#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_৭৫ (মাস্টারমাইন্ড খিলাড়ি)
লেখনীতে: #মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম
(নোট: রি-আপলোড—পর্বটায় কিছু ভায়োলেন্স শব্দ থাকার কারণে ডিলিট করে আবার দিয়েছি)
আদালতের রোমহর্ষক রায়ের পর জেনিন নুরশাদকে আর ডিবি অফিসে রাখা হয়নি। নিরাপত্তার চরম ঝুঁকি এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিশেষ প্রটোকল অনুযায়ী তাকে সরাসরি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সবচাইতে সুরক্ষিত এবং নির্জন কনডেমড সেল এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই সেলটি অন্য সব সাধারণ কাস্টডি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে বাইরের দুনিয়ার কোনো হাওয়া ঢোকে না, সূর্যের আলো পৌঁছানোর সব রাস্তা বন্ধ। কেবল সিলিংয়ে একটি টিমটিমে ঘোলাটে হলুদ রঙের বাল্ব চব্বিশ ঘণ্টা জ্বলতে থাকে, যা কয়েদির মন থেকে দিন আর রাতের পার্থক্য চিরতরে মুছে দেয়।
লোহার ভারী ও নিরেট কপাটটা যখন এক বিকট কর্কশ শব্দে বন্ধ হলো, জেনিন একবারের জন্যও আঁতকে ওঠেনি বা তার চোখের পলক কাঁপেনি। সে অত্যন্ত ধীর পায়ে এগিয়ে গিয়ে মেঝের এক কোণে বসল। তার পরনের গাঢ় ধূসর রঙের পাঞ্জাবিটা এখন ধুলোবালি আর ঘামে কিছুটা মলিন। জেনিনের দুই হাতে এবং পায়ে এখন ভারী ডাণ্ডাবেড়ি পরানো। লোহার শিকলগুলো মেঝের নোনা ধরা ইটের সাথে ঘষা লেগে এক কর্কশ ধাতব শব্দ তুলছে, যা এই নির্জন প্রকোষ্ঠের দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে এক বিভীষিকাময় সুর তৈরি করছিল।
কিন্তু জেনিন নুরশাদ সম্পূর্ণ শান্ত। তার ধারালো অবয়বে কোনো অনুশোচনার দাগ নেই, কোনো প্রাণভয়ের হাহাকার নেই। সাধারণ মানুষ এই অন্ধকার সেলে ঢোকার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একাকীত্ব আর বিষাদে পাগল হয়ে যায়, দেওয়ালে মাথা ঠুকে আত্মহ’ত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু জেনিন যেন এক ধ্যানমগ্ন ও অপরাজেয় চাণক্য! তার ১৪৮ আইকিউ সম্পন্ন প্রখর বুদ্ধিমত্তার মস্তিষ্ক এখন এই নিস্তব্ধতায় এক বিশাল ও অদৃশ্য দাবার ছক সাজাতে ব্যস্ত। সে খুব ভালো করেই জানে, ফাঁসির দড়ি তার গলায় ঝোলার আগে আইনি নিয়ম অনুযায়ী এখনো ঠিক তিরিশটি দিন বাকি আছে। আর সাধারণ মানুষের কাছে তিরিশ দিন মানে এক মাস হতে পারে, কিন্তু জেনিন নুরশাদের মতো মাস্টারমাইন্ডের জন্য তিরিশ দিন মানে একেকটি শতাব্দী, চাল বদলানোর এক বিশাল সুবর্ণ সুযোগ!
জেনিন সেলের স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল। তার কুচকুচে কালো চোখের মণিতে এক অদ্ভুত, ঠান্ডা চকমকি। সে কি সত্যিই নিজের মৃত্যুকে এত সহজে মেনে নিয়েছে? নাকি এই আকস্মিক আত্মসমর্পণের আড়ালে লুকিয়ে আছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ইতিহাসের সবচাইতে ভয়ঙ্কর কোনো ব্লু-প্রিন্ট?
আসলে জেনিন খুব ভালো করেই জানত, সে যতদিন বাইরে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকবে, ততদিন প্রশাসন, আন্তর্জাতিক ড্রাগ সিন্ডিকেট এবং তার প্রতিপক্ষ গ্যাংগুলো হন্যে হয়ে তাকে তাড়া করে ফিরবে। আর জেনিন পলাতক থাকা মানে নোবারার জীবন প্রতিটা সেকেন্ডে মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা। তাই সে নিজেকে আইনের খাঁচায় বন্দি করে আসলে নোবারার চারপাশ থেকে সমস্ত বিষাক্ত নজর আর বিপদ এক ঝটকায় সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু মৃত্যু? জেনিন নুরশাদ কি সত্যিই এত সস্তায় নিজের জীবনটা এই জেলের দেয়ালে বিলিয়ে দেবে?
