আমাকে হাসিল করেই ছাড়বে। নাহ্, এখন ভালোবাসায় নয়, রুদ্রের প্রতি জেদ থেকে। হঠাৎ কানে এলো তৃষার আওয়াজ। তৃষা বলছে,

“ঐতো আনি এসেছে কিন্তু ওর পাশের লোকটা কে? চেনা চেনা লাগছে।”

অয়ন নজর তুলে তাকালো‌। দেখলো আমি আর রুদ্র এগিয়ে আসছি। ঠান্ডা মাথাটা হুট করে গরম হয়ে গেল আমাদের একসাথে দেখে। রিয়াদ বলল,

“ইনি আমাদের সেদিনের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন না? হ্যাঁ, ইনিই তো। তবে আনির সাথে কেন আসছে? কিরে অয়ন, জানিস কিছু?”

অয়ন চুপ রইলো, নজর আমাদের দিকে আবদ্ধ। ততক্ষণে আমি আর রুদ্র তাদের কাছে চলে এসেছি। আমি আসতেই সানভি, তিশা ও রিয়াদ একপ্রকার চেপে ধরলো আমায়। আমি রুদ্রকে তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে বললাম যে পাঁচ দিন পর রুদ্রের সাথে আমার বিয়ের কথা। আমার মুখ থেকে এই কথা শুনে চারপাশটা দুই সেকেন্ডের জন্য ফ্রিজ হয়ে গেল। ঠিক যেমন ফোনে ১% ব্যাটারি দেখলে হয় আরকি। ওরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো একে অপরের। রিয়াদ বলল,

“কিহ্? তোর বিয়ে? তাও পাঁচ দিন পর?”

আমি মাথা নাড়লাম। রিয়াদ হায় হুতাশ করে বলল,

“মানে কি ? প্রাঙ্ক করছিস?”

আমি বিরক্ত চোখে তাকালাম এবং বললাম,

“মজা করবো কেন? আমার কি বিয়ে হতে পারে না? নাকি আমি এলিয়েন?”

“দেখলি সানুভ? সেইদিনের পিচ্চি বিয়ে করে ফেলছে। দুই বছর রিলেশন করে আমরা কি করলাম জীবনে? জীবনডা পুরাই লস না আমাদের?”

রিয়াদ রুদ্রের সামনে এভাবে বলায় খানিকটা লজ্জা পেল সানভি, চোখ রাঙিয়ে বলল রিয়াদকে,

“তুই চুপ থাকবি?”

আমি বললাম,”ঐ আসলে বাবা হঠাৎ করে সব ঠিক করলেন। আমরাও অবগত ছিলাম না।”

তৃষা আমার হাত টেনে বলল,

“আচ্ছা সমস্যা নেই। তুই সর জিজুর সাথে কথা বলি। কেমন আছেন জিজু?”

রুদ্র এতক্ষণ অয়নের দিকে তাকিয়ে ছিলো, মাথা নিচু করে অনবরত ফুঁসছে ছেলেটা তা বুঝতে দেরি নেই। তৃষার কথায় তৃষার দিকে তাকিয়ে হালকা হেঁসে বলল,
“এইতো আলহামদুলিল্লাহ, তুমি ভালো আছো?”

তৃষা মাথা নেড়ে হেঁসে বলল,”আলহামদুলিল্লাহ জিজু, ভালো আছি। আপনি হঠাৎ করে এসে সব উল্টে দিলেন তো!”

রুদ্র হালকা হেসে বলল, “উল্টানো না, সোজা করতেই এসেছি।”
ওর চোখ একবার আবার অয়নের দিকে চলে গেল। ছেলেটা এখনো একই জায়গায় বসে, হাত দুটো মুঠো করা, চোয়াল শক্ত। আমি ওদের বিয়ের কার্ড দিয়ে ইনভাইট করলাম। অয়নের দিকে এগিয়ে কার্ড দেওয়ার জন্য এগিয়ে যেতে নিলে রুদ্র কনুই ধরে আটকালো। আমার হাত থেকে কার্ড নিয়ে অয়নের সামনে দাঁড়ালো। আমি অবাক হয়ে তাকালাম। অয়নের দিকে কার্ড এগিয়ে দিলো। অয়ন মাথা তুলে নিজের সামনে রুদ্রকে দেখে একটু চমকালো। রুদ্র হালকা হেঁসে বলল,

