চৈত্রের_প্রেম_নির্বাসন — — ১৩ #আরোবী_খান_সিনথিয়া

0
2

#চৈত্রের_প্রেম_নির্বাসন — — ১৩
#আরোবী_খান_সিনথিয়া

ভার্সিটি থেকে সবেই মাহির বাড়ি ফিরল। ঘামে ভেজা শার্ট খুলতে নিচ্ছিল , তখনই পেছন থেকে এক কিশোরীর মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসল ,

— — “মাহির ভাই ?”

হঠাৎ ডাক শোনায় , মাহির অভ্যাসের জন্য পেছন ঘুরল। পিহু তার মুখের দিকে একবার তাকিয়ে চোখটা নিচে নামাতেই শার্টের আড়ালে মাহিরের উম্মুক্ত শরীর চোখে পরল। পিহু বর্তমানে বাকরুদ্ধ। না তো চাহনি সরাতে পারছে না ! আর না তো কিছু বলতে ! পিহুকে এভাবে তাকাতে দেখে , হম্বিতম্বি করে মাহির আবার ঘুরল। অস্থির কন্ঠে বলল ,

— “কী সমস্যা? আমার রুমে এভাবে নক না করে আসতে কতবার বারণ করেছি ?”

মাহিরের কাজে পিহু বর্তমানে হতভম্ব। তার সামনে এভাবে থাকলে কী হয়? পিহু কী তাকে বাজে নজর দিয়েছে ? শুধু শুধু এমন বিহেভ কেন করছে ?

মাহিরের প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে পিহু ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে আসল মাহিরের দিকে। পিহুকে সামনে দাঁড়াতে দেখে মাহির লজ্জায় আবারও পেছন ঘুরল। পিহু এবার বিরক্ত হয়ে মাহিরের সামনে আসার চেষ্টা করল। কিন্তু মাহির কখনো এদিক ঘুরছে তো কখনো ওদিক। পিহু এবার প্রচন্ড পরিমাণে বিরক্ত হয়ে , মাহির বাহু চেপে ধরে তাকে থামালো।নিজের দিকে ঘুরিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ল ,

— “এমন করছো কেন তুমি ?”
— “ক…কী করেছি আমি ?”

মাহির ভীষণ কাঁপা কাঁপা কন্ঠে উত্তর করল। পিহুর কপালে ভাঁজ পরল। এসির বাতাসেও মাহির ঘামছে। কপালে তার বিন্দু বিন্দু ঘাম। পিহু কপাল থেকে চোখ নামিয়ে মাহিরের গলার দিকে তাকালো। মাহিরের এডামস অ্যাপেল নড়ছে বারে বার। মাহির ঢোক গিলতে। পিহু ভ্রু কুঁচকে বলল ,

— “তুমি কী ঠিক আছো , মাহির ভাই ?”

মাহির আবারও আমতা আমতা করল ,
— “কে…ন কী হবে আমার ?”

— “না মানে…তুমি এসির বাতাসেও ঘামছো , মাহির ভাই ।”
— “কই…না তো!”
— “এই তুমি তো তোতলাচ্ছো !”

মাহির এবার আর ব্যাপরটা সামলাতে না পেরে , পিহুর হাত ধরে , তাকে নিজের রুম থেকে বের করে দিল। দরজা আটকিয়ে দরজার সাথে পিঠ ঠেকালো। ঘন ঘন শ্বাস ফেলছে সে। দরজার অপর পাশ থেকে পিহু কয়েক দফা চেঁচিয়ে নিজের রুমে চলে গেল।

মাহির নিজের শরীরের দিকে তাকালো। শার্ট এখনো তার পরণে। পিহু তো তাকে পুরো নে/ক/ড দেখেনি! তাহলে মাহির কেন এত লজ্জা পাচ্ছিলো ? এমন মনে হচ্ছে‌ , পিহু তার মান ইজ্জত লুটে নিয়েছে। এত ঘাবড়ানোর কী ছিল ? ওয়াই ম্যান ? ওয়াই ?
শুধু একটুই তো দেখে ছিল !

