প্রেম_বর্ণহীন #তোনিমা_খান #পর্বঃ১৫

0
2

#প্রেম_বর্ণহীন
#তোনিমা_খান
#পর্বঃ১৫

[পর্বটা একটু রোমান্টিক চাইলে স্কিপ করতে পারেন]

সাঁঝ বেলায় ঠিক ছয়টা নাগাদ মোত্তাকিন কাজ থেকে ছুটি পেল। আটকে রাখা দম ফেলে মোত্তাকিন অফিস থেকে বের হওয়ার জন্য উদ্বত হলে হঠাৎ করেই হন্তদন্ত হয়ে ঢোকা মুহিত ইরতেজা তার পথ আঁটকে দাঁড়ায়। বয়সের ছাপে কুঁচকে যাওয়া চামড়া প্রসারিত হয় ফর্মাল বেশভূষায় আবৃত ছেলেটিকে দেখে। হাসিমুখে বলে,
–“এইতো এখন সুন্দর লাগছে। একদম বাপকা বেটা! আজ অফিসে তোমার প্রথম দিন ছিল আমি সকালেই আসতে চেয়েছিলাম কিন্তু জরুরি কাজে আঁটকে গিয়েছিলাম। তাই এখন আসলাম। এসো তিনজন একসাথে একটু বসি, খাওয়া দাওয়া করি। শুনেছি বিয়ে করেছ। বাবাকে একটু বললে না, আর না বউমাকে দেখালে।”

মোত্তাকিন শান্ত দৃষ্টিতে তাকায় অতি উৎসাহী লোকটির পানে। তার চোখেমুখে একটুও মায়া নেই সম্মুখের এক লোকটির জন্য। কিংবা মায়া তৈরি হওয়ার কোন সুযোগই পায়নি। সে থমথমে মুখে বলল,
–“আমার স্কুলের প্রথমদিন আমি একা একা স্কুলে যাব না বলে অনেক কেঁদেছিলাম। কিন্তু মামনি আমায় দু’টো থাপ্পড় দিয়ে জোর করে একা একাই স্কুলে পাঠিয়ে দিয়েছে। সেদিনের পর থেকে আমার জীবনে বিশেষ কোন দিন নেই। স্কুলের প্রথম দিন, হাই স্কুলের প্রথমদিন, কলেজের প্রথম দিন এমনকি বছরের প্রতিটা জন্মদিন একরকম বিশেষত্বহীন ভাবেই কেটে যায় আমার। বাবা মায়ের ভুল আমায় এগুলোতেই অভ্যস্ত করে তোলে! একা চলতে শিখে গিয়েছি আমি। এই জীবনের কোন পথে আমার আর বাবা মায়ের পথ নির্দেশনার প্রয়োজন নেই।”

–“সারাজীবন এমন অমানুষের মতো বাঁচবে?”

–“অমানুষ হওয়ার পেছনে আপনাদের কৃতিত্ব অনেকটা বেশি।”

মুহিত ইরতেজা শ্রান্ত নেত্রে তাকায়। বলে,
–“মধুর বয়স হয়েছে, শুনেছি শারীরিক অবস্থাও অতোটা ভালো নয়। এখন অন্তত নিজের আর নিজের মায়ের ভালো বোঝার চেষ্টা করো। তোমার নিজের ও তো একটা পরিবার হয়েছে। তাদের হক আছে আমার পুরো জীবনের অর্জনের উপর। শুধু শুধু কেন কষ্ট করছ সবাই? আমরা চাইলেই সব ভুলে একসাথে একটা সুন্দর জীবনযাপন করতে পারি।”

এক্সিট ডোরের দিকে পা বাড়ানো মোত্তাকিন ফিরে তাকায়। মৃদু হেসে বলে,
–“সুন্দর জীবনযাপন? আপনি কি আমার মায়ের যুবতী বয়সের শখ আহ্লাদ গুলো ফিরিয়ে দিতে পারবেন? একটা মেয়ের স্বামী, সংসার নিয়ে বোনা স্বপ্নগুলো ফিরিয়ে দিতে পারবেন? আমার শৈশব ফিরিয়ে দিতে পারবেন? পারবেন আমার স্কুলের প্রথম দিন ফিরিয়ে দিতে? যেখানে সবাই বাবা মায়ের হাত ধরে স্কুলে যেত আর আমি বেঞ্চের এক কিনারায় চুপ করে বসে থাকতাম। আমায় খেয়াল করার মতো, টিচারদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মতো কেউ থাকত না। পারবেন না!”

মুহিত ইরতেজা হারিয়ে ফেলে নিজের অবশিষ্ট জোরটুকু। ম্লান সুরে অনুনয় করে বলে,
–“আমায় ক্ষমা করা যায় না?”

