এক_মেঘলা_দিনে #পর্ব_৩০

0
1

#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_৩০
#আনিকা_আফসা

নির্জন রাস্তাঘাট। সরু এক রাস্তা দিয়ে রুদ্র হাঁটছে অজানা পথে। আকাশ মেঘলা করেছে, বাতাস অনেক। রাস্তার দুই ধারে বড় থেকে মাঝারি গাছগুলো বাতাসে নড়ছে। রুদ্র একটা গভীর শ্বাস ফেলে আকাশের দিকে তাকালো, চোখদুটো লাল হয়ে আছে। নিজের উপরই রাগ হচ্ছে এখন। সে কেন এভাবে একটা মেয়েকে ভালোবাসতে গেলো? সে যদি ভালো না বাসতো কেউ তাকে এতটা কষ্ট দেওয়ার ক্ষমতা কি রাখতে পারতো? এইযে এখন রুদ্র যে ভেঙ্গে পড়েছে, জীবনটাকে বিষাক্ত লাগছে, রুদ্রের যে মরে যেতে ইচ্ছা করছে, এসব কি তখন হতো? এখন রুদ্রের মন বলছে, কেন সে ভালোবাসলো? এমনিই এক মেঘলা দিনেই তো তাদের প্রথম আলাপ হয়েছিলো , আর আজ তার আনির বিয়ে।

রুদ্র দু’পাশে মাথা নাড়ে, না, তার “আনি” এখন আর নেই। আজ সে শুধু আনিকা, অন্য কারও হতে চলা আনিকা।

একটা তিক্ত হাসি ফুটে উঠলো রুদ্রের ঠোঁটে। মানুষ কত সহজেই নিজের প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে ফেলে! অথচ কিছুদিন আগেও সে ভেবেছিল, যত ঝড়ই আসুক, আনিকা তার । শুধু তার !

বাতাসটা আরও জোরে বইতে শুরু করলো। গাছের পাতাগুলো একসাথে শব্দ তুলছে। যেন প্রকৃতিও আজ অস্থির। ছেলেরা নাকি কাঁদতে পারে না। কিন্তু রুদ্রের যে এখন ভীষণ কাঁদতে ইচ্ছে করছে, গলা ফাটিয়ে কাঁদা যাকে বলে। ভাবতে ভাবতেই চোখ দিয়ে এক ফোঁটা নোনাজল গড়িয়ে পড়লো। তখনই পেছন থেকে আওয়াজ এলো,

“রুদ্রোওওওওও!!!”

চেনা আওয়াজ কর্ণ গোচর হতেই রুদ্র তুরন্ত ঘুরে চাইলো। পিছনে ঘুরে তাকাতেই তার চোখ স্থির হলো এক মেরুন রঙ্গা লেহেঙ্গা পরিধানরত এক মেয়ের উপর। লেহেঙ্গা দু হাত দিয়ে হালকা উঁচুতে তুলে দৌড়ে আসছি আমি। মুখে কৃত্রিম সাজগোজ যা চোখের পানিতে এলোমেলো হয়ে গেছে। আমার দৌড়ানোর তালে দুলে দুলে উঠছে মাথার টিকলি, কানের ঝুমকো আর গলার হারও। মাথার ঘোমটাটা কখন অবহেলায় কাঁধে পড়ে গেছে তার খেয়াল নেই।

রুদ্র প্রথমে যেন বিশ্বাসই করতে পারলো না।
মেঘলা আকাশের নিচে, নির্জন সেই রাস্তায়, সত্যিই কি সে আনিকাকে দেখছে? নাকি এটা তার কল্পনা?
চোখের পানি মুছে আবার তাকালো সে।
না, ভুল নয়।
মেরুন রঙের লেহেঙ্গা পরে সত্যিই দৌড়ে আসছে আনিকা। চোখ দুটো কান্নায় লাল, সাজগোজ এলোমেলো, নিশ্বাস দ্রুত ওঠানামা করছে।
রুদ্রের বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো।
“আনি,,,?

