প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন #পর্বসংখ্যা_৩৫

0
2

#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৩৫
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা

লোকটা সকাল সকাল বেরিয়ে আবার ফিরবে বেশ রাত করে। আভিরা ততক্ষণে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। আভিরা ভেবে পেল না তার এত ঘুম আসে কীভাবে। সে শুনেছিল বিয়ের প্রথম কয়েক দিন আগের তুলনায় মেয়েরা বেশি ঘুমায়। আভিরার মনে প্রশ্ন জাগে বিয়ের রেশ ধরেই কী তার এত ঘুম? নয়তো সে এত ঘুম কোনোকালে ঘুমায় না।

ফজরের নামাজ আদায় করে কতক্ষণ উঠানে হাঁটাহাঁটি করবে। ভোরের শীতল বাতাসে গা জুড়িয়ে তারপর বই নিয়ে বসতো সে। ঘণ্টা দুয়েক পড়ে তারপর মাকে নাস্তা বানাতে সাহায্য করত। মাঝেমধ্যে নামাজ পড়ে আর বই হাতে না বসে কয়েক ঘণ্টা পড়ে ঘুমাত। তবে বেশিরভাগ সময়ই তার ভোরে উঠে আর ঘুমানো হতো না।
আর এখন আটটা, নয়টার আগে উঠতেই পারে না। এত ঘুমের জন্য মেয়েটা নিজেই বিরক্ত হয়। এই ঘুমের জন্যই তো লোকটা কখন আসে, কখন যায় তার জানা হয়ে উঠে না। তবে রোজ সকালে নিজেকে বিছানায় একা পেলেও আজ পাশের জায়গাটা দখল করে নিদ্রায় তলিয়ে আছে ক্লান্ত, শ্রান্ত এক পুরুষ।

ভোরবেলায় বাড়ি ফিরেছে নাওয়াজ। আজ শুক্রবার, তার ডিউটি নেই। যদিও ডাক্তারদের নির্দিষ্ট সময় ভেদে অবসর সময় কাটানোর অত সুযোগ নেই। ডিউটি না থাকলেও ইমার্জেন্সি হলেই তাদের হসপিটালে ছুটতে হয়। সে হিসেবে তাদের বছরের বেশিরভাগ সময়ই কাটে ব্যস্ততায়।

তবে আজকাল এই ডাক্তারি পেশায় জড়িয়ে চলেছে নানান অপকর্ম। ডাক্তার দেখাতে গেলেই ফি গুনতে হয় হাজার পাঁচশ। তারপর সামান্য ঠান্ডা লাগলেই প্রেসক্রিপশনে এক গাদা ঔষধের নাম লিখে দিবে। সেই ঔষধ কিনতে গিয়ে জনসাধারণের ঘাম ছুটে। হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা তো বছরে ঠিকমতো ডাক্তারও দেখাতে পারে না। পেটে দানা পানি না পড়া এ মানুষগুলোর জন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ডাক্তার দেখানো যেন দুঃস্বপ্ন কেবল। রোগী মারা যাওয়ার পরও আইসিইউতে রেখে ট্রিটমেন্ট করার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিবে। দিন কদিন বাদে পরিবারের লোকদের জানাবে আইসিইউতে নেওয়া মানুষটা আর নেই। অথচ সে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে বহু আগে। এ নিয়ে ধারণা না থাকায় সহজ সরল মানুষগুলোর আর জানা হয় না এসব। ধরতে পারে না ডাক্তারের পোশাক পরে থাকা লোকগুলোর সুকৌশলে করা ছলচাতুরি। তারপর মানুষ জীবন বাঁচাতে যাদের কাছে ছুটে যায় তারাই মৃত্যুর কারণ হয়। ভুল চিকিৎসায় প্রাণ হারাচ্ছে অহরহ রোগী। এর কারণ কী? সঠিক প্রশিক্ষণ না নেওয়া? না কি ভুয়া সার্টিফিকেট বানিয়ে এমবিবিএস ডাক্তারের তকমা লাগিয়ে হাসপাতালময় ঘুরে ঘুরে রোগী দেখে বেড়ানো?

