অচিনরেখা” বিনতে ফিরোজ ৩.

0
1

“অচিনরেখা”
বিনতে ফিরোজ
৩.

পাগলা হোটেলে গিয়েছিল কিছু খাবে বলে। শেষ মুহূর্তে মত পাল্টে শুধু পানি খেয়ে চলে এসেছে মেহরিমা। একবার লাইব্রেরিতে যাওয়া দরকার। পাশে তাকালো। তপা পাশে থেকেও নেই।
“তপা।”
“হুঁ।”
“ভালো আছিস?”
“হুঁ।”
“সকালে খাসনি?”
“হুঁ।”
“আন্টি নখ খেতে বলেছে?”
“হুঁ।”
“এই ছেমরি!” তপার পিঠে ধাক্কা দিলো মেহরিমা।
“কি হয়েছে?” তপা হকচকিয়ে উঠলো।
“কখন থেকে ডাকছি তোকে?”
“কখন থেকে ডাকছিস?”
“অনেকক্ষণ। কি হয়েছে? মন তো ইবির আশপাশেও আছে বলে মনে হচ্ছে না। কোথায় কুরিয়ার করেছিস ওটাকে?”
“মজা করিস না মেহু। আমার মাথায় শনি নৃত্য করছে। আজকে বোধহয় কন্যা রাশির দিন ভালো নেই রে। পেপার দেখেছিস?”
মেহরিমা গম্ভীর হলো, “এসব রাশি, গ্রহের আলাপ আমার সাথে করবি না। ফালতু কুসংস্কার।”
“আরে আমিও তো অতো বিশ্বাস টিশ্বাস করি না।”
“এজন্যই প্রতিদিন পেপার খুলে তারিখ দেখিস।”
তপা বিব্রত হাসলো, “মজা লাগে। হে হে..”
রোদের তাপ বাড়ছে। মেহরিমা লাইব্রেরির পথ ধরে বলল, “মনের বিশ্বাসের রূপ ফোটে বাইরের কাজে। তুই রাশি বিশ্বাস করিস না অথচ একটা পেপারের জন্য মরিস শুধু ঐ রাশিফল দেখার জন্য। এমন বিশ্বাসকে কি বলে?”
তপা মেহরিমার মুখের দিকে তাকিয়ে হাঁটছিলো। সামনে আসতে থাকা অটোর দিকে তার খেয়াল ছিল না। মেহরিমা হঠাৎ করেই তপার হাত ধরে নিজের বামে নিয়ে এলো। তপা সেসব খেয়াল না করে বলল, “মাঝে মাঝে তুই অনেক ভারী কথা বলিস। এই যে এখন তোকে একদম পাক্কা হাজী লাগছে।”
মেহরিমা দম ছাড়লো, “হজ তো হাসিনাও করেছে।”
তপা মুখ বিকৃত করে বলল, “ভালো মুডটা নষ্ট করিস কেন?”
লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে তপাকে নিজের মুখোমুখি দাঁড় করালো মেহরিমা। শিফনের পতলা হিজাবে ঘাড় বোঝা যাচ্ছে। মেহরিমা কণ্ঠে বিরক্তি নিয়ে হিজাব ধরে বলল, “এটা পরার কোনো দরকার ছিল? সব দেখা যাচ্ছে।”
“সবাই তো পরে।”
“ফালতু লজিক দিবি না। সবাই এখন মলমূত্র খেলে তুইও খাবি?”
“ইয়াক! কি সব উদাহরন তুই দিস। শিফনে আরাম লাগে। তাই পরি।”
“গরমে কষ্ট করে এক্সট্রা একটা কাপড় পরেছিস। তার কাজই যদি না হলো তাহলে তোর কষ্টটা বৃথা হয়ে যাবে না?”
“আচ্ছা ঠিকাছে বুঝেছি। তুই অল্পেই এত হাইপার হয়ে যাস কেন?”
“জানিনা।” থমথমে কণ্ঠে বলল মেহরিমা। এখন লাইব্রেরিতে ঢুকবো। কোনো ফিসফাস করতে পারবি না। কি হয়েছে ফটফট করে বলে ফেল তো।”
টেনশন যে করছিল সেটাই ভুলে বসেছিল তপা। মাথায় হাত দিয়ে বলল, “আমার কতক্ষন টাইম ওয়েস্ট করলি! এতক্ষন আরেকটু টেনশন করতে পারতাম না?”
“বলবি তুই?”
চারপাশে তাকিয়ে নিচু কণ্ঠে তপা বলল, “আজকে বিশ্ব চিন্তা দিবস। চিন্তা নিয়ে চিন্তা করা আজকের কাজ। সামনে পরীক্ষা। খাতা কলমে বদলে সেটা হয়েছে অগ্নিপরীক্ষা।”
