#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_২৮
#আনিকা_আফসা
রুদ্রকে এখনও জড়িয়ে ধরে আছি, চোখ দুটো বন্ধ। সেই বন্ধ চোখ দিয়েই অনবরত পানি ঝড়ছে। হঠাৎ মস্তিষ্কের নিউরন জানিয়ে দিলো সমস্ত কিছু। মনে পড়ে গেলো যে রুদ্র খুনি। আমার বাবার খুনি। মনে পড়ে গেলো সেই তিক্তময় দৃশ্য। আমার বাবা পিচঢালা রাস্তায় পড়ে আছে , চারিপাশ রক্তে মাখামাখি এবং ছুরিটা রুদ্রের হাতে , বাবার পেট থেকে টেনে বের করছে সে। সেই দৃশ্য মনে পড়তেই চোখ মেলে তাকালাম। পরপরই মনে পড়লো অয়নের কথাটা,
“সেদিন তো বিয়ের বিপক্ষে আঙ্কেল ছিলো, আর আজ পুরো পরিবার। রুদ্র আঙ্কেলকে মেরে ফেলেছে, এখন যদি পুরো পরিবারকে মেরে ফেলে? তখন খুব ভালো হবে তাইনা?”
কথাগুলো কানে বাজতেই রুদ্রকে নিজের থেকে ঠেলে সরিয়ে দিলাম আমি। রুদ্র আমার আকষ্মিক এই কাজের জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলো না , যার ফলে দু কদম পিছিয়ে গেলো। আমি অশ্রু ভেজা চোখে তাকিয়ে বললাম,
“কেন এসেছেন আপনি? আমার বাবাকে মেরে শান্তি হয় নি? এখন কি আমার পুরো পরিবারকে শেষ করে দিতে এসেছেন আপনি?”
আমার কথা শুনে রুদ্র করুণ চোখে তাকালো আমার দিকে এবং বলল,
“আমি তোমার বাবাকে মারিনি, বিশ্বাস করো। আর তুমি বিয়ে করছো? এতটা অবিশ্বাস করো আমাকে? এই বিয়ের পোশাক আরেকজনের জন্য পড়েছো? একবারও আমার কথা মনে পড়েনি? তোমার ধারণা আছে তোমার বিয়ের কথা শুনে কতটা ঝড় গেছে আমার উপরে? কতটা খারাপ লেগেছে?”
আমি নিচের দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলাম এবং আবার রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বললাম,
“খারাপ লেগেছে? আর আপনি যখন আমার বাবাকে হত্যা করেছেন তখন আমার খারাপ লাগার কথা মনে পড়েনি আপনার? তখন মনে হয়নি আমি কষ্ট পাবো?”
রুদ্র চোখ খিচে নিলো। এইসব মিথ্যা অপবাদ বিষবাক্যের মতো বিঁধছে কানে। তবুও এখন আমাকে বোঝাতে হবে। রুদ্র চোখ খুলে ধরা গলায় বলল,
“দেখ আনি, আমি খুন করিনি। আমাকে তুই মেসেজে ঐ জায়গায় আসতে বলেছিলি। আমি ওখানে গিয়েই দেখি আঙ্কেল মাটিতে পড়ে আছে। পেটে চাকু, অসহায়ভাবে কাতরাচ্ছে। আমি তখনই দৌড়ে যাই , আর তার কষ্ট হচ্ছিল তাই চাকুটা টেনে বের করেছিলাম। আমার কাছে এখন মোবাইল নেই নাহলে তোকে দেখাতাম আমি সেই মেসেজ।”
“হুম, আর এই মোবাইল না থাকার ফায়দা খুব ভালো ভাবেই কাজে লাগাচ্ছেন। আজ আমার বিয়ে, আর আমি বিয়েটা করছি। আপনি এখন এসব বলে আমার মন গলাতে পারবেন না। চলে যান এখান থেকে।”
রুদ্র ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলল। জানতো ওর কোনো কথায় কাজে দিবে না কারণ এখন আমার চোখে সে খুনি আর একটা খুনির কথা কেউ নিশ্চয়ই বিশ্বাস করবে না। তখন আমার মাথায় বাজছে অয়নের কথা। অয়ন আমার মাথাটা হ্যাং করে দিয়েছে। তাই তার কথার ভেতরের জালটা আমি ধরতেই পারছিলাম না। রুদ্র বলল,
“তারমানে তুই আমার কথা শুনবি না?”
