#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে: মিথিলা মাশরেকা
৩৬.
খোলা দরজার পর্দা উড়ছে নিমীলিত বাতাসে। আরাফাত স্নিগ্ধতাদের ড্রইংরুমে সোফায় বসে। ওর দু হাটুতে দুহাতের কনুই ঠেকানো। মাথা নিচু করে রাখা। স্নিগ্ধতাও ওর সামনেই দাড়ানো। নিশব্দে বাসার ভেতরে ঢোকা মৃদ্য বাতাসগুলো কেমন যেনো একটা হাহাকার পরিবেশ তৈরী করে দিয়েছে। দরজায় তখন ধ্বসনামা চেহারার আরাফাতকে দেখে পথ ছেড়ে দেয় স্নিগ্ধতা। ক্লান্ত দেহটাকে নিয়ে চুপচাপ ভেতরে ঢোকে আরাফাত। বসে পরে সোফায়। তারপর স্নিগ্ধতা আর কিছুই বলেনি। নাইবা আরাফাত কিছু বলেছে। অনেকটা সময় পর মাথা তুলে স্নিগ্ধতার দিকে তাকালো ও। রঙ শুকানো কড়কড়ে হাতে ওড়না মুঠো করে নিলো স্নিগ্ধতা। আরাফাতের চোখ চিকচিক করছে। স্নিগ্ধতার দিকে তাকিয়েই, হাতে থাকা একটা কাগজ সেন্টার টেবিলে রাখলে ও। শীতল কন্ঠে বললো,
– তুমি এইচআইভি পজিটিভ নও স্নিগ্ধতা।
স্নিগ্ধতা চুপ। ওর দৃষ্টি সেন্টার টেবিলের কাগজটায়। আরাফাত জবাব না পেয়ে আবারো বললো,
– রিপোর্টটা নকল ছিলো।
…
– তুমি মিথ্যে বলেছিলে আমাকে।
…
– জবাব দেবে না স্নিগ্ধতা? নাকি এটা বলবে যে আমিই মিথ্যে বলছি?
– আপনি ডক্টর জেনেলার কাছে গিয়েছিলেন?
শান্তশিষ্ট আওয়াজে প্রশ্ন করলো স্নিগ্ধতা।আরাফাত শব্দ করে হেসে দিলো। স্নিগ্ধতা স্থিরচোখে দেখলো ওর হাসিটা। আরাফাত উঠে দাঁড়িয়ে বললো,
– সেটাই তো! বাংলাদেশের কোনো ডক্টরের রেফারেন্সড্ রিপোর্ট তো তুমি দাওনি আমাকে। দিয়েছো নরওয়েতে থাকা ডক্টর জেনেলার রেফারেন্স। তাহলে আমি কি করে সত্যিটা জানলাম? অবাক হয়েছো তাইনা?
…
– তোমার এইচআইভি পজিটিভ শুনেও তোমার জন্য আমি ইহজনম পাড়ি দিতে রাজি হয়েছিলাম স্নিগ্ধতা। ডক্টর জেনেলার খোজে নরওয়ে যাওয়া সেখানে তুচ্ছ নয়কি?
স্নিগ্ধতা শ্বাস ফেললো। মিথ্যের বেড়াজাল যে চিরস্থায়ী না, আজ আবারো তা প্রমাণ হয়ে গেলো। আরাফাত সেন্টার টেবিল ঘুরে এসে ওর পাশে দাড়ালো এবারে। বললো,
– তুমি কেবলমাত্র আমাকে তোমার থেকে দুর করবে বলে ডক্টর জেনেলার কাছ থেকে ভুয়া এইচআইভি রিপোর্ট করিয়েছো স্নিগ্ধতা?
…
– জবাব দাও স্নিগ্ধতা? আমাকে তোমার জীবন থেকে থেকে দুর করার এতোবেশি দরকার ছিলো? এতোবড় মিথ্যে বলে হলেও?
