প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন #পর্বসংখ্যা_৬

0
2

#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৬
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা

– আপা এত বছর তো দিব্যি দেখা না করে কাটিয়ে দিলেন। তা আজ কেমন করে আমাদের কথা মনে হলো। শেষে মেয়ের বাবার অসুস্থতার দরুন দেখা দিতে এলেন। নয়তো কি আর আপনার দেখা মিলে।

আনেসার কণ্ঠে তীব্র অভিমান। তার যেন এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না। ইয়াজমীন আসবে তা ভাবেনি। অনেক বছর দেখা হয় না তাদের। নিয়াজ সাহেব বেঁচে থাকতে তাদের বাসায় আসা যাওয়া থাকলেও বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের আর খুব একটা দেখা হয় না।

– এসব বলে লজ্জায় ফেলবেন না। আপনাদের কী আদৌ ভুলে যাওয়া সম্ভব। আমার দুঃসময়ে তো আপনাদেরই পাশে পেয়েছিলাম। এমন মানুষদের ভুলে যাই কেমন করে?
সব দোষ আমার ছেলের বুঝলেন। ওকে কত করে বলা হয় নিয়ে যেতে। কিন্তু ছেলেটা আমার কথা শুনলে তো। কোথাও নিয়ে যাওয়ার কথা বললেই বলে মা আমার কাজ আছে। আজ না অন্য একদিন নিয়ে যাব ঠিক আছে। অথচ তার অন্য একদিন আর আসে না।

ইয়াজমীনের কথায় আনেসা হেসে উঠল। দুজন নারীর হাসির ঝংকারে পুরো কামরা মুখরিত।

আভিরা মাত্র ঘুম থেকে উঠে এসেছে। চুল তার এলোমেলো, ঘুমের কারণে চোখ ফুলে রয়েছে হালকা। অপরিচিত মানুষ দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে আভিরা। নিজের অবস্থার জন্য খানিকটা লজ্জাও পেল। দ্রুত হাতে গায়ের ওড়না মাথায় তুলে মেয়েটা। আভিরাকে দেখে ইয়াজমীন এগিয়ে এলো। সেই ছোটো থাকতে দেখেছিল এই মেয়েকে। এত বছর পর, তবুও চিনতে অসুবিধা হয়নি।

– ভালো আছো মা?

আভিরা নিজের অপ্রস্তুত ভাব সামলে সালাম দিয়ে জানায় সে ভালো আছে। তবে মানুষটাকে চিনতে পারল না। যেহেতু মা এভাবে হেসে হেসে কথা বলছে হবে হয়তো পূর্ব পরিচিত কেউ।

তোফায়েল আহমেদের জ্ঞান ফিরেছে ঘণ্টাখানেক আগে। উনি বেডে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসে আছেন। ডান হাত মুঠোয় পুরে ওনার পাশে বসে আছে তাযীম। ক্ষণে ক্ষণে নাক টানছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে ছেলেটা কত ভয় পেয়েছে। পারছে না হাত পা ছড়িয়ে ছিটিয়ে মেঝেতে গড়াগড়ি খেতে। ছেলের এমন নাক টানায় তোফায়েল আহমেদ বড্ড বিরক্ত হলেন। ছেলেমানুষ এমন কান্না করে না কি? সামান্য বিষয়ে এত ভয় পেলে চলে? তার ছেলে এত বোকাসোকা কী করে হলো? জোরালো একটা ধমক দিলে তবেই থামবে ছেলেটা। নয়তো কান্না থামাবে না। তবে ইয়াজমীন আছে বিধায় কিছু বলার প্রয়াস চালায় না। খানিকটা নিচু স্বরে বলল,
– মায়ের কাছে যাও। বাবা ঠিক আছি।

তাযীম বাবার কথা শুনে। চুপচাপ মায়ের কাছে গিয়ে পাশ ঘেঁষে বসে রইল।

নাওয়াজ রুমে প্রবেশ করতে সর্বপ্রথম চোখ গেল বাবার পাশে বসে থাকা আভিরার দিকে। গোলগাল মুখটায় কত শত চিন্তার ছাপ। কী নিয়ে এত ভাবছে মেয়েটা। রুমের ভিতরে অপরিচিত পুরুষের উপস্থিতি অনুভব করে আভিরা নিজেকে গুটিয়ে নেয়। মাথার ওড়নাটা ভালো করে টেনে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। চোখ তুলে পুরুষটাকে দেখল না পর্যন্ত। নাওয়াজ হাতে থাকা ফলের প্যাকেটটা আনেসার হাতে ধরিয়ে দেয়। মাকে রেখে এইগুলো আনতে নিচে গিয়েছিল সে। তখন আভিরাকে দেখেনি। মেয়েটা ঘুমিয়ে ছিল হয়তো। এর মধ্যে উঠে গিয়েছে।

– এগুলো কেন আনতে গেলে বাবা?

