#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৪৩
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
– আভিরা দেখো তো শাড়িটা সুন্দর না?
– কোন শাড়ির কথা বলছেন আপু?
– ঐ একেবারে উপরের সারির কালো শাড়িটা।
আভিরা তাকাতেই নজর আটকায় কালো জর্জেট শাড়িতে।
– ভাই ঐ কালো শাড়িটা একটু দেখান তো।
দোকানদার নামিয়ে বর্ণার হাতে দিল। আভিরা ছুঁতেই বুঝল একেবারে ফিনফিনে পাতলা একটা শাড়ি। শাড়িটা দূর থেকে দেখে যতটা না নজর কেড়ে ছিল কাছ থেকে দেখার পর নাক মুখ কুঁচকে নেয়। তার নাক মুখ কুঁচকে নেওয়ার কারণ শাড়ি এত পাতলা হওয়াতে। এ শাড়ি গায়ে জড়ালে দেহের প্রতিটা ভাঁজ স্পষ্ট বুঝা যাবে।
– নিয়ে নিব এইটা?
– নিন। এ শাড়িতে ভালো লাগবে আপনাকে।
– আমার জন্য নিব না তো।
– তাহলে?
– তোমার জন্য।
– আমার জন্য মানে? আমার জন্য কেন?
– তোমাদের বিয়ে উপলক্ষ্যে।
আভিরা কপাল কুঁচকায়। বিয়ে উপলক্ষ্যে তো উপহার উপঢৌকন দেওয়া হয়েছে।
– বিয়েতে তো দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার কেন?
– ঐটা তোমার ভাইয়ার টাকায় কেনা উপহার ছিল। এই শাড়ি আমার নিজের উপার্জনে কেনা।
– আমি এই শাড়ি নিতে পারব না। তাছাড়া বিয়েতে অনেক শাড়ি পাওয়া হয়েছে। আলমারি ভর্তি শাড়ি দিয়ে। আমি এত শাড়ি দিয়ে কী করব। এইটা বরং আপনি নিয়ে নেন। আমি তো শাড়ি পরতেও পারি না।
– শাড়ি পরতে পারো না এই অজুহাত দিবে না শাড়ি না নেওয়ার জন্য। আমি আছি, শিখিয়ে দেবো কীভাবে শাড়ি পরতে হয়।
– কিন্তু আমি এই শাড়ি…
বর্ণা আভিরার বারণ শুনে না। দোকানদারকে বলল,
– শাড়িটা প্যাকেট করে দিন।
আভিরা তা দেখে কিছুটা মিনমিন করে বলল,
– আপু এই শাড়ি রেখে অন্য কোন শাড়ি দেখলে হয় না?এইটা নেওয়ার দরকার নেই।
– কেন পছন্দ হয়নি?
– হয়েছে।
– তবে?
– এই শাড়ি অনেক পাতলা।
– তো কী হয়েছে?
– শরীরের ভাঁজ বুঝা যাবে এই শাড়ি পরলে।
– তাতে তো সমস্যার কিছু নেই। এই শাড়ি পরে তো তুমি বাইরে বের হবে না। ঘরে পরবে। নাওয়াজের সামনে, রাতের বেলা।
বলেই হো হো করে হেসে উঠল। আভিরা লজ্জায় মাথা নামিয়ে ফেলে। দোকানের কর্মচারীরা তাদের দিকে কিছুটা অবাক হয়ে চেয়ে আছে। বর্ণা হাসি থামিয়ে আভিরার দিকে ফিরে বলল,
– তুমি জানো ইসলাম নির্দেশ দেয় যে স্ত্রী যেন ঘরেও স্বামীর জন্য সর্বোত্তম সাজসজ্জা করে থাকে। স্বামীর উদ্দেশ্যে সাজসজ্জা করা একটি ইবাদত। অন্যের বেলায় নারীর সর্বাঙ্গ আবৃত রাখা ফরজ হলেও স্বামীর সামনে একান্তভাবে মিহি পোশাক পরা যাবে। স্বামীর সামনে নিজেকে যতটা খোলামেলাভাবে মেলে ধরা যায়।
আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, ‘‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) কে প্রশ্ন করা হলো, কোন নারী উত্তম?’
