কথা_দিলো_রোদ্দুর (১৭) #তুসিকা

0
1

#কথা_দিলো_রোদ্দুর (১৭)
#তুসিকা
— এই ডাকটা শুনে অর্থির কপাল টি যেন সংকুচিত হয়ে আসলো, নাকের পাটায় রাগ নিয়ে সাম্য কে ক্ষিপ্ত কন্ঠে বলল;

—” এই আপনি আমাকে কি নামে ডেকেছেন এখুনি!

—” কেন নোয়াখাইল্লা বলেছি,, তুমি ফেনীর মেয়ে, আর তোমরা তো ফেনী, নোয়াখালী সব সেম ই। বললে সমস্যা কি। আর তোমার সাথে তো নোয়াখাইল্লা ব্যাপার টা বেশ মানিয়েছে!!

অর্থির রাগের পরদ টা যেন একটু বাড়লো,, তাই চেঁচিয়ে সাম্য কে উদ্দেশ্য করে বলল;
—” এই আপনি কোনোদিন শুনেছেন পান্তা ভাত আর বিরিয়ানি খেয়ে একই রকম স্বাদ পাওয়া যায়,, বোরহানি আর লেবু পানি তে একই রকম ফ্লেভার থাকে,, আর শুনেছেন কখনো ঘোড়া ডিম পাড়ে! শুনেন নি তাই না,, তাহলে আপনি ফেনী আর নোয়াখালী কে সেম বলেন কোন সাহসে,, আপনি জানেন না ফেনী আর নোয়াখালী দুটা আলাদা জেলা

—” বললে কি হবে! যে কদু সেই লাউ,, আমার তো বেশ লাগে ডাকটা,, ভীষণ অ্যাসথেটিক একটা ব্যাপার আছে।

—” অ্যাসথেটিক কে গু’লি মারি,, এই আপনি আর যাকে ই বলুন না কেন, আমাকে অন্তত বলবেন না,, একদম অসহ্য লাগে।

—” সহ্য করে নাও, আমি তো তোমাকে এই নামেই ডাকবো,, আরো বেশি করেই ডাকবো,, নোয়াখাইল্লা,, নোয়াখাইল্লা।

সাম্যের এমন বাচ্চামি দেখে অর্থি যেন ভেতর থেকে ফুলে ওঠে, রাগে এবার টিকতে না পেরে পাশে থাকা জগ থেকে পানি ছুড়ে মারে সাম্যের দিকে। ……….
————
—” এই যে অর্থি,, ভাবনা থেকে যদি বের হও তবে আরেক গ্লাস পানি কি পাওয়া যাবে।

অর্থি বড় বড় চোখ নিয়ে সাম্যের দিকে তাকিয়ে আছে। তার কপাল এখনো কুঁচকানো ই আছে, মুখের ভঙ্গি একটু ও পরিবর্তন হয় নি,, ছোট থেকেই কেন জানি অর্থির এই ডাকটা খুব অপছন্দের,, শুনলেই বিরক্ত লাগে।

তবে তার ধ্যান ভাঙলো আর সে সাম্যের দিকে তাকালো আর হাতে থাকা গ্লাসটির দিকে ও তাকালো। তার মানে এটা তার মনের ভ্রম,,,
সে রেগে গেছে ঠিকই কিন্ত সাম্যের গায়ে পানি মারেনি, মারলে কি হতো!! তিনি নিশ্চয়ই তাকে বেয়াদপ বলতো। কিন্ত সাম্য এই ডাকে তাকে সমোন্ধন করছে কেন। তিনি কি জানেন নাকি অর্থি কে কেউ নোয়াখাইল্লা বললে তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়!

সাম্য নিশ্চয়ই এই ব্যাপারে অবগত নয়, কারন এর আগের বার বৃষ্টিতে প্রথম যখন তাদের দেখা হয়েছিল তখন ও সাম্য বলেছে ফেনী আর নোয়াখালী নাকি এক। তাই অর্থি এখনো আগের মতোই তাকিয়ে সাম্য কে বলল;

—” আপনাকে কে বলল আমি নোয়াখালীর।

সাম্য কোনোরকম হাসি চেপে রাখলো,, অর্থির এমন মিশ্র চেহারা দেখে হাসি পাচ্ছে বটে,
তবে অর্থিকে বুঝতে দিল না, সে যে অর্থ থেকে জেনেছে অর্থি কে নোয়াখাইল্লা বললে চেতে যায়, তাই সে ভাজা মাছ টি উল্টে খেতে জানে না তেমন ভোলা ভালা হয়ে বলল;