–“আমাদের ফেলে আসা দূর্বিসহ জীবনটা শুধরে দিন, আমি ক্ষমা করে দেব। আমি এখানে শুধু পাঁচ মাস কাজ করব যতদিন না এডভান্সের টাকাগুলো শোধ হয়, আসছি।”

–“তুমিও এই কোম্পানির একজন অংশীদার।”

–“জীবনে পারলাম না নিজের বাবার ভালোবাসার অংশীদার হতে, সেখানে তার সম্পত্তির অংশীদার হয়ে কি করব?”

মোত্তাকিন তাচ্ছিল্য হেসে বলেই বেরিয়ে যায় অফিস থেকে।
চির অপরাধী সাব্যস্ত মুহিত ইরতেজা সেখানেই নত শির দাঁড়িয়ে থাকে। এক একটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে বিলীন হয়ে যেতে থাকে স্ত্রী সন্তানকে কাছে পাওয়ার শেষ আশাটুকু। খুব ভালোলাগার জোরেই একদিন নিজেকে দমাতে না পেরে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মধুকে নিজের করে রাখার পরিকল্পনা করেছিল। মেয়েটি আস্ত এক মায়া ছিল। যে কয় বছর সংসার করার সৌভাগ্য হয়েছিল সেই কয় বছর জীবনে সুখের অন্ত ছিল না। কিন্তু কোথাও না কোথাও যে তার কাজে ভুল ছিল। মারাত্মক ভুল! যার শাস্তি এতোটাই করুণ যে মৃত্যুর কালেও বোধহয় ক্ষমা মিলবে না। সে বলহীন পা বড় ছেলের কক্ষের দিকে বাড়ালে গতিরোধ হয়। প্যান্টের পকেটে হাত ঢুকিয়ে মিরসাদ সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখমুখ অভিব্যক্তি হীন। মুহিত ইরতেজা টলটলে নেত্রে ছেলের পানে তাকায়। বুঝদ্বার হওয়ার পর থেকে বাবাকে সহানুভূতি জানিয়ে আসা মিরসাদ আজ আর সহানুভূতি দেখাতে পারল না। সে আফসোসের সুরে বলল,
–“তুমি একজন নারীর সকল অনুভূতি গলা টিপে মেরে ফেলেছ। আর একটা শিশুর শৈশব ধ্বংস করে দিয়েছ। কিছু জিনিসের সৌন্দর্য নিহিত থাকে “নিষিদ্ধ” শব্দটির মাঝে। মধুমিতা মা তোমার ভালোবাসার ছিল বলেই তুমি তাকে যেকোন পরিস্থিতিতে আপন করে নিতে পার না। এটা অন্যায় ছিল, পাপা। তুমি অন্যায় করেছ আমার মায়ের সাথে, আমার আর আমার বোনের সাথে, মধুমিতা মায়ের সাথে। আর ঐ যে উশৃঙ্খল উগ্র, বিগড়ে যাওয়া ছেলেটিকে রাগ দেখাও না? ওর তুমি সবচেয়ে বেশি অন্যায় করেছ। ও তো জীবনে বাবার আদর-ই পায়নি।”

–“আমি তাকে কখনো নিজের থেকে দূরে করতে চাইনি, মিরসাদ।”, মুহিত ইরতেজা আর্তনাদের সুরে বলল। মিরসাদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
–“কাছে রাখার ও কোন উপায় রাখোনি।”

মিরসাদ বেরিয়ে যায় সেখান থেকে। এই জীবনে সে বাবার এই কৃতকর্মের জন্য কখনো একটা খারাপ কথা ব্যবহার করেনি। কিন্তু আজ! ঐ ছেলেটার বাবার জন্য সুপ্ত আর্তনাদ সে নিতে পারেনি।‌ তার ও যে একটা ছেলে রয়েছে।
*****
ইন্দুবালা বাবার জন্য আর ভাইয়ের জন্য দু’টো শার্ট কিনেছে। সন্ধ্যা নাগাদ সেগুলো দিতে বের হয়। মধুমিতা তখন টিভিতে সদ্য শুরু হ ওয়া সিরিয়াল দেখতে বসেছে, হাতে পপকর্ন। স্টার জলসা, জি বাংলার সিরিয়ালে আসক্ত মধুমিতা। এটা তার একটা বাজে অভ্যাস! মোত্তাকিনের ভীষণ অপছন্দের। তবে সে কখনো কিছু বলে না। মায়ের একাকীত্বের সঙ্গী এতটুকু থাকুক না! ইন্দুবালা কক্ষ থেকে ব্যাগ হাতে বের হয়।
–“মধু, আমি একটু আব্বুকে এগুলো দিয়ে আসি।”