মেহরিমা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, “তোর জন্য আলাদা করে দিবস লাগবে কেনো? সারাদিন তো চিন্তার উপরেই থাকিস।”
লাইব্রেরির ভেতরে ইচ্ছে হলেই উচ্চস্বরে কথা বল যায় না। সবাই পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকে। নিঃশ্বাসটা জোরে ফেললেও ঝড়ের বাতাস মনে হয়। তার মাঝে তপা হুড়মুড় করে ঢুকে মেহরিমার পাশে বসে বলল, “এই মেহু! ঐ দেখ তোর মজনু।”
মেহরিমা বিরক্ত হলো। বইয়ের দিকে তাকিয়েই বলল, “বই খোল। মাথার ফালতু চিন্তা ঝাড়ু মেরে বিদেয় কর।”
“আরে সত্যি। তাকাবি তো। কি যেন নাম..”
মেহরিমা তাকাতেই ইউনূসকে দেখতে পেলো। সাথে সাথেই চোখ নামিয়ে আরো গভীর মনোযোগের সাথে পড়তে শুরু করলো।
“বল এবার। এটাই না?”
“হুঁ।”
“এই বিয়ের কথাবার্তা কতদূর আগালো কিছু বললি না তো।”
“কিছুই আগায়নি।”
“কিন্তু তুই যেভাবে বললি আমি তো ভেবেছিলাম আন্টি এবার একটা ঘটনা ঘটাবেই। তাহলে কি হলো?”
“কিছু না। লোকটাকে আমার তেমন পছন্দ না।”
“তোমার তো কাউকেই পছন্দ না।” ঠেস দিয়ে বলল তপা। “এই তোর কি সমস্যা টমস্যা আছে? থাকলে আমাকে বলতে পারিস। আমি তোর বান্ধবী মানুষ।”
মেহরিমা চোখ গরম করে তাকালো।
“এভাবে তাকাবি না। আর এই আংটি অন্য আঙুলে পড়বি তো। মানুষ দেখলে তো ভাববে বিয়ে হয়ে গেছে।”
“ভুল না তো।” মুখ ফসকে বলে ফেললেও পরক্ষনেই মেহরিমা বুঝতে পারলো। ততক্ষণে তপা তাকে সাঁড়াশি দিয়ে ধরেছে।
“কি বললি?” তপার চোখে সন্দেহ।
মেহরিমা চোখ লুকানোর চেষ্টা করলো, “কি বললাম?”
“ভুল না তো মানে কি?”
“কি আবার?”
“তোর বিয়ে হয়েছে?”
মেহরিমা কি বলবে বুঝলো না। হ্যাঁ বললে নিস্তার নেই আর না বললে হবে মিথ্যা। মেহরিমার হলো জলে কুমির, ডাঙায় বাঘের দশা।
আমতা আমতা করে বলল, “হবে না কেনো? মনে মনে আমার একটা বর আছে। ভরা সংসার আছে।”
তপা বিরক্তি নিয়ে বলল, “সে আমারও আছে। ছেলের বউ, মেয়ের জামাইও আছে। নাতি নাতনী লোডিং। কিন্তু তোর তো কাউকে পছন্দ ফছন্দ নেই। আমার মতোই মাথা ছাড়া মানুষ কল্পনা করিস নাকি? আমাদের মনে হয় ডাক্তার দেখানো উচিত রে মেহু!”
“একটু আস্তে কথা বলুন।” পাশ থেকে একটা মেয়ে বলল। জিভ কামড়ে মাথা নিচু করল তপা। ফিসফিস করে বলল, “আমার ভরা সংসারের আলাপ শুনে ফেললো নাকি!”
মেহরিমা কথা বলল না। তার খুব ইচ্ছে করে লোকটার কাছে একবার ফোন দিতে। ইচ্ছের হাত ধরেই শঙ্কারা আসে। যদি ফিরিয়ে দেয়? মেহরিমা কি মানতে পারবে? সাত বছরের সাজানো স্বপ্ন যখন একটা কথায় ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে তখন মেহরিমা কি করবে?
মেহরিমার বুকটা ধ্বক করে ওঠে। এমনই তো হবে। নাহলে লোকটা একটাবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করবে না কেন? আর কবে করবে?

