মি_মাফিয়া🔪 #mr.mafiya -#পর্ব১

0
10

-#মি_মাফিয়া🔪
#mr.mafiya
-#পর্ব১
#সুমাইয়াসাবিহা
Sumaiya Sabiha31 গল্প কথা

– বললাম তো বিয়ে করবো না তাহলে বারবার কেন আমাকে জালাচ্ছেন? আপনার কি আর কাজ নেই নাকি? আপনাকে আর কিভাবে বুঝাবো যে আপনাকে আমার বিরক্ত লাগে ,,ঘৃনা করি আপনাকে I just hate you মিস্টার আফরান ,, আপনার মতো ছেলেদের দিকে তাকাতেও ইচ্ছা হয় না ,,কেন বুঝেন না আপনি,,
কথা গুলো বলে আরিয়া সামনের দিকে হাঁটতে লাগল ,, আফরান রাগে কি বলবে আপাতত তার জানা নেই তবে এর জবাব তো এই মেয়েকে দিতেই হবে , মি আফরান চৌধুরীর সাথে এভাবে কথা বলার সাহস কি করে পেলো এই মেয়ে , তার মতো এমন একজন মাফিয়া মানুষ কে এইটুকুনি একটা মেয়ে এতো গুলো কথা শুনিয়ে সামনে থেকে চলে গেলো ? এর প্রতিশোধ কিভাবে নিতে হবে ভালো করেই জানা আছে আমার ,,,এর শেষ দেখে ছাড়বো,,,…

_____ফ্ল্যাশব্যাক

🦋🦋

প্রায় চার বছর আগে…

কুসুম পুর নামের ছোট একটা গ্রামেই আমরা থাকি। আমার বাবা খলিল চৌধুরী , কৃষি কাজ করা তার পেশা। এমন নয় যে উনি পড়ালেখা জানেন না। বাবা ও চাচা দুইজনেই মাস্টার্স কমপ্লেট করেছেন। তবে চাচা একজন দক্ষ বিজনেস ম্যান শহরে থাকেন তিনি। ওখানেই তাদের বিশাল প্রাসাদময় বাড়ি স্থাপিত রয়েছে । অবশ্য দেশেও আরেকটা ইট পাথরের বাড়ি পরে আছে কিন্তু এটা এখন কাজে আসেনা। এতো গুলো বছর ধরে ঐ বাড়ির দরজা বন্ধ । চাচা যখন প্রথম ট্রান্সফার হয়ে ঢাকা যায় তারপর থেকে ততটাও আসেননি দেশে। এইতো বছর ৮/৯ র কাছাকাছি হবে তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছে । দুজন ছেলে আর চাচী কে নিয়ে চলে গিয়েছিলো অবশ্য আমার এসব কিছু ঝাপসা মনে আছে ততটাও মনে নেই। কিভাবেই বা থাকবে? আমি তো তখন একেবারে ছোট ছিলাম এই তো বছর ৬/৭ হবে হয়তো।

__এখন আমার পরিচয় টা দেই। আমি আরিয়া চৌধুরী। অবশ্য শেষের চৌধুরী বংশ নাম টা খুব কম ব্যাবহার করার চেষ্টা করি ,এটা আমার মোটেও পছন্দ নয় ।কারন চৌধুরী নাম টা শুনলেই ঐ লোকটার কথা মনে পরে। নিজেকে মহান বানানোর প্রচেষ্টায় চৌধুরী শব্দ টা ইউজ করা যেনো তার অভ্যাস। আমি টিভিতে দেখেছি খবর গুলোতে যখনই উনার ব্যাপারে কিছু রিপোর্ট আসে তখন নাম টার শেষে এটা থাকবেই থাকবে ।

যাই হোক মেইন কথায় আমি এবার ক্লাস নাইনে পড়ি আমাদের এলাকার স্কুলেই । চাচা জান অবশ্য কয়েকবার বলেছেন তার কাছে গিয়ে শহরে পড়াশোনা করতে কিন্তু আমি কি আর ঐ বাড়িতে যাওয়ার লোক ? যেখানে ঐ লোকটা আছে । অবশ্যই নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারবো না তাইনা । আমার ছোট বোন ছায়া বয়স টা মনে হয় এবার ৭ চলছে এ বছর ।দুজন বেশ মিলে মিশেই থাকি । আর পাশটা বোনদের মতো ঝগড়া হয়না আমাদের মাঝে , কিভাবে হবে? ওর কথা গুলো যে বেশ মিষ্টি,কতো সুন্দর করে আবদার করে আমার কাছে ফেলে দেওয়া যায় নাকি । আমার তো মনে হয় যাদের বোন এতো কিউট তাদের মাঝে কোনো দিন ঝগড়া হয়না । এতো মায়াবী মুখের আবদার নিয়ে ঝগড়া করা যায় নাকি ।
আমার মা রহিমা বেগম , অবশ্য সব টা ক্রেডিট তারই বলা যায় কারন ঝগড়া হওয়ার আগেই আম্মু সব কিছু শুনে সেটাকে মিটিয়ে দেয় ।

