#কথা_দিলো_রোদ্দুর (১৮)
#তুসিকা
ফোনের অপরপাশে পিওন লোকটি কি বলছে তাতে সাম্যের কোনো হেলদোল নেই, তাতেই পিওন লোকটা ফোন কেটে দিল। তবে তার ভাবনা ছেদ হলো মুনফি এর ডাকে,, সে সাম্য কে দেখে তার পাশে এসে বলল;
—” ভাইয়া তোমাকে তোমার আম্মু ডাকছে, মামনীর রুমে আছে উনি, তুমি গিয়ে দেখে আসো।
সাম্য মুনফির দিকে তাকায় তখন, আর বলে;
—’ আচ্ছা আমি আসছি,,
মুনফি এই কথা বলেই আবার অনুষ্ঠানের জায়গায় চলে যায়, মুনফি হলো মেহেদীর আপন মামাতো ভাই, তারা সকলে আজকে সকালে এসেছিল, আর সাম্যের বাবা আর মেহেদীর মা নাশিদা বেগম তারা আপন খালাতো ভাই বোন। সে সুবাদে সাম্য হলুদের আগের দিন এসেছিল মাহা র বিয়ের জন্য কিন্ত মা ফাতেমা বেগম আজ বিকেলের দিকে আসেন, কিন্ত তিনি যখন এসেছিলেন সাম্য তখন বাজারে গিয়েছিল, তাই এখন মুনফি কে দিয়ে খবর পাঠান সাম্য যেন তার সাথে দেখা করে।
কিন্তু মুনফি চলে যাবার পর ও সাম্য এখনো সামনের দিকে তাকিয়ে আছে,, সামনে দরজা দিয়ে ফাহা, ফারিন, আর অর্থির আগমন ঘটেছে। সেদিক টায় তাকিয়ে থাকতে সাম্যের যেন ভালো লাগা কাজ করছিল। কম প্রসাধনীর আচ্ছাদন, আর ওই কাজল মাখা দুটো চোখ ই যেন যথেষ্ট একটি মেয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য। আর সাম্য সেই সাদাসিধে সৌন্দর্যের উপর পিছলে পড়েছে,, চোখ দুটো আপনাআপনি মুগ্ধ হচ্ছে।
কিন্ত সেই তাকানো বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না, অর্থিদের পেছনে ফারিশ কে আসতে দেখে কেন জানি সাম্যের মেজাজ খারাপ হলো। নাক মুখ কুঁচকে নিল সাথে সাথে। অর্থিরা শাড়ি পরায় তারা আস্তে ধীরে আসছে, কিন্ত ফারিশ, মুসাব, ইমরান এরা পা চালিয়ে ভেতর আসলো।
সাম্য কে দেখে মুসাব বলল;
—” কিরে আমাদের রেখে চলে আসলি, এখন এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস,,,
সাম্য নিরশ গলায় বলল;
—” কিছু না, আমার ক্যামেরা টা নিয়ে এসেছিস, না কি ফেলে এসেছিস!