তিনি বললেন, ‘যে নারীর দিকে তাকিয়ে স্বামী খুশি হয়ে যায়, যে নারী স্বামীর আদেশ পালন করে এবং নিজের সত্তা ও ধনসম্পদের ব্যাপারে স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায় না।’’ (আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ি, হাদিস: ৫৩৪৩)
যেখানে ইসলাম প্রদত্ত নির্দেশ রয়েছে স্বামীর সামনে নিজেকে শোভনীয়ভাবে মেলে ধরার সেখানে এসব শুনে লজ্জায় কুঁকড়ে কেন যাচ্ছ। এতে লজ্জায় কুঁকড়ে যাওয়ার কিছু নেই। এসব তোমাকে জানতে হবে। নাওয়াজ নিশ্চয় সারাদিন বাইরে কাটিয়ে ঘরে এসে তোমাকে আকর্ষণীয় সাজসজ্জায় দেখে অভিভূত হবে। তোমার উচিত নিজেকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা। যাতে তোমাকে দেখে তোমার স্বামীর চোখের প্রশান্তি মেলে।
অবশ্য তুমি অকওয়ার্ড ফিল করবে এমন কিছু করতে যাবে না। তোমার সাধারণ রূপেই নাওয়াজ আকৃষ্ট হয়। তবে নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা তো খারাপ কিছু না। যেই সাজসজ্জা একান্তই তোমার স্বামীর জন্য সেই সাজ সাজতে কখনো দ্বিধা করবে না।
আভিরা আর কিছু বলে না। এসব কথা সে জানে। স্বামীর জন্য সাজসজ্জা করার নির্দেশ ইসলাম দিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের নারীরা স্বামীর সামনে সাজগোজ করতে কুণ্ঠা বোধ করে। অথচ বাহিরে বের হলে দিব্যি সেজেগুজে বের হবে। কিন্তু আমাদের যত সাজসজ্জা শুধু স্বামীর সামনে, পরপুরুষের সামনে পর্দার আড়ালে থাকার কঠোর নির্দেশ রয়েছে।
_
– কী খাবে?
– আমি কিছু খাব না।
বর্ণা কিছুটা বিরক্তি নিয়ে তাকায় আভিরার পানে। এ মেয়ের দেখছি সবকিছুতেই না, না।
– না শব্দটা ছাড়া আর কিছু জানো না?
বর্ণার এমন রাগান্বিত কণ্ঠে আভিরা কিছুটা ভড়কে গেল। দ্বিধা নিয়ে বলল,
– মানে?
– জিজ্ঞেস করেছি কী খাবে, তার জবাব নিশ্চয় কিছু খাব না হওয়ার কথা নয়। সবকিছুর জবাবে না বলতে নেই।
আভিরা হঠাৎ ঠোঁট উল্টায়। আজ ভালোই ফ্যাসাদে পড়েছে সে। কেন যে বর্ণার সাথে বের হতে গেল। মুখ ফুলিয়ে বলল,
– কোল্ড কফি খাব।
– শুধুই কোল্ড কফি?
– আপনার যা ভালো লাগে অর্ডার দিন।
– নাওয়াজকে নিশ্চয় তোমার জন্য অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। প্রতিটা কথায় এত মিনমিন করো কেন? সোজাসাপ্টা জবাব দিতে পারো না। নিজের পছন্দের কথা বলতে সমস্যা কোথায়?
আভিরা এবার অসহায় চোখে তাকায়। মাহিরা এমন চাহনি দেখে হেসে উঠল। বর্ণাকে বলল,
– হয়েছে। ভাবি ছেড়ে দাও।
– ছেড়ে দিব কেন? এগুলো তো ভালো অভ্যাস না।
– আমাদের সামনে হয়তো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না। ছোটো মানুষ তো। আস্তে ধীরে বয়সের সাথে সাথে স্বভাবেও পরিবর্তন আসবে। সারাক্ষণ তো ঘরের ভিতরে কাটিয়েছে। বাহিরের মানুষের সাথে খুব একটা চলাফেরা না করার দরুন এমন।
বর্ণা আর কিছু বলে না। আভিরার দিকে চেয়ে বলল,
– পিজা অর্ডার দেই? খাও তো?
