কথা_দিলো_রোদ্দুর (২৫) #তুসিকা

0
1

#কথা_দিলো_রোদ্দুর (২৫)
#তুসিকা
সন্ধ্যার সেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি পার হবার পর রাতে ফারিশ আসে বাসায়। ততক্ষণে সবাই খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফারিশ আসলে ও তার সাথে কেউ তেমন কথা বলছে না। আর আরশিয়া ও সেই রুম থেকে বের হয়নি। তাই রেবেকা বেগম অর্থি কে দিয়ে তার খাবার টা রুমেই পাঠিয়ে দিল। এর মাঝে সাজেদা বেগমের মেজাজ কিছুটা শান্ত হলে আরশিয়ার সাথে গিয়ে কথা বলেন। নাম, ঠিকানা, পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। আরশিয়া ও সবটা বলেন। তবে সাজেদা বেগম মুখে কিছু না বললে ও রাগটা ঠিক আছে। তিনি অর্থির সাথে ও ঠিক ভাবে কথা বলছেন না।

খাবার টেবিলে যখন জাবের সাহেব হাশেম সাহেব কে বলেন;
—” ভাইয়া, ফারিশ তো চলেই যাবে! কিন্ত হঠাৎ বাড়িতে যদি আরশিয়া কে নিয়ে যান তাহলে তো গ্রামের মানুষ নানা কথাই উঠাবে! তাই বলছি কয়েকজন মুরব্বী মিলে যদি ছোট খাটো একটা অনুষ্ঠান করেন। পরে না হয় ফারিশ দেশে আসলে বড় করে অনুষ্ঠান করবেন আরকি!

জাবের সাহেবের কথায় হাশেম সাহেব সম্মতি দিলে ও সাজেদা বেগম নিশ্চুপ থাকায় তার চোখ দুটো যেন কেমন ভরে উঠল। বিয়ে হতো কার সাথে আর হচ্ছে কার সাথে। কাকে তিনি ঘরের বৌ করবে বলে আশা করেছিলেন আর বৌ হয়েছে কে। তাই চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ার আগে তিনি কাপড় দিয়ে মুছে নিলেন।

রান্না ঘরের দরজার সামনেই অর্থি দাঁড়িয়ে ছিল, সাজেদা বেগমের এমন অবস্থা দেখে নিজে থেকে তার সাথে কথা বলতে চাইলো কিন্ত তিনি আজ প্রথম বার অর্থির থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এতে অর্থি ও ভীষণ কষ্ট পেল। কিন্ত সে জানে সময় গড়াতে গড়াতে সব ঠিক হয়ে যাবে। তাই আবারও রান্নাঘরে চলে গেল। সামনে থাকলেই এখন সাম্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে, যা সে কিছুতেই চাইছে না।

অর্থি র কাছে ওই শান্ত অথচ নির্লিপ্ত চোখ দুটো দেখলে লজ্জা থেকে ও একটু অস্থির লাগে। বুকের ভেতর যেন কেউ হাতুরি পিটিয়ে যায়। তাই মুখ ভোঁতা করে রান্না ঘরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। রেবেকা বেগম তাকে তরকারি র পাত্র গুলো সামনে রাখতে বললে ও যাচ্ছে না।

আর এই নিয়ে রেবেকা বেগম যেন চিল্লাচিল্লি না করে তাই সামনে থেকে পাশ কাটিয়ে চলে এলো রুমে।
আরশিয়া খাবার খেয়ে বিছানায় বসে হুমায়ুন আহমেদ এর অপেক্ষা বইটি তে চোখ বুলাচ্ছিল তখন। অর্থি আসায় বই পাশে রেখে তাকে জিজ্ঞেস করে সবাই কি কথা বলছিল তখন।

অর্থি ও তার পাশে এসে বসল,, মুচকি হেসে বলল;
—” তোমাদের বিয়ে নিয়ে কথা বলছিল আব্বু। এখন মামাদের সাথে আর ফারিশ এর চাচাদের সাথে কথা বলে হয়ত এই সপ্তাহে তোমাদের আবার বিয়ে দেবে। ইশ দেখেছো ফারিশের কি ভাগ্য দুই বিয়ে করবে তাও একজন মানুষ কে।

