এক_মেঘলা_দিনে #পর্ব_২৯

0
1

#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_২৯
#আনিকা_আফসা

ফ্লোরে বসে কাঁদছিলাম তখনই কারো পায়ের আওয়াজ শুনে মুখ তুললাম। মাথা তুলে আপুকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে কান্না ভুলে উঠে দাঁড়ালাম। আপুকে কেমন যেন লাগছে। মাথার চোট নজরে আসতেই বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

“কি হয়েছে তোমার আপু?”

আপু আমার কাছে এসে আমার দুই বাহু ধরে জিজ্ঞেস করলো,

“আমরা একটা বড় ভুল করে ফেলেছি। অনেক বড় একটা ভুল করেছি।”

আমি বিচলিত গলায় বললাম,”ক,,কি ভুল? ”

আপু বলল,” তুই অয়নকে বিয়ে করিস না আনি। ও ভালো না।”

আমি কপাল কুঁচকে বললাম,”আমি কিছু বুঝছি না, কি বলছো তুমি?”

তখনই বাইরে থেকে শোনা গেলো,”বর এসেছে, বর এসেছে” কথাটা। এতে আপু আরো বিচলিত হয়ে বলল,

“দেখ অয়ন এসে গেছে, তুই এই বিয়ে করিস না। ত,,,,তুই পালিয়ে যা।”

আমি কপাল কুঁচকে বললাম,” কি বলছো টা কি?

আপু গভীর শ্বাস ফেলে বলল,

“শোন, আমি তোকে যা বলছি তা মনোযোগ দিয়ে শোন।”

আমি মাথা নাড়লাম। আনিশা আপু বলল,

“রুদ্র খুনি নয়।”

আমি যেন পাথর হয়ে গেলাম।
“ক,,কি বললে?”

আমার গলা কেঁপে উঠলো। আপু চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে বলল,
“রুদ্র খুনি নয়, আনি। আমরা সবাই ভুল বুঝেছি।”

মুহূর্তের মধ্যে চারপাশটা ঝাপসা হয়ে গেলো। বুকের ভেতরটা ধকধক করছে।

“তুমি এসব কি বলছো? আমি নিজের চোখে দেখেছি রুদ্র,,,

আপু আমাকে শক্ত করে ধরে বলল,”চুপ কর!! মাথা দিয়ে নয় মন দিয়ে বিচার কর আনি। একটু ভাব। রুদ্রকে তুই আজ থেকে নয় বরং আরো আগে থেকে চিনিস , তোর এসব মনে হয়?”

আমি থমকে গেলাম। কথা যেন আঁটকে আসছে। ভাঙ্গা গলায় বললাম,

“সব খুলে বলো না আপু, আমি আর সত্যি পারছি না। জানো রুদ্র এসেছিলো আমার কাছে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না ওকে। ওকে চাচ্ছি বিশ্বাস করতে কিন্তু বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে সেই দৃশ্য।”

আমার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। আপু আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি হঠাৎ বললাম,

“তোমার এই অবস্থা কিভাবে হয়েছে?”

আপু নিষ্প্রাণ গলায় বলল, “অয়ন করেছে।”

আমি অবাক হয়ে বললাম,”অয়ন?”

আপু মাথা নাড়লো এবং কালকের সমস্ত ঘটনা ধীরে ধীরে খুলে বলল। সব শুনে আমি হতবাক হয়ে গেলাম। মাথাটা কাজ করা বন্ধ হয়ে গেলো। ( যদিও আমার মাথা কোনো সময়ই কাজ করেনি 🙂)। আমার হাত ঠকঠক করে কাঁপতে লাগলো। চোখের সামনে ভাসতে লাগলো আগেকার সব দৃশ্য, যেন নিজের করা ভুলগুলোকে এক চুটকিতে চোখের সামনে তুলে ধরেছে কেউ। আমি কাঁপা স্বরে বললাম,

“কিহ্? অ,,অয়ন এসব করেছে?”

আপু মাথা নাড়লো এবং বলল,” তোর বান্ধবী তৃষাও আর নেই। দুনিয়ার মায়া ছেড়ে চলে গিয়েছে বহুদূরে। অয়ন ওকে কি যেন খাইয়েছে, কারণ আমাদের বাবাকে মারার এই প্ল্যানে তৃষাও কিছু অংশে কাজ করেছে। তবে ও জানতো না বাবাকে মারার বিষয়ে।”

আমি হাত দিয়ে মুখ চেপে ফুঁপিয়ে উঠলাম। তৃষার মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠলো। কত স্মৃতি, কত হাসি, কত অভিমান, সবকিছু যেন এক মুহূর্তে বুকের ওপর ভেঙে পড়লো।