মাহির শার্ট ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলে , বিছানায় গা এলিয়ে দিল। মাহির নিজের লজ্জার ওপর ভীষণ হতাশ। ছেলেরা আদৌও এত লজ্জা পায় ? যতটা সে পায় ! একটা মেয়েও তো বোধ হয় , এত লজ্জা পায় না !

*
“পিহু।” —মাহিরের ডাকে পিহু তাকালো। মাহির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। পিহু মুখ আবার কী যেন করতে লাগল বিছানায়।

মাহির হাসার চেষ্টা করে বলল , — “কী করছিস তুই ?”

পিহুর কোন উত্তর না পেয়ে ,মাহির এগিয়ে আসল। মাহিরের ভ্রু কুঁচকে গেল। পিহু ডায়েরীতে কিছু লিখছে।
মাহির কৌতূহল নিয়ে বলল ,

— “ডায়েরী কোথায় পেলি তুই ?”

কথাটা কর্ণকুহুরে আসতেই পিহু দ্রুত ডায়েরীটা বন্ধ করে ফেলল। রাগত স্বরে বলল ,

— “কারো রুমে আসলে , নক করে আসতে হয় ! ভুলে গেলেন কথাটা? আমি গিয়েছিলাম দেখে কেমন করলেন মনে নেই ?”

পিহু ক্ষেপেছে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে , মাহির আমতা আমতা করতে লাগল , — “আ…সলে কী আমি…”

পিহু বিরক্তিতে বলল , — “থামুন এবার। আমি কী আপনার কাছে কৈফিয়ত চেয়েছি ?”

মাহির দ্রুত ডানে বামে মাথা নাড়ল।যার মানে , পিহু কৈফিয়ত চাইনি। পিহু তখন সাথে সাথে বলল ,

— “তাহলে ?”
— “কৈফিয়ত কী মানুষ নিজে নিজে চাই নাকি স্পেশাল কাউকে নিজ থেকে দিতে হয় ?”

মাহিরের প্রশ্নে ভ্রু কুঁচকালো পিহু। আশপাশ তাকাতে তাকাতে বলল , — “আমি তো কারো স্পেশাল কেউ না , তাই তো আমার সামনে এমন বিহেভ করল যেন , আমি পর কেউ !”

মাহির অস্থির কন্ঠে বলল , — “আরেহ না না…এমন কিছুই না।”

পিহু ভ্রু কুঁচকে বলল , — “আমি আপন কেউ ?”

মাহির ক্ষীণ কন্ঠে বলল , — “হু।”

পিহু ভীষণ স্বাভাবিক কন্ঠে বলল , — “তাহলে শার্ট খুলুন!”

মাহির ভ্যাবাচ্যাকা খেল , — “কিহ?”

পিহু মাথা নাড়ল , — “হু , শার্ট খুলুন।”

মাহির এক কদম পিছিয়ে যেয়ে বলল ,
— “তোর সামনে ?”

“তাহলে আর কার সামনে ? রাহা আপুর সামনে শার্ট খুলতে চান ?” — পিহু ভ্রু কুঁচকে কথা দু’টো বলল।

“আরেহ আমি কখন বললাম ?” — মাহির ভীষণ হাঁস ফাঁস করতে করতে কথাটা বলল। পিহু ভাবলেশহীন ভাবে বলল ,

— “বলার কী দরকার ? তোমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে !”

মাহির ভ্রু কুঁচকালো , — “কী বোঝা যাচ্ছে আমাকে দেখে ?”

— “মনে হচ্ছে , আমি কেউ না । রাহা আপুই তোমার সব !”

মাহিরের কপালে ভাঁজ পরল , — “এখানে আবার রাহা কোথা থেকে আসল ? রাহার সামনে কী আমি শার্ট খুলেছি কখনো ?”

“কিন্তু রাহা আপু তো তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পেরেছিল! আমি তো কখনো পারিনি !” — পিহু ভীষণ আফসোস সুরে বলল। মাহির ঘাড় বাঁকালো। বুঝতে পারল , মেয়েটা ভীষণ কথা পেচাচ্ছে। মাহির পিহুর আরও কাছে আসল। পিহুর দিকে ঝুকতেই , দু’জনের মুখ ভীষণ কাছাকাছি ঠেকল। মাহির দাঁতে দাঁত পিষে বলল ,

— “রাহা তো আমার কোলে কখনো চড়েনি! তুই তো চড়েছিস! এখন কী বলবি ?”

