প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন #পর্বসংখ্যা_৪৭

0
2

#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৪৭
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা

আভিরার এখন ব্যস্ত সময় কাটে। সরকারি কলেজে ভর্তি হয়েছে সে। একদিক দিয়ে ভালোই হলো। বাড়ি থেকে, এ লোকের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে না তাকে। নয়তো মেডিকেলে চান্স পেলে তাকে নিশ্চয় হোস্টেলে থাকতে হতো। নয়তো বা আলাদা বাসা নিয়ে। নাওয়াজ যেহেতু এখানকার হসপিটালে ডাক্তারি করে তার পক্ষেও মেয়েটার সাথে থাকা সম্ভব হতো না। বাড়ি থেকে দূরে একা একলা কোথাও থাকার কথা আভিরা ভাবতেও পারে না। অচেনা শহরে, অচেনা মানুষের ভিড়ে গুটিয়ে থাকতে হতো তাকে। দেখা যেত একা থাকতে গিয়ে হাজারটা ঝামেলায় পড়তে হবে। চান্স না পাওয়াতে তারই সুবিধা হয়েছে। এসব ঝামেলা থেকে রেহাই পেল সে। তবে সমস্যা যেন রয়েই যায়। মেয়েটা বাসে চড়তে পারে না একেবারে, বমি করে একাকার করে ফেলে। এ জন্য ভর্তির পরে প্রথম কয়েক দিন ভার্সিটিতেই যায়নি ও। অবশ্য শুরুর দিকে ক্লাস না করলেও চলে। কিন্তু একদিন দুদিন করে দু সপ্তাহ হয়েছে মেয়েটা ভার্সিটিতে যায় না। এভাবে আর কতদিন। কতদিন ক্লাস না করে থাকবে সে।

নাওয়াজ তাকে বলেছিল আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে। হাতে যা আছে বাকিটা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে একটা গাড়ি কিনে দিবে। তাহলে রোজ রোজ মেয়েটাকে আসা যাওয়া নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হবে না। এমন কথা শুনেই আভিরা রেগে যায়। কয়েক ঘণ্টার রাস্তার জন্য গাড়ি কিনতে হবে কেন, তাও আবার লোন নিয়ে। তবে নাওয়াজ তার কথা শুনলে তো। মাস ঘুরতেই গাড়ি কিনে নেয়। এ মেয়ের বেলায় সে যেন কোনোক্রমে হেলাফেলা করতে পারে না।

আভিরা উঠে বোরকা পরে নেয়। নাওয়াজকে সকাল সকাল হসপিটালের জন্য বেরিয়ে যেতে হয়। চাইলেও মেয়েটাকে ভার্সিটিতে দিয়ে আসতে পারে না। তবে ড্রাইভার রেখে দিয়েছে। ভার্সিটি যেতে আজ দেরি হয়ে গেল অনেকটা। অন্য ডিপার্টমেন্টগুলোর মতো তাদের সপ্তাহে তিন দিন কী চার দিন ক্লাস করলে হয় না। প্রতিদিন ক্লাস থাকে। কিন্তু মাঝে কয়েক ঘণ্টা গ্যাপে গ্যাপে। এই এক কারণে ভার্সিটিতে আসতে বিরক্ত লাগে মেয়েটার। এই এখন প্রথম ক্লাস করে বসে আছে। পরের ক্লাস দেড় ঘণ্টা পর। হৈ হুল্লোড়ে মাথা ব্যথা করছে তার। একেকজন বাচ্চাদের মতো চিৎকার চেঁচামেচি করছে, কেউ আবার গোল হয়ে বসে আড্ডায় মেতে আছে। আভিরা ব্যাগ নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। কারো সাথে তেমনভাবে কথা হয়নি তার। আসবে, ক্লাস করবে, চলে যাবে। আগ বাড়িয়ে কারো সাথে কথা বলার অভ্যাস নেই তার। আর মেয়েটা অপরিচিত মানুষের সাথে এত সহজে ভাব জমাতে পারে না। যার দরুন ক্লাসের কারো সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠেনি।

