নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা ৬০.

0
2

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা

৬০.

বিকেলের শেষভাগ। আবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বসে বেশ মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। মাথার ঠিক ওপরে ফ্যান চলছে ওর। তারপরও কপাল বেয়ে ঘাম গরালো বেচারার৷ যে কেউ দেখলে মনে করবে হয়তো খুবই গুরুতর বিষয় পড়ছে ও। অথচ কাছে শিরোনামে গেলে যা মিলবে, ষষ্ঠ শ্রেনীর সাধারণ গণিত। অবশ্য শুধু যে আবিরের এই হাল, তা নয়। রেজাল্টের দাপটে স্কুল-কলেজ কাপিয়ে বেড়ানো ছেলেমেয়েগুলো সব খেয়ে না খেয়ে ওইসব প্রশ্নোত্তর পর্বের জন্য মস্তিষ্কে ধার দিচ্ছে। আবির কলম থামালো। বেকারত্ব নামক বোঝাটা কাধ থেকে নামতেই চাইছে না যেনো। দুপুরে দুমুঠো খেয়েই লাইব্রেরিতে চলে এসেছে ও। পড়তে পড়তে খাতার ওপর কলমের অত্যাচারে হওয়া খচখচ শব্দটাও প্রচন্ড বিরক্তিকর লাগছে ওর এখন। মাথাটা চারদিক ঘুরিয়ে চেয়ারের পেছনে এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলো আবির। ঘাড়-কাধে ব্যথা হচ্ছে হালকা। হঠাৎই অনুভব হলো, কেউ ওর ঘাড়ের পাশটায় হাত বুলাচ্ছে। চোখ মেলে আবির। ওর পেছনে সুন্দর একটা হাসিসমেত শারাফ দাড়ানো। আবিরের ঘাড় টিপে দিচ্ছিলো শারাফ৷ গাঢ় খয়েরী রঙা ইন করা শার্ট পরনে ওর। গুটানো বড় হাতা, কালো বেল্টটা আর ধুসর প্যান্ট। একদমই ফর্মাল দেখাচ্ছে শারাফকে। আবির হেসে হাত ধরলো ওর। টেনে পাশের চেয়ারে বসাতে বসাতে বললো,

– কখন এলি?

– সবেই।

বসতে বসতে বললো শারাফ৷ আবির নিজের ঘাড় ডলতে লাগলো। শারাফ হাতের খামটা টেবিলে রেখে আশপাশ দেখে নিলো একবার। তারপর আবিরের পকেট থেকে লাইব্রেরি কার্ডটা নিয়ে, বইগুলো লাইব্রেরিয়ানকে দেখিয়ে সেগুলো রেখে দিলো ঠিকঠাকমতো। ফিরে এসে আবিরকে ইশারা করলো ওঠার জন্য। মানে খেতে যাবে ওকে নিয়ে। আবির বারন করলো না। শারাফের কাজকর্ম নিয়ে অবগত ও। দুজনে মিলে বেরিয়ে আসলো লাইব্রেরি থেকে। বাইরে বেরিয়ে আবির বললো,

– তোর তো আজ ক্যাম্পাসে আসার কথা ছিলোনা। এসময় আসলি যে?

– মিটিং ছিলো ভিসি স্যারের সাথে। ছোটবাবা ডেকেছিলো।

– কি বিষয়ে?

– তারা সাইকোলজির লেকচারার হিসেবে জয়েন করতে বলছেন আমাকে।

– ফাইনালী জয়েনের জন্য ডাকলো তোকে? জোশ! কনগ্রাটস ইয়ার! বিয়ে, জব দুইটা একসাথে লেগে গেছে তোর!

