#প্রেম_বর্ণহীন
#তোনিমা_খান
#পর্বঃ১৪
কয়েক মাস আগের ঘটনা। সদ্য শুরু হওয়া সম্পর্কের স্নিগ্ধ আবহে ভেসে বেড়াচ্ছিল মোত্তাকিন। কিন্তু অচিরেই সেই আবহ পরিণত হলো ঝড়ো বিপর্যয়ে। কারণ, প্রেমিকার পরিচয় সহ তার জ্ঞাতী গোষ্ঠীর কথা অলক্ষ্যে পৌঁছে গেল মায়ের কানে। আর এই অঘটনের গুরুদায়িত্ব পালন করেছিল তার তথাকথিত নিন্দুক পড়শী। পরিণতি? দু’দিন অবিরাম জুতার প্রহার, তারপর এক সপ্তাহ নির্বাসিতের মতো ঘরছাড়া জীবন।
এই ধারণা থেকেই মোত্তাকিন দৃঢ় বিশ্বাসে আবদ্ধ হয়। এমন বিদ্বেষপরায়ণ পড়শী থাকলে জীবনের সুখ নামক জিনিস কেবল মরীচিকা। আর এই বিশ্বাস নিয়েই তার সংঘাত বাঁধে ইন্দুবালার সঙ্গে।
তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো, চারপাশের পৃথিবীর চোখে মোত্তাকিন এক উচ্ছৃঙ্খল, বাঁধভাঙা তরুণ—অবাধে চলার অবতার হলেও মা আর এই পড়শীর সামনে এলে তার দাপুটে স্বাধীনতা কোথাও যেন মিলিয়ে যায়। সেদিন কিছু না করতে পেরেই রাগ করে মেয়েটির পছন্দের ডায়রিটা নিয়ে আসে। ছোটবেলা থেকে দেখেছে এই ডায়রিটার সাথে ইন্দুবালার দীর্ঘ সময় কাটে। বিশাল মোটা এক ডায়রির ভাঁজে ভাঁজে স্বল্প স্বল্প কিছু কথা লেখা থাকলেও তা ভীষণ মহত্ত্বপূর্ণ! কিন্তু সেই ডায়রিটি এতো দিনেও মোত্তাকিন একবার খুলে দেখেনি।
সেদিন যখন মেয়েটির জীবনে অন্য কেউ এসে ঢুকে গেল অযথাই মেজাজ খারাপ হয়। সারারাত ছটফট করতে করতে হঠাৎ করেই সেই ফেলে রাখা ডায়রিটা নজরে আসে। অনাগ্রহে খুলে পুরো ডায়রিতে চোখ বলাতে বুলাতে হঠাৎ দৃষ্টিগোচর হয় ছোট্ট লেখাটি। পুরো ডায়রি জুড়ে শুধু ঐ ছোট্ট একটা লেখাই ছিল।
মোত্তাকিনের অস্থিরতারা সেদিন নতুন মাত্রা পেয়েছিল। মেয়েটির উপর থেকে সদ্য হারাতে বসা অধিকার ছিনিয়ে আনার প্রবল আকাঙ্ক্ষা তখন জেদ হয়ে গেল।
বদ্ধ কামড়ায় শুধু থেমে থেমে ক্ষীণ নিঃশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশালাকৃতির দেহের আড়ালে চাপা পড়া ইন্দুবালাকে তখন দেখতে লাগছে ঠিক শেয়ালের কাছে আঁটকে পড়া এক মুরগির মতো। কয়েকদফা হাতাহাতি করেও নিজের ডায়রি নিতে অসফল ইন্দুবালা তখন পুরোটা মোত্তাকিনের আয়ত্তে। গলদেশে মুখ গুঁজে থাকা ছেলেটি নড়েচড়ে উঠতেই ইন্দুবালা বদ্ধ নেত্রে এবার দম ফেলতে ভুলে গেল। মোত্তাকিন সেথায় নিজের রুক্ষ দাঁড়িযুক্ত মুখ ঘঁষে ধিমি কণ্ঠে শুধায়,
–“প্রতিবেশী গুন্ডা ছেলেটি খুব সুন্দর কথা বলে?”
–“নাহ।”, ইন্দুবালা বদ্ধ নেত্রেই তেজি কণ্ঠে জবাব দেয়।
–“প্রতিবেশী গুন্ডা ছেলেটির জন্য রোজ অপেক্ষা করতি?”
–“নাহ।”
–“ছেলেটিকে পছন্দ করিস?”
–“নাহ।”
–“তবে ভালোবাসিস?”
–“নাহ।”
লাগাতার নেতিবাচক মিথ্যা জবাবে মোত্তাকিন গা দুলিয়ে হেসে উঠল। ফের মেয়েটিকে বিছানার সাথে শক্ত করে চেপে ধরে আবদারের সুরে বলে ওঠে,
–“একটা চুমু খাই?”