সে মনে মনে নিখুঁত হিসাব কষছে। বিশ্বস্ত ইউজি এখন বাইরে নিজের চেনা নেটওয়ার্ক নিয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, নানামি জায়দানও আজ স্বাধীন। আর নোবারার হাতে এখন নূরশাদ ইন্ডাস্ট্রিজের একচ্ছত্র বিশাল ক্ষমতা। জেনিন নিজেকে একটা ডেড এন্ড বা বন্ধ গলির মুখে নিয়ে এসেছে যাতে তার শত্রুরা এবং পুরো দেশের প্রশাসন মনে করে যে, খেলা এখানেই শেষ! জেনিন খুব ভালো করেই জানে, যখন পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ ভাববে যে জেনিন নুরশাদ চূড়ান্তভাবে হেরে গেছে, ঠিক তখনই অন্ধকার রাজত্বের আসল রাজার চাল শুরু হবে। সে এই নীরব সেলে বসে আসলে একটি অদৃশ্য ও নিশ্ছিদ্র জাল বুনছে। তার প্রতিটি ধীরগতির নিঃশ্বাস এখন একেকটি গাণিতিক ক্যালকুলেশন!
কারাগারের জেলার এবং সশস্ত্র রক্ষীরা জেনিনের সেলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের অজান্তেই সাবধানে হাঁটার গতি ধীর করে দেয়। তারা তাদের দীর্ঘ চাকুরিজীবনে অনেক দুর্ধর্ষ দাগী আসামি, খু’নি আর মাফিয়া দেখেছে; কিন্তু জেনিনের মতো লৌহমানব কাউকে দেখেনি। যে মানুষটির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, সে কীভাবে এত নিশ্চিন্তে, রাজকীয় ভঙ্গিতে বসে থাকতে পারে?
জেলার সাহেব যখন জেনিনের ফাইলটা নিয়ে সেলের সামনে এসে দাঁড়ালেন, তিনি লোহার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে দেখলেন জেনিন মেঝের ধুলোর ওপর একটা পেন্সিলের ভাঙা শিষ দিয়ে ছোট ছোট কিছু জ্যামিতিক সংকেত আর ম্যাপ আঁকছে।
“জেনিন নুরশাদ, আপনার কি কিছু লাগবে?” জেলার সাহেব নিজের গলার স্বর যতটা সম্ভব গম্ভীর ও কড়া করে জিজ্ঞেস করলেন।
জেনিন ধীর স্থিরভাবে মাথা তুলল। তার তীক্ষ্ণ চাহনি এক পলকেই জেলারের বুক কাঁপিয়ে দিল। জেনিনের ঠোঁটের কোণে এক ম্লান, রহস্যময় হাসি ফুটে উঠল।
“এক কাপ কফি হবে কি জেলার সাহেব? চিনি ছাড়া, কড়া ব্ল্যাক কফি। দীর্ঘ আইনি ভ্রমণের পর শরীরটা একটু চাঙ্গা করা দরকার।”
জেলার সাহেব ভেতরে ভেতরে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন। ফাঁসির রায় শোনার পর কোনো কয়েদি জল্লাদের ভয়ে জল স্পর্শ করতে পারে না, আর এই লোকটা কফি চাইছে! তিনি আর কথা না বাড়িয়ে দ্রুত পায়ে চলে গেলেন। জেনিন আবার মেঝের নকশায় মন দিল। সে আসলে কোনো সাধারণ আঁকিবুঁকি করছে না, সে তার প্রখর স্মৃতিশক্তিতে থাকা এই পুরো সেন্ট্রাল জেলখানার নিখুঁত ম্যাপটা মেঝের ধুলোয় ফুটিয়ে তুলছে। সে খুব ভালো করেই জানে, এই প্রকাণ্ড পাথুরে দেয়ালগুলো জেনিন নুরশাদকে আটকে রাখার জন্য যথেষ্ট নয়, যদি সে নিজে মনে করে যে তাকে এখান থেকে বের হতে হবে! কিন্তু জেনিন এখনই এই দেয়াল ভাঙবে না। সে চায় পুরো পৃথিবীটা আগে দেখুক, কীভাবে সে তার নিজের পরাজয় আর মৃত্যুটাকে এক মহিমান্বিত রূপ দেয়!