– যখন আমি জানি, সত্যি বলে আপনাকে দুরে সরাতে পারবো না, তখন মিথ্যের আশ্রয় নেওয়া ছাড়া অন্যকোনো উপায় চোখে পরেনি আমার মিস্টার আরাফাত।
স্নিগ্ধতা স্পষ্ট জবাব দিলো। আকস্মিকভাবে আরাফাতের চেহারাজুড়ে অসহায়তা নেমে এলো এবার। তবুও ও চোখমুখে দৃঢ়তা বললো,
– কেনো?
– আপনাকে ভালোবাসিনা তাই।
স্নিগ্ধতা ওর চোখে চোখ রেখে কথাটা বললো। আরাফাত কেবল হাত মুঠো করে নিলো নিজের। কেনো প্রশ্নের উত্তরে স্নিগ্ধতার এই ভালোবাসিনা কথাটা বহুবার শুনেছে ও। বহুবার ওকে ফিরিয়ে দিয়েছে স্নিগ্ধতা। আর আরাফাত প্রতিবার নিজেকে চুর্ণ বিচুর্ণ করে বিকিয়ে দিয়েছে এই শব্দগুলোর মাঝে। তবে আজকে ও অন্যকিছুর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করলো। প্রতিবার এই কথাতে থেমে থাকা আরাফাত আজ আর থামলো না। পাল্টা প্রশ্ন করে বসলো আজ ও। বললো,
– তাহলে কাকে ভালোবাসো?
স্নিগ্ধতা এবারে বিস্মিত হলো। আরাফাতের কথায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ও টের পেয়েছে স্নিগ্ধতার জীবনে অন্যেকেউ আছে। আরাফাত একপা এগিয়ে আবারো বললো,
– তুমি আমাকে ভালোবাসো না। তাহলে কাকে ভালোবাসো স্নিগ্ধতা? আমি জানতে চাই সে কে।
স্নিগ্ধতা কিছু বলতে যাবে, আরাফাত অপেক্ষা করেনি ওর উত্তরের জন্য। হঠাৎই বেপরোয়াভাবে সেন্টার টেবিলের ওপর থাকা কাচের ছোট ফুলদানিটা ফেলে দিলো। শব্দ করে ভেঙে গেলো ওটা। চমকে উঠলো স্নিগ্ধতা। বললো,
– এমন…নিজেকে সামলান মিস্টার আরাফাত!
– সামলেই আছি। তোমার সামনে ভায়োলেন্স ক্রিয়েট করার ইচ্ছে আমারো নেই স্নিগ্ধতা। সে ইট।
– স্টে ইন ইওর লিমিটস্ মিস্টার আরাফাত। আমি আপনাকে উত্তর দিতে বাধ্য নই। আ্ আর আপনি এখন আসুন। ভাইয়া বাসায় নেই।
– আই নো মাই লিমিটস্ ভেরি ওয়েল। তবে তোমার উত্তর ছাড়া আজ আমি যাবো না এখান থেকে। বলো। কে সে?
স্নিগ্ধতা একপলক আরাফাতের দিকে তাকালো। তারপর তাকালো ওর নিজের ঘরের দিকে। রুমের দরজা খোলা। দরজার পর্দা বাতসে মৃদ্যু নড়াচড়া করছে। আর তার ফাকফোকরে বরাবর থাকা ক্যানভাসটা চোখে পরে। স্নিগ্ধতাকে সেদিক তাকিয়ে থাকতে দেখে আরাফাতও ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো সেদিকে। পর্দার আড়ালে আধোআধো ছবিটা দেখে হাত পা ক্রমশ থেমে আসতে লাগলো ওর। একপা একপা করে এগোতে লাগলো ও ঘরের দিকে। দরজায় দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে পর্দার নড়চড় থামালো আরাফাত। এবারে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হলো পুরো ছবিটা। সাদা শার্ট পরিহিত প্রতিবিম্বটা চেনা ওর। ছবিতে সে ডানহাতে বা হাতার কবজির কাছের বোতাম লাগানোতে ব্যস্ত। দৃ্ষ্টি সেদিকেই। ছবিটা এতোটাই নিখুত যে বোঝাই যাচ্ছে, অনেক যত্ন করে ক্যানভাসে সাজানো হয়েছে তাকে। কিন্তু আরাফাতের মনে হলো ছবির অবয়ব যেনো ওর দিকে চোখ তুলে তাকালো। অমায়িক একটা হাসি দিয়ে বলে উঠলো, ‘আবারো তুই আর তো চাওয়ার মাঝে আমি আরাফাত। ইয়াকীন শারাফ।’ আরাফাতের মাথা যেনো ফাকা হয়ে গেছে। দুহাতে চুলগুলো উল্টে ধরে দিশেহারার মতো এপাশ ওপাশ করলো ও কয়েকবার। স্নিগ্ধতা বললো,