আরশিয়া ও হাসল, অর্থির দিকে তাক করে বলল;
—” ওরে আমার না হওয়া সতিন! ফারিশের ও দুই বিয়ে ই হতো, তা ও দুই মেয়ের সাথে। আজ আম্মা মানে তোমার খালামনি যেভাবে রেগে গেছে আমি ভেবেছি তুমিই আমার সতিন হয়ে যাবে। কিন্ত দেখ , তোমার আব্বুর কিভাবে সামলে নিল সবটা।

অর্থির হাসি মুখটা উবে গেল, ঠোঁট উল্টো বলল;
—” ভাবী তুমিও! জানো ফারিশ আমার থেকে তিন চার বছরের বড়ো, তা ও আমি ওকে নাম ধরেই ডাকি, আর ওকে নিজ ভাইয়ের চেয়ে অন্য নজরে কখনো দেখিনি।

—” আরে রাগ করছো কেন! আমি তো এমনিতেই বলছি। আচ্ছা বাদ দাও ওসব কথা,, এখন বলো তোমার কাছে যা উপন্যাসের বই, সব ই দেখছি বিচ্ছেদ ময়। হয়েছে নাকি জীবনে এমন কিছু।

অর্থি নিশ্চুপ হলো, নিজের পড়ার টেবিলে সাজানো বইয়ের দিকে তাকিয়ে ভাবুক হয়ে বলল;
—” প্রেম, সুখ, আনন্দ এগুলো তো ক্ষণিকের জন্য, কিন্ত অসম্পূর্ণ গল্প গুলো মনের মাঝে আটকে থাকে। সহজে ভোলা হয়ে ওঠে না বিচ্ছেদ ময় গল্প গুলো। তাই আমি সুখের চেয়ে বিচ্ছেদের গল্প গুলো বেশি ভালোবাসি।

অর্থির এমন কথায় আরশিয়া বুঝলো অর্থি অনেক সংবেদনশীল মানুষ, না হলে এমন চিন্তা ধারার মানুষ খুবই কম আছে এখন। তাই অর্থির চিন্তা ধারায় বাহবা দিতেই হয়। কিন্ত আরশিয়া মজা করে বলল;
—” যার চিন্তা ধারা এমন, সে মানুষ টা যদি কারো প্রেমে পড়ে তাহলে তার ভালোবাসা কি যে গভীর হয়। আর তোমার জীবনে যে পুরুষ আসবে তার ভালোবাসা তো সমুদ্রের মতোই অতল স্পর্শী হবে।

আরশিয়ার এমন কথায় অর্থির তখনকার সাম্যের কথা মাথায় আসলো, আর আরশিয়াকে সাধারণ ভাবে বলল;
—” আচ্ছা ভাবী, ধরো তোমাকে কেউ ভালোবাসে,, তাহলে তোমাকে কি তার দাম দিতে হবে।

আরশিয়া মাথা নেড়ে বলল;
—” হ্যাঁ অবশ্যই দিতে হয়,,, তোমার বিপরীতে থাকা মানুষটির ভালোবাসার বদলে স্নেহ, মায়া, আবেগ, কিছু প্রতিশ্রুতি তো দিতেই হয়,, কিন্ত বেশি কিছু দিতে চাও তাহলে ভালোবাসার দাম হিসেবে তাকে সম্পর্কে খুব সুন্দর একটা পূর্ণতা দাও। যার অন্য নাম হলো বিয়ে। যেমন আমাকে আর ফারিশ কে ই দেখ, কত কিছুর বিনিময়ে আমরা বিয়ে নামক পবিত্র বন্ধনে বাঁধা পড়লাম।

