প্রেম_বর্ণহীন #তোনিমা_খান #পর্বঃ২০

0
2

#প্রেম_বর্ণহীন
#তোনিমা_খান
#পর্বঃ২০

শত আনন্দের মাঝে একটা দুঃখ সবসময় বেশি প্রাধান্য পায়। সেখানে শত দুঃখের মাঝে একটু সুখ যেন নিছকই সমীরণে উড়তে থাকা কোন ভরহীন, ভিত্তিহীন পলাকা। যেটা সমীরণের ঝাপটায় অচিরেই হারিয়ে যায়। ঠিক যেমন ইন্দুবালার জীবন হারিয়ে গেল সন্তানের আগমনের সুখ।

দুঃসময়ের অসুখ দীর্ঘ হলো টানা তিনদিন। ঠিক তিনদিন পর ছেলেকে চোখ খুলতে দেখে মধুমিতার ওষ্ঠদ্বয় তিরতির করে কেঁপে উঠল, কুঁচকে যাওয়া চামড়া টপটপিয়ে গড়িয়ে পড়ে কিছু নোনাজল। নিজের শরীরের ব্যথাগুলো বড্ডো ক্ষীণ লাগে এই ছেলেটার দেয়া আঘাতের কাছে। ছেলে ম”দখোর, গুন্ডা, বিগড়ে যাওয়া—যত যাই হোক না কেন! মায়ের কাছে তো সে কেবলই নয়মাস গর্ভে ধারণ করা মূল্যবান সম্পদ। শত অভিযোগের পরেও মধুমিতাও দূর্বল এই ছেলেটার কাছে। সে গুনগুনিয়ে কেঁদে উঠল। আদুরে গলায় ডাকে,
–“বাবু!”

ব্যথায় আঁখিদ্বয় খুলতেও কষ্ট হওয়া আঁখিদ্বয় বহুকষ্টে খুলে তাকায় মোত্তাকিন। বড্ডো ক্লান্ত, বিমর্ষ দৃষ্টি। স্থির দৃষ্টিতে তাকায় মায়ের ক্রন্দনরত মুখপানে। স্বভাবসুলভ ব্যথা না দেখাতে পারার দূর্বলতা আজো প্রগাঢ় হওয়ায় প্রকাশ করতে পারলো না ব্যথা। শুধায়,
–“মাথায় ব্যন্ডেজে কেন?”

–“কিছুনা।”, মধুমিতা বহুকষ্টে উচ্চারণ করে।

–“যা জিজ্ঞাসা করছি তা বলো, মামনি। মাথায় হাতে ব্যন্ডেজ কেন? আর হাত…!”,
ব্যথায় অসাড় দেহ টেনে তোলে মোত্তাকিন। হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেয় শাড়ির আড়ালে মায়ের বেঁধে রাখা হাত। অবাক হয়ে শুধায়,
–“হাত ভেঙেছে?”

মধুমিতার দৃষ্টি ম্লান হয়। ছেলের ব্যথার কাছে নিজের ব্যথা গায়ে লাগে না তার। সে ছেলের প্রশ্ন উপেক্ষা করে ক্রন্দনরত গলায় অভিযোগের সুরে বলে,
–“এই ব্যথা কিছু না, বাবু। আমার গায়ে লাগছে না, কিন্তু তোর এই অবস্থা আমার খুব গায়ে লাগছে। আমি তোকে দিনের পর দিন এভাবে দেখতে পারি না। আব্বা, আমায় কষ্ট দিয়ে তুই এত কেন খুশি হোস, বলতো? আমায় মেরে তুই শান্তির নিঃশ্বাস ফেলবি? শরীরের কোন জায়গা বাদ নেই যেখানে আঘাতের দাগ নেই। এভাবে আমায় না মেরে তুই একেবারে গলা টিপে মেরে ফেল।”

মোত্তাকিন ব্যথাতুর দেহ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারে না। ফের পিঠ এলিয়ে দেয় বালিশে। ম্লান হেসে বলল,
–“এমন কথা বলোনা, মামনি। তোমায় সুখী দেখলে আমার ভালোলাগে।”

মধুমিতা ক্লান্ত স্বরে বলল,
–“আমার সুখের জন্য তুই কোন কাজ করেছিস?”

মাথা ফেটে যাওয়ার মতো অসহ্য ব্যথায় মোত্তাকিন চোখ বন্ধ করে নেয়। ক্ষীণ স্বরে বলল,
–“তোমার সখীকে সারাজীবনের জন্য তোমার কাছে এনে দিলাম, চাকরি করছি, তোমায় নিশ্চিন্তে রাখার জন্য নিজেকে খুইয়ে বসেছি। আর কি চাও বলতো!”