আভিরা উপর নিচ মাথা নাড়ায়। তার এমন বাচ্চামোতে সকলে হেসে উঠল। বর্ণা হাসতে হাসতে বলল,
– এই মুহূর্তে নাওয়াজকে মিস করছি। আভিরার এমন রূপে ওর মাথা খারাপ হয়ে যেত নিশ্চয়।
আভিরার মুখের হাসি গায়েব হয়ে গেল যেন। লোকটাকে তো সেও মিস করছে। বিয়ের পর এই প্রথম বের হলো। অথচ সাথে ঐ লোক নেই। আভিরা মুখ ভার করে বসে রইল পুরোটা সময়।
_
– আপু, অন্যদিকে যাই।
– কেন এখানে কোন সমস্যা হচ্ছে কি?
– না।
দ্বিতল ভবনের ছাদের উপরে করা হয়েছে এ রেস্তোরাঁ।
পরিবেশটাও চমকপ্রদ। সবুজ গাছাগাছালি দিয়ে ঘের দেওয়া। রুফ টপ থেকে চারপাশে থাকা সবকিছু নজর বন্দি করা সম্ভব। ওরা এখানে বসেছে মিনিট দশেক হবে। এমন মনোমুগ্ধকর জায়গায় তো সারাদিন বসে থাকা সম্ভব। আর এ মেয়ে কিনা এখান থেকে যাওয়ার কথা বলছে।
বর্ণা তীক্ষ্ণ চোখে তাকায়। মেয়েটার চোখে মুখে স্পষ্ট অস্বস্তি। তারপরও বলছে কিছু হয়নি। এ মেয়ে এমন কেন। নিজের সমস্যার কথাও বলতে চায় না।
– কী হয়েছে বলো?
আভিরা মাথা নামিয়ে বলল,
– এখানে অনেক ভিড়। আমার ভালো লাগছে না। এখান থেকে চলুন।
– আচ্ছা।
ওরা বিল মিটিয়ে বের হলো। ভয়ে কেমন আড়ষ্ট হয়ে আছে আভিরা। চোখ এদিক ওদিক করে সামনে পা বাড়ায়। ভিড়ের মাঝে মনে হলো কেউ তার কোমরে স্পর্শ করেছে। আভিরার ভিতরটা ধক করে ওঠে। কে ছুঁয়েছে তা দেখার প্রয়াস অবধি করল না। তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি বেয়ে নামতে গিয়ে একেবারে নিচে পড়ে মেয়েটা।
_
রেস্তোরাঁয় পা রাখতেই চোখে পড়ল আভিরা পায়ে হাত রেখে ফুঁপিয়ে যাচ্ছে। নাওয়াজ বড়ো বড়ো পা ফেলে মেয়েটার কাছে এগিয়ে যায়। হাঁটু গেড়ে আভিরার সামনে বসে বলল,
– আঞ্জুম।
মেয়েটা ব্যথাতুর চোখে চাইল। কান্নার দরুন মেয়েটার চোখ মুখ লাল হয়ে এসেছে। আভিরার এমন ক্রন্দনরত রক্তাভ মুখাবয়ব দেখে নাওয়াজের বুক মোচড় দিয়ে ওঠে। নাওয়াজের মনে হলো এ ক্রন্দনরত মুখশ্রী অসহায় চোখে চেয়ে দেখা ছাড়া যেন তার দ্বারা আর কিছুই করা সম্ভব নয়। পায়ের ঘা তো এখন অবধি পুরোপুরি সারেনি। তার মাঝে আবার আঘাত পেল। নাওয়াজ ফোলা ফোলা গাল দু হাতের আঁজলায় নিয়ে মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করল,
– খুব বেশি ব্যথা করছে? আসতে নিষেধ করেছিলাম আপনাকে।
আভিরা কথা বলে না। আশেপাশের সকলে তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। সেদিকে এদের কারো খেয়াল নেই। রমণী তো ব্যথায় ছটফট করে চলেছে। আর ঐ পুরুষের কে তাকিয়ে আছে না আছে তাতে কোনো মাথা ব্যথা নেই।
নাওয়াজ পায়ে হাত দিতে গেলে আভিরা বুজে আসা গলায় বলল,
– ব্যথা পাব।
– পাবেন না ব্যথা।
– ছুঁবেন না।
আভিরাকে ছটফট করতে দেখে নাওয়াজ বলল,
– ছটফট করবেন না। শান্ত হয়ে বসুন। আমাকে ধরুন, ব্যথা পেতে দিব না আপনাকে।
মেয়েটা দু হাতে জাপটে ধরে নাওয়াজের বুকে মুখ গুঁজে।
নাওয়াজ পায়ে হাত দিতেই আর্তনাদ করে উঠল। কিছুটা সংকোচ নিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বলল,
– আমাকে কেউ ছুঁয়ে ছিল।
নাওয়াজ হঠাৎ পা থেকে হাত সরায়। মাথা তুলে বুকে লেপ্টে থাকা রমণীর পানে চেয়ে বলল,
– কে ছিল দেখেছেন?