“নেও অয়ন, কার্ড নেও। আর বিয়েতে কিন্তু অবশ্যই আসবে। আনিকার ভাইয়ের মতো তুমি। না আসলে খারাপ দেখায়।”

অয়ন একবার কার্ডের দিকে তাকিয়ে আবার রুদ্রের দিকে তাকালো। হঠাৎ মিষ্টি হেঁসে কার্ড নিলো এবং উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

“অবশ্যই আসবো । বিয়েতে না এসে উপায় আছে? চিন্তা একদমই করবেন না মিস্টার রুদ্র। আপনাকে বেশ খুশি মনে হচ্ছে। এতো খুশি হবেন না, কখন কি হয় তা তো বলা যায় না। অত্যধিক খুশি কিন্তু ভালো না, ঘটনাটা উল্টে যেতে সময়ই বা কতক্ষন লাগে বলুন তো? সম্পর্ক একটি পলকে বদলে যায়। ”

এই বলে হাসলো আবার এবং প্রস্থান করলো সেখান থেকে। আমি এগিয়ে এসে বলল,
“কি হলো? চলে কেন গেল?”

রুদ্র অয়নের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকেই বলল,

“নাথিং, চল যাই এবার”

রুদ্রের কথা মোতাবেক সবার থেকে বিদায় নিলাম। এসেছিলাম ওদের ইনভাইট করতে। গাড়িতে উঠে বসলাম। সবাইকে হাত নেড়ে বিদায় দিলাম, ওরাও বিদায় জানালো। রুদ্র গাড়িতে টান বসালো। আমরা যেতেই রিয়াদ আক্ষেপের স্বরে বলল,

“সবাই বিয়ে করে নিচ্ছে রে জান। খালি তুই আর আমি বাদে। চল আনিকা বিয়ে করার আগে আমরা বিয়ে করে ওকে চমকে দেই।”

সানভি চোখ রাঙিয়ে বলল,”তুই চুপ করবি? মুখে একেবারে কস্টেপ মেরে দিবো, শয়তান। ”

এই বলে গটগট পায়ে চলে গেলো। রিয়াদ বলল,”যাহ্, বাবা। রেগে কেন গেলো? মেয়েদের মন বোঝা বড়ই কঠিন। বুঝলি রে তৃষু?”

তৃষা মিটিমিটি হাসলো। রিয়াদ সানভির পিছু নিলো। নতুন টপিক পেয়েছে মেয়েটাকে জ্বালানোর। এত সহজে ছাড়বে নাকি? তৃষা তাদের দেখে মাথা নেড়ে হাসলো। তারপর আশেপাশে তাকিয়ে খুঁজলো কাউকে। নাহ্, তাকে দেখা যাচ্ছে না। খুঁজতে হবে। তৃষা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। অনেক ভেবেছে, সিদ্ধান্ত নিয়েছে মনের কথা আর গোপন রাখবে না। উগলে দিবে সব, নয়তো শান্তিতে শ্বাস নেয়া যাচ্ছে না। বলে দেখাই যায়, পরে যা হওয়ার হবে। এই ভেবেই মনে সাহস সঞ্চয় করলো। কারো খোঁজে এগিয়ে গেল সামনে।

___________________

একটা গাছের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে অয়ন। আশেপাশে কেউ নেই বললেই চলে। রাগে অনবরত ফুঁসছে অয়ন । মিস্টার মির্জা তাহলে ছক্কা মেরেই দিলো? এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে ঠিক করে ফেললো। নাহ্, এটা তো হতে দেয়া যাবে না। অয়ন বিড়বিড় করলো,

“বাহ্, কি চালটাই না চাললেন মিস্টার মির্জা। কিন্তু চাল উল্টে যেতে কতক্ষন? আনিকে আমি ভালোবেসেছি, তারমানে ও আমার। আমি কিছুতেই ওকে অন্যকারো হতে দেবো না। কিছুতেই না।”

এই বলে হাত মুঠো করে শক্ত করে ঘুষি মারলো গাছটায়। ফলস্বরূপ ছুঁলে গেল হাতের খসখসে ত্বক।

“অয়ন”

অয়ন পিছনে তাকালো। দেখলো তৃষা দাঁড়িয়ে, একবার তার হাত দেখছে তো একবার তাকে। অয়নের তাকিয়ে থাকার মাঝেই তৃষা ছুটে এলো তারকাছে। হাত ধরে বলল,

“ইয়া আল্লাহ!! কি করেছিস এসব?”

