নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা ২০.

0
1

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা

২০.

বিকেল গরিয়েছে। পশ্চিমের নিস্তেজ সুর্যটা যাইযাই বলে বিদায় নিচ্ছে অতি সন্তর্পণে। আর তার সাথে স্নিগ্ধতাও ওর চোখের শান্তিকে লুকোনোর চেষ্টায় ব্যস্ত। দুদিনে কাঙ্ক্ষিত মানুষের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপস্থিতির পর, সামনে যখন সে মানুষটারই হাসোজ্জল মুখ, পারিপার্শ্বিক থেকে বাচার চেষ্টাটুকো ওকে করতেই হতো। সাদা শার্টের ওপর কালো কোট, টাই মিলিয়ে পুরো ফর্মাল লুকে শারাফ দাঁড়িয়ে। হাতে একটা ফাইল। ওর গলা শুনে পেছন ফিরেছিলো স্নিগ্ধতা। না চাইতেও থেমে আছে সেভাবেই। শারাফ ঠোট টিপে হেসে দুপা এগোলো। একটু ঝুকে দাড়িয়ে বললো,

– মিস করছিলেন?

তখনতখন দৃষ্টি সরিয়ে নিলো স্নিগ্ধতা। কেনো যেনো আজ ওর রাগ হচ্ছে না। মিথ্য বলতে ইচ্ছে করছে না। সত্যিটাও ও মানতে নারাজ। তাই চুপই রইলো। শারাফ ওর চোখের দিকে তাকিয়ে রইলো। সে চোখের পাপড়িগুলো নীমিলিতভাবে সাজানো। আজীবন চেয়ে চেয়ে দেখলেও বুঝি মন জুড়োবে না। কেবল তৃষ্ণা বাড়বে। এমনই তৃষ্ণায় তৃষ্ণায় কাতর হয়ে মারা পরবে দ্রষ্টা। তখন মনে পরবে, এই চোখজোড়াই যেনো তার সর্বনাশ আঁকা ছিলো। ঠিক যেমনটা রবীন্দ্রনাথ বলেছিলো। শারাফ এবার অনুর দিকে তাকিয়ে বললো,

– কেমন আছেন মিস অনু?

– জ্ জ্বী স্যার ভালো। আপনি?

– আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছি। কিন্তু ফাইন আর্টস আজ হঠাৎ সাইকোলজির আঙিনায়? আবার উকিঝুকিও দিচ্ছেে, বিষয়টা অদ্ভুত লাগছে না?

– তোর বাস ছেড়ে দেবে অনু।

স্নিগ্ধতার কথায় অনু শারাফের দিকে তাকালো। শারাফ মাথা নেড়ে সৌজন্যে হেসে বললো,

– আসুন।

দুজনে হাটা লাগাচ্ছিলো। কিন্তু সামনে তাকিয়েই আবারো থেমে গেলো অনু। দাতে দাত চেপে শক্ত রাখার চেষ্টা করলো নিজেকে। ভরা ক্যাম্পাসে আবারো অপমানিত হতে চায়না ও। স্নিগ্ধতা আশপাশ দেখে ওকে জিজ্ঞাসা করলো কি হয়েছে। অনু জবাব দিলো না। এদিকওদিক ঘুরে মুখ লুকোনোর চেষ্টা করছে যেনো। কি বুঝে এগোলো শারাফ। বললো,

– কোনো সমস্যা?

– ন্ না স্যার। না স্যার। সমস্যা কেনো? ক্ কোনো সমস্যা নেই। চল স্নিগ্ধতা। চল।

নাক ডলে, কানেগোজা চুল ছেড়ে বারবার চেহারা লুকোনোর চেষ্টা করছে অনু। হাত মুখে রেখে, অন্যদিক মুখ ঘুরিয়ে স্নিগ্ধতার উল্টোপাশে এসে দাড়ালো ও। শারাফের কাজ শেষ। ফাইল দেখতে দেখতে ওউ বেরিয়ে আসছিলো ভার্সিটি থেকে। অনু স্নিগ্ধতার হাত জরিয়ে ধরে হাটছিলো। সামনের চত্ত্বরটা দ্রুতপদে পেরোতে যাবে, তখনই পাশ থেকে কেউ দুবার হুইস্টলিং করে বলে উঠলো,

– কিরে চারুকলার টপার? বেলা না গরাতেই আরেকজন? হু?