অবিশ্বাসে ফিসফিস করে বললো সে। আমি দৌড়াতে দৌড়াতে রুদ্রের কাছে এসে তুমুল বেগে হামলে পড়লাম রুদ্রের বুকে। দুইহাত দিয়ে সাপের মতো প্যাঁচিয়ে ধরলাম তার গলা। রুদ্র আমার আকষ্মিক কান্ডে হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইল, তাল সামলাতে না পেরে পিছিয়ে গেলো খানিক।

আমি তখনও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছি তাকে।
এতটাই শক্ত করে, যেন এক মুহূর্তের জন্যও ছাড়লে সে আবার হারিয়ে যাবে।
আমার কাঁধ কাঁপছে। কান্নায় পুরো শরীরটা থরথর করে কাঁপছে।
রুদ্র কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না যে এই মুহূর্তটা সত্যি।

আমি কেঁদে কেঁদে বললাম,”আমাকে ছেড়ে যেও না রুদ্র। আমাকে ছেড়ে যেও না প্লিজ। আমি খুব সরি, আমার তোমাকে বিশ্বাস করা উচিত ছিলো।”

আমার কণ্ঠ বারবার কেঁপে উঠছে। কথাগুলো ঠিকমতো উচ্চারণও করতে পারছি না। কান্নায় বুকটা যেন ফেটে যাচ্ছে। আমি আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম তাকে।

“আমি অনেক বড় ভুল করেছি, রুদ্র। অনেক বড় ভুল। তুমি বারবার সত্যিটা বলতে চেয়েছিলে, আর আমি বারবার তোমাকে থামিয়ে দিয়েছি। তুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলে, অথচ আমি অন্য সবার কথা শুনেছি।”

চোখ বন্ধ করে তার বুকে মুখ গুঁজে দিলাম। কাঁপা কন্ঠে বললাম,

“জানো, আমি নিজেকে খুব ঘৃণা করছি। খুব। কারণ আমি তোমাকে চিনি বলে দাবি করতাম, অথচ সবচেয়ে বেশি অবিশ্বাস আমিই করেছি তোমাকে।”

গলার স্বর ভেঙে এলো।

“তুমি যখন আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলে তুমি নির্দোষ, আমি কেন তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে সত্যিটা খুঁজে দেখিনি? কেন একবারও ভাবিনি যে তুমি মিথ্যা বলতে পারো না?”

আমার চোখের পানি থামার কোনো নাম নেই।

“আমি তোমাকে খুব কষ্ট দিয়েছি, তাই না? আমাকে ক্ষমা করে দেও, আমি আর কখনো তোমাকে অবিশ্বাস করবো না। আমি কতটা পাগল হলে অন্যের কথায় কান দিয়ে তোমাকে অবিশ্বাস করি। আমার নিজেকে অসহ্য লাগছে।

রুদ্র নিরুত্তর রইলো, শুধু আমার জড়িয়ে রাখা হাতদুটো ধরে নিরবে সরিয়ে দিতে চাইলো।আমি মাথা নাড়লাম এবং বললাম,

“না, না,,,, আমি ছাড়বো না, আমি তোমাকে কোথাও যেতে দিবো না। তুমি জানো না তোমাকে ছাড়া আমি কতটা অসহায় হয়ে যাই। আমি যতই নিজেকে শক্ত দেখানোর চেষ্টা করি, ভেতরে ভেতরে আমি সবসময় তোমাকেই খুঁজেছি।”

আমি হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম এবং বললাম,

“আমি তোমাকে ভালোবাসি, রুদ্র। খুব ভালোবাসি। রাগ করেও ভালোবাসি, কষ্ট দিয়েও ভালোবাসি, দূরে গিয়েও ভালোবাসি। আর এই ভালোবাসা থেকে আমি কোনোদিন পালাতে পারিনি।”

বাতাসে আমার ঘোমটাটা উড়ে গেল, কিন্তু সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। কাঁপা হাতে তাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বললাম,

“আমি আর কখনো তোমাকে অবিশ্বাস করবো না। আর কখনো তোমার হাত ছাড়বো না। তুমি চাইলে হাজারবার আমার উপর রাগ করো, আমাকে বকো, কিন্তু প্লিজ,,,, আমাকে ছেড়ে যেও না।”