– স্যারের জন্য।

অথচ দৃষ্টি তার আভিরাতে। আভিরার থেকে দৃষ্টি সরিয়ে তোফায়েল আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বলল,
– কী এমন চিন্তা করেছেন যে দৌড়ে হসপিটাল অবধি আসতে হলো?

নাওয়াজের কথায় তোফায়েল আহমেদের রাগ হলো।ছেলেটা যে তাকে ঠেস দিয়ে কথা বলছে তা কথার ধরনেই বুঝা যাচ্ছে। কত বড়ো বেয়াদব হয়েছে এ ছেলে। রাগত স্বরে হিসহিসিয়ে বলল,
– নাওয়াজ।

নাওয়াজ কী এমনি ছেড়ে দেবে। সুযোগ পেয়েছে কথা শোনানোর। এ সুযোগ সে হাতছাড়া করবে না। কণ্ঠে দাম্ভিকতা এনে বলল,
– যাইহোক এবার আপনি বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তো?
না কি হসপিটালে থাকতে চান? চাইলে আমাকে বলবেন। কষ্ট করে হসপিটাল অবধি আসতে হবে না। আপনাকে আমি গিয়ে দেখে আসব।

– তুমি কী আমায় কথা শোনাচ্ছ নাওয়াজ?

নাওয়াজ হেসে উড়িয়ে দেওয়ার ভঙ্গিমায় বলল,
– কী যে বলেন স্যার, আপনাকে কথা শোনাতে যাব সেই সাহস আছে আমার। এগুলো একটাও আমার কথা নয়। সব আন্টির কথা।

স্ত্রীর কথা শুনে স্ত্রীর দিকে তাকালেন তোফায়েল আহমেদ। তার তাকানোতে এতক্ষণে হাসতে থাকা মুখটায় যেন আঁধার নেমে এসেছে। কী ঘুটঘুটে আঁধার। স্ত্রীর এমন রূপ দেখে ওনার মুখটা চুপসে গেল। তোফায়েল আহমেদের চুপসানো মুখ দেখে নাওয়াজ অদ্ভুতভাবে হেসে ওঠে। যেন ওনাকে কথায় দমাতে পেরে তার পৈচাশিক আনন্দ হচ্ছে।

নাওয়াজ নামটা আগেও কোথায় যেন শুনেছে আভিরা। ঠিক মনে করতে পারছে না। মুখ উপরে না তুলেই চুপচাপ বাবা আর অপরিচিত লোকটার কথা শুনে গেল। তবে তাদের দুজনের কথায় বেশ অবাক হলো। সে তো বাবার ভয়ে কথায় বলতে পারে না। আর এ লোক কী অবলিলায় কথা শুনিয়ে যাচ্ছে।

_

তাযীম ফলের ব্যাগ থেকে ইতোমধ্যে একটা আপেল নিয়ে তাতে কামড় বসিয়ে দিয়েছে। তোফায়েল আহমেদ ছেলেকে দেখলেন, ছেলেটা এমন কেন?

– তাযীম এভাবে খাচ্ছ কেন বাবা? মায়ের কাছে দাও। ছুরি দিয়ে কেটে দিবে।

– না, আমি এভাবেই খাব।

বলেই আরও একটা কামড় বসায়। এতক্ষণ নিজের রাগ সংবরণ করে রাখতে পারলেও এবার আর রাগ ধরে রাখতে পারলেন না তোফায়েল আহমেদ। জোরালো কণ্ঠে ধমকে উঠলেন,
– তোমাকে বললাম না মায়ের কাছে দাও। এভাবে কেউ খায়। কথা বললে শোনো না কেন?

বাবার ধমকে তাযীম কেঁপে উঠল। হাত ফসকে আধ খাওয়া আপেলটা গড়িয়ে পড়ল ঝা চকচক করতে থাকা টাইলস দিয়ে বাঁধাই করা মেঝেতে। এতগুলো, এতগুলো মানুষের সামনে বাবা ধমক দিল। তাযীম চশমার ফাঁক দিয়ে সবার দিকে গোলগোল চোখে তাকিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে কেঁদে দেয়।