মধুমিতা পপকর্ন খেতে খেতে ফিরে তাকায়। সাবধানি বার্তা ছুড়ে বলে,
–“যাবি আর আসবি। ওগুলো দিয়ে এক মিনিট ও বসবি না।”

ইন্দুবালা স্মিত হাসে। মধুমিতা কপাল কুঁচকে বলে,
–“হাসিস না। ঐ কুচক্রীদের তুই সুযোগ দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলে রেখেছিস।”

–“মুখে মুখে তর্ক করে জোরপূর্বক কখনো কিছু হাসিল করা যায় না, মধু। উপর ওয়ালা তো আছেই।”, ইন্দুবালা মিহি স্বরে বলেই বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। ঘরে গিয়ে ভাইকে পেলেও বাবাকে পেল না ইন্দুবালা। তহমিনা আড়চোখে তাকিয়ে বলল,
–“সামনেই মুদির দোকানে গিয়েছে তোর আব্বু। এসে যাবে এখুনি, বস। নাকি বিয়ে হয়েছে দেখে বাপের বাড়ি আর এক মুহূর্তও থাকবি না।”

ইন্দুবালা শুধু শান্ত দৃষ্টিতে তাকায়। প্রতিবারের ন্যায় আজো কিছু বলে না। সোফায় পা গুটিয়ে বসতেই ইনসিয়াও ছুটতে ছুটতে আসে। বসার ঘরের এক কিনারায় বসে আছে ইনসিয়ার নানু। সে বাঁকা চোখে তাকায়। পার্পেল কালারের একটা ব্লক প্রিন্টের শাড়ি হাতে দুটো সোনার চুড়ি, কানে সোনার কানের দুল আর নাকে নথ—এতটুকুই বৈবাহিক সাজসজ্জা। চেয়ে শুধায়,
–“যা বাসর ঘরে কিছু দিছে টিছে?”

ইন্দুবালা নানুর দিকে তাকায়। মিহি স্বরে বলে,
–“বাসর ঘরে বাধ্যতামূলক কিছু দিতে হবে? এমনি তো কতকিছুই কিনে দিল সেদিন। আর কি প্রয়োজন?”

–“শাক দিয়ে মাছ ঢাকিস না। সবাইকেই এমনি অনেক কিছু দেয়, কিন্তু বাসর ঘরেও আলাদা করে কিছু দিতে হয়।”, নানুর কথায় ইন্দুবালা চুপ রইল আর কিছু বলতে ইচ্ছে করে না। ইনসিয়া প্রসন্ন হয় এই সংবাদে। সে প্রসন্নতা লুকিয়ে মেকি দুঃখি কণ্ঠে বলল,
–“তুই এই নিয়ে মন খারাপ করিস না। সবসময় ভাববি আল্লাহ যাক করে তা ভালোর জন্যই করে। আমরা তো চিন্তায় ছিলাম তোর কপালে এতটুকুও জুটবে কি-না! মোত্তাকিনের মতো বেকার মানুষ তাও অনেক দিয়েছে। তুমি আবার বাসর ঘরের আশা করো, নানু?”

–“আমি জানতামই ওকে কিছু দেবে না। বিয়ের সময় তো লোক দেখানোর জন্য অতটুকু দিয়েছে। নয়তো মানুষ নিন্দা করবে না? আমি এটাও জানি যে—এই মধুমিতা আর মোত্তাকিন যে ওকে মাথায় তুলে নাচতেছে তা ক্ষণিকের। লোকদেখানো! একসময় দেখবি সংসার করার সুখ মিটে গেলে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলবে। সবাই-ই চায় তার ছেলের একটা সুন্দর বউ হবে। মোত্তাকিন ও দুনিয়া চষে বেড়ানো ছেলে, মন ভরে গেলে দেখবি একটা সুন্দর মেয়ে নিয়ে এসেছে।”

একের পর এক নিজ মন্তব্য ব্যক্ত করা নানুর কথায় ইন্দুবালা থমকে গেল। যেখানে সদ্য বিয়ের উজ্জ্বলতা এখনো যার মুখ থেকে সরেনি, সেখানে কি-না কেউ এত বড় কুৎসিত মন্তব্য অবলীলায় বলে দিল? ভয়ে কুঁকড়ে গেল অন্তঃস্থল। এতদিনের লালন করা হীনমন্যতা আরো দৃঢ় হয়। ইন্দুবালা ঢোক গিলে নিজেকে সামলায়। তন্মধ্যেই তহমিনা পাংশুটে মুখে বলল,
–“তা ঠিক বলেছ, আম্মা। বিয়ের প্রথম প্রথম যা আহ্লাদ করবে এরপর যদি ছুঁড়ে ফেলে তখন তো আমাদের ঘাড়ে এসেই আবার উঠবে।”