অয়ন কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। ঝট করে মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। ততক্ষণে তৃষা ওড়না দিয়ে চেপে ধরেছে জায়গাটা, রক্ত পড়ছে। তৃষা অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল,

“এমন কেন করছিস? কি হয়েছে তোর?”

অয়ন ওসবে পাত্তা দিলো না। উল্টো প্রশ্ন ছুঁড়লো,

“আমায় ভালোবাসিস তৃষু।”

তৃষা এই কথা শুনে হা হয়ে তাকিয়ে রইলো। জমে গেলো যেন। মুখ দিয়ে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে এলো,

“এ্যাঁ?”

“এ্যাঁ না হ্যাঁ। ভালোবাসিস?”

তৃষা চোখ নামিয়ে ফেলল। মাথা নামিয়ে হাত কচলালো। অয়ন ভ্রু কুঁচকে সামনে এগিয়ে এলো। তৃষা অয়নকে এগোতে দেখে পিছনে পিছিয়ে গেলো। ফলস্বরূপ পিঠ ঠেকলো গাছের সাথে। অয়ন তৃষার মাথার পাশের গাছের অংশে হাত দিয়ে সামান্য ঝুঁকে এসে বলল,

“বললি না ভালোবাসিস কিনা।”

তৃষা আমতা আমতা করে এদিক সেদিক নজর ফিরিয়ে বলল,

“তুই জানলি কি করে?”

অয়ন বাঁকা হেঁসে বলল,”কারণ তোর ডায়রি আমার কাছে। সেদিন ফেলে রেখে গিয়েছিলি।”

তৃষা চোখ বড়বড় করে তাকালো। অয়ন সম্পর্কে সমস্ত অনুভূতি সেই ডায়রিতে শখ করে রেখেছিল সে। অয়ন তৃষার সারামুখে চোখ ঘুরিয়ে বলল,

“এখন বল , সত্যি কিনা?”

তৃষা মাথা নামিয়ে মনে সাহস সঞ্চয় করে উপর নিচ মাথা ঝাঁকায়। অর্থাৎ, সত্যি। অয়ন বাঁকা হেঁসে বলল,
“আমার ভালোবাসার জন্য কি কি করতে পারবি?”

তৃষা অয়নের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,”তুই আমার প্রথম ভালোবাসা। আর কেউই তার প্রথম ভালোবাসা হারাতে চায় না। তোর ভালোবাসার জন্য আমি সব করতে পারবো, সবকিছুই।”

তৃষার চোখে এক দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিলো। অয়ন তা দেখে বাঁকা হাসলো।

____________________

আমি আড়চোখে রুদ্রের দিকে তাকালাম। গাড়িতে ওঠার পর থেকে চুপচাপ। জিজ্ঞেস করলাম,

“কি হয়েছে আপনার?”

রুদ্র তাকালো আমার দিকে এবং বলল,

“কিছুনা। ”

আমি আর কিছু বললাম না। রুদ্র হঠাৎ আমার হাত ধরে চুমু খেলো তারপর তার বুকের সাথে চেপে ধরলো। আমি ঠোঁট প্রসারিত করে মুচকি হেসে বাইরে নজর দিলাম। তখনই আমার ভ্রু কুঁচকে এলো, কারণ গাড়িটা বাড়ির পথে যাচ্ছে না। রুদ্রের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

“কোথায় যাচ্ছেন? বাড়ির পথ নয় তো এটা।”

রুদ্র সামনের দিকে নজর রেখেই বলল,”তোমাকে বেঁচে দিতে”

রুদ্রের মুখে তুমি সম্মোধন শুনে ভ্রু কুঁচকে বললাম,

“তুমি করে বলছেন? ”

“হুম, আর তুমিও আমাকে তুমি করেই বলবি। সামনে আমাদের বিয়ে। লোকে কি বলবে? আপনি আর শুনতে পারছি না, নিজেকে বুড়ো লাগে তোর ,,, তোমার মুখে আপনি শুনে। গ্রামের চাচাকে ডাকছিস মনে হয়।”

আমি দুই আঙ্গুল দিয়ে ঠোঁট চেপে হাসলাম। রুদ্র তা দেখে চোখ রাঙিয়ে বলল,

“হাসছো কেন?”