—” তুমি নোয়াখালীর না,, আমি তো জানতাম ফেনী আর নোয়াখালী একই জিনিস। আর আমার নোয়াখালীর ফ্রেন্ডরা কয়েকজন আছে, তাদের আবার নোয়াখাইল্লা বললে খুব খুশি হয়, তাই ভাবলাম তুমি আমাকে পানি দিয়েছো, ধন্যবাদ স্বরূপ তোমাকে ও বলি! তুমি খুশি হবা।

সাম্যের কথা শুনে অর্থির ভেতর থেকে মেজাজ টা একটু শান্ত হলো, সাম্য না জেনেই বলেছে, তাই অর্থি বিরবির করে বলল;

—”জীবনেও খুশি হবো না, উল্টো যে এই কথা বলবে তার মাথা ফাটিয়ে দিতে মন চাইবে,, হুমম!

—” কিছু বললে অর্থি!

—” না… না… ভাইয়া.. এই নিন পানি।

সাম্য দ্বিতীয়বার ও পানি খেল, কিন্ত এবার আর কিছু ধন্যবাদ টন্যবাদ কিছু দিল না, এখন কিছু বললে অর্থি সব বুঝে যাবে, তাই গ্লাস টি টেবিলের উপর রেখে সাম্য বাইরে বেরিয়ে পড়ল।
______

এরপর দুপুর গড়ালো,, দুপুরে খেয়ে দেয়ে সবাই কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে নিল,, ফাহা আর ফারিন একই রুমে থাকে, তাদের রুমটা ও বড় তাই অর্থি, ফাহা, ফারিন, সেখানেই থাকবে রাতে। আপাতত তারা তিন আর জুন সহ বিছানায় লুটোপুটি খাচ্ছে। জুনের মা রাইমা বেগম চেয়েছিল জুন কে ঘুম পাড়াবে কিন্ত কে শোনে কার কথা, সেই এক সাথ হয়ে ঘুম দূরে থাক, তারা এমন কথায় মত্ত হলো কখন বিকেল গড়িয়েছে তা আর কেউ ই টের পেল না,,
তবে বাইরে চেঁচামেচির শব্দে তারা শেষমেশ বাইরে বেরিয়ে আসলো,,

আর বাইরে আসতে দেখলো পুকুরে জেলেরা বেড় দিচ্ছে। অর্থির নানার বাড়িটা বেশ সুন্দর, বাড়ির রাস্তায় ঢুকতেই সোজা রাস্তা, আর রাস্তার দুপাশে ইয়া বড় বড় সুপারি গাছ, তাছাড়া ভেতরে বড় উঠান, আরো নানা ফল ফুলের গাছ ই আছে,, দেখলে মনে হবে কোনো হাতে আঁকা দৃশ্য। আর আছে বাড়ির ভেতরে একপাশে বড় ঘাট বাঁধানো পুকুর। সেই পুকুরেই সকলে নিত্যদিনের সকল কাজ করেন, আর যখন কারো বিয়ে শাদি বা ছোট খাটো অনুষ্ঠান হয় এই পুকুর থেকে মাছ তোলা হয়। মাহা র বিয়ের জন্য ও পুকুর থেকেই মাছ তুলছে।

বাড়ির বড় রা সবাই আছে সেখানে,, কোন মাছ কত বড় হয়েছে সেগুলো সাইজ দেখে রেখে চারাপোনা গুলো আবার পানিতে ছেড়ে দিচ্ছে। এসব দেখে অর্থিরা সামনে গেল, আর দেখলো সেখানে সাম্য, মেহেদী, নাঈম, তানভীর এরা আছে,, তারাই তদারকি করছে সব কিছু। মেজো খালামনি রা তিশা আপু আর তার শশুর বাড়ির লোকেদের সাথে বিয়ের দিন আসবে তাই তানভীর ভাইয়া আজ ই চলে এসেছে।

