#প্রভঞ্জনে_প্রেমগুঞ্জন
#পর্বসংখ্যা_৫১
#ফাতেমা_আক্তার_মাইশা
আভিরা জানালায় মাথা ঠেকিয়ে ফুঁপিয়ে উঠল। তমসায় ডুবে থাকা নিস্তব্ধ রাত্তিরে তার কান্না কেমন অদ্ভুতুড়ে ঠেকে।থেমে থেমে কাঁদছে সে। ফুঁপিয়ে কান্নার দরুন পিঠও সবেগে উঠানামা করছে। সময়ে মেয়েটার কান্নার আওয়াজ বাড়ে। নাক টানায় ফ্যাচফ্যাচ শব্দ হচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। অস্থির চিত্তে দু হাতে শক্ত গ্রিলের একাংশ খামচে ধরল। অস্পষ্ট স্বরে পাগলের মতো বিড়বিড় করে কী যেন বলে গেল অনবরত। অবসাদগ্রস্ত মস্তিষ্কে একই কথা আলোড়িত।
আভিরা বিড়বিড় করল,
ডাক্তার সাহেব, মন মস্তিষ্কে অবান্তর চিন্তারা ঘুরেফিরে কিলবিল করছে। আমার হৃদয় জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে, বাড়ছে
বুকের দহন। এমনটা কেন হচ্ছে বলুন তো? সে তো আপনার বোন। আপনার পাশে তাকে কেন সহ্য করতে পারছি না। কেন এত অহমিকায় জ্বলে পুড়ে মরছি। তার মনের খবর জানি বলেই কী তাকে এত অসহ্য লাগছে আমার। আপনার আঞ্জুম এতটা হিংসুটে কবে হলো, বলতে পারেন। ডাক্তার সাহেব অসহ্য লাগছে আমার, চলে আসুন না আমার কাছে।
বিরক্তিতে নাওয়াজ চোখ মুখ কুঁচকে নেয়। গলায় লাগানো স্টেথোস্কোপ খুলে চেয়ারে গা এলিয়ে দিল। ধীর গতিতে চোখ বুজে সে। দু রাত ধরে ঘুম নেই। মাথা হেলিয়ে পড়ে রইল। চোখ বুজে থেকে খানিক বাদে আবার খুলল। রক্তিম হয়ে আছে নেত্র যুগল। অসহ্য যন্ত্রণায় মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা স্থাবর হয়ে আসে, কপালের দু পাশের রগ ব্যথায় টনটন করে উঠল যেন। দুদিন ধরে বাড়ি যায় না, পড়ে আছে হসপিটালেই। মেয়েটা বাড়ি নেই আজ দুদিন। আভিরা বের হওয়ার পরপর সেও বেরিয়ে আসে। আর বাড়ি যাওয়া হয়নি। বাড়ি গেলেই দমবন্ধ লাগবে তার। সেজন্য দু রাত ধরে হসপিটালে পড়ে আছে। হঠাৎ করে উঠে দাঁড়ায় নাওয়াজ। পা চালিয়ে বেরিয়ে গেল হসপিটাল থেকে। তখন সন্ধ্যা সাড়ে ছটা কেবল।
_
আভিরা ঘুমের মাঝেই নিজের উপর ভার কিছু অনুভব করল, কিছুটা নড়েচড়ে বাঁকা হতে চাইলে মনে হলো কেউ তাকে সাপের মতো পেঁচিয়ে ধরে আছে। প্রথমে মনের ভুল ভাবলেও পরমুহূর্তে মস্তিষ্ক সচল হলো তার। তার শরীরের উপরে কোনো মানুষের অস্তিত্ব। ঘুম উবে গেল, তড়িৎ চোখ মেলে চাইল। তাকে জড়িয়ে ধরে থাকা মানুষটাকে দেখতেই শরীর ঈষৎ কেঁপে ওঠে। মুহূর্তেই ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করে উঠল। একপ্রকার ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল মানুষটাকে। তবে সক্ষম হলো না। গায়ে ওড়না নেই তার। বুঝে উঠতে পেরে আঁতকে উঠে, চোখ মুখ ছেয়ে যায় আতঙ্কে।
নাওয়াজ মেয়েটার ছটফট ভাব শান্ত চোখে দেখে গেল। আভিরা দমে যায়, বুজে আসা চোখে কয়েক পল নিজের দিকে চেয়ে মানুষটার দিকে চাইল। লোকটার শান্ত চাহনি তার শরীর জুড়ে। এমন চাহনিতে আভিরার শরীর ভেঙে আসে, কমে যায় ছটফটে ভাব। কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে নাওয়াজ ছেড়ে দেয় মেয়েটাকে। ছাড়া পেয়ে আভিরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচে, অদূরে পড়ে থাকা ওড়না গায়ে জড়িয়ে নেয়।
নাওয়াজ উঠল না, দখল করে নিল মেয়েটার বিছানা। পায়ের জুতা জোড়া এখনও খোলা হয়নি। আভিরা তা দেখল অতি সূক্ষ্ম চোখে। নিজ দায়িত্বে নাওয়াজের পায়ের বুট খুলে রাখল। জুতা জোড়া খুলে বেরিয়ে যেতে নিলেই নাওয়াজ আঁটকে দেয় তাকে, হেঁচকা টানে ফেলল নিজের চওড়া বুকে। আভিরা পুনরায় ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করে, ছাড়াতে পারল না। ব্যর্থ হয়ে বলল,
– দরজা খোলা।
– থাকুক।
– কেউ চলে আসবে।
– আসবে না।
আভিরার গলার স্বর পাল্টায়। কিছুটা অভিমানী স্বরে বলল,
– কেন এসেছেন?