আমি হাঁসি বজায় রেখেই বললাম,

“আপনি তুমি- তুই গুলিয়ে ফেলছেন।”

রুদ্র গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,”হুম, প্রথম প্রথম এমন হয় একটু। সমস্যা নেই, সব সময়ের ব্যাপার। ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তুমি আমাকে তুমি করেই ডাকবে।”

আমি চোখ ছোট ছোট করে বললাম,”জ্বি না, আমি আপনাকে “আপনি” অনেক ভালোবাসে ডাকি। আপনি চেঞ্জ করা যাবে না।”

হঠাৎ রুদ্র গাড়িতে ব্রেক কষলো। আমি সামনে দিকে হালকা ঝুঁকে গেলাম যারফলে মুখের সামনে চুল চলে এলো। আমি মুখের থেকে চুল সরিয়ে বললাম,

“গাড়ি থামালেন কেন? তুমি না বলার অপরাধে নামিয়ে দিবেন?”

রুদ্র আমার দিকে এগিয়ে এসে কপালে লেপ্টে থাকা চুল আঙুল দিয়ে সরিয়ে বললো,

“না , সুইটহার্ট। আমরা চলে এসেছি।”

আমি ভ্রু কুঁচকে পিছনে তাকালাম, দেখলাম একটা নদী। বিকেলের ঠান্ডা বাতাস, নদীর কলকল শব্দ, মাঝির গুণগুণ গান সব মিলে পরিবেশটা এককথায় পারফেক্ট। আমি গাড়ি থেকে নেমে রুদ্রকে ছাড়াই এগিয়ে গেলাম। দৌড়ে হাত দুইদিকে ছড়িয়ে দিলাম যেন আমি কোনো পাখি। নদীর তীর আমার বরাবরই পছন্দের। এখানের সতেজ বাতাস দেখলে যেকারোরই মাইন্ড ফ্রেশ হয়ে যাবে। তবে এখনকার লোকেরা অসচেতন। প্রকৃতির এতো সুন্দর নদীতে বর্জ্য ফেলে দূষিত করছে। কত নদী যে এই কারণে মরা নদীতে পরিণত হয়েছে হিসাব নেই। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম তারপর দুই হাত দুইদিকে ছড়িয়ে প্রাণভরে শ্বাস নিলাম। রুদ্রর কথা মাথায় আসতেই চোখ খুললাম এবং পিছনে ঘুরলাম। পিছনে তাকাতেই দেখলাম রুদ্রকে। এক হাঁটু মুড়ে বসে আছে, দুই হাত দিয়ে আমার দিকেই বাড়িয়ে রেখেছে এক আংটির নীলরঙ্গা বক্স , যার ভেতর চকচক করছে একটা সুন্দর হীরার আংটি। আমি মুখে হাত চেপে ধরলাম। রুদ্র মুচকি হেসে আমার দিকে তাকালো, দুই সেকেন্ড নীরবতার পর বলল,

“জানো, আমি আগে ভাবতাম ভালোবাসা মানে গল্প, সিনেমা, কবিতা। কিন্তু যেদিন থেকে তুমি এলে, বুঝলাম ভালোবাসা মানে তুমি। তোমার চোখে তাকালে আমার সব অস্থিরতা শান্ত হয়ে যায়,
তোমার গলার স্বর শুনলে মনে হয় দুনিয়া ফিরে পেলাম। ”

রুদ্র থামলো। গলার স্বর কেঁপে উঠলো যেন। চোখে চোখ রেখে আবার বলল,

“আজ এই রিংটা শুধু একটা অলঙ্কার না। এটা আমার প্রতিজ্ঞা – জীবনের প্রতিটা ঝড়ে আমি তোমার হাত ছাড়ব না। সুখে হাসব তোমার সাথে, দুঃখে কাঁধ হবো তোমার।

তুমি কি সারাজীবন আমার নামের পাশে তোমার নামটা লিখতে দেবে? তুমি কি আমার হবে, শুধুই আমার?”

আমার চোখে জল টলমল করলো। রুদ্র মুচকি হেসে বলল,

“কিছু তো বল, এভাবে বসে থেকে হাঁটু ব্যথা হয়ে গেছে আমার”

আমি হেঁসে ফেললাম। তারপর রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললাম,

“হ্যাঁ লিখবো আমি আমার নাম তোমার পাশে। হবো আমি তোমার। এইসবকিছুর বদলে তুমি হয়ে থেকো আমার রুদ্র”

রুদ্র হেঁসে উঠে দাঁড়ালো। বক্স থেকে আংটি খুলে আমার হাত টেনে তা পরিয়ে দিলো। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“এটা আমার ভালোবাসা, কখনো খুলবি না হাত থেকে। ঠিক আছে?”

