#কথা_দিল_রোদ্দুর (১৯)
#তুসিকা
ফারিশ দৌড় দিয়ে যেতেই সাম্য তার মুখ থেকে সাদা কাপড়টি সরিয়ে হাতে রাখলো,, মুখে যেন এক কুটিল হাসি ফুটে উঠল, তবে পাশ থেকে ইমরান আর মুসাব হো হো শব্দ করে হেসে দিল। সাম্যের কাছে এগিয়ে আসলো দুজনেই।
—” ব্যাপার টা কিন্ত জোস ছিল সাম্য! তুই যে ফারিশ কে এভাবে ভয় দেখানোর জন্য এখানে এসেছিস আমরা তো কেউ ভাবতে পারিনি। কিন্ত তুই ওকে ভয় দেখালি কেন সেটা তো বললি না।
ইমরানের কথায় সাম্য ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলল;
—” ছোট পোলাপাইন, একটু বেশিই ভাব নিচ্ছিল, তাই ভাবলাম একটু বাজিয়ে দেখি। কিন্ত না, পোলা টা সাহসী না,, যেমনে ভয় পাইছে মনে হয় না রাতে আর বেরোনোর সাহস করবে।
তখন মুসাব বলল;
—” তুই যেভাবে সাদা কাপড় মুড়িয়ে ওর সামনে এসে দাঁড়ালি, ফারিশ কি আমরা যে কেউ থাকলেও এমনটাই করতাম। এখন বেচারার ভয়ে যদি জ্বর চলে আসে তখন। আর তুই সাদা কাপড়টি কার কাছ থেকে পেলি।
সাম্য বলল;
—”বাজারে গিয়েছিলাম না, তখনই এনেছি,, আর একটু আধটু শরীর খারাপ হলে ভালো, কাল বেশি তিড়িং বিরিং করতে পারবে না।
সাম্য কথাটা কেন বলেছে ইমরান পুরোটা না বুঝলেও মুসাব ঠিকই বুঝেছে, অথচ সাম্য! সে নাকি জেলাস নয়,, মুসাব দেখছে কিন্ত সাম্য এখনো নিজের মুখে কিচ্ছু স্বীকার করছে না।
—” আচ্ছা চল, এখানে দাঁড়িয়ে থেকে লাভ নেই, ওদিকে আবার আমাদের খোঁজ করবে।
ইমরানের কথায় তখন মুসাব, সাম্য এরা তিন জনের ওই বাড়ির দিকে হাটা ধরলো,, আর যেতে তারা তিনজনেই ফারিশের ব্যাপার টা চিন্তা করে হাসা শুরু করলো।
——–
এদিকে…
অর্থিরা সবে মাত্র এসে রুমে বসেছে,, পড়নের কাপড় টা ও এখন গায়ে আছে,, কারেন্ট ও আসলো মিনিট পাঁচেক হবে। তাই ভাবলো আস্তে ধীরে ফ্রেশ হয়ে ঘুমাতে যাবে,, ঘরের বাকি সবাই ও গরমে নাজেহাল হয়ে এখন কারেন্ট আসায় বিছানায় শুয়েছে মাত্র। কিন্ত চোখ দুটো বোধ হয় আর এক করতে পারে নি,, তার আগে বাইরে থেকে ফারিশের চিৎকার শুনে হড়মুড়িয়ে ওঠে। বাইরে ফারিশ ভূত ভূত বলে দরজা ধাক্কায়। সামনে শামীম সাহেব থাকায় তিনি দরজা খুলে দেন, আর দেখেন ফারিশ ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে হাঁপাচ্ছে।
শামীম সাহেব তখন তাকে ভেতরে এনে জিজ্ঞেস করেন;
—” কি হয়েছে ফারিশ! তুমি এমন করছো কেন!
