নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা ৫৯.

0
2

#নন্দিত_চন্দ্রকলঙ্ক
লেখনীতে : মিথিলা মাশরেকা

৫৯.

– আরাফাতকে নিজহাতে কার্ড দিতে আসার কি খুব দরকার ছিলো টুকি?

আরাফাতের বাসার সামনে এসে গাড়ি থামালো সাইফ। ফ্রন্ট সিটে বসা স্নিগ্ধতা যেনো পাথর। পুরোটা পথ এভাবেই সামনে তাকিয়ে বসে ছিলো ও। টু শব্দটাও করেনি। এবারে স্নিগ্ধতা মুখ দিয়ে শ্বাস ফেললো। ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললো,

– তার কাছে আমার ক্ষমা চাওয়ার আছে ভাইয়া।

– তুই তো কোনো দোষ করিসনি। ভালোবাসতে না পারাটা কোন দোষ না।

– কিন্তু মিথ্যে বলা দোষ!

– মানে?

সাইফের চোখেমুখে বিস্ময়। স্নিগ্ধতা দৃষ্টি নামিয়ে নিলো। মৃদ্যুস্বরে বললো,

– কিছুনা। আমি শুধু জানি আমি তার দোষী। তার কাছে ক্ষমা না চাইতে পারলে আমি…

– একবারো এটা ভাবলি না, তুই বিয়ের কার্ড নিয়ে এসেছিস দেখলে ওর কষ্টটা আরো বাড়বে।

– হি’ল ম্যানেজ।

চোখমুখ শক্ত করে গাড়ি থেকে নামে স্নিগ্ধতা। সাইফ অবাকচোখে দেখে বোনকে। স্নিগ্ধতা বরাবরই ওর নামের মতোই নমনীয়। প্রত্যেকের সাথে হাসিমুখে কথা বলা আর সুমিষ্ট ব্যবহারের জন্য নিজের বোন বলে পরিচয় দিতে গর্ব হয় সাইফকের। কিন্তু সেটারও ব্যতিক্রম হয়েছে। আরাফাতের ক্ষেত্রে। এই একটা মানুষের প্রতি যতো কঠোরতা ওর। হুট করেই কিকরে যেনো বদলে গেলো সবটা। গাড়ি থেকে নেমে আসলো সাইফও। আরাফাতের বাসায় ডোরবেল বাজালো। একটুপরই দরজা খুলে দেয় আরাফাতের মা। সাইফ-স্নিগ্ধতাকে দেখে সে অবাক হয় কিছুটা। সাইফ সালাম দিয়ে বললো,

– কেমন আছেন আন্টি?

– এইতো ভালো।

সাইফ স্নিগ্ধতাকে পরিচয় করিয়ে দিলো। স্নিগ্ধতাও অপরিচিতের মতো সালাম দিলো ওনাকে। যেনো এটাই তাদের প্রথম দেখা। সালামের উত্তর নিয়ে ভদ্রমহিলা দরজা ছেড়ে দিলেন। ভেতরে আসতে বললেন দু ভাইবোন কে। ভেতরে ঢোকে সাইফ-স্নিগ্ধতা। ভদ্রমহিলা আপাদমস্তক পরখ করলেন স্নিগ্ধতাকে। ওরা সোফায় বসলো। আরাফাতের মা বললেন,

– তা হঠাৎ এ বাসায় কেনো সাইফ? কেইস নিয়ে ব্যস্ত আছো শুনলাম।

সাইফ একটু ইতস্তত করে বললো,

– জ্বী একটু ব্যস্তই আছি। আসলে…

– শুনলাম সামনে তোমার বোনের বিয়ে?

মাথা নিচু করে নেয় স্নিগ্ধতা। সাইফ নমনীয় কন্ঠে বলে,

– হ্যাঁ আন্টি।

ভদ্রমহিলা মৃদ্যু হাসলো। সাইফ বললো,

– আন্টি আরাফাত?

– অফিসে। কিছুদিন আগে চাকরি হয়েছে ওর। এইতো কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে। তোমরা বসো, আমি চা আসছি।

ভদ্রমহিলা পা বাড়ালেন। সাইফ ক্ষুদ্রশ্বাস ফেললো। কেইসের ঝামেলায় আরাফাতের খোজ নেওয়া হয়নি আর। ও যে চাকরী পেয়েছে, সে খবরটাও জানেনা ও। পুরো বাসাটা চোখ ঘুরিয়ে দেখে নিলো স্নিগ্ধতা। তারপর আস্তেকরে উঠে দাড়িয়ে কিচেনের দিকে এগোলো। আরাফাতের মা চা চড়িয়েছেন। একপলক স্নিগ্ধতাকে দেখে নিলেন তিনি। চোখ টলমলো করছে ওর। অপরাধবোধ হলে হতেও পারে। মহিলা নিজের মতো ব্যস্ত থেকে বললেন,

– কিছু চাইছো?