“না, এটা হতে পারে না। তৃষা,,, তৃষা কিভাবে,, এটা হতে পারে না। ওকে কিভাবে অয়ন মারতে পারে? আমাদের বন্ধু ছিলো ও।

আমার গলা ভেঙে আসছিল। আনিশা আপু চোখ নামিয়ে বলল,
“তোর জন্য ও বন্ধু কিন্তু তখন অয়নের জন্য ওর পথের কাঁটা ছিলো। অয়ন কখনোই কাউকে বিশ্বাস করতো না। যে তার জন্য বিপদ হতে পারে, তাকে সে নিজের পথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছে।”

আমি স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এতদিন ধরে যাকে ভদ্র, শান্ত আর ভালো মানুষ ভেবেছি, সে এত বড় একটা মুখোশ পরে ছিল! হঠাৎ আমার মনে পড়ে গেলো রুদ্রের কথা। তার অসহায় চোখ। তার কণ্ঠের আকুতি। বারবার বলা সেই কথাটা,
“আমি খুনি নই, আনি।”

আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো।
“আমি,,,আমি রুদ্রকে বিশ্বাস করিনি,,,,”

কথাটা বলতে গিয়েই কান্নায় ভেঙে পড়লাম।
আনিশা আপু আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
“তুই তখন যা দেখেছিস, তাতে ভুল বুঝাটাই স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু এখনো সময় আছে সব ঠিক করার।”

আমি মাথা নেড়ে বললাম,”কিছু ঠিক হবে না, রুদ্র আমাকে ক্ষমা করবে না। আমি অনেক বড় ভুল করেছি। আমি এসব কিভাবে করলাম? ”

আনিশা আপু আমার দু’কাঁধ শক্ত করে ধরে বলল,

“ভুল মানুষই করে, আনি। কিন্তু সবাই নিজের ভুল স্বীকার করার সাহস পায় না। তুই অন্তত বুঝতে পেরেছিস যে তুই ভুল করেছিস।”

আমি মাথা নাড়লাম।

“না আপু, তুমি বুঝছো না। আমি শুধু ওকে অবিশ্বাস করিনি। আমি ওকে এমন কথা বলেছি যেগুলো কোনোদিন বলা উচিত ছিল না। ও যখন বারবার নিজের নির্দোষ হওয়ার কথা বলছিল, আমি তখন ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম আমি ওকে ঘৃণা করি।”

শেষ কথাটা বলতে গিয়েই গলাটা আবার কেঁপে উঠলো।

“আমি ওর চোখের সেই দৃষ্টিটা এখনো ভুলতে পারি না। মনে হচ্ছিল কেউ যেন ওর বুকের ভেতরটা ছিঁড়ে ফেলছে।”

আপু কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর বললেন,”দেখ আনি, আমি বুঝতে পারছি তোর অবস্থা‌। কিন্তু এখন এসবের সময় নেই। অয়ন এসে পড়েছে, তুই ভাবতে পারছিস না ও ঠিক কতটা ভয়ংকর হয়ে গেছে। তোকে পাওয়ার জন্য যা কিছু করতে পারে। আমি দেখেছি কাল ওর সেই রুপ। তুই প্লিজ রুদ্রের কাছে ফিরে যা। তোর কথা মতে রুদ্র এসেছিলো, এখন নিশ্চয়ই দেরি হয়ে যায়নি।”

আমি ছলছল চোখে বললাম,”ও যদি আমায় ক্ষমা না করে।”

আপু হালকা তেজি স্বরে বলল,”ও যদি ক্ষমা না করে, ক্ষমা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবি। ভালোবাসার মানুষের জন্য অপেক্ষা না করতে পারলে কিসের ভালোবাসলি?”

আনিশা আপুর কথাটা শুনে আমার চোখ থেকে আবারও টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো।

আমি নিচের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বললাম,

“কিন্তু আপু, ভালোবাসা থাকলেই তো সব ঠিক হয়ে যায় না। আমি ওকে যে কষ্ট দিয়েছি, সেটা কি কোনোদিন মুছে যাবে? আমি ওর সবচেয়ে খারাপ সময়ে ওর পাশে দাঁড়াইনি। বরং সবাই যখন ওকে দোষী ভাবছিল, তখন আমিও ওদের দলে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম।”

আনিশা আপু গভীর শ্বাস ফেলল এবং বলল,

“তুই একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছিস আনি। তুই যা দেখেছিলি, তাতে যে কেউ ভুল বুঝতো। তুই তখন যেটাকে সত্যি ভেবেছিলি, সেটাকেই বিশ্বাস করেছিলি।”

আমি তিক্ত হেসে বললাম,

“তবুও তো আমি বিশ্বাস করিনি ওকে। ও বারবার বলেছিল ও নির্দোষ। কিন্তু আমি শুনিনি।”

“হ্যাঁ, শুনিসনি। কারণ তুই তখন ভেঙে পড়েছিলি। নিজের বাবার মৃত্যুর শোকের মধ্যে ছিলি। এমন অবস্থায় মানুষ সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।”

আমি চুপ করে রইলাম। আনিশা আপু আবার বলল,

“আর একটা কথা বল তো, রুদ্র যদি সত্যিই তোর প্রতি রাগ করে থাকতো, তাহলে এতদিন পরেও কেন ফিরে আসতো? কেন বারবার তোকে সত্যিটা বোঝানোর চেষ্টা করতো? কেন তোর সামনে দাঁড়িয়ে নিজের নির্দোষতার প্রমাণ দিতে চাইতো?”