– উহু।
নাওয়াজ আর কিছু জানতে চায় না। পড়ে মেয়েটার পা মচকে গিয়েছে বোধহয়। সে ডান পা সামান্য ঘুরাতেই আভিরা খামচে ধরে নাওয়াজের পিঠ। ধারালো নখ ডাবিয়ে দেয় পিঠে। তার যেন আত্মা বেরিয়ে যাবে।
_
– কী করছেন?
রিনরিনে স্বর কানে আসতে আব্দুল্লাহ চোখ বন্ধ করে নেয়। ওর কোনো প্রত্যুত্তর না পেয়ে ওপাশের মানুষটা আবার বলল,
– কী হলো? বলছেন না কেন?
– ফোন কেন দিয়েছ?
– কোথায় আছেন জানার জন্য।
– জেনে কী করবে?
– জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন কেন করছেন?
আব্দুল্লাহ বিরক্তিতে চ সূচক শব্দ করে। সে কোথায় আছে না জানা অবধি এ মেয়ে প্রশ্ন করেই যাবে। কিছুটা কর্কশ গলায় বলল,
– বাহিরে আছি। ফোন রাখো।
মেয়েটা কল কাটে না। স্ক্রিনে সময় দেখে নিল বারোটার উপরে বাজে। এ শীতের রাতে এত সময় অবধি বাহিরে কেন থাকতে হবে বুঝে এলো না তার।
– বাড়ি ফিরবেন কখন?
– জানি না।
– অনেক রাত হয়েছে। আর বাহিরে থাকার দরকার নেই। বাড়ি ফিরে যান।
আব্দুল্লাহ মুখ থেকে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল,
– তোমার কথা শুনতে বাধ্য নই।
এমন কথায় ওপাশের মানুষটা খানিকক্ষণের জন্য নিশ্চুপ হয়ে যায়। সেকেন্ড কয়েক বাদে কিছুটা রুক্ষ স্বরে বলল,
– গায়ে নিশ্চয় জ্যাকেট নেই।
আব্দুল্লাহর কণ্ঠ এবার যেন নমনীয় হয়ে আসে। চেয়েও ধমকাতে পারল না মেয়েটাকে। হাতের জ্বলন্ত সিগারেট পায়ে মাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল,
– না বলতেই বুঝে যাও কী করে?
মেয়েটা মৃদু হাসে। তার ঐ হাসির ঝংকার যেন তীব্র বেগে তার কানে এসে লাগে।
– আপনার ক্ষেত্রে কীভাবে যেন বুঝে যাই, না বলতেই বুঝতে হয়।
– কেন?
– কারণ আপনি নিজের বেলায় বড্ড বেখেয়ালে।
_
– এখানে যে নিয়ে এলেন আকাশে তো চাঁদের দেখা নেই। অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশ দেখে কী করব?
নাওয়াজ দু হাতে মেয়েটাকে পেঁচিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকায়। অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশে চেয়ে বলল,
– একই সঙ্গে দুই চাঁদের দেখা মিলতে নেই।
– মানে? চাঁদ তো একটাই। দুই চাঁদের কথা বলছেন কেন?