সামনে তখন সাজেদা বেগম, রেবেকা বেগম, শারমিন বেগম, অর্থি, ফাহা, ফারিন, অর্থ, শারমিন বেগম, রাইমা বেগম এরা সকলেই উপস্থিত হয়েছে, সাজেদা বেগম ও ফারিশের এমন অবস্থা দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলো সে কেন এমন করছে। তখন ফারিশ মস্ত বড় একটা ঢোক গিলল। আর বলল;
—” ভূত দেখছি,,, পুকুরের পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম,, তখন হঠাৎ করে মনে হচ্ছিল কেউ আমার পাশে হাটছে, আমি এত কিছু খেয়াল করিনি,, কিন্ত আওয়াজ পেয়ে যখন পেছন থেকে সামনে ফিরি তখন সাদা কি একটা পুকুরের পাশে সুপারি গাছ আছে না, ওখানে নড়ছে।
উপস্থিত সকলেই তখন অবাক হয়ে ফারিশের দিকে তাকিয়ে আছে,, ফারিন তো অর্থির হাত চেপে ধরেছে কথাটা শুনে।
—” কি বলছিস এসব,, ভূত আসবে কই থেকে। আমরা এখানে থাকি, অথচ আমদের সাথে তো এসব কোনোদিন হয়নি। তুমি ভুল দেখছো ফারিশ।
শামীম সাহেবের কথায় ফারিশ বুকে হাত দিয়ে বলল;
—” না মামা, সত্যিই ভূত ছিল, লাইটের আলো পড়ছে তো ওটার উপর,,, দেখেছি আমি।
সাজেদা বেগম তখন ফারিশের কাছে এসে বসলো,, তাকে দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দিল সারা শরীরে,, শারমিন বেগম তাকে পানি দিল। পানি খেয়ে ফারিশ একটু শান্ত হলো,, তখন সাজেদা বেগম বললেন;
–” এই কারনেই বেশি রাতে তোকে বাইরে থাকতে মানা করি,, রাতে কত কিছু ঘোরে বাইরে,, আর ভূত কি, ওটা জি’ন হবে,,,
—” আপা আমার ও মনে হয়,, তবে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া ওর কোনও ক্ষতি হয় নি। আচ্ছা চলো এখন, ঘুমিয়ে পড়ো, যা হবার তা তো হয়ে গেছে। ফারিশ তুই ও ঘুমিয়ে পড়! একা ঘুমাতে পারবি,, তানভীর রা তো এখনো আসেনি,,
তখন শারমিন বেগম বললেন;
—”ছেলে গুলোর আসতে দেরী হবে আপা, ততক্ষণে না হয় ওর মামা ওর সাথে থাকুক।
—” না মামি পারবো,,
এরপর সবাই যে যার মতো ঘুমাতে চলে গেল, তবে সামনের লাইট টি জ্বালিয়ে রাখলো। কিন্ত অর্থিরা একা ঘুমানোর আর সাহস করলো না,, অর্থির ছোট মামী রাইমা বেগম কে সাথে নিয়েই তারা ঘুমালো। কিন্ত একসাথে শুয়ে তারা ঘুমালো না,, একে অপরের সাথে গুজুরগুজুর ফুসুর ফুসুর করতে থাকলো,, আর বাইরে থেকে কোনো আওয়াজ হলে একে অপরের পাশে আরও লেপ্টে থাকলো। আর তাদের চারজন কে ঘুম বানানোর জন্য রাইমা বেগম তাদের ভূত এর ভয় দেখিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে বললো। আর তারা ও ভয় চেপে রেখে চোখ বুঝলো।
____________
খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই শুয়ে আছে মুসাব,,একহাত তার মাথার পেছনে আর এক হাতে হৃদয় পোড়ানো জলন্ত অগ্নিশিখা।
দৃষ্টি তার ঝিকমিক করা তারাদের পানে। মিটমিট করা জলন্ত হাজারের সৌন্দর্যের নক্ষত্রের মাঝে তবুও কোথায় যেন কি একটা নেই। হ্যাঁ আজ আকাশে চাঁদের দর্শন হয়নি। তাই বোধ হয় তারা দের ও ফেকাশে লাগছে।
এবার মুসাব হাতে থাকা শেষ সি’গারেটের টুকরো টুকু মাটিতে পিসে পকেট থেকে ফোন বের করলো। গ্যালারির পার্সোনাল ফোল্ডার টি চাপ দিতে ফুটে উঠল একটি মেয়ের কতগুলো ছবি। মুসাব সেগুলো দেখতে লাগলো এক এক করে।
ততক্ষণে সাম্য এসে বসেছে তার পাশে। বসে মুসাবের কান্ড দেখছে,, ফেরদৌসের বিয়ে হয়ে যাবার পর মুসাব এখন ও ভুলতে পারেনি তাকে, তাই তো সেই মেয়েটির ছবি এখনো নিজের মোবাইলে রেখে দিয়েছে,,,
—” এভাবে আর কতদিন চলবে মুসাব! কতদিন আর ছবি গুলো নিজের কাছে রাখবি!