কথাটা শুনতেই পিহু ভীষণ লজ্জা পেল। মাহিরের থেকে চাহনি সরিয়ে ফেলল। আমতা আমতা করতে লাগল , — “আমি তো তখন ছোট ছিলাম ভীষণ! আমি কী ইচ্ছে করে আপনার কোলে চড়েছি নাকি ?”

মাহির তখন পিহুর থুতনি ধরে , তাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে বলল , — “আমিও যদি জানতাম , রাহা আমাকে জড়িয়ে ধরবে , তাহলে রাহা থেকে একশত কদম দূরে থাকতাম !”

পিহুর চাহনি এলোমেলো। থুতনি থেকে মাহিরের হাত সরিয়ে বলল , — “সবাই বলে প্রেম করি না। কিন্তু চলে তলে ঠিকই টেম্পু চালায় । হুহ!”

কথাটা পিহু বলেই ছিল। মাহির মুহূর্তেই তাকে জড়িয়ে ধরল। পিহু এক মুহূর্ত শ্বাস নিতে ভুলে গেল। যখন বুঝতে পারল , মাহির কী করেছে ? পিহু দ্রুত মাহিরের পিঠে বাড়ি মারতে মারতে বলল ,

— “তুমি…তুমি এ কী করলে ?”

মাহির পিহু ছেড়ে বলল , — “কী করলাম আমি ?”

পিহুর মুখ লালচে আভায় রাঙা। পিহু কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল , — “তুমি…তুমি আমায় জড়িয়ে ধরলে ?”

মাহির ভ্রু কুঁচকালো , — “তুই বলেছিলি , রাহা আমাকে জড়িয়ে ধরে ছিল। তাহলে আমি তোকে জড়িয়ে ধরলাম। হিসাব মিটে গেল ! আর কখনো বলবি না তো , তুই আমার কেউ না ?”

পেছন থেকে দরজার আড়ালে দৃশ্যটি দেখে রেহান দৌড়ে যেতে লাগল। দৌড়ে যেতে যেতে সিঁড়িতে রাহার সাথে ধাক্কা লাগল তার। রাহা বিরক্তিতে নাক মুখ কুঁচকে ফেলল ,

— “দেখে হাঁটতে পারিস না ? বাদুড় কোথাকার!”

কিন্তু রেহানের কোন উত্তর আসল না। রেহানকে অস্থির কন্ঠে কিছু বিড় বিড় করতে দেখে , ভ্রু কুঁচকালো রাহা ,

— “এই কী হয়েছে তোর ? ঠিক আছিস তুই ?”
— “রাহা আপু! মাহির ভাইয়া আর পিহু…”

রাহা অস্থির কন্ঠে রেহানের দু’বাহু ঝাঁকিয়ে বললো ,

— “কী করেছে তারা ?”

— “মাহির ভাইয়া পিহুকে জড়িয়ে ধরেছিল দেখলাম আমি…পিহু আর মাহির ভাইয়া প্রেম করছে…”

রাহা রেহানকে ছেড়ে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে উপরে গেল। রেহান যখন বলেছে , তখন সত্যি হবে ! কিন্তু রাহার মন মানতে চাইছে না , ব্যাপারটা । যাহা পিহুর রুমের দরজার সামনে এসে , মাহিরকে পিহুর এত কাছে দেখে , চেঁচিয়ে উঠল ,

— “কী…হচ্ছে কী এখানে ?”

মাহির আর পিহু তাকালো দরজার সামনে। মাহির বিরক্তিতে বলল , — “কী হচ্ছে মানে ?”

রাহা চেঁচিয়ে যাচ্ছে , — “কী…করছিলে কী তোমরা একসাথে রুমে ?”

মাহিরের এবার রাগ হলো , — “কী করছিলাম মানে ?
কী ভাবছো এসব ? দরজা খোলা দেখছো না ? অযথা কমেন্ট পাস করবা না রাহা !”