– ইচ্ছে হলো।
– ইচ্ছে হলেই আসতে হবে কেন?
– কেউ নাকি আমার বিরহে মরে যাচ্ছে।
– মরেনি এখনও। আর মরলেই বা আপনার কী?
– না যেন মরে সেজন্যই আসা। সে মরলে এই ইয়াজিদও মরে যাবে।
মেয়েটার শরীর জ্বলে উঠে এমন কথায়। কিছুটা ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলল,
– মিথ্যে কথা। পাষাণ লোক কারো জন্য মরে না।
– মরে তো, এই দেখুন।
বুকে হাত রেখে বলল,
– এখানটার ছটফটে ভাব কেমন কমে এসেছে। এ দুই দিন ঠিকভাবে আমার হার্ট বিট করেনি। অসুস্থ বোধ করছিলাম। মনে হচ্ছিল এই বুঝি কিছু একটা হয়ে যাবে। কীসের অভাবে বলুন তো?
– আমার জানার কথা নয় নিশ্চয়।
– আপনারই তো জানার কথা।
– বাজে বকবেন না।
– একটুও বাজে বকছি না বিশ্বাস করুন। যা বলছি তার কোনটাই মিথ্যে নয়। আপনার অভাবে এইখানে বেশ জ্বালা পোড়া করছিল। আজ একটু শান্তি লাগছে।
বলেই মেয়েটাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আভিরা কিছু বলল না, মাথা রাখল ঐ শক্ত বুকে। শরীর কেঁপে উঠছে তার। নাওয়াজ খোঁপা খুলে দিল, চুলের ভাঁজে হাত গলিয়ে বলল,
– কাঁদবেন না। আপনার কান্না দেখার জন্য এত দূর ছুটে আসিনি।
আভিরা নাক টেনে বলল,
– তাহলে কেন এসেছেন?
– ঘুমাতে। দু রাত ধরে ঘু্ম হয়নি। আমায় একটু ঘুমাতে দিন।
_
– উঠে এলি যে?
মায়ের এমন কথায় আভিরার মস্তক নত হয়ে এলো। ইশ্, মা দেখেছে নিশ্চয়! সব হয়েছে ঐ অসভ্য লোকের জন্য। সে বলেছিল কেউ চলে আসবে, দরজা লাগিয়ে দিতে। শুনল না। এখন হলো তো। লজ্জায় তো তাকেই পড়তে হয়েছে।
আনেসা কথা ঘুরিয়ে বলল,
– রান্না কে করবে? তুই না কি আমি?