– ই্ ইনি…
ওকে শেষ করতে দেয়নি আরাফাত। ও একবার ছবিটার দিকে তাকাচ্ছে, একবার চারপাশে তাকাচ্ছে। এমন করতে করতেই স্নিগ্ধতার তুলির প্লেটটা ফেলে দিলো ও। দু পা পিছিয়ে গেলো স্নিগ্ধতা। ও বেশ বুঝছে, আরাফাতের অবস্থা স্বাভাবিক নয়। ভীতিগ্রস্ত স্বরে বললো,
– মিস্টার আরাফাত! আপনি…
আরাফাতের যেনো কানেই যাচ্ছে না কিছু। কি হলো ওর, ক্যানভাসের ছবিটাও টান মারতে যাচ্ছিলো ও। কিন্তু হঠাৎই একটা দৃঢ় হাত এসে ওর হাতকে থামিয়ে দিলো। থমকে গেলো চারপাশ। হাতের মালিক নির্লিপ্ত গলায় বলে উঠলো,
– এই ছবি স্নিগ্ধতার মনে আঁকা হয়ে গেছে আরাফাত। সেখানে কোনো রূঢতা দেখানোর চেষ্টা করিস না প্লিজ।
স্তব্ধ হয়ে গেছে পারিপার্শ্বিক। বিস্ফোরিত চোখে পাশে তাকালো স্নিগ্ধতা। আরাফাতের হাত থামিয়ে দিয়ে শারাফ দাড়িয়ে। ওর চেহারার ভঙিমা অদ্ভুত। সেখানে ঠিক খুজে পাওয়ার সুখ নাকি হারানোর বিষাদ, সেটা বুঝতে পারলো না স্নিগ্ধতা। আরাফাত নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতে যাবে, রীতিমতো গায়ের জোর খাটিয়ে ওকে জরিয়ে ধরলো শারাফ। স্নিগ্ধতার বিস্ময় কেবল বাড়ছেই। শারাফ আরাফাতকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছে। ও নড়ছে না। তবে শান্তশীতল গলায় বললো,
– আমাকে ছাড় শারাফ।
স্নিগ্ধতা শারাফের দিকে তাকালো। তার ছাড়ার নাম নেই। বরং এমনভাবে আরাফাতকে জড়িয়ে, চোখ বন্ধ করে আছে, যেনো কতো মুল্যবান হারানো জিনিসটা ফেরত পেয়েছে ও। আরাফাত আবারো বললো,
– শারাফ আমাকে ছাড়!
শারাফ ছাড়লো না। এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো আরাফাত নিজেই। টাল সামলাতে শারাফ দুপা পিছিয়ে গেলো। কিছু বলতে যাবে, আরাফাত তাচ্ছিল্যে হেসে বললো,
– আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো। এ পৃথিবীতে, আমার সব চাওয়ার মাঝে কেবল একজনই আসতে পারে। আর সেটা তুই। ইয়াকীন শারাফ।
– আমিও জানতাম। এই পৃথিবীতে আমার ভালোলাগার প্রতিটি জিনিসে একজনের আসক্তি জুড়ে যাওয়া আবশ্যক। তোর! তবে কখনো এটা ভাবিনি, সেই ভালোলাগা শব্দটা ভালোবাসায় বদলে গেলেও তুই মানুষটা কখনোই বদলাবি না। ঠিক আগের মতোই আছিস আরাফাত।
প্রথমবারের মতো শারাফের মুখে এই তিক্ত সত্যটা শুনে আরাফাত যেনো নিজেকে সামলাতে ব্যর্থ হলো এবারে। তেড়ে গিয়ে অকস্মাৎ কলার চেপে ধরলো শারাফের। আৎকে উঠে, মুখ চেপে ধরে আরো দুপা পিছিয়ে গেলো স্নিগ্ধতা। কিন্তু শারাফ প্রতিক্রিয়াবিহীন। শুধু বললো,
– কেমন আছিস?