আর তানভীর অর্থিদের উঠানে বসে দেখা মাত্র বড় একটি রুই মাছ হাতে নিয়ে তাদের সামনে ধরে এনে রাখলো,, বাকি রা কোনো রিয়েক্ট না করলে ও অর্থি চেঁচিয়ে উঠল,, সবার মাঝে বসায় অর্থি ভেবেছিল মাছটি তাকে ধরিয়ে দিবে, তাই সে সেখান থেকে উঠে পড়ে। অর্থি মাছ কাটা তো দূর ধরতে ও পারে না,, তার অভ্যাস নেই। বাসায় তার বাবা বড় মাছ কেটে ই আনে, আর মাছের মধ্যে কেমন আঁশটে গন্ধ দেখে সে পরিষ্কার ও করে না। তার মা রেবেকা বেগম যদি পরিষ্কার করে দেয় তবে মাছ ভাজতে পারে।

কিন্ত এখন অর্থির চেঁচানো শুনে সবাই হেসে উঠলো,, সামনে দেখলো তার চেঁচানো শুনে সবাই তাকিয়ে আছে,, সাম্য ও তাকিয়ে আছে,, আর মনে মনে হয়ত বলছে;

—’ এই মেয়েকে ভীতুরানী নামটা দিয়ে হয়ত ঠিক ই করেছে, না হলে এই মেয়ে ক্ষণে ক্ষণে এত ভয় পায় কেন!

–কি লজ্জাজনক কথা। মেয়ে মানুষ মাছ দেখলে নাকি ভয় পায়। ফাহা তো অর্থির থেকে চার বছরের ছোট তবে সে ও ভালো মাছ কাটতে পারে। তাই তানভীর বলল;

—”মাছ দেখে এমন করছিস, বাঘ ভাল্লুক দেখলে কি করতি। আচ্ছা তেলাপোকা দেখলে ভয় পাস!

—” তোলাপোকা দেখলে তো ভয় করে না, কিন্ত তুমি এমন করে মাছটা সামনে আনলে আমি কি করবো,,

—” ঠিক আছে এবার থেকে মাছ খাস না, তোলাপোকা খাস,, ভীতুর ডিম।

অর্থি মুখটা ফুলিয়ে নিল,,, আর ওখানে সামনে বসলো ও না,, ঘরে চলে গেল।
তার দেখা দেখিতে বাকিরা ও ঘরে চলে আসলো। ঘরে আসলে ও বাকিরা সবাই এখনো হাসছে,, এতে অর্থির রাগ হলো না,, এই প্রথম হয়ত কেউ তাকে নিয়ে হাসছে দেখে তার রাগ হলো,, উল্টো সে ও ফাহা দের সাথে হেসে উঠলো। এরপর ফাহা হাসি থামিয়ে বলল;

—” আচ্ছা আপু চল মাহা আপুদের বাড়ি থেকে গিয়ে ঘুরে আসি,, সন্ধ্যার দিকে তো হলুদের প্রোগ্রামের আয়োজন শুরু হয়ে যাবে,,, এখন গিয়ে একটু দেখে আসি চলো।

অর্থি বারণ করলো আবারো, কিন্ত কে শোনে কথা। শেষে টেনে টুনে অর্থিকে নিয়ে তারা চার জন দল বেঁধে মাহা আপুদের বাড়িতে গেল। মাহাদের বাড়িতে যেতে ওই চার পাঁচ মিনিট মতো সময় লাগে।

আর সেখানে গিয়ে দেখলো মাহা আপুদের বাড়ি টা ও ভীষণ সুন্দর করে সাজানো হয়েছে,, তাদের বাড়িটি রাস্তার পাশে একলা বাড়ি হওয়ায় তা আরও আলাদা নজরে আসছে,, অনুষ্ঠান ছাদে করেনি,, বাড়ির ভেতরে বড় খোলা জায়গা আছে সেখানেই সব করা হয়েছে।

মাহা দের বাড়িতে মোটামুটি আত্নীয়স্বজন অনেকেই এসেছে, গ্রামের বাড়িতে বিয়ের ক্ষেত্রে দেখা যায় গ্রামের সকল মহিলা পুরুষ রা মিলে ই সকল কাজ করেন, কিন্ত ফারুক সাহেব কাজ করার জন্য আলাদা লোক রেখেছে,, তাই যাবতীয় সকল টুকিটাকি কাজ তারাই করছে,, আর মেহমান রা সকলে আপতত বসে গল্পগুজব করছে। নাশিদা বেগম মেয়ের মা, আজ বাদে কাল আবার জামাইয়ের শাশুরি হবেন তাই তার কন্ঠস্বর সবার থেকেই একটু জোরেই শোনা যাচ্ছে,, আর সকলে ও তার কথাই শুনছে।

অর্থিরা এসে আর কোনদিকে গেল না, তার মা আর মামিরা সেখানেই আছে দেখে তারা তাদের কাছে গেল। তখন নাশিদা বেগম ভালো করে অর্থি কে দেখলো,, সকালে রেবেকা বেগম রা আসার পর অর্থি এই সবে তাদের বাড়িতে এসেছে।

—” ওমা এটা কে! কিরে অর্থি! এত কিভাবে স্বাস্থ্য কমিয়েছে মেয়েটা। কি রেবেকা মেয়ে কে কি খাবার দাবার দাও না নাকি! আগে কত মো’টা ছিল না, এখন এভাবে ওজন কমিয়েছে!