ইন্দুবালার হাত আলতো কেঁপে উঠল গায়ের রঙের হীনমন্যতা কাটিয়ে নতুন জীবন উপভোগ করার আগেই, ভেঙে যাওয়ার কথায়। সত্যিই যদি এমন হয়? মানুষের তো বদলাতে সময় লাগে না? মোত্তাকিনের যদি একটাসময় গিয়ে মনে হয় তার মতো মেয়ের সাথে সংসার করা সম্ভব নয়, তখন? সুস্থ মস্তিষ্কে ঘরে এলেও মুহুর্তেই ইন্দুবালার মস্তিষ্ক এলোমেলো হয়ে গেল সদ্য গেঁথে দেয়া ভয় আর হীনমন্যতায়। মা আর নানুর দিকে তাকিয়ে ক্ষীণ স্বরে বলল,
–“তোমাদের উপর বোঝা না হতে হয় এর জন্য হলেও যেন আমার সংসার মৃত্যু পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়— দোয়া করো তোমরা।”

কোনমতে এতটুকু বলেই ইন্দুবালা ব্যাগ ছেড়ে ছুটে বেরিয়ে যায়।
*****
–“মোত্তাকিন, বিয়ে করলি বউকে দেখাবি না?”, তপনের কথায় মোত্তাকিন দৃষ্টি তাক করে তার পানে। কাজের স্বার্থে ক্ষুদ্র মনমালিন্য মানিয়ে নিয়ে চলতে হচ্ছে দু’জনকেই। এক কক্ষের মধ্যে গোল করে বসা সকলে উৎসুক নয়নে তাকায় মোত্তাকিনের দিকে। মোত্তাকিন বরাবরের ন্যায় শান্ত নিরুদ্বেগ কণ্ঠে বলল,,
–“বিয়ে করেছি তোদের লেনাদেনা শুধু মিষ্টি আর অভিনন্দন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। মিষ্টি তো খাইয়েছি, কিন্তু তোরা অভিনন্দন জানাস নি।”

তপন খিক খিক করে হাসলো। রসিকতার সুরে বলল,
–“তোর কথায় বেজায় হাসি পাইতেছে ভাই! এমন ভাবে কথা বলছিস যেন বিশ্বসুন্দরী তোর বউ। তাই লুকিয়ে রাখছিস। ভয় নেই তোর বউয়ের দিকে কেউ নজর দেবে না। নজর দেয়ার মতো কিছু থাকলে তো? তুই কি ভেবেছিস আমরা একদম কিছু জানব না? তুই বিয়ে করেছিস আর তা আমরা জানব না, তা কি হয়। পাত্রীর নাম ইন্দুবালা। সরকারি হাই স্কুলের ফিজিক্স টিচার। কালো কুচকুচে একটা মেয়ে, বয়স ত্রিশ; বিয়ে হয় না, বিয়ে হয় না তখন তুই দয়া দেখিয়ে বিয়ে করেছিস।”
বলেই তপন পকেট থেকে ফোন বের করে সবার দিকে তুলে ধরল। স্ক্রিনে ভাসছে ইন্দুবালার মুখটি। সকলে অবাক হয়ে তাকায় মোত্তাকিনের দিকে। একজন দুধের মতো ফর্সা আরেকজন কয়লার মতো কালো। মোত্তাকিন শান্ত স্থির থাকে এটা বোধহয় তপনের একদমই পছন্দ না। প্রত্যেকবার তার অশান্তির কারণ হয়। এবারেও হলো। তপনের ফোনটা এক লাথিতে ছিটকে দেয়ালে বারি খেয়ে নিমিষেই চুরমার হয়ে গেল। সকলে চমকায়। তপন চমকানোর আগেই মোত্তাকিন তেড়ে এসে তার কলার চেপে ধরে,
–“আমি চুপচাপ থাকি এটা তোর সহ্য হয় না তাই না? তোর সাহস কি করে হয় আমার পেছনে স্পাইগিরি করার? তোকে বারণ করেছিলাম না ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে টানাহেঁচড়া করবি না? আমি স্বেচ্ছায় বিয়ে করি, না-কি দয়া করে করি তাতে তোর কি শালা?”
মোত্তাকিন উচ্চস্বরে চেঁচিয়ে উঠল। বশির শান্ত চোখে উগ্র মেজাজের ছেলেটিকে দেখে। থমথমে মুখে বলে,
–“মোত্তাকিন সাবধান! আমি এখানে আছি কিন্তু!”

মোত্তাকিন ছেড়ে দেয়। বশিরের দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকায়। আঙুল তুলে হিসহিসিয়ে বলে,
–“আমি বারবার বলি আমার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কখনো ঘাটতে না, ভাই। কিন্তু ও বারবার একি কাজ করে।”

–“এটা ও কিছু করেনি, আমি-ই ওকে তোর বউয়ের ছবি দিয়েছি। তুই আমার সাথে কাজ করিস মোত্তাকিন, তোর সকল খবর পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে আমার কাছে থাকবে এটাই স্বাভাবিক! এখন কি আমায় ও মারবি?”