অর্থি কিছু বলবে তার আগে, দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কেউ গলা খাঁকারি দিল। পুরুষালি কন্ঠ স্বর পেয়ে আরশিয়া মাথায় ওড়না টেনে নিল। অর্থি ও সামনে গিয়ে পর্দা ঠেলে দিলে দেখলো সাম্য দাঁড়িয়ে আছে। সাম্যের মোবাইল তার রুমেই চার্জ দেওয়া তার জন্যই এসেছে, এখন হয়ত তারা চলে যাবে তাই কিছু না বলে সাম্যের মোবাইল এনে দিল। সাম্য এই নিয়ে দ্বিতীয়বার অর্থির রুম দেখলো। নজর বন্দি করলো অনেক কিছু। তবে অর্থি তাকে মোবাইল দিলে ও বাড়তি কিছু বলল না, ধন্যবাদ দিয়ে চলে আসলো।

____________

সাম্য, মুসাব, নাঈম এরা তিনজন সবাই কে বিদায় জানিয়ে চলে আসলো নিচে। ফারিশ অবশ্য এসেছে তাদের এগিয়ে দিতে। সাম্য রা যে বাসায় থাকে তা অর্থিদের বাসা থেকে হাটা পথে পনেরো থেকে বিশ মিনিট। তাই ফারিশ তাদের সাথে কথা বলতে বলতে ছোট একটি চায়ের দোকানে বসেছে।

বাসার সবাই ঠিক করে এই বৃহস্পতিবার ই তাদের বিয়ে হবে। মানে হাতে চার দিন আছে। তাই সকল কিছু কাল থেকেই শুরু করতে হবে। ফারিশ সাম্যদের ও অনেক করে জোর করছে কি কি করতে হবে তারা যেন একটু সাহায্য করে। কারণ হাশেম সাহেব কে যদি বিয়ের ব্যাপারে বেশি আয়োজন করতে বলেন তিনি আবারও ক্ষেপে যাবেন। এমনিতেই কাবিনের টাকার কথা শুনে তিনি যা রাগারাগি করেছেন, এতেই ফারিশ সাহস পাচ্ছে না।

তবে ফারিশ এখনো বুঝছে না, তার পরিবার কাবিনের কথাটা জানলো কিভাবে,, তারা এই অল্প কয়েকজন ছাড়া তো এই কথা আর কেউ ই জানে না। তাই ফারিশ বলল;

—’ আচ্ছা আব্বু কিভাবে কাবিনের টাকার কথা জানলো, তোমরা কি কেউ বলছো!

রাতের এই অস্বস্তিকর গরমে ও ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছে সবাই, তবে ফারিশের এমন কথায় সাম্যের জ্বিভ পুড়ে যায়। থতমত খেলে ও স্বাভাবিক থাকে,, বাকিরা ও তখন মাথা নাড়ে। তার সাথে সাম্য ও একই তালে মাথা নাড়ে। মুখটা এমন করে রাখে যেন সে এই কথা মাত্র ই শুনলো। তবে নাঈম বলল;

—” ফারিশ তুই বিয়ের কাগজপত্র দেখিয়ে ছিলি না, ফুফা মনে হয় তখনই দেখলো,, আমার তো তাই মনে হয়, না হলে আর কে বলবে।

নাঈমের কথা শুনে সাম্য তখন চায়ের কাপ টি বেঞ্চে রেখে ফারিশের গালে হাত দিয়ে বলল;
—”ইশ রে জোরেই পড়ছে চড়টা,, পাঁচ আঙুলের দাগ পড়ে গেছে একদম। তবে বলতে ই হবে মাশাল্লাহ আঙ্কেলের হাতে জশ আছে কিন্তু। তবে বিশ লাখ টাকা কাবিন শুনে যেই চড়টা দিয়েছে, তুমি যে বললে ত্রিশ লাখ বাঁধবে তা করলে কি হতো ভাবতে পারছো।

