#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৩৬
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
– আঞ্জুম।
– জি।
– হয়েছে?
– না। জামার চেইনটা লাগাতে পারছি না।
– আমি আসব?
জবাব এলো না। মেয়েটা এমন নিশ্চুপ হয়ে গেল কেন।
নাওয়াজ আবারও জানতে চাইল। তবে এবার আর নিজের কথা বলেনি। মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করল বর্ণাকে পাঠিয়ে দিবে কিনা। খানিকক্ষণ নিশ্চুপ থেকে রিনরিনিয়ে কণ্ঠে জবাব ভেসে এলো।
– আসুন।
নাওয়াজ ভিড়িয়ে রাখা ওয়াশরুমের দরজা ঠেলে ভিতরে পা দেয়। আভিরার কোমর সমান চুলগুলো এলোমেলো হয়ে পিঠ ছড়িয়ে। হয়তো মেয়েটাই খুলেছে কেবল। নাওয়াজ আলতো হাতে চুলগুলো সরিয়ে দিতেই চোখ আটকায় নগ্ন পিঠের মাঝ বরাবর থাকা কালো কুচকুচে তিলটাই। নাওয়াজের কী হলো কে জানে। কিয়ৎক্ষণ চেয়ে থেকে মুখ নামিয়ে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল শিরদাঁড়ায় লেপ্টে থাকা তিলে। হঠাৎ স্পর্শে আভিরা ঈষৎ কেঁপে ওঠে। মেয়েটা বোধহয় এমন অবাঞ্ছিত স্পর্শের জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
পুরুষটা সেই কখন ঠোঁট সরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু তার ঠান্ডা হাতের অবাধ বিচরণ চলছে রমণীর উন্মুক্ত পিঠে। আভিরা যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেল। এমনভাবে কেন ছুঁয়ে দিচ্ছে তাকে। সে এই পুরুষটাকে ভিতরে আসতে বলেই কী ভুল করেছে। আভিরা মুখ ফুটে কিচ্ছুটি বলতে পারলে তো। পুরুষটাকে না বলতে পারল ছুঁবেন না আর না কোনোভাবে দূরে ঠেলতে পারল। শুধু অনুভব করল তার শরীরে সামান্য জোর অবধি নেই। এই বুঝি সে ঢলে পড়বে। আভিরা সত্যিই পড়তে লাগে, তবে নিচে পড়ার আগেই আবদ্ধ হলো কারো দু হাতের বেষ্টনীতে। পুরুষটা দু হাতে তার পুরো শরীর পেঁচিয়ে নিয়েছে। আভিরা নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারল না। লেপ্টে থাকতে হলো পুরুষটার গা ঘেঁষে। পিঠ ছাড়িয়ে পুরুষটার হাত এসে থামল কাঁধের দিকটায়। আভিরা টের পেল লোকটা খুব ধৈর্য সহকারে কাঁধে লেপ্টে থাকা চুলগুলো সরাতে ব্যস্ত। তবে যতটা ধৈর্য সহকারে না চুল সরিয়েছে তার থেকেও অধৈর্য হয়ে চুম্বন আঁকল কাঁধে।
ইশ্! এত বেহায়া স্পর্শে মেয়েটা ঠিক থাকে কী করে? এমন অযাচিত ছোঁয়া ছুঁইয়ে বুঝি মেরে ফেলবে তাকে। এত দুর্বল কেন লাগছে, সামান্য ছোঁয়াতেই বা এমন বেহাল দশা কেন?