মধুমিতা অবুঝ পানে তাকায়। ছেলেটার কথা প্রায়শই সে বোঝে না। কেন বারংবার এই পথে চলার কারণ হিসেবে তাকে অ্যাখ্যায়িত করে? সে অবুঝ কণ্ঠেই বলল,
–“অথচ আমার সুখ একমাত্র তুই। তুই আমার কাছে, আমার সামনে সুস্থ সবল থাকলেই আমি খুশি। এতটুকু ছেড়ে তুই দুনিয়া এনে রাখিস আমার কাছে। কিন্তু আমি তোকে চাই।”

–“আমি তো তোমার কাছেই আছি।”, ফের ছেলের উদাসীন কণ্ঠে মধুমিতা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
–“তোর জীবনে কিসের এত দুঃখ যে তোর ম”দ খেতে হবে, বাবু? ”

মোত্তাকিন চোখ খুলে তাকায়। নীরব দৃষ্টি ফেলে শুধায়,
–“কি খেয়েছি?”

মধুমিতা বিতৃষ্ণা ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,
–“ঘরের বাইরে তুই একেবারে ভুলে যাস যে তোর মা স্ত্রী সন্তান আছে, তাই না? কি খাচ্ছিস, করছিস কিছুর খেয়াল থাকে না। ম”দ খেয়ে মারামারি করে রক্তাক্ত অবস্থায় স্ত্রীর সামনে যখন তার স্বামীকে ফেলে রেখে যায়—তখন ঐ মেয়েটার উপর থেকে কি যায় বলতো?”

মায়ের অভিযোগ এতক্ষণে মোত্তাকিনের কাছে স্পষ্ট হয় সবটা। মাথার শিরা উপশিরা ধপধপ করে উঠল উপচে পড়া রাগের তোপে। চোয়ালদ্বয় আঁটসাঁট হয়ে গেল, মনস্পটে হিংস্রতার স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে অবিলম্বে। এই মুহুর্তে অসহায়ত্ব অনুভব হয় নিজের দিকে তাকিয়ে। রাগ দমন করার মতো ক্ষমতা আপাতত তার নেই কিন্তু একবার সুস্থ হলে সবটা শুদে আসলে মিটিয়ে দেবে।
কপালে হাত ঘঁষতে ঘঁষতে মোত্তাকিন রাগ দমায়। ধিমি কণ্ঠে বলে,
–“তোমার এ অবস্থা কিভাবে হয়েছে মামনি? আর ইন্দু কোথায়?”

মধুমিতা শক্ত কণ্ঠে বলল,
–“আমার এই অবস্থা আমার কর্মের ফল, বাবু। বুড়ো বয়সে দূরে যাতায়াত করে আজ এত বছর চাকরি করে ছেলেকে খাওয়াচ্ছি, তার তো একটা কর্মফল রয়েছে। আমার কষ্টের পরিবর্তে সেটাই পেয়েছি। তোর এই অবস্থা, একটা দু’টো এক্সিডেন্ট আমার উপহার। এগুলো হচ্ছে আমার উচিত শিক্ষা!”

এক্সিডেন্ট শুনে মোত্তাকিনের ভেতরকার হিংস্রতা খানিক কমে আসে। নয়তো ভেবেছিল এখানেও তপন নাম জা”নো”য়া”রের হাত! পুনশ্চঃ শুধায়,
–“ইন্দু কোথায়?”

–“ইন্দুবালা সঠিক জায়গায় আছে। যেখানে থাকলে ও আর ওর বাচ্চা একটা সুস্থ স্বাভাবিক সুন্দর জীবন পাবে সেখানেই আছে।”

মোত্তাকিনের কপালে ঘঁষতে থাকা হাতটা আচমকা থেমে যায়। সদ্য খোলা নেত্রদ্বয়ে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয় যেন!
মস্তিষ্ক নিশ্চল হয়ে পড়ে। বোকার মতো আওড়ায়,
–“বাচ্চা?”

মধুমিতা কঠোর দৃষ্টি ফেলে কঠিন গলাতেই বলল,
–“হ্যাঁ, বাচ্চা। এমন এক পোড়া কপাল নিয়ে সে আসছে যার আগমনের খবরটা দেয়ার জন্য পর্যন্ত তার বাবা তার মাকে একটা সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ দেয়নি। অসুস্থ মেয়েটা সারাদিন বসে অদক্ষ হাতে একটা কেক বানিয়ে অপেক্ষা করছিল কখন তার স্বামী আসবে আর সে সুখবর দেবে। কিন্তু ইন্দুবালা তো জানেই না ও আমার মতো আরেক অভাগা! পরিবর্তে তুই ওকে দিয়েছিস একরাশ চিন্তা আর নিজের সন্তানের বাবা হারানোর ভয়। সেই বাঁশি পচে যাওয়া কেকটা গতকাল আমি নিজের হাতে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছি। আমায় কষ্ট দিয়েছিস আমি মেনে নিচ্ছি বাবু, ইন্দুবালা আর আমার নাতি নাতনিটাকে দিসনা। ওদের তুই ছাড়া আর কেউ নেই। তোর যদি কিছু হয়ে যায় ওদের পুরো পৃথিবী পায়ে ঠেলে দেবে, উঠতে বসতে কটুকথা শোনাবে।”