● ● ● ●

ডিফেন্স শেষ হলে দুটো দিন রেস্ট নেবে ভেবেছিল শাহরিয়ার। এই দুদিন সমস্ত পরিকল্পনা করবে। তারপরই ঝিনাইদহে রওনা দেবে। তবে খালার ফোন সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল।
বড় খালার বড় ছেলের বিয়ে ঠিক হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শনিবার বিয়ে। আজকে সোমবার। আতিয়া জানালেন তারা পরশু রওনা দেবেন। আজাদ বিশ্বাস শুক্রবারে যাবেন। শাহরিয়ার যেন মেঘ না চাইতেই জল দেখলো যখন শুনলো তারা তাদের পুরনো বাড়িতে যেয়ে উঠবে।

না থাকায় বাড়িতে ধুলো ময়লা জমে। এজন্য একটা লোক ঠিক করেছেন আজাদ বিশ্বাস। দুই এক মাস পরপর এসে সে বাড়িঘর পরিষ্কার করে যায়। দুই একটা জিনিসপত্র সেখানে আছে। স্টিলের খাটটা ওখানেই রেখে আসা হয়েছে। এমন দু চারটে জিনিস। একদিন ওখানে থাকবেন বলে মনস্থ করলেন আতিয়া।

রাতে খেতে বসে রিমি লাফঝাপ শুরু করলো।
“কতদিন ঝিনাইদহে যাই না আম্মু!”
“সাত বছর হয়ে গেলো।”
“আবার মেহু আপার সাথে দেখা হবে।” হাসিমুখে বলল রুমি।
আতিয়া বললেন, “নাও হতে পারে।”
“কেন?”
“ওর বিয়ে হয়ে গেলেও কি ও ওখানেই থাকবে?”
শাহরিয়ার এসেছিল একটা কাপড় নিতে। ট্রাভেল ব্যাগটা নোংরা হয়েছে। ওটা মুছতে হবে। মায়ের কথায় থমকে দাঁড়ালো সে।
বিস্মিত কণ্ঠে বলল, “মেহরিমার বিয়ে হয়ে গেছে?”
আতিয়া এক পলক ছেলের দিকে তাকালেন, “আরে আমি তাই বললাম কখন? বলছি হতেও তো পারে। তোর পঁচিশ মানে মেহুর বাইশ। বয়স হয়েছে না!”
“বাইশ বছর তিন মাস।” শাহরিয়ার বিড়বিড় করলো। হঠাৎ করেই তার ভয় লাগলো। মেহরিমার বিয়ে?

রাশেদা বেগম দূরে দাঁড়িয়ে শাহরিয়ারকে দেখলেন। তিনি এই মানুষগুলোর সাথে আছেন শাহরিয়ারের জন্মেরও আগে থেকে। তার বাড়ি ঝিনাইদহেই। আজাদ বিশ্বাসদের বাড়ির পাশে। স্বামী মারা গেছে বহু আগে। একটা ছেলে ছিল। সেই ছেলেটাও দশ বছর হতে না হতেই মারা গেলো। তারপর থেকে দু’কূলে একদম একা হয়ে পড়লেন রাশেদা। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করতেন। ছেলেটা মারা গেলে পাগলপ্রায় হয়ে গেছিলেন। সেখান থেকে উদ্ধার করলো এই বাড়ির মানুষগুলো। ঝিনাইদহ থেকে আসার সময় সাথে রাশেদাকেও নিয়ে এলেন।