মুসাব ফোনের দিকেই তাকিয়ে বলল;
—” নিজের জীবনে যখন স্থান হলো না, ফোনের গ্যালারিতে ই থাকুক না,, আমি দেখবো, মন প্রাণ ভরে দেখবো।
—” ওর বিয়ে হয়ে গেছে মুসাব! সুখে আছে মেয়েটা,, তাহলে ওর কথা মনে করে কেন নিজেকে পোড়াচ্ছিস!
ফিচেল হেসে মুসাব বলল;
—” তুই অর্থির মায়ায় পড়েছিস সাম্য বুঝেছিস,, ফারিশের সাথে ওকে সহ্য করতে পারিস নি বলে যে কান্ড ঘটালি,, এরপর আর কিছু বলবি!
এখন দেখ সব সময় তো আমাদের সব চাওয়া পূর্ণ হয় না,, ভাগ্য ক্রমে অর্থির যদি অন্য কোনো জায়গা বিয়ে হয়! তখন বুঝবি আমার কষ্ট কোথায়!!
তারপর মুসাব নিজের পুরুষালি কন্ঠে গান ধরল;
“যে পাখি ঘর বোঝে না, ঘুরে বেড়ায় বন বাদারে
ভোলা মন মিছে কেন, মনের খাঁচায় রাখিস তারে!!!
মুসাবের কথার অর্থ সাম্য ঠিকই বুঝতে পারছে,, তাই সাম্য মুসাব কে হাত টেনে ধরে উঠিয়ে বলে;
—” ওঠ, দেবদাস হয়ে আর বসে থাকতে হবে না,, এবার তোকে বিয়ে দিবো, দেখবি বউয়ের সাথে থাকলে মন ভালো থাকবে, আর প্রাক্তন প্রেমিকা র জন্য কষ্ট পেলে বৌ কে ধরে কানবি, দেখবি মন হালকা হবে। আর বৌ তোকে উওম মাধ্যম দিয়ে শান্ত করাবে। তখন প্রেমিকার ভূত আপনা আপনি মাথা থেকে সরে যাবে।
মুসাব আড় চোখে সাম্যের দিকে তাকালো, একটা সিরিয়াস সময়ে ও সে মজা করছে,, এই ছেলের জীবনে ও মানুষ হবে, কলেজ লাইফ থেকে যেমন এখনও ঠিক তেমনই রয়েছে। তাই মুসাব একবার তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস নিল, আর বলল;
—” আচ্ছা সাম্য ধর, তুই এখন এসব নিয়ে এত সিরিয়াস নোস,, কিন্ত তুই কাউকে ভালোবাসলি,
তাকে ছাড়া তোর জীবন শূন্য, কিন্ত হঠাৎই দেখলি তার বড় লোক টাকাওয়ালা কারো সাথে বিয়ে হচ্ছে যাচ্ছে,, তখন তুই কি করবি! উওর কি জানিস– তুই কিছুই করতে পারবি না।
সাম্য কিছুক্ষণ চুপ রইল,, এতে মুসাব ভাবলো সাম্য এবার তার পরিস্থিতি বুঝতে পারছে,, কিন্ত সাম্য তো সাম্য। সে মুসাব কে আবারও ভুল প্রমানিত করে বলল;
—” কে বলেছে কিছু করতে পারবো না,, আমি অবশ্যই পারবো,, বিয়ের দিন সকল বন্ধুদের নিয়ে প্রথমে পেট ভরে খেয়ে আসবো, এরপর যখন কবুল বলার সময় হবে তখন জোরে সাউন্ড দিয়ে গান চালাবো;