অনু চোখ খিচে বন্ধ করে নিয়ে দাড়িয়ে গেলো। স্নিগ্ধতার হাত আরো আকড়ে ধরলো শক্ত করে। ওর ভয়টাই সত্যি হলো। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও মোহিনীর চোখ এড়োতে পারলো না ও। মোহিনী ওর সব দলবল নিয়ে চত্ত্বরেই বসে ছিলো। স্নিগ্ধতা একবার অনুর দিকে তাকাচ্ছে, তো একবার মোহিনীর দিকে। খাটোখুটো করে গোলগাল চেহারার সামনের মেয়েটা। পরনে হালকা রঙের সুতির সালোয়ার কামিজ। ওড়না নেই গলায়। চুলগুলো কাধ অবদি ছাটা। ওর আশেপাশে আরো কয়েকটা ছেলেমেয়ে। মোহিনীর বলা কথাটা বুঝতে সেকেন্ডদুই সময় লেগেছে স্নিগ্ধতার। টের পেলো কথার মাঝে এমন জঘন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, এটা মোহিনীই হবে। তৎক্ষনাৎ এগোতে যাচ্ছিলো ও। কিন্তু অনু ওর হাত ধরে ফেললো। অস্থিরস্বরে বললো,

– স্নিগ্ধতা প্লিজ!

হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করলো স্নিগ্ধতা। মোচড়ামুচড়ি করেও লাভ হলো না। অনু সেভাবেই ইশারায় আকুতি করে চলেছে। স্নিগ্ধতা নিজেকে সংবরন করলো। আজ অনুর অপমানের জন্য প্রতিবাদ করলে যদি সেটার ফল শুধু ওর ওপর আসতো, দ্বিতীয়বার ভাবতো না ও এই কথার জবাব দিতে। কিন্তু সবখানে অনুর নিরাপত্তা জুড়ে আছে। তাই চুপ রইলো ও। শারাফও ততক্ষনে অনেকটা এগিয়েছে। ওদের পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলো। পরে খেয়াল করলো, অনু স্নিগ্ধতা দাঁড়িয়ে গেছে। ও নিজেও দাঁড়িয়ে গিয়ে বললো,

– এনি প্রবলেম?

মাথা নাড়িয়ে না বুঝালে অনু। তারপর মাথা নামিয়ে নিলো। মোহিনী আড়মোড়া ছেড়ে এগোলো শারাফের দিকে। ওর সামনে আরামে দাঁড়িয়ে বললো,

– প্রবলেম তো বটেই! দেখে তো টাকাওয়ালাই মনে হচ্ছে। তার ওপর তুমি নিজেও তো কম নও। তো পা কাটলে তো কাটলে, এমন পচা শামুকে? মুক্তোসাজানো ঝিনুক তোমার চাহিদা মেটাতে পারতো না বুঝি?

শারাফকে আপাদমস্তক দেখে নিয়ে, নিজের গলার পাশে হাত বুলাতে বুলাতে বললো মোহিনী। ওর কথায় আশেপাশের মেয়েগুলো শব্দ করে হেসে দিলো। ভ্রুজোড়া কুচকে আসছিলো শারাফের। পরপরই তা শিথিল করে শীতল স্বরে বললো,

– কোন ব্যাচ আপনি?

– ক্যাম্পাসে এতোগুলো দিন পলিটিক্স করে, কি করলামটা কি গাইস? কেউ চেনে না আমাকে। আব কেয়া কারু মে? মারজাউ?