—” এত রাগ দেখাচ্ছিস কেন বলতো, এনেছি তো! এই বলে মুসাব সাম্যের কথা ক্যামেরা দিল,, ক্যামেরা হাতে নিয়ে সাম্য ওলোট পালোট করে দেখলো। এরপর ক্যামেরা মুসাব কে আবারও রাখতে দিয়ে ঘরের দিকে পা বাড়ালো,, ফাতেমা বেগম তাকে কেন ডাকছে দেখতে গেল।
এদিকে শাড়ি পড়ায় অর্থির তো ভীষণ লজ্জা লাগছিল, জন সমাগমে এই নিয়ে তার দ্বিতীয়বার শাড়ি পড়া হয়েছে,, তবে আগের মতো এখন নিজেকে নিয়ে এতটা চিন্তা করতে হয়না,, আর না নিজেকে সবার সাথে খাপ ছাড়া বেমানান বস্তুর মতো মনে হয়,, আর বলতে গেলে এখন তো মানুষের বলা কটাক্ষ করা কথা গুলো হেসে উড়িয়ে দেবার মতো সাহস তৈরি হয়েছে অর্থির মনে। তাই তো তারা যখন সবাই ভেতরে গেল, প্রথমেই নিপা তাদের দিকে হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে আসলো।
সব মেয়েরা পড়েছে বেগুনি রংয়ের শাড়ি, যেগুলো নিপারা ই সবার জন্য কিনে এনেছিল, কিন্ত এখন অর্থি, ফাহা, ফারিন, এদের গায়ে লাইট গ্রিন কালারের শাড়ি দেখে নিপা দাঁত কিড়মিড় করে বলল;
—” ফাহা আমি তোদের ম্যাচিং শাড়ি দিয়েছিলাম না,, সেগুলো কেন পড়িস নি,, আর তোরা তিন জন একই রকমের শাড়ি যে পড়বি ওই কথা ও তো আগে বলিস না,,, এসব কি তোরা আগে থেকে প্ল্যান করেছিস।
আগে ফাহা নিপার সব কথায় তাল মেলাতো, কিন্ত নিপার মনে যে হিংসা ভরা সে কিছুদিন ধরে ঠিকই টের পেয়েছে, তা না হলে মাহা র বিয়ে ঠিক হয়েছে যবে থেকে ফাহা নিজে কতবার এসেছিল নিপা কে জিজ্ঞেস করতে তারা বিয়েতে কি কি করবে, হলুদে কি শাড়ি পড়বে, এন্ট্রি তে কিভাবে নাচ তুলবে,, কিন্ত নিপা তাকে ইগনোর করে কিছুই বলে নি তাই ফাহা হেসে হেসে বলল;
—” কি করবো নিপা আপু, আমি যখন তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি হলুদে তোমরা কি শাড়ি পড়বে তুমি ই তো কিছু বলো নি, তাই আমি, ফারিন, অর্থি আপু মিলে ম্যাচিং শাড়ি পড়েছি,, দেখো ঠিক করেছি না।
নিপা রেগে বলল;
—” একদম ঠিক করিস না ফাহা।
তখন অর্থি শান্ত সুরে বলল;
—” কেন ঠিক করে নি নিপা আপু, প্রতিবার তোমরা প্ল্যান করে সব করো তা ও আমাকে বাদ দিয়ে। এবার ওরা আমাকে নিয়ে সব করেছে দেখে তুমি কেন এত রিয়েক্ট করছো বলতো,, তুমি কি জেলাস হচ্ছো আপু, আমাদের কে আলাদা লাগার কারনে।
নিপা রাগে ফুঁসে উঠল,, নিপার রাগ হচ্ছে কিন্ত এখন কি ওদের বলবে ওদের দেখে তার রাগ হচ্ছে, তাই সে হাত মুঠো করে মুখ বাঁকিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।
অনুষ্ঠান শুরু হলো,, সবাই নেচে হইহুল্লোর করে এন্ট্রি দিল, মাহা কে স্টেজে বসিয়ে নিপা আর তার কাজিন কয়েকজন গ্রুপ ডান্স করল,,, সব দেখতে ভালোই লাগছিল,, আর অর্থির আরো ভাল লাগছিল প্রতিবারের ন্যায় এবার এককোণায় না বসে সবার সাথে বসে যখন অনুষ্ঠান দেখছিল।
