#কথা_দিলো_রোদ্দুর (৩২)
#তুসিকা
সাম্য পুলিশের কথায় মোটেও অবাক হয়নি, বরং কুঁচকে যাওয়া ভ্রুদ্বয় শিথিল হয়ে আসলো,, আর শান্ত চোখে তার সামনে দাঁড়ানো পুলিশ অফিসার কে বলল;
—” আপনার কাছে কি যথেষ্ট প্রমাণ আছে,, আর এমন একটা এলিগেশন আনার আগে আপনি নিশ্চয়ই সব দিক ভেবেই, সত্য যাচাই করেই এখানে এসেছেন।
পুলিশ অফিসার টি ক্রু হাসলো,, হাতের কাগজ পর্যবেক্ষণ করে বলল;
—” সব চোর ধরা পড়ার পরে এসব কথাই বলে,, আর আপনার কি মনে হয় মিস্টার সায়েফ, একটি মেয়ে মানসম্মানের পরোয়া না করে মিথ্যে মিথ্যে অভিযোগ আনছে,, দেখে তো বেশ ভদ্র ই মনে হচ্ছে, কিন্ত যে সব কীর্তি করেছেন তার উপর এসব বড় বড় কথা মানায় না, তাই বাড়তি কথা না বলে চলুন আমাদের সাথে।
অর্থি অবাক হয়েছে, কিন্তু তিথি নামটা শুনতেই তার ভয় হচ্ছে না, বরং রাগে ইচ্ছে করছে ওই মেয়ের কালার করা চুল গুলো টেনে ছিড়ে আনতে। আর কেউ না জানলেও অর্থি ওইদিন ই বুঝতে পেরেছে ওই মেয়ের স্বভাব কেমন। তবে ফাতেমা বেগম বেশ ভয় পেয়েছে পুলিশ দেখে,, তিনি তো এসব কিছুই বুঝতে পারছেন না। তাই তিনি সামনে এসে সাম্য কে বলল;
—” সাম্য তিথি মেয়েটা না তোর বন্ধু ছিল, তাহলে এসব কি বলছে পুলিশ অফিসার।
—” আম্মু তুমি চিন্তা করো না,, আমি দেখছি,,,
এই বলে সাম্য ফাতেমা বেগম কে বললেন অর্থি কে নিয়ে ঘরের ভেতরে থাকতে ।
কিন্তু মা তো মা! ছেলের এমন বিপদের সময়ে তিনি কি করবেন ভেবে না পেয়ে সাম্যের চাচা হাফিজ সাহেব কে ফোন করে আসতে বললেন। এই সময়ে তিনিই হয়ত কিছু একটা করতে পারবেন।
কিন্ত সাম্য একদমই নির্বিকার হয়ে পুলিশ অফিসার কে বলল;
—” আপনি প্রমাণ দেখান, আমি সব দেখছি,, আর যদি প্রমাণ করতে পারি এসব মিথ্যে তাহলে এমন একটা মিথ্যে অভিযোগ আনার বিরুদ্ধে আমি ওই মেয়েটার নামে আবার মামলা করবো। তখন এভাবে হ্যারেস করার বিরুদ্ধে আশা রাখছি আপনারা ব্যবস্থা নেবেন।
সাম্যের এমন দৃঢ় ভাবভঙ্গি দেখে পুলিশ অফিসার একটু অবাক হলেন, আর সাম্য যখন প্রমাণ দেখতে চেয়েছেন তখন কাগজ পত্র গুলো দেখালেন, যেখানে তিথি মেয়েটি অভিযোগ এনেছে সাম্য তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঠকিয়েছে, আরও কিছু মেসেজের ছবির স্ক্রিনশট ও দিয়েছে। যেখানে বেশ অ’শালীন কথা দেখা যাচ্ছে। আর রেস্টুরেন্ট এ বসা ঘ’নিষ্ঠ ছবি ও দিয়েছে।
এসব দেখে সাম্য হাসলো, আর বলল;
—” এসব নকল অফিসার,, আজকাল এআই দিয়ে কতো কিছুই করা যায় এসব ছবি ও তাই,, তার উপর ছবির উপরে সময় টা বুঝি আপনারা খেয়াল করলেন না,, সেখান সাতাশ টা বারো বাজে। আর এসব মেসেজ তো কতো ফেইক আইডি দিয়ে তৈরি করা যায়। বিশ্বাস না হলে আপনারাই দেখেন। আর মেয়েটি আমারই কলেজের ব্যাচমেট ছিল,, এই তো গত মাসের ষোল তারিখে একসাথে বিয়ে ও খেয়ে এলাম,, দাড়ান তার ছবি ও দেখাই। আশা করি আপনাদের গোল টা ঠিক কোন জায়গায় খাইয়েছে বুঝতে পারবেন।