আমি উত্তর দিতে পারলাম না। কারণ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার কাছেও ছিল না। আপু মৃদু হেসে বলল,

“কারণ ও তোকে ভালোবাসে, আনি। সত্যিকারের ভালোবাসা শুধু সুখের সময় পাশে থাকা না। ভুল বোঝাবুঝি, অভিমান আর কষ্টের মধ্যেও কাউকে ধরে রাখার নামই ভালোবাসা।”

আমার বুকের ভেতরটা হালকা কেঁপে উঠলো। আমি কাঁপা গলায় বললাম,

“কিন্তু যদি ও আমাকে আর না চায়?”

“সেটা ওর সিদ্ধান্ত। কিন্তু তুই কি একবারও সুযোগ না দিয়ে আগে থেকেই হেরে যেতে চাস?”

আমি মাথা নিচু করে ফেললাম। আপু আমার চিবুক তুলে বলল,

“শোন, ক্ষমা চাওয়া মানে নিজেকে ছোট করা না। নিজের ভুল স্বীকার করার মতো সাহস সবার থাকে না। তুই যদি সত্যিই মনে করিস তুই ভুল করেছিস, তাহলে গিয়ে ওর সামনে দাঁড়া। ওর চোখের দিকে তাকিয়ে সব কথা বলে দে। তারপর সিদ্ধান্ত ওর ওপর ছেড়ে দে।”

আমার চোখ আবার ভিজে উঠলো।

“যদি ও আমাকে ফিরিয়ে দেয়?”

আনিশা আপু আমার কপালে আলতো করে হাত রেখে বলল,

“তাহলে তুই অন্তত সারাজীবন এই আফসোস নিয়ে বাঁচবি না যে চেষ্টা করিসনি। আর আমি রুদ্রকে যতটুকু চিনেছি, আমার বিশ্বাস ও তোর রাগ করে থাকতেই পারবে না, দেখিস।”

আমি ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকানোর চেষ্টা করলাম। আপু আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বলল,

“ভালোবাসা মানে শুধু কাউকে পাওয়া না, আনি। ভালোবাসা মানে তার কাছে সত্যিটা পৌঁছে দেওয়া। তুই আগে নিজের মনের কথা ওকে বল। তারপর যা হওয়ার হবে।”

আমি আপুর বুকে মুখ লুকিয়ে চোখ বন্ধ করলাম।

অনেকদিন পর মনে হলো বুকের ভেতরের ভারটা একটু হলেও হালকা হয়েছে। বাইরে থেকে তখন কিছু আওয়াজ শোনা গেলো। আপু আমাকে নিজের থেকে সরিয়ে বলল,

“যা আনি, এক্ষুনি চলে যা তোর রুদ্রের কাছে। তারপর যা হবে দেখা যাবে। হাতে সময় খুব কম, প্লিজ তাড়াতাড়ি যা।”

আমি বললাম,”অয়ন তোমাদের ক্ষতি করলে?”

আপু বিরক্ত হয়ে বলল,”তুই যাবি? এসব ভাবার জন্য আমি আছি, আমি এক্ষুনি পুলিশে ইনফর্ম করছি। যা তুই প্লিজ।”

আমি মাথা নাড়লাম। তারপর লেহেঙ্গা হালকা উঁচু করে সামনে অগ্রসর হলাম। দরজায় আসতেই পেছনে ফিরে আপুকে আরেকবার দেখে লম্বা একটা দম নিয়ে ছুটতে শুরু করলাম। মিশন রুদ্র!!