অর্থি, ফাহা, ফারিন,এরা সকলে এক সাথে ই ছিল। আর নিপা রা তার কাজিন সহ স্টেজের সামনেই বসে ছিল,, বাকিরা ও ছিল যে যার মতো,, কিন্ত অনুষ্ঠান দেখছে কম অর্থিরা বিরক্ত হচ্ছিল বেশী। কারেন্ট চলে গেছে আধঘণ্টার ও বেশি সময় হয়েছে কিন্ত আসার নাম গন্ধ কিছুই নেই । একে তো গরম তার উপর শাড়ি পড়ায় যেন আরো গরম লাগছিল। তবে কারেন্টের এমন দশা দেখে শেষমেশ মেহেদী ভাই জেনারেটর জোগাঢ় করতে পেরেছে। আর তাই দিয়ে পুরো বিয়ে বাড়ি আবারও আলো দিয়ে ভরপুর হয়ে উড়েছে।
আলো আসায় মাহা আপুর ফটোশুট আবারও শুরু হয়েছে, ফটোগ্রাফার একবার তার স্লোমো নিচ্ছে, আরেকবার তাকে বিভিন্ন পোজে দাঁড়াতে বলছে, মাহা আপু ও সেভাবেই করছে।
অর্থি, ফাহা, ফারিন, এরা নিজেরা নিজেদের ফোনে ছবি তুলেছে অনেকগুলো,, ফাহা র নতুন ফোনের ক্যামেরা ফিচার অনেক ভালো, তাই তারা এবার নিজেরাই নিজেদের ফটোগ্রাফার হয়ে গেছে। কিন্ত.. কিন্ত কিছুক্ষণ পর অর্থ এসে তাদের ডেকে যায় মুসাব নাকি তাদের ডাকছে ক্যামেরা তে ছবি তোলার জন্য। যদি তারা তুলতে চায় তবে তারা যেন চলে আসে।
এই কথা শুনে ফাহা র চোখ দুটোতে কেমন হাসি খেলে গেল, আসার সময় শাড়ি পরেছে দেখে মুসাব তার প্রসংশা করলো, তাকে সুন্দর লাগছে বলেছে,, এখন আবার ছবি তুলতে ও ডাকছে,, তাই এই প্রস্তাব ফাহা যেন প্রত্যাখ্যান করতে পারলো না, তাই অর্থি, আর ফারিন কে সাথে নিয়ে গেল মুসাব রা বন্ধু রা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে।
গিয়ে তো আরো অবাক হলো, তারা যেতে মুসাব তাদের কে একটি করে গাজরা দিল। সবার জন্য নাকি সাম্য গাজরা নিয়ে এসেছে, সবাই কে দিল কিন্ত অর্থিরা দেরী করে আসায় তাদের এখন দিচ্ছে। কিন্ত ফাহা, ফারিন, আর জুন কে দিলে অর্থির জন্য গাজরা কম পড়েছে।
—” কি রে সাম্য তুই গাজরা এনেছিস, মানুষ হিসেব করে আনবি না,, এখন তো অর্থি পায় নি,, কি করবো।
অর্থি মন খারাপ করে নি এই কথায়, তবে সাম্য একটু বিচলিত হয়ে বলল;
—” কেন কম পড়বে, দোকানি কে বলেছি তো ষোল জনের গাজরা লাগবে, ওনার পনেরো টা গোলাপের গাজরা ছিল আমি তাই নিয়ে এলাম, কিন্ত বাড়তি অন্য ফুলে ও একটা আছে ভালো করে দেখ। ওটা কাগজের ঠোঙ্গায় আছে ভালো করে দেখ!
মুসাব ঠোঁট চেপে রাখলো,, আর সাম্যের বিচলিত ভাব দেখে কাগজের ঠোঙা নিয়ে অর্থির হাতে দিল।
—-বেলী ফুলের মালা,, এটা দেখে অর্থির মুখে কেমন হাসি ফুটে উঠলো,, বরাবরের ন্যায় মালা হাতে পেয়ে নাকের কাছে নিয়ে প্রাণ ভরে ঘ্রাণ নিল। সাথে সাম্য কে ধন্যবাদ জানাল। সাম্য দেখলো ফুলগুলো পেয়ে অর্থি খুশি হলো,, তাই তার মুখে ও হাসি ফুটে উঠল। আর অকপটে কিছু ছবি ও তুলল।
ফাহা এখন ফারিনের হাতে গাজরা পড়িয়ে দিচ্ছে তাই বেলীর মালা টি হাতে নিয়ে অর্থি অপেক্ষা করলো,,
তখন আবার ফারিশ আসলো তাদের কাছে,, এতক্ষণ সে কোথায় ছিল কে জানে, তবে ফারিশের মুখে আলাদা এক হাসি দেখা যাচ্ছিল,, আর অর্থির হাতে গাজরা দেখে সে আগ বাড়িয়ে তাকে গাজরা টি পরিয়ে দিতে লাগলো,, উপস্থিত সকলেই দেখলো সে দৃশ্য,, মুসাব তো সাম্যের পাশে এসে কানের কাছে ফিসফিস করে বলল;
