#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_৫৭
লেখনীতে: #মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম
নুরশাদ ভিলার বিশাল লোহার গেটের ওপাশে শত শত পুলিশের গাড়ি, র্যাবের সাঁজোয়া যান আর সিআইডির বিশেষায়িত ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডোদের বুটের শব্দে মাটি কাঁপছে। মাইকের কর্কশ আওয়াজ বাতাসের বুক চিরে বারবার আছড়ে পড়ছে ভিলার দেয়ালে,
“জেনিন নূরশাদ! আত্মসমর্পণ করুন! আপনি চারপাশ থেকে ঘেরাও হয়ে আছেন। পালানোর কোনো পথ নেই! নূরশাদ ভিলা এখন আমাদের কব্জায়। দশ গুনবো আমরা, এর মধ্যে হাত তুলে বেরিয়ে না এলে আমরা সরাসরি অ্যাকশনে যাবো! এক… দুই… তিন…”
ভিলার ভেতরকার ড্রয়িংরুমের মেঝেতে পড়ে আছে হালিমা বেগমের নিথর দেহ, করিডোরে পড়ে আছে নীলিমার রক্তমাখা নিস্পন্দ শরীর। জেনিন নূরশাদ এক মুহূর্তের জন্য সেই লাশের পাহাড়ের দিকে তাকালো। তার চোখে আজ কোনো জল নেই, কারণ তার চোখের জল শুকিয়ে এখন তপ্ত মরুভূমি হয়ে গেছে। সে শুধু তার হাতের আঙুলে লেগে থাকা তার বাবার রক্তের শুকিয়ে যাওয়া দাগটার দিকে তাকালো। জেনিন আজ নিঃস্ব, জেনিন আজ রিক্ত। কিন্তু সে দ্যা গ্রেট জেড। আর জেড কখনো হার মানতে শেখেনি। সে মৃত্যু অবধি লড়াই করবে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে।
জেনিন ভূগর্ভস্থ মেডিকেল চেম্বারে ঢুকে দেখল, নোবারার নাকে তখনো অক্সিজেন মাস্ক, গায়ের সাদা চাদরে রক্তের ছোপ। ইউজির চোখ দুটো টকটকে লাল, তার কাঁধের ব্যান্ডেজ চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে। নীলিমার শোক এখনো কাটেনি তার!
“রেডি?” জেনিনের কণ্ঠস্বর আজ পাথরখন্ডের মতো কঠিন।
ইউজি শুধু মাথা নাড়লো। তার গলায় কোনো স্বর নেই। নীলিমাকে নিজের হাতে শেষ করার পর ইউজি এখন এক জ্যান্ত লাশ, যে কেবল তার বসের হুকুমে নড়াচড়া করছে।
জেনিন তার হাতের স্পেশাল রিমোটটা টিপে ইউজিকে বললো,
“Look up.”
ঠিক সেই মুহূর্তে ভিলার আকাশ চিরে এক বিকট গর্জন শোনা গেল। পুলিশের স্নাইপাররা পজিশন নিয়েছিল ভিলার উল্টোদিকের উঁচু দালানগুলোতে। তারা অবাক হয়ে দেখল, দিগন্তরেখা থেকে একটি বিশাল ক্রপ ডাস্টার বা কৃষি বিমান অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে আসছে।
বিমানটি সাধারণত ফসলের খেতে কীটনাশক ছিটানোর কাজে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু আজ এর পেটে ভরা আছে কয়েক হাজার লিটার হাই-গ্রেড কেরোসিন এবং অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিক তরল।
মাইকে তখনো গুঞ্জন চলছে, “সাত… আট… নয়…”
হঠাৎ বিমানটি নূরশাদ ভিলার ঠিক ওপর দিয়ে চক্কর দিতে শুরু করল। আর মুহূর্তের মধ্যে বিমানের নজল দিয়ে বৃষ্টির মতো ঝরতে শুরু করল তরল জ্বালানি। পুলিশ অফিসাররা প্রথমে বুঝতে পারেনি এটা কী। যখন সেই ঝাঁঝালো গন্ধ নাকে এল, তখন কমান্ডোদের মাঝে হাহাকার পড়ে গেল।
