#কথা_দিল_রোদ্দুর ( ৩৩)
#তুসিকা
অর্থি নিজের বাড়ি যাবে শুনে অনেক খুশি হয়,, তাই তো পরদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে ব্যাগ পত্র গুছিয়ে একদম তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নেয়। অর্থির তো মনে হচ্ছে সে কতো দিন পর তার নিজের বাড়ি যাচ্ছে,, সাম্য বহু কষ্টে অর্ধেক বেলার জন্য ছুঁটি ম্যানেজ করতে পেরেছে,, তাই সে অর্থি কে দিয়ে ই চলে আসবে। আর যেদিন সবাই অর্থিদের বাসায় দাওয়াতে আসবে সেদিনই যাবে আর অর্থি কে গিয়ে নিয়ে আসবে। তাই অর্থির একটু খারাপ লাগলো, তার চেয়ে খারাপ লাগলো ফাতেমা বেগম আর নিলু কেউ ই তার সাথে যাচ্ছে না দেখে।
শুধু একজনের জন্য খারাপ লাগছে না সেটা হলো মিচেন নামক প্রানীটির জন্য। এতদিন হলো তবুও তার মিচেনের জন্য ভয় কাটেনি। বিড়ালটি তার পাশে আসে কিন্তু অর্থি ভয়ে পালিয়ে পালিয়ে থাকে। এই তো এখন যে অর্থি চলে যাবে বিড়াল টি তার পাশে ঘুরছে, তার দিকে তাকিয়ে মিউ মিউ করে ডাকছে,, সবার সাথে সাথে বিড়ালটি ও অর্থি কে বিদায় জানাচ্ছে,, আর হাত নাড়াচ্ছে বারবার। মিচেনের এমন কান্ডে সবাই হাসছে,, কিন্ত অর্থির মন খারাপ।
এই কয়দিনে নিলু র সাথে অর্থির এত ভাব হয়েছে, বাসায় থেকে সারাদিন টিয়া পাখির মতো নিলু কথা বলে আর অর্থি কি মনোযোগ সহকারে শোনে কথা গুলো এতেই যেন একাকীত্ব কেটে যায়, তাছাড়া ফাতেমা বেগম কি সুন্দর মেয়ের মতোই ব্যবহার করে, মাঝে মাঝে লোকমা তুলে খাইয়ে দেয়, মাথায় তেল দিয়ে বিনুনি করে দেয়, তাদের সংসারের, সাম্যের, তাদের সবার কত কাহিনী বলে,, অথচ অর্থি ভেবেছিল বিয়ের পর সে কারো সাথে মানিয়ে নিতে পারবে না। কিন্তু দেখো তাদের সকলের মায়ায় এমন ভাবে বাঁধা পড়েছে, তাদের ছেড়ে যে যাচ্ছে এতেই তার কষ্ট হচ্ছে।
আর যার কথা অর্থি মুখে বলে না,, কিন্তু যে মানুষটা তার হঠাৎই ভালো থাকার কারন, যে মানুষ কি নিদারুণ তাকে নিজের ভালোবাসার মোহে আঁটকে রেখেছে তার জন্য আরো মনটা কেমন করছে।
যার ফলস্বরূপ গাড়ি চলা শুরু করেছে থেকে অর্থি সাম্যের সাথে একটা কথা ও বলেনি,,, জানালার দিকে মুখ করে রেখেছে,, তাই দেখে সাম্য ভাবলো, অল্প কিছুদিনের জন্য যাচ্ছে দেখে অর্থির মন খারাপ।
তাই সাম্য ভেতর ভেতর হাসলো, আড়চোখে কয়েকবার অর্থির দিকে ও তাকালো। গাড়ি তখন হাইরোডে চলমান,, অনেক বড় বড় গাড়ি ও তাদের পাশ কেটে যাচ্ছে,, দূর দূরান্তে ছোট ছোট ঘর বাড়ি গাছপালা সব পিছু ফেলে যাচ্ছে,, নিরিবিলি পরিবেশ, তা দেখে সাম্য ব্লু ট্রুথ এ গান ছাড়লো;
“স্বপ্ন টানে,দিলাম পাড়ি,অচিন পথে আপন ছাড়ি।
পেছন ফেলে উঠান বাড়ি! প্রিয় মুখ আর স্মৃতির সারি।
মন বলে চল ফিরি আবার, স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার!