নার্স আর ডাক্তার ঢুকতেই মধুমিতা চোখ মুছে উঠে দাঁড়ায়। ডাক্তার স্পেস চাইলে তাকে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে হয়।
মোত্তাকিন সে তখনো থমকে আছে। কর্নকুহরে আন্দোলিত হয় কারোর আগমনের সুখময় বার্তা। ওষ্ঠকোনা ঠিকরে হাসি ফুটে ওঠে, চোখমুখে উল্লাস ছুঁয়ে যায়।
ডাক্তার ছেলেটির হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখে বলল,
–“একটু সুস্থ হয়েই মুখে হাসি চলে এসেছে? শরীরের দিকে তো তাকানো যাচ্ছে না। এত ব্যথা নিয়ে হাসি আসছে কি করে?”

মোত্তাকিন চকচকে দৃষ্টিতে তাকায় ডাক্তারের পানে। প্রসন্নতায় প্রচন্ড উত্তেজিত হয়ে বোকাসোকা কণ্ঠে বলে,
–“জানেন, আমি বাবা হচ্ছি। আমার একটা বাবু আসবে কদিন পর।”

ডাক্তারের মুখে স্মিত হাসি ফুটে উঠল। মাথা নেড়ে বলল,
–“ওহ্, তবে এই ব্যপার। এত খুশির খবর। তবে এমন জীবনযাপন কেন করো? মাদক সেবন করো কেন? মা,স্ত্রী, সন্তান সবই তো আল্লাহ দিয়েছে আর কি চাই ভালো থাকার জন্য?”

–“আর কিছু চাই না, আর কিছু চাই না।”, মোত্তাকিন চঞ্চল কণ্ঠে আওড়ায়। ছেলেটা অতি উল্লাসে ব্যক্তিত্ব খুইয়ে বসেছে। সে উদ্বেগ নিয়ে ডাক্তারকে বলল,
–“আমায় রিলিজ দেবেন কখন?”

–“কখন? কত দিনে বলো। এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে।”

–“আমি এতদিন এখানে থাকতে পারব না। আমায় বাসায় যেতে হবে। আমার স্ত্রী অপেক্ষা করছে আমার জন্য।”, মোত্তাকিন সরব নাকোচ করে বলল।

–“তা বললে তো হচ্ছে না। তোমার শরীরের দিকটাও দেখতে হবে। তোমার স্ত্রী আর ক’টা দিন নাহয় অপেক্ষা করুক। সে নিশ্চয়ই তোমায় অসুস্থ দেখতে চাইবে না।”

–“তবে আমায় কয়েক ঘন্টার জন্য যেতে দিন। আমি আবার আসব।”

মোত্তাকিন জোরজবরদস্তি করতে লাগল ডাক্তারের সাথে। তখন সকাল এগারোটা বাজে। ডাক্তার শেষমেশ হাল ছেড়ে বলল,
–“ঠিক আছে তুমি যেতে পারবে কিন্তু বিকালে। তারমধ্যে আমরা দেখব তোমার শরীরের কন্ডিশন কেমন।”

–“আচ্ছা।”, মোত্তাকিনের উচ্ছ্বসিত কণ্ঠ। সে উদগ্রীব হয়ে আছে কখন বিকাল হবে। ডাক্তার যেতেই মিরসাদ আর অনু ঢুকলো কেবিনে। মিরসাদ বুক ভরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ছেলেটিকে দেখে। ছেলেটির প্রতি তার ভীষণ মায়া কাজ করে। উগ্রতার আড়ালে এক নরম আদল রয়েছে যা শুধুই অন্যের ভালো চায়।

বিকাল চারটা। বসার ঘরে দুই সোফায় পা গুটিয়ে বসে আছে তহমিনা, ইনসিয়া আর তার নানু। ইনসিয়া মাত্র ই শশুর বাড়ি থেকে এসেছে বাপের বাড়ির চমকপ্রদ কাহিনী শুনতে।
–“আম্মা, তাড়াতাড়ি মজার কাহিনী বলো।”