<><><><><><><><><>
ডিবি অফিসের সদর দপ্তর। কমিশনারের বিশেষ নির্দেশে একটি অত্যন্ত গোপনীয় বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছে। টেবিলের ওপরে রাখা আছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসি নানামি জায়দানের সার্ভিস রিভলভার আর তার সরকারি পরিচয়পত্র, যা কয়েকদিন আগে অত্যন্ত অপমানের সাথে কেড়ে নিয়ে তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। জেনিন নুরশাদের অভাবনীয় জবানবন্দি পুরো সমীকরণ এক ধাক্কায় বদলে দিয়েছে। জেনিন আদালতে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলে গেছে যে, নানামি জায়দান কেবল একজন সৎ অফিসারের মতো নিজের ডিউটি পালন করেছিল এবং জেনিনকে ধরার পেছনে নানামির কোনো গোপন আঁতাত ছিল না। উপরন্তু, জেনিনের মতো আন্তর্জাতিক মাফিয়াকে সশরীরে আদালতে হাজির করার পুরো কৃতিত্বটা শেষ পর্যন্ত নানামির কাঁধেই গিয়ে বর্তেছে।
কমিশনার সাহেব চশমাটা ঠিক করে গম্ভীর মুখে নানামির দিকে তাকালেন। নানামি আজ সিভিল পোশাকে থাকলেও তার বসার ভঙ্গিতে চিরচেনা দৃঢ়তা।
“মিস্টার নানামি, ইন্টারনাল ইনভেস্টিগেশন টিম আপনাকে সম্পূর্ণ ক্লিন চিট দিয়েছে। জেনিন নুরশাদের জবানবন্দি এবং আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যে এটা প্রমাণিত যে, আপনি কোনো প্রটোকল ভাঙেননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে আপনার সাসপেনশন অর্ডার আজ থেকে প্রত্যাহার করা হলো।”
কমিশনার সাহেব রিভলভার আর আইডি কার্ডটি নানামির দিকে এগিয়ে দিলেন। নানামি হাত বাড়িয়ে তার প্রিয় অস্ত্রটি তুলে নিল। ধাতব ঠান্ডা স্পর্শটি তার হাতের তালুতে লাগতেই নানামি অনুভব করল এক বিশাল, অদৃশ্য দায়বদ্ধতা!
“আপনার প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হবে জেনিন নুরশাদের ফাঁসি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত জেলের বাইরের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং নুরশাদ ইন্ডাস্ট্রিজের ওপর কড়া নজর রাখা। কারণ জেনিনের শত্রুরা এখন তার অবর্তমানে তার সম্পত্তি ও নোবারা নুরশাদকে আঘাত করার চেষ্টা করবে,” কমিশনার সাহেব কড়া গলায় যোগ করলেন।
নানামি স্যালুট দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। করিডোরে তার সাথে দেখা হলো ইনভেস্টিগেশন অফিসার রাইহানের। রাইহানের মুখ আজ চুন হয়ে আছে। যে নানামিকে সে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, সেই নানামি আজ আরও বেশি ক্ষমতা আর সম্মান নিয়ে ডিপার্টমেন্টে ফিরছে। নানামি তার পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় এক সেকেন্ডের জন্যও থামল না।
ঘণ্টাখানেক ড্রাইভ করার পর নানামি যখন তার বাসায় পৌঁছাল, তখন চারদিকে বিকেলের মরা আলো মলিন হয়ে আসছে। সে কোনো প্রকার বিলম্ব না করে সরাসরি নোবারার ঘরের দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু ঘরের দরজায় পা রাখতেই নানামির বুকটা কেঁপে উঠল।
নোবারা মেঝের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছে। তার চোখের নিচে গভীর কালো কালি, ঠোঁট দুটো শুকিয়ে একদম সাদা হয়ে গেছে। তার সারা শরীরে এক তীব্র অবসাদ। নানামি সোফায় না বসে নোবারার ঠিক সামনে মেঝেতে বসল। সে তার কোমরে থাকা রিভলভারটা নোবারাকে দেখিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল,
“দেখো নোবারা, ওরা আমাকে আমার অস্ত্র আর সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছে। নুরশাদ আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে যা চেয়েছিল, ঠিক তা-ই হয়েছে।”
নোবারা তার উদাসীন, শুকনো চোখ দুটো তুলে নানামির দিকে তাকাল। তার কণ্ঠস্বর বড্ড অলৌকিক শোনাল,
“কিন্তু ও কি জানত না নানামি ভাইয়া, আমার ওকে ছাড়া এই পৃথিবীতে এক মুহূর্তও চলে না? ও যে জুয়া খেলায় নেমেছে নিজের জীবন আর ফাঁসির দড়ি নিয়ে, আমার বড্ড ভয় হচ্ছে। ও আমাদের এভাবে একলা ফেলে চলে যেতে পারে না!”