সহসা ভেসে আসল রাগত স্বরে এক চিৎকার। ইন্দুবালা তাকে সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কা দিতে দিতে বলল,
–“গুন্ডা, দৈত্য আমার উপর থেকে সর । আমি কিন্তু মধুকে ডাক দেব, মোত্তাকিন!”
–“তোর মধু একবার ঘুমালে জগতের কারোর ডাকে সাঁড়া দেয় না, আজান ব্যতীত। এখন সত্যি কথা বল, নয়তো ছাড়ছি না।”, মোত্তাকিন বাঁধন হালকা করে শুধায়। ইন্দুবালা চোখ রাখে মুখের উপর স্থির সুদর্শন মুখটির দিকে। অতিরিক্ত কালো ঐ নেত্র যেন কোন গভীর হ্রদ। লোকে বলে চোখ কখনো মিথ্যা বলে না। অথচ কথাখানা ডাহা মিথ্যা কথা এই ছেলেটার জন্য। এই চোখ কেউ পড়তে পারে না। উপরে একটা মানুষ, ভেতরে আরেকটা মানুষ, চোখে দৃশ্যমান হয় আরেক মানুষ।
–“কি হলো এমনি সময় তো ফটর ফটর থামে না এখন চুপ কেন? তবে কি আমি সত্যি ধরে নেব?”
মোত্তাকিন ভ্রু নাচিয়ে বলল। ইন্দুবালা দেখে হাসির তালে গোলাপী আভায় ছেয়ে যাওয়া ছেলেটির গাল।ছেলে মানুষ এত ফর্সা তার ভালো লাগে না। মূলা মূলা লাগে। সে ফোঁস ফোঁস করে বলে,
–“কথা সুন্দর বলেছি, ভালোবাসি বলেছি?”
–“আমার সাথে নয় ছয় করছিস না তো?”, মোত্তাকিনের তীক্ষ্ণ নজরে ইন্দুবালা আইটাই করে উঠল। দৃষ্টি লুকিয়ে বলে,
–“করলেও বা কি?”
মোত্তাকিন মৃদু হাসলো পাল্টা প্রশ্নে। হাত বাড়িয়ে মেয়েটির চোয়াল চেপে অস্থির দৃষ্টি নিজের দিকে স্থির করে। চোখে চোখ রেখে বলে,
–“আমার প্রতি তোর সফট কর্নার আছে জানামাত্র তোকে নিজের বউ বানিয়ে ফেলেছি, আমায় ভালোবাসিস জানলে বাচ্চার মা বানিয়ে দেব, ইনশাআল্লাহ!”
সহসা বুক বরাবর ধুপ করে এক তীব্র মুষ্টিবদ্ধ হাতের আঘাতে মোত্তাকিন কঁকিয়ে উঠল। ইন্দুবালা তাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে ফুঁসতে ফুঁসতে উঠে বসল। পাশেই হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়া ছেলেটিকে শাসিয়ে বলল,
–“মোটেও ছ্যাঁচড়ামো করবি না আমার সাথে। আর নিজের এইসব উল্টাপাল্টা খেয়ালি চিন্তা করা বন্ধ কর। কোন গুন্ডাকে ভালোবাসব এত খারাপ দিন আমার আসেনি।”
–“অথচ তুই কোন এক গুন্ডার’ই বউ।”, মোত্তকিন ঘুম জড়ানো চোখে হাই তুলতে তুলতে বলল। হাত বাড়িয়ে কোলবালিশ জড়িয়ে নিতে নিতে অলস কণ্ঠে বলল,
–“আজ ঘুমাই, তোর সাথে কাল বোঝাপড়া করব এই বিষয়ে। বউ যখন হয়েছিস বাচ্চার মাও হয়ে যাবি চিন্তা নেই। এখন ঘুমা!”
ইন্দুবালা আড়চোখে ছেলেটাকে পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত হাতে পৃষ্ঠা উল্টে কাঙ্খিত পৃষ্ঠা বের করল। সাথে সাথেই হাঁফ ছাড়ল সে। নাহ, লুকানো জিনিস এখনো লুকিয়েই আছে। সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ডায়রি বালিশের নিচে রেখে লাইট নিভিয়ে বিছানার এক কিনারায় শুয়ে পড়ে। দেহে শক্তির বড়োই অভাব! সারাদিন কম কিছু তো যায়নি। তবে চোখ বুজলেই সেই স্বস্তিতে ফের বিঘ্ন ঘটিয়ে মোত্তাকিন খ্যাক খ্যাক করে উঠল। পা দিয়ে লাত্থি মেরে কোল বালিশটা নিচে ফেলে দিতেই ইন্দুবালা ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায়। ড্রিম লাইটের আলোয় স্পষ্ট ছেলেটির উদ্দেশ্যে চাপা আক্রোশে শুধায়,
–“কি সমস্যা ওটাকে লাথি মারলি কেন, অভদ্র?”