ইনসিয়ার উৎসুক কণ্ঠে তহমিনা রসিয়ে রসিয়ে বলল,
–“পোয়াতি! বিয়ে হইতে পারল না এর মধ্যে পোয়াতি! তাও স্বামীর ঘরে ঠাঁই হয়নি আর। স্বামী ম”দখোর! মদ খেয়ে মারামারি করে আধমরা হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখন হাসপাতালে ভর্তি! তাই তার শাশুড়ি আবার তোর বাপের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে গিয়েছে তার মেয়ে। তার ছেলে নাকি দুঃখ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবে না, তার চেয়ে বরং এখানেই থাকুক আর সুস্থ পরিবেশে বাচ্চা জন্মদিক। এ তো অযুহাত শুধু! মজা নেয়া হইছে এখন মা ছেলে আপদ বুঝাইয়া দিয়া গেছে। অতো কালা বউ বাচ্চাও নিশ্চিত কালা হইবে তাই আর রাখবে না, এটাই তাগো পরিকল্পনা!”

ইনসিয়া খিলখিলিয়ে হেসে উঠল চমকপ্রদ কাহিনী শুনে। বুক ফুলিয়ে বলল,
–“দেখেছো আম্মা, আল্লাহ আমায় বাঁচিয়ে দিয়েছে। আমি জানতাম এত সুখ সইবে না ওর কপালে। এগুলো সব লোক দেখানো। আমি শুধু অপেক্ষায় ছিলাম কবে ও আবার তোমার কাছে এসে মুখ লুকিয়ে কাঁদবে।”

–“আমার কাছে এসে কাঁদবে কেন? আমি ঐ মা ছেলের শেষ দেখে ছাড়বো। এই আপদ আমার ঘরে আর কোনভাবেই আমি রাখব না।”

খালি পানির জগ হাতে দাঁড়িয়ে থাকা ইন্দুবালার টলটলে আঁখিদ্বয় কেঁপে উঠল ঘৃণ্য কথোপকথনে। আর সামনে পা আগানোর শক্তি জোগাতে পারে না, দ্রুত ফিরে যায় ঘরে। বুক ভেঙে কান্না আসে, মা ঠিক বলে তার মতো অপয়া কোথাও সুখ আনতে পারে না।

তহমিনা আরো কিছু বলতে যাবে তার আগেই সদর দরজা দিয়ে দূর্বল কদমে মোত্তাকিন ঢোকে। তহমিনা আর ইনসিয়ার মুখ উতরে যায়। মোত্তাকিন এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে শুধায়,
–“ইন্দু কোথায়?”

তহমিনা চঞ্চল কণ্ঠে বলল,
–“ওর ঘরে।”

মোত্তাকিন সোজা সেদিকে হাঁটা শুরু করে। তহমিনা আর ইনসিয়া ফিসফিসিয়ে বলল,
–“এবার একটা ফাটাফাটি হবে, দেখিস!”

তারাও পিছু পিছু ছুটলো। ইন্দুবালা দূর্বল শরীর নিয়ে ঘুমানোর চিন্তা করল। তবে বিছানা অবধি যাওয়ার আগেই পেছন থেকে কেউ সবেগে তাকে জাপটে ধরে। নিজেকে কারোর শক্ত বেষ্টনীতে অবরুদ্ধ পেয়ে ইন্দুবালা এক টুকরো বরফের ন্যায় জমে যায়। শাড়ি ছাপিয়ে উত্তপ্ত একটি হাত ঠেকে ঠিক উদরের মধ্যভাগে আবর্তবিশেষে। কর্নকুহরে আন্দোলিত হয় ধিমি এক উদগ্রীব কণ্ঠ।
–“ও কবে এসেছে? বয়স কত ওর? কতটুকু বড় হয়েছে এখন? আমায় কিছু জানালি না কেন?”

ইন্দুবালা নিরুত্তর শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নীরবে চোখ বেয়ে টপটপ করে ঝরছে কিছু নোনাজল। মোত্তাকিন ফের অধৈর্য্য হয়ে শুধায়,
–“কি হলো কথা বলছিস না কেন? ও কবে এসেছে? আমার কাছে কবে আসবে?”

তহমিনা আর ইনসিয়ার মুখ ভোঁতা হয়ে গেল এহেন আহ্লাদে। তারা মুখ লটকে উল্টোপথে চলে গেল। এত আহ্লাদ তাদের চোখে সইবে না। ইন্দুবালা রুক্ষ হাতে চোখের পানিগুলো মুছে নিল। নিজেকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেয় শক্ত বেষ্টনী থেকে। চোখে চোখ রেখে বলে,
–“কার কথা বলছিস, কেউ আসছে না।”

মোত্তাকিন এত উদগ্রীবতা নিয়ে এই কথা শুনতে আসেনি। গুরুগম্ভীর গলায় বলে,
–“মোটেও ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথা বলবি না। আমি জানি তুই প্রেগন্যান্ট!”