আবির উত্তেজনা নিয়ে বললো। শারাফের বুঝতে অসুবিধা হলো না, সে হাসিতে সুখের সাথে চাপা কষ্টও আছে। গলায় গলা মিলিয়ে চলা বন্ধুটি বিদেশে পড়াশোনা করে, দেশীয় থেসিস শেষ করে ভার্সিটির টিচার হতে চলেছে, সেখানে ওর নামের পাশে এখনো বেকারত্ব। তবুও শারাফ গলা স্বাভাবিক রেখে বললো,

– এতো এক্সাইটেড হওয়ার কিছু নেই। আমি মুলত স্যারকে না করতে এসেছিলাম।

আবির যেনো আকাশ থেকে পরলো। চেচিয়ে বললো,

– মানে? না করতে এসেছিলি মানে?

– মানে আমি এ মুহুর্তে লেকচারার হিসেবে জয়েন করতে চাইছি না।

– কেনো?

– আমি ক্লাসেক্লাসে লেকচার দেওয়ার জন্য সাইকোলজি পড়িনি আবির। হিউম্যান সাইকোলজি এন্ড মাইন্ড এসবের প্রতি যে ঝোঁকটা ছিলো, সাইকোলজিতে এসে সেটাকে একটা একাডেমিক নাম দিয়েছি শুধু।

– হ্যাঁ সেটা জানি। কিন্তু তাইবলে তুই এতোভালো অফারটা…

– এখন পড়াশোনা যখন করেছিই, বেকার থাকতে হবেনা আশা করি। জীবন চালানোর জন্য যেটুক টাকাপয়সা দরকার, তার ব্যবস্থা হয়েই যাবে একরকমভাবে। শো, কনসাল্টেশন সেন্টার, পুলিশ কেইস স্টাডি এগুলোতে আগ্রহের সাথে কাজ করছি, করবো। আই ডোন্ট থিংক কোনো সমস্যা হবে। আর যেটা সবচেয়ে বড় ফ্যাক্ট, নিয়ম করে হাজিরা দেওয়ার মতো কোনো কাজে আমি জড়াতে চাইছি না আপাতত।

হাটতে হাটতে থেমে যায় আবির। শারাফ কয়েকপা এগিয়েছিলো একাই। আবিরকে না দেখে থামে ওউ। পেছন ফিরে তাকায়৷ আবির তীব্র সন্দিহান নজরে তাকিয়ে বললো,

– কি করতে চাইছিস তুই শারাফ?

– খাবো চল!

বলে শারাফ বড়সর একটা হাসি দিলো। আবিরের কাধ ধরে ওকে সাথে নিয়ে হাটা লাগালো। আবির কথা বাড়ালা না। অবিশ্বাস্য চাওনিতে তাকিয়ে রইলো বন্ধুর দিকে। কোনো একদিন শারাফ ওর কাছে বোধগম্য হবে এমনটা আশা রেখে পা বাড়ালো ওর সাথে।

রাত এগারোটা৷ স্নিগ্ধতা বিছানার ওপর উপুর হয়ে শুয়ে ল্যাপটপ ঘাটছে। অনুকে ম্যাসেজ করছিলো মুলত। আজকে ক্যাম্পাসে যায়নি বলে ওর সাথে দেখা হয়নি। স্নিগ্ধতা ম্যাসেজে জানতে পারলো পরেরদিন হলে চলে যাচ্ছে অনু৷ কথা বলতে বলতেই শারাফের ম্যাসেজ আসে একটা। ‘রিসিভ দ্যা কল’ স্নিগ্ধতা বিছানা হাতড়ে ফোন খুজে বের করে দেখে শারাফের দুটো কল। জিভ কামড়ে ফোনের সাইলেন্ট মোড ঠিক করে। তৃতীয়বার রিং হলে ফোনটা রিসিভ করলো ও। ওপাশ থেকে শারাফ বললো,

– ব্যস্ত তুমি?

– ন্ না। ফোনটা সাইলেন্ট ছিলো।

– ব্যাপার না। আচ্ছা? তোমাদের বাসায় এতো মশা, আগে বলোনি তো?