সেদিনটা রাশেদার আজও স্পষ্ট মনে আছে। শ্রাবণের মেঘে আকাশ কালো হয়ে ছিল। ছোট্ট মেহজাবিনকে নিয়ে মেহরিমাকে সামলাতে পারতেন না। ফলে মেহরিমা বেশিরভাগ সময়ে রাশেদার সাথেই থাকতো। তখন রাশেদা চল্লিশ পেরিয়েছেন। কিন্তু জীবনের ধাক্কায় ছুঁয়েছেন প্রৌঢ়ত্ব। ফলে তার কাছে শাহরিয়ার, মেহজাবিন, রুমি সবাই দাদি দাদি ধরনের ভালোবাসা পেতো। আতিয়া এবং শেলী দুজনেরই বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন বিধবা, সন্তানহারা রাশেদা।
সেই বিশ্বাসের জের ধরেই যেকোনো সময় যেকোনো জায়গায় নিয়ে যেত পারতেন বাড়ির বাচ্চাদের। আফজাল বিশ্বাস এই সুযোগটাকেই কাজে লাগালেন। রাশেদাকে না জানিয়েই তাকে ব্যবহার করলেন। শেলী ফিরেও দেখলেন না নয় বছরের মেহরিমা লাফাতে লাফাতে চলে যাচ্ছে রাশেদার হাত ধরে।

বারো বছরের শাহরিয়ার আগে থেকেই দাদার সাথে ছিল। রাশেদা দেখলেন তারই চোখের সামনে অসম্ভব ধরনের ঘটনাটা ঘটিয়ে ফেললেন আফজাল শেখ। তাকে কোনো রকম হু/ম/কি দিলেন না বটে। কিন্তু বৃদ্ধ লোকটা যখন সবটা চেপে যাওয়ার অনুরোধ করলেন রাশেদা ফেরাতে পারেননি। বলেছিলেন সঠিক সময়ে তিনি নিজেই সবার কাছে সব বলবেন। রাশেদা মেনে নিয়েছিলেন। চেপে গেলেন সবটা।

আজ পর্যন্ত সবটা চেপেই আছেন বুকের ভেতর। আফজাল বিশ্বাস মা-রা গেছেন। মা-রা গেছেন বাকি প্রত্যক্ষদর্শীরাও। যেটার ভয়ে তিনি এসব করেছেন সেটাই হয়েছে। ভাই দুজনের সম্পর্ক রূপান্তর হয়েছে দা কুমড়ায়। তার চোখের সামনেই বিশ্বাস বাড়ি ভেঙে দু টুকরো হয়েছে।

রাশেদা ধীর কদমে শাহরিয়ারের কাছে এলেন। বয়স হয়েছে। ছুটোছুটি করতে পারেন না। বাড়ির কাজ নামেই করেন। তবুও এই বাড়ির মানুষগুলো তাকে আপন করে নিয়েছে। কাজের সাথে আর থোড়াই সম্পর্ক আছে।

“শাহরিয়ার?”
শাহরিয়ার চমকে তাকালো।
রাশেদা চাপা কণ্ঠে বললেন, “আমার বিশ্বাস মেহরিমা বিয়ে করেনি।”
শাহরিয়ারের চোখের উদ্বিগ্নতা কিছুটা কমলো। যদিও পুরোপুরি নির্ভার হলো না সে।
“তুমি তাড়াতাড়ি ঝিনাইদা যাও আব্বা। আর দেরি করো না। আর দেরি করো না!”

বুধবার রাশেদা বেগমসহ তারা চারজন রওনা দিলো ঝিনাইদহের দিকে। পৌঁছালো যোহরের আযানের পরপর। সোজাসুজি নিজেদের বাড়িতেই উঠলো তারা।