দেশে সর্বত্রই জালিয়াতি, জোচ্চুরি। ভুয়া সার্টিফিকেট যেন হাতের নাগালে। সেজন্য মানুষজন এই সহজ পন্থা বেছে নিচ্ছে বেশি। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগে অবাধে চলছে এসব অপকর্ম। এক শ্রেণির অর্থলোভী ডাক্তার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এসব অপকর্মের সাথে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িত। ভুয়া সার্টিফিকেট প্রাপ্ত এসব ডাক্তার ঠিকঠাক সার্জিক্যাল সরঞ্জামের ব্যবহারই জানে না। অথচ নির্বিঘ্নে সার্জারি করতে ছুটবে।

দেশে উন্নতমানের চিকিৎসা সরঞ্জামেরও প্রবল সংকট। এসবের জন্য অনেক সময় দেখা যায় রিপোর্ট ভুল আসে।
দু তিন হাসপাতালে পরীক্ষা করার পর দেখা যায় বড়ো ধরনের কোনো রোগই হয়নি। অযথাই তাদের এত হয়রানি হতে হয়। চিকিৎসা খাত অনুন্নত বিধায় জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশ বিদেশে ছুটতে হয়। কাড়ি কাড়ি টাকার মালিকেরা মাসে চৌদ্দ বার বাহিরে যেতে পারলেও ভুগতে হয় যারা দিন এনে দিন খায়। মধ্যবিত্ত, হতদরিদ্র এই মানুষগুলো নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়েও বাহিরে যেতে পারে না। গর্ভবতী মায়ের সিজারের পর যখন তাকে দুদিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হয় তখন সেই মায়ের কাপড় বদলে দেওয়া, ধুয়ে দেওয়া, স্যাভলন মেশানো পানি দিয়ে ঘর মোছা, ঘর ঝাড়ু দেওয়ার বিনিময়ে আয়াদেরও হাজার টাকা দিতে হয়। তারপর ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় সেই মায়ের যখন মৃত্যু হয় এর দায়ভার কেউ নেই না। এর জন্য টাকা গুনতে হয় না, পকেট থেকে লাখ লাখ টাকাও ছাড়তে হয় না। একটা মায়েরই তো প্রাণ গেল, ও আর এমন কী! তারা কী জেনে বুঝে ভুল ইনজেকশন দিয়েছিল না কি?
এসব মৃত্যু ধামাচাপা পড়ে হাসপাতালের বদ্ধ চার দেয়ালের মাঝে। তাদের অবহেলা, অসতর্কতায় মরতে হয় অসহায় মানুষদের। সেবার নাম করে তারা অবাধে মানুষ মারে। ব্যয়বহুল চিকিৎসার কথা বলে করে পকেট গরম।

নাওয়াজকে ঐসব ডাক্তারের কাতারে ফেলা যাবে না কোনোভাবেই। নাওয়াজ নিষ্ঠার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে। সে নিজের ফিও লোক সাধারণের সাধ্যের মধ্যে রাখে।
মাঝেমধ্যে চেষ্টা করে যেসব রোগীদের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয় তাদের বিনা পয়সায় সেবা প্রদান করার। নাওয়াজ আর মাহাদের একটা টিম আছে। মেডিকেল স্টুডেন্টগুলো মূলত এই টিমের সদস্য। এরা মাসে একবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেয়। দুস্থ, অসহায় মূলত যারা টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারে না অথচ মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত; তাদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেয়। হাসপাতালের কমিটি বোর্ডও এতে যুক্ত রয়েছে। নয়তো নাওয়াজের পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।

শুক্র, শনি এই দুই দিন নাওয়াজের অফ ডিউটি। ছেলেটা ঘুম থেকে উঠেছে দশটা নাগাদ। আভিরা আগে থেকে বেলে রাখা রুটিগুলো তাওয়ায় সেঁকে নিল‌। নাওয়াজ ডাইনিং এ বসে আছে। আভিরা তড়িঘড়ি করে রুটি সেঁকে এক বাটি সবজি হাতে ছুটল ড্রয়িংরুমে।‌ নাওয়াজ দেখল কেমন ব্যস্ত পায়ে ছুটে আসছে মেয়েটা। খুব সূক্ষ্ম চোখে পরখ করল ছুটন্ত রমণীকে। কপালে কিছু চুল ঘামে ভিজে লেপ্টে আছে। ঘাড়ের দিকটাতেও একই অবস্থা। থুতনিতেও তার ঘাম জমেছে। ওড়না দিয়ে গলায় ঘাড়ের ঘাম মুছে নিচ্ছে মেয়েটা। এইটাও নজর এড়ায় না চেয়ারে আয়েশ করে বসে থাকা পুরুষের। আভিরা কাছে যেতেই নাওয়াজ দৃষ্টি সরায় মেয়েটার উপর থেকে। চেয়ার ছেড়ে উঠে হাত দুটো মুঠোয় নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখল। কিছু হয়নি দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে নাওয়াজ। আভিরাকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল,
– আপনার তো আবার সমস্যা আছে। দেখা যাবে রুটি সেঁকতে গিয়ে হাত পুড়িয়ে ফেলেছেন।