স্নিগ্ধতা লাফিয়ে বালিশের ওপর উঠে বসলো। বড়বড় চোখ করে হয়রান হয়ে বললো,

– আমাদের বাসায় মানে?

– আইমিন তোমাদের বাসার ব্যাকসাইডের বাগানে।

এটুক শুনেই তড়িৎগতিতে বারান্দাতে ছুট লাগায় স্নিগ্ধতা। ওর সন্দেহ ভুল নয়। সত্যিই সেপাশে শারাফ দাড়িয়ে। হাত নাড়িয়ে হাই বুঝাচ্ছে সে। স্নিগ্ধতা স্তব্ধ। শারাফ ফোন কেটে খালি গলায় বললো,

– তারপর বলো, তোমাকে কি গ্রিল কেটে বের করবো? নাকি নিজেনিজেই সদর দরজা দিয়ে বেরোবে?

স্নিগ্ধতা তেমনই বিস্মিত। বিমুঢ়। অবিন্যস্ত কন্ঠে বললো,

– তুমি এখানে কেনো?

– খুব শখ ছিলো পুলিশের বোনের সাথে লুকিয়ে চুরিয়ে তুমুল প্রেম করবো। কে জানতো তোমার ভাই এতোদ্রুত পটে যাবে? লোকটা রীতিমতো আমার সব শখ ভাঙচুর করে দিলো।

– বি সিরিয়াস শারাফ! এতোরাতে কেনো এসেছো? আর এখানে…ভাইয়াকে বললেই তো ভেতরে…

– ক্যাম্পাস যাওনি কেনো আজ?

স্নিগ্ধতা চুপ। শারাফ বললো,

– মৌনতা অপরাধীর লক্ষণ। এখন অপরাধ করেছো, যা বলছি, তাই করতে হবে তোমাকে। এটা তোমার শাস্তি। বেরোও।

– তুমি…

– তোমার লাভ বাইটের পাওয়ার আগে মশার বাইটে অক্কা পেতে চাইনা হবুবউ। রেহেম কারো।

বিস্ফোরিত চাওনিতে তাকিয়ে রইলো স্নিগ্ধতা। শারাফ ইশারায় আবারো বেরোতে বললো ওকে। হতাশ শ্বাস ত্যাগ করে, মাথার ওপর ওড়নাটা তুলে দিয়ে রুম থেকে বেরোলো স্নিগ্ধতা। উকি দিয়ে সাইফের রুমের দিকে তাকালো। সেখানে তখনও আলো জ্বলছে। মানে ঘুমোয়নি সাইফ। আস্তেধীরে পা ফেলে বাসা থেকে বেরিয়ে আসলো ও। চারপাশে দেওয়াল তুলে দেওয়া বাসার পেছনদিকটায় আলোর খুব একটা অভাব নেই। স্নিগ্ধতার রুমের লাইটই বারান্দা দিয়ে বাইরে আসে। স্নিগ্ধতা এসে দেখে শারাফ পা থাপড়াচ্ছে। মশার কামড়। এগিয়ে এসে ফিসফিসিয়ে বললো,

– এভাবে চলে আসা আবশ্যক ছিলো? মানেহ…

ঠিক তখনতখনই লোডশেডিং হয়ে যায়। চমকে উঠে সামনে হাত বাড়ায় স্নিগ্ধতা। ভীত হয়ে শারাফের বুকের দিকের শার্ট খামচে ধরেছে ও। শারাফ মোবাইলের টর্চ অন করলো। বুকের দিকে শার্ট মুচড়ে ধরে রাখা হাতজোড়া দেখে নিয়ে আলো স্নিগ্ধতার দিকে ফেরালো ও। স্নিগ্ধতার চোখেমুখে ভয়। আতংকে ওর গলার রগগুলোও দৃশ্যমান। অফ হোয়াইট থ্রিপিসের ছোটছোট আয়নায় মোবাইলের আলোর প্রতিফলন হচ্ছে। শারাফ ওর হাতের ওপর হাত রেখে বললো,