ফারিশ গালে ডলতে ডলতে বলল;
—” থাক, ওই কথা আর বলো না ভাই। কানে এখনো ঝনঝন করছে।

সবাই হেসে উঠল। তবে ফারিশ মুসাব, সাম্য, নাঈম এদের ধন্যবাদ জানায় অনেক করে,, তারা ছিল বলেই তারা ব্যাপার টা বিয়ে পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছে। আর বিশেষ ভাবে সাম্য কে এগিয়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। আর বলে;

—” ধন্যবাদ ভাইয়া,,, আপনার কথা মতো যদি বিয়ে না করে আরশিয়া কে এমনে বাসায় নিয়ে যেতাম, তাহলে হয়ত আম্মু সত্যিই ধরে বেঁধে অর্থির সাথে বিয়ে করিয়ে দিত।

সাম্য তখন একটু কুল সাজলো,, আর বলল;
—” আরে সমস্যা নেই। এটা আমার কর্তব্য ছিল। তবে আমার প্রয়োজনে তোমাকে ও যেন এভাবে পাশে পাই মনে রেখো।

—” জ্বি ভাই,, যা বলবেন আমি সব সময় শুনবো।

এভাবে টুকটাক কথা চলে তাদের মাঝে,, তবে সাম্যরা যে ব্যাচেলর বাসায় থাকে তা আবার বারোটা র পর বন্ধ করে দেবে তাই তারা ফারিশ কে বাসায় চলে যেতে বলে তারা ও হাঁটা ধরল নিজেদের বাসার দিকে। নাঈম সম্পর্কে রেবেকা বেগমদের ভাইপো হয় তাই ওকে কত করে বলল তাদের বাসায় থাকতে। কিন্ত সে ও সাম্য আর মুসাবের বাসায় থাকার জন্য চলল।

বন্ধুর মধ্যে শুধু মুসাব, ইমরান ই জানে সাম্য অর্থি কে পছন্দ করে। তাই নাঈমের সামনে সাম্য কিছু বলে না,, তারা চুপ ই শহরের কৃত্রিম আলোর রেখা ধরে হেঁটে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যের দিকে। কিন্ত হঠাৎ সাম্যকে কেউ পেছন থেকে ঝাপটে ধরলে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় সবাই। সাম্য ভেবেছিল তাকে পা’গল বা মানসিক ভারসাম্য হীন কেউ ধরেছে। তাই চিৎকার করে ওঠে। কিন্ত ব্যাক্তিটি তার সামনে আসলে সাম্য পুরো হতবাক হয়ে যায়। নাঈম ব্যাক্তিটি সম্পর্কে অবগত না থাকলে ও মুসাব ভালোই চেনে তাকে।

তবে সাম্য বুকে হাত দিয়ে ঘন ঘন শ্বাস নিয়ে সামনে আসা ব্যাক্তিটিকে বলে;
—” আমি তো ভেবেছি, আল্লাহ আমাকে পা’গল জড়ায়ে ধরল নাকি,,, কিন্ত তোমাকে তো পা’গল উপাধি দিলেও ভুল হবে। আমার তো এখুনি প্রাণ বেরিয়ে যেত। কোনো কমন সেন্স আছে তোমার!

সামনে থাকা ব্যাক্তিটি মানে রমনী টি খিলখিলিয়ে হাসলো। সাম্য কে এমন ভয় দেখিয়ে সে ভীষণ মজা পেয়েছে বলতেই হবে। তাই হেসে সাম্যের দিকে এক গাল হেসে বলল;
—” কতদিন পর তোমাকে দেখলাম, তাই তো নিজের উৎসাহ ধরে রাখতে পারিনি। তুমি খুশি হওনি বুঝি আমাকে দেখে। আমি আরো তোমাকে কত মিস করেছি জানো এতদিন।

রমনীটির নাম তিথি! তারা একে অপরকে চেনে ইন্টার লাইফ থেকে। কিন্ত মেয়েটিকে দেখে সাম্য খুশি হলো না,, উল্টো তার এমন নেকামো কান্ড দেখে বিরক্ত হয়ে বলল;

—” তুমি ডেনমার্ক থেকে কবে আসলে,, আর তুমি কিভাবে জানো আমি এই শহরে আছি,, আর এই এলাকায় আছি এটা তোমাকে কে বলল!