আভিরা ভালো করেই বুঝল বাবার বাড়ি গিয়ে যে পাটায় বেটে হাতের দশা খারাপ করেছিল সেজন্য লোকটা এ কথা বলেছে। আভিরা মুখ ফুলায়। সে কাজ পারে না দেখে এমন করছে। সবসময় তো এমন হয় না। সে তো আগে কখনো পাটায় কিছু বাটেনি। পাটায় কিছু বাটা আর রুটি সেঁকা তো এক না। রুটি সেঁকতে গিয়ে কে হাত পোড়ায়। গরম তাওয়ায় হাত লাগলে সে ভিন্ন কথা। তাছাড়া প্রথম প্রথম কাজ করতে গেলে একটু আধটু হাত পুড়বেই, এইটা স্বাভাবিক।

নাওয়াজ চেয়ারে বসতে বসতে জিজ্ঞেস করল,
– খেয়েছেন?

আভিরা কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে বলল,
– হু।

জিজ্ঞেস করলাম,
– খেয়েছেন কি না?

– না।

– কেন?

আভিরা কিছু বলল না। সেই সাড়ে ছয়টাই উঠেছে। শাশুড়ি বউ মিলে সকালের নাস্তা বানিয়েছে আজ। লাবণ্যর পরীক্ষা দুদিন পর। মেয়েটা ঘরের দরজা বন্ধ করে পড়ছে। সেজন্য ঘরের কাজ আপাতত আভিরাই করে। আজ ইয়াজমীনও তার সাথে হাত লাগিয়েছে। ইয়াজমীন নাস্তা সেরেছে অনেক আগেই। তার ঔষধ খেতে হয়, দেরি করলে হবে। আভিরাকে কতবার বলল তার সাথে বসে খেয়ে নিতে। না মেয়েটা খাবে না। এত সকাল সকাল সে খেতে পারে না। ইয়াজমীন জানে এ কথা। মেয়েটার ঘুম থেকে উঠতে আটটা বাজে, উঠেও খাবে না। খাবে সেই দশটা নাগাদ। ইয়াজমীন খেয়েই উপরে গিয়েছে। আভিরাকে বলে গিয়েছিল সে যেন খেয়ে নেয়। কিন্তু আভিরা এখন অবধি মুখে কিছু তুলেনি লোকটার সাথে খাবে বলে। এখন এ কথা এ লোককে কেমন করে বলবে সে। আভিরার নীরবতায় নাওয়াজ ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসল। বেশ বুঝেছে মেয়েটা তার সাথে খাবে বলেই এতক্ষণ অবধি অভুক্ত। নাওয়াজ রুটি ছিঁড়ে আভিরার মুখের সামনে ধরল।

– দেখি হা করুন।

আভিরা বিস্ময় নিয়ে চেয়ে আছে। এতদিন হয়েছে সে এ লোকের বউ হয়ে এসেছে, কখনো তো এমন মুখের সামনে খাবার তুলে ধরেনি। তাহলে আজ কেন? আভিরা জিজ্ঞেস করতে পারল না। চুপচাপ খেয়ে নিল শুধু।

_

এ বাড়িতে মাসকাবারি একসাথে আসে না, আনা হয় না।
বেশিরভাগ সময় চেষ্টা করা হয় দিনের বাজার দিনে করার।
নাওয়াজের যখন খুব বেশি ব্যস্ততা থাকে তখন বড়োজোর এক সপ্তাহের বাজার আনা হয়। নয়তো নিত্যদিনের বাজার সদাই নিত্যদিন করা হবে। বাকি তেল, মশলা যা আছে সেগুলো এক মাস চলে যাবে এমন করেই কিনে রাখা হয়। কোনদিন কী লাগবে, কোন জিনিসটা আনতে হবে তার লিস্ট করে লাবণ্য নাওয়াজকে দেয়। সে অনুযায়ী নাওয়াজ বাজার করে আনে। ছেলেটা এখন বাজারে যাবে। যেহেতু আজ শুক্রবার, বাজারের দিন।

আভিরা খাটে বসে সমানতালে পা দুলিয়ে যাচ্ছে। মুখে তার দুটো সেন্টার ফ্রুট পুরা। নাওয়াজ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখল পা দুলাতে থাকা রমণীকে। ভারিক্কি স্বরে বলে উঠল,
– কিছু বলবেন?