“পিছিয়ে যাও! সবাই পিছিয়ে যাও! এটা কেরোসিন! জেড পুরো এলাকা জ্বালিয়ে দেবে!” সিআইডি প্রধানের আর্তনাদ শোনা গেল।
পুরো নূরশাদ ভিলার ওপরটা এখন ভেজা, পিচ্ছিল আর দাহ্য। ইউজি এক হাতে একটি ছোট কালো ব্যাগ, যেখানে জেনিনের জীবনের যাবতীয় ব্যাকআপ ডেটা, জরুরি পাসপোর্ট আর কিছু দুষ্প্রাপ্য হীরা রাখা, সেটা কাঁধে ঝোলালো।
“চল ইউজি! ছাদে!” জেনিনের হুকুম। জেনিনের কোলে তখন অক্সিজেন মাস্ক রাখা অবস্থায় নোবারা! মেয়েটাকে অচৈতন্য দুর্বল অবস্থায় এভাবে নিয়ে যেতে হচ্ছে তার। কিন্তু বাঁচতে চাইলে এটুকু রিস্ক তার নিতেই হবে।
তারা দ্রুত লিফট দিয়ে ছাদে উঠে এল। ছাদের ওপর পা রাখতেই উত্তাল বাতাসের ঝাপটা তাদের মুখে লাগল। ওপরে তাকাতেই দেখা গেল আরেকটি বিশাল শব্দ, একটি ব্ল্যাক হাই-টেক প্রাইভেট হেলিকপ্টার ঠিক ছাদের ওপর ঝুলে আছে। এর রোটরের শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। হেলিকপ্টার থেকে দড়ির মই নেমে এসেছে। সবের মাস্টারমাইন্ড জেড! শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সে খুব ভালো করেই নিতে জানে। হেলিকপ্টার এবং পাইলট দুটোই জরুরি অবস্থায় ব্যাবহারের জন্য এতোদিন ছাদেই রাখা ছিল।
নিচে তখন বিশৃঙ্খলা। পুলিশ অফিসাররা গুলি করতে পারছে না, কারণ একটা আগুনের ফুলকি মানেই পুরো এলাকা এক নিমিষে ধ্বংস হয়ে যাওয়া। জেনিন নোবারাকে একটি স্ট্র্যাপ দিয়ে নিজের বুকের সাথে শক্ত করে বাঁধল।
ইউজি প্রথম মই বেয়ে ওপরে উঠল। জেনিন নোবারাকে নিয়ে যখন মই ধরল, তখন নিচে থেকে সিআইডি প্রধান চিৎকার করে বলল, “জেনিন নূরশাদ! তুমি পার পাবে না! আমরা তোমাকে আকাশ থেকে নামিয়ে আনবো!”
জেনিন মইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে নিচের সেই বিশাল পুলিশ বাহিনীকে এক তাচ্ছিল্যের হাসি উপহার দিল। তার চোখের কোণায় তখন ভেসে উঠল তার বাবার মুখ, হালিমা মায়ের মমতা আর নীলিমার সেই শেষ বেইমানি। জেনিন নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,
“নূরশাদ ভিলা আমার ছিল, আমারই থাকবে। আমি না থাকলে এর অস্তিত্বও থাকবে না। গুডবাই, জেনলটম্যান!”
ইউজি এককোণে কুঁকড়ে বসে আছে, তার দু চোখ দিয়ে অবিরাম জল গড়িয়ে পড়ছে। তার সারা শরীরে নীলিমার রক্তের গন্ধ, যে গন্ধটা একসময় তার কাছে পৃথিবীর সবচাইতে প্রিয় সুবাস ছিল, আজ তা বিষাক্ত তপ্ত সীসার মতো তার নাকে বিঁধছে। জেনিন পাথরের মতো স্থির হয়ে নোবারার রক্তহীন ফ্যাকাশে হাতটা ধরে বসে আছে।
হঠাৎ জেনিন চিৎকার করে উঠল, “ইউজি! হালিমা মায়ের লাশটা… আমরা কি ওভাবে ফেলে যাব? নোবারা যদি জেগে ওঠে দেখে ওর মা ওই আগুনের কুণ্ডলীতে ছাই হয়ে গেছে, ও আমায় কোনোদিন ক্ষমা করবে না!”
