#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
১৫.
চঞ্চলের বাসার ড্রয়িংরুমের ওর মুখোমুখি সোফায় বসে আছে সাইফ। ওর চেহারায় গম্ভীরতা আর চঞ্চল গুরুত্বহীন। সাইফের সোফার ঠিক পাশের টুলটায় পা ঠেকিয়ে, বুকে হাত গুজে হেলান দিয়ে দাড়ানো শারাফ। চঞ্চলকে ক্রসকোশ্শেন করবে বলে ওকে ডেকেছে সাইফ। দুজন একসাথেই এসেছে চঞ্চলের বাসায়। কারন সাইফ নিশ্চিত,যদি এই ভয়া’নক খু’নগুলো চঞ্চলই করে থাকে, ওর সাইকেপ্যাথের কিছু না কিছু তো অবশ্যই ধরতে পারবে শারাফ। আসার পর আইডি দেখিয়ে সাইফ পরিচয় দিলে সেরকম কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি চঞ্চল। ওদেরকে ভেতরে ঢুকতে দিয়েছে সহজেই। সাইফ বেশ কিছুটা সময় ওকে পর্যবেক্ষণ করে বললো,
-ছাত্র রাজনীতির ক্ষমতার জেরে জেলের বাইরে থাকতে পেরে কেমন অনুভব করছো চঞ্চল?
-বরাবরের মতোই। আলাদা কিছু অনুভবের কারন নেই। আমি জানতাম আমাকে জেলে আটকানোর ক্ষমতা আপনাদের হবে না।
আরো আরামে সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসলো চঞ্চল। হাত মুঠো করে রাগ সংবরন করলো সাইফ। খু’নি হোক বা না হোক, সন্দেহের তালিকায় যখন আছে, তখন চঞ্চলের পুলিশ স্টেশনেই থাকার কথা। কিন্তু তা আর হলো কই? নিজেকে সামলে আরো কিছু প্রশ্ন করলো ও চঞ্চলকে। অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় সে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিলো চঞ্চল। পুরোটাসময় শারাফ চুপচাপ শুধু আশপাশ দেখলে আর শুনলো। সাইফ সব প্রশ্নের জবাব পেয়ে তাকালো ওর দিকে। সোজা হয়ে দাড়িয়ে, মাথা আস্তেধীরে উপরনিচ করলো শারাফ। সাইফ দমলো। চঞ্চলের বলা কোনো কথাতেই ও সবুজ কিংবা বাকিসবার মৃ’ত্যুর কোনো সামঞ্জস্য খুজে পাচ্ছে না। উঠে দাঁড়িয়ে গিয়ে চঞ্চলকে বললো,
-যতোই ভালোমানুষীর মুখোশ পরে থাকোনা কেনো, তোমার কুকীর্তি খুব বেশিদিন আড়াল করতে পারবে না চঞ্চল। আজকের মতো আসছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই দেখা হবে। কোর্টে।
চঞ্চলও উঠে দাড়ালো। সকৌতুক হেসে বললো,
-কুকীর্তি যা আছে, তার জন্য ধমকিটা দিলেও পারতেন ইন্সপেক্টর। ভয় পাওয়ার চেষ্টা করতাম নয়তো আপনাকে খুশি করার জন্য হলেও ভয় পাওয়ার অভিনয় করতাম। কিন্তু যেখানে সবুজকে আমি মা’রিই নি, এ ধমকিতে ভয় পাওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা। তবুও দেখা হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম আমিও। আপনার ব্…
বলতে গিয়েও থামলো চঞ্চল। সাইফ দাতে দাত চেপে গেলো। চঞ্চল আজ বোন শব্দটা উচ্চারণ করলে আজকে ও একটা অঘটন ঘটিয়ে ফেলতো নির্ঘাত। হনহনিয়ে বেরিয়ে আসলো চঞ্চলের বাসা থেকে। শারাফও আসলো ওর পেছনপেছন। গেইটের কাছে এসেই সাইফ দুটো ঘুষি ছুড়লো দেয়ালে। শারাফ পকেটে দুহাত গুজে দাড়িয়ে বললো,
-একটু বেশিই রিয়্যাক্ট করছেন না আপনি মিস্টার এহমাদ?