এই বলে সাম্য অফিসার কে তার দেওয়া ছবির তারিখ সহ সময় ভালো করে দেখতে বলল, আর ফারিশের বিয়ের সময় যে তারা মুসাব, ইমরান, মেহেদী, নাঈম, তিথি সহ ছবি গুলো তুলেছে সেগুলো দেখায়।
পুলিশ অফিসার আসলেই সবটা খতিয়ে খতিয়ে দেখে,, সবটা মোটামুটি বুঝতেই পারে। কিন্তু এলিগেশন যখন এসেছে তখন সাম্যের কে থানায় তো যেতেই হবে,, পুলিশ অফিসার কিছু বলতেই নেবে তার মাঝে সেখানে সাম্যের চাচা হাফেজ সাহেব আসেন। পেশায় তিনি একজন উকিল। তাকে দেখেই পুলিশ অফিসার চিনতে পারেন,, আর তাদের কথা ও হয়। আর কথায় কথায় জানতে পারেন সাম্যের বাবা তাদের জেলার মডেল থানার ওসি ছিলেন।
—” দেখুন অফিসার,, এমন ফ্রড কেস ওহরহ আসে। আর সাম্য কে থানায় যাওয়া লাগবে না, আমি সব ব্যবস্থা করছি কিন্ত এখন ওই মেয়েকে কি শাস্তি দিবেন। আমি চাইলে কিন্তু পাল্টা মামলা করতে পারি।
হাফেজ সাহেবের কথায় পুলিশ অফিসার বলল;
—” সবটাই আমরা দেখবো,, শাস্তি তো মেয়েটা পাবেই,, কিন্তু মিস্টার সায়েফ আপনি আগে কেন বলেন নি আপনি ওসি সাফায়েত আহমেদ এর ছেলে! তাহলে এতটা সময় নষ্ট হতো না,, তবে আপনার বিচক্ষণতা কিন্তু আপনার বাবার মতোই। দেখে ভালো লাগলো।
সাম্য হাসলো,, তিথির যে এমন নোং’রা একটা কাজ করতে পারে সাম্য ধারনা করেনি,, তবে তিথির স্বভাব সম্পর্কে সাম্যের জানা আছে,, তাই তো সাম্য বলল;
—” আব্বুর পেশা টা কে ব্যবহার করে নিজের সমাধান করা বোকামি,, তাছাড়া প্রমাণ তো পেয়েছেন,, এখন গিয়ে জেলের ভেতর একটু খাতির আপ্যায়ন করবেন,, আমার বান্ধবী লাগে তো দেখবেন যেন আদর যত্নের কোনো কমতি না হয়। এক সপ্তাহ যেন আরামে থাকে।
সাম্যের কথায় পুলিশ অফিসার ও হাসলেন,, তারা যেভাবে তিথি মেয়েটার কান্নাকাটি দেখে এখানে এসেছিলেন এখন নিজের উপরই নিজেরা লজ্জিত।
তবে বিপদ নিজেই এসে হাজির নিজের পায়ে কুড়াল মারতে,, তিথি এসেছে তার সাথে তার কাজিন সামির কে নিয়ে এসেছে। এসেই প্যাচপ্যাচ করে কান্না করে দিল,, পুলিশ কে বলল;
—” স্যার আপনারা সমাধান করেছেন, দেখেন এই ছেলেটাই আমার সাথে অস’ভ্য’তামি করেছে, আমাদের অনেক দিনের পরিচয়, ফোনে কথা হতো আমাদের। আপনাকে তো বলেছি, এই ছেলের জন্য নিজের পরিবার ছেড়ে এসেছি এখন আপনারাই বলুন আমি কোথায়,, যাবো, আমাকে তো কেউ বিয়ে ও করবে না। তাই আমি বলছি ওকে বলুন আমাকে বিয়ে করতে তাহলে আমি সব মামলা তুলে নেব।
উপস্থিত সবাই তিথির কথা শুনলো,, সবাই নিশ্চুপ হয়ে ওর করা অভিনয় দেখলো,, কিন্ত নিলু তখন অর্থির কথায় একটা কান্ড বসে বসলো। সবার সামনে এসে তিথির গালে চড় বসিয়ে দিল। আর বলল;