নানামি নোবারার কাঁধে হাত রেখে পরম শান্ত গলায় বলল, “নুরশাদকে বিশ্বাস করো নোবারা, ও কখনো হারতে শেখেনি। ও জেলের ভেতরে থাকলেও বাইরের পুরো জগতটা এখনো ওর নিখুঁত ইশারায় চলছে। এর চেয়ে বেশি কিছু এই মুহূর্তে বলা আমার জন্য নিরাপদ নয়।”
নোবারা হঠাৎ এক ঝটকায় নানামির শার্টের হাতাটা শক্ত করে টেনে ধরল, তার চোখে এক পাগলপ্রায় জেদ আর আর্তি ফুটে উঠল,
“একবার, মাত্র একবার আমাকে জেনিনের কাছে নিয়ে যেতে পারবেন? আমি শুধু দেখতে চাই, ও আসলে মনে মনে কি ছক সাজাচ্ছে! ওর শান্ত চোখের ভাষা কেবল আমিই বুঝতে পারি নানামি ভাইয়া…প্লিজ, আমাকে নিয়ে চলুন!”
নানামি নোবারার চোখের মরিয়া চাউনি দেখে না সূচক মাথা নাড়তে পারল না। সে ধীরগতিতে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। সে নোবারাকে জেনিনের সাথে দেখা করাবে। কারণ নানামি নিজেও খুব ভালো করে জানে, জেনিন নুরশাদকে লোহার ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে কোনো দেয়ালে আটকে রাখা যায় না। জেনিন আজ কনডেমড সেলে থাকলেও তার প্রতিটা চাল বাইরে অলরেডি কার্যকর হওয়া শুরু করেছে।
বাইরে তখন ঝিঁঝিঁ পোকার তীব্র ডাক শুরু হয়েছে, অন্ধকার আরও গাঢ় হচ্ছে। নানামি উঠে দাঁড়িয়ে জানালার কাছে গেল। সে দেখল বাগানের গেটের অন্ধকার ছায়ায় ইউজি পাথরের মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখ দুটো চারপাশের অন্ধকারের প্রতিটি মুভমেন্ট নিখুঁতভাবে মেপে নিচ্ছে। জেনিন নুরশাদ জেলে গেলেও তার তৈরি করা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রটোকলগুলো এক চুলও নড়েনি! নোবারা এবং তাদের অনাগত সন্তানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডেই!
<><><><><><><><><>
রাত তখন গভীর। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেমড সেলের অন্ধকার করিডোর। করিডোরের পাথুরে মেঝের ওপর দিয়ে যখন নোবারা ধীর পায়ে হেঁটে আসছিল, তখন তার পায়ের জুতো থেকে কোনো শব্দ বেরোচ্ছিল না। নানামি নিজের পদের শেষ বিন্দুটুকু এবং সব প্রটোকল ভেঙে, আইনি ঝুঁকি নিয়ে আজ মাঝরাতে এই অত্যন্ত গোপনীয় সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছে। নোবারার পরনে একটি সাধারণ সুতির সাদা শাড়ি, চুলে কোনো বাঁধন নেই। তার ফ্যাকাশে মুখের গাম্ভীর্য আজ যেকোনো সম্রাজ্ঞীকেও হার মানায়।
সেলে ঢোকার আগে প্রধান কারারক্ষী নোবারাকে চেক করে লোহার ভারী ও মরচে ধরা তালাটা এক বিকট শব্দে খুলে দিল। জেনিন ভেতরের খাটিয়ার এক কোণে বসে ছিল, তার দুই হাতে এবং পায়ে ভারী ডাণ্ডাবেড়ি। লোহার শিকলগুলো মেঝের সাথে ঘষা লেগে এক তীক্ষ্ণ, কর্কশ ধাতব শব্দ তুলল যখন সে মুখ তুলে দরজার দিকে তাকাল নোবারাকে এই গভীর রাতে সেলের দরজায় দেখামাত্রই জেনিনের চোখে এক মুহূর্তের জন্য তীব্র বিস্ময় খেলে গেল, কিন্তু পরক্ষণেই তা এক গভীর ও মায়াবী বিষাদে ডুবে গেল।