পরপরই নরম সুরে বলে,
–“তুই সেদিন রাতে বলবি না? আমাকে তো আগে কিছু জানাসনি তোর পরিকল্পনার কথা। কবে আসবে ও? এখন বয়স কতো?”

মোত্তাকিন বাচ্চাদের মতো শুধায়। পুনরায় এগিয়ে আসে ছুঁয়ে দিতে। কিন্তু ইন্দুবালা দূরে সরে গেল এবারেও। আঙুল তুলে কঠোর গলায় বলল,
–“খবরদার আমায় ছুবি না। একদম ছুবি না। কেউ আসছে না। কেউ নেই এখানে।”

–“এমন কথা কেন বলছিস? আমি জানি ওখানে আমার সন্তান আছে। আর ও শিঘ্রই আসবে আমাদের কোলে তাই না?”

–“কেমন কথা বলছি? এখানে কেউ নেই। কেউ আসবে না। যে আসবে না তাকে নিয়ে এত আহ্লাদ ও দেখাতে হবে না।”

মোত্তাকিন রেগে গেল। ক্ষিপ্ত কণ্ঠে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
–“কেন আসবে না?”

ইন্দুবালাও আজ বাঁধ ভাঙা অনুভূতি নিয়ে চেঁচিয়ে উঠল।
–“কেন আসবে? কার ভরসায় আসবে? একজন ম”দখোর বাবার ভরসায়? যে কি-না রাত বিরাতে ম”দ খেয়ে রক্তাক্ত হয়ে বাড়ি ফেরে? এমন বাবার ভরসায় আসবে যে কি-না তাকে যেকোন সময় এতিম বানিয়ে দিতে দু’বার ভাববে না।
একটা বাচ্চা তোর কাছে ছেলেখেলা হতে পারে কিন্তু আমার কাছে না। আমি আমার বাচ্চাকে কোন অসুস্থ পরিবেশে পৃথিবীতে আনব না। মায়ের গর্ভ থেকেই ওকে ফিরিয়ে দেব।”

ইন্দুবালার কথাটি শেষ হতে পারল না তার আগেই সপাটে এক চড় পড়লো তার গালে। মোত্তাকিন রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়ে তার চোয়াল চেপে ধরে। হিসহিসিয়ে বলে,
–“তুই একটা পাষাণ, ইন্দু! তুই এত বড় কথা কি করে বললি? আ…আমার বাচ্চাটা আসতে পারেনি তুই এর মধ্যেই ওকে মেরে ফেলার কথা কোন সাহসে বলছিস?”

মোত্তাকিনের কণ্ঠ জড়িয়ে যাচ্ছে। চোখ টলটল করছে ক্রোধে। ইন্দুবালা শক্ত নেত্রে শুধু তাকিয়ে রইল ঐ লালচে মুখপানে। শক্ত কণ্ঠে বলল,
–“তোর মতো বাবার ভরসায় আসলে আমার বাচ্চাটা আরো দ্বিগুণ কষ্ট পেয়ে মরবে একদিন। কারণ তুই কোনদিন শুধরাবি না। আর আমি তোর মতো মদখোরের সান্নিধ্যে আমার বাচ্চা কখনো আনবো না।”

ফের একি জেদি কণ্ঠে মোত্তাকিন বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। গায়ের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে চেপে ধরা গালের ব্যথায় ইন্দুবালা চোখ পেয়ে অনর্গল অশ্রু গড়ায়। মোত্তাকিন রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় তবুও সম্মুখের নারীটিকে আরেকটু আঘাত করার ক্ষমতা তার নেই। সম্মুখের নারীটা তার যুবক বয়সের দূর্বলতা, সম্মুখের নারীটি এখন তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অংশের গর্ভধারিনী। অসহনীয় দূর্বলতায় কাবু মোত্তাকিন হেরে এক ঝটকায় দূরে সরিয়ে দিল ইন্দুবালাকে। আঙুল তাক করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলল,
–“আমার বাচ্চার গায়ে একটা আচর ও লাগলে তোকে আমি দেখে নেব, ইন্দু।”

ইন্দুবালা তিরতির করে কেঁপে ওঠা ওষ্ঠদ্বয় কামড়ে ধরে। হাতের উল্টোপিঠে চোখের পানি মুছে নিজেও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে,
–“তুই সঠিক পথে, সঠিকভাবে চলাফেরা করলেই ও সুস্থ সবল ভাবে পৃথিবীতে আসবে। নয়তো আমি নিজেকেই মেরে ফেলব, মোত্তাকিন।”