আশেপাশের সবাই আবারো হাসলো। শারাফ স্হির। মোহিনী অনুকে ঠান্ডা মেজাজে বললো,

– তুই যা এখান থেকে।

না চাইতেও সরে আসতে হলো অনুকে। নিজের মাথার চুল আঙুলে পেচাতে পেচাতে এবার স্নিগ্ধতাকে দেখতে লাগলো মোহিনী। স্নিগ্ধতার চারপাশে একটা চক্কর দিলো। তারপর স্নিগ্ধতার সামনে এসে দাড়ালো। ওর কপালের সামনের চুলে আঙুল গলিয়ে দিয়ে বললো,

– কি নাম তোমার?

রাগে গা জ্বলছিলো স্নিগ্ধতার। দাতে দাত চেপে তবুও বললো,

– স্নিগ্ধতা।

– বাহ! কোন হল?

– বাসা থেকে ভার্সিটি আসি।

– ও তাই? এজন্যই তো দেখা হয়নি! যাক! ভালোই হলো আজ দেখলাম তোমাকে। তা হলে আসছো না? যাতায়াতে তো খুব কষ্ট হয় মনে হয়।

– জ্বী না। ভাইয়া গাড়ি করে নিয়ে যায়।

– ওহ! সদ্যফোটা? তাহলে তো তোমাকে হলে আসতেই হবে স্নিগ্ধতা। তোমার স্নিগ্ধ পরশ বিনে তো…

সবাই ওওওও বলে সুর তুললো। ফোন বাজায় সবাইকে চুপ করতে বললো মোহিনী। কল রিসিভ করে অতি বিনম্র স্বরে বললো,

– স্লামালাইকুম ভাই।

গুনে গুনে সেকেন্ড ত্রিশের মতো কথা বললো ওপাশের ব্যক্তি। তার কথা শুনে মোহিনীর মুখভঙ্গি ছিলো সর্বহারার মতো। ওকে বলার সুযোগ না দিয়েই হয়তো লোকটা ফোন কেটে দেয়। তৎক্ষনাৎ ফোনটা রাসৃতায় ছুড়ে মারলো মোহিনী। কপাল চেপে ধরে হাটা লাগিয়ে বললো,

– লীগের সহ সভাপতির বাসায় যাবো। ক্যাম্পাসের যতো ছেলেমেয়ে পাবি, নিয়ে আয়।

– পাতি রাজনীতিবিদের পদ গায়েব হয়েছে। সে এখন আর কাউকে চোখে দেখবে না। ছুট লাগাবে।

মৃদ্যু আওয়াজে বললো শারাফ। অবাকচোখে তাকালো স্নিগ্ধতা। শারাফ সোজা হয়ে দাড়ালো। ঠোট টিপে হাসছিলো ও। সত্যিই মোহিনী হন্তদন্ত হয়ে ছুটছে। তারমানে শারাফ যা বললো, সেটাই ঠিক। কিন্তু ও কি করে জানলো? স্নিগ্ধতা বিস্ময়ে বললো,

-আপনি….?

শারাফ একটা হাসি দিলো কেবল। যে ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছিলো মোহিনী, সে ক্ষমতাই চলে গেছে। মনেমনে খুশি হয়ে গেলো স্নিগ্ধতা। শারাফ পা বাড়ালো। পেছনপেছন স্নিগ্ধতাও এগোলো। শারাফ নিজের গাড়ির দিকে চলে গেছে। গেইটে স্নিগ্ধতাকে দেখে শ্বাস ফেললো অনু। ওকে জড়িয়ে ধরে বললো,

– যাক তুই ঠিক আছিস।

– হু। তুই এখনো দাঁড়িয়ে কেনো? বাস চলে গেছে?

– হুম।

– খুব জানি আমাকে ফেলে যাবিনা বলে তুইই উঠিস নি। যাইহোক, তুই লোকালে চলে যা, আমি ভাইয়ার জন্য ওয়েট করবো।

অনুকে একপ্রকার জোর করে বিদায় দিলো স্নিগ্ধতা। আড়চোখে দেখলো শারাফ গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ফোনে ব্যস্ত। কেউ দেখলে বলবে না এমন কেউ মোহিনীর পদবিচ্যুতি ঘটানোর মতো ভয়ানক কাজটাও করার ক্ষমতা রাখে। শারাফ যে এটা করেছে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই ওর। কিভাবে কি করলো, সেটাই অবাক করার বিষয়। কিছুক্ষণের মধ্যে সাইফ আসলো। বোনকে ব্যস্তভাবে বললো,

– সরি রে। আসতে লেইট করেছি। তোকে কল করার পর আবারো বেরোতে হয়েছিলো।

– তোমার কাজ ছিলো, সরি কেনো বলছো তবে? চলো এখন।

– কেমন আছেন মিস্টার এহমাদ?