মোত্তাকিন বিছানার অপরপ্রান্ত থেকে এক গড়াগড়ি দিয়ে এগিয়ে আসে। বলে,
–“আমার নতুন কোলবালিশ থাকতে আমি এখনো পুরোনো টা নিয়ে ঘুমাবো কেন?”
–“মানে?”
মানে মানের জায়গায় থেকেই গেল মোত্তাকিন তাকে চার হাত পায়ে জাপ্টে ধরতেই। ইন্দুবালা ফুঁসে ওঠে।
–“মোত্তাকিন জ্বালানোর একটা লিমিট থাকে। সর, ঘুমাতে দে। বিয়ে হতে না হতেই তুই ছ্যাঁচড়ামো শুরু করেছিস আমার সাথে?”
–“কদিন আগেও বিয়ের জন্য সে কি উদ্বেগ! অথচ এখন বিয়ে হওয়ার পর শুরু হয়েছ ছাড়, সর, দূর হ, নাহ। এই বেয়াদব তোকে কেউ বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে কি সঙ সাজিয়ে রাখবে?”
–“তোর মতো অলটইম ছ্যাঁচড়ামো অন্তত করত না।”
–“তা ঠিক! তারা নাহয় শুধু রাতে ছ্যাঁচড়ামো করত আর আমি অলটাইম ছ্যাঁচড়ামো করি। এতটুকুই তো পার্থক্য, তাই না?”, মোত্তাকিনের নিভন্ত স্বর। তার নিস্তেজ কণ্ঠে নিদ্রার প্রবল তীব্রতা।
–“অশ্লীল!”,ইন্দুবালা দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে। আর কথা বাড়ায় না সেভাবেই ঘুমানোর চেষ্টা করে। তবে ঘুম বুঝি আজ ইন্দুবালার কপালে নেই। সে নিজের দিকে তাকায়, নিজের অবস্থানের দিকে তাকায়। নেত্রদ্বয় টলটল করে উঠল নিজেকে কারোর বক্ষমাঝে দেখে। মা মারা যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ এই ত্রিশ বছরের জীবনে কাউকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে দিনের সকল ক্লান্তি, অভিযোগ, অভিমান দূর করার অনুভূতি কেমন হয় তা সে জানত না। সারাজীবন উপহাস, কটুক্তি, লাঞ্ছনা আর মরছে না কেন—এই ঘৃণ্য অনুভূতি গুলোর সামনা করা অন্তঃস্থল ভুলে বসেছিল ভালোবাসা, একটু সহায়, একটু আদরের কেমন হয়। অথচ আজ কেমন অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে কেউ কেমন করে তাকে ঘৃণা ছাড়া বুকে জড়িয়ে আছে! সবার মতো নাক ছিটকাচ্ছে না তাকে ছুঁতে! ছোট বেলায় যখন অতিথিরা বাড়িতে আসত তখন কেউ তাকে কোলে নিতে চাইতো না, সবাই ইনসিয়াকে নিতো, আদর করত। ইন্দুবালার চোখের কার্নিশ ভিজে ওঠে হঠাৎ পেয়ে যাওয়া অমূল্য কিছু হারিয়ে ফেলার ভয়ে। এটা দুঃস্বপ্ন না হোক! কেউ তাকে কোন অযুহাত ছাড়া একটু ভালোবাসুক।
অতল ভাবনায় বিভোর ইন্দুবালা কখন ঘুমিয়ে পড়ল তার ঠিক নেই। তার ঘুম ভাঙলো বিকট চিৎকারে।
–“ইন্দু, ওঠ ওঠ! পাড়ার লোক যদি দেখে তুই প্রতিবেশী গুন্ডা ছেলেটির বুকে ঘুমিয়ে আছিস তবে নিন্দার শেষ থাকবে না। ওঠ, ওঠ!”
ঘুমন্ত ইন্দুবালা ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে সেই বিকট আওয়াজে। এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে অবুঝ কণ্ঠে বলে,
–“কি হয়েছে? আমি এখানে কেন?”
মোত্তাকিন হড়বড়িয়ে বলে,
–“সেটাই তো! তাড়াতাড়ি নিজের ঘরে যা, তুই আমার ঘরে কি করছিস? ঐ দেখ সকাল হয়ে গিয়েছে লোক জানাজানি হয়ে যাবে?”
ঘুম জড়ানো নিশ্চল মস্তিষ্কে ইন্দুবালা ভয়ার্ত নয়নে আশেপাশে তাকিয়ে অবুঝ কণ্ঠে শুধায়,
–“আমি এখানে এলাম কি করে? কেউ দেখেনি তো?”