—”বারো’….. মাইয়া। মনে করছোস কি আমার ভাইজানের উপর একটা দোষ দিবি,, আর আমরা সবটা মেনে নিব। সো** পুয়া শয়তান ডাইনি,, দাড়া আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।
এই বলে নিলু ক্ষেপে তিথি চুল টেনে ধরলো সবার সামনে। আর বলতে লাগলো;
—” শয়’তানী দাড়া,, আমার ভাইজানের নামে মামলা দিছো, আবার আমার বিয়া ও করবা, বিয়ার শখ তোমারে মিটাইতাছি।
এটা দেখে সাম্য নিলু কে উৎসাহ দিয়ে বলল;
—” নিলু টান আরো,, জোরে টান বোন,, সাব্বাস নিলু। এই না হলে আমার বোন। তোরে কোন আইসক্রিম খাওয়াবো
এদিকে পুলিশ সহ সবাই একবার নিলুর দিকে তাকায় তো আরেকবার তিথির দিকে।
অবস্থা বেগতিক দেখে ফাতেমা বেগম অর্থি ওরা এগিয়ে এসে নিলু কে ধরে,, আর সামির এসে তিথিকে ধরে। ততক্ষণে তিথির মাথার মুঠো খানিক চুল নিলুর হাতে চলে এসেছে।
তিথি তখন মাথায় হাত দিয়ে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে কাঁদতে অফিসার কে বলল;
—” স্যার… আপনার সামনে আমার মাথার চুল টেনে ছিড়ে নিয়েছে আপনি কিছু বলছেন না,, দেখেছেন আগে ওই ছেলে আমার সাথে বেইমানি করলো এখন দেখেন ওর বাড়ির লোক আমার কি ব্যবহার করছে।
অফিসার ওদের আইন নিজের হাতে নিতে না করলো,, আর তিথি কে বলল;
—” করবো,, এখন চলুন আগে জেলে থেকে ঘুরে আসবেন। মিথ্যে অভিযোগ দিয়েছে সায়েফ আহমেদের নামে। চলুন। এই কালাম এই মেয়েকে নিয়ে চল।
কি হলো হঠাৎ করে তিথি কিছুই বুঝতে পারলো না,, যেতে যেতে সে তখনও বারবার সাফাই দিতে থাকে। কিন্ত তার কোনো কথাই পুলিশ অফিসার শোনে না। নিজের সাথে নিয়ে যায়।
কোর্টে কাজ থাকায় হাফেজ সাহেব ও চলে যায়,, কিন্তু সেখানে থাকা সাম্যের বয়সি একজন পুলিশ সাম্যের কাছে এসে বলে;
—” আচ্ছা ওই মেয়েটা আপনার বোন! ভারী মিষ্টি দেখতে,, আচ্ছা আপনারা ওনার বিয়ে শাদির করাবেন না।
সাম্য অর্থির দিকে তাকালো, ঠোঁট কামড়ে পুলিশ টিকে বলল;
—” মেয়ে দেখতে মাশাল্লাহ, মারহাবা, সুবহানাল্লাহ। কিন্তু উনি আমার সহধর্মিনি।
পুলিশ লোকটি থতমত খেয়ে গেল, আর বলল;
—” দুঃখিত,, আমি আসলে বুঝতে পারিনি।
এই বলে উনি চলে গেলে,
সাম্য বাড়ির ভেতরে এসে নিলুকে বলে;
—” তুই ওই মেয়েটার সাথে এমন করেছিস কিভাবে। তুই তো ওকে ঠিক করে চিনিস না।
নিলু হেসে বললো;
—” ভালা কাজ করছি না ভাইজান! আমারে ভাবীই বলছে ওই ডাইনির চুল টেনে ছিড়ে আনতে। কিন্তু আরো কয়েকটা চড় দিলে কলিজায় শান্তি লাগলো। কত বড় সাহস ভাইজান আপনার উপর দোষ দেয়।
সাম্য হোঁ হোঁ করে হেসে অর্থির দিকে তাকায়,, তার ভীতুরানির মনের এত জেলাস! নিজে না পারায় নিলু কে দিয়ে কি সুন্দর প্রতিশোধ নিল।