হঠাৎ প্রশ্নে আভিরা হকচকায়। তড়িঘড়ি করে বলে উঠল,
– কই না তো।

তার ফুচকা খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু এ লোককে এ কথা কেমন করে বলবে বুঝে উঠতে পারল না। এখন নিশ্চয়ই এ কথা শুনলেই রেগে যাবে। ডাক্তার মানুষ কি না। স্বাস্থ্য নিয়ে এক গাদা লেকচার দিবে। বলবে এসব খাওয়া মোটেও ঠিক না। বাইরের খাবার কেন খেতে চাইছেন। রাস্তাঘাটের সব ধুলাবালি যে ঐ ফুচকায় পড়ে তা জানা নেই আপনার? এসব অখাদ্য গিলবেন আপনি? আরও কত ব্লা ব্লা।
আভিরার এখন এত কথা মোটেও শুনতে ইচ্ছে করছে না।

নাওয়াজ কতক্ষণ চেয়ে থেকে ফের জিজ্ঞেস করল,
– কিছু লাগবে?

আভিরা চোখ তুলে চাইতেই তার বেহায়া নজর আটকায় লোকটার উপর। ফরমাল শার্ট, প্যান্ট পরেছে নাওয়াজ।
আভিরার মাথায় এলো না যাবে তো সেই বাজার করতে এত ফিটফাট হয়ে যাওয়ার কী আছে। একটা টি-শার্ট আর লুঙ্গি পরলেই হয়ে যায়। লুঙ্গিতে নাওয়াজকে কেমন লাগবে?
কল্পনা করেই আভিরা খিলখিলিয়ে হেসে উঠল। নাওয়াজ সেই হাসি চেয়ে দেখল। হঠাৎ যেন তার ঠোঁটের ভাঁজেও অদ্ভুত হাসির দেখা মিলে।

_

– আঞ্জুম।

– জি বলুন।

– আলমারি থেকে পাঞ্জাবি বের করুন।

– আচ্ছা।

নাওয়াজ তড়িঘড়ি করেই গোসলে গেল। অনেকটা দেরি হয়ে গেছে আজ। আজান শুনেছে সেই অর্ধেক রাস্তায় থাকতেই।

একটু পরেই ইমাম সাহেব মাইকিং শুরু করবেন। জুমার দিনের ফজিলত, ইসলামিক নসীহত এগুলোই থাকবে তার বক্তব্যে। অনেকে গোসলেই যাবে সময় পেরিয়ে। তারপর তৈরি হয়ে মসজিদে গিয়ে দেখা যায় মুসল্লিরা নামাজে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। দৌড়ে গিয়ে কোনোরকম শেষ কাতারে দাঁড়াবে। এরা নামাজের আগে গিয়ে ইমাম সাহেবের বক্তব্য শুনতে নারাজ। সকলে নামাজে দাঁড়াতে এরা ছুটে মসজিদে প্রবেশ করে। আবার তড়িঘড়ি করে সালাত আদায় করেই বাড়িতে দৌড় লাগাবে।

শুক্রবার সপ্তাহের সবচেয়ে পবিত্র দিন। এদিনের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। এদিনে বিশেষ সালাত আদায়, প্রার্থনা করা হয়।
পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘হে মুমিনরা! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি করো।
(সূরা জুমআ : ৯)