মোত্তাকিনের মেজাজ তার স্বকীয়তা হারায়। ক্ষমতাহীনতায় ভোগে। উপচেপড়া রাগ দমনের বৃথা চেষ্টায় মগ্ন হয়। বশির স্মিত হাসলো। মোত্তাকিনের অন্যরকম লাগে হাসিটা।

রাত তখন একটা দশ। বই হাতে বিছানায় আধশোয়া হয়ে বসা ইন্দুবালা এক দৃষ্টিতে মেঝেতে হাঁটাচলা করা ছোট্ট পিঁপড়াটিকে দেখছে। মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে মা, নানুর বলা কথাগুলো। কথাগুলো যদি ভ্রান্ত ধারণার উপর ভিত্তি করে হতো তবে মোটেই সে এগুলোকে পাত্তা দিত না। কিন্তু এগুলো তো ভ্রান্ত নয়! ছোট থেকে সে এগুলোই দেখে আসছে। অবজ্ঞা, অবহেলা, স্বার্থ হাসিল করে মানুষগুলো জীবন থেকে কেমন মিলিয়ে যায়।

তন্মধ্যেই কলিং বেল বেজে উঠল স্বশব্দে। ইন্দুবালা তাকায় দেয়াল ঘড়িটির দিকে। দৃষ্টিতে আরো একবার মলিনতা ছুঁয়ে যায়। মধুমিতা দশটা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়েছে। সারাদিন শেষে শরীর ভেঙে আসে। এখন ইন্দুবালার উপর ভরসা করে সে একটু নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে। মধুমিতার ভাষ্যমতে তার বেয়ারা ছেলেটিকে ঠিক করার ক্ষমতা নাকি একমাত্র তার আছে। ভীষণ অবান্তর এক কথা! বিয়ের এক সপ্তাহে যে রাত একটা ব্যতীত ঘরে ফিরেনি, সে আগামী দশ বছরেও ফিরবে কি-না তার নিশ্চয়তা কি?

ইন্দুবালা বই রেখে ধীর কদমে গিয়ে সদর দরজা খোলে। ফর্মাল পোশাকে ছেলেটিকে দেখে কিয়ৎকাল তাকিয়ে রইল অতঃপর নীরবে পথ ছেড়ে দেয়। মোত্তাকিন ও গটগট করে ঘরে চলে যায়। ফিরে আসে গোসল শেষে। মাথা মুছতে মুছতে খাবার টেবিলে সাজিয়ে রাখা খাবার খেতে বসে পড়ে। নীরবে, নিভৃতে খাবার খেয়ে আবার ঘরে চলে যায়। ইন্দুবালা সব গুছিয়ে রেখে নিজেও ঘরে চলে আসে।
বইয়ের ফেলে রাখা অবশিষ্ট কাহিনীগুলো জানতে মনোযোগী হয়। মোত্তাকিন সিগারেট নিয়ে বারান্দায় গেলেও তুমুল মেজাজ খারাপের কারণে ইচ্ছে হয় না খেতে। সব ছেড়ে সে বিছানায় এসে ধপ করে উবু হয়ে শুয়ে পড়ল। কিয়ৎকাল বাদ মাথা কাত করে তাকায় অন্যদিকে ফিরে শোয়া ইন্দুবালার দিকে। যে কি-না নীরবে একমনে বইয়ের দিকে আছে। কালচে মুখটা আজ অস্বাভাবিক কালো লাগছে। সর্বদা এই মুখটিতে হাসি, চঞ্চলতার একটা চমৎকার সৌন্দর্য থাকে। সে ধীরস্থির এগিয়ে যায়। ঠিক মেয়েটির পাশ ঘেঁষে শুয়ে আলতো হাত গলিয়ে দেয় আঁচল ভেদ করে উদরে, নিজের গাল রাখে মেয়েটির গালের উপর। ঈষৎ কেপে ওঠা মেয়েটিকে জোড়ালো হাতে জড়িয়ে ধরে শুধায়,
–“মন খারাপ?”

ইন্দুবালা শক্ত হয়ে গেল, ধিমি কণ্ঠে জবাব দেয়।
–“নাহ।”

–“ওহ্, তবে? মুখ কলো কেন?”