তবে ফাতেমা বেগম বললেন;
—” আচ্ছা সাম্য মেয়েটা এমন কেন করলো! তোরা তো একই সাথে পড়তি।
—” জানি না আম্মু,,, হয়ত তোমার ছেলের রূপের ঝলক দেখে ফিদা হয়ে গেছিল,,
—” রাখ তোর বাজে কথা,, আলহামদুলিল্লাহ বড় কিছু হবার আগেই সমাধান হয়েছে,, না হলে আমার প্রাণ টায় বুঝি বেরিয়ে যেত। আচ্ছা রাখ এসব কথা! তোর খালাদের বাড়িতে কি যাবি,, না মানা করে দেব ওদের।
সাম্য সায় দিল না,, খালারা হয়ত তাদের জন্য রান্নাবান্না সব কিছু আয়োজন করে রেখেছেন। আর যে ঝামেলা গেল তার রেশ কাটতে অন্তত ঘুরে আসা উচিত।
তাই সাম্য সবাই কে বলল একটু জিরিয়ে নিতে, গ্যারেজ থেকে গাড়ি নিয়েই আজ বের হবে। আর ড্রাইভ করবে সাম্য নিজে। সাম্য খুব একটা গাড়ি নেয় না,, এটা তার বাবার গাড়ি। বাবা চলে যাবার পর খুব করে মনে পড়ে তখনই গ্যারেজ ঘরে যাওয়া হয় তার। তাই আজ ভাবলো সবাই কে নিয়ে গাড়ি করে ই যাবে।
তবে অর্থি রুমের দিকে যেতেই সাম্য ও পা বাড়ালো সেদিকে। অর্থির দিকে তাকিয়ে দেখলো তার ভীতুরানী সুন্দর করে সেজেছে,, তাই তো সবাই নজর দিচ্ছে তার বৌ টার দিকে।
তাই সাম্য বলল;
—” মাশাল্লাহ! সুন্দর লাগছে তোমাকে।
অর্থি কিছু বলল না, একটু লাজুক ভাব নিয়ে বসে রইল। তখন সাম্য আবার বলল;
–” আচ্ছা তোমার মনে কোনো সন্দেহ হয়নি আমাকে নিয়ে,, তোমার বরের নামে এত খারাপ কথা বলল।
—” না,,, আমি আপনাকে বিশ্বাস করি,,
নিজের স্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে সাম্যের মনে হলো নিজের জীবন ধন্য। তাই আরেকটু ধন্য করতে অর্থি কাছে এগিয়ে গেল, কিন্তু তখনও নিলুর ডাক পড়ে বাইরে থেকে। তাদের বেরোতে হবে,, না হলে আবার মেহমান বাড়িতে যেতে দেরী হয়ে যাবে।
নিজের ভাগ্যের উপর আবারও হতাশ হলো। তাই হতাশা নিয়ে সবাই কে নিয়ে চলল খালাদের বাড়িদের।
সেখানে গিয়ে অবশ্য বেশ খাতির যত্ন করা হলো অর্থির। নতুন বৌয়ের খাতির যত্ন বলে কথা।
আর এভাবে কয়েকদিন তাদের দাওয়াত এ দাওয়াত এ কাটলো। যা কয়দিন ছুটি ছিল তা বেশ মজা করেই কাটালো সাম্যরা।
তবে সাম্যের অফিস এখন চট্টগ্রামে ট্রান্সফার হয়েছে, সে এখন বাড়ি থেকেই অফিস যায়। কিন্ত ওদিকে মুসাব আবার একটু একা পড়ে গেছে। বন্ধু ছাড়া তেমন একটা মন ও বসে না,, তার উপর বাড়িতে ও তার যেতে ইচ্ছে হয় না।
মুসাবের মা বাবা নেই, বড় ভাই ভাবী আছে,, কিন্ত তারা মাঝে মাঝে যেন থেকেও নেই, মুসাব বাড়ি যায় যখন ভাইয়ের ছেলে মেয়ে গুলো কে দেখতে ইচ্ছে হয় তখন। গিয়ে টাকা পয়সা ও দিয়ে আসে। এভাবেই চলছে মুসাবের জীবন একাকীত্বে ভরা। জীবন হয়ত সবার জন্য সমান না,, তাই মুসাব ও সব মেনে নিয়েছে। সাম্য বলেছিল তাকে তার সাথে চট্টগ্রামে থাকতে। কিন্তু কেন জানি মুসাবের এই শহর ছেড়ে যেতে ইচ্ছে হলো না। কথা বলার মানুষ নেই, দেখা করার মানুষ নেই, কেমন এক জীবন। বিয়ে শাদি করার ও মন মানসিকতা নেয়,,