– আমি করছি। তুমি গিয়ে শুয়ে থাকো।
আনেসা মৃদু হাসে মেয়ের আড়ালে। মেয়ের ঘরে গিয়েছিল তখন খাওয়ার জন্য ডাকতে। সেখানে গিয়ে যেন তিনি নিজেই লজ্জায় পড়ে গেলেন। এত রাতে মেয়ের ঘরে নাওয়াজকে দেখে যতটা না হতভম্ব হয়েছিল তার থেকেও বেশি বিব্রত বোধ করেন তিনি। মেয়েকে না ডেকেই তড়িঘড়ি করে সেখান থেকে চলে আসে। এসেই ফ্রিজ থেকে মুরগির মাংস, গোরুর গোশ বের করে। নিজেদের জন্য তেমন কিছু রান্না করেননি তিনি। ঘরে সচরাচর যা রান্না হয় তাই রেঁধে ছিলেন আজ। নাওয়াজ হুট করে আসবে এ বিষয়ে মোটেও অবগত ছিলেন না।
আভিরা মুরগির মাংস কষিয়ে তাতে কুসুম গরম পানি দিয়ে দিল। গোরুর গোশ কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। নাওয়াজ গোরুর গোশ কষা খেতে পছন্দ করে বেশি। মুরগিটাও কষিয়ে রাঁধছে। এখন কী গোরুর গোশও কষিয়ে রাঁধবে। আভিরা এত ভাবতে গেল না। আলু কিউব করে কেটে, গোরুর গোশও কিউব করে কেটে নিল। মশলা কষিয়ে তাতে ভেজে রাখা আলু দিয়ে চুলোর আঁচ বাড়িয়ে দিল কিছুটা। পরিমাণ মতো পানি দিয়ে ছোটো ছোটো করে কেটে রাখা গোরুর গোশও দিয়ে দিল। নামিয়ে নেওয়ার আগে গরম মশলা ছড়িয়ে দেয় খানিকটা। আনেসা প্রায় তাকে এমন আলু আর গোরুর গোশ ছোটো ছোটো করে কেটে ঝাল ঝাল করে রেঁধে দিত। রাঁধতেও অত সময় লাগে না। অল্প সময়ে রান্না হয়ে যায়, খেতেও দারুণ লাগে। আভিরা রান্না শেষ করেই রুমে গেল। নাওয়াজ উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। মাথা একদিকে আর পা অন্যদিকে, কিছুটা আড়াআড়িভাবে শুয়েছে সে। পা দুটো খানিকটা খাটের বাহিরে। হুঁশ নেই, মনে হচ্ছে কত রাত ধরে ঘুম হয় না ঠিকমতো। আভিরার মায়া লাগে, ডেকে তুলতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু রাত হয়েছে, লোকটাকে না খেয়ে এভাবে ঘুমাতে দেয় কেমন করে। আভিরা গিয়ে নাওয়াজের গা ঘেঁষে বসল। মাথায় হাত রাখল লোকটার। কোনোরকম ভাবনা ছাড়াই হাত গলিয়ে দেয় এলোমেলো চুলে। মৃদু স্বরে ডাকল,
– শুনছেন?
প্রথমবার সাড়া না দিলেও দ্বিতীয়বার ডাকতেই ঘুম জড়ানো কণ্ঠে জবাব দিল,
– ঘুমাতে দিন।
– পরে ঘুমাবেন। উঠে খেয়ে নিন আগে।
– খাব না আমি।
– আমি যে রান্না করলাম। তাছাড়া আমারও খাওয়া হয়নি। ভাবলাম আপনার সাথে খেয়ে নিব। আচ্ছা থাক, উঠতে হবে না আপনার। আমি খাবারগুলো ফ্রিজে রেখে আসছি।
বলেই মেয়েটা যেতে নিলে নাওয়াজ হাত ধরে থামিয়ে দেয়। ঘুম জড়ানো কণ্ঠে একইভাবে বলে উঠল,
– নিয়ে আসুন, উঠছি আমি।
আভিরাকে এক প্লেটে খাবার আনতে দেখে নাওয়াজ তীক্ষ্ণ চোখে চাইল। এ মেয়ে না বলল, সে খায়নি। তবে এক প্লেটে খাবার বেড়ে নিয়ে এলো কেন?
– একটা প্লেট কেন? আপনি খাবেন না।
– খাব।
আভিরার ক্ষীণ স্বর।
– তাহলে আপনার প্লেট কোথায়?
– এখান থেকেই খাব।
মেয়েটার এমন হেঁয়ালি স্বরের কথা বুঝে এলো না নাওয়াজের। কপাল কুঁচকে চাইল। বুঝে উঠতে না পেরে শুধাল,
– মানে?
– খাইয়ে দিন।
নাওয়াজের চোখে মুখে বিস্ময়। বিস্ফোরিত নয়নে চাইল। এ মেয়ে তার হাতে খেতে চাইছে। কিছুটা অবাক হয়ে বলল,
– আমি?
– হ্যাঁ। কোন সমস্যা?
নাওয়াজের হঠাৎ ইচ্ছে করল মেয়েটাকে একটু জ্বালাতে। কিছুটা গম্ভীর স্বরে বলল,
– পারব না। নিজে খেয়ে নিন।
আভিরার খারাপ লাগে, লজ্জা পেল খানিকটা। কত দেনামোনা করে সংকোচ নিয়ে লোকটার হাতে খেতে চাইল। বারবার মনে হচ্ছিল নিজ থেকে এমন বেহায়াপনা তাকে মানায় না, সে এমন নির্লজ্জের মতো আচরণ কী করে করতে পারে। বহু কষ্টে মনকে বোঝায়, শাসায় এই বলে লোকটা তার স্বামী। সে এমন আবদার করতেই পারে। এতে লজ্জার কিছু নেই। আর এ লোক কিনা। লজ্জায় মুখ দিয়ে কথা বের হয় না তার। নির্বাক বসে রইল। চোখ লুকিয়ে অন্যদিকে তাকায়। মনে হলো এখানে বসে থাকা ঠিক হবে না। সলজ্জায় উঠে যেতে নিলে নাওয়াজ হাত আঁকড়ে ধরে। রাশভারী কণ্ঠে বলল,
– কোথায় যাচ্ছেন?