আভিরার জানা নেই। শুধু মনে হলো এমন চলতে থাকলে তার মরণ নিশ্চিত।
ঠোঁটের ছোঁয়া গাঢ় থেকে গাঢ় হলো। পুরুষটার বেগতিক শ্বাস আছড়ে পড়ছে মেয়েটার বা দিকের কাঁধে। আভিরা নিজের শরীরের ভার ছেড়ে দেয় এবার। তাতেও পুরুষটার মায়া হলো না। সে বেহায়ার মতো ছুঁয়ে দিতে লাগল রমণীর লতানো কায়া।
হঠাৎ করেই সেই স্পর্শ থামে। নাওয়াজ মেয়েটার জামার চেইন লাগিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেল। আভিরা পিছন ফিরে পুরুষটার বেরিয়ে যাওয়া দেখল না অবধি। যেমন উল্টো ঘুরে ছিল তেমন ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। তারপর মাথা ঠেকায় দেয়ালে। দেয়ালে লাগোয়া আয়নায় দেখতে পেল তার রক্তিম মুখশ্রী। কেমন রক্ত লাল হয়ে গেছে। কাঁধের দিকটায় চেয়ে দেখল সেখানটাও কেমন লালচে হয়ে রয়েছে। মেয়েটা ছুঁয়ে দিল আলতো হাতে।
আভিরা মুখে বার কয়েক পানির ঝাপটা দিয়ে নিঃশ্বাস ফেলল ঘন ঘন। তারপর নিজেকে শান্ত করে বের হলো ওয়াশরুমের দ্বার ঠেলে। ঘরে যেতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আভিরা। নাওয়াজ নেই, লোকটা থাকলে কুণ্ঠায় আড়ষ্ট হয়ে থাকতে হতো তাকে। ঐ চোখে চোখ পড়লেই তো সে মরে যাবে। আভিরা চোখ খিঁচিয়ে নেই। ঐ স্পর্শ যেন এখনও টের পাচ্ছে। হঠাৎ থরথর করে কেঁপে উঠে পুরো শরীর। খাটের কিনার ঘেঁষে বসে পড়ল মেয়েটা। লোকটা তাকে কেন এমনভাবে ছুঁতে গেল আজ। আভিরার কিছুটা মেজাজ বিগড়ায়। থম মেরে কতক্ষণ বসে থেকে উঠে দাঁড়াল। শ্বাস আটকে আসা মেয়েটা ক্ষণে ক্ষণে জোরালো শ্বাস ফেলছে।
বন্ধ ঘরের চার দেয়ালে বাড়ি খেল তা। আভিরা লম্বা লম্বা কদম ফেলে আলমারির কাছটাই গিয়ে থামে। কাঁপা হাতে আলমারির পাল্লা মেলে নিচের তাক থেকে বোরকা বের করল। একেবারে নতুন এই বোরকাটা। শাড়ির সাথে নাওয়াজ তিন, চারটা বোরকাও কিনেছে। মেয়েটা আগে বাড়ির বাইরে বের হলে বোরকা পরেই বের হতো। নাওয়াজ জানে তা। সেজন্য বোরকাও কিনেছে এই মেয়ের জন্য।
বোরকা গায়ে দিতেই বুঝল বেশ ঢিলেঢালা। যেহেতু রেডিমেড তাই এমন ঢিলেঢালা হবেই। তাছাড়া এই মেয়ের শরীরে কিছু আছে না কি? বোরকা ঢিলে হবে না তো কী হবে। আর আভিরা এত চাপিয়ে বোরকা পরেও না। খুব বেশি লুজ হলে দর্জি থেকে আধ ইঞ্চি চাপিয়ে আনবে।
শরীরের ভাঁজ আন্দাজ করা যাবে এমন টাইট ফিটিং বোরকা পরে কী লাভ। আমাদের লোক সমাজে কিছু পুরুষ আছে যারা বোরকা পরে থাকা সত্ত্বেও দেহের গড়ন অভিজ্ঞ চোখে পরখ করে। ঢিলেঢালা বোরকা পরে রাস্তায় বের হলেও এলাকার উঠতি বয়সী ছেলে থেকে চায়ের দোকানে আড্ডা দেওয়া আধ বুড়ো লোকগুলোও কেমন আড়চোখে চেয়ে থাকবে। ঢিলেঢালা বোরকার মাঝেও লোলুপ চোখে মেয়েটার গায়ের ভাঁজ আন্দাজ করতে উঠে পড়ে লাগে। আর সেখানে শরীরের সাথে আঁটসাঁট হয়ে থাকা বোরকা পরলে তো কোনো কথায় নেই।
কিছু মেয়ে আবার বোরকা পরেও শরীর দেখিয়ে বেড়ায়।
তারা হিজাব বাঁধবে এমনভাবে বুকের একাংশ দেখা যায়। আজকাল বোরকা যেন সতর ঢাকার জন্য পরা হয় না। পরা হয় ফ্যাশনের জন্য, শরীর দেখিয়ে বেড়ানোর জন্য।
_
দরজা খোলার শব্দে আভিরা পিছন ফিরে চায়। দেখল লোকটা এসেছে। মেয়েটা এক পলক চেয়ে থেকে চোখ নামিয়ে নেয়। আর চাইল না ঐ পুরুষের পানে। নাওয়াজ এসে সোজা আয়নার সামনে দাঁড়ায়। আভিরা সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। নাওয়াজ হাত বাড়াতেই আভিরা কিছুটা দূরে সরে গেল। আবার ছুঁবে নাকি। এমন করলে সে এখন বাড়ি কাঁপিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠবে। লোকে জানবে ভদ্রলোক কেমন সুযোগে অসভ্যের ন্যায় বউকে ছুঁয়ে দেয়।