রুদ্র একটা গভীর শ্বাস নিলো। হাত দুটো যেভাবে ছিলো সেভাবেই আছে, প্রতিবারের মতো আমাকে আর আগলে নেয় নি। আমাকে কিছু বলতে যাবে তার আগেই চোখ পড়লো খানিক দূরে। কপালটায় ভাঁজ পড়লো তক্ষুনি, তারপর আবার দ্রুত মসৃণ হয়ে গেলো। একবার গলা জড়িয়ে ধরে রাখা এবং ক্রন্দনরত আমায় দেখে আবার সামনে তাকালো। তারপর হঠাৎ আমাকে তার বুক থেকে ফট করে দূরে সরিয়ে দিলো। আমি রুদ্রের এই কাজে রাস্তার এক পাশে চলে গেলাম এবং একটা গাছ আঁকড়ে ধরলাম। রুদ্র এমন কেন করলো মাথায় আসলো না। তখনই বিকট একটা আওয়াজে আমার শরীর বিবশ হয়ে গেলো। সেই আওয়াজে পেছন ফিরে তাকাতেই আমার ভবন যেন এলোমেলো হয়ে গেলো। চোখ বড় বড় হয়ে তাকিয়ে রইলাম রুদ্রের দিকে। রুদ্রের বুকে একটা গোল বৃত্তের ন্যায় ক্ষত থেকে গড়িয়ে পড়ছে এক সরু রক্তের রেখা। কেউ গুলি করেছে তাকে। আমার পৃথিবী যেন দুলে উঠলো। গুলি কোথা থেকে এসেছে দেখতে সামনে তাকাতেই দূরে অয়নকে নজরে পড়লো। তখনই অয়ন দ্বিতীয় গুলিটা ছুড়লো এবং সেটা গিয়ে লাগলো রুদ্রের উদরে। আমি তা দেখে চিৎকার করে উঠলাম,

“রুদ্রোওওওও।”

বলে ছুটে এলাম তার কাছে। ততক্ষণে গুলি লাগায় হাঁটু মুড়ে বসে পড়েছে সে। আমি ছুটে এসে রুদ্রের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লাম। দু’হাতে তার মুখটা ধরে কাঁপতে কাঁপতে বললাম,
“না,,, না রুদ্র,,,,”

আমার হাত কাঁপছে, পুরো শরীর কাঁপছে। রুদ্রের শার্ট রক্তে ভিজে যাচ্ছে। আমি কাঁদতে কাঁদতে তার ক্ষতস্থানে হাত চেপে ধরলাম, যেন এভাবে রক্ত থামিয়ে দিতে পারবো।
রুদ্র ব্যথায় মুখ কুঁচকে ফেললো। তবুও তার দৃষ্টি আমার মুখেই স্থির।

দূরে দাঁড়িয়ে অয়ন বাঁকা হাসলো, পিস্তল থেকে তখনও হালকা ধোঁয়া বের হচ্ছে। ধীরে ধীরে সে এগিয়ে এলো এদিকটায়।

আর এদিকে, রুদ্রের মুখ তখন ব্যাথায় নীল হয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে পিচঢালা রাস্তায় সে বসার থেকে পড়ে গেল। আমি কোলে নিলাম তার মাথা। মনে খুব ভয় করছে, এভাবেই তো একদিন বাবা রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আমার কোলে মাথা রেখেছিলো । বাবা তো নেই, রুদ্রের কিছু হবে না তো? আমি কাঁদতে লাগলাম, রুদ্রকে বললাম,
“কিছু হবে না রুদ্র, আমি এক্ষুনি হসপিটালে,,, হ্যাঁ হসপিটালে নিয়ে যাবো তোমাকে। তোমার কিচ্ছু হবে না।”

কিন্তু ততক্ষণে রুদ্রের চোখ বুজে আসতে চাইছে। রাস্তাঘাট রুদ্রের রক্তে মাখামাখি হয়ে গেছে। আমি রুদ্রের গালে আলতো চাপড় দিয়ে বললাম,

“প্লিজ রুদ্র, চোখ বন্ধ করো না।”

রুদ্র আলতো হাসলো সেই অবস্থায়। আমাকে কাঁদতে দেখে বলল,

“তুই না বলেছিস আমি মারা গেলেও তোর কিছু যায় আসে না? তাহলে এখন কাঁদছিস কেন?”