*******

অয়ন এসে বসেছে ডিভানে। সবকিছুর চাইতে তার বিয়েতে ধ্যান একটু বেশি। বরবেশে বেশ সুন্দর লাগছে তা বলতে হয়। চারপাশে অতিথিদের মেলা, আছেন অয়নের বাবা – মাও। কাজী সাহেব এসে কি সব লেখালেখি করছেন। কনেকে নিয়ে আসতে গিয়েছে সানভিসহ কিছু মেয়ে।

অয়ন ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি নিয়ে চারপাশে তাকালো। আজকের দিনের জন্য সে অনেকদিন অপেক্ষা করেছে। অবশেষে আনি তার হতে চলেছে, অন্তত সে তাই ভেবেছে।

হঠাৎ তার ফোনটা কেঁপে উঠলো। স্ক্রিনে একটা মেসেজ ভেসে উঠতেই তার মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। মেসেজটা পড়ে অয়নের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠলো।

“আনিশা পালিয়ে গেছে স্যার।”

অয়নের চোখ দুটো বিপজ্জনকভাবে সরু হয়ে এলো। সে দ্রুত চারপাশে তাকালো।
ঠিক তখনই সানভি আর বাকি মেয়েগুলো দৌড়ে নিচে নেমে এলো। তাদের মুখ দেখে অয়নের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো। ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন করলো সে,

“আনি কোথায়?”

সানভি ইতস্তত করে বলল,

“অয়ন,,,, আনি রুমে নেই।”

চারপাশের কথাবার্তা মুহূর্তের মধ্যে থেমে গেল।
অয়নের বাবা অবাক হয়ে বললেন,

“মানে? কনে রুমে নেই মানে?”

সানভি ভীত গলায় বলল,

“আমরা গিয়ে দেখি রুম ফাঁকা।”

এক মুহূর্তের জন্য পুরো বাড়িতে নীরবতা নেমে এলো। আমার মা এসে বললেন,

“কি বলছো মা? ফাঁকা মানে? আমার মেয়ে কোথায়?”

অয়নের মা বলল,”সেটা তো আপনি বলবেন। এমন ভরা বাড়িতে এভাবে আমাদের অপমান করানোর মানে কি? নিশ্চয়ই আপনার মেয়ে পালিয়ে গেছে।”

অয়ন হঠাৎ ডিভান থেকে উঠে দাঁড়ালো। তার চোখেমুখে এমন এক ভয়ংকর রাগ ফুটে উঠলো যে আশেপাশের সবাই কেঁপে উঠলো।

“অসম্ভব।”

সে দাঁত চেপে বলল,

“ও কোথাও যেতে পারবে না।”

অয়নের মা উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন,

“কি হয়েছে বাবা?”

কিন্তু অয়ন কোনো উত্তর দিল না। তার মাথার ভেতর তখন একটাই নাম ঘুরছে,

রুদ্র।

সে মুঠো করে ফোনটা চেপে ধরলো। তখনই ফোনটা বেজে উঠলো। আরিফের ফোন। অয়ন কল ধরেই জিজ্ঞেস করলো,

“রুদ্র কোথায়?”

আরিফ জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো এবং বলল,

“স্যার ঐ রুদ্রের জামিন হয়ে গেছে। কে যেন করে দিয়েছে জামিন। আমি তখন ছিলাম।”

অয়ন কিছু বলল না , শুধু ফোনটা কেটে দিলো নিঃশব্দে। মনে মনে বলল,

“তাহলে শেষ পর্যন্ত তুইই মাঝখানে এলি, রুদ্র।”

তার ঠোঁটের কোণে একটা বিপজ্জনক হাসি ফুটে উঠলো। পরের মুহূর্তেই সে কয়েকজন লোককে ফোন করলো।

“চারপাশের সব রাস্তা চেক করো। স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, হাইওয়ে, সব জায়গায় খোঁজ লাগাও।”

ওপাশ থেকে কিছু একটা বলা হলো। অয়ন নিচু গলায় বলল,

“আনিকে আমি যেভাবেই হোক খুঁজে বের করবো।”

নিজের মনে বলে, উচ্চস্বরে বলল,

“এই কে কোথায় আছিস? দ্রুত গাড়ি বের কর।”

অয়নের লোকেরা বের হয়ে এলো, যারা অনুষ্ঠানে মিশে ছিলো। তারা আদেশ পালন করতে দ্রুত এগোলো। অয়ন ওদের পিছু নিলো। আমার মা চিন্তিত হলেন, কি হবে তারপর? অয়নের এই রুপ অচেনা লাগছে তার কাছে।

ওপর থেকে আনিশা দেখলো সব। মনে কু ডাকতে লাগলো, সব যেন ঠিক হয়। আনি যেন রুদ্রের কাছে সেফলি পৌঁছাতে পারে।

গাড়ি নিয়ে আসা হলে সবাইকে সরিয়ে অয়ন নিজে উঠে বসলো একা। একজনকে ইশারা করতেই শার্টের নিচের থেকে একটা পিস্তল নিয়ে, এগিয়ে দিলো তার দিকে। অয়ন সেটা নিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলো। তার মনে ঘুরছে আনির কথা। মনে মনে ক্ষুব্ধ হলো বেশ।
তার চোখে তখন আর কোনো ভালোবাসা ছিল না।ছিল শুধু উন্মত্ততা।

#চলবে

(সরি দেরি হয়ে গেল, বাসায় মেহমান এসেছিলো)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here