আমি দৃঢ়ভাবে বললাম,”না।”
আমার উত্তর শুনে রুদ্র কয়েক সেকেন্ড নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর হঠাৎ যেন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল।
“ঠিক আছে। তুই যখন আমার কথা বিশ্বাস করছিস না, তখন এখানে আর এক মুহূর্তও থাকবি না।”
আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম এবং বললাম,
“মানে?”
“মানে তুই আমার সাথে চলবি।”
আমি অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকালাম এবং বললাম,
“আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন?”
“হয়তো। কিন্তু তোকে এই বিয়ে করতে দেবো না।”
আমি রাগে ফেটে পড়লাম, রুক্ষ স্বরে বললাম,
“আপনি কে আমাকে আটকানোর?”
“যে লোকটা জানে তুই ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছিস।”
“আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবার দরকার নেই আপনার।”
বলে আমি দরজার দিকে এগোতে গেলাম। কিন্তু রুদ্র আমার আগে গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল।
“সরে দাঁড়ান।”
“না।”
“আমি চিৎকার করব।”
“কর।”
আমি ক্ষুব্ধ হয়ে বললাম,
“আপনার সাহস কীভাবে হয়?”
রুদ্রও এবার গলা উঁচু করল,
“আর তোর সাহস কীভাবে হয় আমাকে খুনি বলে দাগিয়ে দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করতে যাওয়ার?”
“কারণ আমি নিজের চোখে দেখেছি!”
“আর আমি হাজারবার বলেছি তুই যা দেখেছিস, তার পেছনের সত্যিটা জানিস না!”
ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে এলো। আমরা দুজনই হাঁপাচ্ছি। আমি আবার বললাম,
“সরে দাঁড়ান।”
রুদ্র ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল এবং বলল,
“না। আজ না। আজ তোকে আমার কথা শুনতেই হবে।”
“জোর করে?”
“প্রয়োজন হলে তাই।”
আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। রুদ্র গম্ভীর গলায় বলল,
“আমি তোকে কোনো ক্ষতি করব না। কিন্তু তোকে এই বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে সত্যিটা দেখাবো। তারপর যদি তুই নিজে থেকে ফিরে এসে এই বিয়ে করতে চাস, আমি আর কখনও তোর সামনে আসব না।”
“আমি কোথাও যাব না।”
” তোকে যেতে হবে, চল।”
এই বলে আমার হাত ধরলো এবং টেনে নিয়ে যেতে নিবে তখনই খেয়াল করলো তার দেয়া আংটি আমার হাতে নেই। রুদ্র তা দেখে থমকে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
“আমি তো তোকে এই আঙ্গুলে আংটি পরিয়ে দিয়েছিলাম, সেটা কোথায়?”
আমি তাকালাম আঙ্গুলের দিকে , তারপর রুদ্রের দিকে। হঠাৎ বললাম,
“ফেলে দিয়েছি।”
কথাটা বলেই আমি মুখ ফিরিয়ে নিলাম।
রুদ্র যেন কয়েক সেকেন্ড বুঝতেই পারলো না আমি কী বলেছি। তারপর ধীরে ধীরে আমার হাতটা ছেড়ে দিলো।
“ফেলে দিয়েছিস?”
আমি ঠান্ডা গলায় বললাম,
“হ্যাঁ।”
“কোথায়?”
“মনে নেই।”
কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ হলো না। ঘরটা অদ্ভুত নীরব হয়ে গেল। আমি ধীরে ধীরে তাকিয়ে দেখলাম রুদ্র স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ দুটো আমার খালি আঙুলের উপর স্থির।
যে আঙুলে একদিন নিজের হাতে আংটিটা পরিয়ে দিয়েছিল সে।
রুদ্র শুকনো গলায় বলল,
“ফেলে দিয়েছিস?”