বলেই সে হুড়মুড়িয়ে বিছানা ছেড়ে নামতে গেলে শাড়িতে বেঁধে ধপ করে পড়ে গেল মেঝেতে। মোত্তাকিন ঘর কাঁপিয়ে উচ্চস্বরে হেসে উঠল। ইন্দুবালার স্মৃতি শক্তি স্পষ্ট হয় ততক্ষণে। তার মনে পড়ে এখন সে এই অভদ্র, গুন্ডা ছেলেটির স্ত্রী। রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সে উঠে বালিশ দিয়ে ধুপধাপ দু’টো লাগিয়ে দিল ছেলেটির পিঠ বরাবর।
মোত্তাকিন হাসতে হাসতে বিছানা থেকে নেমে এক ঝটকায় মেয়েটিকে কোলে তুলে নেয়। হাসি থামিয়ে গম্ভীর সুরে বলে,
— “কে তোকে কিছু বলে? এবারে আমি দেখে নেব। এই দেখ, তুই প্রতিবেশী ছেলেটার কোলে চেপে বারান্দা ঘুরবি, আর কেউই তোকে কিছু বলতে পারবে না।”
বলেই সে ইন্দুবালাকে নিয়ে বারান্দায় বেরিয়ে যায়। ইন্দুবালা ছটফট করতে থাকে। রেগে বলে,
— “জমিদারের নাতি ছেড়ে দে আমায়! সব জায়গায় শুধু কৃতিত্ব দেখাতে হবে না। লোকে দেখলে খারাপ ভাববে।”
মোত্তাকিন শুনলো না বারান্দা থেকে এক পাক ঘুরিয়ে তারপর আসে। অন্যদিকে দোতালায় নিজের জানালায় উঁকি দিয়ে বসে থাকা ইনসিয়া আর তহমিনার চোখ বড় বড় হয়ে গেল এই বিস্ময়কর দৃশ্যে। ইনসিয়া অবাক হয়ে বিড়বিড় করে,
–“বাহ্! এত প্রেম এক রাতেই? মোত্তাকিন কি দেখে ঐ মেয়েটিকে এমন আহ্লাদ করছে? দু’জনকে একসাথে দেখতেই তো কেমন ইয়াক লাগছে। একজন আকাশ আর একজন পাতাল!”
তহমিনা হা বন্ধ করে। গভীর ভাবনায় ডুবে যায়। গম্ভীর গলায় বলে,
–“আমার মনে হয় এই ইন্দু কোন জাদুটোনা করেছে মোত্তাকিনের উপর বুঝলি? তা নাহলে জেনেশুনে কোন ষড়যন্ত্র করেছে আমাদের বিরুদ্ধে। নয়তো এসব অসম্ভব।”
–“ঠিক বলেছ মা। দেখা যাবে মোত্তাকিন যে আমার সাথে কদিন সুন্দর করে কথা বলেছে তাও ওর ষড়যন্ত্র।”
–“হতে পারে।”
–“দেখেছ ওটার যেমন চেহরা তেমন ভেতরটা। আস্ত এই ডাইনি!”
তারা এসেছিল সকাল সকাল এই ঘরের পরিস্থিতি দেখতে। মধুমিতার মুখে হাসি না-কি দুঃখ, কালো মেয়েটিকে অমন সুন্দর চাঁদের মতো ছেলের বউ হিসেবে পেয়ে। তহমিনা বাড়িটির দিকে স্থির শকুনি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলল,
–“বিয়ের প্রথম প্রথম এমন একটু আধটু আহ্লাদ থাকবে বুঝলি? এরপর দেখবি ঝামেলা কাকে বলে। এই সংসার টিকবে না তো! এখন তো প্রথম প্রথম বউ পেয়ে মোত্তাকিন উড়ছে।”
–“হলেই হয়। নয়তো ইন্দুবালাকে সিটি মেয়রের পুত্রবধূ হতে দেখতে হলে আমাদের মরা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না, মা। ওর মতো মানুষ এসব ডিজার্ভ করে?”
এমনি ঘৃণ্য কথোপকথনে কেটে যায় মা মেয়ের সকাল।
ইন্দুবালার পড়নে বাড়ি থেকে নিয়ে আসা একটা সুতির শাড়ি। সে কুঁচকানো শাড়িটা ঠিক করে তড়িঘড়ি করে ঘরের দরজা খুলতেই মধুমিতার রাগান্বিত মুখটি ভেসে উঠল। ইন্দুবালার পেছন পেছন মোত্তাকিন ও এসে দাঁড়িয়েছে। মায়ের রাগি দৃষ্টি দেখে ভ্রু নাচিয়ে শুধায়,
–“কি হলো এমন করে তাকাচ্ছো কেন?”
মধুমিতা থমথমে মুখে শুধায়,
–“ও এই ঘরে কেন?”
মোত্তাকিন নিরুদ্বেগ বলে,
–“স্বামীর ঘরে থাকবে না তো কার ঘরে থাকবে?”
–“ওকে আমি আমার কাছে ঘুম পাড়িয়ে ছিলাম।”
–“আমার বউ তুমি নিজের কাছে ঘুম পাড়াও কোন আক্কেলে?”