মস্তিষ্কে চলা বিভাগগুলোর কাছে হার মানা ইন্দুবালা নিজের মধ্যে তখনো জিতে যাওয়ার প্রচেষ্টায় মগ্ন। সে বিশ্বস্ততা খুঁজতে চায়। কিন্তু পেরে ওঠে না। এগুলো নিশ্চয়ই বৈবাহিক সম্পর্কের জোরে অনুভূতিহীন কিছু আচরণ। কিন্তু তার অন্তঃস্থল যে একটু ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা খুঁজছে।
সে থমথমে মুখে বলল,
–“বই পড়ার সময় কেউ হেসে হেসে বই পড়ে না।”

অনুভূতি প্রকাশে সর্বদা ব্যর্থ ছেলেটি রাগ ব্যতীত কিছুই তেমন প্রকাশ করতে জানে না। সে অনুভূতি হীন মেনে গিয়ে বলে,
–“ওহ্, তাহলে একটা চুমু খাই?”
রোজকার এমনি এক আবদার শোনা যায়। যেই আবদার করে মোত্তাকিন তর্কবিতর্ক শেষে ঘুমিয়ে পড়ে। রোজকার মতো ইন্দুবালাও আজো সৌজন্য কণ্ঠেই নাকোচ করে।
–“একদম না, হাত সরা।”

তবে প্রতিদিন মোত্তাকিন দুই তিন কথায় মেনে গেলেও আজ মানলো না। সে ক্ষেপে যায়। বরং আরো জোরালো হাতে জড়িয়ে ধরে কপাল কুঁচকে শুধায়,
–“কেন হাত সরাবো কেন? আমার বউ আমি জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো।”

ক্রমশই উত্তপ্ত হাতটা গভীরভাবে ছুঁয়ে যেতে ইন্দুবালা হাঁসফাঁস করে উঠল। রাগ দমিয়ে ধিমি কণ্ঠে বলে,
–“আমার অস্বস্তি হচ্ছে, মোত্তাকিন!”

মোত্তাকিনের চোখেমুখে ঘোর আপত্তি দেখাগেল এমন কথায়। সে এক ঝটকায় মেয়েটিকে ঘুরিয়ে বিছানায় চেপে ধরে শুধায়,
–“হ্যা রে ইন্দু, তোর কি মনে হয় তোকে আমি দয়া দেখিয়ে বিয়ে করেছি? নাকি শোকেসে সাজিয়ে রাখার জন্য বিয়ে করেছি? নাকি তুই কোন সিরিয়ালের নায়িকা? কোনটাই না। তোকে বিয়ে করেছি স্বেচ্ছায়, তাই তুই এই গিরগিটির বেশ থেকে বেরিয়ে আমার বউ এর বেশ ধর। নয়তো পড়ে তোকেই বিপাকে পড়তে হবে। কেননা তোকে আমি এক রত্তি ছাড় দিচ্ছি না। আর পাঁচটা বউয়েরা যেমন ঘর-সংসার সামলায়, স্বামীর সেবা করে, স্বামীর ভালোবাসা হাসিমুখে গ্রহণ করে তোকেও করতে হবে।”

–“পারবো না।”, ইন্দুবালার ত্যাড়া কণ্ঠ। এটা নিতান্তই তার অনিচ্ছাকৃত আচরণ। কেন তার অন্তঃস্থল ভালোবাসা খুঁজে বেড়ায়?
মোত্তাকিন ভয়াবহ রেগে গেল। সে রেগে বলে,
–“তুই পারবি তোর বাপ পারবে।”

–“সেটাই, তুই আমার বাপকে এনে চুমু খা।”

–“অসভ্য মেয়ে! আমায় রাগাবি না। আমি তোকে যখন ইচ্ছা ছোঁব, চুমু খাব আর তুই তা হাসিমুখে গ্রহণ করবি।”

–“একদমই করবো না। সারাদিন একবার ফোন দিয়েছিস? জিজ্ঞাসা করেছিস কি করছি, খেয়েছি কি-না? আমি ফোন দিয়েছি তাও ধরিস নি। রাতে এসেছিস আহ্লাদ করতে? দূরে সর! আমার ধারেকাছে আসলেও তোর খবর আছে, মোত্তাকিন।”