জোরে শ্বাস ফেলে সাইফ সামলালো নিজেকে। বললো,
-ওর কথার সাথে ঘটনাবিস্তৃতি তো পুরোটাই মিলে যাচ্ছে শারাফ। তবে কি সত্যিই এই খু’নে ও জড়িত নয়? কিন্তু অন্য কারো জড়িত থাকার কোনো হদিশ তো পেলাম না। তোমার কি মনে হয়?
শারাফ একহাতে গাড়ির চাবিটা আঙুলে ঘুরিয়ে আরেকহাতে প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইল বের করলো। সাইফের সামনে তুলে ধরলো মোবাইলটা। বললো,
-আমার মতে, কোনো ছেলের জড়িত থাকার ক্লু না থাকার চেয়ে ভয়া’নক হলো কোনো মেয়ের জড়িত থাকার ক্লু পাওয়া।
কপালে ভাজ ফেলে ছবিটার দিকে মনোযোগ সহকারে তাকালো সাইফ। ওটা চঞ্চলের বাসার দরজার সামনের। সাইফ কিছু বুঝে উঠলো না। বললো,
-কি বোঝাতে চাইছো তুমি?
ছবিটা জুম করে মেঝেতে পরে থাকা একটা এয়াররিং দেখালো শারাফ। গাড়ির ওপর থাকা ফাইলের ভেতরের একটা ছবির একাংশ বেরিয়ে আছে। ছবিটায় সবুজ একটা মেয়ের সাথে দাড়িয়ে। শারাফ সে ছবিটায় আঙুল রেখে বললো,
-সবুজের সো কলড্ গার্লফ্রেন্ডের এয়াররিং চঞ্চলের বাসার সামনে পরে থাকা, ইজ’ন্ট ইট উইয়ারড্ মিস্টার এহমাদ?
সাইফের চোখজোড়া হঠাৎ লক্ষনীয়ভাবে চকচক করে উঠলো। এতোটা সময় চঞ্চলকে প্রশ্নোতাক করার পরও কিছু মিললো না ভেবে যার কপালে গুনেগুনে চারটে ভাজ পরেছিলো, তার চকচকে চোখ দেখে শারাফ নিশব্দে হেসে ফেললো। মোবাইলটা পকেটে পুরে, সানগ্লাসটা চোখে দিয়ে বললো,
-নেক্সট কোথায় কবে মিট করবেন, জানাবেন। আই’ল বি দেয়ার। টেক কেয়ার মিস্টার এহমাদ।
শারাফ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলো। দু দন্ড দাঁড়িয়ে সাইফও নিজের জিপে রওনা হলো পুলিশ স্টেশনের দিকে। বাসার বারান্দা থেকে দুজনকে আলাদা আলাদা গাড়িতে চলে যেতে দেখলো চঞ্চল। কানে ধরে রাখা ফোনটায় বললো,
-ইন্সপেক্টর না, ওর সাথে আসা ছেলেটা আমার ভয়ের কারন বস। এমনকি আপনিও জানেন, মাইন্ডগেইমে তার সমকক্ষ খুব কমই আছে। তার নাম…ইয়াকীন শারাফ।
•
শহরজুড়ে বৃষ্টি। অক্টোবর মাসটার মতো এ সময়ের বৃষ্টির ফোটাগুলোও বেশ মোহনীয়। শীতের আগমনী বার্তাকে আরো গাঢ় করে তুলে ধরছে তারা। সবুজ ঘাসে মোড়ানো ক্যাম্পাসে বৃষ্টি মানেই চা-বন্ধুত্ব, গিটার-গান, প্রেমিক-প্রেমিকার বৃষ্টিবিলাসের মতো অমায়িক কিছু দৃশ্য। ভার্সিটির মেইনগেইটের ঠিক সামনেই এক টংয়ের দোকান। সামনের টেবিলে আবির বসেবসে সমুচা খাচ্ছে। আর চায়ের কাপ নিয়ে পাশের দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাড়িয়ে আছে শারাফ। দুদিন পর আজকে এসেছে ও ভার্সিটিতে। সকাল থেকে টানা চারঘন্টা সেমিনারের বইয়ে মুখ গুজে থাকার পর সবে বেরিয়েছে ও। আপাতত এককাপ চায়ের রিফ্রেশমেন্টের জন্যই বেরোনো। বৃষ্টি আর ভীড় দেখে টিএসসিতে বসার ইচ্ছে হলো না ওর। তাই বাইরে আসা। টংয়ের বাইরে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থেকে কাপে চুমুক দিলো শারাফ। বৃষ্টি বললে ভুল হবে। বাতাসও আছে। আবির সমুচা চিবোতে চিবোতে বললো,
-সকালে সুন্দর গুড়িগুড়ি বৃষ্টি ছিলো। তোকে বললাম সেমিনারে পরে বসিস, আমার বাসায় চল। আম্মার হাতের খিচুড়ি খাওয়াবোনে। না! গেলি না! এখন এই চায়ে পেট ভরাবি?