এক পলক ঝলসে দেয়া দৃষ্টি ফেলে মোত্তাকিন হাতের কাছের কাঁচের জগটা ছুঁড়ে মেরে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।
কাঁচ ভাঙার শব্দে তহমিনা ছুটতে ছুটতে আসে। নিজের দামী ভাঙা কাঁচের জগটা দেখে হায়হুতাশ করে চেঁচিয়ে উঠল,
–“আয়হায় হায় আমার কত শখের জগ! ভেঙে ফেলল রে! এখন কি হবে? এই মুখপুরী তোর জামাইকে বলবি আমার কাঁচের জগ কিনে দিতে, নয়তো তোদের খবর আছে।”

ইন্দুবালার দেহ আর সয় না। ভেঙে আসা শরীরে ধপ করে শুয়ে পড়ে বিছানায়। বালিশে মুখ গুঁজে হুঁ হুঁ করে কেঁদে উঠল। কাঁদতে কাঁদতে কম্পিত হাত ছোঁয়ায় নিজের উদরে। অপরাধীর ন্যায় বিলাপ করে বলে,
–“মা স্যরি, বাচ্চা! তোমার ক্ষতি করার কথা মা কল্পনাতেও আনতে পারি না। কিন্তু তোমার বাবাকে বুঝতে হবে আমাদের। সবসময় হারানোর ভয় নিয়ে আমি থাকতে পারব না। তাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি, কোনক্রমেই হারাতে চাই না তাকে।”
*****
সময় আর দুঃখ নিশ্চিত কোন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নয়তো কেন দুঃখের সময়কাল এতটা দীর্ঘ হয়? কই আনন্দমুখর সময়গুলো তো বড্ডো দ্রুতগামী!

সপ্তাহ বাদ এক উজ্জ্বল ব্যস্ততামুখর সকাল। মোত্তাকিন পুরোপুরি সুস্থ হলেও ডাক্তার রেস্টে থাকতে বলেছে কিছুদিন। মধুমিতা ভাঙা হাত নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে, তবে আজ অনু আর মিরসাদ এসেছে। ছেলেকে নিয়ে এই কদিন থাকাকালীন ক’জন নার্সের সাথে বেশ ভালো সম্পর্ক হয়েছে, তাদের থেকে বিদায় নিতে গেল সে। মোত্তাকিন, অনু আর মিরসাদ ডিসচার্জ পেপার নিয়ে কেবিনে অপেক্ষা করছিল মায়ের। একজন নার্স কেবিনে ঢুকে কেবিন গুছিয়ে নিতে নিতে শুধায়,
–“আপনার জ্ঞান ফেরার পর তো আপনার বউ একবারও আসল না। শুনেছিলাম সে গর্ভবতী! অসুস্থ নাকি?”

নার্সের প্রশ্নে মোত্তাকিন চোখ তুলে তাকায়। পাল্টা প্রশ্ন করল,
–“সে কি এসেছিল একবার ও?”

নার্স মাথা নেড়ে বলল,
–“তিনদিন এখানেই তো ছিল। আপনার যেদিন জ্ঞান ফেরে সেদিন সকালেই চলে গিয়েছিল। আর আসেনি কেন? অসুস্থ?”

মোত্তাকিন জবাব দেয় না থমথমে মুখে বেরিয়ে যায় কামড়া থেকে। নার্সটি অনুর দিকে অবুঝ পানে তাকায়। অনু মৃদু হেসে বলল,
–“একটু অসুস্থ তাই আসেনি।”

নার্সটি নিরুদ্বেগ নিজের কাজ করে বেরিয়ে গেল।
অনু আর মিরসাদ তাদের নিজ দায়িত্বে বাড়ি দিয়ে গেল। মধুমিতার ভাঙা হাতে সংসারের কাজকর্মে বেশ কষ্ট হয়। তিনমাস এভাবেই বেঁধে রাখতে হবে।

এসেই ইন্দুবালার বদ্ধ বারান্দার দরজার দিকে এক পলক তাকিয়ে মধুমিতা রান্নাঘরে ঢুকলো। ঢুকতেই মুখে হাসি ফুটে উঠল সব রান্না করা দেখে। ঘর ও পরিপাটি পরিষ্কার। সদ্য নিয়োগ দেয়া কাজের মহিলাকে আজ আসতে বারণ করে দিল। নিজের ভাঙা হাত, ইন্দুর অসুস্থতা মিলিয়ে এই কাজের লোক রাখার সিদ্ধান্ত ছিল‌।