গানটি শুনে অর্থি ঘাড় ঘুরিয়ে সাম্যের দিকে তাকালো,, কিন্ত স্বভাবতই কিছু বলল না,, ঘাড় ঘুরিয়ে দৃষ্টি আবার জানালার বাইরে রাখল তবে এতক্ষণ ধরে রাখা চাপা একটা অনুরাগ ফুঁপিয়ে উঠল। যার শব্দ সাম্য ও শুনতে পেল বৈকি। গাড়ির এক হাতে স্টিয়ারিং রেখে গান বন্ধ করলো,, অর্থির মুখ নিজের দিকে ঘুরিয়ে করুন সুরে বলল;
—” আরে আমি তো মজা করেই চালিয়েছি! তুমি এভাবে কান্না করছো কেন! আরে অর্থি কি হলো! গান বন্ধ করে দিয়েছি,, কান্না করছো কেন।
কিন্ত অর্থি তখনও কিছু বলল না, নত জানু হয়ে একাধারে ফুপিয়ে চলছে,, অগত্যা সাম্য না পেরে গাড়ি এক পাশে দাড় করালো। এবার পুরো অর্থি কাছে গিয়ে নিজের দুহাতে অর্থির মুখটা আগলে নিল। কেঁদে তো চোখ মুখ লাল করে ফেলেছে তার ভীতুরানি। তাই চোখের পানি মুছে দিল, পানি খাইয়ে কান্না কেন করছে তা জানতে চাইলো,, অর্থি ও একটু স্বাভাবিক হলো, কিন্ত তার মনের ভেতরে লুকানো সত্য কথা না বলে বলল;
—” নিলু আপা, আর আম্মুর জন্য মন খারাপ করছে!
সাম্য ভেবেছিল হয়ত বড় কোনও সমস্যা তাই অর্থি কান্না করছে, কিন্ত কারন জেনে সাম্য হাসলো,, তবে দুঃখ ও পেল বটে,, তার বউয়ের সবার জন্য মন খারাপ হয়, সবার জন্য মন কেমন করে কাঁদে ও, নিলূর জন্য, তার মায়ের জন্য অথচ তার জন্য একটি বার ভালোবাসা দেখায় না। তাই সাম্য বলল;
—” আচ্ছা আর কাঁদতে হবে না, ওই বাসায় চলো আম্মু আব্বু কে দেখলে মন আবার ভালো হয়ে যাবে। তবে পরে সাম্য একটু আহত সুরে বলল;
–” আচ্ছা অর্থি সবার জন্য মন খারাপ করবে আমার জন্য করবে না,,
প্রশ্ন টি করে সাম্য অর্থির দিকেই তাকিয়ে থাকে, সাম্য ভেবেছিল অর্থি অত্যন্ত মাথায় নেড়ে হ্যাঁ জানাবে। কিন্ত অর্থির চোখে তখন ও আবার টুপটুপ করে পানি বইতে লাগলো, কিছু বলল না,, তা দেখে সাম্যের মন খারাপ হলো,,
সে ও কিছু বলল না পুনরায় গাড়ি চালিয়ে তিন ঘন্টার পথ পাড়ি জমিয়ে আসল অর্থিদের বাসায়,, জাবের সাহেব ছিলেন না,, তিনি অফিসে ছিলেন,, অর্থ ও স্কুলে ছিল,, বাসায় রেবেকা বেগম ছিলেন। সেখানে গিয়ে অল্প কিছুক্ষণ বসলো সাম্য। রেবেকা বেগম তাড়াহুড়ো করে নাস্তা দিল, রেবেকা বেগম বেলাটা থাকতে বললেন,, কিন্তু শুধু পানি টুকু খেয়ে আবারও রেবেকা বেগমের থেকে নিরব বিদায় নিয়ে রওনা দিল চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য।
অর্থি বুঝতে পেরেছে সাম্য কষ্ট পেয়েছে। তখন অর্থির কি যে খারাপ লাগলো,, মানুষ টা তাকে নিজে থেকে জিজ্ঞেস ও করেছিল তার জন্য অর্থির মন কেমন করছে কিনা,, কিন্ত অর্থি তার কোনো উওর ই দেয়নি,,
বাসায় থাকতে অফিস যাওয়ার সময় সাম্য হাসি মুখে অর্থি কে বিদায় জানাতো, বারবার বলতো যদি কিছু প্রয়োজন হয় তাকে ফোন করে যেন বলে,, যখন যা খেতে ইচ্ছে হবে সাম্য কে আগে থেকে জানাতে,, সাম্য অফিস থেকে ফেরার পথে নিয়ে আসবে।
কিন্তু আজ সাম্যের এমন নির্লিপ্ত বিদায় অর্থি কে শান্তি তে থাকতে দিচ্ছে না।
তখন উওর দিলে হয়ত সাম্য খুশি হতো,, হয়ত তাকে হাসি মুখে বিদায় ও জানাতো,,,
তাই সাম্যের কথা ভেবে অর্থি নিজেই নিজেকে বিরবির করে বলল;
—” তুই আসলেই একটা ভীতুরানী অর্থি,, তখন ওনাকে বললে কি হতো তুই ওনার কথা ভেবে কষ্ট পাচ্ছিলি,গাধা একটা। এবার থাক সারাদিন ওনার চিন্তায় মন খারাপ করে,, কষ্ট একা একা তুই এসবের ই যোগ্য!