তবে মুসাবের একটু খারাপ লাগছে ফাহা র জন্য,, মেয়েটা আগে দিনে অন্তত এক বার মেসেজ দিয়ে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করতো, এখন ওইদিনের পর ফাহা ও তো মেসেজ দেয় না,, আর না দেওয়াটাই স্বাভাবিক। ফাহা মনে প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছে,,তা মুসাব জানে ভালোবাসা র মানুষ হারিয়ে যাওয়ার কষ্ট কি।কিন্ত ফাহা র ওই সব ভিত্তিহীন। ছেলেমানুষি করে ফাহা যা করছে তা ঠিক নয়,, চাইলে বা না চাইলে মুসাব তা প্রশয় দিতে পারেনা।
তাই তো একা বিলীন মুসাবের মতো ব্যক্তিদের দিন কেটে যায় কারো ধরা ছোঁয়া ছাড়া।
_____________
“মেয়ের বিয়ের পর বাবার বাড়িতে মেয়ের শূন্যস্থান সব সময় খালিই থাকে,, তা কোনও দিন কেউ পূরণ করতে পারে না””‘
যা হারে হারে টের পাচ্ছে জাবের সাহেব,, মেয়ে তার নেই আজ দশ বারো দিনের মতো হবে। মেয়ের হাসি পানা মুখটা বড্ড মনে পড়ে তার,, যতই ফোনে কথা বলুক, ভিডিও কলে দেখুক কিন্ত মেয়ে তো তার সামনে নেই, চাইলেই তিনি মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে পারবেন না, অফিস থেকে ফেরার পথে যদি খাবার নিয়ে আসেন ভাই বোন দুটোতে কাড়াকাড়ি করে ভাগ করবে না, আজকাল সন্ধ্যার চা টা ও তার খেতে ভালো লাগে না,,
তাই আজ অফিস থেকে ফিরে জাবের সাহেব অর্থির রুমে গেল, যেমনকার জিনিস তেমন ভাবেই আছে, তাই কিছুক্ষণ সেখানে থেকে রেবেকা বেগমের কাছে গেলেন, আর বললেন কয়েকদিন যেহেতু হয়েছে অর্থিদের বাসায় আসার কথা বলবে। সাথে সবাই কে দাওয়াত ও দিবে। রেবেকা বেগম সায় দিলেন,, আর খুশি হয়ে জাবের সাহেব ফোন দিলেন সাম্যের মায়ের ফোনে।
কুশল বিনিময়ের পর জানালেন তারা সবাই যেন আসে তাদের বাসায়। ফাতেমা বেগম মানা করলেন না,, বললেন কালই পাঠাবেন অর্থিদের। জাবের সাহেব ও খুশি হয়ে সবার সাথে কথা বললেন আর মেয়ে, জামাই আসার খুশিতে কি কি আয়োজন করবেন তা ঠিক করতে লাগলেন।
চলবে।
(গল্প এখন এমন একটা দিকে যাচ্ছে ইচ্ছে করছে মুসাব ফাহা কে নিয়ে লিখি,, কিন্ত বড় করতে ইচ্ছে করছে না,, ত
আর গল্পের যে রেসপন্স তা দেখে আরো ইচ্ছা করছে না,, পড়েন অথচ ঠিক ভাবে রেসপন্স করেন না,, এতে গল্প সবার কাছে পৌঁছায় ও না।
এত ভালো লিখি না বলে হয়ত রেসপন্স করেন না,, তাই মন খারাপ করবো না, আমার যা আছে তাই দিয়ে সামনে এগিয়ে যাবো।)
আর একটা জিনিস বলবো বলেছিলাম না,, জানেন মানুষ নিজেরে গল্পের নায়িকা বানায় আর আমি নিজেরে গল্পের ভিলেন বানাই দিলাম,, এবার বাকিটা বুঝে নেন