● ● ● ●

তীব্র গরম সহ্য করতে না পেরে বাড়ির দরজার সামনে এসেই নিকাব খুলে ফেললো মেহরিমা। দরজা খুলতেই এক ফালি উঠান। পুরো বাড়িটা এল শেপের। ঢুকে ডান দিকে লম্বালম্বি আজাদ বিশ্বাসের ঘর। আর সোজাসুজি তাদের। আজাদ বিশ্বাসদের ঘরগুলো পাশাপাশি। সামনে লম্বা বারান্দা। সেখানে বসে মেহরিমা স্কার্ফ খুলে ফেললো। গরমে অস্থির লাগছে তার। নিধিকে না পড়িয়েই চলে এসেছে। ফোন করে বলে দেয়া দরকার সে আজ যাবে না। কন্ট্যাক্ট লিস্ট থেকে নিধির নাম খুঁজলো মেহরিমা।
চুলের গোড়া ঘেমে পুরো মাথা ভিজে গেছে। কাকড়া খুলে খোপা ভেঙে ফেললো সে। হুড়মুড় করে চুলগুলো পিঠ দখল করলো। গলা উঁচু করে মেহজাবিনকে ডাকলো মেহরিমা।
“জাবিন! আমাকে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি খাওয়া তো!”
সামনেই বিশাল একখানা জাম গাছ। তার ছায়ায় কিছুটা ঠান্ডা লাগছে। শীতল বাতাস এসে ছুঁয়ে যাচ্ছে মেহরিমার ঘর্মাক্ত দেহ।
হঠাৎ কেউ ঝাপটে ধরায় চমকে গেলো মেহরিমা। চিকন একটা কন্ঠস্বর বলে উঠলো, “কেমন আছো মেহু আপা!”
মেহরিমা ঘাড় ঘোরাতেই নিজের জায়গায় জমে গেলো। নিজের সাথে ঘেষে থাকা মেয়েলি কায়া তার নজরে এলো না। ঠিক পেছনেই লম্বা যে লোকটা দাঁড়িয়ে আছে মেহরিমা তাকে চেনে না। দাঁড়ি গোঁফের আড়ালে ঢাকা পড়া মুখটাও অচেনা। কিন্তু ঐ তীক্ষ্ম দৃষ্টি! অপলক তাকিয়ে আছে তারই দিকে। মেহরিমা ভুলে গেলো তার মাথায় স্কার্ফ নেই। সেটা দুভাগ হয়ে গলায় ঝুলছে। মুখ জুড়ে রাজ করছে স্বেদ বিন্দু। মেহরিমা কম্পনরত কণ্ঠে বলল, “শাহরিয়ার ভাই!”

~চলমান~

***

বিপত্তি বাঁধলো পঞ্চাশে যেয়ে। আবার কনফিউশন। ঘড়ি দেখল জুঁই। তেত্রিশ মিনিট শেষ। আর সাতাশ মিনিট আছে। চেপে রাখা শ্বাসের গতি আবার বাড়তে শুরু করলো। চোখ বন্ধ করলো জুঁই। সাথে সাথে জেসমিন হাসানের মুখটা ভেসে উঠলো। তার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষার কথা মনে পড়লো। Do or die Do or die… আবার দাগাতে শুরু করলো জুঁই। কিন্তু এবার কনফিউশনের চেয়েও ভয়াবহ সমস্যা পড়ল সে। বুকমিনস্টার ফুলারিনের সংকেত ভুলে গেছে সে। অপশন দেখেও কোনোভাবে মনে পড়ছে না। C60 ছিল নাকি C61? কোনোভাবেই মনে করতে পারল না জুঁই। কান্না পেলো তার। এই বার্জেলিয়াসের ঘটনা যেন না ভুলে যায় সেজন্য এটাকে স্টিকি নোটে লিখে মাথার কাছে লাগিয়ে রেখেছিল। তবুও ভুলে গেলো। এটার শোকে পরবর্তী নাম্বারে নিউটনীয় বলবিদ্যার সবচেয়ে সহজ সূত্রটা মনে করতে পারল না জুঁই। হতাশায় মাথা চেপে ধরলো সাথে সাথে। শ্বাস ঘন হয়ে আসছে। বুক উঁচু নিচু হচ্ছে খুব দ্রুত। জুঁই বুঝতে পারছে তার মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। হাত কাঁপতে শুরু করেছে। কলম রেখে জামায় হাত মুছলো জুঁই। হাতের তালু ঘেমে গেছে। স্যার বললেন, “তোমাদের আর বিশ মিনিট সময় আছে। Only twenty minutes!”

***

ই-বুক “কৌমুদী”
https://link.boitoi.com.bd/qvDe
মূল্য: ৩০ টাকা (ঈদ উপলক্ষ্যে ১০% ছাড়ে ২৭ টাকা)
শুধুমাত্র বইটই থেকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here