–“যেই আক্কেলে আমি তোর মতো গর্ধব, অপদার্থ বড় করেছি। ঘরে নতুন বউ এসেছে, ঘরে যে কোন ভালো খাবারদাবার নেই তা কি তোর খেয়াল আছে? বিয়ের পর প্রথম দিন কি খেতে দেব ওকে? রুটি আর আলুভাজি?”, মধুমিতা তেজি কণ্ঠে বলল।
মায়ের কথার প্রেক্ষিতে মোত্তাকিন বিতৃষ্ণা ভরা দৃষ্টি ফেলে ঘরে চলে যায়। ইন্দুবালা মধুমিতার হাত আঁকড়ে ধরে হড়বড়িয়ে বলল,
–“আমার জন্য বিশেষ কিছু করতে হবে না মধু। যেমন তোমরা খাও, তেমন আমিও খাব।”
–“কেন করতে হবে না? আর পাঁচটা মেয়ে যেমন শশুর বাড়িতে প্রথম দিনে অনেক আপ্যায়ন পায় তুই ও পাবি। জানি খুব বড় করে কিছু করার সামর্থ্য আমার নেই কিন্তু সাধ্যের মধ্যে কিছু তো করতে পারব। তুই চুপচাপ শুধু বসে থাক, আজ বউ আদর হবে।”
মধুমিতা রান্নাঘরে ঢোকে। তার পিছু পিছু ইন্দুবালাও ঢোকে।
–“কি করছ আমায় দাও আমি করে দেই। তোমার কোমড় ব্যথা!”
–“কিছু করছি না। দেখছি কি কি লাগবে তাই আনতে বলব বাবুকে।”, মধু নিজ কর্মে মগ্ন থেকেই বলল। ইন্দুবালা আনত কণ্ঠে বলল,
–“তুমি কি কষ্ট পেয়েছ মধু? আমি ইচ্ছে করে চলে যাইনি ঐ ঘরে। তোমার ছেলে তুলে নিয়ে গিয়েছে।”
মধুমিতা খালি লবঙ্গের কৌটা দেখতে দেখতে মৃদু হাসলো। সে ফিরে তাকায়। আজীবন ভর সকলের দুয়ারে মাথা ঠুকে আসা মেয়েটির মাথায় হাত রেখে বলল,
–“তোকে আমি নিজের ঘরে রাখার জন্য কি ছেলের বউ করে এনেছি? তুই আমার ঘরে, আমার ছায়াতলে আছিস এতটুকুতেই আমার শান্তি। ওটা তো আমার ছেলেকে শায়েস্তা করার জন্য করেছিলাম। আমি এখনো জানি না ও কিসের জন্য এতো উদগ্রীব হয়ে তোকে বিয়ে করেছে। তাই দেখতে চেয়েছিলাম ও তোকে কোনরকম অবজ্ঞা করে কি-না! কিন্তু না, ও সত্যিই তোর জন্য উদগ্রীব। আমার দুশ্চিন্তা কমেছে। কিন্তু কোনদিন যদি দেখেছি ও তোকে কোনরকম কষ্ট দিয়েছে, আর পাঁচটা পুরুষের মতো গায়ের রঙ নিয়ে খোঁটা দিচ্ছে, অবহেলা করছে তবে আমি তোকে নিয়ে দূরে কোথাও চলে যাব। কিন্তু আজকের পর থেকে তোকে আর কখনো কোন কষ্ট পেতে দেব না বুঝেছিস? মায়ের সাথে থাকবি তো সবসময়?”
ইন্দুবালা টলটলে নেত্রে তাকিয়ে ঘন ঘন মাথা নাড়লো। স্মিত হেসে বলল,
–“তারপর দু’জনে ইনকাম করব আর দু’জনে আনন্দে জীবনযাপন করব, ঠিক আছে?”
–“বাহ্ বাহ্! কি সুন্দর পরিকল্পনা! তোমাদের মতো ষড়যন্ত্রকারী কুটনী মা-বউ সবার কপালে জুটুক। এদিকে আমি ওনাদের জন্য দূর্বিসহ জীবনযাপন করছি আর ওদিকে ওনারা আমায় ফেলে বনবাসে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। আমার ভাবতেই অবাক লাগছে আমি তোমাদের মতো নিষ্ঠুর, অকৃতজ্ঞ রমনীদের একটা সুন্দর জীবন দেয়ার জন্য লড়ে যাচ্ছি।”, শার্ট প্যান্ট পড়ে তৈরি হয়ে আসা মোত্তাকিন দাঁতে দাঁত চেপে বলল। ইন্দুবালা থতমত খেয়ে যায়। মধুমিতা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
–“আমার জীবন ঝাঁঝরা করে দিয়ে আমায় ভালো জীবন দেয়ার জন্য লড়ছে। এই দুমুখো স্বভাবের জন্যই মনে হয় আমি এতদিন একটা কালসাপ পুষেছি। যা, গিয়ে ঠিকঠাক মতো বাজার করে নিয়ে আয়। একটা জিনিস ও যেন বাদ পড়ে না বাবু।”
মোত্তাকিন দাঁতে দাঁত চেপে চেপে বলল,
–“জি আম্মাজান। দিন, আপনাদের গোলাম তো। আপনাদের জন্য সারাদিন খাটবো আর আপনারা সারাদিন পরিকল্পনা করবেন কি করে আমায় বাঁশ দেয়া যায়।”
মধুমিতা থমথমে মুখে বাজারের বিশাল বিশাল দু’টো ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে বলল,
–“জলদি আসবি, আর আসার সময় নাস্তা কিনে আনবি। গরুর মাংস আর পরোটা আনবি।”
–“এগুলো লাগবে না মধু।”, মধুমিতা চোখ রাঙায় মেয়েটিকে। বলে,
–“এগুলো বাধ্যতামূলক!”