ছেলের কান্না দেখে আনেসা কটমট চোখে তাকায় স্বামীর দিকে। তোফায়েল আহমেদ হতাশার শ্বাস ফেলে।
এ ছেলেকে নিয়ে তিনি যাবেন কোথায়। সামান্য একটা ধমকে মনে হচ্ছে কেঁদে বন্যা বয়ে ফেলবে। স্ত্রীর কটমট চাহনি দেখেও অদেখা করে রইলেন। নয়তো জনসম্মুখে তাকে ধুয়ে দিতে বাদ দিবে না এ মহিলা।

নাওয়াজ তাযীমকে কোলে তুলে নেয়। এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে বলল,
– কাঁদে না। চলো আমরা বাহিরে যাই।

তাযীম দু হাতে গলা আঁকড়ে নাওয়াজের কাঁধে মাথা রাখে।

– আপু এসেছে সে খবর আমায় দাওনি কেন?

তাযীম ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
– আমি তো ঘুমিয়ে ছিলাম। উঠে দেখি আপু আমার পাশে ঘুমিয়ে আছে।

– তাই।

– হুম।

– চকলেট খাবে?

– না। আপু জানলে মারবে। সেদিন আমার ব্যাগ থেকে সবগুলো চকলেট বের করে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিয়েছে।

– কেন ফেলে দিয়েছে?

হসপিটালের প্রতিটা ওয়ার্ড বয়, নার্স এমনকি ডাক্তাররাও অবাক চোখে নাওয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে।
নাওয়াজ এ হসপিটালে আছে বছরখানেক হবে। দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি। তবে তাকে কেউ খুব একটা হাসতে দেখে না। সবসময় নিজের গাম্ভীর্যতা বজায় রেখে চলা ছেলেটা কিনা হাসছে, তাও একটা বাচ্চা ছেলের সাথে ভাবা যায়।

– বাচ্চাটা কে মিস্টার নাওয়াজ?

– আমার হবু শালা।

নাওয়াজের মুখে এমন কথা শুনে শেরিনের মুখাবয়ব কেমন ফ্যাকাশে হয়ে এলো। দ্বিধা নিয়ে চাইল নাওয়াজের দিকে।
নাওয়াজের নজর তার দিকে নেই। সে তাযীমের সাথে কথায় মগ্ন। নাওয়াজকে এভাবে একটা বাচ্চার সাথে হাসতে দেখে নিজের আগ্রহ দমাতে পারেনি শেরিন। তাই ছেলেটা কে তা জানার জন্য জিজ্ঞেস করল। কিন্তু এমন জবাব আশা করেনি সে। নাওয়াজের বিয়ে ঠিক হলে তো সে খবর তার কানে যেত। তবে নাওয়াজের মুখ দেখে মনে হচ্ছে না যে মিথ্যা বলছে।

শেরিন সামান্য হাসার চেষ্টা করে জিজ্ঞেস করল,
– আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে, জানালেন না যে?

– জি, ভেবেছিলাম ডেইট ফিক্সড হলে জানানো হবে।

শেরিন পাংশুটে মুখ করে বলল,
– ওহ।

শেরিন এ হসপিটালে এসেছে মাস ছয়েক হবে। কাজের বাইরে নাওয়াজ কথা বলে না বললেই চলে। সে অন্তত কথা বলতে দেখেনি। ও আগ বাড়িয়ে কথা বলতে গেলে নাওয়াজ দু একটা প্রত্যুত্তর করত এই যা। মুখে তো হাসি দেখায় যেত না। কেউ দেখলে বলবে এ লোক বোধহয় হাসতে জানে না।
আজ এই প্রথম হাসতে দেখে শেরিন কিছুটা ঘোরে চলে গিয়েছিল। তবে বিয়ের কথা শুনে শেরিনের গা জ্বলে উঠল।
ঘায়েল করা হাসিটাও যেন তার কাছে বিষের মতো লাগছে।

পছন্দের মানুষের হাসির কারণ যদি অন্য নারী হয়, তবে সে হাসি যে কারো কাছে অসহ্য ঠেকবে।
শেরিন নিজের মুখে মেকি হাসি ঝুলিয়ে যত দ্রুত সম্ভব স্থান ত্যাগ করে। নাওয়াজকে কেন জানি তার সহ্য হচ্ছে না।

_

আনেসা আর ইয়াজমীন গল্পে মশগুল। অনেক বছর পর একে অপরের দেখা পেয়েছে কিনা। কত কথা জমে আছে। আজ সব কথা উগলে দেওয়ার দিন। আভিরা চুপচাপ তার সামনে বসা দু নারীর হাসি দেখে যাচ্ছে।

নাওয়াজ এলো আধ ঘণ্টা পর। চোখ মুখ ফুলিয়ে থাকা তাযীম খুশিতে আটখানা। কে বলবে কিছুক্ষণ আগে এ ছেলে কেঁদেকুটে ভাসিয়েছে। কী সুন্দর দাঁত কপাটি বের করে হেসে চলেছে! দেখে মনে হচ্ছে সে নাওয়াজকে কতকাল ধরে চেনে। অথচ আজ তাদের প্রথম দেখা।
তাযীম এত সহজে কারো সাথে মিশে না। আদর আহ্লাদে ডাকলেও ছেলেটা তাদের কাছে ধরা দেয় না। তবে নাওয়াজের সাথে এত অল্প সময়ে মেশার কারণ?