আর এদিকে মুসাব আর নাঈম একে অপরের মুখ চাইছে। ওরা এমন ভাবে কথা বলছে যেন তাদের দুজন কে তার চোখে পড়ছে না। তিথি মেয়েটি নিজের মতোই সাম্যের সাথে কথা বলছে। আধুনিক সাজ পোশাক, আর ফ্যাশনের দিকে এক কাঠি এগিয়ে রয়েছে। দেখে বোঝাই যাচ্ছে বিদেশী চাল চলন বেশ ভালো ভাবেই গায়ে মেখেছে।

তবে তিথি মেয়েটি সাম্যের এমন বিস্মিত হওয়া দেখে শুধু এক গাল হেসে গেল,, আর বলল;
—” আমি এখানে এসে তোমাকে না পেয়ে তোমার আম্মুকে ফোন করে জিজ্ঞেস করছি,, তিনিই বলেছেন তুমি এখানে আছো,, আর আমি তো এখানে আমার কাজিনের বাসায় এসেছি। কিন্ত কোইনসিডেন্ট দেখ হঠাৎ করে তোমার সাথে দেখা হয়ে গেল,, হয়ত ডেসটিনি ও এক করতে চায় আমাদের বুঝলে।

সাম্য এই কথায় নাক কুঁচকে নিল,, এই মেয়ে অযাচিত বস্তুর মতো তার পেছনে লেগে ই আছে,, এতদিন তো দেশের বাইরে ছিল কিন্ত এখন তাকে জ্বালিয়ে মা’রবে এটা সাম্য ভালো ই বুঝতে পারছে। তবে এর মাঝে পেছন থেকে তিথি র নাম ধরে ডাকতে ডাকতে ওর কাজিন ওর কাছে আসলো। মেয়েটি ও হাঁপিয়ে পড়ছে ওর এসব কান্ডে। ওরা বোধ হয় শপিং করতেই বের হয়েছে। আর সাম্য কে দেখে তিথি দৌড়ে আসে তার কাছে।

আর এদিকে তিথি র এমন কান্ডে তার কাজিন সায়মা তাড়াতাড়ি দোকানের বিল মিটিয়ে ব্যাগ পত্র নিয়ে তার কাছে এসে তার সাথে চিল্লাচিল্লি করতে থাকে তাকে এভাবে একা চলে আসার জন্য। তখন তিথি সাম্য কে দেখিয়ে বলে;

—” আমি তো ওকে ই দেখে এসেছি,, জানিস কতো দিন পর ওকে দেখলাম, আর তুই না জেনে আমার সাথে রাগারাগি করছিস!

সায়মা বলল;
—” বলে আসলেই হতো,, আমি এত চিন্তা করতাম না,,, এখন দেখা হয়েছে,, তাহলে চল বাসায় চল! বেশি দেরী হলে বাসার সবাই চিন্তা করবে।

—” বাসায় যাব মানে,, সাম্যের সাথে তো ঠিক করে কথাই বলিনি,, এখন আমরা রেস্টুরেন্ট এ যাবো, সেখান থেকে খেয়ে দেয়ে তারপর বাসায় যাবো ঠিক আছে না সাম্য।

সাম্য না সূচক মাথা নাড়ল,, সে অনেক করে বলল এখন তাদের বাসায় যেতে হবে কিন্ত মেয়েটি তার কোনো কথাই শুনছে না দেখে সাম্য বলল;

—” আজ তো রেস্টুরেন্ট এ খেতে পারবো না,, আমার একটু সমস্যা আছে!

—” কেন কি সমস্যা!!

সাম্য মুসাব কে ধরে বলল;
—” আমার লুজ মোশান হচ্ছে,, তাই তো ডাক্তার দেখিয়ে ফিরছিলাম। অনেক সিরিয়াস অবস্থা সকাল থেকে বারো বার। তাই আজ যেতে পারবো না।
এরপর সাম্য পেটে হাত ধরে মুসাব কে বলল;
—” মুসাব চল ভাই বাসায় যাবো,, হঠাৎ চাপ পড়েছে!!