আভিরাকে দূরে সরতে দেখে নাওয়াজ তপ্ত শ্বাস ফেলে বলল,
– কাছে আসুন, ছুঁবো না।
আভিরা পুরুষটার কথা মেনে নেয়। যেমন পিছিয়ে ছিল তেমন সন্নিকটে গেল পুরুষটার। কেমন ম্যানলি কড়া পারফিউমের ঘ্রাণ আসছে পুরুষটার গা থেকে। আভিরা গভীর শ্বাস নেয়। বারবার টেনে নিল সেই মাতানো ঘ্রাণ।
নাওয়াজ আভিরার চোখের কাছটাই ভাঁজ হয়ে থাকা নিকাবের অংশটুকু ঠিক করে দিল। পুরুষটা সত্যি তাকে ছোঁয়নি। কেবল কপালে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল,
– মাশাআল্লাহ সুন্দর দেখাচ্ছে।
আভিরা দাঁতে দাঁত পিষে। খানিক আগে কী অসভ্যতামিই করেছে। এখন আবার। কিন্তু এবার পুরুষটা তো তার সাথে অসভ্যতামি করেনি। মেয়েটা এমন মিথ্যা আরোপ কেমন করে দিতে পারে।
– চলুন সবাই বাহিরে অপেক্ষা করছে।
নাওয়াজ মেয়েটার হাত আঁকড়ে বের হলো। আভিরা যেন এবারও হাত সরিয়ে নিতে পারে না। বাড়ির বাইরে পা দিতেই আভিরার হাত ছেড়ে দেয় ঐ পুরুষ।
_
আভিরার গায়ে বোরকা দেখে বর্ণা বলল,
– তুমি বোরকা পরলে যে? আগে বললে আমিও পরতাম।
– আমি তো জানতাম না আপু। জানলে নিশ্চয় বলতাম।
তবে শাড়িতে কিন্তু আপনাকে মানিয়েছে বেশ।
– ভাইয়ের পছন্দ করে দেওয়া শাড়ি, মানাবেই তো। সৌভিক ভাইয়ের পছন্দ কিন্তু খারাপ না। সচরাচর পুরুষ মানুষের পছন্দ অতটা ভালো হয় না। বিশেষ করে মেয়েদের জিনিস কেনার ক্ষেত্রে। তারা বুঝে শুনে কিনে আনতে পারে না। কিন্তু ভাইয়া সবসময় ভাবির জন্য বেস্ট জিনিসটা চয়েজ করে কিনে আনবে। অথচ বিয়ের আগে ভাইয়াকে হাজার বলেও আমার জন্য একটা লিপস্টিক কেনাতে পারিনি। আর এখন বউয়ের জন্য মার্কেট ঘুরে এটা ওটা কিনে আনবে। বিয়ে হতেই পুরুষের স্বভাব এমন পাল্টে যায় এটা ভাইয়াকে না দেখলে জানা হতো না।
আভিরা নাওয়াজের দিকে তাকায়। এ লোক মনে হয় না নিজে পছন্দ করে কোনোকালে তাকে কিছু কিনে দিবে।
অথচ এ মেয়ে জানেই না বিয়ের বেনারসি থেকে শুরু করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এমনকি বাইরের মানুষের উপহার ব্যতীত যত শাড়ি মেয়েটার আলমারি দখল করে আছে সব শাড়ি নাওয়াজের পছন্দের কেনা।
ডিউটি শেষ করে ছেলেটা ঢাকায় ছুটে ছিল। বেশ কয়েকটা দোকান ঘুরে বেছে বেছে ঐ অফ হোয়াইট রঙের শাড়ি কিনে
ছিল মেয়েটার জন্য। লাল, খয়েরী, গাঢ় গোলাপি সচরাচর এই রঙের বেনারসিই কেনা হয় কনের জন্য। তবে নাওয়াজ তার বউয়ের জন্য অফ হোয়াইট রঙের বেনারসি নিয়েছিল।
এতটা রাস্তা জার্নি করে গিয়ে সেই রাতের বেলায় সব কিনে বাড়ির পথ ধরে। সারাটা রাত ছেলেটা এক মিনিটের জন্যও দু চোখের পাতা এক করতে পারেনি। আর এ মেয়ে কিনা ভাবছে ঐ পুরুষ তাকে নিজে পছন্দ করে কিছু কিনে দিবে না। মেয়েটার গায়ে থাকা বোরকাটাও যে নাওয়াজের পছন্দের কেনা তাও কী এই মেয়ে ভুলতে বসেছে।
সৌভিক বোনের মাথায় একটা গাট্টা মেরে বলল,
– এত কথা কে বলতে বলেছে তোকে।
– উফফফফ ভাইয়া। সবার সামনে আমাকে এভাবে মারবে না তো। বড়ো হয়েছি আমি।
– শুধু এদের সামনে কেন, তোকে তোর বরের সামনেও মারব।
– তুমি জীবনেও ভালো হবে না। তোমার আর মাহাদ ভাইয়ের জ্বালায় ইচ্ছে করে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে।
– তাহলে পড়ে আছিস কেন? যা চলে। তোকে কেউ আটকে রেখেছে কী?