ইন্দুবালা ত্যাড়া হলে মোত্তাকিন তার রাজা। সে মেয়েটিকে আরো জোরালোভাবে চেপে ধরে তেজি কণ্ঠে বলে,
–“এসেছি কাছে। কি করবি? এই দেখ তোকে চুমুও খাচ্ছি।”, বলেই তার চোখুমুখে অঝোরে চুমু খেতে লাগলো মোত্তাকিন।
ছোট ছোট কিছু চুম্বনে যে কখন অনুভূতিহীন সম্পর্কটাকে টেনেহিঁচড়ে গভীরে নিয়ে যায় তা কেউ টের পেল না। কখন যে একটু একটু অনুভূতি আঁছড়ে পড়ে সম্পর্কে তা বোঝে না কেউ। রাগের প্রতিফলন অচিরেই আলতো স্পর্শে পরিণত হতে থাকে। অপ্রতিরোধ্য স্পর্শ স্থির হয় ঠিক একে অপরের ওষ্ঠদ্বয়ের শীতল স্পর্শে। ইন্দুবালার দেহ শিথিল হয়ে আসে। শিথিল হয়ে আসে মোত্তাকিনের রাগ ও। আলতো স্পর্শে জগত ভুলতে বসা মোত্তাকিন হঠাৎ করেই সচকিত হয় হু হু করে কান্নার শব্দে। অবিলম্বে দূরে সরে যাওয়া মোত্তাকিন হকচকায় ইন্দুবালাকে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখে। মোত্তাকিন অপ্রস্তুত হয়। ব্যস্ত কণ্ঠে বলে,
–“ঐ কাঁদছিস কেন? ইন্দু? স্যরি স্যরি আর ছুঁয়ে দিচ্ছি না তোকে। এই দেখ আমি দূরে সরে যাচ্ছি। কাঁদিস না। চোখ খোল, দেখ।”

মোত্তাকিন তড়িঘড়ি করে তার উপর থেকে উঠতে গেলে কম্পিত একটি হাত তার টিশার্ট মুঠোবন্দী করে নেয়। মোত্তাকিন মাথা নুইয়ে দেখে বক্ষস্থলের টিশার্ট আঁকড়ে ধরা হাতটিকে। অতঃপর আলতো হাতে মেয়েটির গাল ছুঁয়ে নরম কণ্ঠে ডেকে ওঠে ,
–“ইন্দু? চোখ খোল। আর বিরক্ত করব না, আই সোয়্যার।”

ইন্দুবালা চোখ খোলে। অনবরত গড়িয়ে পড়া অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকিয়ে তিরতির করে কেঁপে ওঠা ঠোঁট নেড়ে নিজের মধ্যে চলা হীনমন্যতা আর দ্বন্দ্ব প্রকাশ করে বলে,
–“তুই কি আমায় কদিন পর ছুঁড়ে ফেলে দিবি?”

মোত্তাকিন ভড়কে যায় আরেকদফা। ভ্রু কুঁচকে শুধায়,
–“এ কেমন কথা?”

ইন্দুবালা শ্বাস ফেলে। ঠিক অবুঝের ন্যায় বলে,
–“সবাই বলত, আমি কালো বলে আমায় কেউ ভালোবাসবে না। স্বামীর ঘরেও কখনো সম্মান পাব না। তবে তুই কেন এতো সম্মান , ভালোবাসা দিচ্ছিস? তুই তো বেটার কাউকে ডিজার্ভ করিস। এসব কি তবে মিথ্যা? কদিন পরে কি এসব পাল্টে যাবে? তুই আমায় ছুঁড়ে ফেলে দিবি? অবজ্ঞা করবি? দূর্ব্যাবহার করবি?”

মোত্তাকিন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল অবুঝের ন্যায়। কিয়ৎকাল হতবুদ্ধি হয়ে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করে কথার মর্মার্থ। অতঃপর স্তম্ভিত কণ্ঠে বলে,
–“বিবাহিত মানুষের জন্য বেটার বলে কিছু হয় না-কি? তার জন্য তো তার বউ-ই গুড, বেটার বেস্ট।”

–“সবার বউ সুন্দর কিন্তু আমি দেখতে বিশ্রী।”

মোত্তাকিন কান্নার কারণ বুঝতে পেরে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলল। শুধায়,
–“ধর, এখন কোন এক দূর্ঘটনায় আমার চেহারা ঝলসে গেল। তখন কি তুই আমায় ছেড়ে চলে যাবি?”

ইন্দুবালা না বোধক মাথা নেড়ে বলল,
–“কখনো না।”

–“কেন?”

ইন্দুবালা অবুঝের ন্যায় বলল,
–“আমি আমার স্বামী ছেড়ে চলে যাব কেন? একটা মেয়ের জন্য তার স্বামীই হয় সবকিছু।”

মোত্তাকিন হাসলো তার কথায়। মুগ্ধ কণ্ঠে বলল,
–” জীবনসঙ্গী হিসেবে আমি একজন ভালো মানুষ চাই। মানুষকে দেখিয়ে বেড়ানোর জন্য কোন সুন্দর শোপিস চাই না। আর আমি আমার সবকিছু, আমার বউ পেয়ে গিয়েছি। এখন তাকে তার প্রাপ্য দিতে হবে, অনেক অনেক ভালোবাসতে হবে, তারপর একদিন দুটো ছোট ছোট মোত্তাকিন আর ইন্দুবালা এনে একটা ভরপুর সংসার বানাতে হবে। তাদের নিজেদের হাতে বড় করতে হবে, স্কুলের প্রথম দিন থেকে পড়াশুনার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার সঙ্গ দিতে হবে। তাদের একটা উজ্জ্বল শৈশব থেকে শুরু করে একটা উজ্জ্বল জীবন দিতে হবে। এই পথটুকুতে আর কখনো এই গায়ের রঙকে বাঁধা হিসেবে নিবি না, বুঝলি?”