এরপর আসলেই সারাদিন অর্থির মনটা ভালো গেল না,, অর্থ স্কুল থেকে ফিরে একদম বোনের পাশেই ছিল সারাটা সময়,, আগের মতো দুই মাথা একসাথ করে মোবাইল দেখলো, কিন্ত অর্থি একবার গ্যালারিতে বিয়ের ছবি গুলো দেখে, তো আরেকবার কার্টুন দেখে, তো আরেকবার ড্রামা চালায়,
অর্থির এমন ভাব দেখে শেষ মেষ অর্থ বিরক্ত হয়ে তার কাছ থেকে উঠে আসে।
রুমে একা একাই শুয়ে থাকে অর্থি! রেবেকা বেগম এসে অবশ্য থাকে অনেকক্ষণ,, মা মেয়ের মাঝে কথা হয়,, আগে কথা টপিক থাকতো পড়াশোনা আর আত্নীয়স্বজন দের নিয়ে,, কিন্তু এখন মা মেয়ের মাঝে কথা হয় সংসার নিয়ে। বেশ অনেকক্ষণ ধরেই মা মেয়ে কথা বলে,, আর সাম্যের পরিবারের এমন ভালো আচরন শুনে রেবেকা বেগম বলেন;
—” যাক আল্লাহ ভাগ্য করে একটা জামাই দিয়েছে আমার মেয়ের কপালে,, না হলে তোর জন্য আমার চিন্তার কি শেষ ছিল,, আলহামদুলিল্লাহ সবকিছুর জন্য। যা এখন শুয়ে থাকিস না, ওঠে হাত মুখ ধুয়ে নামাজ পড়ে নে জলদি। নামাজ শেষ হলে ভাত বাড়বো।
এরপর অর্থি নামাজ শেষ করে, খাবার খেয়ে যেই রুমে এসে বিছানায় পড়ে, এপাশ ওপাশ করতেই তার বেলা ফুরোয়,, তবে এর মাঝে সাম্য দুপুরে তাকে ফোন ও দেয়নি,, অর্থি দেবে ভেবেছিল, কিন্তু ভাবলো সাম্য যদি ব্যস্ত থাকে তাই আর দেয়নি। আর সন্ধ্যার দিকে যখন জাবের সাহেব এলেন অর্থি যেন সমস্ত মন খারাপ ভুলে গেল। বাবার সান্নিধ্য পেয়ে তার মনটা হালকা হলো,,
মেয়েকে পেয়ে জাবের সাহেবের মনে হলো তার ঘরের সুখপাখি বুঝি ফিরে এলো,, কত কথা বলল মেয়ের সাথে,, আর আবদার করলেন সন্ধ্যার চা যেন অর্থি নিজে করে, কয়দিন রেবেকা বেগমের তৈরি চা খেয়ে তার তৃপ্তি মিটেনা যেন। তাই অর্থি নিজেই চা বানিয়ে আনে সবার জন্য।
বাইরে পরিবেশ এখন দ্রুত ই নিজের রং বদলায়,, বিকেল পর্যন্ত দেখেছিল কি কড়া রোদ অথচ সন্ধ্যার নামার সাথে সাথে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি রোদের তপ্ত ভাবটা কমে কি সুন্দর ঠান্ডা ঠান্ডা মুহুর্ত। এমন সময়ে চা খেলে ভালোই লাগে,, তবে জাবের সাহেব চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলে;
—”আম্মা শুনেছি জামাই এসেই নাকি চলে গেছে,, কিছু নাকি খায় ও নি,, তা আবার আসতে বলোনি তাকে।
জাবের সাহেবের কথায় অর্থি চুপ করে গেল,, আবার মন খারাপ হলো,, অর্থি মাঝে মাঝে ভেবে পায় না, তার এত মন খারাপ আসে কিভাবে,, তবে জাবের সাহেবের সামনে তা প্রকাশ করলো না,, তার সাথে সাম্যের একবারও কথা হয়নি এখন পর্যন্ত। তাই অর্থি মুখে হাসি ভাব রেখে বলল;
—” ওনার অফিস আছে আব্বু তাই আসেনি,, তবে বলেছে পরশুদিন আসবে।
—” ওহ আচ্ছা,, তা কথা হয়েছে বেয়াইনের সাথে,, কেমন আছেন ওনারা।
—” জ্বি আব্বু ভালো আছে।
এরপর এভাবে টুকটাক কথা হয় তাদের সবার মাঝে,, জাবের সাহেব টিভিতে খবর দেখতে বসলেন,, অর্থ রেবেকা বেগমের বকা খেয়ে পড়তে বসলেন,, আর রেবেকা বেগম রাতের রান্নার আয়োজন করতে লাগলেন,, অর্থি অবশ্য তাকে সাহায্য করে রুমে এসে বসেছে।
______
কথায় আছে দূরত্ব বাড়লে নাকি ভালোবাসা গুলো বেশি করে অনুভব করা যায়,,
অর্থির ক্ষেত্রে ও তাই হচ্ছে,, সাথে বাইরে এখন বৃষ্টি খানিকটা জোরেই পড়ছে,, রুনু ঝুনু শব্দ তুলছে চারপাশে,, তাই যেন প্রিয় মানুষটার সান্নিধ্য একটু বেশিই মনে পড়ছে অর্থির। তাই সে নিজেই ফোন দিল সাম্যের ফোনে। কয়েকবার রিং হবার পর গিয়ে সাম্য ফোন রিসিভ করল, অর্থি ই প্রথমে বলল;
—” এত বার কল দিয়েছি ধরছেন না যে,,
অপর পাশ থেকে সাম্যের শান্ত আওয়াজ শোনা গেল,,
—” একটু ব্যস্ত ছিলাম,, তা ফোন করলে, কিছু কি হয়েছে!