নোবারা কোনো কথা না বলে লোহার গ্রিলের ঠিক ওপাশে জেনিনের মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। মাঝখানে কেবল কয়েকটা মোটা লোহার শিকল। দুজনের কেউই কোনো কথা বলছিল না, শুধু চোখের ভাষা বিনিময় হচ্ছিল।
“কেন এলেন নূরা?” জেনিন অবাধ্য আবেগ চেপে বড্ড নিচু, গম্ভীর স্বরে বলল। “এই কনডেমড সেলের অন্ধকার আর আমার এই শিকল পরা রূপ দেখে কি আপনার খুব ভালো লাগছে? আমি চেয়েছিলাম আপনি আমাকে ঘৃণা করে নিজের জীবন গুছিয়ে নিন।”
নোবারা লোহার গ্রিলটা নিজের দুই হাত দিয়ে শক্ত করে চেপে ধরল। তার চোখ দিয়ে তখন অবাধ্য লোনা জল টপটপ করে গড়িয়ে পড়ছে। সে কান্নাভেজা অথচ এক অটল জেদ মেশানো কণ্ঠে বলল,
“ঘৃণা করা তো বড্ড সহজ জেনিন, কিন্তু ভালোবেসে আপনাকে এই মৃত্যুর খাঁচায় ছেড়ে দেওয়াটা যে কতখানি কঠিন, তা আপনি কোনোদিন বুঝবেন না।”
জেনিন জ্বেদ ধরে বসে থাকতে পারল না। সে ডাণ্ডাবেড়ির ঝনঝনানি শব্দ তুলে গ্রিলের একদম কাছে এগিয়ে এল। নোবারা গ্রিলের ফাঁক দিয়ে নিজের কাঁপতে থাকা ডান হাতটি বাড়িয়ে জেনিনের ধারালো, শক্ত চোয়ালটা ছুঁয়ে দিল। জেনিনের শরীরের তপ্ত ওম আর নোবারার হাতের শীতলতা, শিকলের ওপারে যেন এক অবিনশ্বর প্রেমের মিলন ঘটল!
নোবারা জেনিনের চোখের গভীরের কুচকুচে কালো মণির দিকে পলকহীনভাবে তাকিয়ে রইল। সে দেখতে পেল, জেনিনের চোখের কোণে কোনো ভয় নেই, বরং সেখানে এক অদ্ভুত নকশা আঁকা আছে। নোবারা খুব নিচু স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে বলল,
“আমি জানি জেনিন, আপনি কোনো সাধারণ কয়েদি নন। আপনি এই সেলে বসেও দাবার শেষ চালটা খেলছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আপনি যদি এই ফাঁসির দড়ি সত্যি সত্যি নিজের গলায় পরেন, তবে সেই দড়ির অন্য প্রান্তটা কিন্তু আমার গলায়ও জড়ানো থাকবে। আপনার এই নূরা আপনাকে ছাড়া বাঁচবে না। তাই যা করার, এই ত্রিশ দিনের মধ্যেই করুন!”
জেনিন নোবারার এই অটল ভালোবাসা আর প্রখর দূরদর্শিতা দেখে নিজের হাতকড়া পরা দুই হাত বাড়িয়ে নোবারার হাতটা লোহার গ্রিলের মাঝখানেই নিজের মুঠোয় চেপে ধরল। লোহার শীতল শিকলগুলো নোবারার আঙুলের চামড়ায় বিঁধছিল, কিন্তু সেই যন্ত্রণাতেই নোবারা এক পরম শান্তি খুঁজে পাচ্ছিল।
“নূরা…” জেনিন খুব গভীর আর বুক কাঁপানো কণ্ঠে বলল, “আপনি শুধু আমাদের এই অনাগত প্রাণের জন্য নিজেকে শক্ত রাখুন। এই দেয়াল, এই লোহার কপাট বা ফাঁসির মঞ্চ, কোনো কিছুর ক্ষমতাই নেই জেনিন নুরশাদকে আটকে রাখার, যদি আমার নূরা আমার ওপর বিশ্বাস রাখে। আমি আপনার কাছে ঠিক ফিরে আসব। যেকোনো মূল্যেই!”