ভার্সিটির মাঠে পা ভাঁজ করে বসল আভিরা। সিনিয়র ছেলেপেলে ফুটবল খেলছে। মেয়েটা একেবারে শেষ প্রান্তে বসেছে। যেন বল এসে কোনোভাবে গায়ে না লাগে। এই শীতের দিনে বল লাগলে ব্যথায় জর্জরিত হবে শরীর। টুং টাক শব্দ হতে আভিরা ফোন হাতে নেয়। কপাল কুঁচকে চেয়ে রইল ফোনের দিকে।

গেটের কাছে আসুন।

নাওয়াজের নাম্বার থেকে এমন একটা মেসেজ দেখে কতক্ষণ থম মেরে বসে রইল। পরপর আবার মেসেজ এলো।

কী হলো আসছেন না কেন? আমি আসব?

আভিরা জবাব না দিয়ে ব্যাগ হাতে গেটের ধারে গেল। নজরে এলো লোকটা গাড়িতে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে তার পাঞ্জাবি। আভিরার স্পষ্ট মনে আছে লোকটা সকালে শার্ট পরে বেরিয়ে ছিল। তবে পাঞ্জাবি পরল কখন? আর এই ভরদুপুরেই বা কোথায় যাবে? তার অত শত ভাবনার মাঝে নাওয়াজ তার কাছে আসে। গমগমে স্বরে বলল,
– আসুন।

আভিরা গাড়িতে উঠে বসল। গাড়ি কিনলেও একসাথে কোথাও বের হওয়া হয়নি তাদের। নাওয়াজ আজ হসপিটাল থেকে অন্যদিনের তুলনায় আগেই বের হয়েছে। আজ তার রোগী নেই খুব একটা। তাছাড়া রোজ রোজ রোগী দেখা, চেম্বারে বসা এসবে কিছুটা বিরক্ত সে। বাড়ি গিয়ে হঠাৎ মনে হলো আগেই যেহেতু এসেছে মেয়েটাকে ভার্সিটি থেকে আনতে গেলে ব্যাপারটা মন্দ হয় না।
আজকাল আভিরাকে খুব একটা সময় দেওয়া হয় না তার। অবশ্য সে সময় দেয়ই বা কখন। যতটা সম্ভব দূরত্ব বাড়িয়ে রাখে। তার দোষ নেই এতে। কাছে গেলেই মেয়েটাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে। তাতেই তার যত সমস্যা, এত দূরত্ব এই কারণেই। যেন সে ছুঁয়ে দিলেই অনিষ্ট হয়ে যাবে।

আভিরার বিস্ময় যেন কাটছে না। চুপচাপ বসে রইল মেয়েটা। টু শব্দটিও করে না। দৃষ্টি বাইরে দেয়। গাড়ির তীব্র হর্নে বিরক্তি ঘিরে ধরেছে তাকে। ধুলাবালি উড়তে ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে নিল। এদিকে রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। রাস্তার পাশে ফেলা রাখা বালি গাড়ির টায়ারে পিষ্ট হয়ে উড়ে আশপাশ একেবারে ঢেকে দিচ্ছে যেন। নাওয়াজ কিছুটা স্পিড বাড়িয়ে দিল এবার। রাস্তা খানিকটা ফাঁকা। দ্রুত ব্রেক কষে সে, আভিরা হঠাৎ সামনে ঝুঁকে পড়ল। হকচকিয়ে নাওয়াজের দিকে চায়। হঠাৎ এমন মাঝ রাস্তায় গাড়ি কেন থামিয়েছে বুঝে এলো না তার।

নাওয়াজ মেয়েটাকে নিয়ে রেস্তোরাঁয় গেল। দুপুর সময়। খাওয়া হয়নি কারোরই। সে বাড়ি গেলেও না খেয়েই বেরিয়ে এসেছিল। ভাবনায় রেখেছিল আজ মেয়েটার সাথে বাহিরে লাঞ্চ করবে।

– কী খাবেন?

– আপনার যা ভালো লাগে অর্ডার দিন।

– আপনার আর আমার পছন্দ তো এক না। এমনও হতে পারে আমি যে খাবার অর্ডার দিব তা আপনার একেবারে অপছন্দের। তখন চেয়েও বলতে পারবেন না এটা আপনার অপছন্দের খাবার, খেতে পারবেন না। অস্বস্তি হবে বলতে। যেহেতু প্রথমেই আমার যা ভালো লাগে অর্ডার করতে বলেছেন। আর আমি নিশ্চয় আমার পছন্দের খাবার ছাড়া অন্য কিছু অর্ডার করব না। অপছন্দের খাবার খাওয়ার থেকে ভালো নয় কী মুখ ফুটে নিজের পছন্দের কথা বলা?