সবার মাঝে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি লাগলো অর্থির কাছে,, এটা বলার কি ছিল,, তার মামি শারমিন বেগম, রাইমা বেগম, সহ অনেকে ই তো তাকে দেখেছে তাই বলে এমন কথা তো কেউ বলেনি,, কিন্ত নাশিদা বেগমের এই ভরা মেহমানের মাঝে এই কথা বুঝি বলাই লাগলো,,,

—” ওই আরকি মামি!

—” না ওজন টা কমিয়েছিস ভালো হয়েছে, এখন দেখতে তো ভালো ই লাগছে,,

অর্থিকে দেখে তিনি খুশি হয়ে কথাটা বলেছে নাকি খোঁচা দিয়ে বলেছে অর্থি তা বুঝতে পারলো না তবে সে এখান থেকে যেতে চাইলো। তাই ফাহার জামার এক অংশ ধরে তাকে বার বার ইশারা করতে লাগলো,,, কিন্ত তারা চলে যাবার আগে নাশিদা বেগম ফাহা কে বলল নিপার থেকে তাদের জন্য আনা শাড়ি গুলো যেন নিয়ে যায়। সন্ধ্যার আগে তো নিপা মাহা কে নিয়ে পার্লার এ চলে যাবে তাই এখন ই গিয়ে যেন নিয়ে আসে,,

অর্থি ফাহা দুজনে একে অপরের দিকে তাকালো, নিপার থেকে শাড়ি নিয়ে ও লাভ নেই, তারা তো আগেই ঠিক করে রেখেছিল তারা নিজেদের আনা শাড়ি গুলোই পড়বে তবে কাউকে কিছু বুঝতে দিল না,, ফাহা গেল নিপার কাছে। ফাহার পেছনে অর্থি ছিল, নিপা তাকে দেখে ভীষণ শকড হলো, হয়ত ভাবলো অর্থির এই ভালো উন্নতি টা কিভাবে হলো।

তিশার বিয়ের সময় অর্থির জন্য সে কথা শুনেছিল, তার রেশ ধরে এবার সে ইচ্ছে করেই অর্থির জন্য শাড়ি আনেনি,, তাই ফাহা কে দুটো শাড়ি দিয়ে বলল;

—” আহারে আমি তো ভেবেছিলাম অর্থি তুই আসবি না,, তাই তোর জন্য শাড়ি কেনা হয়।

তবে অর্থির এবার দুঃখ লাগলো না, সে মনে মনে খুশি হয়ে বলল;
—” কিছু হবে না নিপা আপু,, আমি তো জানতাম আগের বারের ন্যায় এবার ও এমন কিছু হবে তাই আমি আমার জন্য শাড়ি, জামা এবার সব আগে থেকে কিনে এনেছি। বেশ ভালো করেছি না আপু।

অর্থি নিজে ও ভেবেনি এমন একটা প্রশ্নের উওর দিতে পারবে,, আর নিপা ও হয়ত ভাবে নি অর্থির কাছ থেকে এমন একটা উওর শুনতে পাবে। তাই সকলের সামনে সে একটু অপমানিত বোধ করলো। সরু দৃষ্টিতে অর্থির দিকে তাকালো কিন্ত অর্থি ডোন্ট কেয়ার একটা ভাব নিয়ে সেখান থেকে চলে আসলো। এটা দেখে নিপা যেন আরো রেগে গেল। নিজেকে একটু পরিবর্তন করে যেন বেশিই মুখ খুলেছে,, তাই নিপা খালি ফুঁসলো,, কিন্ত কিছুই করতে পারলো না।

অর্থিরা তখন আর দাঁড়ালো না, তারা বেরিয়ে আসলো সেখান থেকে,, তবে সাজেদা বেগম রা এসেছে তাই রেবেকা বেগম, শারমিন বেগম, আর রাইমা বেগম ও বাড়ির দিকে চলে এসেছে। কিন্ত অর্থ তখনও সাম্য দের সাথেই রয়ে গেছে।