—” কিছু হয়নি,, এমনিতেই কল দিলাম,, দুপুরে ফোন দেননি তাই।
—” ওও তোমার মনে পড়লো বুঝি এখন!
—” (….)
অর্থি কিছুই বলল না উওরে,, তখন সাম্য আবার বলল;
—” তা হঠাৎ ফোন দিয়েছো,, বাসার সবাই কেমন আছে! অর্থ কেমন আছে!
অর্থির কথা বাড়াতে মন চাইল না,, সে যেন নির্দ্বিধায় সাম্য কে বলল;
—” আপনার কথা মনে পড়ছে,, সাথে আপনাকে দেখতে ও ভীষণ ইচ্ছে হচ্ছে,,,
—’হুমমম!
–’ খালি হুম,, আর কিছু বলবেন না,,,
—” কি বলবো,, তোমার মন, তোমার ইচ্ছা,, যখন খুশি তখন যে কাউকেই মনে করতে পারে,, অস্বাভাবিক এর কি আছে।
এমন উওর শুনে অর্থি বুঝতেই পারছে সাম্য তার উপর কি পরিমাণ অভিমান করেছে, তবে বাকি কথা বলার আগেই সাম্য রাখছি বলে ই ফোন রেখে দিল,, অর্থি ফোন কানে নিয়ে যেন বেকুব বনে গেল,, সাম্য এইভাবে ফোন রেখে দিল,, মনের ভেতর যেন পাথর সম কষ্ট জমা হলো,, গলা ও ভার হয়ে চোখের কার্নিশে বিন্দু বিন্দু পানি জমা হলো। কি করবে বুঝতে পারলো না। তাই ফোন একপাশে রেখে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে রইল। চোখে মুখে যেন আঁধার নেমে এলো। কিন্ত তখন ই সামনের রুম থেকে ভারী কথার আওয়াজ শোনা গেল,, মা বাবা যখন আছে তখন কে এসেছে তা জানার প্রয়োজন বোধ করলো না অর্থি।
তবে অর্থ চট জলদি রুমে আসলো, আর বলল;
—” ওই সাম্য ভাইয়া এসেছে, তাড়াতাড়ি সামনে আয়।
অর্থি ঘাড় ঘুরিয়ে অর্থের দিকে অবাক হয়ে তাকালো,, এত রাতে সাম্য কিভাবে আসবে, আর একটু আগেই তো কথা হলো আসলে নিশ্চয়ই জানাতো, তাই ভাবলো অর্থ হয়ত মজা করছে,, তাই অর্থি বলল;
—” মজা করছিস,, উনি কিভাবে আসবে।
—” বিশ্বাস করলে কর! না করলে সামনে এসে নিজে চোখে দেখে যা।
অর্থ মজা করছে বলে মনে হয় না তাই বিছানা ছেড়ে অর্থি সামনে আসে; আর দেখে সত্যিই সাম্য এসেছে। জামা ভিজে গেছে, কপাল চুইয়ে পানি পড়ছে, বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে তাই হয়ত ভিজে গেছে। তাকে দেখে অর্থি অবাক হলেও বাকিরা সবাই অনেক খুশি হয়েছে। কিন্ত অর্থি যেমন হা করে তাকিয়ে এটা দেখে রেবেকা বেগম তাকে বললেন সাম্য কে নিয়ে রুমে যেতে ভেজা জামা পাল্টে যেন অন্য জামা পড়ে নেয়,, না হলে ঠান্ডা লেগে যাবে।
অর্থির অবাক হওয়ার রেশ বোধ হয় কাটেনি তাই সে শুধু মাথা নাড়ে,, তবে সাম্য রুমে আসতেই সে তার পিছু আসে আর জিজ্ঞেস করে;
—” আপনি আসবেন যে আমাকে বলেন নি কেন,, আর ফোন করেছি যে ও তো কিছু জানান নি।
চুল ঝেড়ে, ওয়াশরুমে দিকে যেতে যেতে সাম্য বলে;
—” কারোরই কি আমার জন্য চিন্তা করার ফুরসত আছে নাকি যে তাকে ঘটা করে আমার আসার খবর জানাবো।
—” এই আপনি রাগ করছেন কেন??