নোবারা জেনিনের হাতকড়া পরা হাতের ওপর নিজের কপালটা ঠেকিয়ে দিল। সেলের ভেতরের টিমটিমে হলুদ আলোয় তখন কেবল জেনিনের হৃদপিণ্ডের তীব্র ধকধক শব্দ আর লোহার শিকলের মৃদু আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। জেনিন নোবারার কপালে লোহার গ্রিলের ফাঁক দিয়েই নিজের ঠোঁট দুটো ছুঁইয়ে দিল।
সময় শেষ হয়ে আসছে। করিডোরের ওপাশ থেকে নানামির বুটের ভারী শব্দ পাওয়া যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তাদের এবার আলাদা হতে হবে। জেনিন নোবারার হাতটা পরম মায়ায় আলতো করে ছেড়ে দিয়ে আবার পাথরের মতো শান্ত ও অহংকারী জেনিন হয়ে খাঁচার ভেতর পিছিয়ে গেল। কিন্তু তার চোখের কোণে জমে থাকা এক ফোঁটা জল জানান দিচ্ছিল যে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্রাটের ভেতরটাও আজ প্রেমে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে।
নোবারা ধীর পায়ে পেছনের দিকে সরতে লাগল। লোহার ভারী দরজার ওপাশে নানামির বুটের শব্দ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে, যার অর্থ তাদের এই নিষিদ্ধ ও গোপন সাক্ষাতের সময়টুকু ফুরিয়ে এসেছে।
নোবারা যখন সেলের অন্ধকার করিডোর দিয়ে বাইরের লোহার ফটকের দিকে এক পা এক পা করে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই পেছনের সেই জমাটবদ্ধ নিস্তব্ধতা চূর্ণ করে খুব নিচু, গম্ভীর একটা আওয়াজ ভেসে এল,
“নূরা!”
নোবারার পায়ের গতি থমকে গেল। সে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে পড়ল জেলের স্যাঁতসেঁতে ঠাণ্ডা মেঝের ওপর। কিন্তু তার পেছনে ফিরে তাকানোর মতো মানসিক শক্তি তখন ছিল না। ফিরলেই যদি সে নিজেকে আর ধরে রাখতে না পারে? যদি জেনিনের লোহার শিকলগুলো জড়িয়ে ধরে সে এখানেই বসে পড়ে?
জেনিন খাটিয়া থেকে নামল না, কিন্তু তার ডাণ্ডাবেড়ির শিকলগুলো মেঝেতে অল্প একটু ঘষে গিয়ে এক অদ্ভুত সতর্কতার শব্দ তুলল। সে দেয়ালের ছায়ার সাথে নিজের অবয়বটা মিশিয়ে রেখে নোবারার পিঠের দিকে তাকিয়ে রইল। তার কণ্ঠস্বর এখন এতটাই নিচু যে, নোবারা নিজের কান খাড়া না করলে হয়তো জেলের ভেতরের বাতাসের শোঁশোঁ শব্দের সাথে তা মিলিয়ে যেত।
“এই সাদা শাড়িতে আপনাকে আমার মেঘপরীর মতো লাগছে…” জেনিন আলতো করে হাসল, কিন্তু সেই হাসিতে কোনো তামাশা ছিল না, ছিল এক অদ্ভুত সম্মোহন।
নোবারা কোনো উত্তর দিল না। তার চাদরহীন কাঁধ দুটো সামান্য কাঁপছিল।
জেনিন দেয়ালের দিকে তাকিয়ে একটু দম নিল। তারপর হুট করেই তার গলার স্বর বদলে গেল। হঠাৎ যেন জেগে উঠল আন্ডারওয়ার্ল্ডের ধূর্ত ও তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের ছায়ারাজ জেড। সে খুব সাবধানে, শব্দগুলো চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“তবে… আপনার অ্যাক্টিংটা কিন্তু এবার আরও একটু নিখুঁত হতে হবে নোবারা। বড্ড বেশি খামতি থেকে যাচ্ছে।”
কথাটা শুনে নোবারার মেরুদণ্ড সোজা হয়ে গেল। সে আলতো করে নিজের ওলটপালট হওয়া নিশ্বাসটা সামলে নিয়ে ঘাড়টা সামান্য ঘোরাল। করিডোরের টিমটিমে হলুদ আলোয় জেনিনের
মুখের অর্ধেকটা দেখা যাচ্ছে, যেখানে কেবল তার কুচকুচে কালো চোখের মণি দুটো খরগোশের মতো জ্বলছে!