স্নিগ্ধতা অবাক হলো। শারাফ কখন এগিয়েছে টেরই পাইনি। কিন্তু সাইফকে এখন ওর এই কেমন আছেন বলার আদৌও কি প্রয়োজন ছিলো? সাইফ খুশিই হলো ওকে দেখে। হ্যান্ডশেইক করে কুশলবিনিময় করলো। এরপর দুজনে কথা বলতে লাগলো নিজেদের মতো করে। স্নিগ্ধতা একবার ভাইয়ের দিকে তাকাচ্ছে, তো একবার শারাফের দিকে। তাদের কথা অফুরান মনে হচ্ছিলো ওর কাছে। অধৈর্য্য হয়ে তাই এক পর্যায়ে বলে উঠলো,

– বাসায় যাবে না ভাইয়া?

দুজনেই থামলো। সাইফের ফোনে ম্যাসেজ টোন। ওটা দেখে, কিছু একটা ভেবে সাইফ আমতাআমতা করে বললো,

– আব্ আমাকে আবারো পুলিশস্টেশন যেতে হবে টুকি।

– আচ্ছা এসো। আমি লোকালে চলে যাচ্ছি।

– না না! তোকে বাসে যেতে হবে না। তুই শারাফের সাথে চলে যা। ও ওদিকেই যাবে।

অবাক হয়ে তাকালো স্নিগ্ধতা। শারাফ ওদের বাসার দিকে যাবে, এতোক্ষণে সাইফকেশারাফ একবারো এ কথা বলেছে বলে ওর মনে পরছে না। ও শোনেও নি। তাহলে সাইফ কি করে জানলো? কিছু বলতে যাবে, সাইফ মাথা নেড়ে ওকে বললো কথা না বাড়াতে। মৃদ্যুপায়ে শারাফের গাড়ির ফ্রন্টসিটে উঠে বসলো স্নিগ্ধতা। এমনিতেও এ লোকটা আজ অনেকবড় একটা কাজ করেছে। ধন্যবাদ তো দেওয়া যেতেই পারে। শারাফ সাইফকে সৌজন্য বিদায় জানিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসলো। তারপর গাড়ি স্টার্ট দিলো। সোজা সামনে তাকিয়ে, মুচকি হাসি ঠোটে রেখে গাড়ি চালাচ্ছে ও। পাশে থাকা পৃথিবীর সবচাইতে মোহনীয় দৃষ্টিজোড়া লুকিয়ে চুরিয়ে ওকে দেখে চলেছে, কিছু বলার চেষ্টা করছে, এটা বুঝে ওঠার সুখ ওর চেহারাতে স্পষ্ট। ড্রাইভিংয়ে মনোযোগ রেখে বললো,

– আপনার আড় চাওনি অতি ভয়ানক মিস স্নিগ্ধতা।

– এটুকোতেই ভয় পেয়ে যান। আপনাকে মিস করেছি, এটা যদি তখন স্বীকার করে নিতাম, তাহলে কি হাল হতো আপনার?

প্রচন্ড জোরে ব্রেক কষে গাড়ি থামালো শারাফ। বিস্ময়ে তাকালো স্নিগ্ধতার দিকে। স্নিগ্ধতা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। যেনো কিছু বলেই নি ও। শারাফ বললো,

– ডোন্ট টেল মি আমি ভুল শুনেছি মিস স্নিগ্ধতা। সাইক্যাট্রিস্টরা না শুনে মনের কথা বলে দেয়। সেখানে আপনি যদি বলেন শারাফ দ্যা বিলেতফেরত মনোবিজ্ঞানী শুনেছে তো শুনেছে, ভুল শুনেছে, পাঠকমহল কিন্তু মানবে না! আর পাঠকেরা ক্ষেপে গেলে কি হবে জানেনতো? আমার আপনার মহাকাব্যের সমালোচনা। এমনটা হতে দেবেন না প্লিজ!