কিন্ত সাম্য কিছু বলল না,, ফ্রেশ হয়ে এসে জাবের সাহেবের সাথে কথা বলল,, অর্থি তখন রান্না ঘরে খাবার বাড়ছে,, আর বারবার সাম্যের দিকে তাকাচ্ছে,, কিন্ত সাম্য অর্থির দিকে তেমন একটা তাকাচ্ছে না, খাবার খাওয়ার সময় ও একই ঘটনা হলো,, সাম্য যেন অর্থিকে পাত্তাই দিচ্ছে না। একে তো এমন অবস্থা তার উপর বৃষ্টি পড়ায় কিছুক্ষণ আগে কারেন্ট ও চলে গেছে,, শেষে সবাই মোমবাতি জ্বালিয়ে খাবার খেল। সাম্য তো রুমে চলে গেল খাবার খেয়ে, কিন্তু অর্থি রেবেকা বেগম কে সাহায্য করে রুমে আসতে আসতে একটু দেরী ই হয়েছে,, ততক্ষণে এসে দেখেছে সাম্য বিছানায় শুয়ে পড়েছে। মোমবাতির আলোয় তার সুঠাম পিঠের অবয়ব দেখা যাচ্ছে,,
—” আপনি কি ঘুমিয়ে পড়েছেন,,
সাম্যের পাশ থেকে উওর এলো না,, অর্থি আবারও বলল;
—” আমি জানি আপনি ঘুমাননি,, আপনি আমার সাথে কথা বলছেন না কেন বলুন তো! ওই… এদিকে তাকান,, কি হলো!
সাম্য সত্যিই ঘুমোয় নি,, অর্থির এমন বিচলিত ভাব দেখে ভেতর ভেতর সে মজা পেল, কিন্ত খানিক বাদে ফোঁপানোর শব্দ শুনে উঠে বসে,, দেখে তার ভীতুরানী বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বসে আছে,, মোমবাতির আলো আড়ছে পড়ছে অর্থির সারা মুখ জুড়ে, তাতে যেন এই রমনীকে মোহনীয় লাগছে,, অভিমানের ভান ধরে থাকবে মনে করলেও সাম্য পারলো,, এগিয়ে গিয়ে বলল;
—” কি হলো এখন আবার, কান্না করছো কেন! এই অর্থি কি হলো!
নাক টেনে অর্থি বলল;
—” আপনি আমার সাথে কথা বলছেন না কেন! আপনি কেন আমার আমার উপর রাগ করেন আছেন!
সাম্য অর্থির চোখ দুটো মুছে দিয়ে বলল;
—” সামান্য কিছুক্ষণ কথা বলিনি দেখে তোমার এই অবস্থা, তাহলে ভাবো আমার কি হাল। আর আমার ভীতুরানীর উপর যদি রেগেই থাকতাম তাহলে এতদূর থেকে দেখার জন্য কি আসতাম। আমার ভীতুরানি কি এটা বুঝছে না। আসলে আমার ভীতুরানী ভীতুর সাথে সাথে ভীষণ বোকা!
প্রকৃতির ধরন ই বোধ হয় এটা,, মেয়ে মানুষ ভালোবাসার কাঙ্গাল। একটু খানি ভালোবাসার পরশ পেলে সব দুঃখ কষ্ট বোধ নিমিষেই ভুলে যেতে পারে,, আর অর্থির মনে সাম্যের ভালোবাসা নয় এই যেন এক অদৃশ্য মায়া জন্ম নিয়েছে,, তা যেন কোনো ভাবেই উপেক্ষা করাই সম্ভব নয়। তাই তো সাম্যের এমন আদুরে স্পর্শ পেয়ে অর্থির ভেতরকার তোলপাড় যেন শান্ত হলো, তাই চোখ মুছে বলল;
—” তাহলে আজ সারাদিন ফোন দেননি কেন,,
” ফোনে চার্জ ছিল না,, আর বাসায় গিয়ে আম্মুকে বলে তৈরি হয় আবার আসলাম এখানে। শুধু তোমার জন্য। তবে ফোন না করেই বোধ হয় ভালো হয়েছে, না হলে আমার ভীতুরানী যেন আমাকে মিস করছে, আমাকে দেখতে ইচ্ছে করছে এটা কিভাবে জানতাম।
এটা শুনে অর্থি লজ্জায় মুখ নামিয়ে নিল,, আর বলল;
—” হুম,, হয়েছে তাহলে এখন ঘুমিয়ে পড়ুন,, রাত হয়েছে। আমি মোম নিভিয়ে আসছি।
বাইরে বৃষ্টির ধারা তখনও বহমান,, শীতল বাতাস যেন গায়ে কাটা দেয়,, মেঘ ও ডাকছে ক্ষণে ক্ষণে,
আর অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে এই মোমের আলো যে বিশেষ মোহ গ্রস্থ এক আভা তৈরি করছে। ভেতরকার সত্তা অন্য কিছুর জানান দিচ্ছে সাম্যকে,, বিয়ের পর এমন কোনো কিছুই স্মৃতিময় হয়নি।
তাই মনে হচ্ছে এই মুহূর্তের কোনো এক বিশেষ স্মৃতি যদি না তৈরি করতে পারে তবে হয়ত সময়টা বৃথা যাবে। আর এমন সময়ে সাম্যের ইচ্ছে হলো না ঘরটা পুনরায় অন্ধকার হয়ে থাকুক,, তার তো ভালোই লাগছে । তাই হাত টেনে অর্থিকে বাধা দিল,, বলল এখনই না নেভাতে।
—” ঘুমোবেন না,,
–” ভালোবাসো আমায় অর্থি!