ইন্দুবালা বোঝে না শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। যেখানে মা, নানু বলেছিল এই ছেলেটা তাকে দুদিন পড়ে ছেড়ে দেবে, সেখানে ছেলেটা তাকে নিয়ে একটা লম্বা যাত্রার স্বপ্ন দেখছে।

–“বেকুব মেয়ে!”, মোত্তাকিন তার গাল চাপড়ে হেসে অপরপ্রান্তে চলে যায়। লাইট নিভিয়ে কোলবালিশ আঁকড়ে ধরে ঘুমানোর চেষ্টা করে। ইন্দুবালা মিইয়ে যায়। এতদিন ছেলেটির সাথে দূরত্ব বজায় রেখে চলেছে এই হীনমন্যতার করণেই। কিন্তু এখন আর হীনমন্যতা, সংকীর্ণতা নেই অন্তঃস্থলে। ছেলেটি নিজ দায়িত্ব তা দূর করে দিয়েছে। সে চোখের পানি মুছে মন্থর গতিতে এগিয়ে যায়। মোত্তাকিনের বাহুডোর থেকে নিজ উদ্যোগে কোলবালিশ সরিয়ে সেথায় শুয়ে পড়ে। মোত্তাকিন দু’হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বক্ষস্থলে লেপ্টে যাওয়া দেহটিকে। বদ্ধ নেত্রে মোত্তাকিন গমগমে স্বরে বলল,
–“কি চাই?”

ইন্দুবালা সতর্ক কণ্ঠে বলল,
–“পুরোনো কোলবালিশে ঘুমাতে নেই। নতুন কোলবালিশ জড়িয়ে ঘুমাতে মজা।”

মোত্তাকিনের ওষ্ঠকোনা অলস গতিতে বেঁকে যায়। কিছু বলে না, সেভাবেই ঘাড়ে মুখ গুঁজে শুয়ে থাকে। ইন্দুবালা কিয়ৎকাল বাদ ক্ষীণ কণ্ঠে বলল,
–“দুঃখিত!”

সহসা অন্ধকারে আন্দোলিত হয় গম্ভীর কণ্ঠ।
–“ঘুমা।”

–“এখনো রাগ করে আছিস?”

–“ঘুমাতে বলছি, ঘুমা। একবার ঘুম নষ্ট করলে তোর খবর আছে। একটা না শ’খানেক চুমু খাব।”

–“খা সমস্যা নেই।”, ইন্দুবালার নিভন্ত স্বর কর্নগোচর হতে না হতেই মোত্তাকিন এক ঝটকায় মেয়েটিকে বিছানায় চেপে ধরে। ফিচলে হেসে ফিসফিসিয়ে বলে,
–“চুমু খেতে দারুন মজা, ইন্দু। আগে বুঝলে আরো আগে টেস্ট করতাম।”

ইন্দুবালা তেতে উঠল এহেন কথায়। দাঁতে দাঁত চেপে শুধায়,
–“আগে কিভাবে টেস্ট করতি? তোর বিয়েই তো হলো এক সপ্তাহ আগে।”

–“কেন ইনা, মিনা, টিকা ছিল না?”, মোত্তাকিনের কথা শেষ হতে না হতেই ধুম করে এক প্রকান্ড আঘাত ছুঁয়ে গেল তার বক্ষস্থল। ইন্দুবালা রাগে চেঁচিয়ে ওঠে,
–“অসভ্য, বেয়াদব, ইত…!

কটু কথাগুলো ওষ্ঠদ্বয়ের আড়ালেই থেকে গেল। জীবনের দ্বন্দ্ব , দুঃখ, হীনমন্যতা, সংকীর্ণতা, লাঞ্ছনা গুলো সেই পর্যায়ে গিয়ে থমকে গেল অজানা অচেনা উত্তপ্ত স্পর্শের শিহরণে। অনুভূতির সর্বোচ্চ শিখরে থাকা ইন্দুবালা অনুভব করল পৃথিবীর সবচেয়ে দূর্বল প্রাণীটি সে! একটু ছোঁয়াতেই কেমন নিজেকে খুইয়ে বসলো। ভালোবাসা, অ-ভালোবাসার সংজ্ঞাগুলো অপ্রকাশিত থেকে গেল, অগ্রাধিকার পায় বৈবাহিক জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম কিছু অনুভূতি।

~চলবে~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here