আমি ঠান্ডা স্বরে বললাম,
“বললাম তো, হ্যাঁ।”
“কবে?”
“যেদিন বুঝেছি একজন খুনির দেওয়া জিনিস আমার কাছে রাখার কোনো মানে নেই।”
কথাটা বলেই বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। জানি না কেন। রুদ্র আর কিছু বলল না। শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। কিন্তু সেই হাসির মধ্যে আনন্দের লেশমাত্র ছিল না। ছিল শুধুই ভাঙাচোরা কষ্ট।
“বুঝলাম।”
তারপর ধীরে ধীরে মাথা নাড়ল এবং বলল,
“আসলে দোষটা আমারই।”
আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম।
রুদ্র ফাঁকা চোখে বলল,
“আমি তোকে নিয়ে ভাবতাম কেউ না বুঝুক , তুই অন্তত বুঝবি আমাকে। তোর জন্য আংটিটা অনেক শখ করে কিনেছিলাম আনি। আংটিটা দেখেই মনে হয়েছিলো এটা শুধু তোর জন্য তৈরি। তোকে বলেছিলাম এটা আমার ভালোবাসা, কখনো খুলবি না হাত থেকে। কিন্তু তুই তো ফেলেই দিলি , আংটির সাথে মন থেকে আস্ত মানুষটাকেই।”
আমি কিছু বললাম না। রুদ্র ধীরে ধীরে বলল,
“জানিস আনি, মানুষ যখন কাউকে ভালোবাসে তখন তার দেওয়া ছোট্ট একটা জিনিসও ফেলে দিতে পারে না। অথচ তুই পুরো মানুষটাকেই ফেলে দিয়েছিস।”
তার গলাটা কেঁপে উঠল শেষ কথাটায়। আমি চোখ সরিয়ে নিলাম। কেন জানি তার দিকে তাকাতে কষ্ট হচ্ছিল। রুদ্র হঠাৎ আমার হাত আগলে ধরলো তার দুই হাত দ্বারা। অসহায় হয়ে বলল,
“প্লিজ বিয়েটা করিস না আনি। তোকে অন্য কারো সাথে সহ্য করতে পারি না আমি। তুই অন্য কারো হলে আমি মরে যাবো।”
বড় অসহায় শোনালো তার এই স্বর। কিন্তু বাবার কথা মনে হতেই নিজেকে শক্ত করলাম। অয়নের কথামতো যদি রুদ্র আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি করে তাহলে কি হবে? তাই আগপিছে না ভেবে বললাম,
“আপনি মারা গেলেও আমার কিছু যায় আসে না।”
কথাটা সোজা গিয়ে বিধলো রুদ্রের বুকে। মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। আমার ধরে থাকা হাতদুটো আলাদা হয়ে গেলো।
কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো সে। তারপর নিচু স্বরে বলল,
“এতটাই ঘৃণা করিস আমাকে?”
আমি মুখ ফিরিয়ে নিলাম এবং বললাম,
“ঘৃণা না করলে কি একজন খুনিকে ভালোবাসবো?”