“চোখেতে ধুলা দিয়া, বড় লোক করলা বিয়া,
এই জ্বালা তো মিটাবো আমি, ডিজে গানের
বেজ দিয়া।
আরে বলবো আজ আমার গার্লফ্রেন্ডের বিয়া।
মুসাব রাগ নিয়ে সাম্যের দিকে তাকালো,, এই ছেলেকে সে প্রথম প্রথম অনেক ভদ্র, ভালো মনে করতো, কিন্ত এই সাম্য আস্ত বদের হাড্ডি।
তাই মুসাব বলল;
—” জীবনটা খুব সহজ তাই না দোস্ত,, আচ্ছা যা আমাদের এই সহজ জীবনের জন্য মন থেকে একখান দোয়া করি—- হে মাবুদ, হে আল্লাহ তোমার দরবারে দুই হাত তুলে দোয়া করছি সামনে যেন অর্থির সাথে ফারিশ বিয়ে টা খেতে পারি,, আ…
আমিন বলার আগে সাম্য মুসাবের মুখ চেপে ধরলো, আর বলল —‘ শা’লা তুই দেখি আস্ত এক বেইমান,, মুখ বন্ধ রাখ। দোয়া করিস ভালো কথা, আমার জন্য কর! তুই ফারিশের বন্ধু না আমার বন্ধু বলতো।
—” কি করবো সাম্য, দোয়া মন থেকে চলে আসে!
—” হয়েছে বাপ বেশি দোয়া করে পেলেছিস,, এখন চল ওই বাড়ি তে, বাকিদের বললে ও লাভ নেই, ওদের ডোজ বেশি পড়ে গেছে পেটে,, ওরা আর এখান থেকে নড়বে না। আমরা গিয়ে শুয়ে পড়ি চল।
—” আরে এত রাতে কি যাবো,, ওদের সাথেই থাকি,,
—”না রে ভাই, এখানের মশা তো নয়, যেন এক একটা ডাইনাসোর! এখানে থেকে মশার কামড় খেতে পারবো না। তার চেয়ে ভালো ওই বাড়িতে গিয়ে ঘুমাই।
—” আচ্ছা চল।
সাম্য, মুসাব চলে গেল। যাওয়ার সময় অবশ্য তানভীর, আর ইমরান গেল তাদের সাথে। শামীম সাহেব ই দরজা খুলে দিলেন তাদের। আর রুমে গিয়ে ফারিশ কে বিছানায় দেখে সাম্যের আবার তখনকার ঘটনা মনে পড়ল, হেসে ও উঠল। আর ফারিশের সাথে একই বিছানায় শুয়ে পড়ল।
__________
গ্রামের সকাল টা শুরু হয় নরম আলোর স্পর্শে, পূব আকাশের সূর্যের আভা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে সবুজ ধান ক্ষেতে। গ্রামের বাড়ি তে সকাল টা বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা থাকে,, অর্থি, ফাহা, ফারিন ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ নিয়ে গেল পুকুর পাড়ে। পুকুর পাড়ে বসে ই তারা হাত মুখ ধুয়ে নিল,, অর্থির একটু ভয়ই লাগছিল, রাতে ফারিশের ঘটনা টা শোনার পর থেকে। তাই তারা মুখ হাত ধুয়ে বাইরে না থেকে ঘরে চলে গেল,, সবাই তখন রান্না ঘরে,, মা মামী, খালা মিলে সকালের নাস্তা বানাচ্ছে।