ইউজি চোখের জল মুছে দাঁড়িয়ে পড়ল। “বস, আপনি বসুন। আমি যাচ্ছি।”
দড়ির মই বেয়ে ইউজি আবার নিচে নেমে গেল। ইউজি অমানুষিক ক্ষিপ্রতায় নিচে নেমে হালিমা বেগমের নিথর দেহটি একটি সাদা চাদরে জড়িয়ে নিল। তার হৃদপিণ্ড ফেটে যাচ্ছিল নীলিমার লাশের কথা ভেবে, কিন্তু নীলিমা ছিল বিশ্বাসঘাতক, আর হালিমা বেগম ছিলেন পবিত্রতা। ইউজি হালিমা মায়ের দেহটি দড়িতে বেঁধে ওপরে তুলে দিল। জেনিন পরম মমতায় তার শাশুড়ির নিথর দেহটি হেলিকপ্টারের ভেতরে টেনে নিল।
ঠিক তখনই জেনিনের মনে পড়ল এক অদ্ভুত কথা। নোবারার সেই শখের বেলী ফুলের টব! নোবারা বলত, “এই ফুলটা যদি শুকিয়ে যায়, তবে বুঝবেন আমাদের ভালোবাসায় টান পড়েছে।”
জেনিন কোনো যুক্তি মানল না। সে দেখল ছাদের এক কোণে সেই মাটির টবটা অযত্নে পড়ে আছে। সবকিছু সে ধ্বংস করলেও তার নূরার সামান্য টবেও সে আঁচ আসতে দিতে পারেনা।
“ইউজি, দড়াও! আমি আসছি!” জেনিন এবাল এক লাফে মই বেয়ে নিচে নামতে শুরু করল।
ইউজি চিৎকার করে উঠল, “বস! পাগল হয়েছেন? পুরো ভিলা এখন একটা টাইম বোম্ব! যেকোনো মুহূর্তে স্ট্রাকচার ভেঙে পড়বে!”
জেনিন শুনল না। তার কানে তখন নোবারার খিলখিল হাসি বাজছে। সে টবটা আঁকড়ে ধরল। ঠিক সেই মুহূর্তে ভিলার নিচের তলায় এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটল। ছাদের মেঝে কেঁপে উঠল। ইউজি ওপর থেকে চিৎকার করে কাঁদছে, “বস! ফিরে আসুন! জেনিন ভাই, প্লিজ!”
জেনিন টবটা এক হাতে নিয়ে অন্য হাতে মই আঁকড়ে ধরল। সে দাঁতে দাঁত চিপে ওপরে উঠে এল। হেলিকপ্টারে পা রাখামাত্রই সে টবটা নোবারার পায়ের কাছে রাখল।
“ইউজি,” জেনিন হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, “আমার এজেন্টরা… মায়া, রায়ান… ওরা এখনো ভেতরে! আমি ওদের মরতে দিতে পারি না। ওরা আমার জন্য জান বাজি রেখেছে।”
জেনিন দ্রুত হেলিকপ্টারের কন্ট্রোল প্যানেলের কাছে গিয়ে একটি সুরক্ষিত কাঁচের ঢাকনা সরাল। ভেতরে একটি উজ্জ্বল লাল বোতাম। এটি ছিল নূরশাদ ভিলার ‘ইমার্জেন্সি ইভাকুয়েশন প্রোটোকল। জেনিন বোতামটি জোরে প্রেস করল।
সাথে সাথে ভিলার প্রতিটি কোণায় এক উচ্চশব্দের সাইরেন বেজে উঠল। এটি সাধারণ সাইরেন নয়, এটি জেনিনের গোপন সংকেত। এর মানে হলো, ১০ সেকেন্ডের মধ্যে সুড়ঙ্গ পথে বেরিয়ে যাও।
ভিলার নিচে থাকা মায়া, রায়ান এবং বাকি এজেন্টরা জানে, এই সংকেত মানে ভিলা এখন ধ্বংস হতে চলেছে। তারা দ্রুত ডাইনিং রুমের নিচের গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে মাটির গভীর তলদেশ দিয়ে ভিলার তিন কিলোমিটার দূরে এক নিরাপদ আস্তানার দিকে ছুটতে শুরু করল।
জেনিন ওপর থেকে দেখল, ভিলার নিচের দিক থেকে ছোট ছোট ছায়ার মতো মানুষগুলো বেরিয়ে যাচ্ছে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। জেড নিষ্ঠুর হতে পারে, কিন্তু সে বেইমান নয়। ঠিক একারণেই নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুরতম মানুষরাও তাকে বিশ্বাস করে জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে পারে!