তিথি অবাক হয়ে বলল;
—’ এতক্ষণ তো ভালোই কথা বলছিলে,, তাহলে হঠাৎ কি হলো,,, তুমি কি আমার থেকে পালাতে চাইছো সাম্য।

সাম্য দাঁত চেপে আগে ভঙ্গিতে ই বলল;
—” আমি মিথ্যে বলবো কোন দুঃখে! আর প্রকৃতির ডাক কি বলে কয়ে বলো,, হঠাৎ করে ডাকলে সাড়া দিতে হয়, এখন ও অনেক জোরে ডাকছে তাই আমাকে এখুনি বাসায় গিয়ে সাড়া দিতে হবে। মুসাব রিকশা ডাক ভাই বাসায় যেতে হবে।

মুসাব ও সাম্যের কথা বুঝতে পেরে তাড়াতাড়ি রিকশা ডাকলো, তিথি কে কোনো মতে এড়িয়ে রিকশা চেপে রওনা দিল। রিকশায় বসার আগে তিথি সাম্য কে অনেক করে বলল তার বাসার ঠিকানা টা যেন দেয়! কিন্ত সাম্য মনে হলো কথাটা শুনলোই না। তাড়াহুড়ো করে চলে গেল সেখান থেকে।

এদিকে তিথি এমন ব্যবহারে তার কাজিন সায়মা বিরক্ত হয়ে বলল;
—” ছেলেটা তোকে পাত্তাই দিল না, কেমন বিরক্ত হচ্ছিল তোকে দেখে। তা ও তুই জোর করে ওর সাথে কথা বলতে চাই ছিলি কেন।

তিথি ক্রু হেসে বলল;
—” Because, I love him. আর ওর জন্য আমি ওর বিরক্তির কারণ ও হতে দ্বিধাবোধ করবো না! কারণ আমি ওকে এখন খুব করে কাছে চাই।

সায়মা অবাক হয়ে বলল;
—” এসব তুই কি বলছিস,, তোর মাথা ঠিক আছে,, তুই ওনাকে কিভাবে ভালোবাসতে পারিস তোর তো….

সায়মা কে পুরো কথা শেষ করতে না দিয়ে তিথি ওর মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করালো। আর কোনো কথা না বলে সে যা যা করতে চায় তাতে সাথ দিতে বলল।

__________

এদিকে যেন চোখের পলকে পার হলো তিনটে দিন। ফারিশ আর আরশিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হলো ছোট ভাবে। মেহমান বলতে অল্প কিছু জন লোক। মামারা, চাচারা আর খালা রা, এরাই। আর বিয়েটা হচ্ছে অর্থিদের বাসায়। তাই আয়োজন দেখে মনে হয় ওদের বাসায় অর্থির ই বিয়ে লেগেছে। প্রথমে তো ওদের প্রতিবেশীরা তাই মনে করছিলো অর্থির ই বিয়ে , কিন্ত পরে জানতে পারে সবটা। তবে এতে সাজেদা বেগমের মন খারাপ হলো। কিন্ত এই তিন দিনের তিনি ও যথা সম্ভব সবটা মেনে নিয়েছেন। আর অর্থির সাথে ও স্বাভাবিক হয়েছে। আসল রাগটা তো ফারিশের উপর, এতে অর্থির তো কোনো দোষ নেই। তাই তো অর্থি যখন বলে বিয়ের আগের দিন তারা ছোট একটু হলুদের আয়োজন করবে,, হাশেম সাহেব রাজি না হলে ও সাজেদা বেগম রাজি হন।

তাই তো অর্থিদের সামনের রুমে সোফা টি টেবিল সরিয়ে সেখানে সাজানো হয়েছে। সাজানোর সব জিনিস তারা নিজেরাই কিনে এনেছিল,,
অর্থির বাবা, খালু, মামা রা, ফারিশের বড় ভাই লাবীব এরা বিয়ের বাকি বাজার সদাই কিনতে ব্যস্ত ছিল বলে সাম্য, মেহেদী, মুসাব, তানভীর, ইমরান আর নাঈম এরা।