অর্থিরা তখন তাদের পাশে পিড়ি নিয়ে বসলো,, চুলার সামনে শারমিন বেগম চা বসিয়েছেন,, আর রেবেকা বেগম রুটি ভাজচ্ছে।
অর্থিরা বসতেই তাদের নাস্তা দিল,, কিন্ত জুন এখনো ঘুমাচ্ছে দেখে রাইমা বেগম ফাহা কে বলল তাকে গিয়ে তুলে দিতে। কিন্ত ফাহা ফারিন কে ঠেলছে,, আর ফারিন ফাহা কে ঠেলছে দেখে অর্থি নিজে গেল বড় ঘরে।
অর্থির মামাদের ঘর বেশ বড়, সামনে ড্রয়িং রুম পেরিয়ে ভেতরে রুম গুলোতে যেতে ভাগ ভাগ মতো পড়ে। আর দিনের বেলা যেহেতু সকল লাইট ও অফ তাই অর্থি আস্তে আস্তে হেঁটে ই যাচ্ছিল। কিন্ত প্রথম দু রুম পেরোনের পর হঠাৎ করে সাম্য তার সামনে পড়ে যায়।
অর্থির মাথায় তখন ফারিশের বলা ভুতের কথাই মাথায় আসে,, তাই সে চোখ বন্ধ করে বলে ওঠে—” লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্ ।
সাম্য সবে ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরিয়েছে, সে ও বুঝতে পারেনি অর্থি যে হঠাৎই তার সামনে পড়বে। তবে তার হাসি পাচ্ছে,, অর্থির এমন অবস্থা দেখে।
—” আমি সাম্য,, ভূত নই,, তুমি আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছো।
অর্থি বুকে হাত দিয়ে বলল;
—” আমি বুঝতে পারিনি,, হঠাৎ সামনে চলে এসেছেন তাই ভয় পেয়ে গেছি।
—” ওওও,,, পরের বার দেখে শুনে চলাফেরা করো, বলা যায় না আশেপাশে কত ভূত পেত্নী ঘুরছে,,
অর্থি চোখ বড় করে সাম্যের দিকে তাকালো, তাহলে ভূতের ব্যাপারে উনি ও জানেন না কি,, তাই অর্থি প্রশ্ন করলো;
—” আপনি কিভাবে জানেন এখানে ভূত আছে!
—” কমন সেন্স! গ্রামে এই বিশাল বিশাল বাঁশ বাগান, বড় বড় আম গাছ, জাম গাছ এখানে ওরা থাকে। কেন তুমি জানতে না।
সাম্যের কথায় অর্থি মাথা নাড়লো,, তার মানে সে জানতো না। তাই সাম্য আবারও বলল;
—ঠিক এই কারনে আমার মনে হয় নোয়াখাইল্লাদের বুদ্ধি হাঁটুতে থাকে। আজ দ্বিতীয়বার তার প্রমাণ পেলাম।
অর্থি নাক কুঁচকে বলল;
—”আপনি আমাকে কেন এই নামে সমোন্ধন করছেন বলুন তো, আমি জন্মগত ফেনী র তাই ওই নামে ডাকবে না।
—”তাহলে কি নামে ডাকবো,, ভীতুরানী….