রুদ্র চোখ বন্ধ করে ফেলল। মনে হলো কথাটা ওর ভেতরের শেষ শক্তিটুকুও ভেঙে দিলো। কিছুক্ষণ পর মৃদু হেসে বলল,
“জানিস আনি, জেলে থাকার সময় একটা জিনিস আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।”
আমি চুপ। রুদ্র নিজের মতো বলল,
“ভাবতাম, সবাই বিশ্বাস না করলেও তুই একদিন বিশ্বাস করবি। একদিন আমার কথা শুনবি।”
তার কণ্ঠ ধীরে ধীরে ভেঙে আসছিল। রুদ্র একটা শ্বাস নিয়ে আবার বলল,
“কিন্তু আজ বুঝলাম, আমি ভুল ছিলাম।”
আমার বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে মোচড় দিয়ে উঠলো। রুদ্র আমার দিকে তাকালো। সেই চেনা চোখ দুটোতে আজ কোনো রাগ নেই, কোনো জেদ নেই। শুধু গভীর ক্লান্তি।
“আমি তোর কাছে হেরে গেছি আনি।”
আমি ঠোঁট কামড়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। চোখ জলে টইটুম্বর। রুদ্র মৃদু মাথা নাড়ল এবং আবার বলল,
“আর হয়তো নিজের ভাগ্যের কাছেও।”
তারপর ধীরে ধীরে দরজার দিক থেকে সরে দাঁড়ালো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ আগেও যে মানুষটা আমাকে নিয়ে যেতে চাইছিল, সেই মানুষটাই এখন পথ ছেড়ে দিয়েছে।
দরজার কাছে গিয়ে আবার থামলো সে। পেছন ফিরে তাকালো না।
শুধু বলল,
“ভয় পাস না। আমি তোর বিয়ে বন্ধ করবো না।”
আমার বুকটা কেঁপে উঠলো। রুদ্র আবার বলল,
“যার জীবনে আমার কোনো মূল্য নেই, তার জীবনে জোর করে থাকারও কোনো অধিকার নেই আমার।”
তার গলাটা ভারী হয়ে এলো এবং সে সুধালো
“তুই সুখে থাকিস আনি। সত্যি বলছি, সুখে থাকিস।”
প্রথমবারের মতো আমার গলায় যেন কথা আটকে গেলো। রুদ্র কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে তাকিয়ে রইলো,
পরের মুহূর্তেই দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে গেলো সে।
আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর ধীরে ধীরে বসে পড়লাম মেঝেতে। ধীরে ধীরে ফুঁপিয়ে উঠে ঝড়ঝড়িয়ে কেঁদে দিলাম। গলার মোটা হারের নিচ থেকে বের করলাম একটা পাতলা ও চিকন চেইন, যার সাথে ঝুলিয়ে রাখা রুদ্রের দেয়া সেই আংটি। মা গতকাল আংটি খুলতে বলায় এই চেইনের সাথে রেখেছিলাম আমি, যাতে মা না দেখে। আমি সেই আংটি টায় চুমু খেয়ে বললাম,
“আপনি হাজার বছর বাঁচুন রুদ্র, আপনার মরণ দেখার আগে যেন আমার মরণ হয়।”
**********
নিহান দ্রুত একটা লোহার রড দিয়ে তালাটা ভেঙ্গে ফেলল। নিকি পিছনে দাঁড়িয়ে। মাথায় প্রশ্নরা জটলা পাকাচ্ছে। নিহান রড ফেলে দ্রুত দরজা খুলে ফেললো। দরজা খুলে আনিশার মুখমন্ডল দৃশ্যমান হতেই নিহান থমকে গেলো। শরীরে সেই গাঁয়ে হলুদের লেহেঙ্গা , যেটা ধুলায় জর্জরিত, মুখ শুষ্ক আর চুল উষ্কুখুষ্ক এবং কপালের এক সাইডে রক্ত শুকিয়ে আছে। নিহান আনিশার কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো ওকে। আনিশাও জড়িয়ে ধরলো। নিহান আনিশার কপালে চুমু খেলো এবং আনিশাকে ছেড়ে বলল,
“তুই? এখানে কি করে?”
নিকি পিছনে এসে দাঁড়ালো, তারপর আবার পিছনে তাকালো, পাছে গার্ড দুটো না আবার এসে পড়ে। আনিশা লম্বা দম নিলো এবং বলল,
“সেসব কথা পড়ে হবে নিহান। এখন আমাকে যেতে হবে নয়তো বড় একটা ঝামেলা হয়ে যাবে।”
নিহান ভ্রু কুঁচকে বলল,”যাবি মানে কোথায় যাবি? তোর মাথায় চোট লাগলো কিভাবে? আর এই অবস্থা কেন তোর? আর তুই এখানে কি করছিস?”