মধুমিতা তার দায়িত্ব খুব সুন্দর করেই পালন করে। মেয়েটিকে বিশেষ অনুভব করাতে সে একচুল কম্প্রোমাইজ করেনি। আর মায়ের এহেন সিদ্ধান্তে ঠিক কলের পুতুলের মতো সহযোগিতা করেছে মোত্তাকিন। এতেও বহু কথা শুনতে হয়েছে তাকে। তবুও বিগত ত্রিশটা বছর যেই মেয়েটা মানুষের কথা শুনতে শুনতে আজ এই পর্যন্ত এসেছে তার জন্য এতোটুকু মওকুফ তো অনায়াসেই করা যায়।
দুপুরের খাবারে খাসির লেগ রোস্ট, আস্ত মুরগির গ্রিল সহ নান এলাহী খাবারের ব্যবস্থা করে মধুমিতা। খাওয়া শেষে মধুমিতা ইন্দুবালাকে বগলদাবা করে মার্কেটের উদ্দেশ্যে ছুটলো।
–“মধু আমরা কেন মার্কেটে যাচ্ছি?”
মধু মেয়েটির হাত কোলের মাঝে নিয়ে রিকশায় বসে। আমোদিত কণ্ঠে বলে,
–“তোর জন্য শাড়ি, চুড়ি আনতে। মেয়ে মানুষের কতকিছু প্রয়োজন হয় তা কিনতে হবে না? আমার মেয়ে নেই বলে কি আমি জানি না? জানি , সব জানি। নিজের ও এক সময় শখ আহ্লাদ অনেক ছিল কিন্তু তা পূরণ হয়নি। কিন্তু তোর সব শখ আহ্লাদ আমি পূরণ করব। ঐ অপদার্থের পেছনে আজ থেকে আমি আর একটা টাকাও খরচ করব না খাওয়া দাওয়া ব্যতীত।”
পাশেই বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মোত্তাকিন ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় মায়ের দিকে। থমথমে মুখে বলে,
–“মামনি, তুমি হলে সিরাজউদদৌলা’র আমলের রেখে যাওয়া ঘষেটি বেগম। যা আমার কপালে জুটেছে। পছন্দের সখীকে পেতে দেরি আছে তোমার রঙ বদলাতে দেরি নেই। ছোট থেকে লালন পালন করা ছেলের সাথে এমন আচরণ করছ যেন আমি তোমার শত্রু।”
–“কম কিসে? তুই মায়ের কষ্ট বুঝিস? ও এসেছে, ও আমার কষ্ট বুঝবে।”
–“হুঁ, সারাদিন যে হারে কানপড়া দিচ্ছো একদিন দেখাযাবে আমায় তালাক দিয়ে তোমায় নিয়ে ঘরছাড়া হয়েছে।”
–“তুই যদি ভালো না হোস, তবে সেদিন খুব বেশি দূরে নেই বাবু।”, মধুমিতা দাঁত কেলিয়ে বলল। মোত্তাকিন দাঁত খিচে বলে,
–“একজন ঘষেটি বেগম, আরেকজন ক্যাথরিন দে মেডিসি—যাকে ইতিহাসে ফ্রান্সের বিষ রানী বলা হতো ষড়যন্ত্রপ্রবন আর নিষ্ঠুরতার করণে। তোমরা দুজন একসাথে যদি ষড়যন্ত্র করো আমার বিরুদ্ধে তবে যত ভালোই হই না কেন তোমাদের সহানুভূতি পাওয়া যাবে না। আসছি।”
বলেই মোত্তাকিন বাইক স্টার্ট দেয়। মধুমিতা চেঁচিয়ে ওঠে,
–“এক কোথায় যাচ্ছিস?”