সাম্য আর দাঁড়ালো না, অর্থিকে পেছন ফেলে বাইরে চলে গেল,, আর সাম্যের যাওয়ার দিকে অর্থি তাকিয়ে রইল।
_________
বেলা তখন বারো টা গড়াবে,,
সকলে তৈরি হয়ে নিচ্ছে বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য। মাহা র শশুর বাড়ির লোকেরা বলেছে তাড়াতাড়ি রওনা দেবে,, তাই মাহা দের বাড়িতে তোড়জোর বেশি হচ্ছে। আর এদিকে অর্থি তখন বিছানায় লুটোপুটি খাচ্ছে। তার তো ইচ্ছে হচ্ছে এই ঘরেই বসে কাটিয়ে দিক সময়টা। ফাহা র ঘরের জানালা খুললে কি সুন্দর ধান ক্ষেত দেখা যায়,, আর বাতাস আসে সুন্দর। অর্থি যদি এখন ঘুমায় তবে তার ঘুম আসতে বেশিক্ষণ সময় লাগবে না,,
কিন্ত তার মা বারবার বলছে গোসল করেছে চুল শুকিয়ে নিতে। জামা কোনটা পড়বে তা পড়ে তৈরি হয়ে নিতে। কিন্ত অর্থি তাও শুনছে না। সকালে নাকি মাহা আপু দের বাড়িতে নিপা আপুর কাজিনরা মিলে রং খেলেছে। ফারিন গিয়েছিল, কিন্ত ফাহা আর অর্থি যায় নি। তারা ঘরেই ছিল। অর্থি তার ফুফাতো বোন যুথির সাথে কথা বলল, আর আরশিয়ার সাথে ও কথা বলল অনেকক্ষণ।
কিন্ত অনুষ্ঠান যেহেতু হবে,, বিয়ে বাড়ি,, না গেলে খারাপ দেখায় তাই ফাহা আসার পর তারা সেজে নিল। কালকের মতোই হালকা প্রসাধনীর আচ্ছাদন লাগিয়েছে মুখে।
অর্থির চেহারা শুভ্র, তাই অল্প সাজে ই তাকে ভারী সুন্দর লাগে। বেশি মেকআপ করার প্রয়োজন ই হয় না। তাই তারা দেরী করলে ও সাজতে বেশিক্ষণ লাগলো না। একদম তৈরি হয়ে গেল সামনে। যেখানে সাজেদা বেগম, রেবেকা বেগম, দুই মামি, মাহিয়া ভাবী তারা সকলেই বসে আছে মাহা দের বাড়িতে যাওয়ার জন্য। তাদের কে দেখে সাজেদা বেগম রেবেকা বেগম কে বললেন;
—” কি ভারী মিষ্টি লাগছে আমার আম্মাদের। মাশাল্লাহ।
ও রেবেকা তোর তো কত চিন্তা ছিল, এখন দেখ,, আমার অর্থি কে। কি ভালো লাগে,, তা এমন মেয়ে কে তুই অন্যের ঘরে কিভাবে দিবি বল! তার চেয়ে ভালো ওকে আমার কাছে রেখে দিই। কি বলিস!
—” কি যে বলো না আপা,, পড়ালেখা যখন করছে আরো পড়ালেখা করুক,, তারপর না হয় দেখা যাবে।
—” পরে দেখা যাবে বলে লাভ নেই কিন্ত! দেখিস রেবেকা,, আমি তোর বড় বোন আমার কথা কিন্ত তোকে রাখতেই হবে।
রেবেকা বেগম হাসলেন সাজেদা বেগমের কথায়,, তিনি হয়ত সাজেদা বেগমের কথা এত সিরিয়াসলি নেয় নি। কিন্ত দিন দিন অর্থি কে দেখে সাজেদা বেগম যে মনের ভেতর সুপ্ত ধারণা পুষে রেখেছেন এটা তিনি ভালোই জানেন।
তখন সবার কথার মাঝে অর্থ আবার দৌড়ে আসে, মাহা র বরের গাড়ি আসছে কিছুক্ষণের মধ্যেই,, তারা যেন সকলে ওই বাড়ি যায়। এই কথায় সকলে মাহা দের বাড়ির দিকে রওনা হয়। ঘরে তখন তানভীর আর ফারিশ ছিল,, ফারিশের শরীর আসলেই খারাপ লাগছিল,, তবু ও গোসল সেড়ে তৈরি হয়ে তানভীরের সাথে গেল বিয়ে বাড়িতে।