শারাফ চায়ে চুমুক দিয়ে বললো,
-বইগুলো নিয়ে আসি। তারপর বাসায় ফিরবো।
-আমার বাসায় যেতে কি সমস্যা তোর? ক্যাম্পাস থেকে মাত্র পাঁচমিনিটের পথ! তারপরও দেশে আসার পর একবারো গেলি না।
-এখানে পড়াকালীন অনেক গিয়েছি তো। তোর আর আরাফাতের বাসাতেই তো বেশি আড্ডা দিতাম আমরা।
শারাফ হাসলো। চুমুক দিলো চায়ের কাপে। আবির সমুচায় কামড় বসাতে গিয়েও দিলো না। শব্দ করে প্লেটে রাখলো ওটা। বললো,
-আরাফাতের সাথে আমাকে তুলনা করবি না শারাফ। অহেতুক বন্ধুত্ব নষ্ট করা পাব্লিকদের দলে আমি নই!
শারাফ প্রতিত্তর করলো না। চা শেষ করে কাপ দোকানির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো,
-শুধু চা কতো মামা?
-আট টাকা মামা।
শারাফ মানিব্যাগ থেকে দশটাকার একটা নোট বের করলো। আবিরকে দেখিয়ে বললো,
-সমুচা শেষ না করলে বাদবাকি বিল তুই দিবি। আফটার অল, ইটস্ ইউর বার্থডে!
হতাশচোখে পাশের টেবিলে তাকালো আবির। ওখানে আরো ছয়জন খিচুড়ি-মাংস খাচ্ছে। ভার্সিটির গেইটের সামনে দাড়ানো রিকশাওয়ালা এরা। শারাফ টংয়ে এসে এদের বি’ড়ি খেতে দেখেছিলো। ওর ভালোলাগেনি সে দৃশ্যটা। নে’শাজাতীয় সব বস্তুর প্রতি তীব্র ঘৃনা ওর। তাই বন্ধুর জন্মদিন ট্রিট হিসেবে সবার হাতে খিচুরি ধরিয়ে দিয়েছে শারাফ। বাদবাকি বিল বলতে আবিরকে তাদের বিল দেবার কথাই বুঝিয়েছে ও। দুই কামড়ে সমুচাটা শেষ করলো আবির। শারাফ হেসে দোকানদারকে পুরো টাকাটা দিয়ে দিলো। তারপর টংয়ের সামনে এসে দাড়িয়ে গুটানো ছাতা মেললো। আবির রুমালে হাত মুছে এগিয়ে এসে বললো,
-এক ছাতায় দুজন বেরোতে তো পারলাম। কিন্তু এখন তো দেখছি দুজন একসাথে যাওয়া কষ্টকর। ভিজে যাবো। বৃষ্টি তো অনেক বেড়েছে।
-দুজন যাচ্ছি কে বললো তোকে?
-মানে?
-সাইকোলজির স্টুডেন্ট হয়ে এতো মানেমানে করিস, লজ্জা করে না তোর? দুজন যাচ্ছি না, এই কথার কয়টা মানে হয়?
কিঞ্চিৎ হা হয়ে শারাফের দিকে তাকালে আবির। আক্রোশের স্বরে বললো,
-এক ছাতায় তুই একাই যাবি? আমি কি ভিজেভিজে ডিপার্টমেন্টে যাবো তাহলে?