মোত্তাকিন ঘাড় ঘুরিয়ে উচ্চস্বরে বলে,
–“তুমি তোমার সখী পেয়েছ এখন আর কোন লেনাদেনা নেই তোমার সাথে। রাস্তা দেখেশুনে পার হবে।”
মোত্তাকিন চলে যায়। মা ছেলের কলহে ইন্দুবালা নীরব দর্শক হয়ে শুধু বসে থাকে। তারা শপিং করল। ইন্দুবালা নিজে শাশুড়ি আর স্বামীর জন্য কিছু পোশাক কিনল। তার যেমন কুলকিনারায় স্বল্প কিছু মানুষ আছে, তেমন মোত্তাকিন আর মধুর ও কুলকিনারায় স্বল্প কিছু মানুষ আছে। তারা একে অপরের সহযোগিতায় নাহয় ভালো থাকার চেষ্টা করবে। স্বল্পের মধ্যেও ভালো থাকা খুঁজতে তো দোষ নেই। ইন্দুবালা ভীষণ করে আগলে রাখতে চায় এই সংসার আর এই মানুষদুটোকে। শুধু একটাই প্রার্থনা, কোন পর্যায়ে গিয়ে এই মানুষদুটো সৌন্দর্যের দোহাই দিয়ে তার সঙ্গ ছেড়ে না দেয়।
*****
সময় তো এভাবে সেভাবে ভালো খারাপের মিশেলে কেটে যায়। সপ্তাহ পরের কথা। বিবাহের সাতটা দিন ইন্দুবালা নতুন করে জীবন চিনছে যেই জীবনে তার সৌন্দর্য নিয়ে উপহাস, করুণা করার আগে মানুষ শতবার ভাবে।
আজ মোত্তাকিনের জয়েনিং ডেট। সকাল সকাল ইন্দুবালা ঘুম থেকে উঠে শাশুড়ির সাথে নাস্তা বানিয়েছে আর বাক বিতণ্ডা করেছে। বাকবিতন্ডার মূল বিষয় হলো, মধুমিতাকে তার চাকরি থেকে ইস্তফা নিতে বলছে ইন্দুবালা। বয়স হয়েছে, ঐ শরীরে আর কুলোয় না শ’খানেক শিক্ষার্থীদের গাইড করা। কিন্তু মধুমিতা মানতে নারাজ। সংসার চলবে কি করে? সে ইন্দুবালার শখ আহ্লাদ পূরণ করবে কি করে? ইন্দুবালা বিতৃষ্ণা ভরা কণ্ঠে বলল,
–“আমি চাকরি করি, মোত্তাকিন ও আজকে থেকে জয়েন করছে তবে তুমি কেন এমন করছ মধু? আমাদের উপর বিশ্বাস নেই তোমার?”
–“তোর উপর আছে কিন্তু ঐ হতচ্ছাড়ার উপর নেই। ঐ দেখ সাড়ে নয়টা বাজে ঐ জমিদারের নাতি এখনো উঠেছে? ও কোথায় চাকরি নিয়েছে? কাল গিয়ে দেখবি ঘাড় ধাক্কা করে বের করে দিয়েছে। তারপর যদি পুরো সংসারের ভার তোর উপরে চলে আসে তখন? আমি এসবে নেই। এতদিন পেরেছি বাকি সময়টুকুও পারব।”
ইন্দুবালা মোত্তাকিনের চাকরির স্থান লুকিয়ে গেল। মধু নিশ্চয়ই এটা নিতে পারবে না। সে হতাশার নিঃশ্বাস ফেলে মোত্তাকিনের কাছে গেল। উবু হয়ে ঘুমাচ্ছে। সে পিঠ চাপড়ে ডাকলো। মোত্তাকিন উঠল না বরং বিরক্ত করা ইন্দুবালার হাতটাই বুকের নিচে চেপে ধরল। ইন্দুবালা আর সহ্য করতে না পেরে গ্লাসের পানি থেকে কিছুটা তার গায়ে ঢেলে দিল। ফলস্বরূপ ছেলেটা লাফিয়ে উঠে বসে। খেকিয়ে উঠে বলে,
–“ফাজলামোর একটা সীমা থাকে? তুই ঘুমালে তোর গায়ে আমি এমন পানি ঢালি বেয়াদব মেয়ে?”