– আ’ম সর্…

ধরা গলায় বলতে গিয়েও ভদ্রমহিলার তাচ্ছিল্যের হাসি দেখে থেমে গেলো স্নিগ্ধতা। উনি বললেন,

– আমার তোমার প্রতি রাগ হওয়া উচিত। এজন্য নয় যে তুমি আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিয়েছো, এজন্য যে তুমি আরাফাতকে মিথ্যে বলেছো। অসুস্থতার বাহানা বানিয়ে, ওকে মানসিক অশান্তি দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছো।

– আমি কিন্তু চাইলেই তোমার মিথ্যাচরের কথা এখন তোমার ভাইকে বলে দিতে পারি স্নিগ্ধতা। তোমাদের দু ভাইবোনকে অপমান করে এ বাসা থেকে তাড়িয়ে দিতে পারি।

স্নিগ্ধতা শক্ত হয়ে দাড়িয়ে রইলো। ভদ্রমহিলা চায়ের দানা পানিতে ছেড়ে ওরদিক ফিরে বললেন,

– কিন্তু বিশ্বাস করো, সে অধিকার আরাফাত আমাকে দেয়নি। তুমি ওকে প্রত্যাখান করার পরও ওর একটাই কথা ছিলো, আমি বা ওর বাবা যেনো কখনো তোমাকে বা তোমার ভাইকে অপমানসূচক কিছু না বলি।

– তাতে নাকি ওর নিজেকে ছোট মনে হবে। মনে হবে, ও তোমাদের জীবনে এসেছে বলেই তোমাদের অপমানিত হতে হয়েছে। ওর একতরফা ভালোবাসার জন্য তোমাদের লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। যেটা ও কখনোই মানতে পারতো না।

স্নিগ্ধতা দম ছেড়ে একপা পেছোয়। দেয়ালে পিঠ ঠেকে ওর। ভরমহিলা ওর যন্ত্রণা বুঝতে পারলেন যেনো। আরোবেশি গর্বের সাথে বললেন,

– এটাই আমার ছেলে স্নিগ্ধতা। এটাই আরাফাত। আর তুমি সেই আরাফাতকেই কষ্ট দিয়েছো।

চোখ থেকে দুফোটা জল গরালো স্নিগ্ধতার। একটা শুকনো ঢোক গিললো ও। তখনই আওয়াজ এলো,

– সাইফ? তুই এখানে? এসময়?

বসার ঘর থেকে আরাফাতের আওয়াজ শুনে চমকে উঠলো স্নিগ্ধতা। তৎক্ষণাৎ চোখ মুছে ফেললো ও। আরাফাতের মা চায়ের ট্রে নিয়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে আসলেন। পেছনপেছন বেরোলো স্নিগ্ধতাও। এককোনে দাড়িয়ে আরাফাতকে আপাদমস্তক দেখে নিলো ও। সুঠাম দেহটা আর আগের মতো নেই আরাফাতের। হাড্ডিসার শরীরের সাথে চেহারায়ও বিধ্বস্ততার ছোপ পরেছে। আরাফাত কাধের ব্যাগটা সোফায় রেখে ট্রের কাপদুটোর দিকে তাকালো। শুধু সাইফের জন্য দুকাপ চা কেনো, এই প্রশ্নে মায়ের দিকে তাকালো ও। তখনই পেছনে দাড়ানো স্নিগ্ধতার দিকে চোখ যায় আরাফাতের। বেগুনীরঙা থ্রিপিস পরিহিত মাথায় ওড়না তুলে রাখা মেয়েটার দৃষ্টি অবনমিত। আরাফাতের কলিজা যেনো নিমিষেই খামচে ধরে কেউ। আরাফাত শক্তকন্ঠে বলে ওঠে,

– তুমি?

চোখ তুলে তাকায় স্নিগ্ধতা। আর ওর চাওনি দেখেই হাতের মুঠো নমনীয় হয় আরাফাতের। সাইফ উঠে দাড়ালো। বললো,

– আরাফাত…

ওকে বলতে না দিয়ে স্নিগ্ধতা এগোলো। আরাফাতের সামনে বিয়ের কার্ড তুলে, ধরা গলায় বললো,

– আ’ম সরি।

আরাফাত কার্ডের দিকে তাকাতেই চোখ ভরে ওঠে ওর। অবিশ্বাসী চোখে আরো একবার স্নিগ্ধতার দিকে তাকালো ও। কম্পিতহাতে কার্ডটা হাতে নেয় আরাফাত। সাইফের দিকে একবার তাকিয়ে স্নিগ্ধতা ওকে পাশ কাটিয়ে চলে আসছিলো। আরাফাত বলে উঠলো,