রাহা চেঁচিয়ে যাচ্ছে , — “অযথা কমেন্ট পাস করছি আমি ? রেহান তাহলে কেন বলল , সে তোমাকে পিহুকে জড়িয়ে ধরতে দেখেছে ?”

মাহির ভ্রু কুঁচকালো , — “হো ওয়াট? আমি পিহুকে জড়িয়ে ধরলে , তাতে তোমার সমস্যা কোথায় ?”

রাহার চেঁচামেচি শুনে , মোহনা আর প্রিয়তা বেগমও বেরিয়ে আসলেন। মোহনা বিরক্তিতে বলল ,

— “কী হয়েছে ? চেচাচ্ছিস কেন এভাবে ?”

রাহা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল , — “দেখ দেখ পিহু কত খারাপ একটা মেয়ে ? নিজের ভাইয়ের দিকেই নজর দিচ্ছে !”

মোহনা পিহুর দিকে তাকালো , — “কী করেছে এই মেয়ে আবার ?”

প্রিয়তা বেগম ভ্রু কুঁচকালেন , — “এসব কেমন কথা রাহা? এসব কী বলছো তুমি আমার মেয়ের নামে ?”

মাহির রেগে দাঁতে দাঁত পিষে বলল , — “কী বলছো এসব ? ভেবে বলছো তো , রাহা ! তুমি কিন্তু নিজের লিমিট ভুলে যাচ্ছো !”

রাহা রেগে বলল , — “আমি আমার লিমিটে থেকেই বলছি , মাহির। এই মেয়েটা তোমাকে জাদু করেছে। অন্ধ হয়ে যাচ্ছো তুমি এই মেয়ের প্রেমে !”

প্রিয়তা বেগম চেঁচিয়ে উঠলেন , — “থামো ; আমার মেয়ের ব্যাপারে আর একটাও বাজে কথা বলবে না , রাহা। মাহির আর পিহু ভাই বোন হয় ! মাহির পিহুকে নিজের বোনের মতোই ট্রিট করে !”

রাহা চেঁচালো , — “আপনার মেয়ে হয় না ! তাই মেয়ের দোষ দেখতে পারছেন না !”

— “কী করেছে আমার মেয়ে ?”

— “কী করেছে ? এখনো দেখতে পারছেন না ! মাহিরকে বোকা পেয়ে ফুসলাচ্ছে। নিজের জালে ফাসাচ্ছে।”

মোহনা বিরক্ত হলো , — “কী করেছে বলবি তো আগে নাকি ? চেচিয়েই যাচ্ছিস শুধু !”

রাহা আঙুল তুলে পিহুর দিকে তাক করে বলল ,
— “মাহিরকে জড়িয়ে ধরেছে।”

মাহির তখন রাগে গজগজ করতে করতে বলল ,
— “এটা যদি পার্সোনাল কিছু হয় ; তাহলে তুমি আমার সাথে কী করছিলেন কাল রাতে ?”

রাহা চুপ হয়ে গেল। মুখ চুপসে আসল। মাহির গর্জে উঠল , — “আনসার মি , রাহা !”

মোহনা ভ্রু কুঁচকালো , — “রাহা কাল কী করেছে তোর সাথে ?”

মাহির কিছু বলতে পারল না। একটা মেয়ের সম্মান সে তার ফ্যামিলির সামনে নষ্ট করতে পারে না এভাবে !”

মোহনা আবারও চেঁচালো , — “বলছিস না কেন , মাহির ? ও কী করেছে তোর সাথে ?”

মাহির রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল , — “আমার সাথে জোরাজুরি করেছে ! আমি তাকে অনেক বার বলেছি ,
আমি তাকে ভালোবাসি না ! কিন্তু রাহা বুঝেই না কথাটা!”

রাহা তখন চেঁচিয়ে উঠলো , — “শুধু অর্ধেকটা কেন বললে ? পুরো ব্যাপারটাই বলো ! বলো তুমি পিহুকে ভালোবাসো , তাই আমাকে রিজেক্ট করেছো !”

প্রিয়তা বেগম মাথা ডানে বামে নাড়াতে নাড়াতে বললেন , — “পিহুকে ও কখনো এসব নজরে দেখতে পারে না ! কখনোই না ! আর রাহা ! ভালোবাসা চেয়ে পাওয়া যায় না মা ! মাহির তোমাকে ভালোবাসে না , তাই ও তোমাকে রিজেক্ট করেছে ! পিহু এসবের মাঝে নেই ! ওকে টেনও না !”