হেলিকপ্টারটি যখন ভিলার সীমানা ছাড়িয়ে দিগন্তের দিকে ছুটল, জেনিন তার পকেট থেকে লাইটারটি জ্বালিয়ে তৎক্ষণাৎ নিচে ফেলে দিল, লাইটারটি তার বাবা আশফাক নুরশাদ এর ছিল, আজ সে সবটা বিসর্জন দিয়ে দিচ্ছে! মুহূর্তের মধ্যে নূরশাদ ভিলার ওপর সেই দাহ্য তরল আগুনের এক বিশাল গোলকায় পরিণত হলো। একটা বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে উঠল। আগুনের লেলিহান শিখা আকাশ ছুঁতে চাইছে।
জেনিন এবার রিমোটের আরেকটি সুইচ টিপল। পেছনে এক বিকট শব্দে পুরো নূরশাদ ভিলা একবারেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল। আগুনের এক বিশাল মাশরুমের মতো ধোঁয়া আকাশ ছুঁয়ে দিল। এটাই ছিল তার শেষ চাল। প্রথমে আগুনে পুড়িয়ে তারপর টাইম বোমা দিয়ে তার সাম্রাজ্য ধ্বংস করে দেওয়া। কারণ তার বিরুদ্ধে কত শত প্রমাণ সব এই নুরশাদ ভিলায় ছিল। ভিলাও নেই ,তার বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ ও নেই। জেনিন ভালো করেই জানতো তার মাফিয়া জীবনটা এতোটাও সহজ হবে না, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সে প্রথম থেকেই নিয়ে রেখেছিল। দেশ ছেড়ে পালাতে পারবে না, তবে দেশের ভেতরেই তার আরেকটা লুকানো আস্তানায় তাকে ফিরতে হবে।
জেনিনের চোখের সামনে তার বাবার স্মৃতি, তার ঘর, তার অতীত, সব ছাই হয়ে উড়ে গেল। নূরশাদ ভিলা যে জেনিনের কাছে একটি ইটের দালান নয়, বরং জেনিন আর ইউজির বিগত বছরের রক্ত, ঘাম আর যন্ত্রণার ইতিহাস।
নিচে শত শত পুলিশের গাড়ির সাইরেন আর নীল-লাল আলোর ঝলকানি এখন আগুনের লেলিহান শিখার নিচে ম্লান হয়ে আসছে। র্যাবের কমান্ডোরা চিৎকার করছে, কিন্তু এই হাই-গ্রেড কেরোসিনের বৃষ্টির সামনে তারা অসহায়।
জেনিনের চোখের সামনে ভেসে উঠলো সেই দিনগুলোর কথা, যখন সে আর ইউজি লন্ডনের ফুটপাতে না খেয়ে রাত কাটিয়েছে। ইউজি তখন ছোট, জেনিন তাকে আগলে রাখতো। বাংলাদেশ এ ফিরে এসে এই নূরশাদ ভিলার প্রতিটি মার্বেল পাথর বসানোর সময় জেনিন ভেবেছিল, একদিন সে এখানে এক শান্তিময় সংসার পাতবে। আজ সেই সংসার আগুনের গোল্লায় পরিণত হতে যাচ্ছে! নোবারা যখন জানতে পারবে তার সাজানো গোছানো সংসারটা জেনিন নিজ হাতে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে, না জানি মেয়েটা তখন কতটা কষ্ট পাবে। বিগত কয়েক মাস ধরে পুরো নূরশাদ ভিলা সে একাই সামলিয়েছে, জেনিনের প্রেমে পড়া হতে সংসার করা , সব ওই নূরশাদ ভিলায়! কিন্তু আজ সেই ভিলাই পুড়ে খাক হয়ে গেছে!