ঘরে তালা দেওয়া ছিল বলে সাজেদা বেগম রা উঠানের সিঁড়িতে ই বসে ছিল,, সাথে ফারিশ, মাহিয়া ভাবী আর তার কোলে লুবান ও আছে। তাদের এভাবে বসে থাকতে দেখে শারমিন বেগম বললেন;

—” আপা আপনারা ওই বাড়ি চলে যেতেন! আমরা সবাই তো ওখানেই ছিলাম।

গরমে আর এতটা পথ হেঁটে এসে সাজেদা বেগম যেন হাঁপিয়ে উঠলেন, —” জিনিসপত্র কই রাখবো তাই তো চলে এসেছি এখানে,,

—” আচ্ছা এখন চলেন ঘরে,, ফ্যানের নিচে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিবেন।

তারা সবাই ঘরে চলে গেল,, লুবান তো ফারিন এর কোলে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। সবাই তখন সোফায় বসেছে, রাইমা বেগম তাদের জন্য পানি আর নাস্তার জন্য রান্না ঘরে দিকে গেল,, আর ফারিশ অর্থির কাছে পাশে গিয়ে বলল;

—” অর্থি তোরে তো চিনাই যাচ্ছে না,, সুন্দর লাগছে কিন্ত তোর গোলুমুলু চেহারাটা ভীষণ মিস করছি,, একদম পুতুল চেহারাটা কি হয়ে গেছে বল! ইশ মানতে পারছি না,,,

—” না মানার কি আছে ফারিশ,, আচ্ছা আমার কথা রাখ তোর কি খবর ওটা বল! কিছুদিন ধরে তোর কোন হদিস ছিল না,,,

—” একটু ব্যস্ত ছিলাম ! বিদেশের জন্য ট্রাই করেছি,, এখন শুধু ভিসা আসুক তারপর তো চলে যাবো,,

–” বিদেশ যাবি,, কেন দেশে কি কাজের অভাব ছিল না কি।

—” ছিল না, তাও ভেবেছি আরকি। আচ্ছা শোন না, এর আগে কিন্ত তোকে একটা কাজ করতে হবে।

অর্থি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো কি কাজ,, সামনে তখন সবাই বসে আছে দেখে ফারিশ বলল; —- এখন না,, পরে বলবো, আর তখন তোকে আমার কাজে কিন্ত সাহায্য করতে হবে,,

অর্থি হেসে বলল;
—” ঠিক আছে!

ফাহা ও তাদের সাথে ছিল, সে কিছু কিছু জানে ফারিশের ব্যাপারে। তাই সে ফারিশ কে বলল;
—” ভাইয়া! কি কাজ আমাকে ও কিন্তু বলবা!

—” ঠিক আছে বলবো, শুধু তুই কাউকে কিছু বলবি না,,

—’ আচ্ছা!
কিন্ত এতক্ষণ ধরে সোফায় বসে মাহিয়া ফারিশ দের ই দেখছিল,, তিনি কি ভাবলো তার মনেই আছে, তবে দুই এ দুই এ চার মিলিয়ে মুচকি মুচকি হাসলো।

কিন্ত ঘরের ভেতর এসে সাম্যের হাসি মাখা মুখটাতে যেন বিষন্নতায় ছুঁয়ে গেল। চোখ দুটো সরু হয়ে উঠল অর্থির সাথে ফারিশ কে দেখে। সে ফ্রেশ হতেই এখানে এসেছে,, তার পেছনে অবশ্য তানভীর, মুসাব, ইমরান ও আছে।

ফারিশ তাদের দেখে একগাল হাসি নিয়ে জিজ্ঞেস করে;
–” সবার কি খবর! কখন এসেছো তোমরা!