মাহিরা চেঁচিয়ে উঠে,
– মাহাদ ভাই ভালো হচ্ছে না কিন্তু।
– তুই আমার নাম নিলি কেন? তখন তোকে কিছু বলেছিলাম আমি।
– হয়েছে থামো তোমরা। যখন তখন লেগে যাও তিন ভাইবোন। লাবণ্য কোথায়? এখনও হয়নি ওর?
নাওয়াজ মোবাইলে নজর রেখেই বলল,
– তৈরি হচ্ছে। একটু অপেক্ষা কর। চলে আসবে।
_
লাবণ্য চুলগুলো হাত খোঁপা করতে করতে বেরিয়ে এলো।
মেয়েটা কেমন হাঁপাচ্ছে। মাহাদ তীক্ষ্ণ চোখে তাকায় লাবণ্যর দিকে। লাবণ্য সেই চাহনি দেখলে তো। এই পুরুষকে তার চোখে পড়ে না কোনোকালে। মাহাদ লাবণ্যর উপর থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে বর্ণাকে চোখের ইশারায় কিছু একটা বুঝায়। বর্ণা বলতে লাবণ্য আবার ছুটে বাড়ির ভিতরে গেল। তার ব্লাউজের দুটো হুক খোলা। শরীরে যে শাড়িটা জড়ানো সেইটাও বেশ পাতলা। একটু ভালো করে খেয়াল করলেই পেট পিঠ সব বুঝা যাবে।
মেয়েটা আজ পড়ার টেবিল থেকে এক মিনিটের জন্যও ওঠেনি। কাল পরীক্ষা তার। আর আজ বাড়ির সকলে অনুষ্ঠানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। লাবণ্য যাবে না বলেই ভেবে রাখে। কিছুই পারে না সে। পরীক্ষা ছাড়া খুব বেশি বই হাতে নেওয়া হয় না তার। আজ সারাদিন অনুষ্ঠানে কাটিয়ে এলে দেখা যাবে কাল সাদা খাতা জমা দিতে হচ্ছে। কলম ঘুরিয়ে দুটো অক্ষরও লিখতে পারবে না। সে যাবে না ভেবে রাখলেই কী, নাওয়াজ এসে বলতেই কোনো আপত্তি না করে তৈরি হয়ে নেয় মেয়েটা। এ একটা মানুষের কথার উপরে কোনো কথা বলতে পারে না সে।
ইয়াজমীন সকাল থেকে বেশ কয়েকবার যাওয়ার কথা বলেছে লাবণ্যকে। কিন্তু মেয়েটা সেই যে না বলেছে হাজার বলেও রাজি করানো গেল না। আর সেই মেয়েকে নাওয়াজ একবার বলতেই টেবিল ছেড়ে উঠে তৈরি হতে গিয়েছে।
ইয়াজমীন না পেরে নাওয়াজকে বলে লাবণ্যকে যেন রাজি করায়। ছেলের কথা যে লাবণ্য অমান্য করতে পারবে না তাও জানে ইয়াজমীন। সেজন্যই ছেলেকে বলা। মায়ের কথায় নাওয়াজ লাবণ্যর ঘরে যায়। শুধু বলেছিল, তৈরি হয়ে নাও। একটু পরেই বের হব। আর কিছু বলতে হয়নি। তার এই এক কথাতেই মেনে নেয় মেয়েটা।
হাতের সামনে যে শাড়ি পেয়েছে সেইটা পরেই দৌড়ে বেরিয়ে ছিল। আয়নায় আর দেখা হয়নি নিজেকে। এমনকি চুল খোঁপা করেছিল গেট দিয়ে বের হতে হতে। তাহলে এ মেয়ে কেমন করে বুঝবে শাড়ি গলিয়ে তার শরীরের ভাঁজ বুঝা যাচ্ছে।
লাবণ্য প্রথমে আঁচল ছেড়ে দিয়েছিল। এবার ভাঁজে ভাঁজে আঁচল তুলে নেয় কাঁধে। সুযোগে চুলগুলোও আঁচড়ে নিল। কী মনে করে ড্রেসিং টেবিলে পড়ে থাকা কয়েক মুঠো চুড়িও হাতে পরে নেয়। এক নজর আয়নায় দেখে আবার দৌড় লাগায় মেয়েটা।
গাড়ির মিররে চোখ পড়তে আভিরা দেখল লোকটা কেমন কঠিন চোখে তার দিকে চেয়ে আছে। আভিরা বেশ বুঝল ঐ লোকের সাথে সামনে না বসাতে এমন চোখ মুখ শক্ত করে রেখেছে। আভিরাও ঐ কঠিন চোখে নজর তাক করে।
দেখল ধীরে ধীরে ঐ কঠিন চোখ জোড়ার চাহনি কেমন শিথিল হচ্ছে, মুখাবয়বও নমনীয় হলো।