সব কথার বিপরীতে সাম্য হঠাৎই এমন একটা কথা বলল, অর্থির অবচেতন মন কেঁপে উঠল, বলবে সে সাম্যকে ভালোবাসে, না বলবে না,, কিন্ত মনের চেপে রেখে হয়ত অর্থি আগের মতো ভুল করতে চাইলো না, তাই বলল;
—” হ্যাঁ,,
সাম্য জানতো আজ অর্থি নিজে মুখে স্বীকার করে বলবে তাই অর্থির থুতনিতে হাত রেখে বলল;
—” ভালোবাসলে তার মূল্য দিতে হয়,, তা জানো অর্থি।
অর্থি ভাবলো কিছুক্ষণ, তার আরশিয়ার কথা মনে পড়ল, আরশিয়া বলেছিল ভালোবাসলে তার মূল্য দিতে হয়, যার শেষ মূল্য হচ্ছে বিয়ে নামক পূর্ণতা।
তাই অর্থি বোকার মতো বলে বসে;
—” আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে, তাহলে আর কি চাই!
—” আদর চাই।
সাম্যের এমন নির্বিকার কথা শুনে অর্থি লজ্জা পেল আবার,, কিছুক্ষণ আগে সাম্য তার সাথে কথা বলছিল না দেখে অর্থি তো ইচ্ছে হচ্ছিল কান্না করে হুটোপুটি খাক! কিন্ত এখন,, মনে হচ্ছে পালিয়ে যেতে,, কোথাও গিয়ে লুকিয়ে পড়তে,, তাই কাঁপা কাঁপা গলায় বলল;
—” আ. আমি আসছি,,,
সাম্য অর্থিকে নিজের বুকের কাছে টেনে বলল;
—” পালিয়ে লাভ কি, সেই আজ হোক আর কাল তোমাকে যে আমার কাছে ধরা দিতেই হবে,, তোমার সকল আশ্রয় তো আমার বুকে,, সেই ঘুরে ফিরে এখানেই আসতে হবে,
তাই অর্থি… প্লিজ আমাদের এই মিছেমিছি সম্পর্ক টা পূর্ণতার আরো চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে যেতে দাও,, তোমাকে আপন করে নিতে দাও,,
অর্থি নির্বিকার মাথা নত করে লজ্জায় হয়ত লাল, নীল, বেগুনি, গোলাপি হচ্ছে,, আর এমন বিশ্বাস ময় ডাকে সাড়া না দিলেও যে পাপ হবে, সাম্য তো স্বামী তার। স্বামী ভালোবাসা যেখানে পবিত্র সেখানে বাধা দিয়ে ও লাভ নেই, তাই এই বৃষ্টিময় শীতল রাতটা অন্য রকম হলো,
নতুন এক চিলতে সুখের পরিচয় পেয়ে আরো যেন কাছাকাছি এলো,, নিঃশব্দ এই রাতে তাদের মনের কথা মিশে গেল একে অপরের স্পর্শে। আর পৃথিবী টা যেন ছোট হয়ে থেমে রইল তাদের দুজনার মাঝে।
__________________
আজ শুক্রবার।
মাঝে কেটে গেছে দুটো দিন,, আর ছুটির দিন হবার কারনে জাবের সাহেব নিজেদের বাসায় ছোট একটি দাওয়াত রেখেছেন মেয়ে আর মেয়ের জামাইয়ের জন্য। সাথে আত্নীয়স্বজন দের ও দাওয়াত দিয়েছেন সাথে,, তাই তাদের বাসায় কাজের শেষ নেয়,, সাম্য এসেছে তার মা আর নিলু কে নিয়ে। ফারিশ রা এখনও আসেনি,, তারা হয়ত দুপুরের দিকে আসবে। ফারিশের বিদেশ যাওয়ার দিন ও ঘনিয়ে আসলো,, প্রথম বার তো অর্থির বিয়ের জন্য সে ফ্লাইট বাতিল করেছে, কিন্ত এখন তার সময় হয়েছে যাবার। তাই জাবের সাহেব তাদের সবাই কে দাওয়াত দিয়েছেন।
তবে সাম্যের সাথে মুসাব, ইমরান, মেহেদী এরাও এসেছে। মুসাব ভেবেছিল ফাহা রা হয়ত আসবে না, কিন্ত অর্থিদের বাসায় গিয়ে দেখে ফাহা ফারিন এরাও এসেছে। কিন্ত মুসাব কে দেখে ফাহা র হাসোজ্জ্যল মুখটা তে আঁধার নেমে এলো যা চোখ এড়ালো না মুসাবের।
মুসাব মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিল ফাহা কে সে যতটা পারে এড়িয়ে চলবে,, কিন্ত ফাহা ই নিজেই তাকে এড়িয়ে চলছে খুব বাজে ভাবে।