– আমি মানে…
আভিরা জবাব দিতে পারে না ততক্ষণাৎ। শুধু অসহায় চোখে তাকায়। নাওয়াজ হাত টেনে মেয়েটাকে বসায় নিজের সামনে। ভাতের লোকমা তুলে ধরে বলল,
– হা করুন।
আভিরা মুখ ফিরিয়ে নেয়। রাগে দুঃখে কান্না এলো তার। তবে চোখের পানি ফেলে না সে।
– খাব না।
নাওয়াজের যেন হঠাৎ মেজাজ খারাপ হলো। আজকাল মেজাজ ঠিক থাকে না তার, রাগ ধরে রাখা যেন দুষ্কর হয়ে পড়ছে তার পক্ষে। তার অমন কথায় মেয়েটার খারাপ লেগেছে তা বুঝল না একেবারেই। কিছুটা ক্ষেপাটে গলায় বলল,
– হা করুন। এত কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। দুপুর থেকে পেটে কিছু পড়েনি।
আভিরার এমন সামান্য কথায় অভিমান করার জো আছে। লোকটা এতক্ষণ অবধি না খেয়ে আছে শুনেই তড়িঘড়ি করে মুখ খুলল। নাওয়াজ আভিরার আড়ালে ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসে। আভিরার অভিমান বুঝতে মোটেও অসুবিধা হয়নি। কিন্তু অভিমান ভাঙাতে ইচ্ছে করল না। সেজন্য দুপুর থেকে যে খাওয়া হয়নি সে কথা বলল। জানত এমন কথাতেই কাজ হবে। হলোও তাই। এই মেয়ে এত নির্বোধ।
_
– চলুন।
আভিরা কপাল কুঁচকায়। কোথায় যাবে।
– চলুন মানে?
– চলুন মানে ব্যাগপত্র গোছান। বাড়ি যাবেন না।
আভিরা হঠাৎ ক্ষেপে গেল। নাওয়াজের হাত ছাড়িয়ে বলল,
– প্রশ্নই আসে না।
– কাল আমার ডিউটি আছে।
– সে তো সবসময় থাকে। এমন করছেন কেন? এসেছেন দুদিন থেকে যাবেন। শ্বশুর বাড়ি থেকে দুদিন হাসপাতালে গেলে নিশ্চয় আপনার মান যাবে না, লোকে ঘর জামাই বলবে না।
– বলতেও পারে। এবার চলুন।
– আপনার কথায়?
– তো কার কথায়, কার কথা শুনবেন? আজকাল মুখে কথা আটকায় না। কথায় কথায় তর্ক ধরেন। কে শেখাচ্ছে এসব?
– কে শেখাবে? কারো শেখাতে হয় না। এটা বউদের জন্মগত অধিকার।
– সেজন্য অযথা ঝগড়া করছেন। এর আগেও করেছেন।
– এর আগেরটা নিশ্চয় অযথা না। সে আমার…
– কী হলো থেমে গেলেন কেন? সে আপনার সংসার দখল করে রেখেছে এই তো? এইটাই তো মনে হচ্ছে আপনার?
– না মনে হওয়ার কিছু নেই।
– অবশ্যই আছে। আপনি আমার বাড়ি গিয়েছেন ছয় মাসও হয়নি। আর সে ও বাড়ি আছে চৌদ্দ বছর হয়ে যাবে। সময় বলুন, অধিকার বলুন কার বেশি? সবদিক দিয়ে তার। এত বছর ধরে সবটা সে একা হাতে সামলিয়ে এসেছে। আপনি অযথা তাকে দোষারোপ করতে পারেন না। তাকে নিয়ে মনে কোনো ক্ষোভ রাখতে পারেন না। মনে রাখবেন সে আপনার স্বামীর কাছের একজন। তাই বলছি তাকে আমাকে জড়িয়ে আমাদের সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করবেন না। এই প্রথম এই শেষ। দ্বিতীয়বার এমনটা করবেন না। সে বড়োজোর আপনার সংসার দখল করতে পারে। কিন্তু আপনার স্বামীকে নয়। এই নাওয়াজ ইয়াজিদ কেবল আপনার।
আভিরার কী যেন হলো। নিজের সূক্ষ্ম দন্ত বসিয়ে দিল লোকটার উন্মুক্ত বক্ষে। নাওয়াজ মুখ দিয়ে অস্ফুটে আর্তনাদ করে উঠল। মেয়েটাকে ঠেলে ডলতে ডলতে বলল,
– আপনি অসভ্য মেয়েমানুষের মতো এমন কামড়াকামড়িও করতে জানেন।