______
বিয়ে বাড়িতে তখন বরের জন্য ফিতা দিয়ে পথ আটকানো হয়েছে। নিপা, আর তার মায়ের দিকে যে কাজিন গুলো আছে তারা সামনে দাড়িয়ে পথ আটকে আছে,, পথ ছাড়তে টাকার ডিমান্ড ও করছে। আর বরের বাড়ির পক্ষ থেকে যে ছেলে গুলো এসেছে তার এর বিবাদ করছে।
নিপা র স্বভাবতই ওর কথার হেরফের হওয়ায় সে রীতিমত সেখানে ঝগড়া শুরু করছে যেন,, আর এসব এক পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অর্থি, ফাহা, ফারিন, নিপা খালাতো বোন আনিকা দেখছিল সেসব।
—” আচ্ছা ফাহা, তিশা আপুর বিয়ের সময় ও কি নিপা এমন ভাবে ঝগড়া করেছে।
অর্থির কথায় ফাহা বলে;
—” তুমি তো ছিলে না আপু,, প্রথমে তো শুরু করেছিল, কিন্ত দুলাভাই আমাদের কথা মেনে নিয়েছিল তাই নিপা আপু বেশি কথা বলতে পারেনি।
—” ওওও।
তখন আবার মুসাব, সাম্য, তানভীর, মেহেদী, ইমরান এরা যায় সেখানে। তারা বেশি কথায় বাড়ায়নি,, অল্পতে সমাধা করে বর কে ভেতরে নিয়ে আসে। বরের সাথে আসা লোকজন ও হইহুল্লোর করতে করতে এন্ট্রি নেয়। আর সেখান থেকে বরের ফুফাতো ভাই রাতুল তার চোখ পড়ে একপাশে দাঁড়ানো অর্থিদের উপর। আর নিজের সাথের জনকে নিয়ে যাও সেখানে।
—” আপনারা কি সম্পর্কে বৌয়ের বোন হন নাকি!
ফাহা মাথা নাড়ল, তার কথায় রাতুল নামের ছেলেটির মুখে হাসি দেখা দিল, আর বলল;
—” ও তাহলে বেয়াইন হন সম্পর্কে,তা কেমন আছেন বেয়াইন সাহেবা।
অর্থি চুপ করে রইল, ফাহা উওর করলো;
—” জ্বি ভালো,, ফাহা আর উল্টো প্রশ্ন করলো না,, তবে ছেলেটি এবার অর্থি কে দেখিয়ে বলল;
–” উনি কথা বলছে না যে,, ওনার নাম কি!
ফাহা অর্থির দিকে তাকিয়ে দুঃখ সহিত কন্ঠ নিয়ে বলল;
—” না আমার আপু কথা বলতে পারেনা,, তাই তো কথা বলছে না।
এই কথায় অর্থি বড় বড় চোখ নিয়ে ফাহা দিকে তাকালো,, এক কথায় ফাহা এখন তাকে বোবা বানিয়ে দিল। তবে ছেলেটা দুঃখ প্রকাশ করে বলল;
—” ওও,, আচ্ছা আমি রাতুল,, দেখা হয়ে ভালো লাগলো।
অর্থিরা চুপচাপ ই রইল ছেলেটার সকল কথায়, তবে সে ব্যাপার টি আবার সাম্যের নজরে আসলো,, আর সে অর্থিদের কাছে এসে ফাহা কে বলল;
—” ফাহা তোমরা ভেতরে যাও,, মামনি রা তোমাদের ডাকছে।
ফাহা রা ভেতরে চলে গেল,, তবে রাতুল সাম্য কে বলল;
—” আহারে আল্লাহ্র কি কুদরত! এত সুন্দর মেয়ে হয়ত কথা বলতে পারে না, শুনে খারাপ লাগলো।
সাম্য অবাক হয়ে বলল;
—” আপনি কি বলছেন,, কে কথা বলতে পারে না।
—’ কেন,, এই মাত্র ছিল যে মাঝের জন্য,, বেশ সুন্দর ছিল,, কিন্ত মেয়েটা কথা বলতে পারেনা।
সাম্য পেছন ফিরে তাকাল আর বুঝলো ছেলেটা অর্থির কথাই বলছে,, কিন্ত ভ্রু কুঁচকে নিল, অর্থি আবার কবে থেকে কথা বলতে পারে না।
চলবে।
কেমন হচ্ছে জানাবেন, দিনদিন আপনাদের রেসপন্স কমে যাচ্ছে,, তাই পরবর্তী পর্ব পেতে জলদি কমেন্ট করুন,,
হ্যাপি রিডিং