অঞ্চলের আঁশ পাশের প্রায় সবাই আমাদের পরিবারের ব্যাপারে কম বেশি অবগত ,,দুচালা, একচালা বাড়ি- ভিটার মাঝেই আমাদের বাড়িটা ইট পাথরের বালু দিয়ে নির্মিত ,,আর পরিচিতি টা আব্বুর জন্য সম্মানজনক ভাবে টিকে আছে নয়তো রোজ রোজ নিউজে চৌধুরী বাড়ির বড় ছেলে আই মিন ঐ মাফিয়া লোকটার খুন খারাপী দেখতে দেখতে এতো দিনে চৌধুরী থেকে মাফিয়ার বংশধর নামে পরিচিত হয়ে যেতো । যেটা এখনো আমার বাবার পরিশ্রম আর সরলতার কারনে এখনো হয়নি বলা যায় ।

আর এতোক্ষণ যার কথা বললাম উনি আমার বড় চাচা বড় ছেলে আফরান চৌধুরী, প্রতিদিন মানুষ খুন করে সেটাকে নিউজ বানানো তার পেশায় পরিনত হয়েছে । অবশ্য আমি তাকে বড় হওয়ার পর সামনে থেকে না দেখলেও টিভিতে ফোনে দেখে নিয়েছি । এমনিতেই ছোট বেলা রুচি থেকে বেরিয়ে গিয়েছে লোকটা ,এমন উদ্ভিটে লোক আর পাশটা দেখিনি আমি । আচ্ছা ঐ লোকটা আমার চেয়ে কতো বছরের বড় হবে? ৮/১০ তো হবেই । আচ্ছা বাদ দেই এই লোকটার কথা উনার কথা ভাবলেই গা ঘিন ঘিন করে আমার ।

___মাত্র স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলাম আমি ।মাঝের রুমে পা রাখতেই আম্মু আমায় এক আজগুবি কথা শুনিয়ে দিলেন। কাল নাকি চাচা আসবেন আমায় নিয়ে যেতে। আশ্চর্য হলাম কিছু টা আমি ঐ বাড়ি গিয়ে কি করবো ? আমাকে কি ভুতে ধরেছে যে ঐখানে যাবো?
মুখের উপর বলে দিলাম ____
___পারবোনা মা..
__রহিমা বেগম ধমকিয়ে বললেন,
কেন পারবিনা? আমি কি তোর খারাপের জন্য বলছি?সব দিক ভেবেই আমি সিদ্ধান্ত টা নিয়েছি তাছাড়া শহরে গিয়ে পড়াশোনা টা চালালে আরো উন্নত হবে , আর বড় ভাইজান যেহেতু বলেছে সেক্ষেত্রে তো আমি তার কথা ফেলতে পারবোনা। আর তোর বাপ তার ভাইয়ের কথার নরচর কখনো করেছে? তার ভাইকে কতটা ভালোবাসে তুই জানিস না ? তাহলে কথা কেনো বাড়াচ্ছিস?

___ মা আমরা জানি চাচা জান খুব ভালো মনের মানুষ কিন্তু তার ছেলে ঐ মাফিয়া মাস্তান টার বাড়িতে আমি থাকতে পারবোনা যতসব কথা এসব বাদ দেও,,,
___তোকে কি বলছি আফরান এর কাছে ঘুরঘুর করতে?
জানিনসনা ঐ বাড়িতে কোনো মেয়ে মানুষ নেই। তোর চাচী তো সেই অনেক আগেই মারা গিয়েছেন এখন ভাইজানের বয়স হয়েছে একা চলতে কষ্ট হয় বিধায় তো তকে যেতে বলছে আর এমন না যে তোকে কাজ করতে হবে। তাদের বাড়িতে অন্তত ৪/৫ টা কাজের মানুষ থাকার কথা। ছেলেটা হয়েছে পাজি বখাটে মাস্তান সে কি তার বাপের দিকে তাকায় বছরে একবার ও? তোকে তো ভাইজান নিজের মেয়ের মতোই দেখে ছোট বেলার কথা ভূলে গিয়েছিস? যখন ভাইজান দেশে থাকতো তখন তোর জন্য কতো কি না করেছে?
___ জানি বলেই তো বলছি ঐ বাড়ি আমার জন্য সেইফ না মা,, তুমি ভূলে যেতে পারো কিন্তু আমি না। আফরান ভাইয়ার সামান্য টিশার্ট টা একবার পড়েছিলাম বলে ভাইয়া আমাকে অনেক বকাঝকা করেছিল আর থাপ্পড় ও মেরেছিল।সেটা দেখে চাচা তাকে মেরেছিল বিধায় আমাকে আবার তার বন্ধুদের দিয়ে মার খাইয়েছিল ,,,,
__সেই এক কথা নিয়ে পরে আছিস এখোনও। আরে এখন কি সে ছোট আছে? তার কি এসব মনে আছে?
___সেটা জানি মা কিন্তু তোমরা বুজতেছো না কেন? আমাকে? আর এ নিয়ে কথা বাড়াতে চাইনা আমি যাবো না মানে যাবো না।