জবাব দিলো না শারাফ। নির্বিকারচিত্ত্বে ছাতা নিয়ে বেরোলো টং থেকে। রাস্তা পার হতে গিয়ে হঠাৎ একদফা দমকা হাওয়ায় ছাতা উল্টে যাচ্ছিলো ওর। পেছন ফিরে শারাফ সামলালো নিজেকে। সামনেরদিক ফেরার পর পায়ের সাথে দৃষ্টিও থামলো ওর। ওপারের অলকানন্দা গাছটা থেকে টুপটাপ একাধারে তিনটে হলুদ অলকানন্দা পরলো রাস্তায়। আর সেটাকে পাশ কাটিয়ে, বৃষ্টি আটকানোর ভঙিমায় মাথায় হাত রেখে মৃদ্যু গতিতে দৌড়াচ্ছে এক মানবী৷ পরনে বড়হাতা হলুদ কুর্তা। হাতে রুপালী সরু চুড়ি। শারাফ ঘাড়টা চুলকে মুচকি হেসে বললো,
-মিস প্রলয়া আজ অলকানন্দাকে হার মানাতে এসেছে।
রাস্তা পার হয়ে ফটোকপির দোকানে চললো স্নিগ্ধতা। লেকচারশিট কপি করার জন্য। শারাফকে এগোতে না দেখে আবির কপাল কুচকে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। তারপর ওর চাওনি অনুসরণ করে দেখতে পেলো স্নিগ্ধতাকে। হেসে দোকানের বাশের সাথে হেলান দিয়ে দাড়ালো আবির। দুরন্ত শারাফ ইয়াকীনের থেমে থাকা রুপ দেখা বেশ আনন্দের ওর জন্য। কাজ শেষে স্নিগ্ধতা দোকান থেকে বেরোলো। ডানেবামে তাকালো দুবার। হুট করে মনে হলো, অক্টোবরের শুদ্ধতম এ বৃষ্টি যেনো ওকে ভেজাতেই নেমেছে। দোকানের পাশেই দুটো বাচ্চা স্কুলড্রেস পরে দাড়ানো ছিলো। স্নিগ্ধতা বুঝলো, বৃষ্টির জন্যই আটকে গেছে ওরা। ওদের দিকে ঝুকে হাটুতে হাত রেখে বললো,
-বৃষ্টিতে আটকা পরেছো?
মাথা উপরেনিচে নাড়লো দুজনেই। স্নিগ্ধতা হেসে ব্যাগ থেকে নিজের ছাতাটা বের করে এগিয়ে দিলো ওদের দিকে। বয়সে তুলনামূলক বড় ছেলেটা বললো,
-তোমার ছাতা আমাদের কেনো দিচ্ছো?
-আমারনা খুব অসুখ করেছে। ডক্টর বলেছে, যদি তোমরা দুজনে মিলে আমাকে আদর দাও, আমি একদম সুস্থ হয়ে যাবো। এখন তোমরা তো আর আমাকে এমনিএমনি আদর দেবে না তাইনা? এজন্য ছাতাটা দিয়ে দিলাম তোমাদের। এবার আমার দুগালে একটু আদর করে দাও দুজনে? প্লিজ?
কাদোকাদো চাওনি করে বললো স্নিগ্ধতা। ছেলেটা ছাতাটা হাতে নিয়ে ফট করে ওর একগালে চুমু দিয়ে দিলো। তৎক্ষনাৎ এভাবে চুমু দেওয়ায় চমকে উঠলো স্নিগ্ধতা। ওই ছেলেটার দেখাদেখি অন্য ছেলেটাও চুমু দিলো স্নিগ্ধতাকে। শব্দ করে হেসে দিলো ও। বাচ্চাদুটোর চুলে আঙুল চালিয়ে নাক টিপে দিলো। ওরা ছাতা নিয়ে চলে গেলে বৃষ্টিতেই পা বাড়ালো স্নিগ্ধতা। ছাতা কাছে নেই, এবার শান্তিতে ভিজতে পারবে ও। অনু, মুহিব এমনকি সাইফ দেখলেও বলতে পারবে, ছাতা কাছে ছিলোনা বলে ভিজেছে। দুপা এগোতেই মাথার ওপর ছাতা দেখে চমকে পাশে তাকালো স্নিগ্ধতা। মেরুন শার্ট পরিহিত মানুষটা ওর চেনা। শারাফকে এতোটা কাছে দেখে হৃৎস্পন্দনের দ্রুততা অনুভব করলো ও। শারাফ বললো,