ইউজির গলার স্বর কান্নায় বুজে আসছিল। সে কিছু বলতেই পারছে না। চোখের সামনে সব দাউ দাউ করে জ্বলছে! তার ভালোবাসা ও! সে একপাশে হালিমা মায়ের লাশ আর অন্যপাশে অচৈতন্য নোবারার মাঝখানে বসে আছে। ইউজির মনে পড়ছে, এই ভিলার বাগানেই সে নীলিমাকে প্রথম বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভেবেছিল। যে নীলিমাকে সে নিজের পৃথিবী ভেবেছিল, সেই পৃথিবী আজ তার সামনে এক রক্তাক্ত বিশ্বাসঘাতক হিসেবে শেষ হয়ে গেছে।
নিচে আগুনের তীব্র তাপ হেলিকপ্টারকেও কাঁপিয়ে দিচ্ছে। জেনিন দ্রুত দরজা বন্ধ করে দিল। নূরশাদ ভিলার রাজকীয় গম্বুজ, বহুমূল্য ঝাড়বাতি, ইউজির প্রিয় কন্ট্রোল রুম, জেনিনের অস্ত্রাগার, সবই এখন ছাইয়ের স্তূপ। জেনিন আর ইউজি জানালার কাঁচ দিয়ে দেখল, তাদের সাত বছরের কষ্টার্জিত সাম্রাজ্য মাত্র সাত সেকেন্ডে ধূলিসাৎ হয়ে গেল। জেনিনের বুকের ভেতরটা কেমন যেন খালি হয়ে গেল। সে আজ নিঃস্ব, কিন্তু সে আজ মুক্ত।
হেলিকপ্টারটি যখন মেঘের আড়ালে অদৃশ্য হওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই পাইলট চিৎকার করে উঠল, “বস! নিচে দেখুন! বিপদ এখনো কাটেনি!”
জেনিন জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখল, নিচ থেকে পুলিশের তিনটি অত্যাধুনিক গানশিপ হেলিকপ্টার তাদের পিছু নিয়েছে। ওগুলো সিআইডির বিশেষ কমান্ডোদের। ড্রোনের সার্চলাইটের আলো এখন জেনিনের হেলিকপ্টারের গায়ে আছড়ে পড়ছে। দুর্ধর্ষ মাফিয়া জেড কে ছাড়ার অর্ডার তাদের নেই। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে জেড কে তাদের ধরতেই হবে। মৃত হোক বা জীবন্ত!
মাইকে নিচ থেকে ঘোষণা এল, “জেনিন নূরশাদ! আমরা জানি আপনি হেলিকপ্টারে আছেন! আকাশপথ আমাদের নিয়ন্ত্রণে! আত্মসমর্পণ না করলে আমরা সরাসরি মিসাইল ফায়ার করতে বাধ্য হব!”