এই যেমন আগে দেখা হলে কি সুন্দর চওড়া হাসি দিয়ে সামনে আসতো,, কিন্ত এখন সবার সাথে কথা বললেও একমাত্র মুসাব কে ই এড়িয়ে যাচ্ছে। নাস্তা দেওয়ার সময় অর্থির সাথে ফাহা ও আসে শরবত নিয়ে। সবাই হাতে তুলে দিলে মুসাবের সামনে রেখে মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়।
সাম্য ব্যাপার টা দেখে হাসে,, সেদিনই মুসাব তাকে বলেছিল ফাহা র কথাটা,, সাম্য তাকে বলেছিল মুসাব যেন এবার ওর প্রেমিকার কথা বাদ দিয়ে জীবন টা গুছিয়ে নেয়,, যেখানে ওই মেয়েটা সুখে থাকতে পারবে সেখানে মুসাব কেন পারবে না,,, আর ফাহা র কিন্ত মন নরম, মুসাব ভেবে দেখতে পারে। কিন্ত মুসাব রাজি হয়নি। তাদের মাঝে অসম এই বয়সের পার্থক্য দেখে। তাই এখন বসে বসে এই কিশোরী মেয়ের ইগনোর করা দেখছে।
দেখছে ফাহা সামনে আসলে ও মুসাবের দিকে তাকাচ্ছে না পর্যন্ত। কিন্ত ইমরান, সাম্য এদের সাথে কথা বলছে। তা দেখে মুসাব আড়চোখে ফাহা র দিকে তাকাচ্ছে।
—” মুসাব অবস্থা কিন্তু ভালো নয়,, আকাশে মেঘ জমেছে প্রচুর,, শুধু বৃষ্টি নামার পালা। ভেবে দেখ কি করবি।
সাম্যের কথায় মুসাব তার দিকে তাকালো,, আর বলল;
—’ একে তো নাচুনি বুড়ি আর উপর ঢোলের বাড়ি। সাম্য তুমি কোথায় মানা করবি তার উপর তুই নিজেই এসবের জন্য আশকরা দিচ্ছিস।
—” শোন মুসাব এটা হয়ত জগতে নিয়ম, যে আমাদের দিকে ফিরে ও তাকায় না আমরা তার জন্য মুখিয়ে থাকি,, আর যে আমাদের মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে তাকে ই আমরা অবহেলা করি। তাই বলছি ফাহা যেখানে নিজে থেকে বলছে তাকে তুই গ্রহন করতেই পারিস!!
কিন্ত মুসাব কিছু বলল না,, মনের মাঝে দ্বিধাবোধ নিয়ে সময়টা কাটিয়ে দিল। কিন্ত এদিকে সাম্য ছিল অনেক মজায়,, সকল দিকে জামাই আদর পেয়ে তার তো ভালোই কাটছে সময় টা।
আর খাওয়া দাওয়ার পর ফারিশ রা আবার চলে গেলেও সন্ধ্যার দিকে সাম্য ফাহা, ফারিন, অর্থি, জুন, অর্থি এদের নিয়ে ঘুরতে বের হলো,, সাথে মুসাব, মেহেদী, ইমরান এরাও ছিল। ফেনীতে তাঁত শিল্প মেলা বসেছে সেটা দেখতেই মূলত বের হলো তারা।
সেখানেও একই অবস্থা ফাহা যত মুসাবের সামনে পড়ছে তত চোখ নামিয়ে নিচ্ছে, মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে,, আর মন খারাপের সাথে মেলার জিনিস গুলো ঘুরে ঘুরে দেখছে। তখন ইমরান এসে আবার ফাহা পাশে দাঁড়ায়।
ইমরান তার প্রেমিকার জন্য কিছু জিনিস কিনবে তাই সে ফাহা র সাথে মিলে কিছু জিনিস দেখছিল,, আর তাদের এক সাথে হাসি মুখে থাকতে দেখে মুসাবের যেন ভালো লাগলো না। একটু হলেও সে জেলাস ফিল করছে ব্যাপার টা বুঝতে পেরে সে অন্য পাশে চলে গেল। কিন্ত মেলা থেকে বেরিয়ে দেখে সাম্য অর্থিদের নিয়ে আগেই চলে গেছে, বাকি থেকে গেছে ফাহা, মুসাব আর ইমরান।
ইমরান নিজের ও একটু কাজ আছে বলে চলে যায়, বাকি থেকে যায় ফাহা আর মুসাব। মুসাব বুঝতে পারে সাম্য এরা ইচ্ছে করে ওদের আলাদা করে দিয়েছে, তাই মুসাব বলল;
—” এখানে তো রিকশা পাবো না সামনের দিকে চলো।
কিন্ত ফাহা কিছুই বলল না,, সে নিজের মতো হাঁটা ধরলো,, তবে সেটা অর্থিদের বাসার একদম অপজিটে। তা দেখে মুসাব বলল;
—” কোথায় যাচ্ছো,, বাসা তো এদিকে, তুমি ওদিকে কেন যাচ্ছো।
—”(….)