আনিশা হাঁপিয়ে বলল,”তোমার সব প্রশ্নের উত্তর পড়ে দিবো। হাতে সময় খুবই কম , এখন আমাকে যেতে হবে। থ্যাংকস আমাকে মুক্ত করার জন্য।”
এই বলে নিহানকে পাশ কাটিয়ে লেহেঙ্গা দুই হাত দিয়ে হালকা উঁচু করে ধরে দৌড়াতে লাগলো আনিশা। নিহান ও নিকি একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। নিকি বলল,
“আমাদের এখান থেকে যাওয়া উচিত। বাইরে চল, ঐ বলদ দুইটা এসে পড়তে পারে।”
নিহান আনিশার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়লো। তারপর তারা ঐ জায়গার থেকে সরে গেলো। পেছনের গার্ডেন এরিয়ায় এলো। মিনিট পাঁচেক পর রুদ্রের দেখা পেলো তারা। চোখ মুখ লাল হয়ে আছে এবং তাকে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে। নিহান রুদ্রকে একা দেখে বলল,
“কিরে? আনি কোথায়? ওকে না নিয়ে আসতে গেলি?”
রুদ্র শক্ত মুখে বলল ,
“কেউ আসবে না।”
নিকি ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কেউ আসবে না মানে? কি হয়েছে? দৃঢ়ভাবে গেলি ওকে নিয়ে আসতে পারলি না?
রুদ্র কোনো উত্তর দিলো না।
নিহান এবার ভালো করে ওর মুখের দিকে তাকালো। চোখ দুটো রক্তবর্ণ, মুখটা অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে। মনে হচ্ছে কয়েক মিনিটেই মানুষটা কয়েক বছর বয়সী হয়ে গেছে।
“আনি কিছু বলেছে?”
রুদ্র তিক্ত হেসে ফেললো এবং বলল,
“অনেক কিছু বলেছে।”
নিহানের বুকটা ধক করে উঠলো এবং বলল,
“কি বলেছে?”
রুদ্র কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
“বলেছে আমি মরে গেলেও ওর কিছু যায় আসে না।”
কথাটা শুনে নিহান আর নিকি দুজনেই থমকে গেল। কয়েক সেকেন্ড কেউ কোনো কথা বলতে পারলো না।
রুদ্র নিচের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো এবং বলল,
“মজার না? আমার ভালোবাসার মানুষ আমাকে মরে যেতে বলেছে।”
নিহান ধীরে ধীরে বলল,
“আনি রাগের মাথায় বলেছে।”
“না।”
রুদ্র মাথা নাড়লো এবং বলল,
“রাগের মাথায় মানুষ মনের কথাই বলে।”
নিকি বিরক্ত হয়ে বলল,
“এইসব নাটক বন্ধ কর। আনি এখনো মনে করে তুই আঙ্কেলকে খুন করেছিস। ওই অবস্থায় ওর কাছ থেকে আর কী আশা করেছিলি?”
রুদ্র কোনো জবাব দিলো না তারপর হঠাৎ বলল,
“আর কিছু আশা করি না।”
নিহান রুদ্রের কাঁধে হাত রাখলো এবং বলল,
“তুই হার মানছিস?”
রুদ্র ম্লান হেসে বলল,
“মানুষ তখনই লড়ে যখন জেতার সম্ভাবনা থাকে।”
নিকি বলল,
“তুই এভাবে চলে যেতে পারিস না। ও একটা গাধা, ওকে বোঝাতে হবে তো।”
রুদ্র নিকির দিকে তাকিয়ে বলল,
“যে বুঝতেই চায়না তাকে বোঝানো যায় না নিকি। যাই হোক, সব শেষ হয়ে গেছে, সব কিছু। এখন আর কিছু করার নেই। তোরা যা বিয়ে এনজয় কর।”
এই বলে নিহানকে পাশ কাটিয়ে রুদ্র চলে গেলো। নিকি ও নিহান একে অপরের দিকে তাকালো। বন্ধুর দুঃখে তাদেরও কষ্ট হচ্ছে। কি হবে এরপর? সব কি আদৌও শেষ হয়ে যাবে? নাকি শুরু হবে নতুন কোনো খেলা?
#চলবে
(সন্ধ্যায় আরেকটি পর্ব আসতে পারে তাই সন্ধ্যায় যদি পর্ব চান তবে এই পর্বে সুন্দর করে রেসপন্স করুন সবাই রিডার্স। হ্যাপি রিডিং ☺️🫶🏼)