ইন্দুবালা দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
–“ঘড়িতে বাজে কয়টা? আজ না অফিসের প্রথম দিন? নাকি সবটা নাটক ছিল? বাপের কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে হালাল ইনকামের রাস্তা তো দেখিয়েছেন কিন্তু ইনকামের বেলায় নেই। তুই যদি মিথ্যা বলে থাকিস তবে এখন সত্যিটা বলে দে। আমার কোন সমস্যা নেই তোর মতো আধবুড়ো ছেলেকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে।”
এই এক কথাই যথেষ্ট ছিল। মোত্তাকিন ফোঁস ফোঁস করে বিছানা ছাড়ে। ওয়াশরুম পর্যন্ত যেতে গিয়েও ফিরে আসে জোরে এক চাটি মারে মেয়েটির মাথায়। ইন্দুবালা চোখ রাঙায় ছেলেটিকে। মোত্তাকিন ব্যঙ্গ কে বলে,
–“সারাদিন এক সরকারি চাকরির দেমাগ দেখায়! তুই মাস বসে যা ইনকাম করিস, তা আমার দুই ঘন্টার ইনকাম।”
–“আমার টা আমার কষ্টের টাকা কিন্তু তোরটা অন্যের কষ্টের টাকা। যেই টাকার কোন ভ্যালু নেই।”
মোত্তাকিন পারে না মেয়েটির সাথে। জোরপূর্বক অফিসে যেতে হয়। যেতে যেতে তখন এগারোটা। অফিসে ঢুকতেই সকলের দৃষ্টি গিয়ে পড়ল মোত্তাকিনের উপর। পড়নে কালো একটা শার্ট আর একটা জিন্সের প্যান্ট—ঠিক যেন পাড়ার কোন প্রসিদ্ধ কোন চাঁদাবাজ।
সে সোজা মিরসাদের অফিসে গিয়ে ঢুকলো। মিটিংরত মিরসাদ কাজের প্রথম দিন ভাইয়ের পোশাকের ধরণ দেখে হতাশার নিঃশ্বাস মোটেই ফেললো না। সে যেন আশাই করেছিল এমনটাই। সে ইশারায় এক পাশে বসতে বলে মিটিং শেষ করে।
অফিস থেকে সবাই যেতেই মিরসাদ একটা ব্যাগ ধরিয়ে দিল তার হাতে। মোত্তাকিন সেটা দেখে শুধায়,
–“এতে কি?”
–“পোশাক! তুমি একদম আমার সাইজের। আমি আমার মাপের কিনে নিয়ে এসেছি। পড়ে নাও।”, মিরসাদ গম্ভীর গলায় বলল। ফর্মাল শার্ট প্যান্ট টাই দেখে মোত্তাকিন নাকমুক কুঁচকে ঘোর বিরোধিতা করে বলল,
–“এসব পড়লে জোকার জোকার লাগবে আমায়। আমি এগুলো পড়তে পারব না।”
–“এই পোশাক ব্যতীত আমার এখানে কাজ করা যাবে না। আমার এখানে আর পাঁচটা ইমপ্লয়ির মতো তুমিও এক। তারা পড়তে পারলে তোমায় ও পড়তে হবে।”
–“আপনার প্রয়োজন কাজের। কাজ হলেই তো হলো, পোশাক দিয়ে কি যায় আসে?”
–“তবে তারাও তো একি কথা বলবে।”
–“আমি এগুলো পড়ছি না। এগুলো পড়া ব্যতীত কোন কাজ থাকলে দিন।”
–“এগুলো না পড়লে কাজ করতে পারবে না এখানে।”, মিরসাদের থমথমে কণ্ঠ। মোত্তাকিন কপাল কুঁচকে তাকায়। মিরসাদ সেই কুঁচকানো মুখের পানে চেয়ে পুনরায় বলল,
–“আর তুমি আমার থেকে এডভান্স আড়াই লাখ টাকা নিয়েছ। সেগুলো পরিশোধ না করতে পারলে পুলিশ কেস হবে।”
মোত্তাকিন দাঁতে দাঁত চেপে ঠুনকো হুমকি শুনলো। ঘরে একটা, বাইরে একটা—মোত্তাকিনের পালানোর কোন সুযোগ নেই। অগত্যা তাকে সেই ফর্মাল পোশাক পড়তে হয়। পার্ফেক্ট সাইজ দেখে মিরসাদ স্মিত হাসলো। বিড়বিড় করে বলে
–“দেখতে হবে না কার ভাই!”
দেয়ালে লাগানো বড় বড় ডেকরেটিং মিররে নিজের ফর্মাল বেশভূষা দেখে মোত্তাকিন “ছ্যাহ” করে উঠল। মিরসাদের দিকে তাকিয়ে বিতৃষ্ণা ভরা কণ্ঠে বলল,
–“ভ্যাড়া ভ্যাড়া লাগছে দেখতে।”
মিরসাদ নিজের গাম্ভীর্যের আড়ালে ঠিকরে বের হওয়া হাসি আটকায়। গমগমে স্বরে বলে,
–“আমার কাছে সব ইমপ্লয়ি সমান। তাই তোমায় কোন এক্সট্রা কেয়ার দিতে পারছি না। কিন্তু তুমি আবদার করলে অবশ্যই দিতে পারতাম।”
মোত্তাকিন স্থির চোখে তাকায় লোকটির পানে। চোখেমুখে উপচেপড়া উপহাস লুকানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা। সে রাগে গজগজ করতে করতে বেরিয়ে যায় অফিস রুম থেকে। সে বের হতেই মিরসাদ ফিক করে হেসে ফেলে।
~চলবে~