– কারণ এক চাঁদ আমার বুকে মিশে রয়েছে। সেজন্য আকাশের চাঁদের দেখা নেই।
আভিরা কিছুটা বিব্রত বোধ করে। এ লোকের মুখে এসব শুনে অভ্যস্ত নয় সে। নাওয়াজ মেয়েটাকে নিশ্চুপ থাকতে দেখে বলল,
– কফি খাবেন?
– হু।
– আচ্ছা বানিয়ে নিয়ে আসছি।
– আমিও যাব সাথে, আমাকে নিয়ে চলুন।
নাওয়াজ মেয়েটাকে নিয়ে নিচে নেমে আসে। আভিরাকে রান্নাঘরে থাকা টুলে বসিয়ে সে একে একে ক্যাবিনেট থেকে সব নামিয়ে নেয়। চায়ের কাপ নামাতে দেখে আভিরা বলল,
– আপনি চা খাবেন?
– হুম।
– রং চা?
– হ্যাঁ।
– আমি বানিয়ে দেব?
– আপনি বানাবেন?
– হুম।
– আচ্ছা বানান তবে। বিয়ের এতদিন হয়ে গেল বউয়ের হাতে এক কাপ চা খাওয়া হলো না। অথচ কবে থেকে আপনার হাতে বানানো চা খাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম।
– অপেক্ষায় ছিলেন কেন?
– আমার বউ খুব ভালো চা বানাতে জানে সেজন্য।
– এ কথা আপনাকে কে বলেছে?
– আপনার বাবা।
নাওয়াজ খেয়াল করল বাবার কথা উঠতেই মেয়েটার হাত কেমন থেমে যায়। নাওয়াজ হালকা আওয়াজ করে বলল,
– বাবার বাড়ি যেতে চান?
আভিরা আনমনে হু বলে। বাবার বাড়ি যাওয়া হয় না আজ বহুদিন। লোকটা বলেছিল তার পা কিছুটা ঠিক হলে নিয়ে যাবে। কিন্তু নিয়ে যায়নি। আসছে শুক্রবার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ আবার পায়ে চোট পেয়েছে। নাওয়াজ তাকে কোনোভাবেই এ অবস্থায় বাবার বাড়ি নিয়ে যাবে না তা সে জানে। হঠাৎ আভিরার চোখে পানি আসে।
নাওয়াজ মুখ নামিয়ে আভিরার কাঁধে থুতনি ঠেকাতে আভিরা কেঁপে ওঠে।
– আপনার বাবার আর আপনার জানা উচিত এই ইয়াজিদ তার পাখিকে বন্দি করতে জানে না। সে তার পাখিকে উড়তে দেখতে চায়। তবে সঙ্গী হিসেবে যেন কেবল এই ইয়াজিদকে চাওয়া হয়। নয়তো ডানা ঝাপটে উড়তে থাকা পাখির ডানা কাটতে জানে এই ইয়াজিদ।
আভিরা নিশ্চুপ রয় আগের মতোই। নাওয়াজ থুতনিতে মুখ ঠেকিয়েই তার ঠান্ডা হাতে মেয়েটার কটিদেশ ছুঁয়ে বলল,
– কোথায় ছুঁয়ে ছিল? এখানে?
আভিরা কথা বলতে পারে না। কুণ্ঠায় অসাড় হয়ে আসে। মৃদু স্বরে জবাব দিল,
– হু।
নাওয়াজ কামিজের কাপড় উপরে তুলতেই আভিরা চোখ খিঁচিয়ে নেয়। নাওয়াজ মুখ নামিয়ে গাঢ় চুম্বন আঁকল রমণীর সুডৌল কোমরে। শক্ত হাতে কটিদেশ চেপে ধরে বলল,
– ঐ ছোঁয়া মুছে নাওয়াজ ইয়াজিদের ছোঁয়া এঁকে দিলাম।আপনার শরীরের প্রতিটা ভাঁজে কেবল ইয়াজিদের ছোঁয়া থাকবে। আমার ছোঁয়ায় শিহরিত হবে আপনার সর্বাঙ্গ।