আমি কাঁদতে কাঁদতে বললাম,”প্লিজ রুদ্র এসব এখন না।”

রুদ্র কষ্টে চোখ খুলে রাখার চেষ্টা করলো। ঠোঁটের কোণে এখনও সেই দুর্বল হাসিটা লেগে আছে।

আমি কাঁদতে কাঁদতে তার মাথাটা আরও শক্ত করে বুকে জড়িয়ে নিলাম।

“প্লিজ রুদ্র, কথা বলো না। তোমার অনেক রক্ত পড়ছে।”

রুদ্র ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো।

“রক্ত তো আগেও পড়েছিল আনি,,,.”

আমি থমকে গেলাম। রুদ্র মলিন হেসে বললো,

“সেদিন যখন তুই বলেছিলি আমি খুনি,,,, তখনও অনেক রক্ত পড়েছিল। শুধু কেউ দেখতে পায়নি।”

কথাটা শুনে বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে গেল আমার।

“সরি রুদ্র,,,, আমি খুব সরি”

তারপর চিৎকার দিয়ে বললাম,

“কেউ আছোওওও, প্লিজ হেল্প। কেউ অ্যাম্বুলেন্স ডাকোওও। প্লিজ।”

আমি নিজের ওড়না দিয়ে তখন রুদ্রের ক্ষতের জায়গাটা ধরে রেখেছিলাম, কিন্তু লাভ হচ্ছে না। পাতলা ওড়না এই ভয়ানক রক্তপাত ঠেকাতে অক্ষম। আমি তখনো সাহায্যের জন্য কাউকে ডাকছি, রুদ্র আমার হাত ধরে আমাকে থামিয়ে বলল,

“তোকে কিছু বলবো, মন দিয়ে শুন।”
আকাশের অবস্থাও খারাপ হচ্ছে ‌। ঝড় উঠেছে, যেকোনো সময় বৃষ্টি নামতে পারে। প্রকৃতিও মনে হয় কোনো নতুন রূপে হাজির হয়েছে। রুদ্রের কন্ঠ নিভু নিভু, সে কষ্টে বলল,

“আনি,,,,তোকে আমি ভালোবাসি আর আমার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা অব্দি তোকেই ভালোবাসবো। তোকে নিয়ে আমি অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম, জানি না সেসব পূর্ণ হবে কি না, আমি এটাও জানি না আমি বাঁচবো কি না, তবুও তুই কখনো আমাকে ভুলে যাস না। তুই একটা নতুন জীবন শুরু করিস কেমন?”

আমি কাঁদতে কাঁদতে দু’পাশে মাথা নাড়লাম এবং বললাম,
“প্লিজ এসব বলিও না, তোমার কিচ্ছু হবে না। ”

ততক্ষণে অয়ন ধীরে ধীরে হাঁটতে হাঁটতে এসে পড়েছে আমাদের সামনে। আমাদের দেখে ব্যঙ্গ করে বলল,

“অবশেষে দুজন প্রেমিক প্রেমিকা এক হলো?”

তার মুখ দিয়ে চ সূচক আওয়াজ করে আমাকে বলল,

“কিন্তু এই মিলন পর্ব তো এখানেই শেষ করতে হবে। আনি ভালোয় ভালোয় বলছি রুদ্রের থেকে সরে আয়, আমি তোকে নিয়ে টানাটানি করতে চাইনা।”