বাকিরা সবাই উওর করলো কিন্ত সাম্য কোনো উওর দিল না,, সে এসেছে আবার তাড়াহুড়ো করে তৈরি হয়ে মেহেদী দের বাড়িতে চলে ও গেছে মুসাব দের একা রেখে। এবং যাবার আগে ফাহা কে বলে গেছে তারা যেন তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে চলে আসে মাহা পার্লার থেকে চলে আসবে,, আর গ্রাম দেখে অনুষ্ঠান তাড়াতাড়ি শুরু করে আবার তাড়াতাড়ি শেষ করে দেবে।

কথা মতো সবাই তৈরি হয়ে নেয়,, অর্থিরা তাদের আনা শাড়িটি পড়ে, সাজেদা বেগম আর শারমিন বেগম মিলেই তাদের চার জনকে শাড়ি টি পরিয়ে দিলে, মাহিয়া তাদের সাজতে সাহায্য করে,, মোটামুটি দেড় ঘন্টায় তাদের সবার সাজই মোটামুটি শেষ হয়ে যায়,, আর সবাই বেরিয়ে পড়ে মাহা দের বাড়ির উদ্দেশ্য।

________

চারদিকে অনুষ্ঠানের ঝকঝকে বহর,, সবাই সাজ গোছ করে একদম তৈরি,, কিন্ত অনেকেই এখনও অনুপস্থিত আছে,, তাদের মধ্যে অর্থিরা ও আছে, আর মুসাব রা ও আছে,, সাম্য তাদের আগে চলে এসেছে দেখে বারবার তাদের আসার পথ দেখছে। পরে সামনে অর্থ কে দেখলো,, পাঞ্জাবী পড়ে চোখে চশমা লাগিয়ে শাহরুখ খান হয়ে ঘুরছে, তাই তাকে আটকে জিজ্ঞেস করলো;

—” অর্থ তুমি বাড়ি থেকেই তো আসছো, বাকিরা কখন আসবে!

—” সবাই তৈরি হচ্ছে,, চলে আসবে!

কিন্ত অনেকক্ষণ হয়ে যাবার পরেও কারোরই আসার নাম গন্ধ কিছুই নেই, তাই সাম্য ভাবলো কিছু অফিসের কাজ এগিয়ে রাখবে, এমনিতেই ছুটি নিয়েছিল কয়েকদিন, কিছু ইনফরমেশন যদি জমা দেয় তবে কাজ কমে আসবে। তাই হলুদের গানের আওয়াজ থেকে একটু সামনে এগিয়ে আসে,, আর প্রথমে ফোন দিল অফিসের পিওন এর ফোনে।

দুই তিন বার রিং হবার অফিসের পিওন লোকটি কল ধরে ঠিকই কিন্ত সাম্য নিজে থেকে কিছুই বলতে পারেনা,,, তার চোখ আটকে যায় গেইটের দিকে। সামনে আসা নরম মুখের হাসিটা দেখে। এদিকে তখনও পিওন লোকটা হ্যালো হ্যালো করে যাচ্ছে,,

—’হ্যালো,, আরে ফোন দিয়ে কথা বলেছেন না কেন,,, কে আপনি,, হ্যালো! কোন দরকারে ফোন দিয়েছেন আমাকে!

সাম্যের দৃষ্টি তখন সামনে, ফোনের কন্ঠ যেন এলোমেলো লাগলো তার কাছে তাই সে
বেখেয়ালে পিওন লোকটাকে বলল;

—” আমি …নোয়াখালী, চট্টগ্রাম থেকে বলছি!!

এমন জবাবে প্রথমে পিওন লোকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায়,, পরে বুঝতে পারে তার সাথে হয়ত কেউ মজা করছে তাই লোকটা বলল;

—” কে নোয়াখালী, কে চট্টগ্রাম!! আপনার নাম নোয়াখালী ওই মিয়া রাতের বেলা ফাজলামো করেন,, পেটে কি উল্টা পাল্টা কিছু পড়ছে নাকি ,,ফাজলামোর আর জায়গা পান না,, রাখেন মিয়া।

চলবে।

এর পরের পর্বে যে ধামাকা দিব না,, তা মনে করে ইচ্ছে করছে দুই দিন ধরে ঘুমাই। তবে যাই হোক আপনারা দেখি ভালো হয়ে যাচ্ছেন,, ৪০০+ রিয়েক্ট তুলে দিচ্ছেন,, তাই আমি ও তাড়াতাড়ি লিখে আপনাদের গল্প দিয়ে দিচ্ছি।

তবে কি জানেন বিকেলেই গল্প লেখা শেষ হয়েছিল কিন্ত আমি এখন আপ দিচ্ছি,, তাই আমাকে ভন্ড বলে দোষ দিবেন না কিন্ত। আর জানাবেন সাম্যের রিয়াকশন টা কেমন ছিল। আর বলবেন সাম্যের কোন ডাক টা বেশি পছন্দ হয়েছে, ভীতুরানী না নোয়াখাইল্লা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here