-অসুস্থ মানুষের বৃষ্টিতে ভিজতে নেই।
বিনাবাক্যে ছাতা থেকে একপা পিছিয়ে দাড়ালো স্নিগ্ধতা। কিছু বলার আগেই একহাতে ওর কোমড় জরিয়ে ধরে ওকে নিয়েই ঘুরে সরে দাড়ালো শারাফ। ঘটনার আকস্মিকতায় চোখ খিচে বন্ধ করে নিয়ে শারাফের গলা জরিয়ে কাধের শার্ট খামচে ধরেছে স্নিগ্ধতা। বাতাসে পাশের গাছটার ডাল ভেঙে পরেছে। শারাফ সরিয়ে না নিলে ডালটা সোজা ওর গায়েই পরতো। শারাফ স্বাভাবিক হতে সময় নিলো না। তবে টের পেলো, স্নিগ্ধতার ওকে এভাবে জরিয়ে ধরায় শ্বাসপ্রশ্বাস অস্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ওর। স্নিগ্ধতার খোলা চুল ওর মুখচোখ ছুইয়ে দিচ্ছে। একটা ঢোক গিলে গলা ভিজিয়ে নিলো শারাফ। বললো,
-ডক্টর কি আপনাকে আমার আদরও রেকোমেন্ট করেছে মিস স্নিগ্ধতা?
কথাটা কর্নগোচর হতেই তড়িৎবেগে ওকে ছেড়ে সরে দাড়ালো স্নিগ্ধতা। নিজের কাজে নিজেই থমকে গেছে ও। শারাফ নির্দ্বিধায় ওর হাত ধরে ফেললো আচমকা। ছাতাটা দুজনেরই মাথার ওপর থাকে সেভাবে ধরে রেখে দ্রুতপদে হাটা লাগালো স্নিগ্ধতাকে নিয়ে। টাল সামলাতে ওর সাথে পা বাড়াতে বাধ্য হলো স্নিগ্ধতাও। এদিকে টংয়ে দাড়িয়ে হা হয়ে ওদের চলে যাওয়া দেখছিলো আবির। আহাজারির মতো করে বললো,
-সবাইকে রিজেক্ট করে দেওয়া পুলিশের বোনটাও শারাফ নামক শরাবে ফেসে গেলো? ওকে জরিয়েও ধরলো? ওর সাথে এক ছাতার নিচেও যাচ্ছে? আমি কি করলাম জীবনে? এখনই বা কেমনে কি করবো? আমার তো ছাতাও নাই!
ঠিক তখনই একটা রিকশা গেইটের সামনে এসে থামলো। ছাতা নিয়ে কোনো একটা মেয়ে নামলো রিকশা থেকে। ওপরপাশ হয়ে দাড়িয়ে ভাড়া দিচ্ছিলো বলে চেহারা দেখা যাচ্ছিলো না মেয়েটার। আবির মাথার চুলগুলো উল্টে দিয়ে ভাব নিয়ে বললো,
-মেনশন নট! শারাফ যা করলো, আমি তেমনটা করে কপি কেনো করতে যাবো ওকে? ও তো নিজের ছাতায় অন্যকাউকে নিয়ে গেলো। আমি না হয় অন্যের ছত্রতলে আশ্রয় নিয়ে তার উল্টোটাই করবো!
দাত কেলিয়ে টং থেকে বৃষ্টির মাঝেই বেরিয়ে আসলো আবির। কিন্তু মাঝরাস্তায় এসেই পা থেমে গেলো ওর। আবির ভেবেছিলো মেয়েটা বৃষ্টি আর রোমাঞ্চ বোঝা কোনো মেয়ে হবে হয়তো। এমন বৃষ্টিতে ওকে এগোতে দেখলে ঠিকই তার ছাতার নিচে জায়গা হবে ওর। কিন্তু ওর ধারনা ভুল প্রমানিত হলো। এ মেয়ে আর যাই হোক, বৃষ্টিতে ডুবে গেলেও ওকে নিজের ছাতার নিচে আশ্রয় দেবেনা। কেননা রিকশা থেকে নামা মেয়েটা অন্য কেউ নয়, স্নিগ্ধতার অতিরিক্ত আত্মসম্মান বোধবিশিষ্ট বান্ধবী, দ্যা টপার অফ ফাইনআর্টস, অনু!
#চলবে…