– কেমন আছি? তুই আমাকে জিজ্ঞেস করছিস আমি কেমন আছি?
– তোকে আজও আমি আমার বন্ধু ভাবি আরাফাত। তুই…
– বন্ধু? চ্যাহ! তোর বন্ধুত্ব চাইনা আমার! তুই শুধু এটা বল, আর কতোবার তুই আমার চাওয়ার মাঝে আসবি? কতোবার কতোভাবে আমার আর আমার সুখের মাঝে বাধা হয়ে দাড়াবি তুই? কতোবার?
স্নিগ্ধতা দুজনের দিকে তাকিয়ে কেবল বোঝার চেষ্টা করছে সবটা। আরাফাত এমনভাবে কথা বলছে, যেনো শারাফ কোনো বড় দোষে দোষী। শারাফও ওর কথা মেনে নিচ্ছে চুপচাপ। আরাফাতের বলা শেষে শারাফ সময় নিয়ে বললো,
– তোর ঠিক কোন চাওয়ায় আমি বাধা হয়ে ছিলাম?
আরাফাতের হাতের জোর কমে আসলো। ও কলার ছাড়লো শারাফের। শারাফ নিজের বুকের দিকে শার্টের ভাজপরা জায়গাটা দেখে নিলো একবার। আজ আরাফাতের জায়গায় যে কেউ থাকলে, নিজের অন্যরুপটাই দেখাতো ও। আগেরদিন ক্যাম্পাসে স্নিগ্ধতা ওভাবে জ্ঞান হারিয়েছিলো বলে ওকে দেখতে ওর বাসায় চলে আসে শারাফ। কিন্তু আসার পর মুল দরজা খোলা, ড্রইংরুমে ভাঙা ফুলদানী দেখে ঘাবড়ে যায় অনেকটা। এরপর যখন আরাফাত স্নিগ্ধতার তুলির প্লেটটা ফেলে দেয়, ঠিক তখনই ঘরে ঢোকে ও। আরাফাতের এই অস্বাভাবিক ব্যবহারটা ওর কাছে অপ্রত্যাশিত লাগেনি। স্নিগ্ধতার সামনে ওর ভরকে যাওয়ার মতো ব্যবহারটা অন্যেকেউ করলে হয়তো মেনে নিতে পারতো না শারাফ। কিন্তু আজ এই অন্যকেউটা আরাফাত। ভার্সিটিতে চারবছর জুড়ে থাকা সবচেয়ে ভালো বন্ধু। শারাফ আরাফাতের চোখের দিকে তাকিয়ে বললো,
– সত্যি করে বলতো? আমার জন্য ঠিক কোন সুখটা তোর হয়নি?
…
– বল আরাফাত? আমি শুনতে চাই!
আরাফাত স্নিগ্ধতার দিকে তাকালো। বললো,
– কোথায় কোথায় বাধা হয়ে ছিলি, সেসব তোর অজানাই থাক। তবে একটা কথা জেনে রাখ শারাফ। যতোকিছুই হয়ে যাক না কেনো, তোর জন্য আমি আমার কোনো সুখকে না পাওয়ার করে রাখিনি। আর ভবিষ্যতেও রাখবো না।
শারাফ চুপ রইলো। আরাফাত এবারে স্নিগ্ধতার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বললো,
– যাইকিছু ঘটে যাক না কেনো, একদিন না একদিন তোমাকে আমার হতে হবে স্নিগ্ধতা। স্বেছায়।
…
– তবে চিন্তা করোনা। সেদিন আমি ফেরাবো না তোমাকে। আরাফাত কখনো নিজের কথার খেলাপ করে না। দ্যাট ডে, আ’ম গোয়িং টু লাভ ইউ ইন দ্যা সেইম ওয়ে।
– আমাদের ডিপার্টমেন্টাল কাবাডি প্রিমিয়ারের কথা মনে আছে আরাফাত?