“অ্যাক্টিং?” নোবারার ফিসফিসানি কণ্ঠে এক টুকরো বিস্ময় আর অভিমান ঝরে পড়ল।
“হ্যাঁ, অভিনয়” জেনিন চোখ দুটো সামান্য সরু করল। “মনে আছে, বছরখানেক আগে যখন আপনি আমার পিএ সেজে, চোখ-মুখে একরাশ মিথ্যে জেদ আর সততার নাটক নিয়ে প্রথমবার নূরশাদ ইন্ডাস্ট্রিতে আমার কেবিনে পা রেখেছিলেন? তখন আপনার ওই জেদী চোখের চাউনি, ওই ধারালো কথা বলা, সবকিছুতে একটা পারফেকশন ছিল। আমি জেনিন নুরশাদ হয়েও এক মুহূর্তের জন্য আপনার সেই অভিনয়ের ফাঁদে পা দিয়েছিলাম।”
নোবারা এবার পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াল। লোহার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে সে জেনিনের দিকে তাকাল। জেনিন খুব ধীর পায়ে গ্রিলের কাছে এগিয়ে এল, তবে এবার কোনো ডাণ্ডাবেড়ির কর্কশ শব্দ হলো না। সে খুব সন্তর্পণে পা ফেলছিল।
“তাহলে এখন কীসের খামতি দেখছেন?” নোবারার কণ্ঠে চাপা উত্তেজনা।
জেনিন তার হাতকড়া পরা একটা আঙুল নোবারার দিকে নির্দেশ করে নিচু স্বরে বলল,
“আজ কোর্টে যখন আমার ফাঁসির রায় হলো… আপনি কাঁদেননি। আপনার চোখ দুটো পাথরের মতো স্থির ছিল। বাইরে শত শত ক্যামেরা, গোয়েন্দা সংস্থার তীক্ষ্ণ নজর আর আমার শত্রুদের চরেরা আপনাকে দেখছিল নোবারা। তারা যদি আপনার চোখে এই পাথুরে জেদ আর অটল ভরসা দেখে ফেলে, তবে তারা বুঝে যাবে জেনিন নুরশাদের খেলা এখনো শেষ হয়নি।”
নোবারা এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। জেনিনের এই প্রখর দূরদর্শিতা তাকে প্রতিটা মুহূর্তে চমকে দেয়। জেলের এই অন্ধকার কালকুঠুরিতে বসে, মৃত্যুর পরোয়ানা মাথায় নিয়েও এই লোকটা বাইরের প্রতিটা চোখের নজরদারি মেপে চলেছে!
জেনিন গ্রিলের ওপর নিজের কপালটা ঠেকাল। নোবারার খুব কাছাকাছি এসে তার ঠোঁটের কোণে আবার ধারালো ম্লান হাসিটা ফিরে এল। সে ফিসফিস করে বলল,
“আমার শত্রুরা…আন্তর্জাতিক ড্রাগ সিন্ডিকেটের পাণ্ডারা…তারা সবাই এখন দেখতে চায় জেনিন নুরশাদের পতনের পর নোবারা নুরশাদ কতটা অসহায়। তারা দেখতে চায় আপনি ঘরের কোণে বসে কাঁদছেন, নুরশাদ ইন্ডাস্ট্রির শেয়ার বাজারে ধস নামছে, আর আপনি একা হয়ে গেছেন। আপনি যত বেশি ভেঙে পড়ার নাটক করবেন, ওরা তত বেশি নিশ্চিন্ত হবে। আর ওদের এই নিশ্চিন্ত ভাবটাই হবে আমার বাইরে আসার সবচাইতে বড় রাস্তা।”
নোবারা নিজের চোখের জলটা এক ঝটকায় মুছে ফেলল। সে বুঝতে পারল, জেনিন তাকে বাইরে একটা ছদ্মবেশী ঢাল বানাতে চাইছে, যাতে শত্রুরা ভাবুক সিংহ সত্যিই খাঁচায় মরে গেছে।
“আমি পারব তো জেনিন?” নোবারার গলাটা সামান্য কেঁপে উঠল। “আপনার ফাঁসির ডেট মাথার ওপর রেখে আমি বাইরে হাসিমুখে এই কান্নার অভিনয় কীভাবে করব?”