রাহা আবার বাঁধ ভাঙা কান্না করতে করতে বলল ,
— “আপনার পিহুই এসবের মাঝে এসেছে ! মাহিরকে কেড়ে নিয়েছে আমার কাছ থেকে ! আমরা তো ভালোই ছিলাম ! কেন আসল ও ? আপনার পেটেই মরে যেতে পারল না !”

রাহা সবেই কথাটা শেষ করেছিল। দম ফেলারও সময় পেল না। মাহির কষে ওর গালে একটা চড় মারল ,
— “তোমার চেয়ে ফার ফার বেটার পিহু ! ওর মধ্যে বিবেক কাজ করে ! মানুষ পিহুকে কষ্ট দিলেও , পিহু বিপরীতে মানুষের ভালো চায় ! ওকে কে না পছন্দ করবে হা ?”

কথাটা বলেই থেমেছিল মাহির। প্রিয়তা বেগম মাহিরের দিকে বিস্ময়ের সাথে তাকালেন। সেসময়ের মতো‌ সবকিছু থেমে গেল।

রাতে পিহুর পাশে প্রিয়তা বেগম ঘুমালেন।মেয়েটা ঘুমিয়েছে টের পেতেই উঠে বসলেন । মেয়েকে একবার দেখেই , বেরিয়ে আসলেন রুম থেকে। পাশেই মাহিরের রুম। টোকা দিলেন একবার। মাহির দরজা খুলতেই , প্রিয়তা বেগমকে দেখে কিছুটা বিস্মিত হলো। প্রিয়তা বেগম হেসে বললেন ,

— “বাবা ঘুমিয়ে পরেছো ?”
— “নাহ ; মিসেস প্রিয়তা !”

— “আমার তোমার সাথে কিছু কথা ছিল !”

মাহির দরজা থেকে সরে আসল। প্রিয়তা রুমে ঢুকে , মাহিরের রুমের জানালার সামনে চলে গেল। মাহির কিছুটা অবাক হলো। কিন্তু তেমন একটা পাত্তা দিল না ব্যাপারটাকে। মাহির প্রিয়তা বেগমের কাছে আসতেই ,
প্রিয়তা বেগম আকাশের দিকে তাকিয়েই প্রশ্ন ছুঁড়লেন ,

— “তুমি কী আমার মেয়েকে নিজের বোন মনে
করো ?”

মাহির জানত এমন এক সময় আসবেই , যখন পিহুকে পেতে তার এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। ভাবলেশহীন হয়ে মাহির বলল ,

— “নাহ ; আমি তাকে আমার বোন মনে করি না !”

এই উত্তরটা প্রিয়তা বেগম শুনতে চাননি কখনো । কিন্তু আজ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। প্রিয়তা বেগম এক ঢোক গিলে মাহফিলের দিকে তাকালো ,

— “তাহলে ?”

মাহির শক্ত কন্ঠে বলল , — “আমি তাকে ভালোবাসি।”

কথাটা হবেই বলেছিল মাহির। প্রিয়তা বেগম কষে এক চড় মারলেন মাহিরের গালে। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন , — “লজ্জা করল না কথাটা মুখেও
আনতে ?”

মাহির মৃদু হাসল , — “আমি যদি কথাটা মুখে না আনি! তাহলে যে আপনার মেয়েকে হারাবো? ওকে ছাড়া কীভাবে বাঁচব আমি ?”

আরও একটা চড় পরল মাহিরের গালে। প্রিয়তা বেগম দাঁতে দাঁত পিষে বললেন , — “যদি সত্যি ভালোবাসতে , তাহলে পিহুর ভালো চাইতে! জানো , সমাজ কী বলবে ? আমার পিহুকে কলঙ্কিত করবে! আমার পিহুকে দোষী বানাবে !”

মাহিরের চোখ তখন রক্ত বর্ণ ধারণ করেছে । দাঁতে দাঁত পিষে বলল , — “আমি আছি পিহুর সাথে ! আমি সামলে নিবো সব !”