জুমার নামাজের সঙ্গে বিশেষভাবে খুতবা শোনার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তাই আজান হলে কাজকর্ম, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে প্রশান্ত চিত্তে আগেভাগে মসজিদে যেতে হবে।
জুমার নামাজ, গভীর মনোনিবেশে খুতবা শোনাসহ আরও অনেক কারণে গুনাহ মাফের বিশেষ উপলক্ষ্য করা হয়েছে এই দিনকে। নবী করীম (সা.) জুমার দিনকে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য গুনাহ মাফের মাধ্যম বানিয়েছেন। জুমার দিন খুতবা শোনায় রয়েছে গুনাহ মাফের বিশেষ উপায়। নিশ্চুপ থেকে জুমার খুতবা শুনতে হবে। খুতবা চলাকালীন কোনোরকম আওয়াজ বা শোরগোল করা যাবে না। এমনকি কারো সাথে কথাও বলা যাবে না। তবেই জুম্মার দিন, খুতবা শোনা হবে গুনাহ মাফের কারণ।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি গোসল করে জুমার নামাজে এলো, তারপর সাধ্য মতো (সুন্নাত) নামাজ আদায় করল, ইমামের খুতবা শেষ হওয়া অবধি চুপ থাকল; ইমামের সঙ্গে (জুমার) নামাজ আদায় করল, এতে তার দুই জুমার মধ্যবর্তী দিনসমূহ এবং আরও তিন দিন (মোট ১০ দিনের) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’
শুধু তাই নয়। জুমার দিনের আরও ফজিলত রয়েছে।
বেহিসেবি এসব ফজিলত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের মুসল্লি ভাইয়েরা। তারা জুমার দিনের ফজিলত সম্পর্কে জানে না, জানার আগ্রহও দেখায় না। তাদের যদি সামান্যও এদিনের ফজিলত সম্পর্কে ধারণা থাকত তবে রোগাক্রান্ত অবস্থায়ও ছুটে যেত জামাতে সালাত আদায়ের জন্য। কিন্তু আফসোস তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না। এরা নামেই মুসলিম, এরা নামেই মুসল্লি, এরা নামেই যায় জামাতে সালাত আদায় করতে।

সচরাচর নাওয়াজের এমন দেরি হয় না। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা সম্ভব হয় না তার পক্ষে। অনেক সময় দেখা যায় নামাজের সময়টাই তার পেশেন্ট দেখতে হচ্ছে। পেশেন্ট দেখা ছাড়াও অনেক কারণেই তার নামাজ কাযা হয়, পড়া হয়ে উঠে না আর। কিন্তু জুমার দিনে খুতবা শুরুর আগেই সে মসজিদে থাকে।

মেজাজ খারাপ হয়ে আছে তার। আজ অনেক দেরি হয়ে গেল। বাজারে গিয়ে ফুচকা কেনার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অনেকক্ষণ। সবাই আজই ভিড় জমিয়ে ছিল যেন।ভিড় না থাকলে এত দেরি হতো না তার। আবার না কিনেও আসতে পারেনি। মেয়েটা তার কাছে সামান্য একটা আবদার করেছে, না নিয়ে এলে কেমন দেখায়।
আভিরা তখন দেনামোনা করেই লোকটাকে বলেছিল তার ফুচকা খেতে ইচ্ছে করছে। আভিরা ভেবেছিল ঐ লোক হয়তো মানা করবে, বলবে ঐসব আনা যাবে না। কিন্তু এমন কিছুই করেনি।

গলায় টাওয়াল পেঁচিয়ে বের হলো নাওয়াজ। খাটের উপর নজর যেতেই সে স্থির হয়ে দাঁড়ায়। তার কাঠিন্য মুখাবয়ব আস্তে ধীরে ছেয়ে গেল মুগ্ধতায়। আভিরা বেশ বড়োসড়ো একটা ফুচকা মুখে পুরেছে। ঠিকভাবে গিলতে পারছে না।
মুখ কিছুটা লাল হয়ে এসেছে। ফুচকা গিলেই পাশে রাখা আইসক্রিম মুখে দিল। ঝালে তার ঠোঁট, পেট সব জ্বলছে।
হঠাৎ নাওয়াজের দিকে তাকাতেই তার খাওয়া বন্ধ হয়। অল্পস্বল্প চকলেটে মেখে গেল মুখের আশপাশ। নাওয়াজ তার দিকেই এগিয়ে আসছে। আভিরা চোখ বন্ধ করে নেয়।
হাত ফসকে আইসক্রিমটা পড়ল বিছানার শুভ্র চাদরে।
সেদিকে রমণী কিংবা রমণীর দিকে নেশাগ্রস্তের ন্যায় এগিয়ে আসা পুরুষের কোনো ধ্যান নেই।

পুরুষটার নিরেট চাহনি রমণীর রক্তিম হয়ে থাকা ঠোঁট যুগলে। নাওয়াজ বুড়ো আঙুল দিয়ে মেয়েটার ঠোঁটের চারপাশে লেগে থাকা চকলেট মুছে দিল। আভিরা চোখ খিঁচে বিছানায় চাদর খামচে ধরে। হঠাৎ অনুভব করল তার উপর কেউ ঝুঁকে আসছে, যার নিঃশ্বাস ঠোঁট গলিয়ে গলার ধারে ঠেকেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here