জেনিন দাঁতে দাঁত চিপে বসল। সে জানত পুলিশ এতো সহজে হাল ছাড়বে না। সে ইউজির দিকে তাকালো। ইউজি তার চোখের জল মুছে নিজের এম-১৬ রাইফেলটা হাতে নিল। তার চোখে এখন কেবল প্রতিশোধের নেশা।
“ইউজি, আমাদের ফোর্স রায়ান আর মায়া কি সুড়ঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে যেতে পেরেছে?” জেনিন প্রশ্ন করল।
“হ্যাঁ বস, রেড বাটন প্রেস করার পর ওরা সবাই নিরাপদে বেরিয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের এখন এই আকাশপথের যুদ্ধটা জিততে হবে,” ইউজি উত্তর দিল।
পিছনের পুলিশ হেলিকপ্টার থেকে হঠাৎ এক ঝাঁক ট্রেসার বুলেট জেনিনের হেলিকপ্টারের ডানার খুব কাছ দিয়ে বেরিয়ে গেল। হেলিকপ্টারটি দুলতে শুরু করল। নোবারা অচৈতন্য অবস্থায় সামান্য নড়ে উঠল, তার কপাল দিয়ে হালকা ঘাম ঝরছে। জেনিন দ্রুত নোবারার পাশে গিয়ে তার হাতটা ধরল।
“ভয় নেই নূরা, আমি আপনার কিছু হতে দেব না। আমরা শূন্যে উড়াল দিয়েছি, কিন্তু এই শূন্যতা আমাদের শেষ নয়,” জেনিন ফিসফিস করে বলল।
বাইরে তখন পুলিশের তিনটি হেলিকপ্টার জেনিনের হেলিকপ্টারকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে। মাঝ আকাশে শুরু হলো এক অসম লড়াই। জেনিন তার পাইলটকে নির্দেশ দিল, “ইঞ্জিন ওভারলোড করো! আমরা চট্টগ্রাম সাগরের দিকে যাব! ওখানে আমার ডার্ক জোনে আমাদের ব্ল্যাক আউট করতে হবে!”
পুলিশের হেলিকপ্টারগুলো থেকে একের পর এক সার্চলাইট জেনিনের হেলিকপ্টারকে অন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জেনিন নিজে এবার কো-পাইলটের সিটে গিয়ে বসল। সে তার রিমোট কন্ট্রোল বের করে ভিলার ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা শেষ ব্যাকআপ ড্রোনগুলো অ্যাক্টিভেট করল। হঠাৎ নিচ থেকে ডজনখানেক ছোট ছোট ড্রোন উড়ে এসে পুলিশের হেলিকপ্টারগুলোর প্রোপেলারের দিকে ধেয়ে গেল।
“এটা কী হচ্ছে?” পুলিশের পাইলটদের মাঝে আতঙ্কে গুঞ্জন শুরু হলো।
জেনিন এক পৈশাচিক হাসি হাসল। “জেড কখনো একা উড়াল দেয় না। জেনিন নূরশাদের আকাশপথও তার সাম্রাজ্যের অংশ।”
আকাশের মেঘের আড়ালে শুরু হলো এক টানটান ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একদিকে পুলিশের আইনি শক্তি, অন্যদিকে মাফিয়া জেডের অদম্য পালানোর জেদ। জেনিন আর ইউজি তাদের জীবনের সবটুকু বাজি রেখে এই মেঘের সমুদ্রে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু পুলিশ কি এতো সহজেই জেনিন নূরশাদকে ছেড়ে দেবে?
চলবে ইংশাআল্লাহ…..
(ওহ হ্যাঁ, শুনুন বিচ্ছুরা, কপি কপি বলে চিল্লাচিল্লি না করার আগে বলে রাখি, এই যে জেনিন ক্রপ ডাস্টার দিয়ে নুরশাদ ভিলায় কেরোসিন সিটিয়ে আগুন ধরিয়েছে, এটা আমি Vincenzo নামক কে-ড্রামা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছি। ভালো করে পড়লেই বুঝতে পারবেন, যাস্ট আগুন ধরানোর বিষয়টা মিল আছে। বাদবাকি সব আমার কল্পনার বহিঃপ্রকাশ। আরেকটা কথা, আমি না মাঝলেখায় গিয়ে আটকে গিয়েছি, বুঝতেই তো পারছেন সিনগুলো লিখতে আমাকে বিশেষ চিন্তা করতে হচ্ছে, এখন আমার লিখতেই মন চাইছে না, আপনারা দুয়েকটা সুন্দর সুন্দর মন্তব্য করে আমাকে একটু উৎসাহ দিবেন? জেনুইন রিকুয়েস্ট, আমি লিখতেই পারছি না, আমার মাথায় কোন শব্দই আসছে না যে হাত চালিয়ে লিখবো!)