স্নিগ্ধতা দম মেরে তাকিয়ে রইলো ওর দিকে কিছুক্ষণ। তবে বেশিক্ষণ আটকাতে পারলো না নিজেকে। শব্দ করে হেসে দিলো। শারাফ মুগ্ধ হয়ে স্নিগ্ধতার প্রাণখোলা হাসিটা দেখতে লাগলো। একসময় পর স্নিগ্ধতা হাসি কমিয়ে বললো,

– না না! থাক বাবা! আমি বেশ বুঝতে পারছি! আপনাকে নিয়ে রচিত মহাকাব্যের সমালোচনা হলে বিপদ আছে!

শারাফ সামনের দিকে হাত রেখে তাতে গাল গুজে বসলো। আগ্রহ নিয়ে বললো,

– আচ্ছা? তাহলে স্বীকার করে নিন, আমাকে ভালোবাসেন…!

সরু চোখে তাকালো স্নিগ্ধতা। শারাফ হেসে বললো,

– এভাবে তাকানোর কি আছে? জাস্ট কিডিং! আমিও জানি, মেয়েদের এতো জলদি স্বীকারোক্তি দিতে নেই।

স্নিগ্ধতা আরেকদফায় অবাক হলো। কিডিং বলেও শেষ লাইনে ওকেই তাক করলো এই লোকটা! বেশ বুঝলো, ওর কথা বলটাই ভুল ছিলো। শারাফ হেসে আবারো গাড়ি স্টার্ট দিলো। স্নিগ্ধতা জানালায় মাথা ঠেকালো। তখনই এক অতিদ্রুত বাইক পাশ কাটালো ওদের গাড়িটাকে। বাইকের গতি এতোটাই বেশি ছিলো যে, স্নিগ্ধতা ভয় পেয়ে পিছিয়ে গিয়েছে অনেকটা। শারাফ ড্রাইভিং মিররে তাকালো। ওদের গাড়ি থেকে বেশখানিকটা পেছনে বড়সর জটলা বেধে আছে। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ও নিজের মতো ড্রাইভ করতে করতে তাচ্ছিল্যে হেসে বললো,

– কে জানে কে কার কোন পাপের শাস্তি পেলো।

গগনবিদারী আর্তনাৎ করে দুহাতে মুখ চেপে ধরে আছে মোহিনী। ওর আওয়াজে পুরো জায়গাটা যেনো আঁতকে উঠেছে। মোহিনী হাটু মাটিতে ঠেকিয়ে বসেছে। চিৎকার করে কাদছে ও। তীব্র যন্ত্রনায় জ্বলছে ওর পুরো মুখ। যেনো গলিত আগ্নেয়গিরির সংস্পর্শে এসেছে ওর চেহারার চামড়া। ফলে ঝলসে যাচ্ছে ক্রমশ। ওর সাঙ্গপাঙ্গ ঘিরে রেখেছে ওকে। একজন পানির বোতল নিয়ে পানি ছিটালো ওর মুখে। তাতে আরো চিৎকার বাড়লো মোহিনীর। আরেকজন লক্ষ করলো, বাইকার যাওয়ার সময় ছোট সাইজের একটা বোতল ফেলে গেছে। ওটা হাতে নিয়ে তার লেভেলিং দেখে বুঝলো, ওরা এসিড ছুড়েছে মোহিনীর মুখে। তারসাথে আরেকটা ভয়ানক সতর্কবানী। বোতলের গায়ে রঙিন মার্কারে লেখা, ‘যে দৃষ্টি সংযত না, সে দৃষ্টির সৌন্দর্য দেখার বা উপভোগের অধিকার নেই। দৃষ্টিহীনতার মুবারকবাদ নেত্রী।’

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here