তাযীমের দু হাত চকলেট, চিপসে ভরপুর। নাওয়াজের হাতেও রয়েছে কয়েকটা। বাচ্চা ছেলে কি ছোটো দু হাতে এতগুলো জিনিস ধরে রাখতে পারে। পুরো মুখ চকলেটে মেখে গেছে। সে ধ্যান থাকলে তার। সে তো মনের সুখে চকলেট খেতে ব্যস্ত। আভিরা ভাইয়ের এ অবস্থা দেখে না পেরে নাওয়াজকে বলল,
– ওকে আমায় দিন।

নাওয়াজ কোনো বাক্য ব্যয় না করে নামিয়ে দেয়। তাযীম দৌড়ে বোনের কোলে চড়ে বসে। আভিরা ওড়নার কোণো মুঠো করে তাযীমের মুখে লেগে থাকা চকলেট মুছে দিল। খুব সাবধানে, আলতো করে মুছতে লাগল যেন তাযীমের না লাগে। আভিরার ওড়নাটা খসখসে জর্জেট কাপড়ের। তাতে আবার সিকুয়েন্স এর কাজ করা। তাই এত সাবধানতা।
অসাবধানতাবশত একটু জোরে লাগলে গালে আঁচড় কাটতে পারে।

নাওয়াজ মুগ্ধ নয়নে দুজনকে দেখে চলেছে। ভাইবোনের সম্পর্ক বুঝি এত সুন্দর হয়!

_

দুপুরের খাবার সময় হয়ে এসেছে। নাওয়াজ সকলকে বলল,
– এবার খেয়ে নিলে ভালো হবে। সকাল থেকে বোধ হয় কারো খাওয়া হয়নি।

সত্যি তাযীম বাদে আভিরা, আনেসা কারো পেটে কিছু পড়েনি। আভিরা তো বাবা অসুস্থ শুনে ঘরে যা পরেছিল তা পরেই ছুটে এসেছে। খাবার মুখে দেওয়ার সময় কই।
আনেসাও স্বামীর এ অবস্থায় মুখে কিছু তুলেনি। কিন্তু ছেলেটা তার ছোটো। এতক্ষণ অবধি না খেয়ে থাকতে পারবে না। তাই সকালে খাইয়ে দিয়েছিল। আবার এখন নাওয়াজের সাথে বাইরে গিয়ে হাবিজাবি গিলে এসেছে। আর কিছু খাওয়ানো যাবে না এ ছেলেকে।

বাড়ি থেকে যেহেতু খাবার আনা হয়নি তাই ভালো কোনো রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। হসপিটাল থেকে কিছুটা দূরে একটা ভালো মানের রেস্তোরাঁ আছে। সবাই সেখানে যাওয়ার কথা ভাবল। তবে বিপত্তি বাঁধে আরেক জায়গায়। সকলে চলে গেলে তোফায়েল আহমেদকে একা থাকতে হবে। তোফায়েল আহমেদ মেডিসিনের কড়া ডোজ এ ঘুমে বিভোর। অসুস্থ ব্যক্তি কখন কী লাগে বলা তো যায় না। আর তাছাড়া তাযীমও ঘুমিয়ে পড়েছে আভিরার কোলে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো আগে আনেসা আর ইয়াজমীন গিয়ে খেয়ে আসবে তারপর আভিরা আর নাওয়াজ।

তাযীমকে এভাবে কোলে নিয়ে বসে থাকতে আভিরার সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া তোফায়েল আহমেদ বেশ রুষ্ট পুষ্ট স্বাস্থ্যের অধিকারী। পুরো বেডটা তার দখলে। একাংশ জায়গা খালি রয়েছে যেখানে আভিরা বসে আছে।
নড়াচড়া করার মতো স্পেসটুকু নেই।

নাওয়াজের নজর এতক্ষণ মোবাইলে থাকলেও এবার উঠে দাঁড়ায়। পা চালিয়ে একদম আভিরার সামনে এসে থামল।

– ওকে আমার কোলে দিন আঞ্জুম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here