সে ছেলের ঘরে ঢুকলে দৃষ্টি মলিন হয়। বেঘোরে ঘুমাচ্ছে মোত্তাকিন। সেদিনের পর থেকে ছেলেটা কেমন শান্ত, স্বল্পভাষী হয়ে গিয়েছে। না জিজ্ঞেস করলে কথাও বলে না, খায় ও না। সে জোর করে করে খাইয়ে দিয়েছে। নিজে গিয়েও একটু বিশ্রাম নেয়।

গভীর রাত। বশিরের গুপ্ত ঘরে এখন সবচেয়ে আনন্দমুখর সময় হয়। এই সময়ে নিষিদ্ধ জিনিসে মত্ত হওয়ার প্রবণতা একটি বেশি তীব্র হয়। তপন আর দলবল মিলে মোট দশ বারোজন আছে সেখানে। সকলে তখন নিজ নিজ নেশা দ্রব্য সেবন করে নেশায় বুঁদ হয়ে আছে। তপন ফিচলে হেসে বলল,
–“শালার মোত্তাকিনের না-কি এক সপ্তাহ বাদ জ্ঞান ফিরেছে। আমার এক ধরায় ও এক সপ্তাহ ঘুমিয়েছে, আমি যদি ওকে পুরোপুরি ধরি তবে কবর দেয়ার মতো ও কিছু অবশিষ্ট থাকবে না। ও আমার সাথে লাগতে আসছে।”

বলেই সে খিক খিক করে হেসে উঠল। সেদিন ভাইজান তাকে কোন কাজে দূরে কোথাও পাঠিয়েছিল। আসতে রাত হয়, পরে তাদের এখানে দশ মিনিট বসেছিল তারা কোল্ড ড্রিঙ্কসের সাথে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে খাইয়ে দিয়েছে। নেশাগ্রস্ত তপন নিজের জাত শত্রুকে ওভাবে পেয়ে লোভ সামলাতে পারেনি, এতদিনের রাগগুলো মনের মতো করে মিটিয়ে নিয়েছে।

বর্তমানে তারা বড় ভাইয়ের গুপ্ত ঘরে লুকিয়ে আছে। আজ আর বশির নেই এখানে। মূলত মোত্তাকিনের কারণেই তারা আজ এখানে। বশির বলেছে, ক’দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকতে। নয়তো মোত্তাকিনের সামনে পড়লে একটা খু”নাখু”নি হয়ে যাবে। বশির আশ্বস্ত করে মোত্তাকিনের রাগ কমলে সে কথা বলে বিষয়টাকে ধামাচাপা দেবে নেশার ঘোর বলে!

ক্লাবের দরজায় ঠক ঠক আওয়াজ হলো। তপনের দলবলের ঘোর কাটে খানিক। তপন পিছলে যাওয়া কণ্ঠে বলে,
–“কে এসেছে দেখ। অপ্রয়োজনীয় হলে দরজা থেকেই বিদায় করে দে।”

একজন ঢুলতে ঢুলতে গিয়ে দরজা খুলল। ঝাঁপসা দৃষ্টিতে কাউকে দেখতে পেল না। সে কপাল কুঁচকে বলল,
–“তপন ভাই কেউ নাই তো!”

–“কই দেখি? তবে রসিকতা করেছে কেন?”

তপন ঢুলতে ঢুলতে দরজা সম্মুখে আসল। ফিচলে গলায় চেঁচিয়ে উঠল,
–“এই কোন খা**পো**!”

তখনো কোন সাড়াশব্দ আসল না। সে মাথা বের করে এবার উঁকি দিল, সহসা তার মাথার মগজ নড়ে উঠল হকিস্টিকের তীব্র আঘাতে। ছিটকে বাইরে পড়ে তপন। তপনের দলবলরা হতচকিত ঢুলতে ঢুলতে বের হয় বলহীন দেহে। তবে তাদের করার মতোই কিছুই থাকে না মাত্রারিক্ত নেশা দ্রব্যের প্রভাবে ঢুলছে তাদের দেহ। মোত্তাকিন একে একে এক সপ্তাহের জমানো হিংস্রতার স্ফুলিঙ্গ শান্ত করে। তূর্য আর তার দলবল আধমরা বারোজনকে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত সবকটাকে শুইয়ে দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বের হয়। মোত্তাকিন তখনো ফুঁসছে। লম্বা লম্বা পা ফেলে তপনের কাছে যায়। থেঁতলে যাওয়া চোয়াল চেপে বলে,
–“হা”রা”মি”র বা”চ্চা তুই কবরে লুকিয়ে থাকলেও তোকে খুঁজে বের করব। তুই আমায় পুরোপুরি না মেরে এত নিশ্চিন্তে দিন কাটাস কি করে?”