—” তুই কি জেলাস হচ্ছিস সাম্য,, যাকে উদ্দেশ্য করে দিবি বলে সবার জন্য এত দূর হেঁটে বাজারে গেলি, এতগুলো টাকার গাজরা আনলি, শেষে কিনা অন্য কেউ তার ভাগ বসাচ্ছে,, ইশ এখনো নিজের পছন্দের কথা বলিস না,, দেখবি একদিন অন্য কেউ তোর পছন্দের ফুলটিকে নিয়ে উঠাল দেবে, আর তুই কিছুই করতে পারবি না,, এরপর মুসাব দীর্ঘশ্বাস নিল আবারও বলল; ” ঠিক আমার মতো,, আমি ও এখন কিছুই করতে পারছি না যেটা তুই নিজে ও জানিস।
সাম্য স্টিল অর্থির দিকে তাকিয়ে আছে,, এরপর মুসাবের দিকে বলল;
—” আই এম নট জেলাস মুসাব,, কি বলছিস এসব,, আমি ওদের দেখে জেলাস কেন হবো বলতো,,, আর ফারিশ আমার থেকে কত ছোট! ওকে দেখে আমি জেলাস হবো!
এই সায়েফ সাম্য জেলাস হবে,,, হুমম মোটেও না।
মুসাব চোখ সরু করে তাকালো সাম্যের দিকে, পিঠে কিল বসিয়ে দিয়ে বলল;
—’ ভাঙবি তবু মচকাবি না শা’লা।
—” আমার কিন্ত বোন নেই মুসাব,, শা’লা ডাকবি না,,
—” হুম ডাকবো না,, এখন দে নিজের রাগটা আমার উপর না নিয়ে সবার সুন্দর সুন্দর কয়েকটা ছবি তুল,, আর ফারিশ অর্থির আলাদা করে ও তুলিস, ওদের একসাথে কি ভালো মানায়!
সাম্য এবার বিরবির করে বলল—- সর শা’লা। আর সাম্য কথা মতো সবার ই ছবি তুলে দেয়, সবার ছবিই সুন্দর আসে, কিন্ত কেন যেন ফারিশের ছবি গুলোতে কোনটা তে তার চোখ বন্ধ, কথা বলছে, দাঁত বেরিয়ে আছে, এমন সব ছবি এসেছে।
___
সাম্য জানে সে যে অর্থিকে পছন্দ করে সেটা মুসাব ছাড়া আর কেউ ধরতে পারি নি,, কিন্ত মুসাব এর সামনে সে নিজেই মুখে স্বীকার করছে না,, কিছু জিনিস এমনই জানা ভালো,, স্বীকার করলে যে তার কদর কমে যায়। আর সাম্য নিজেই চায় না অর্থির কাছে সে এত সহজে জানান দিক তার মনের কথা। কিছু জিনিস গোপনে খুব সুন্দর।
আর কাউকে রাগানো তে সেই জিনিস আরো বেশি সুন্দর। যেমন অর্থি কে রাগানো সাম্যের কাছে অন্যরকম মজা বলে মনে হয়। ওর কুঁচকে যাওয়া ভ্রু, বিচলিত হওয়া অক্ষিপল্লব, মুখ ফোঁলানো এতে যে আরো বেশি ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে এটা কি কেউ জানে???
কেউ জানে না,, শুধু সাম্য নামক চঞ্চল প্রকৃতির ব্যাক্তিটির মনে এসব উদ্ভট উদ্ভট জিনিস মনে আনা সম্ভব। আর তার কাজ গুলো ও তার মতো উদ্ভট।
তাই তো অনুষ্ঠানে এতক্ষণ হিন্দি গান বাজছে,, আর সবাই এতে নিজের নাচের প্রতিভা স্বরূপ নাচচ্ছে ও মজা করে,, কিন্ত সবার মাঝে থেকে সাম্য সাউন্ড সিস্টেম এর কাছে গিয়ে ওখানে বসা ছেলে টাকে বলল একটা গান চালাতে,,
আর গানটি সাম্য নিজেই লিখে দিল, আর কথা মতো ছেলেটা ওই গান ই চালালো।
“ও রানী তোয়ার লাইগা পালকি সাজাইছি।
চোখত নজর দিয়া হাজার, ভেল্কি দেখাইছি।
……. তোরে বউ বানামু, গোটা দেশত জানামু
পরছি রে তাই আইয়া…..