মুসাব একটু বিরক্ত হলো,, আর বলল;
–” সমস্যা কি বলো তো ফাহা! ঠিক আছে মেনে নিচ্ছি ওদিন যা হয়েছে ওটা একটা ভুল। কিন্ত তুমি একটু বেশি বেশি করছো না।
ফাহা এবার মুখ খুলল;
—” তো আপনাকে আমি বলেছি আমার সাথে আসুন,, আমার এসব সহ্য করুন বলিনি তো তাহলে আমার পিছু কেন নিচ্ছেন।
এই বলে ফাহা বেখেয়ালে রাস্তা পার হতে পা এগোবে তার আগেই সামনের থেকে আসা গাড়ি সাথে ধাক্কা খাবেই তখন মুসাব তার হাত ধরে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসলো।
চিল্লিয়ে উঠল সাথে সাথে।
—” থ্রাপে গাল লাল করে দিব,, এখনই তো একটা কান্ড বাঁধাতে,, কমনসেন্স বলতে কিছু নেই,, জানো না রাস্তা কিভাবে পার হয় বেয়াদপ। আর আমার উপর রাগ করে এসব কেন করছো বলো?
ফাহা নাক ফুলিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল;
—”আপনার কমনসেন্স বলতে কিছু নেই, ভরা রাস্তা একটা মেয়েকে এভাবে বকছেন,, আবার থাপ্পড় ও বলছেন,, আর কেন বললো আমি আপনার সাথে রাগ করেছি,, কেন হন আপনি,, কি আমার প্রেমিক লাগেন না জামাই লাগেন যে আপনার উপর রাগ হবো।
এই বলে ফাহা যেতে ই নিবে তখন মুসাব তার হাত ধরে বলল;
—” শোনে মেয়ে এত অভিমান ভালো না,, আমি তোমার কেউ না হলে আমার সাথেই তোমার এত অভিমান কেন! আর নিজের মুখেই ভালোবাসি বলে এখন বলছো আমি তোমার কেউ না।
—” ভালোবাসি বললে কি হবে, আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন নাকি! আপনি শুধু আমাকে কষ্ট দিতে জানেন মুসাব ভাই। আপনার সাথে আমার কোনো কথা নেয়,, চলে যান মুসাব ভাই।
মুসাব পরোখ করে দেখলো এই কিশোরী তার প্রতি তীব্র অভিমান নিয়ে আছে, মনের দখল দেবে না দেবে না বলে ও মুসাব শেষে এই কান্না মাখা মুখের প্রতি যেন আঁটকে গেল।
—” যে মানুষ টার সমস্ত জীবন কষ্টকে আলিঙ্গন করে রেখেছে তার কাছ থেকে কষ্ট ব্যতীত সুখের সন্ধান করা বোকামি ফাহা! তাই বলছি আমাকে ভালোবাসা বন্ধ করে দাও ফাহা,, তুমি ছোট তোমার সামনে এখনো পুরো ভবিষ্যত পড়ে আছে,, নিজেকে এসবে আবদ্ধ করো না।
ফাহা তবুও দমলো না,, মুসাব তাকে বলছে তাকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিতে,, অথচ ফাহার কিশোরী বয়সে মনের দখল করে নেওয়া পুরুষটা ই হলো মুসাব। অথচ মুসাব বলছে তাকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিতে,, কিভাবে পারবে ফাহা। আর ফাহা জানে মুসাব তাকে এমনটা কেন বলছে,, কারন মুসাবের জীবন জুড়ে এখনও যে অন্য নারী বাস। তাই ফাহা বলল;
—” আপনাকে ভালোবেসে যদি কষ্ট আলিঙ্গন করতে হয় করবো, কিন্তু আপনাকে ভালোবাসা বন্ধ করবো না।
খুব কঠিন কথা বলছে বলছে ফাহা,, মুসাবের মতে এত ছোট মেয়ের এমন কঠিন কথা মানায় না, তাই মুসাব আবার ও যুক্তি দিল;
—” তুমি ভুল করছো ফাহা,,, আমাদের মতো মানুষদের জন্য কেউ অপেক্ষা করে না,, তাই এসব না ভেবে নিজের পড়ালেখায় মন দাও। সময় হলে দেখবে আমার থেকেও ভালো মানুষ তোমার জীবনে আসবে,, আর তুমি আমাকে ভুলেও যাবে।
মুসাবের কথায় ফাহা র চোখ দুটো ছলছল করে উঠল; কিশোরী মন মুসাবের এসব মানতে যে বড্ড নারাজ। তাই ফাহা বলল;
—” দ্বিতীয় পুরুষ আসা লাগবে না মুসাব ভাই। আমি আপনার অপেক্ষা করবো মুসাব ভাই। খুব করে অপেক্ষা করবো,,
“””” কব