তারা ডেকোরেশন করছিল আর ফারিশ কে দেখে হাসা হাসি করছিল,, বেচারা বিয়ে করে পড়েছে বিপদে। সে নিজে কিছু বলতে গেলেই সবাই তাকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়েছে দিচ্ছে। তবে ফারিশের থেকে বোধ হয় সাম্য আছে আরো মহা বিপদে।

এই কয়দিন তিথি মেয়েটা তাকে ফোন দিয়ে দিয়ে পাগল বানিয়ে দিয়েছে,, তার উপর অর্থি যা আগে তাদের সামনে আসতো, হেসে অন্তত দুই একটা কথা বলতো কিন্ত এখন তার সামনেই আসেনা। এটা নিয়ে সাম্যের মন খারাপ হলে সে ফেইরি লাইট গুলো দেয়ালে লাগালে লাগালে মুসাব আর ইমরান কে বলে;

—” শা’লা তোদের কথায় ওদিন অর্থি কে যদি চিঠি টা না দিতাম, তাহলে মেয়েটা অন্তত সামনে আসতো, দুই দন্ড দেখতে পারতাম। এখন আমার সামনেই আসছে না।

সাম্যের কথা শুনে ইমরান মুখ চেপে হেসে তাকে বলল;
—” আমার মনে হয় তুই অর্থির থেকে কম সুন্দর বলে অর্থি তোকে পছন্দ করছে না। তাই তো তোর সামনে আসছে না।

—” যা,, ফাও কথা এসব!

—” আরে না সত্যিই কথা,, আমার দুই নম্বর প্রেমিকা তো এই জন্য আমার সাথে ব্রেকআপ করেছে। সুন্দর মেয়েরা চায় তার লাইফ পার্টনার ও তার মতো সুন্দর হবে,, তাদের কালো ছেলে পছন্দ না। তাই বলছি একটু সুন্দর হলে দেখবি তোকে পাত্তা দিবে।

—” সত্যি কথা বলছিস,, কিন্ত ফর্সা হবো কিভাবে।

—” ইউটিউব এ দেখিস, অনেক ভিডিও আছে কিভাবে পাঁচ মিনিটে সাদা হওয়া যায়,, ওগুলো ট্রাই করতে পারিস।

ইমরানের কথা সাম্য সত্যিই সিরিয়াস নিয়ে নিয়েছে,, আর ব্যাপার টা যখন অর্থি কে ঘিরে তখন সেটা তো আরোবেশি মনোযোগ সহকারে ই করছে সাম্য। তাই সাজানো শেষ হলে তারা যখন বাসায় যায় তখন সাম্য সত্যি সত্যিই মুখে কফি গুড়ো, দুধ, মধু দিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে মুখিয়ে লাগায়। যা দেখে ইমরান আর মুসাব হাসতে হাসতে শেষ। তবে সাম্য ওদের কথায় কান দিল না,, সন্ধ্যায় যখন অর্থিদের বাসায় যাবে তখন তাকে যেন সুন্দর লাগে, আর অর্থি যেন তার দিকে তাকায় সে চেষ্টায় আছে বেচারা।

#চলবে
( এই দুই দিন কারা কারা অপেক্ষায় ছিলেন!!! তাদের আবদার আমি খুব সহজে মেটাতে পারি,, যদি কমেন্ট করে জানান তবে আজ এই পর্বে রিয়েক্ট দেখে সন্ধ্যার দিকে নতুন একটি পর্ব লিখে দেব। যদি ঠিক রিয়েক্ট না আসে তাহলে ধুম তানা না না একটা কিডনি টাচিং স্পয়লার দিয়ে দুই তিন ধরে আবার হারায় যাবো,, মজা হবে তাই না।

আর গল্প কেমন হচ্ছে জানাবেন।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here