প্রিয়তা বেগম প্রশ্ন ছুঁড়লেন , — “কী সামলাবে তুমি ? তোমার আছেটা কী নিজের বলতে ? তুমি নিজের পায়েই দাঁড়াতে পারো নি ! না আছে তোমার টাকা , না আছে ক্ষমতা ! যা আছে সব তোমার বাবার! যে ছেলের মেরুদন্ড বলতেই কিছু নেই , সে এই সমাজের সাথে কীভাবে যুদ্ধ করে আমার মেয়েকে ভালো রাখবে ? তোমার জন্য এখন এসব ফ্যান্টাসি ছাড়া কিছুই না , মাহির দুনিয়ার বাস্তবতা এখনো দেখনি !”

মাহিরের চোখ মুখ শক্ত , — “আপনার কী মনে হয় পিহুর সাথে আমার সব টাইমপাস? আমি পিহুর যোগ্য নয় ?”

“নাহ ! তুমি আমার পিহুর যোগ্য না !” — কথাটা বলেই প্রিয়তা বেগম চলে যেতে লাগল। চেঁচালেন পেছন থেকে , —- “রাখব না আমি আমার পিহুকে এখানে !
তোমার থেকে হাজার হাজার দূরে নিয়ে চলে যাবো ওকে আমি !”

প্রিয়তা বেগম চলে যযেতে নিয়েও থেমে গেলেন মাহিরের কথা শুনে ,

— “আপনি পিহুকে যেদিকেই নিয়ে যান না কেন ? কোন লাভ নেই ! আমি তাকে নিজের করে নিবো সময় আসলে। আর আপনার কী মনে হয় ? পিহুকে শুধু আমি চাই ? পিহু আমাকে চায় না ? পিহুর খাতা ডায়েরী একবার চেক করে নিয়েন , ওর সবখানে আমার নাম খোদাই করা ! ওকে আমার থেকে কেউ আলাদা করতে পারবেন না !”

প্রিয়তা বেগম কথাগুলো দ্রুত কদমে বেরিয়ে আসলেন মাহিরের রুম থেকে। পিহুর রুমে যেয়ে , পিহুর খাতা ডায়েরী চেক করতে লাগলেন। হাতের থেকে খাতা পরে গেল। তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না এসব ! ওর প্রত্যেক খাতায় মাহিরের নাম লেখা। প্রিয়তা বেগম একটা ডায়েরী পেলেন পিহুর ব্যাগে। ডায়েরীটার পৃষ্ঠা উল্টাতে লাগলেন বার বার ! প্রত্যেক পৃষ্ঠাতেই মাহিরকে নিয়ে কিছু না কিছু লেখা। প্রিয়তা বেগম থমকালেন। আর নিতে পারলেন না এসব। পিহুকে ঘুম থেকে জাগিয়ে কষে এক চড় মারলেন। পিহু রীতিমতো কান্না করে যাচ্ছে। প্রিয়তা বেগম আর এক মুহূর্তও এখানে থাকবেন না ! চলে যাবেন মেয়েকে নিয়ে এখান থেকে । রাতে বড় বোনের সাথে ঝগড়া করলেন এক চট। রাশেদা বেগম জানতে চাইলেন , কী হয়েছে তার? এসব কেন করছেন তিনি! পাগল হয়েছেন? এত রাতে কোথায় যাবেন তিনি?

প্রিয়তা বেগম অনড় তার সিদ্ধান্তে। সে তার বান্ধবীর বাড়িতে চলে যাবেন এখান থেকে। এখানে আর এক মুহূর্তও থাকবেন না। সব কিছু প্যাক করে , প্রিয়তা বেগম পিহুকে টানতে টানতে নিয়ে গেলেন। মাহির নিঃশব্দে পিহুর যাওয়া দেখল। তার রাগ হচ্ছে ভীষণ !
এতটা নিষ্ঠুর কেন দুনিয়ার লোক ? তাদের ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে চাইছে না ? মাহিরও এসবের শেষ দেখে ছাড়বে ! হয়ত পিহু নয়ত মৃত্যুকে সে আপন করে নিবে !

চলবে—

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here