শারাফের কথায় ওর দিকে তাকালো আরাফাত-স্নিগ্ধতা। শারাফ এগোলো। ওদের দুজনের মাঝামাঝি দাড়িয়ে আরাফাতকে বললো,
– একমাত্র সেখানেই আমরা দুজন দুজনের অপোনেন্ট ছিলাম। মনে আছে? সেখানের সবচেয়ে মজার যেটা ছিলো, তুই জানতি কখন আমার ক্ষেত্রে এটাকিং হতে হবে, আর আমি জানতাম কখন আমাকে ডিফেন্ড করতে হবে। তুই প্রতিবার আঘাত করতি, আমি প্রতিবার ডিফেন্ড করে দম ছাড়ার আগেই ছেড়ে দিতাম তোকে। মনে আছে?
আরাফাত জবাব দিলো না। শারাফ নিজের কলারের ভাজপরা জায়গাটায় হাত বুলিয়ে ঠিক করে নিলো ভাজটা। তারপর প্যান্টের পকেটে দুহাত গুজে, আরামে দাঁড়িয়ে বললো,
– তোর বোধহয় সেই আঘাত করার মনোভাবটা বদলায়নি তাইনা?
একটু থামলো শারাফ। এবার ওর স্বর বদলালো। আরাফাতের দিকে আরেকপা এগিয়ে নিচু গলায় বললো,
– তবে আমার বদলটা শুনে রাখ আরাফাত। আমার আঘাতের জায়গাটা, দুর্বলতার জায়গা বদলেছে। সেটা ভালোবাসা শব্দ দিয়ে স্নিগ্ধতার সাথে জুড়ে গেছে। আমরা ভালেবাসি একে অপরকে। আমি স্নিগ্ধতাকে। আর স্নিগ্ধতা আমাকে। এখানে আমার কোনো দ্বন্দ চাইনা আরাফাত। প্লিজ!
আরাফাত কিয়দক্ষন তাকিয়ে রইলো ওর দিকে। আরেকবার স্নিগ্ধতাকে দেখে নিয়ে, বেরিয়ে গেলো বাসা থেকে। ও চোখের আড়াল হলে, একটা বৃহৎ শ্বাস ছাড়লো শারাফ। সবচেয়ে আপন ভাবা বন্ধুটার সাথে আজ ও যে ব্যবহারটা করেছে, ভাবতেই ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে ওর। স্নিগ্ধতা আস্তেধীরে এগোলো ওর দিকে। নিভুপ্রায় স্বরে বললো,
– যে যাই কিছু বলুক, করুক না কেনো, বিশ্বাস করুন শারাফ, আমি আপনাকে ভালোবাসি। আমার জীবনে আমার কেবল আপনাকে চাই। অন্য কাউকে নয়।
শারাফ এগোলো। একহাতে স্নিগ্ধতার মাথা ধরে, কপালে চুমো দিলো ওর। আস্তে করে ওর বুকে মাথা ঠেকালো স্নিগ্ধতা৷ শারাফ একহাতে জড়িয়ে ধরলে ওকে। বললো,
– জানি। আর তুমিও জেনে রাখো, আমি তোমাকে ভালোবেসেছি স্নিগ্ধতা। অন্যায় করে হলেও তোমার সাথে কোনো অন্যায় হতে দেবো না। নিশ্চিন্ত থাকো।
স্নিগ্ধতা নিঃশ্বাস ছাড়লো। এভাবে কেবল শারাফই আগলে নিতে জানে ওকে। ঠিক সাইফের মতো। ও এটাও জানে, আরাফাতের ভালোবাসায় খুত ছিলো না। কিন্তু নিখুত বিষয়টা ওর সাথে বেমানান। নিজেকে স্বেচ্ছায় কলঙ্কের নামে বিকিয়েছে ও। ওকে সেই কলঙ্কিত চন্দ্রিমার সাজই মানায়। যা শারাফের ভালোবাসায় প্রসংশিত হবে, নন্দিত হবে। চিরাচরিত কথামাল্যে সে কাব্যের নামকরন হবে, *নন্দিত চন্দ্রকলঙ্ক*
#চলবে…