এমন সময় আগমন ঘটে খলিল সাহেবের।তিনি তাদের কথার মাঝেই কথা টেনে বললেন ,
– তোমার মেয়ের কথা বা অনুমতি নিতে আমি বলছি? তাহলে তর্ক করছো কেনো অযথা? এক কথাই শেষ সেটা আমার কথা যদি মানতে না পারো তাহলে সোজা বের হয়ে যাও নাহলে নিজের ব্যাবস্থা নিজে করো। গম্ভীর মুখে কথা গুলো বলে তিনি নিজের ঘরে যেতে যেতে বললেন
__রহিমা আজ মনে হয় বৃষ্টি আসবে কোদাল টা নিয়ে রেডি করো ক্ষেতে পানি ভাসমান হলে চাড়া গুলো নষ্ট হয়ে যাবে,

___ ঠিক আছে। চা টা এখন দিবো নাকি পরে ?
খলিল সাহেব:____হ্যাঁ দাও চা খেয়ে পরে বের হবো। আর শুনো কালকে ভাইজান আসবে তোমার মেয়েকে নিতে কথা না শুনলে কি হবে আর যেনো বুঝাতে না হয় ?

খলিল সাহেব চলে গেলে ছায়া বলল,
__আম্মু আপু যদি চলে যায় আমি একা থাকবো কিভাবে?কার সাথে খেলবো?
রহিমা বেগম ___ আম্মু আমি আছি না তোমার কাছে? আমার সাথে মজা করবে? কিন্তু তোমার চাচা জানের তো মেয়ে‌ নেই তোমার চাচিও তো আল্লাহর কাছে চলে গেছে চাচা জান একা কিভাবে থাকে?

ছায়া একটু কি যেনো ভেবে মাথা চুলকিয়ে বলল,তাইতো চাচা জানের তো অনেক কষ্ট একা একা থাকে। ঠিক আছে আপু গেলে নাহয় তোমার সাথে থাকবো।

রহিমা বেগম হেসে উত্তরে বললো___,এইতো আমার ছোট্ট সোনামা। একটু তেই বুঝে গেলো।

___আরিয়া রাগে ধ্যাত শব্দ করে ফ্লোরে জোড়ে জোড়ে পা ফেলে নিজের রুমে চলে গেলো।
__আরিয়া নিজে নিজে চোখ মুছে বলতে লাগল আমাকে কেউ কেন বুজতেছে না ,,আমাকে ঐ লোকটা দেখলেই মারবে জানি আমি।

আমি তো ঐদিন সবাইকে মিথ্যা বলেছিলাম কেউ না জানলে আমি তো জানি কেন ভাইয়াকে আমি ভয় পাই,,ঐদিন তো ভাইয়া আমাকে শুধু ভয় দেখাতে চেয়েছিল আর আমি কিনা…..

তার পর থেকেই তো আর ভাইয়ার সামনে যাইনি…. আর ভাবতে পারছেনা আরিয়া চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে কারো ভয়ে,,..

চলবে…

প্রথম পর্ব পড়েই পরিপূর্ণ গল্পের বিচার করবেন না প্লীজ কয়েক পার্ট পাঠ পড়ে তারপর মন্তব্য করবেন😊

🚫পরবর্তী পর্বগুলো তে বানান ভুল থাকতে পারে কারন এতো এতো শব্দ খেয়াল করে লিখা আমার পক্ষে সম্ভব নয় তবুও যদি সামনে পড়তে চান সব টা নিজ দায়িত্বে পড়বেন অযথা ভুল শব্দ নিয়ে সমালোচনা করে নিজের ব্যাক্তিত্বের পরিচয় দেবেন না । ধন্যবাদ 🚫

(গল্পের জগতে নতুন আমি , প্রথম শুরু করলাম গল্প টা দিয়ে জানিনা কেমন সাপোর্ট পাবো ,ভূল ক্রুটি হতে পারে প্রথম দিকে তবে লিখতে লিখতে ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ 🩷 😊)
🚫-আর যারা অতিরঞ্জিত বিশ্লেষণ করা অথবা সাহিত্যিক ভাষায় গল্প পছন্দ করেন উক্ত গল্প টি তাদের জন্য নয় 🚫 –

_________

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here