– আমি আছি স্নিগ্ধতা।

স্নিগ্ধতা শ্বাস ফেললো। শুকনো ঢোক গিলে নমনীয় করলো হাত। স্বাভাবিক করলো নিজেকে। তবে শারাফ ওর হাত ছাড়লো না। মোবাইলের আলোতে স্নিগ্ধতাকে নিয়ে কয়েকপা এগোলো। সেখানে আগে থেকেই বোন ফায়ারের কাঠ সাজানো ছিলো। লাইটার দিয়ে সেটা জ্বালিয়ে দিলো শারাফ। তারপর হাত ছেড়ে দিলো স্নিগ্ধতার। স্নিগ্ধতা গলা ঝেড়ে বললো,

– এক্ষুনি ভাইয়া ডাক লাগাবে আমাকে। তারপর রুমে না পেয়ে পুরো বাসা উথালপাতাল করবে। ভালো লাগবে ব্যাপারটা?

শারাফ হেসে বললো,

– না না। উনি এখন ডাকবেন না তোমাকে। কেইস নিয়ে ব্যস্ত আছেন। রুমে টর্চলাইট জ্বলছে। কল করে কুশল বিনিময় শেষে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ঘুমোবেন কখন, বললো দেরি হবে৷ তুমি নিশ্চিন্তে প্রেম করো। তোমার রুমে উনি তিনটের আগে যাচ্ছেন না।

স্নিগ্ধতা জবাব খুজে পেলোনা আর৷ শারাফ পকেটে দুহাত গুজে আরামে দাড়ালো। স্নিগ্ধতা অস্বস্তি নিয়ে দাড়ানো। শারাফ ঘাড় কাৎ করে বললো,

– মুহুর্তগুলো থেমে গেলে বেশ হতো বলো? তুমি এমন লজ্জায় দৃষ্টি সরিয়ে রাখো, আর আমি নির্লজ্জ তোমাতে দৃষ্টি স্থির রাখি৷

স্নিগ্ধতা চোখ তুলে তাকায়৷ শারাফ স্পষ্ট দেখলো, ওর চোখজোড়া চিকচিক করছে। স্নিগ্ধতা ভরাট কন্ঠে বললো,

– ইউ আর এলাউড শারাফ।

শারাফ অন্যদিক তাকিয়ে আবারো নিশব্দে হেসে দিলো। তারপর একজোড়া ব্লুটুথ হেডফোনের একটা নিজের কানে, আরেকটা স্নিগ্ধতার কানে গুজে দিলো। আলতোকরে স্নিগ্ধতার একহাত ধরে, আরেকহাতে কোমড় জড়িয়ে ধরলো ওর। কাছে টেনে নিতেই স্নিগ্ধতার বড়বড় প্রশ্বাসের আওয়াজ শুনতে পেলো যেনো। দুজনের কানের হেডফোনে তখন ‘ইয়ে রাতে, ইয়ে মোসাম’ গানটা। মৃদ্যুছন্দে হেলেদুলে গানে তাল মেলালো দুজনে। শিহরন পেরিয়ে, স্নিগ্ধতার ঠোটে লাজুক হাসি জায়গা নিলো। গান শেষ হবার পরেও চোখ বন্ধ করে কপালে কপাল ঠেকিয়ে ছিলো ওরা দুজনে। যেনো সব অনুভবেরা মিশে একাকার। শারাফের হাতঘড়ি বিপ শব্দ দিলো একবার। দুজনেই চোখ মেলে তাকায়। বাস্তবতা মনে করেয়ে দেয়, মাঝরাতে বোনফায়ারের নিভুপ্রায় আগুনের পাশে দাড়ানো ওরা দুই মানব-মানবী তখন সব লাজলজ্জা প্রেম রটছে৷ শারাফ আলতোকরে দুগাল ধরে স্নিগ্ধতার। পুরো শরীর ঝাকি দিয়ে উঠলো স্নিগ্ধতার। হৃদপিন্ডটা এতোক্ষণ দ্রুতগতির থাকলেও এবার হঠাৎ লাফিয়ে বের হয়ে আসতে চায় যেনো। শারাফ ওর কপালে ঠোঁট ছোয়ায়। স্বগতিক স্বরে বলে ওঠে,