নিজের ক্রোধ মিটিয়ে মোত্তাকিন বাড়ির পথে ছোটে। তূর্য বাইক চালাচ্ছে পেছনে বসা ছেলেটির রুক্ষ শুষ্ক চুলগুলো সমীরণের ঝাপটায় উড়ছে সমানতালে। উদাসীন নেত্রে ভাসে কত আকাঙ্ক্ষারা। বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভোররাত। এসেই বিছানায় উবু হয়ে শুয়ে পড়ে। তবে নেত্রদ্বয়ে নেই কোন তন্দ্রার ছোঁয়া! একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই তোশকের নিচ থেকে অর্ধেক বের হয়ে থাকা একটি মেডিক্যাল রিপোর্ট দৃষ্টি কাড়ে। অলস হাতে সেটিকে টেনে বের করতেই ফাইলের উপর লেখা ইন্দুবালা নামটি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফাইলটি খোলে সাগ্রহে, এবং তার আন্দাজাকে সঠিক করে দিয়ে ভেসে উঠল একটি এন্টেনেটাল রিপোর্ট (গর্ভকালীন পরীক্ষার রিপোর্ট)। মোত্তাকিনের চোখ চকচক করে ওঠে, উঠে বসে পুরো রিপোর্টটা খুঁটে খুঁটে পড়ে। বাবার নামের জায়গায় নিজের নাম দেখে বুক জুড়ে অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করে। পরপরই ফিটাসের বয়স খুঁজে বের করে। মাত্র পাঁচ সপ্তাহ! এখন নিশ্চয়ই আরো দুই সপ্তাহ বেড়েছে, মানে সাত সপ্তাহ! সে তৎক্ষণাৎ ফোন বের করে সার্চ করে সাত সপ্তাহের ফিটাসের আকৃতি কেমন হয়! সার্চ করতেই তার চোখেমুখে বিস্ময় ছুঁয়ে গেল তার বাচ্চাটা নাকি একটা মটর শুটির দানার মতো হয়েছে এখন। কি অদ্ভুত! এত ছোট? মোত্তাকিনের বিশ্বাস হয় না। সে রান্নাঘরে গিয়ে খুঁজে মটর শুটির দানা বের করে একটা দানা চোখের সামনে ভেসে তুলে ধরে। চোখমুখ বিকৃত হয়ে যায় তার।‌ চিন্তিত কণ্ঠে বিড়বিড় করে বলে,
–“কত ছোট আমার বাচ্চা! ওর বড় হতে তো অনেক সময় লাগবে। আমার এত ছোট বাচ্চাটাকে বড় বানাতে হলে নিশ্চয়ই অনেক খাওয়াতে হবে। কিন্তু ঐ বেয়াদব খাচ্ছে কি-না তাই তো জানি না।”

সে চিন্তায় ঘরময় পায়চারী করল। পায়চারী করতে করতে বারান্দায় গিয়ে পা গুটিয়ে বসে চেয়ারে। কিয়ৎকাল বাদেই দরজা খোলার শব্দে সে নিচে উঁকি দিয়ে তাকায়। ইন্দুবালা বারান্দার দরজা খুলে ছুটে বের হয়, রেলিং আঁকড়ে ধরে গলগল করে বমি করে দিল। অন্ধকারের মাঝে মোত্তাকিন এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মেয়েটির পানে। ইচ্ছে করে ছুটে গিয়ে একটু ছুঁয়ে দিতে নিজের অনাগত অংশটিকে। তার আগমনের সকল সুখ দুঃখের সময়টুকুতে নিজে স্বশরীরে পাশে থাকতে। কিন্তু!… নিজের উপর যে তার নিজেরই বিশ্বাস নেই। তার উপর রেগে যদি ইন্দুবালা নিজের কোন ক্ষতি করে? দরদর ঘেমে ওঠে মোত্তাকিন। সাথে করে আনা সিগারেটের প্যাকেটটাও ছুঁড়ে ফেলে দেয় নিচে। হাত পা গুটিয়ে চুপ করে বসে থাকে।

পাঁচ মিনিট ধরে বমি করে ইন্দুবালা ক্লান্ত দেহ নিয়ে সেখানেই বসে পড়ে। ইদানিং রাতে ঘুম আসে না, সেখানে বসে ঝিমাতে লাগল। আর মোত্তাকিন দূর থেকে একাধারে দেখতে থাকে শ্রান্ত অবসন্ন দেহটিকে। তবুও মেয়েটির কাছে গিয়ে বলতে পারে না, তার সন্তানের বাবা ম”দ খেয়ে মারামারি করেনি। সিগারেট ব্যতীত সে কখনো কোন নেশা দ্রব্য ছুঁয়ে দেখেনি।

~চলবে~

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here