– জি।

– তাহলে বলুন।

আভিরা মিনমিন করে বলল,
– ভাত আর ডিম পোচ।

– সাথে অন্য কিছু? মাংস কিংবা মাছের কোন আইটেম?

আভিরা একটু ঝুঁকে এলো নাওয়াজ দিকে। একেবারে ফিসফিস করে বলল,
– শিং মাছের ঝোল পাওয়া যাবে?

নাওয়াজ মেয়েটার এমন কাণ্ডে হেসে উঠল। সেও একই স্বরে বলল,
– জানা নেই তো। দাঁড়ান ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করে দেখি আছে কিনা।

আভিরা নাওয়াজের বাহু আঁকড়ে ধরে। চাপা স্বরে বলল,
– থাক, লাগবে না।

– লাগবে না কেন?

– এমনি।

– আপনার এই স্বভাব আমার পছন্দ না আঞ্জুম। বুঝানোর পরও আপনি একই কাজ করেন। তখন বললাম না নিজের অপছন্দের কিছু করতে যাবেন না। এতে লস আপনারই। আর এইটা বাঙালি হোটেল। এখানে শিং মাছের ঝোল পাওয়া আহামরি কিছু না। আপনি বললে ওরা হয়তো ছোটো মাছের চ্চরিও দিতে পারবে। এই মাছ কিন্তু সিজনাল। বর্ষাকাল ছাড়া ছোটো মাছ পাবেন না।

আভিরা চুপ করে রইল। ঝাল ঝাল শিং মাছের ঝোল দিয়ে গরম গরম ধোঁয়া উঠা ভাত খেল মেয়েটা। সাথে কাঁচা মরিচ। মেয়েটা তৃপ্তি নিয়ে খেল। ঐ লোক মাটান কষা আর রুই মাছ দিয়ে খাচ্ছে। হঠাৎ নাওয়াজ কিছুটা ঝুঁকে এলো।

– দেখি হা করুন।

মেয়েটা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে হা করল। শেষ লোকমাটা তার মুখে দিয়েছে নাওয়াজ। হঠাৎ তাযীমের কথা মনে পড়ে। বিয়ের আগে মায়ের হাতে শেষ লোকমা কে খাবে তা নিয়ে সে আর তাযীম একপ্রকার হুমড়ি খেয়ে পড়ত। মাখা ভাতের শেষ লোকমার স্বাদ যেন অমৃত।

মেয়েটার মুখে পানি লেগে আছে। নাওয়াজ আলতো হাতে তা মুছিয়ে দিতে আভিরা কেঁপে ওঠে।

_

আভিরা চোখ বড়ো বড়ো করে তাকিয়ে আছে। তার চোখে মুখে স্পষ্ট বিস্ময়। নাওয়াজ তাকে এখানে নিয়ে আসবে তার যেন বিশ্বাস হচ্ছে না। অবিশ্বাস্য চোখে চেয়ে দেখছে চারদিক। নাওয়াজ দুটো টিকিট কেটে নিল। ভিতরে যেতে চোখে পড়ল অসংখ্য মানুষের সমাগম। তিনটা বাজে এখন। পাঁচটা বাজতেই বন্ধ করে দেওয়া হবে। দু ঘণ্টার মধ্যে পুরো এরিয়া ঘুরে আশপাশের সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা যাবে।
প্রবেশদ্বার থেকে একটু এগোতে চোখে পড়ল দু পাশে সারি সারি গাছ লাগানো। একই ধরনের গাছ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে। কয়েকটা গাছ চিনলেও বাকিগুলো চিনতে পারল না আভিরা। ইটের ফলকে খোদায় করে লেখা শালবন বিহার। আভিরার এই প্রথম এখানে আসা। আগে কখনো আসা হয়নি। মেয়েটা বাড়ির বাইরে খুব একটা যেত কই। এত দূর আসা হবে কী করে? বাবারও সময় কাটত কর্ম ব্যস্ততায়।