– হ্যাপি বার্থডে স্নিগ্ধতা। এন্ড আই লাভ ইউ।

স্নিগ্ধতার চোখ নিমিষেই ছলছল করে উঠলো। শারাফের মনে হলো, ওর উজ্জল তারার চোখগুলো হয়তো অনেককিছু বলতে চাইছে। তারপরও একবর্ণ না বলে, স্নিগ্ধতা কেবল নিরবে মুখ গুজলো ও শারাফের বুকে। হয়তো সে মুহুর্তটাকেই বলা হয়, চুপ, মুহুর্ত চুপ!

– কাল থেকে তারেককে পাওয়া যাচ্ছেনা স্যার।

ফোনের ওপাশ থেকে কথাটা শুনে, উচ্চস্বরে ‘হোয়াট?’ বলে টেবিল থেকে উঠে দাড়ালো সাইফ। ল্যাপটপ ছেড়ে চমকে উঠে ওরদিক তাকালো অগ্নীলা। সাইফ শক্তকন্ঠে ফোনে বললো,

– হোয়াট ডু ইউ মিন বাই তারেককে খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা? টুয়েন্টি ফোর সেভেন ওরওপর নজর রাখতে বলেছিলাম তোমাকে!

– স্ স্যার আমি নজরে রেখেছিলাম তাকে। ইভেন লাস্টটাইম যখন সে বাসা থেকে বের হয়, আমিও ছিলাম তার পিছুপিছু। কিন্তু আচমকা গাড়িটা হারিয়ে ফেলি তার। আর…

সাইফ চোখ বন্ধ করে বড়সর দম নিলো। সময় নিয়ে বললো,

– ওর বাসা থেকে কোনো মিসিং কমপ্লেইন করেনি?

– না স্যার। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম তার মিসেসকে। জব ট্রিপের জন্য বাইরে যাচ্ছে এমন বলে তাকে নাকি টেক্সট করেছে তারেক।

সাইফের কপাল শিথিল হয়। শীতলস্বরে বলে,

– ওকে লাস্ট কোথায় দেখা গিয়েছে খোজ লাগাও। লোকেশন সেন্ড করো আমাকে।

কল কেটে চেয়ারে বসে গেলো সাইফ। কপাল চেপে ধরে চোখ বন্ধ করে রইলো। একটুপরে পাশে কারো উপস্থিতি অনুভব করলো ও। ওভাবে বসে থেকেই বললো,

– কেইসটার জন্য আমি কি তোমাদেরও স্ট্রেস দিতে শুরু করেছি নীলা?

অগ্নিলা আরো এগিয়ে সাইফের কাধে হাত রাখলো। বললো,

– না সাইফ। নিজেকে দোষ দিওনা প্লিজ। তুমি তোমার দায়িত্বপালনে কোনোদিনও কমতি রাখোনি।

সাইফ চোখ তুলে সামনে টেবিলে তাকালো। টেবিলক্লকে রাত সাড়ে তিনটা বাজছে। পাশের ডেস্ক ক্যালেন্ডারটা মুহুর্তেই ব্যক্তিগত জীবনের অনেককিছু মনে করিয়ে দিলো ওকে। আজকে স্নিগ্ধতার জন্মদিন, দুদিন পর গায়ে হলুদ, আর তার পরপরই, বিয়ে। যদিও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে কোনোদিন গুরুত্ব দেয়নি ও। তবে আজ প্রথমবার ওর ভয় হচ্ছে। হতে চলা কোনো ভয়া’নক কিছুর আভাস নিয়ে ভয় হচ্ছে ওর…

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here