আমি মাথা নাড়লাম। রুদ্র এক হাত আমার গালে রেখে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে আমার চোখ মুছিয়ে দিয়ে বলল,

“চোখের জল আর না, আজ থেকে তোমার চোখের প্রতিটা ফোঁটার হিসাব আমার। আমি থাকতে তোমাকে কাঁদতে দেবো না, কখনোই না। এই চোখে শুধু হাসি মানায়। আমার জীবনের সব আলো তো তোমার এই চোখেই লুকিয়ে আছে।”

আমি রুদ্রের হাতের উপর হাত রেখে চুমু খেলাম রুদ্রের হাতের তালুতে। রুদ্র আমার হাত ধরে মুচকি হেঁসে বলল,

“চলো!!”

রুদ্র আমাকে নিয়ে চললো নদীর কাছে, একটা নৌকার সামনে। আমি শুধু অবাক হয়ে দেখে গেলাম। নৌকার উপর এক মাঝি ছিলো। রুদ্র কি যেন কথা বললো, মাঝি নেমে গেলো নৌকা থেকে। রুদ্র নৌকায় উঠে আমার দিকে হাত এগিয়ে দিলো। আমি ওর হাতের দিকে তাকিয়ে বললাম,” এসব কি?”

রুদ্র চোখের ইশারায় হাত ধরতে বললো। আমি আর কথা বাড়ালাম না, আংটি পড়া হাতটা এগিয়ে দিলাম। রুদ্র শক্ত করে ধরলো আমার হাত, যেন এটাই আমার ভরসা। আমি রুদ্রের সাহায্যে নৌকায় উঠে বসলাম। নৌকাটা দুলছিলো, রুদ্র তা দেখে বলল,

“নৌকা দুলছে, তা দেখে আবার ভয় পেয়ো না

আমি মিষ্টি হেঁসে বললাম,”ভয় পাচ্ছি না, আপনি থাকতে ভয় কিসের?”

রুদ্র মুচকি হাসলো। অতঃপর নৌকায় বসে নিজেই হাতে নিলো বৈঠা। বৈঠার সাহায্যে নৌকাকে ভাসিয়ে দিলো নদীতে এবং বৈঠা দিয়ে নৌকা চালাতে লাগলো। আমি অবাক হয়ে বললাম,

“আপনি নৌকাও চালাতে পারেন?”

রুদ্র হাসলো শুধু। নদীর মাঝে এসে বৈঠা তুলে নিলো এবং আমাকে হাত এগিয়ে বলল,

“কাছে এসো।”

আমি অবাক হয়ে বললাম,”জ্বিহ্?”

রুদ্র বিরক্ত শ্বাস ফেলে নিজেই উঠে আমাকে উঠিয়ে নিলো। নৌকা দুলে উঠলো, আমি খামচে ধরলাম রুদ্রের শার্ট। রুদ্র আমি সমেত নৌকার মাঝখানটায় বসলো। আমার পিঠ গিয়ে ঠেকলো রুদ্রের বুকে। রুদ্র পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো আমায়। আমি কেঁপে উঠলাম, চোখ বন্ধ করে ফেললাম। রুদ্র নাক ডোবালো আমার চুলে, চোখ বুজে শ্বাস নিলো । তারপর বলল,

“আর মাত্র পাঁচদিন আনি। তারপর তুই অফিশিয়ালি আমার হচ্ছিস ”

আমি মাথা পিছিয়ে রুদ্রের কাঁধে এলিয়ে দিলাম। আকাশের দিকে তাকিয়ে বললাম,

“আমার কেমন যেন লাগছে রুদ্র। যদি এরমধ্যে খারাপ কিছু হয়। কেমন যেন কু ডাকছে মন। অস্থির লাগছে খুব।”

রুদ্র আমার গালের সাথে গাল মিলিয়ে বলল,”বিয়ের জন্য হয়তোবা। টেনশন নিস না সব ঠিক হবে।”

আমি বললাম,”তাই যেন হয়”

#চলবে

(সবাই রিয়েক্ট ও ছোট একটি কমেন্ট করো , অনুরোধ রইলো। পেজের রিচ একদম তলানিতে। একটু উঠতে সাহায্য করো। পরের পর্বে গল্পের মোড় ঘুরবে)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here