শালবন বিহার। কুমিল্লার ময়নামতিতে খননকৃত সব প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে শালবন বিহার প্রধান। বাংলাদেশের ময়নামতি ধ্বংসাবশেষের মধ্যে পাওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ স্থান। কোটবাড়িতে বার্ডের কাছে লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় এ বিহারটির অবস্থান। ১৬৮ বর্গ মিটার জায়গাটি লালম্বি বনের সীমান্তবর্তী সমতট রাজধানী দেবপর্বত। স্থানটি আগে শালবন রাজার বাড়ি বা শালবনে রাজার বাসভবন নামেও পরিচিত ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকালে পোড়ামাটির সীল এবং তামার প্লেটগুলিকে একটি আবাসিক বৌদ্ধ বিহারের অবশিষ্টাংশ হিসাবে চিহ্নিত করার পর এটিকে শালবন বিহার নামে আখ্যায়িত করা হয়। তাছাড়া বিহারটির আশপাশে একসময় শাল-গজারির ঘন বন ছিল বলেও এ বিহারের নামকরণ হয়েছিল শালবন বিহার। এর সন্নিহিত গ্রামটির নাম শালবনপুর। এখনও ছোটো একটি বন আছে সেখানে। এ বিহারটি পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের মতো হলেও আকারে ছোটো।
১৮৭৫ সালের শেষ দিকে বর্তমান কোটবাড়ি এলাকায় সড়ক তৈরির সময় একটি ইমারতের ধ্বংসাবশেষ উন্মোচিত হয়। সে সময় আবিষ্কৃত ধ্বংসাবশেষকে একটি দুর্গ বলে অনুমান করা হয়েছিল। ১৯১৭ সালে ঢাকা জাদুঘরের অধ্যক্ষ নলিনী কান্ত ভট্টাশালী সে এলাকায় যায় এবং উক্ত এলাকায় অনুসন্ধান পরিচালনাকালে ধ্বংসাবশেষটিকে রণবংকমল্ল হরিকেল দেবের তাম্রশাসনের (খ্রিষ্টীয় তেরো শতক) দুর্গ ও বিহার পরিবেষ্টিত পট্টিকেরা নগর বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যদিও অপর প্রত্নতাত্ত্বিকদের মত অনুযায়ী এটি ছিল জয়কর্মান্তবসাক নামক একটি প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ। যদিও অধিক সমর্থিত একাধিক মত অনুযায়ী ধারণা করা হয় যে খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেব বংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন। শালবন বিহারের ছয়টি নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়। খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয় ও বিহারটির সার্বিক সংস্কার হয় বলে অনুমান করা হয়। চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের নির্মাণ কাজ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নবম-দশম শতাব্দীতে। আকারে এটি চৌকো। শালবন বিহারের প্রতিটি বাহু ১৬৭.৭ মিটার দীর্ঘ। বিহারের চারদিকের দেয়াল পাঁচ মিটার পুরু। কক্ষগুলো বিহারের চারদিকের বেষ্টনী দেয়াল পিঠ করে নির্মিত। বিহারে ঢোকা বা বের হওয়ার মাত্র একটাই পথ ছিল। এ পথ বা দরজাটি উত্তর ব্লকের ঠিক মাঝামাঝি স্থানে রয়েছে। প্রতিটি কক্ষের মাঝে ১.৫ মিটার চওড়া দেয়াল রয়েছে। বিহার অঙ্গনের ঠিক মাঝে ছিল কেন্দ্রীয় মন্দির। বিহারে সর্বমোট ১৫৫টি কক্ষ আছে। কক্ষের সামনে ৮.৫ ফুট চওড়া টানা বারান্দা ও তার শেষ প্রান্তে অনুচ্চ দেয়াল। প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে তিনটি করে কুলুঙ্গি রয়েছে। কুলুঙ্গিতে দেবদেবী, তেলের প্রদীপ ইত্যাদি রাখা হতো। বিহারটি পাহাড়পুর শৈলীতে নির্মিত হয়েছিল যা এর বড়ো আকার এবং আয়তক্ষেত্রাকার বিন্যাসের বৈশিষ্ট্য যুক্ত। বিহারের মূল কাঠামোটি ছিল একটি কেন্দ্রীয় আঙিনা, যা সন্ন্যাসীদের জন্য একাধিক কক্ষ দ্বারা বেষ্টিত। এটি অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে বৌদ্ধ শিক্ষা ও সংস্কৃতির একটি প্রধান কেন্দ্র ছিল। অনুমান করা হয় যে মঠটিতে একসময় এক হাজার জনেরও বেশি সন্ন্যাসী বাস করত। বিহারটি একটি প্রধান তীর্থস্থানও ছিল। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা থাকতেন এ কক্ষগুলোতে। সেখানে বিদ্যা শিক্ষা ও ধর্ম চর্চা করতেন তারা। প্রাঙ্গণটি একটি মন্দির, একটি স্তূপ এবং একটি জলের ট্যাঙ্কসহ বেশ কয়েকটি ধর্মীয় কাঠামোর আবাসস্থল ছিল। বিহারের বাইরে প্রবেশদ্বারের পাশে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি হলঘর রয়েছে। চারদিকের দেয়াল ও সামনে চারটি বিশাল গোলাকার স্তম্ভের ওপর নির্মিত সে হলঘরটি ভিক্ষুদের খাবার ঘর ছিল বলে ধারণা করা হয়। হলঘরের মাপ ১০ মিটার গুণন ২০ মিটার। হলঘরের চারদিকে ইটের চওড়া রাস্তা রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে বিহারটির ধ্বংসাবশেষ থেকে আটটি তাম্রলিপি, প্রায় ৪০০টি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা, অসংখ্য পোড়া মাটির ফলক বা টেরাকোটা, সিলমোহর, ব্রোঞ্জ ও মাটির মূর্তি পাওয়া গেছে। এগুলো বাংলাদেশের প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।
একটি প্রাচীন কূপের কাঠামো রয়েছে, যা বিহারের মূল ফটকের পূর্ব পাশে খননের ফলে উন্মোচিত হয়েছে। ধারণা করা হয় তৎকালীন বৌদ্ধ শাসক গোষ্ঠী এ কূপের পানি আহরণের মাধ্যমে যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করতেন। গোলাকৃতি লোহা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে সে কূপ। পুরোটা ঢালায় করে দেওয়া হয়নি, আয়তাকার ছোটো ছোটো ঘরের ন্যায় বানানো। যার ফলে কূপ খুব সহজে নজরে আসবে। সঠিক উচ্চতা আন্দাজ করা সম্ভবপর না হলেও বেশ গভীর এ কূপ।