তুই চিটাগাংইয়া পোয়া, আই নোয়াখাইল্লা মাইয়া
আই চিটাগাংইয়া পোয়া, তুই নোয়াখাইল্লা মাইয়া।
সবাই তো গান শুনে হাত দুলিয়ে নাচচ্ছে,, কিন্ত অর্থির রিয়াকশন ছিল অবাক করার মতো,, গানটা শুনে অর্থি এতটা অবাক হয়েছে যে তার চোখ দুটো রসগোল্লার মতো লাগছিল পুরো,, অর্থি খেয়াল করেনি গানটা কে চালিয়েছে,,তাই সাম্য তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে,, আর অর্থির রিয়েকশন দেখে হাসছে। অর্থি হয়ত ভাবছে এমন গান কে চালালো,, কিন্ত তাকে উদ্দেশ্য করে সাম্য ই যে গানটি চালিয়েছে, অর্থি তা কখনো ও জানবে না।
———-
প্রোগ্রামের আয়োজন এখন মোটামুটি শেষ হয়ে আসছে,, গ্রামে অনেক রাত হবার কারণে অনুষ্ঠান তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়,, তবে মাহা র হলুদের প্রোগ্রাম শেষ হতে প্রায় রাত একটার বেশি বাজে,, অনেকেই চলে গেছে, অর্থিরা ও এখন চলে যাবে,, তার মায়েরা অনেক আগেই চলে গেছেন, মাহিয়া ভাবী ও লুবান ঘুমাবে বলে চলে গেছেন, বাকিরা রয়েছে অর্থি, ফাহা, ফারিন, জুন, রাইমা বেগম, জুনের বাবা শামীম, আর ফারিশ। এখন তারা সবাই মিলে বাসার দিকে চলে যাচ্ছে।
তবে মেহেদী ফারিশ কে আবারও আসতে বলেছে,, ছেলেদের স্পেশাল জিনিস এখনো বাকি আছে,, সেটা ছাড়া তো সব প্রোগ্রাম ই পানসে,, তাই ফারিশ অর্থিদের বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে গেল। কারেন্ট নেই, তাই তারা ফোনের লাইট জ্বালিয়ে গেল বাড়ি পর্যন্ত।
ফারিশ এর ফোনের চার্জ শেষ দেখে সেটা অর্থি কে চার্জ দিতে দিয়ে শামীম সাহেবের হাতে ছোট টর্চ লাইট টি নিয়েই মেহেদীদের বাড়ির দিকে রওনা হলো। হাটতে হাটতে তার এত কিছুর খেয়াল হলো না,, সে একবার টর্চ অন করছে আরেকবার অফ করছে,, কিন্ত হাটার এক পর্যায়ে হঠাৎই মনে হলো তার পেছনে কেউ আসছে। তাই উল্টো ঘুরে দেখলো,, না পেছনে কেউ নেই,, তবে সামনে ফিরতেই তার অন্তর আত্মা কেঁপে উঠল সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটি অবয়ব দেখে। আর সাথে সাথে ভুত বলেই চেঁচিয়ে বাড়ির দিকে ভৌ দৌড় দিল।
চলবে।
আজকে কিন্ত আরেকটি পর্ব দিয়েছি,, জানাবেন কেমন হয়েছে,, আপনাদের কমেন্ট গুলো পড়তে ভীষণ ভালো লাগে,, আর জানাবেন গানটা কেমন দিলাম।
আর ৪০০+ রিয়েক্ট করে দিবেন, তাহলে তাড়াতাড়ি গল্প দিবো।