– পৃথিবীর সব সুখ তোমার হোক।

স্নিগ্ধতা আর পেছনে তাকালো না। বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো ও। আরাফাত চোখ বন্ধ করে কয়েকফোটা অশ্রুবিসর্জন দিলো। কাধে স্পর্শ অনুভব হতেই মনে পরলো, সাইফও বাসায়। দ্রুত চোখ মুছে জোরালো হাসি ফুটালো ঠোটে। বললো,

– সরি ইয়ার। আসলে…

সাইফ শক্তকরে জরিয়ে ধরলো আরাফাতকে। বুক চিরে অপরাধী শ্বাস বেরোলো ওর। আরাফাত নিরবে জরিয়ে রাখলো ওকে। কিন্তু সে নিরবতার অর্থ হয়তো সুদূরপ্রসারীই ছিলো…

লিফটের বোতাম চেপে পকেট থেকে মোবাইল বের করলো তারেক। বেশ কয়েকদিনের ব্যবধানে, অনেক উত্থানপতনের পর আজকে ওদের মিটিংটা হয়েছে। অবশ্য শাওন বেশ রাগ দেখিয়েছে সবকিছু নিয়ে। চঞ্চলের খামখেয়ালীর জন্য রাজনৈতিক কাজকর্ম কমাতে হয়েছে, তারেকের ইউআরএল ঠিক ছিলো না বলেই ড্রাগস সরবরাহে ঝামেলা হয়েছে, আর তৃতীয়জন এতোবেশি বেপরোয়া যে সবদিক ডুবতে বসেছে জেনেও কোনোদিক তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সাইফের কাছে মুখ খোলেনি বলে তারেককে আলাদা অফার দেওয়া হয়েছে। ওর একাউন্টে বিশাল এমাউন্টের টাকা ট্রান্সফার হচ্ছে। হোটেলে মেয়েলী সঙ্গ উপভোগ করতে এসে আপাতত নিজচোখে ফোনে সেই দৃশ্য দেখাতেই মত্ত্ব তারেক। লিফটের দরজা খুলে গেলে মোবাইলে দৃষ্টি রেখেই ভেতরে ঢোকে ও। ভেতরে যে কেউ আছে, সেদিকটা খেয়ালই করা হয়নি ওর। তারেক ষষ্ঠ বোতাম চাপলো। টাকা ট্রান্সফারের আশি শতাংশ দেখায় ওর ফোনে৷ চোখ আরো চকচক করে ওঠে ওর। লিফট থামে চতুর্থ তলায়।

অকস্মাৎ পেছন থেকে কেউ একজন পলিব্যাগে চেহারা মুড়িয়ে ফেলে ওর। এমনিতেই ও পুলিশস্টেশন থেকে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে বেরিয়েছিলো। সাইফের দেওয়া আঘাতগুলো প্রশম হয়নি তখনো। তারপরও তারেক গায়ের জোর খাটায়। পেছনের ব্যক্তিটি ওর হাটুর পেছনে লাথি মা’রতেই তারেক লুটিয়ে পরে। ওকে টেনে হিচড়ে লিফটের বাইরে নিয়ে আসে আগন্তুক। ফাকা লিফট নিচে চলে যায়। করিডরেই কয়েকসেকেন্ডের ব্যবধানে জ্ঞান হারায় তারেক। আগন্তুক ওর মুখের পলিথিনের বাধন খুলে দেয়। তারেকের মোবাইল তখনো আনলকড ছিলো। টাকাটা রিট্রান্সমিট করে ফোনটা ছুড়ে মারে বাইরে। তারেকের জ্ঞানহীন দেহটা টেনে নিয়ে যায় করিডোরের প্রান্তীয় রুমটায়। মেঝেতে রেখে, তার পাশে শুয়ে পরে কালো পরিধানের ব্যক্তিটিও। মাথার নিচে হাত রেখে বলে ওঠে,

– জানিস তারেক? লোভে পাপ, আর মেয়েমানুষের লোভ মানে মৃ’ত্যু। তুই তো আকাশের চাঁদের দিকে হাত বাড়িয়েছিলি, তোর পরিণতি তো আরো ভ’য়ানক হওয়া উচিত তাইনা?