জেনিন হাতকড়া পরা হাত দুটো বাড়িয়ে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে নোবারার গালটা আলতো করে ছুঁয়ে দিল। তার আঙুলের ডগাটা নোবারার ঠোঁটের কোণে আলতো করে চেপে বসল
“হাসিমুখে নয় নূরা…কান্নাটা যেন আসল মনে হয়। কাল সকাল থেকে মিডিয়ার সামনে যখন যাবেন, আপনার চোখ দুটো যেন ফোলা থাকে। নুরশাদ ফাউন্ডেশনের ফাইলে যখন সই করবেন, আপনার হাত যেন কাঁপে। চারপাশের মানুষ যেন বিশ্বাস করে, জেনিন নুরশাদকে হারিয়ে নোবারা আকারি আজ জ্যান্ত লাশ হয়ে গেছে।”
নোবারা জেনিনের হাতের তপ্ত স্পর্শে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল। জেনিন তার কণ্ঠস্বর আরও নরম করে আনল,
“আর… নিজের যত্ন নেবেন ভেতরের ওই পুঁচকে আগন্তুকটাকে বড্ড ভালোবাসে ওর বাবা। আপনি যদি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না করেন, যদি সারাক্ষণ এই প্যানিক অ্যাটাক নিয়ে ভাবেন, তবে আমি কিন্তু জেলের ভেতর বসেও শান্তি পাব না। মনে রাখবেন, আমার বেঁচে থাকার নিশ্বাসটা কিন্তু আপনার বুকেই ওঠানামা করে।”
নোবারা চোখ খুলে জেনিনের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে এখন আর কোনো মাফিয়া ডন নেই, আছে কেবল এক মরমী প্রেমিক, যে তার স্ত্রীর শরীরের প্রতিটি স্পন্দন দূর থেকেও টের পায়।
“আমি খাব জেনিন। আপনার সন্তানের জন্য হলেও আমি নিজেকে টিকিয়ে রাখবো,” নোবারা জেনিনের হাতকড়ার লোহার চেইনটা নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরল। “কিন্তু ত্রিশ দিন…জেনিন, সময় বড্ড কম। ওরা জল্লাদ ঠিক করে ফেলবে।”
জেনিন একটু হাসল। সেই হাসিতে এক অদ্ভুত আভিজাত্য আর অহংকার। সে নোবারার কানের লতিটা নিজের হাতকড়া পরা আঙুল দিয়ে আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে বলল,
“মাস্টারমাইন্ডদের জন্য একটা সেকেন্ডই চাল ওলটানোর জন্য যথেষ্ট, আর আমি তো পুরো তিরিশটা দিন পাচ্ছি। বাইরে ইউজি তৈরি আছে। নানামি আজ ডিপার্টমেন্টে নিজের ক্ষমতা ফিরে পেয়েছে। এবার শুধু আপনার পালা। কাল সকাল থেকে পুরো ঢাকা শহর যেন আপনার কান্নার আওয়াজ শোনে, আর ওদিকে পর্দার আড়ালে আমাদের দাবার চালগুলো একে একে পড়তে শুরু করে।”
ঠিক তখনই করিডোরের মোড়ে নানামির বুটের ভারী শব্দটা একদম কাছে চলে এল। নানামি দরজার ওপাশ থেকে নিচু স্বরে বলল,
“নোবারা, জলদি করো। আইজি প্রিজনের স্কোয়াড রাউন্ডে আসছে। আমাদের বেরোতে হবে।”
নোবারা জেনিনের হাতের মুঠো থেকে নিজের হাতটা খুব অনিচ্ছার সত্ত্বে টেনে নিল। তাদের আঙুলের ছোঁয়া ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্তে চামড়ায় এক তীব্র টান লাগল, যেন এক টুকরো প্রাণ ওখানেই রয়ে গেল।
“আমি আসছি জেনিন। আপনার মেঘপরী এবার ইতিহাসের সবচাইতে সেরা অভিনয়টা করে দেখাবে,” নোবারা নিজের শাড়ির আঁচলটা সোজা করে বুক টান করে দাঁড়াল। তার চোখে এখন আর কোনো দুর্বলতা নেই, সেখানে এখন জেনিনের দেওয়া এক নতুন যুদ্ধের আগুন জ্বলছে。
“ইয়াহ, আই ট্রাস্ট ইউ, মাই কুইন!” জেনিন ধীর পায়ে আবার সেলের ভেতরের অন্ধকারের দিকে পিছিয়ে গেল, তার হাতকড়ার শিকলটা শেষবারের মতো মৃদু টুং শব্দ করে বিদায় জানাল।
নোবারা আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে দ্রুত পায়ে করিডোর চিরে বাইরের লোহার গেটের দিকে হেঁটে গেল। সে যখন সেন্ট্রাল জেলের প্রধান ফটক পার হয়ে বাইরের মেঘলা, গুমোট রাতের বাতাসে পা রাখল, তখন তার ঠোঁটের কোণে এক অদৃশ্য, রহস্যময় প্রতিজ্ঞার রেখা। পুরো পৃথিবী জানুক জেনিন নূরশাদ হেরে গেছে, কিন্তু নোবারা জানে, সিংহের আসল গর্জন তো খাঁচা ভাঙার পরেই শোনা যায়!
চলবে ইংশাআল্লাহ……….
(গল্প পড়বো না, এহহহহ, পড়বো না, কত সহজ কথা! এতোটুকুনি সাসপেন্স পেয়ে কিভাবে দমে গেলেন? আপনারা না জেনিন নুরশাদ এর পাঠিকা? শেষ পর্যন্ত না খেলে কেউ তীরে এসে তরী ডোবাবে বলুন?😒🤷🏻♀️)