অয়নের কথায় তখন আমার ধ্যান নেই, আমার সম্পূর্ণ ধ্যান রুদ্রের উপর। রুদ্রের মুখ মন্ডল কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। চোখ বন্ধ হয়ে আসতে চাইছে। আমি তার গাল চাপড়ে জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করছি, চোখ দিয়ে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে। অয়ন বিরক্তিতে চোখ বুজে আবার খুলে আমার দিকে তাকালো। রুদ্রের শরীরে তখন কোনো শক্তি নেই, পুরোপুরি নিস্তেজ। বিদ্যুৎ চমকালো, তারপর ঝড়ঝড়িয়ে বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। বৃষ্টি ভিজিয়ে দিলো আমাকে, রুদ্রকে , আশেপাশের নির্মল প্রকৃতিকে। অয়ন আমার কোনো নড়চড় না দেখে এগিয়ে এলো এবং আমার হাত ধরে টান দিলো।

অয়ন আমাকে টেনে নিজের দিকে নিয়ে আসতে লাগলো।অয়নের শক্তির সাথে পেরে উঠতে পারছিলাম না, অন্যদিকে আমার হাত অর্ধচেতন রুদ্রের হাতে বন্দি যা অয়নের টানে ধীরে ধীরে ছুটে যাচ্ছে। অয়ন বলতে লাগলো,

“অনেক দেখেছি তোর নাটক, এবার চল। আমাদের বিয়ে করতে হবে আনি। ”

বিয়ের কথা শুনতেই মাথার তালু অব্দি জ্বলে উঠলো। ততক্ষণে রুদ্রের থেকে হাত ছুটে গেছে পুরোপুরি। আমি অয়নের বুক বরাবর সজোরে ধাক্কা মারলাম। যার ফলে অয়ন পিছিয়ে গেলো এবং আমার হাতও ছুটে গেলো। অয়ন আবার আমার হাত ধরতে নিলো আমি এবার সপাতে পাঁচ আঙুলের ছাপ বসিয়ে দিলাম ওর গালে। যার ফলে ও হতবাক , হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল আমার দিকে। আমি ওর দিকে আঙুল উঁচিয়ে বললাম,

“খবরদার!! আমার গায়ে হাত দেয়ার কিংবা আমাকে ছোঁয়ার চেষ্টাও করবি না, নয়তো তোর ঐ হাত ভেঙ্গে দিবো আমি। তুই ভাবলি কি করে তোর মতো উন্মাদ আর পাগলকে বিয়ে করবো আমি? তুই একটা জানোয়ার। কারো ভালোবাসার যোগ্য তুই নস। ভালো তো তৃষাও তোকে বেসেছিলো, তাকে তো মেরে ফেললি, এখন আমার পিছনে ঘুরছিস কেন? আমাকে পাওয়ার এতো নেশা যে আমার বাবাকে তুই ছাড়লি না। ইউ নো হোয়াট, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল তোকে , তোর মতো একটা সাইকোকে নিজের বন্ধু বানানো। বন্ধুত্ব তোর সাথে যায়না, তোর সাথে বন্ধুত্ব করলে তা এই শব্দটারই অপমান। আমি রুদ্রকে ভালোবাসি, সারাজীবন ওকেই ভালোবাসবো। আমার মনে, ইনফ্যাক্ট আমার জীবনে তোর কোনো জায়গা নেই ।”

লম্বা দমে এই কথাগুলো বলে আবারো রুদ্রের কাছে চলে এলাম। অয়ন থমকে দাঁড়িয়ে থাকলো, কানের ভেতর বেজে উঠলো আমার কথাগুলো। চোখের পাতা কাপলো খানিক, তার সাথে তার বুকও। হঠাৎ হাতে থাকা পিস্তলের দিকে তাকালো। তারপর সেটা সোজাসুজি করে ধরলো আমার দিকে। আমি তখন অয়নের থিকে পিঠ করে বসা রুদ্রকে নিয়ে, রুদ্রকে জাগানোর চেষ্টা করছি। ওর জ্ঞান হারানোর দশা, অবস্থা খারাপ হচ্ছে। অয়ন আমার পিঠের দিকে পিস্তল তাক করে বিড়বিড়িয়ে বলল,

“তুই আমার না হলে, আমি তোকে অন্য কারোর হতে দিবো না আনি। লেটস্ ফিনিশ দা গেম।”

#চলবে

(কি করবে আবার এই পাগলা?)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here