তারেকের জবাব না পেয়ে অবয়ব অস্থির হয়। পাশের ব্রিফকেইস থেকে হাতকড়া বের করে তারেকের হাত পা বাধে। তারপর মুখে একপ্রকার পাউডার পুরে দিয়ে মুখ আটকে দেয় ওর। সূ”চালো লোহা আড়াআড়িভাবে বুকে বসিয়ে দিতে থাকে। প্রথম আঘাতেই ঝাকি দিয়ে ওঠে তারেকের শরীর। বঠবড় করে চোখ মেলে ও। জ্ঞান ফিরে নিজেকে অনড় আবিষ্কার করে চেচানোর চেষ্টা করে তারেক৷ লাভ হয়না। সামনে ঝুকে থাকা অবয়ব ওর বুকে আরো লোহা ঢুকাতে ঢুকাতে বলে,

– এইযে তুই শব্দ করতে পারছিস না, এটা আমি চাইনি তারেক! এটা আমি একদমই চাইনি। আমি চেয়েছিলাম যখন আমি তোকে শাস্তি দেবো, তখন তুই গলা ফা:টিয়ে চিৎকার করবি! আকাশবাতাস কা’পিয়ে চিৎকার করবি! ব্যথায় ব্যথায় এতোজোরে আর্তনাদ করবি যে তোর গলা বসে যাবে। তুই চাইবি তোর আওয়াজ শুনে কেউ তোকে বাচাতে আসুক, কিন্তু তোর আওয়াজই বেরোবে না। তার আগেই গলার রগ ছি’ড়ে যাবে তোর আর…

এটুক বলে থামলো সে। ততোক্ষণে তারেকের বুকের দুইপাশে তিনটে তিনটে করে লোহা ফুটানো হয়েছে। র’ক্ত ওর বুকপিঠে ছাড়িয়ে মেঝেতে লেগেছে। অবয়ব আরো সহজিয়া ভঙিমায় বললো,

– ও হ্যাঁ! গলার রগ ছি’ড়ে যাওয়া উচিত তোর।

এই বলে প্লা’কার হাতে নেয় সে। উবু হয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে গলা দেখতে থাকে তারেকের। এক পর্যায়ে চকচক করে ওঠে তার চোখ। খুশিতে আত্নহারা হয়ে বলে ওঠে,

– পেয়েছি!

তখনতখন গলায় প্লাকারের আঁ’চড়। য’ন্ত্রনায় ছটফট করতে লাগলো তারেক। ওর গলার নীলরঙা শিরাটা বেরিয়ে পরেছে। অবয়বের শান্তি মেলেনা। কন্ঠে বিরক্তি মিশিয়ে আরো কিছু একটা খুজতে খুজতে বলে,

– নাহ! এটা না তো! কোনটা ছিলো? কোনটা?

তারেক হাতপা আছড়াতে থাকে। মেরুদন্ড বিবশ হয়ে আসছে ওর ক্রমশ। সামনেরজনের হিং’স্রতা বাড়ে। আবারো কিছুএকটা নিয়ে নাকে পুরে দেয় সে তারেকের। তারেকের শরীর নিস্তেজ হতে থাকে। কিন্তু য’ন্ত্রণার অনুভব আরো বাড়ছে। সে কাটাচামচ হাতে নেয় এবারে। আ’চড়ে আ’চড়ে চোখের নিচ থেকে পুরো গাল র’ক্তাক্ত করে ফেলে তারেকের। নেইলকাটার ধরে নখ উ’পড়ে নেয় হাতের প্রতিটা আঙুলের। মুখ দিয়ে র’ক্ত আসতে থাকে তারেকের। অবয়ব শান্ত হয়। তারেকের মুখ খুলে দেয়। কিন্তু আর বলার ক্ষমতা নেই তারেকের। দাতের গোড়া অবদিও সুচ চালায় সে। সামনের কয়েকটা দাঁত প্লাকারে তুলেও আনে। তারেক শরীর ছেড়ে দিতে থাকে এবারে। অবয়ব বিরবিরিয়ে বলে,

– নট সো আর্লি তারেক। আরেকটু। আরেকটু তারেক! আরেকটু!

তারেকের চোখ ঘোলা হয়ে আসতে থাকে। অবয়ব হাতুড়ি হাতে নেয়। পরপর কয়েকবার আঘাত করে তারেকের গো’পনাঙ্গে। প্রথম দুবারে নড়েচড়ে উঠলেও, পরেরবারে আর কোনো সাড়া ছিলোনা ওর। র’ক্তের স্রোত বয়ে যায় মেঝেতে। অবয়ব কাটাচামচ নিয়ে ওর গলায় কয়েকদফা ঘা বসায়। তারপর ক্লান্ত হয়ে দেয়ালে মাথা ঠেকায়। গ্লাভসের ওপর থাকা রক্ত দেখে বলে,

– তোমার সুবিধার্থে মার্ডার-প্যাটার্ন বদলেছি ইন্সপেক্টর সাইফ এহমাদ। এই বারোতম খু*নটা তোমার সিরিয়াল কিলিং কেইসে ইনভল্ব হবেনা আশা করি। তাই তুমিও আমার প্লানে দখল নিতে এসোনা। তাতে তোমারই ভালো। অল দ্যা বেষ্ট।

#চলবে…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here