_

ঢিলায় উঠতে গিয়ে বোরকার সাথে পা বেঁধে ধপ করে পড়ল মেয়েটা। হঠাৎ এমন হওয়াতে নাওয়াজ যেন হাত বাড়িয়ে ধরার সুযোগ অবধি পেল না। দর্শনার্থীদের সকলের নজর ঘুরেফিরে আভিরার দিকে, কয়েকজন মুখ চেপে হাসছে। লজ্জায়, অস্বস্তিতে আভিরা উঠে দাঁড়ানোর কথা ভুলে মুখ নুইয়ে ওভাবেই পড়ে রইল। সকলের সামনে নাওয়াজ মেয়েটাকে কোলে তুলে নেয়। যে মেয়েগুলো হাসাহাসি করছিল তাদের মুখে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ছেলেটা তবে এই মেয়ের পরিচিত। প্রেমিক হবে হয়তো। নয়তো কী এভাবে জনসম্মুখে কোলে নেয়। কিন্তু তখন তো দুজনে বেশ দূরত্ব নিয়ে হাঁটছিল। দেখে বুঝা যায়নি তারা একসাথে এসেছে। এমন সুদর্শন পুরুষের সাথে এ মেয়েকে কোনোভাবে যায়? আর এ তো অনেক ছোটো।
প্রেমিক প্রেমিকা এমন সম্বোধন মাথায় এলেও তাদের মাথায় এলো না তারা স্বামী স্ত্রীও হতে পারে। এই সুদর্শন পুরুষ যাকে এক নজর দেখে তাদের নজর আটকেছে সে পুরুষ এ মেয়ের স্বামী!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here